অতৃপ্ত মাতৃত্ব ( প্রথম পর্ব )

অতৃপ্ত মাতৃত্ব ( প্রথম পর্ব )

।। অতৃপ্ত মাতৃত্ব ।।

। প্রথম পর্ব ।

। কলমে : দেবজিৎ ঘোষ।

 

ষাঢ়ের এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যা। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি অর্কজ্যোতি সিংহ রায়। জীবনের সত্তরটা বছর অতিক্রম করে আজ আমি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি। পারিবারিক ব্যবসা দুই ছেলেকে বুঝিয়ে দিয়ে অবসর নিয়েছি মাসছয়েক হল। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে এসব নানা কথা ভাবছিলাম। কখন যে আত্রেয়ী পাশে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করিনি। আত্রেয়ী আমার নাতনি, দশ বছর বয়স। সেই ছোট্ট থেকেই দাদুভাই অন্ত প্রাণ, আমারও খুব প্রিয় ও। সারাদিন ওর সাথে গল্প করেই কেটে যায় আমার।

“একটা গল্প শোনাও না দাদুভাই!”

আত্রেয়ীর এই একটাই আব্দার। খাটে দুজনে গুছিয়ে বসে বললাম, “তা আজ কি গল্প শুনবে দিদিভাই?”

“একটা সত্যিকারের ভূতের গল্প”, চোখ দুটো গোলগোল করে জবাব দেয় আত্রেয়ী।

খানিক ভেবে আমি আমার জীবনেরই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করি। গালে হাত দিয়ে একমনে শুনতে থাকে আত্রেয়ী।

আমাদের আদি বাসস্থান ছিল অধুনা মধ্যপ্রদেশের প্রতাপগড়। প্রতাপগড়ের জমিদার বংশের হলেও আমার জন্ম জীবন জীবিকা সবই এই কলকাতা শহরে। শুনেছিলাম আমাদের প্রতাপগড়ের রাজবাড়ি নাকি অভিশপ্ত, আমাদের তিন পূর্বপুরুষের ঐ বাড়িতে রহস্যময় মৃত্যু ঘটেছে। আমার পিতামহের মৃত্যুর পর বারো বছর বয়সি আমার বাবার হাত ধরে ঐ অভিশপ্ত রাজবাড়ি ত্যাগ করে কলকাতায় চলে আসেন আমার ঠাকুমা হৈমন্তী দেবী। সেই থেকে প্রতাপগড়ের রাজবাড়ি সেই অজানা অভিশাপ বুকে নিয়ে একাকী কোনো এক অন্ধকার ইতিহাসের সাক্ষ্যপ্রমাণ বহন করে চলেছে।




কলকাতায় এসে সঞ্চিত ধনসম্পদ যা ছিল তা দিয়েই ছোটো এক ব্যবসা শুরু করেন হৈমন্তী দেবী। পরবর্তীতে আমার বাবার চেষ্টায় ও বুদ্ধিতে সেই ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক ব্যবসার সকল ভার এসে পড়ে আমার ওপর। ঠাকুমার সাহায্যে ভালোই সামলে নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যবসাতে কিছু গোলমাল হওয়ায় বেশ কিছু লাখ টাকা জোগাড়ের প্রয়োজন হয়ে পরে নয়তো আমাদের অনেক বড় ক্ষতির আশঙ্কা। টাকার চিন্তায় যখন সবাই বিধ্বস্ত তখন একদিন ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে আমার মা পুরোনো বাক্সের মধ্যে থেকে প্রতাপগড়ের রাজবাড়ির দলিল পায়। হৈমন্তী দেবীকে সেটা দেখালে তিনি চমকে ওঠেন, পুরনো অভিশাপের কথা ভেবে মনে মনে শিউরে ওঠেন তিনি। তাও যথাসম্ভব শক্ত হয়ে বউমাকে সাবধান করে দেন ঐ দলিল যেন সে রেখে দেয় যথাস্থানে আর ঐ বাড়ি নিয়ে যেন কোনো কথা না বলা হয়।

“কিন্তু এতগুলো টাকার যখন দরকার আর ঐ বাড়িটা যখন ফাঁকাই পড়ে আছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তো সেটা বিক্রি করে দিলে কি এমন ক্ষতি হবে!” জিজ্ঞেস করেন মা কুমুদিনী দেবী, মনে তার অবাক বিস্ময়।

“বিপদ বৌমা, ওখানে গেলে সেই অভিশাপ দাদুভাইকেও গ্রাস করবে। অনেক কষ্টে সেখান থেকে বেঁচে এসেছি।” পুরোনো কথা মনে করে চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় হৈমন্তী দেবীর।

এসব ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারেন না কুমুদিনী, কিন্তু ছেলের বিপদের কথা শুনে ভীত হয়। তখন আর কিছু না বলে চলে আসেন, কিন্তু রাতে কথায় কথায় আমাকে সব কথা বলে ফেলেন তিনি। সব শুনে আমি যেন হাতে চাঁদ পাই, তখনই ঠিক করে ফেলি ঐ বাড়িতে আমি যাবই এবং সেই বাড়ি বিক্রি করে সেই টাকায় পৈতৃক ব্যবসা উদ্ধার করবোই। তখন আমার জোয়ান বয়স, কোনো বিপদকেই পরোয়া করি না। অভিশাপকে কোনো গুরুত্বই দিলাম না, ওসব আমার কাছে অর্থহীন। কিন্তু ঠাকুমাকে বোঝানো অসম্ভব, তিনি এসব খুব মান্য করেন। তাই আমি ঠিক করি ঠাকুমাকে এসব বলা যাবে না। পরিকল্পনা শুনে মা নিমরাজী হয়ে অনুমতি দেন ঠিকই, কিন্তু তার মন কু ডাকতে থাকে। নির্দিষ্ট দিনে কয়েকদিনের জামা আর বাড়ির দলিলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম, হৈমন্তী দেবী জানলেন কোন এক বন্ধুর বিয়েতে কয়েকদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি আমি।




প্রতাপগড় স্টেশনে যখন পা রাখলাম তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। বিলাসপুর জংশন থেকে ট্রেন বদল করে তিন ঘণ্টার পথ এই প্রতাপগড়। দিনে হাতে গোনা কয়েকটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন দাঁড়ায় এখানে। দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিধি বাম, লাইন পার হতে গিয়ে এক মাতাল ওই ট্রেনেই কাটা পড়ে মারা যায়। ডেডবডি স্থানান্তরনে ঘন্টাখানেক লেগে যায়। ফলে প্রায় ঘন্টাদুয়েক লেটে ট্রেন পৌছায় প্রতাপগড়ে। ট্রেনটা চলে যেতে যে দুতিন জন গ্রামবাসী নেমেছিল তারাও পশ্চিমের মাঠে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি দেখলাম চারিদিক শুনশান, দিগন্ত বিস্তৃত ধানের ক্ষেতে দিবাকর অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছেন, লালচে আভাটুকু ছড়িয়ে আছে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে। একটু পরেই আঁধার নামবে, গোধূলির ম্লান আলোয় এগিয়ে যাই স্টেশন মাষ্টারের ঘরের দিকে।

“কী বললেন, কোথায় যাবেন ! সিংহ রায়দের রাজবাড়ি? কেন সুখে শান্তিতে থাকতে ইচ্ছে করছে না বুঝি?” টিকিটটা দেখে ফেরত দিতে দিতে আমায় কথাগুলো বললেন স্টেশন মাষ্টার।

আমি এমনিতে খুব সাহসী, ছোট থেকেই ডাকাবুকো। কিন্তু এই জনহীন প্রান্তরে এসব শুনে কেমন এক ভয়ে গাটা শিরশির করে উঠল। একটু ম্লান হেসে জানতে চাইলাম, “কেন স্যার, এরকম বলছেন কেন? ওখানে কি কোনো বিপদ আছে, চোর ডাকাতের উপদ্রব?”

“না, তেনাদের উপদ্রব।”

এবারে হো হো করে হেসে উঠি। তীব্র বিজ্ঞানমনস্ক আমি, ভূতপ্রেতে বিশ্বাস কোনোদিনও ছিল না আমার, ওসব অবাস্তব। কৌতুকস্বরে বলি, “ভালোই তো ওই বাড়িতে একা থাকতে হবে না, কাউকে সাথী পাবো।”




“আপনি শহরের মানুষ, তাই এসবে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু আমি বলছি ওই বাড়ি ভালো নয়, অনেক গল্প আছে ওই রাজবাড়ি নিয়ে। অনেকেই রাতে ওই বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ, নূপুরের আওয়াজ শুনতে পেয়েছে। কয়েকজন জেদের বশে সাহস করে ওই বাড়িতে রাত্রিবাস করতে গিয়েছিলো, পরদিন সকালে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি, এমনকি তাদের ডেডবডিও খুঁজে পাওয়া যায় নি। ওখানে কি না গেলেই নয়?” স্টেশন মাষ্টার একবার শেষ চেষ্টা করতে চাইলেন আমাকে বাধা দেওয়ার।

একবিংশ শতাব্দীতে ভূত ব্যাপারটা ঠিক মানা যায় না। এসব অসুস্থ মানুষের কল্পনা মাত্র, গ্রামাঞ্চলে এসব গল্প কাহিনী বিনোদনের যোগান দেয়। তাই তর্কে না গিয়ে রাজবাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করলাম। তাতে স্টেশন মাষ্টার যা পথনির্দেশ দিলেন তা সেই স্টেশন থেকে প্রায় দু ক্রোশ দূরে এবং এখানে গাড়ি কিছুই পাওয়া যাবে না তাও জানালেন। এতক্ষণ ভূতের জন্য যে ভয় পাইনি, দুই ক্রোশ এই সম্পুর্ণ অপরিচিত পথে হেঁটে যেতে হবে শুনে সেই ভয়টাই চেপে বসতে লাগলো মনে। কিন্তু এতদূরে এসেছি যখন, তখন যেতে তো হবেই। অগত্যা সুটকেসটা নিয়ে স্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়ালাম।

তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। চারিদিকে জনপ্রাণী নেই কোথাও। ছায়ান্ধকার রাস্তাটির দিকে তাকিয়ে এই প্রথম বারের জন্য ভয় পেলাম, না অলৌকিক কিছুর জন্য নয়, বরং রাজবাড়ি ঠিকঠাক পৌঁছতে পারব কীনা সেই ভেবে, রাস্তায় কোনো বিপদ হবে না তো। এসব ভেবে হাঁটতে শুরু করবো ঠিক তখনই দেখতে পেলাম দূর থেকে একটা ছায়ামূর্তি আমার দিকেই যেন এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। মানুষের দেখা পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাই তার দিকে। এক মাঝবয়সি মহিলা বলেই মনে হল আমার।

কিছু বলে ওঠার আগেই মহিলাটি ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে উঠল, “রাজবাড়ি যাইবেন নাকি ছোটবাবু?”

আমি চমকে উঠলাম। এই অপরিচিত মহিলাটি কীভাবে জানল যে আমি রাজবাড়ি যেতে চাই আর ওকে কেইবা পাঠাল আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেটা বলতে যাব ঠিক তখনই সেই মহিলা আবার বলে ওঠে,
“আমি রাজবাড়িতেই থাকি গো ছোটবাবু, দেখাশোনা করি। আর আপনি ভাবতিছেন তো আমি জানলুম কেমনে যে আপনি আইবেন আজ! হেহে আমি সব জানি গো। এখন চলুন দিকিনি জলদি, রাত হয়ে গেলি ও পথ ভালো নয়।”




আমি অনুমান করলাম এসব আমার ঠাকুমা হৈমন্তী দেবীর চক্রান্ত। তিনি হয়তো এই মহিলাকে বাড়িটা দেখাশোনার জন্য রেখেছেন আর তিনি কোনোভেবে আমার আসার কথা জানতে পেরে এই মহিলাকে স্টেশনে আসতে বলছেন। কিন্তু এই বাড়ি নিয়ে এতো ঢাকাচাপা কিসের যে আমি এসব কিছুই জানি না। বাড়ি ফিরেই এসবের একটা বিহিত করতে হবে, তার আগে এখানকার কাজ ঠিকঠাক মিটলে হয়। মহিলার নামটি এখনও জানা হয় নি। “বলছি যে আপনার.. ”

“বাপ মা নাম দিছিল অনামিকা”, আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে ওঠে সে।

এবার ভীষণ চমকে যাই আমি, যা ভাবছি তা আগে থেকেই বুঝতে পারছে কি করে এই মহিলা। এদিকে অনামিকা হাঁটতে শুরু করেছে। আর কিছু না বলে একরাশ ভাবনা নিয়ে তার পিছু পিছু চলতে শুরু করলাম।

আকাশে চতুর্দশীর চাঁদ উঠল একটু পর, আলোয় ভেসে গেল বিশ্ব চরাচর। লক্ষ করলাম এই চৈত্র মাসের গরমেও অনামিকা আপাদমস্তক একটা চাদর জড়িয়ে রেখেছে আর সে যেন সাধারণের চেয়ে একটু জোরেই এগোচ্ছে, সমতা বজায় রেখে চলতে পারছি না আমি। ঘন্টাখানেক হাঁটার পর এক বিশাল অট্টালিকার সামনে এসে দাঁড়ালাম আমরা, এটাই রাজবাড়ি। কিন্তু একি অনামিকা কোথায় গেল? আমার সামনেই তো ছিল এতক্ষণ। এদিক ওদিক দেখতে থাকি, নাহ আশেপাশে কোথাও তো নেই। চারিদিক শুধুই আগাছা আর জঙ্গলে ভরা, পোড়োবাড়িই বটে, ভূত না হোক সাপ বিছে তো আছেই আছে। তবে ও যে বলল দেখাশোনা করে, এই তার নমুনা। নাহ দেখা হোক আচ্ছা করে বলতে হবে। কিন্তু কোথায় কে, অনেক খুঁজেও অনামিকাকে না পেয়ে এগিয়ে চললাম সদর দরজার দিকে।

একবার ঠেলতেই ক্যাঁচ্ শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল। কিন্তু একি কোথায় পোড়োবাড়ি! এ কোথায় এসে পড়েছি আমি। এ যেন ঊনবিংশ শতকের কোন এক রাজবাড়ি, ঝাড়বাতির উজ্জ্বল হলুদ আলোয় ভরে আছে এক সুসজ্জিত বৈঠকখানা।
চারিদিকে আড়ম্বর চুঁইয়ে পড়ছে। গমগম করছে লোকের কোলাহলে বাড়ির প্রতিটি কোণ, এ কোন মায়ার জগতে অবাঞ্ছিত প্রবেশ করে ফেললাম। মাথাটা হঠাৎ ঝিমঝিম করে উঠল আমার, খুব দূর থেকে যেন আমাকে কেউ ডাকছে……




“ছোটোবাবু ওভাবে দোরে দাঁড়ায় আছেন কেন!”

চটক ভেঙে বাস্তবে ফিরে আসি। কোথায় ঝাড়বাতি, কোথায় বৈঠকখানা, এতো ধূলিময় অন্ধকার এক হলঘরে দন্ডায়মান আমি। তাহলে কি এতক্ষণ যা দেখলাম তা সবটুকুই আমার হ্যালুসিনেশন, তাই হবে। মনকে বোঝাই আমি, বিকেলে ঐ স্টেশন মাষ্টারের কথাগুলোর ফলে বাড়িতে পা রাখতেই অবচেতন মনের বিকৃত কল্পনাপ্রসূত দৃশ্য এসব। কিন্তু তাও মনে একটা খটকা থেকেই যায়, কোন এক গূঢ় রহস্য নিশ্চয়ই আছে এই বাড়িতে যেটা জানতেই হবে আমায়। চোখ মুছে ভালো করে তাকিয়ে দেখি আরে ঐ তো অনামিকা, একটা মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মোমবাতির আবছা আলোতে তার মুখ ভালো দেখা যাচ্ছে না।

“আমাকে এখানে পৌঁছে দিয়েই কোথায় চলে গিয়েছিলেন আপনি?”

“আজ্ঞে এই যে আলো আর আপনার খাবারের ব্যবস্থা করতে।”

“এত তাড়াতাড়ি এতকিছুর বন্দোবস্ত হয়ে গেল?” বিষ্ময়ে হতবাক আমি।

“হ্যাঁ বাবু, আমাদের কোনো কাজে বেশি সময় লাগে না। আসেন আপনার ঘর দেখায়ে দি। অনেক দূর থেকে আইছেন, আরাম করবেন।”
বলে অনামিকা এক হাতে মোমবাতি আর এক হাতে খাবার ভর্তি প্লেট নিয়ে সিড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতে থাকে। খুব ক্লান্ত থাকায় এসব চিন্তা মাথা থেকে জোর করেই সরিয়ে দিয়ে আমি সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে থাকি। এদিকে লোকচক্ষুর অন্তরালে এক পৈশাচিক হাসি খেলে যায় অনামিকার মুখে।




বাড়ির অধিকাংশ ঘরই তালাবন্ধ। দোতলায় সিড়ি দিয়ে উঠে কয়েকটা ঘর পেড়িয়ে একদম পশ্চিমের ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলাম আমরা। মোমবাতির ম্লান আলোয় যা দেখা যায় তাতেই দেখলাম এই ঘরটা বেশ বড় এবং সদ্য পরিষ্কার করা হয়েছে। চারিদিকে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট কিন্তু বয়সের আঘাতে বিপর্যস্ত, ম্রিয়মান। অনামিকা কখন প্রস্থান করেছে স্বভাবতই লক্ষ করিনি। সেসবে আর মাথা না ঘামিয়ে জলদি জামা বদলে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের ট্রেনজার্নি আবার এতোটা হাঁটার পরিশ্রমে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম নেমে আসে চোখে।

তখন মাঝরাত। ঘুমের মধ্যেই আমার মনে হয় আমি যেন ঘরে একা নেই, দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে আর সে যেন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার মুখের দিকে। একটা খুব মিষ্টি আতরের গন্ধ ধীরে ধীরে আমার চেতনাকে অবশ করে দেয়, উঠে বসা তো দূরের কথা, গলা দিয়ে কোনো স্বর বের হয় না আমার। জ্ঞান হারিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি – একটা গভীর কুঁয়ো, তার ভিতর থেকে অনেকে ফিসফিসিয়ে কথা বলছে,মেয়েলি কন্ঠস্বর। ধীরে ধীরে কথাগুলো বদলে যায় অবরূদ্ধ কান্নায় আর শেষটায় তা পরিণত হয় এক চাপা আক্রোশে। একে একে কয়েকটা ছায়ামূর্তি উঠে আসতে শুরু করে কুয়োর দেওয়াল বেয়ে, উৎকট গন্ধে আমার দম যেন বদ্ধ হয়ে আসে, মনে হয় কেউ আমার গলা টিপে ধরেছে। আমি কিছুতেই ছাড়াতে পারছি না সেই বজ্রমুষ্টি, তারপর……………………………

।। ক্রমশঃ ।।******

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 5   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।