অতৃপ্ত মাতৃত্ব ( দ্বিতীয় পর্ব )

।। অতৃপ্ত মাতৃত্ব ।।

 

। দ্বিতীয় পর্ব।

। কলমে : দেবজিৎ ঘোষ ।

 

“তারপর? তুমি ঠিক ছিলে তো দাদুভাই?” ভীত চোখে প্রশ্ন করে চিন্তিত আত্রেয়ী।

“হ্যাঁ দিদিভাই, তোমার দাদুভাই তো ছোটো থেকেই হিরো, কোনো ভূতের আমাকে কিছু করার সাহস আছে নাকি।” হাততালি দিয়ে ওঠে আমার নাতনি। একটু জল খেয়ে আবার শুরু করলাম।

তারপর ঘুমটা ভেঙে যায় আমার, ধড়মড় করে উঠে বসি বিছানায়। এতক্ষণ তাহলে দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম, ঘামে সারা শরীর ভিজে চপচপ করছে আমার। ঢকঢক করে বোতলের সবটুকু জল শেষ করে হাঁপাতে থাকি। মোমবাতিটা নিভে গেছে, কিন্তু স্বপ্নের সেই আতরের গন্ধে ম ম করছে অন্ধকার ঘরটা। কিছুক্ষণ আগেই এ ঘরে কারোর উপস্থিতির চিহ্ন স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম আমি, কেউ তো একজন ঢুকেছিল এঘরে আর সে আতর ব্যবহার করে। কিন্তু কে সে, অনামিকা কি, কিন্তু কেন? এই বাড়িতে আসার পর থেকে হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি আমি। ঠিক করলাম সব উত্তর আমি না জেনে এখান থেকে কিছুতেই যাব না। পশ্চিমের জানলা দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস শরীর ও মন জুড়িয়ে দিতে লাগলো, আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়লাম।




পরদিন সকালে এক সম্মিলিত কোলাহলে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কারা যেন কাউকে খুঁজছে। হাতঘড়িতে দেখলাম আটটা বেজে গেছে। বিছানা থেকে নামতে গিয়ে সামনের দেওয়ালে চোখটা আটকে গেল আমার। কাল রাতের অন্ধকারে ঠিক খেয়াল করিনি, দেওয়াল জুড়ে একজনের বিশাল বড় পোর্ট্রেট। কিন্তু এ কাকে দেখছি আমি। ইনি তো আমার খুব চেনা, হুবহু আমার মতো দেখতে। শিকারের ছবি এটা, এক বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহের সামনে বন্দুক হাতে ভীষণ পরাক্রমের সহিত দাঁড়িয়ে আছেন তৎকালীন জমিদার ‘রুদ্র নারায়ন সিংহ রায়’, নামটা ছবির নীচে লেখা। ধূলায় মলিন হলেও এই দৌর্দন্ডপ্রতাপ জমিদারের চোখদুটো যে আমার মতই গাঢ় নীল তা স্পষ্ট বুঝতে পারছি। একটা শিহরণ খেলে গেল আমার সারা শরীরে, এও কি সম্ভব, ঠিক যেন আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এই ঘরটা তার মানে এককালে ওনার ছিল। এমন সময় দরজায় প্রবল ধাক্কাধাক্কিতে আমার চিন্তার ব্যাঘাত ঘটে। উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি কালকের সেই স্টেশন মাষ্টার চার-পাঁচ জন স্থানীয় লোকেদের নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে আমাকেই খুঁজছেন।

“যাক বাবা, আপনি ভালো আছেন। আপনি কাল অতো বারণ সত্ত্বেও জোর করে এলেন। তাই সকাল হতেই আপনার খ-ব-র….. ”

স্টেশন মাষ্টারের কথা বন্ধ হয়ে যায়,তার দৃষ্টি চলে গেছে আমার পিছনের দেওয়ালের দিকে, মুখটা হা হয়ে যায় ওনার। একবার আমার মুখের দিকে আর একবার ছবির দিকে তাকাচ্ছেন। ওনার অবস্থা দেখে বাকি লোকেরাও ঘরে উঁকি দিয়ে ছবিটা দেখেন এবং বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে যান।

এক প্রৌঢ় এগিয়ে এসে নমস্কার করে জানান তিনি এ অঞ্চলের পঞ্চায়েত প্রধান। উনি বলেন, “আমার নাম পঞ্চানন মিত্তির। আমার পূর্বপুরুষেরা বংশানুক্রমে সিংহ রায়দের নায়েব ছিলেন। হৈমন্তী দেবী এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমার পিতা গ্রামের প্রধান হন আর তখন থেকে এই বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর আপনি আবার ফিরে এলেন। আপনাকে দেখেই বুঝতে পেরেছি আপনি এই সিংহ রায় বংশোদ্ভূত, যেন রাজা রুদ্র নারায়ন পুনরায় জন্ম নিয়েছেন, কি আশ্চর্য।”




আমি সবাইকে প্রতি নমস্কার জানিয়ে আমার ঘরে বসালাম। তারা এখনও ছবিটার দিকে আর আমাকে পালা করে দেখছেন। পঞ্চানন বাবুকে আমার এখানে আসার কারণ সবিস্তারে বললাম। উনি এখানকার প্রধান তাই ওনার সাহায্য আমার অত্যন্ত প্রয়োজন । সকলে একযোগে বললেন যে এই অভিশপ্ত বাড়ি তারাও চান না। পঞ্চানন বাবু আশ্বস্ত করলেন বাড়ি বিক্রির সব ব্যবস্থা তিনি করবেন। আমি নিশ্চিন্ত হলাম।

“আচ্ছা, আপনি কাল রাতে কোনো কিছু দেখেন নি বা কিছু অনুভব হয়নি আপনার?” খানিক ইতস্তত করে বললেন স্টেশন মাষ্টার মহাশয়।

আমি কাল রাতের সব অভিজ্ঞতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করলাম তাদের। তারা তো শুনে অবাক, কে এই অনামিকা। তারা এমন নামে কাউকে চেনেনই না, উপরন্তু কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার পর এই বাড়িতে কেউ থাকে না। আমি আকাশ থেকে পড়লাম, যে অনামিকা আমাকে পথ দেখিয়ে স্টেশন থেকে এ বাড়িতে নিয়ে এল, যার এনে দেওয়া খাবার আমি খেলাম তার নাকি কোনোরূপ অস্তিত্বই নেই। তাহলে কাল ও কে ছিলো। যদিও প্রথম থেকেই ওই রহস্যময়ী মহিলাটি আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছিল, এখন তা আরও দৃঢ় হচ্ছে। প্রথমত অনামিকার মুখ কখনও দেখতে পাইনি। দ্বিতীয়ত তার কন্ঠস্বর, কারোর গলা এতটা রূক্ষ হতে পারে বলে জানা ছিল না আমার। তৃতীয়ত তার আগে থেকেই সব বুঝে যাওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা, আর সর্বোপরি তার অকষ্মাৎ কর্পূরের মত অন্তর্ধান ও পরক্ষণেই আগমনের কোনো ব্যাখ্যাই খুঁজে পায় নি আমি।

যাইহোক পঞ্চানন বাবুকে দেখলাম এই অনামিকা নামটা শোনার পর বেশ অস্থির হয়ে উঠলেন। আমাকে আর এ বাড়িতে থাকতে দিতে চান না তিনি। একরকম জোর করেই আমাকে নিয়ে চললেন তার নিজের বাড়িতে। অগত্যা কি আর করি চললাম ওনার সাথে।

বেরোতে যাবো ঠিক এমন সময় কালকের সেই আতরের গন্ধে ঘরটা আবার ভরে উঠল। জানলা দিয়ে একটা ঠান্ডা বাতাস আমার মুখ স্পর্শ করে চলে গেল আর আমার মনে হল এক মেয়েলি কন্ঠস্বর আমার কানে ফিসফিস করে বলল, “আবার আসবে কিন্তু ছোটোবাবু, আমি যে বহুকাল তোমার অপেক্ষায় রয়েছি!”

এ গলা আমার খুব চেনা, সেই রুক্ষ ফ্যাসফ্যাসে গলার স্বর, ‘অনামিকা’। আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত প্রবাহিত হয়ে গেল। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে দেওয়ালে টাঙানো পোর্ট্রেটটা মেঝেতে পড়ে চুরমার হয়ে যায়, কিসের ইঙ্গিত এসব। পা দুটো যেন মাটিতে আটকে গেছে, হাজার চেষ্টা করেও এক চুল এগোতে পারছি না আমি। কে করছে এসব আর আমার জন্যই বা অপেক্ষা করে আছে কেন, কি চায় সে?

“কি হল চলুন!”

পঞ্চানন বাবুর কথায় সম্বিত ফিরে পাই। ওমা দেওয়ালে তো ছবিটা দিব্যি রয়েছে তাহলে এই মাত্র যে পড়ে গেছিল মাটিতে। আমার মাথা আর কাজ করছিল না, হতভম্বের মত ওনাকে অনুসরণ করলাম।




সিড়ি দিয়ে নামার সময় প্রতিটা ধাপে আমার মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার এই বিমূঢ় ভাবকে ব্যঙ্গ করছে, বাড়ির প্রতিটা কোণ থেকে অনুরণিত এক কুটিল হাসি যেন আমাকে অনুসরণ করছে। আমি ঘুরে পিছনে তাকালাম, দোতলার আধো অন্ধকারে একটা কালো ছায়া নিমেষে সরে গেল। আমি পঞ্চানন বাবুকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি কিছু শুনলেন, একটা হাসির শব্দ?”

দেখলাম ওনার মুখটা ভয়ে সাদা হয়ে গেছে, অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে বললেন, “আর এক মুহূর্ত এখানে নয়। ও ফিরে এসেছে, ও প্রতিশোধ নিতে মরিয়া।”

“কে ফিরে এসেছে? কিসের প্রতিশোধ? ”

“আমার বাড়ি চলুন সব জানতে পারবেন, কিন্তু এখানে থাকলে ওই আত্মা আপনাকে শেষ করে দেবে, তাড়াতাড়ি আসুন।”

প্রায় দৌড়ে বেড়িয়ে এলাম বাইরে। সূর্যের আলোয় এসে স্বস্তি পেলাম অনেকটা, এতক্ষণের ঘটনা যেন অবাস্তব বলে মনে হচ্ছিল আমার। আগে এই রকম কত ঘটনা শুনে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি, কিন্তু আজ আমার সকল যুক্তিতর্ক, বৈজ্ঞানিক বিচারবুদ্ধি তাসের ঘরের মত ধূলিস্যাৎ হয়ে গেল। বুঝলাম আমার মত অনুভূতি আর কারোরই হয়নি, বাকিরা নির্বিকার। শুধুমাত্র পঞ্চানন বাবুই যেন অত্যাধিক গম্ভীর ও তটস্থ হয়ে আছেন, উনি কি জানেন কিছু! চুপচাপ এগিয়ে চললাম ওনার বাড়ির দিকে।

ওনার বাড়ি এই রাজবাড়ি থেকে প্রায় কুড়ি মিনিটের হাঁটাপথ। সেখানে যখন পৌছলাম, তখন দুপুর হয়ে গেছে। আমি যাওয়া মাত্রই সবাই সাদর অভ্যর্থনা করে আমার খাতিরযত্ন করা শুরু করলেন। এতে আমি যথেষ্ট বিব্রত ও লজ্জিত বোধ করছিলাম। আমি পঞ্চানন বাবুর উদ্দেশ্যে বললাম, “আপনি কি বলবেন বলছিলেন?”

“আপনার ওপর অনেক ধকল গেছে, আপনি এখন খেয়ে বিশ্রাম করুন। বিকেলে বাবার কাছে আপনাকে নিয়ে যাবো, ওখানেই সব আলোচনা হবে।” এই বলে আমাকে একটা ঘরে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত চলে গেলেন। আমার মন পড়ে রইল সেই রহস্যময় জমিদার বাড়িতেই।

“আসবো! ”

একটা মিষ্টি ডাকে চোখ তুলে দেখি দরজার পাশে একটি মেয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে আর মাঝে মাঝে চোখ তুলে আমাকে দেখছে। যেমন মিষ্টি তার গলা, তেমনি মিষ্টি দেখতে তাকে, বয়স আন্দাজ বাইশ কি তেইশ।

“হ্যাঁ হ্যাঁ, আসুন, আপনারই তো বাড়ি। কিছু বলবেন।”

“না মানে হ্যাঁ, আপনার স্নানের জল নিচের বাথরুমে রাখা আছে। একটু পরেই খাবার নিয়ে আসব।” আস্তে আস্তে কথাগুলো বললো মেয়েটা, খানিক লজ্জা পাচ্ছে সে।

“আচ্ছা, আমি যাচ্ছি স্নানে। দেখুন তো আমি এসে আপনাদের কাজ কত বাড়িয়ে দিয়েছি, এতো লজ্জা করছে আমার!”

“না না, এমন বলবেন না। বাবা বলেছেন আপনি রাজা।”

“না না ওসব রাজাগজা কিছুই নই আমি। তা আপনি নিশ্চয়ই পঞ্চানন বাবুর মেয়ে তো আপনার নামটা?”

“পেখম” বলে একটু লাজুক হেসে দৌড়ে চলে গেল। আমি মনে মনে হাসতে হাসতে স্নানে চললাম।

বিকালে পঞ্চানন বাবু আমাকে ওনার বাবার কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে দেখেই চমকে ওঠেন, তারপর নিজের মনেই বলেন, “রাজা রূদ্র নারায়ণের পুনর্জন্ম হয়েছে, তার মানে সেও জাগবে তার অপূর্ণ কাজ শেষ করতে।”

পঞ্চানন বাবু জানালেন তার পিতামহের কাছ থেকেই তারা জানতে পেরেছেন সিংহ রায় বংশের অন্ধকারময় ইতিহাস। ওনারা পালা করে যা বললেন তা শুনে আমার ঘাম ছুটে গেল।




আমার প্রপিতামহের পিতা ছিলেন এই রুদ্র নারায়ণ সিংহ রায়। ছোটোবেলা থেকেই বেপরোয়া ও বিলাসিতায় জীবন কাটানোর ফলে অত্যন্ত জেদি ও একগুঁয়ে স্বভাবের ছিলেন। জমিদার হওয়ার পর তার স্বভাবের পরিবর্তন তো হলই না উল্টে তিনি হয়ে উঠলেন ভীষণ নিষ্ঠুর ও স্বৈরাচারী। বিনা অপরাধে অনেক প্রজাকে বন্দী করে কালকুঠুরীতে নিক্ষেপ করতেন, চলত অকথ্য অত্যাচার। খাজনা দিতে না পারলে মৃত্যুদণ্ড ছিল অনিবার্য। এহেন রূদ্র নারায়ণের তিনটি নেশা ছিল – শিকার, সুরা ও নারী। গ্রামের মেয়েরা সন্ত্রস্ত জীবন অতিবাহিত করত, এই বুঝি জমিদারের লেঠেল তুলে নিয়ে যায়। আর একবার অপহৃত হলে তার পরিণাম ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর, তাদের আর কোনদিন খুঁজে পাওয়া যেত না।

রূদ্র নারায়ণের নায়েব অর্থাৎ পঞ্চানন বাবুর পিতামহের বোনের নাম ছিল অনামিকা, তিনি ছিলেন অপরূপ সুন্দরী। জমিদারের ভয়ে গোপনে অন্য গ্রামে তার বিবাহ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বছরখানেক পর অনামিকা সন্তানসম্ভবা হলে তিনি আবার বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। এসময় রূদ্র নারায়ণের পাশবিক দৃষ্টি পরে তার উপর, অনামিকার রূপ লাবণ্য তার মনে লালসার আগুন ধরিয়ে দেয়। নানা উপায়ে তাকে পাওয়ার জন্য জোর করতে থাকে নায়েবকে – প্রথমে অর্থলোভ এবং শেষে প্রাণভয় দেখিয়েও যখন কোনো কাজ হল না, তখন রূদ্র নারায়ণ রীতিমতো ক্ষেপে উঠলেন। এক ক্রুর ষড়যন্ত্র রচিত হয়।

উপস্থিত হয় সেই অভিশপ্ত রাত, জমিদারের পেয়াদা চড়াও হয় নায়েবের বাড়ি, তুলে নিয়ে যায় তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা অনামিকাকে। ছুড়ে ফেলে দেয় জমিদারের পায়ে। সুরায় মত্ত জমিদার অনামিকার চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে চলে ভিতরে নিজের ঘরে। এতদিনের কাঙ্ক্ষিত কামোন্মাদনায় উন্মাদ সে, সারারাত ধরে এক গর্ভবতী নারীর ওপর চলে নারকীয় মৃত্যুখেলা। পরদিন থেকে অনামিকার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না, পৃথিবী থেকে দুটি প্রাণ হারিয়ে যায় মানুষের লালসার রোষে আর সেই পাশবিকতার করাল গ্রাসে অভিশপ্ত হয়ে থাকে এক বংশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যার থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

“আপনারা জমিদারের এই ঘৃণ্য অপরাধের কোনো প্রতিবাদ করেননি?” পঞ্চানন বাবুর বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

“প্রতিবাদ করলে পরিবারের সবাইকে হয় মেরে ফেলতেন নয়তো কালকুঠুরীতে ফেলে রাখতেন, তাই আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকে পাথর নিয়ে সবকিছু সহ্য করেছিলেন বাবা।” অবরূদ্ধ কন্ঠে বললেন তিনি।

ওনাদেরকে বলার মতো কোনো ভাষা নেই আমার। নিজ পূর্বপুরুষের কালো ইতিহাসের অপমানে ও লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।

পঞ্চানন বাবু আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “লজ্জিত হবেন না, ওই পাপের শাস্তি তিন পুরুষ ধরে আপনারা বহন করে চলেছেন। আজ আপনার জীবনও বিপন্ন। অনামিকা অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিল আপনার সকল বংশধরদের অদ্ভুত ভাবে মৃত্যু হবে আর যেদিন রূদ্র নারায়ণের পুনর্জন্ম হবে সেদিন সেও ফিরে আসবে তার নিজের হাতে প্রতিশোধ নিতে।”

রাত আসে, আর রাতেই তো জেগে ওঠে অতৃপ্ত আত্মারা। সেদিন ছিল পূর্ণিমা, চন্দ্রলোক এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। রাত তখন অনেক, সারা গ্রাম গভীর ঘুমে ডুবে গেছে। একটা কালো ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে এগিয়ে চলে পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির দিকে আর সাথে চাঁদটাও ঢেকে যেতে থাকে কালো মেঘে…………..

।। ক্রমশঃ।।

 

অতৃপ্ত মাতৃত্ব ( প্রথম পর্ব )

 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 3   Average: 4.3/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।