অপরাধ

অপরাধ

অপরাধ

পিয়াসা

 

ভালবেসেই বিয়ে করেছিল অভিচনদ্রা রাজীব কে। তাদের প্রেম পরিনতি পেয়েছিল বিয়ের ছাদনাতলায়। নীল আকাশের নীচে , পৃথিবীর রঙগ মঞ্চে, বেদের পবিত্র মনত্রে ওদের চার হাত ,,অগ্নিকে সাক্ষী রেখে এক হয়ে গেছিল।
মন কে নতুন ভাবে সাজিয়ে নিয়ে ,অভিচনদ্রা শুরু করল নতুন সংসার সাজানোর চেষ্টা । কিন্তু বিধাতা বোধ হয় তার জন্য অন্য কিছুই লিখে রেখেছিলেন।—_________!

হাসপাতালে যখন ওকে আনা হয় তখন ওর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।মা __ বেবি দুজনেরই। হ্যা অভিচনদ্রা প্রেগনেনট। আর রাজীব_______!!

বিয়ের পর পরই অভিচনদ্রা বুঝতে পারে এ বিয়ে তার মারাত্মক ভুল। রাজীব কেবল অমানুষই না — পাষন্ড। অভিচনদ্রা প্রথমে না বুঝলেও পরে ও বেশ ভাল বুঝতে পারে রাজীব ওকে পরিচালনা করতে চায় তার নিজের মতো করে শারীরিক মানসিক সব দিক দিয়ে।হয়তো ডিভোর্সি মা বাবার সন্তান বলেই রাজীব অনিরাপত্তায় ভোগে ,জানা নেই অভিচনদ্রার। ভীতু নরম মনের অভিচনদ্রা একরোখা রাজীবের কাছে হার মানতে বাধ্য হল।নিজের ঘরে ফিরে যাবে কোন মুখে।? রাজীবের সাথে তাদের যে খুব ভাল সম্পর্ক।তাদের সামনে অভিচনদ্রা “দেবী” রাজীবের কাছে।বাইরে সে সবার প্রিয়।রাজীবের ভিতরের খোলস শুধু অভিচনদ্রা জানে,,,শুধু দিনে নয় রাতেও।নিজের ইচ্ছেয় বাইরে যাওয়া ওর শক্ত ভাবে বারন।




একদিন পাশের ফ্ল্যাটের বৌদির সাথে কাছেরই একটা শপিং মলে গেছিল।এসে দ্যাখে রাজীব বসে আছে।
‘তু তুমি কখন এলে রাজীব?’ রাজীব কিছু না বলেই তার হাত দিয়ে অভিচনদ্রার গালটা চেপে ধরে__বলে চলে’কান খুলে শোনো ঘরের মধ্যে সেজেগুজে আমাকে খুশি করাটাই তোমার কাজ,বাইরে গিয়ে বেলেল্লাপনা করাটা না’।প্রতিটা রাত অভিচনদ্রার কাছে বিভীষিকাময় রাত হত।রাজীবের পৈশাচিক চাহিদা দুমরে মুচরে দিত অভিচনদ্রার বাইরের সাথে সাথে ভিতরের অন্তর  আত্মাকেও।কোনো কারনে খুশি না হলে রাজীব অভিচনদ্রাকে চর মারতে থাকে_____রাজীবের শ্বাসপ্রশ্বাস ওঠানামার সাথে সাথে বলতে থাকে___’তোমাকে এমনি এমনি বিয়ে করে আনি নি,,,তোমার এই রূপ,চেহারা দেখেই এখানে আনা।এই চেহারাটাকে কাজে লাগাতে শেখ।’সেদিন সারা রাত ঘুমায় নি অভিচনদ্রা।শুধু ভেবে যাচ্ছিল ওর কি দোষ যে ওর জীবন টাই এই খাতে ভাসছে।।ভালবাসার থেকে কি চেহারার দর বেশি উপরে।চোখের জল কাঁদতে কাঁদতে প্রায় শুকিয়ে গেছিল ওর।
তখন সবে স্কুলে চাকরিটা পায় এর মাঝখানেই রাজীবের সাথে আলাপ।স্মার্ট সুদর্শন কমপিউটার ইনঞ্জিনিয়ার রাজীবের জালে আটকাতে খুব বেশি সময় লাগে নি অভিচনদ্রার।কিন্তু জীবনের খাতায় একবার ভুল হলে সেই দাগ আজীবন থেকে যায়।
রাজীব কে বুঝতে আরও বাকী ছিল অভিচনদ্রার,যেদিন রাজীব জোর করে অভিচনদ্রাকে ঠেলে দিয়েছিল তার বসের লোলুপতার দিকে।অফিসের প্রমোশনটা তার আগে_____বৌএর সম্মানটা না।রাজীব বাইরে গাড়ীতে বসে একটা সিগারেট ধরাল।_______অভিচনদ্রা রুমের এক কোনে দাঁড়িয়ে।মনে মনে ভাবল আর না।এবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।এবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে।সত্যিটা এবার রাজীব কে বলতেই হবে।মিঃ চাডডা ওর কাছে আসতেই অভিচনদ্রা আর মাথা ঠিক রাখতে পারল না সামনে রাখা কাঁচের বোতলটা দিল চাডডার মাথায় মেরে।কোনোক্রমে বেরিয়ে আসে হোটেল থেকে।অভিচনদ্রাকে দেখে রাগে রাজীবের মাথা ঘুরে যায়।ও অভিচনদ্রার চুল ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে—
—-‘কেনো ফিরে এলে? যাও,,ওনার কাছে যাও,,,আমার আমার প্রমোশন,,,,’
—-‘অভিচনদ্রা ঝাঁকুনি খেতে থাকে আর বিড়বিড় করতে থাকে।’
রাজীব মারতে উদ্ধত হলে অভিচনদ্রা জোরে বলে বসে__
—-‘কারন আমি প্রেগনেনট।
—-‘কি কত দিন ?
—-‘দুমাস।
—-‘এতদিন ধরে তুমি বলনি কেনো?
—-‘কারন তুমি বাচ্চা নিতে বারন করেছিলে,,যদি কোনো ক্ষতি করতে তাই______
কোনো কথা না বলেই এলোপাথারি মারতে থাকে রাজীব অভিচনদ্রাকে।অভিচনদ্রা মাটিতে পড়ে যায়।ওর পেটে সজরে লাথি মারে রাজীব।প্রায় অজ্ঞান অবস্হায় ওকে ফেলে চলে যায় রাজীব।যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে অভিচনদ্রা।সামনে ওর ফোনটা দেখতে পেয়ে রিনাদি কে ফোন করে।রিনাদির সাথে ফেসবুকে আলাপ,উনি সোশ্যাল ওয়ারকার।’যদি কোনো সাহায্য লাগে’এই বলে ফোন নম্বর দিয়েছিল ওনার।অভিচনদ্রা  ফোন করল রিনাদিকে।ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসল অভিচনদ্রার,,,ব্যস আর কিছু ওর মনে নেই।




পেশেনটের ওয়াইফ কে?—-নারস বলল।
—–আমি।বলে অভিচনদ্রা চোখের কোনের জল মুছল।
—–আসুন।পেশেনট জোর করছে আপনার সাথে দেখা করার জন্য।
আজ আবারো সেই এক ই হাসপাতালে আসতে হলো। ছমাস আগে রক্তাক্ত অবস্হায় রিনাদি ওকে এনেছিল।না ওর বেবিটাকে বাঁচানো যায় নি।ভাগ্যক্রমে ও বেঁচে গেছিল।,,,,,,,,,,কাঁচের দরজাটা ঠেলে আই-সি-ইউ তে ঢুকল।রাজীবের অল্প জ্ঞান এসেছে।আস্তে আস্তে বলে চলল –‘ আমায় ক্ষমা কর অভি,,,।আহ আহমি তোমাহার সাথে– সাথে অন্যায় করেছি।একটু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে?।।ব্যস তারপরই কমায় চলে যায় রাজীব।
অভিচনদ্রার সাথে রাজীবের সেদিনের পাশবিক ঘটনার পর আর ফিরে যায় নি ও রাজীবের কাছে।নিজের বাড়ীও যায় নি।রিনাদির চেনা একটা এন-জি-ও তে থাকত।রাজীবের জন্য স্কুলে পড়ানোটা ছেড়েছিল,,,,রিনাদিই একটি স্কুলে তার চাকরির ব্যবস্হা করে দিয়েছিল।কিনতু কথায় আছে এ জনমের পাপের ফল এ জনমেই ভোগ করতে হয়।রাজীবের ঊদধতঃ বিলাসিতার জীবনকে বন্যার মতো ভাসিয়ে নিয়ে গেছিল ওর এই মেজর অ্যাক্সিডেনট।মদ্যপ থাকত সবসময়।ইদানিং নাকি কাজেও মন ছিল না, অভিচনদ্রা শুনেছিল।কিনতু আই-সি-ইউ তে যাওয়ার আগে অবদি ও কেবল অভিচনদ্রার ই নাম নিয়েছিল।বাধ্য হয়েছিল ও রাজীবের কাছে ফিরতে।।যতই হোক ভালবাসা।রাজীব নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে,,শান্তি।

চারবছর পর______
আজ রাজীব আর বুবলুকে নিয়ে একটু পার্কে এসেছে অভিচনদ্রা।অনেকদিন ধরেই বুবলু বায়না করছিল।অন্যদিন অভিচনদ্রার স্কুল থাকে,বুবলুরও।রবিবার ছুটির দিন তাই আজ এল।না ছাড়তে পারেনি অভিচনদ্রা রাজীবকে।বহুদিন কমায় থাকার পর যখন রাজীবের জ্ঞান ফেরে তখন ওর পুরো শরীর প্যারালাইজড।হাঁটাচলা,কথা বলা সব কিছু থেকে বঞ্চিত ও আজ।হূইল চেয়ার ই ওর সঙ্গী।এ অবস্হায় ওকে ছেড়ে যাবার কথা ভাবতেই পারে না অভিচনদ্রা।বুবলু ওদের অ্যডপটেড সন্তান।আজ রাজীব বুঝতে পারে অভি ওর কাছে কতটা দামী,মাটি ভেবে  সোনাকে ঠেলে দিয়ে ও কত বড় অপরাধ করেছে।
অভিচনদ্রা আজও বুঝতে পারে না যে রাজীবকে ছেড়ে যাওয়ার পরও রাজীব কেনো ডিভোর্সের কথা তোলেনি,,,,কেনো চাকরিতে মন ছিল না,,কেনো মদ খেয়ে বেসামাল থাকত,,তবে কি রাজীবের মনে একটু হলেও অভিচনদ্রার জন্য জায়গা ছিল_________??!!

সমাপ্ত!!

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 1.5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।