অ্যাওয়ার্ড

অ্যাওয়ার্ড

#গল্প
#অ্যাওয়ার্ড
✍#ঝিলিক_মুখার্জী_গোস্বামী
***************************************

বিগত দু’মাস ধরে চলা হরে কর কম্বার মতো হরেক রকমের বাগ্বিতন্ডা, মোর্চা উঁচিয়ে মতবিরোধ; আপত্তি -অনাপত্তি; অস্থায়ী ভোটাভুটি এসব প্রহসনের পর একটা সার্বিক মতামতে আসা গেছে। বিষে বিষে বিষক্ষয় করে বিশ সালের অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ড ফাংশান অনুষ্ঠিত হবে পাটুলিতে। তারিখ ও ঠিক হয়ে গেছে। শীতর কাতুকুতু খেতে খেতে ডিসেম্বরের একুশে অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান। হাতে আর মাত্র দিন দশেক মতো। এর মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে বাকি কাজটুকু। সবাই গামছা জড়িয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে সেই কাজে। আমি এই পরিবারে নূতন সদস্যা। তাই ভরসা করে আমাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। একদম নূতন না হলেও, আমাকে ঠিক ভরসা করা যায় না। আমার ইয়ার্কি জনিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর সাথে পরিবারের সবাই ইতিমধ্যেই পরিচিত হয়েছেন। তাই সাহস করে আমার উপর কেউ সবিশেষ ভরসা করতে পারেনি। তার জন্য মনে মনে একটু দুঃখু পেয়েছিলাম ঠিকই। পরে যখন শুনলাম, আগত সমস্ত সদস্য-সদস্যার জন্য বিরিয়ানীর ব্যবস্থা পাকাপাকি ভাবে পাকা করা হয়েছে, দুঃখ সেই মুহূর্তে পালিয়ে গেছে। বিরিয়ানীর জন্য সব কুর্বান।

দশ দিনের মধ্যে কেকে দি, নবনীতা দিভাই আমার মেসেঞ্জার বক্সে মেসেজ করে রোজ জিজ্ঞেস করেছে, আমি আসছি কিনা। নবনীতা দিভাই তো দুগ্গা ঠাকুরের মতো চোখ পাকিয়ে ফোটোও দিয়েছে ফেসবুকে। যে না যাবে, তাকে মহিষাসুর সেজে, দিভাই বধ করবে। কার ঘাড়ে আর কয়টা মাথা আছ! বেশীরভাগই যাবে তাই। সবার কথোপকথন থেকে স্পষ্টতই সুস্পষ্ট বেশীরভাগ সদস্য-সদস্যা উপস্থিত থাকবেন। বিরিয়ানীর সাথে কিছু সদস্যবর্গ কে একটা করে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। স্বাভাবিক ভাবেই আমার লোভনীয় জিনিস দু’টোই।

সবকিছু ফাইনাল হতেই, মা কে সব জানালাম। মা বলে উঠল,

-‘তুই কি ছাই পাঁশ লিখিস যে তোকে অ্যাওয়ার্ড দেবে’?

আমিও কম যাই না। বলে উঠলাম, ‘তুমি পড়েছো’?

মা কিছুতেই ক্রিজ ছাড়বে না।

-‘বেশ পড়েছি। ওই তো ফেসবুকে কি সব লিখিস’।
-‘তার জন্য ওনাকে অ্যাওয়ার্ড দেবে’!

আমিও ‘বিনা যুদ্ধে না দিব সূচগ্র মেদিনী’। বলে উঠলাম, ‘তোমার শিব ঠাকুর ছাই-পাঁশ মেখে তান্ডব নৃত্য করলে সেটা খুব মূল্যবান তোমার কাছে……’

কথা শেষ করতে না দিয়ে মা বলে উঠল,

-‘ঠাকুর দেবতা নিয়ে ইয়ার্কি আমি পছন্দ করি না। এই বলে রাখলুম’।
-‘তোর লেখার সাথে শিব ঠাকুরের সম্পর্ক টা কি শুনি’?

এবার আমি, ঠিক নেতাদের মতো ভাষণ দিতে শুরু করলাম। শিব ঠাকুর ছাই মেখে তান্ডব নৃত্য করে যদি উমার হিল্লে করতে পারে। আমিও ছাই-পাঁশ লিখে অ্যাওয়ার্ড পাব না কেন শুনি? যদি না পাই সেক্ষেত্রে আমার সাথে নেপোটিজম করা হবে।

মা আমার। জননী আমার। আমার এই রূপ দেখে চুপ করে গালে হাত দিয়ে বসে আছে তখনও। হঠাৎই বলে উঠল,

-‘না! তোর অ্যাওয়ার্ড পাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না’।
-‘সাহিত্যে না জুটলেও, রাজনীতিতে তোর অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আটকায় কোন পিসি’?

অকৃত্রিম রাগ দেখিয়ে, গোমড়া মুখ নিয়ে ঘর থেকে আমি বেরিয়ে গেলাম। আমার লেখা নিয়ে, মা’র অসাহিত্যিকের মতো মন্তব্য সহ্য হ’ল না। কিন্তু মনের মধ্যে কোথাও একটা কাকের ডাক শুনলাম মনে হ’ল যেন!

*******************

দেখতে দেখতে দশ দিন কোন দিক দিয়ে কেটেছে বুঝতে পারিনি। অ্যাওয়ার্ড ফাংশানে যাবার দিন উপস্থিত। উত্তেজনা তখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। ঘড়ির কাঁটা যেন আজ, অন্যদিনের তুলনায় আরও আস্তে ঘুরছে। আর তর সইছে না। পিউ দি কে ফোনে ধরলাম। আমার যাবার সঙ্গী। লেকটাউন থেকে একসাথে সাক্ষাৎ করে আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে যাব। ঠিক করলাম একটু সকাল সকাল বেরোবো। প্রাতঃরাশটা সেরেই।

মা, আলমারি থেকে একটা আকাশের নীল রঙা একটা শাড়ি বের করে খাটের উপর রেখে দেখছে। ঘরে ঢুকতেই,

-‘আজ এটা পরে যাস। বিশেষ দিন তো আজ’।

একটু অবাক চোখেই মা’র দিকে তাকালাম। জিজ্ঞাসু চোখ দেখে মা বলে উঠল,

-‘অ্যাওয়ার্ড পাবি না জানি। তাও…..’

মনের কথা মনেই রেখে দিলাম। জানোই যদি পাবো না তাহলে এত সাজুগুজুর প্রয়োজন কি শুনি?

-‘তোর মনে কি চলছে জানি’।
-‘তোরই তো মা। একটু মজা করলাম। তোর মনকে হালকা করলাম’।
-‘জীবনে অ্যাওয়ার্ড টাই সব নয়, তিথি। আনন্দ করে ভালোবেসে লেখ’।
এই সব কিছু লজিক্যাল জ্ঞানের কথা বলে, মা শাড়িটা তুলে ধরল আমার সামনে। যেটা দেখেই আমার শরীরের মধ্যেকার পারদের চলমান উর্ধ্বগামী হয়।

মনের মধ্যে আর একটা মনের উথাল পাথাল চলছে। আমি? শাড়ি? কদাপি নেহি। কেমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেন। আমি তো নীল ডেনিমের সাথে কালো টি শার্টে বরাবর স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। পুরো সেলেব লাগে আমাকে। একটু ভেবে বলে উঠলাম, মা তোমার মনে আছে? আমি যখন নবম শ্রেনীতে পড়ি। স্কুলে শাড়ি পরে যেতে হত। সাইকেল চালিয়ে, শাড়ি পরে স্কুলে যেতাম। সেদিনের কথাটা মনে আছে তোমার?

-‘কোন দিন’?
-‘কি সব বলছিস’?

কোথাও বেরোনোর আগে মা’র সাথে ঝগড়া করতে ভালো লাগে না। অপেক্ষাকৃত হিমবাহ মিশ্রিত গলায় বললাম, স্কুল থেকে ফেরার সময় দমদমের খালটায় পড়ে গেলাম। সাদা শাড়ি রঙ পরিবর্তন করল। সাথে আমাকেও চেনা দুর্দায় হয়ে উঠল। তার সাথে একরকমের সুগন্ধি মিশ্রিত গন্ধে ম ম করতে লাগল আমার সারা শরীর। বন্ধুরা যখন আমাকে বাড়ি দিয়ে গেল, তুমি অস্বীকার করেছিলে আমাকে নিজের সন্তান বলে। সেটাই স্বাভাবিক। আমার যে তখন আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রূপের। তার উপর একরাশ সুগন্ধি নিয়ে ঘরে ফিরেছি। যাইহোক, পরে বুঝলাম তুমি মজা করছিলে।

মা’র মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, হাতুড়ির আঘাতটা ঠিক কোথায় মেরেছি। বুঝিয়ে কাজ না হলে, ইমোশনাল আঘাতে সব কাজ এক নিমেষে সমাপ্ত হয়। মা বলে উঠল,

-‘থাক তবে। শাড়ি পরে কাজ নেই’।

মনেমনে যেটা ভাবছিলাম সেটাই ঘটল। অপেক্ষায় ছিলাম মা’র এই কথাটার জন্য।

-‘শাড়ি বাদ মানে এই নয় যে তুই কালো কাউয়া সেজে যাবি’।

কোনোরকম শুভ কাজে, কালো জিনিস মা পছন্দ করে না। আমি আবার ঠিক উল্টো। তবে আজ আর মতবিরোধ করলাম না। নীল ডেনিমের সাথে হলুদ টিশার্ট আর মেরুন জ্যাকেট। আজ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিন। শান্তি বজায় থাকুক মনের সাথে ঘরে।

*******************

বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে, টপাটপ দু চামচ দই-চিনি গিলিয়ে দিল, মা জননী আমার। যেন আমি যুদ্ধে যাচ্ছি। কপালে চন্দনের ফোঁটাটা বাকি থাকে কেন? ও মা! ভাবতে ভাবতেই মা’র একটা আঙুল আমার কপালের দিকে এগিয়ে আসছে। ফোঁটা টা জাস্ট পড়ব পড়ব করছে….. না মা প্লিস। এটা থাক। আমার সেলেব ভাব টা নষ্ট হয়ে যাবে। জিন্স পরে কপালে টিপ পরে কেমন কীর্তনিয়া কীর্তনিয়া লাগবে। ঘ্যামা লুক টা নষ্ট হতে দিতে পারি না। আবার মা’কেও চটাতে পারি না। আমার অবস্থা এখন, না পারছি গিলতে না পারছি ফেলতে, ঠিক এরকম। কপালে চন্দনের টিপ টা জোর করেই পরিয়ে দিল মা। আমি একটু বিরক্ত হয়েই বলে উঠলাম, গলায় একটা তুলসী মালা আর একটা একতারা দিয়ে দাও। ‘ভোলা মন’ গাইতে গাইতে চলে যাই। বাড়িতে যখন সাইলেন্টলি আমার সাথে মা’র বাক্যযুদ্ধ চলছে মুঠোফোনটা বেজে উঠল।

-‘তুই বেরিয়ে গেছিস’?
-‘নাগের বাজার চলে আয় একসাথে যাব’।

অমৃতাদির ফোন। আসছি বলে ফোনের লাইন কেটে পাদুকা যুগলে পা ঢেকে বেরিয়ে পড়লাম মা’র ‘দুগ্গা’ ‘দুগ্গা’ আওয়াজের সাথে দুগ্গা ঠাকুরকে সাক্ষী রেখে।

নাগেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত অমৃতাদি কে দেখে দৌড়ে গেলাম। আর সময় নষ্ট না করে বাসে উঠে বসলাম। পিউ দি কে ফোনে জানিয়ে দিলাম। সময় মতো লেকটাউনে বাস পৌঁছালে, শুকতারা পরিবারের দুই অমূল্য রত্নের সাথে একটি তামার রত্ন একসাথে হলাম। আমার কপালে দিকে চোখ পড়তেই পিউ দির করা সব প্রশ্নের উত্তরে এক বিস্তৃত বিবরণ দিলাম। যা যা বাড়িতে ঘটল, কিছুক্ষণ আগে। শুনে পিউ দির সাথে অমৃতাদি ও গম্ভীর গলায় বলে উঠল,

-‘তুই যখন তোর মা’র জায়গায় যাবি বুঝবি’।

আবার মনে মনে কথা। আমি অনেক কিছু সর্বসমক্ষে না বলতে পারলে মনে মনেই বলি। জেনে শুনে আমি যে ঐ বিপদে পা বাড়াতে চাই না। তা তোমরা জানোই না। মুখের মধ্যে একটা মুচকি হাসি ফুটে উঠল আমার।

**************************

অবশেষে আমরা পাটুলি পৌঁছলাম। একটা কমিউনিটি হলে ফাংশানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাজানো গোছানো দুর্দান্ত। স্টেজের ঠিক পেছনটায় ‘শুকতারা’ পরিবারের ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। বেশ অভিভূত হলাম। পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে পুরো হল টা। আমাদের দেখে নবনীতা আর কেকা দি এগিয়ে এল। দু’জনেই এসে আমার গাল দু’টো টিপে আদর করে দিল। দাঁড়িয়ে গল্প করছি। ইন্দ্রানী দি এসে জুড়ে গেল আমাদের সাথে। আর কিছুক্ষণ পর ফাংশান শুরু হবে। সবাই একে একে আসছে।

সবাই মোটামুটি হাজির। আমার ভেতরের উত্তেজনা যেন ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। খোলা চোখেই দেখতে পারছি। আমাকে স্টেজে ডাকা হয়েছে। প্রথমে গলায় একটা উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হ’ল। তারপর এক এক করে সার্টিফিকেটের সাথে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হল। মৌ দি কে বলে রেখেছিলাম একটা ঝক্কাস দেখে ছবি তুলতে। ফেসবুকে দিতে হবে সেই ছবি। ফুটেজ খাওয়ার জন্য। এসবের মধ্যে যখন বুঁদ হয়ে আছি, মৌমিতা আমাকে জোরে ঠেলা দিয়ে বলল,

-”কোন জগতে থাকিস”?
-”কখন থেকে ডাকছি”।

সম্বিত ফিরতেই কেন কি হয়েছে বলে চমকে উঠি। দেখি পরিবারের একজন আমার সামনে বিরিয়ানীর প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিবা স্বপ্নের মধ্যেই কখন যে ফাংশান প্রায় শেষের পর্যায়ে চলে এসেছে বুঝতেও পারিনি। ইহ জগতে ফিরে আসতেই দেখি টেবিলে মাত্র চার থেকে পাঁচটি অ্যাওয়ার্ড আছে। বিরিয়ানী প্যাকেট হাতে যেরকম ধরা অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় বসে রইলাম। নিশ্চয়ই চার বা পাঁচে আমার নাম আছে।

এবার আমার ফুঁপিয়ে কান্না শুরু হয়েছে। চোখের জল নাকের জল সব এক হচ্ছে। মুখের ভিতর নোনতা একটা স্বাদ পাচ্ছি। পাশে বসা মৌ দি খুব যত্নে অনেক গুলি ন্যাপকিন এগিয়ে দিল আমার দিকে। একটার পর একটা ভেজা অবস্থায় ‘ইউস মি’ বক্সে ছুঁড়ে ফেলছি। ফোঁপানো কান্নাকাটি একটা বিশেষ কান্নায় পরিণত হ’ল। কান্নার সাথে কি যে উর্দু-আরবি ভাষা বলছি কেউ বুঝতে পারছে না। সবাই তখন আমাকে ঘিরে রেখেছে। সবার হাতে অ্যাওয়ার্ড। কান্নার ভলিউম কখোনো বেশি, কখনও কম। সাথে কত রকমের ভাষা। কান্না মেশা ভাষা কেউ যে বুঝতে পারছে না, তাদের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। অবশেষে নবনীতা দিভাই এর সাথে কেকা দি আমার এই নিদারুণ অবস্থার অবস্থান থেকে মুক্তি করার দায়িত্ব নিল। আমাকে প্রথমে ভাইব্রেশান অবস্থা থেকে জেনারেল অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে এল। তারপর…..

নবনীতা দিভাই:- কি হয়েছে তোর? কাঁদছিস কেন?

কেকা দি:- আর বিরিয়ানীর প্যাকেট নিবি?

পিউ দি:- বল মা কি হয়েছে তোর!

অমৃতা দি:- আরে কাঁদছিস কেন?

আমি এসব দেখে আবারও ফুঁপিয়ে উঠলাম। ন্যাপকিন শেষ হয়ে যাওয়ায় মৌ দি এবার নিজের সালোয়ারের ওড়না এগিয়ে দিল। চোখের জলে নাকের জলে একাকার করলাম। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে উঠলাম, তোমরা আমাকে এইভাবে চোখের জলে নাকের জলে করবে জানলে আসতাম না।

দুগ্গা ঠাকুরের মতো চোখ করে নবনীতা দিভাই এবার বলে উঠল, ‘তোর কি হয়েছে বলবি’?

ভয়ে ভয়ে দিভাই এর হাতে থাকা অ্যাওয়ার্ড টার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বললাম, আমি অ্যাওয়ার্ড পাবো না? পাবো না আমি অ্যাওয়ার্ড? এহেন কথায় সবার মনে হয় চা কাকুর কথা মনে পড়ে গেল। সবাই হো হো করে হেসে উঠল। তার মধ্যে থেকেই পিউ দি আর অমৃতা দি বলে উঠল, ” চল মা। তোকে ডায়মন্ড প্লাজা থেকে একটা অ্যাওয়ার্ড কিনে দেবো”।

আমার ফোঁপানো তখনও চলছে। সেই অবস্থায় বলে উঠলাম, মা কে কি বলব? মিথ্যে আমি আবার মা’কে অন্ততপক্ষে বলতে পারব না। আর অ্যাওয়ার্ড কিনলেও তার উপর ‘শুকতারা’ এর লোগো থাকবে কি কি করে? এই সমস্যা সমাধানের জন্য ত্রাতা হিসাবে এগিয়ে এল, নবনীতা দিভাই। এসে আমার হাতে, তার পাওয়া অ্যাওয়ার্ড টা ধরিয়ে দিয়ে গলায় একটা উত্তরীয় পরিয়ে দিল। পরম মমতায় বলে উঠল, ” তুই অ্যাওয়ার্ড পাসনি বলে এতক্ষণ ধরে কাঁদছিলি পাগলি”? সেই দেখে কেকা দি চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে আমার কাছে এগিয়ে এসে, কেকাদির অ্যাওয়ার্ডটাও ধরিয়ে দিল। পরিবেশটা কেমন যেন ইমোশনাল হয়ে উঠেছে। সেটা ভাঙতে মৌ দি, আগের কথা মতো মুঠোফোনের ক্যামেরায় আমাদের বন্দি করে নিল।

ফুটেজ খাওয়ার জন্য দিভাই এর দেওয়া অ্যাওয়ার্ড নিয়ে ঝক্কাস দেখে কতকগুলো ছবি ফেসবুকে দিয়ে দিলাম। ছবি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা’র কমেন্ট…..

“ছাই পাঁশ লেখায় অ্যাওয়ার্ড জুটল তবে”।
সাথে একটা লাভ সাইন।

মা কে পরে সব সত্যি বলে দিই। তারপর থেকে মা আমাকে লেখার জন্য অনেক হেল্প করে। এখন আমার লেখার বয়স মাত্র ছয় মাস। কলমের ডগা ইঞ্চি খানেক প্রশস্ত হয়েছে। অনেকটা উন্নতি হয়েছে। জুটেছে অনেক ভার্চুয়াল সার্টিফিকেট। পরের বছর নিজের যোগতায় অ্যাওয়ার্ড নেব। দৃদৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নিজের কাছে।
🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।