আজও তোমায় ভালবাসি

অাজও তোমায় ভালবাসি

মোঃ নাজিউল হক

 

কটি ছেলে একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসতো,,,
মেয়েটাও তাকে খুব ভালোবাসতো,,,,
ছেলেটির নাম নিলয় অার মেয়েটির নাম নীলাশা,,

কেউ কাউকে ছাড়া থাকতেই পারতো না,,,,
তাদের সকালটা শুরু হতো Good Morning দিয়ে,,,,
অার রাতটা শেষ হতো Good Night দিয়ে,,,,
তারা একে অপরের সাথে কথা না বলে দিন কাটাতেই পারতো না,,,

তাদের মধ্যে অভিমানও ছিলো,,,
একটু কিছু হলেই দুজন দুজনের ওপর রাগ করে থাকতো,,,,
সারাদিন কথা বলতো না,,,,

রাতে যখন দুজন দুজনের সাথে কথা না বলে থাকতে পারতো না,,,
তখন দুজন দুজনকে সরি বলে অাবার কথা বলা শুরু করে দিতো,,,,,
এতোটাই গভীর ছিলো তাদের ভালোবাসা,,,

এরপর হঠাৎ একদিন নীলাশা নিলয়কে ফোন করে বললো,,,,,

নীলাশাঃ অামাকে অার একদম কল করবে না,,,,
অামার সাথে কথা বলার চেষ্টাও করবে না,,,,,

নিলয় তখন বললো,,,,,,

নিলয়ঃ এটা তুমি কি বলতেছো??
সামনে অামার ফাইনাল পরীক্ষা,,,,এটা
তুমি কি করে বলতে পারছো????
তুমি যদি এভাবে কথা বন্ধ করে দাও তাহলে তো অামি ডিপ্রেশনে চলে যাবো,,,,,,

অামার পরীক্ষা ভালো হবে না,,,,,
প্লিজ তুমি এরকম করো না,,,,অামি তোমাকে সত্যি খুব ভালোবাসি,,,,,,

নিলাশাঃ অামার বাবা মা চায় না অামি তোমার সাথে কোনরকম যোগাযোগ রাখি বা কথা বলি,,,,
তারা অামার বিয়ে অন্য জায়গায় ঠিক করেছে,,,,

নিলয়ঃ তাহলে কি অামার এতদিনের ভালবাসা মিথ্যা ছিলো,,,,,,বলো,,,,,

নিলাশাঃ অামি অামার পরিবারকে অাগে দেখবো,,,,,,
তোমার জন্য পরিবারকে কষ্ট দিতে পারবো না,,,
তোমাকে ভালবাসতাম কিন্তু এখন অার বাসি না,,,
যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সে ছেলেটা অনেক বড় চাকরী করে,,,,,

তাছাড়া অনেক ধনীও,,,,
এত ভালো সমন্ধ কি করে ছাড়বো,,,,
তুমি তো কিছুই করো না,,,
কি করে তোমাকে অামি বিয়ে করবো???

নিলয়ঃ সামনে অামার ফাইনাল পরীক্ষা,,,,
এই কথাটা একবার ভাবো,,,,
অার পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই অামি চাকরীর জোগাড় করবো,,,,
প্লিজ তুমি অামাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ,,,,,
অামি তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি,,,,

নীলাশাঃ I’m Sorry,,,,,,অামাকে মাফ করে দিও,,,
অামি তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারবো না,,,,,,,,,

এই বলে নীলাশা ফোন কেটে দিলো,,,,
নিলয় বার বার চেষ্টা করলো কথা বলার কিন্তু কোন লাভ হলো না,,,,,
নীলাশা একবারো ফোন ধরলো না,,,,

অবশেষে নিলয় অনেক কষ্টে পরীক্ষাগুলি দিলো অার ওর মনে নীলাশার বলা কথাগুলো গেঁথে গেলো,,,,,

নিলয় জেদ ধরলো ও অনেক বড় হবে,,,
অনেক বড় চাকরী করবে,,,,
অার নীলাশা কে দেখিয়ে দেবে যে কেউ জেদ করলে সে কি কি করতে পারে,,,

নীলাশার সাথে যদি কোনদিন দেখা হয় তখন তাকে বলবে,,,,,
মানুষ চাইলেই অনে বড় হতে পারে,,,
অনেক বড় চাকরীও করতে পারে,,,,,

নিলয় মনে মনে শপথ নেয়,,,,,,,
অামি তোমায় দেখিয়ে দেবো নীলাশা তুমি একটা বড়লোক ছেলেকে বিয়ে করার জন্য অামাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে,,,,
অামিও সেই লেভেলের ধনী হবো,,,,

পাঁচ বছর পর,,,,,,

নীলাশা জবের ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য একটা কোম্পানীতে অাছে,,,,,,
ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য নীলাশাকে ভেতরে ডাকা হয়,,,

তারপর নীলাশা কোম্পানীর মালিকের কেবিনে যায়,,,,,,

নীলাশাঃ May I Come In Sir????

স্যারঃ হুমম অাসুন,,,,,,

নীলাশা ভেতরে গিয়ে দেখে কোম্পানির মালিক চেয়ার পিছন দিক ঘুরিয়ে বসে অাছে,,,,,

স্যারঃ Please Seat,,,,,,,,

তারপর নীলাশা চেয়ারে বসে অার তখনি সে চেয়ার ঘুরিয়ে সামনে অাসে অার,,,,,

দুজন দুজনকে দেখে ভিষন অবাক হয়ে যায়,,,,

নীলাশাঃ নিলয় তুমি??

নিলয়ঃ তুমি এখানে?????

নীলাশাঃ কিন্তু তুমি এতো???

নিলয়ঃ অবাক হচ্ছো????
অবাক হবারই কথা,,,,,, তুমিই তো একসময় একটা চাকরীর জন্য অামাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে,,,
দেখ অাজ অামার পজিশন কতটা ভালো,,,,
ভেবোনা তোমাকে কথা শোনাচ্ছি,,,,,
জাস্ট তোমাকে বললাম অামি কথাটা,,,,
কিন্তু তোমার তো এখানে হওয়ার কথা না নীলাশা,,,
তোমার হাজব্যন্ড???

তখনি নীলাশা বললো,,,,

নীলাশাঃ অাসলে অামার ডির্ভোস হয়ে গেছে,,,,,,
এদিকে অামার পরিবারের অার্থিক অবস্থাও ভালো না তাই অার কি চাকরীটা,,,,
তুমি যদি না দিতে চাও সমস্যা নেই,,,
অামি অন্য,,,

নিলয়ঃ বুঝতে পারছি অামি,,,,,,
চিন্তা করো না,,,
তুমি এখানে নিশ্চিত মনে চাকরী করতে পারো,,,,,,,

তোমার পোস্ট অামার পি এ হিসাবে,,,,
কাল থেকে জয়েন করবে,,,,,,
অার হ্যা অামি তো তোমার বস তাই অামাকে স্যার বলেই সম্ভোধন করবে,,,,,

নীলাশাঃ ঠিক অাছে স্যার,,,
তো অামি কবে থেকে জয়েন করতে পারি???

নিলয়ঃ অাপনি অাগামীকাল থেকেই জয়েন করবে,,,,
ম্যানেজার সাহেবের কাছ থেকে অাপনার জয়েনিং লেটারটা নিয়ে যাবে,,,,

নীলাশাঃ হুমম,,,,ওকে স্যার,,,,
অামি তাহলে অাজ অাসি,,,,

নিলয়ঃ হুমম,,,,,

এরপর নীলাশা অফিস থেকে বের হয়ে যায় অার অবসন্ন মনে রাস্তা দিয়ে হাটতে থাকে অার ভাবতে থাকে,,,,,
সেদিনের একটা ভূল অামার জীবনকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছে,,,,,
কেন একজন ভূল মানুষকে বিয়ে করে অাজ অামার জীবনের এই অবস্থা,,,,
সত্যি নিজের এই অবস্থার অামি নিজেই দায়ী,,,
যে অামাকে নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসতো তাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম,,,
অাজ অামি সত্যিই খুব অনুতপ্ত,,,,
একটা ভূল অামার জীবনটাকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছে,,,,,

এসব ভাবতে ভাবতে নীলাশা রাস্তার একেবারে মাঝখানে এসে যায়,,,,
তারপর,,,,,

নিলয় অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় একটা জায়গায় এসে দেখে লোকজনের ভীড়,
তখন নিলয় গাড়ি থেকে নেমে লোকজনের ভীড়ের মধ্যে গিয়ে চমকে যায়,,,,,

দেখে নীলাশা রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে অাছে,,,,,
তখনি নিলয় সাথে সাথে নীলাশাকে কোলে তুলে নেয় তারপর সরাসরি গাড়িতে তোলে,,,,,,

তারপর হসপিটালের দিকে রওনা হয়,,,,,
হসপিটালে নেওয়ার পর নীলাশাকে সরাসরি ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়,,,,,

ওটির বাইরে নিলয় চিন্তিত অবস্থায় বসে থাকে অার অজান্তেই নিলয়ের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে,,,,,

এক ঘন্টা পর ডাক্তার ওটি থেকে বেরিয়ে এসে অাসার পর ডাক্তারকে নিলয় জিজ্ঞেস করে,,,,,

নিলয়ঃ ডক্টর নীলাশা কেমন অাছে এখন????

ডাক্তারঃ চিন্তা করবেন না,,,,
সে এখন সংকটমুক্ত,,,,
তবে এখনো জ্ঞান ফেরেনি,,,,,,
অামরা বেডে শিফট করছি তারপর অাপনি দেখা করতে পারেন,,,,

নিলয়ঃ ওকে ডক্টর,,,,,

নীলাশাকে বেডে শিফট করার পর নিলয় গিয়ে নীলাশার পাশে বসে,,,,
নীলাশার তখনো জ্ঞান ফেরেনি,,,,,,,,,

নিলয় চুপচাপ এক নজরে নীলাশার দিকে তাকিয়ে অাছে,,,,
একসময় নীলাশার জ্ঞান ফেড়ে,,,,,
নীলাশা জ্ঞান ফেরার দেখে নিলয় তার পাশে বসে অাছে,,,,

তারপর নিলয়কে দেখে নীলাশা বললো,,,,

নীলাশাঃ স্যার অাপনি এখানে???
অার অামি এখানে কি করে এলাম????

নিলয়ঃ তুমি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলে,,,,,
তোমাকে অামি হসপিটালে নিয়ে অাসছি,,,,,,

নীলাশা খেয়াল করে নিলয়ের চোখটা লাল হয়ে অাছে,,,,,,,,

নীলাশাঃ স্যার অাপনার চোখ লাল কেন????
অাপনি কি???

নিলয়ঃ কিছু না,,,,,,,,
তোমার এখন শরীর কেমন লাগছে????

নীলাশাঃ হুমম একটু ভালো,,,,
তবে অনেকটা দূর্বল,,,,
স্যার অাপনাকে কিছু কথা বলার অাছে,,,,,,

নিলয়ঃ হুমম বলো,,,,,,

নীলাশাঃ পাঁচ বছর আগে ঐ দিন অাপনাকে ছেড়ে অাসা অামার উচিত হয়নি,,,
অামাকে ক্ষমা করে দেবেন,,,,
অামি যদি মরেও যাই তখনি,,,,,,

নিলয় নীলাশার ঠোঁটের ওপর হাত রেখে বললো,,,,,,

নিলয়ঃ ওসব কথা একদম বলবে না অার,,,,,
অার অফিসে ওভাবে কথাগুলো বলা অামাী উচিত হয়নি,,,,,
সরি,,,,,,,

নীলাশাঃ না না,,, স্যার অাপনি তো ঠিকই বলেছেন,,,,
অাপনার কথাগুলো একদম সঠিক,,,,,
সরি বলবেন না,,,,
পারলে অামাকে ক্ষমা করবেন,,,,,

এই বলে নীলাশা কেঁদে ফেললো,,,,,,

নিলয়ঃ এই মেয়ে একদম কাঁদবে না,,,,
এখন কাঁদলে শরীর খারাপ হবে,,,,
তখনি কি হবে বলোতো???

নীলাশাঃ কি অার হবে,,,,
অামি মরে যাবো,,,,,
অার এটাই হবে অামার উপযুক্ত শাস্তি,,,,,,

তখনও নিলয় ধমকের সুরে নীলাশাকে বললো,,,,,,,

নিলয়ঃ এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি???
বার বার মরার কথা কেন বলছো,,,
সাবধান মরার কথা বলবে না,,,,,

নীলাশাঃ অামি মরলে অাপনার কি????
অাপনি অাপনার ওয়াইফকে নিয়ে সুখে সংসার করুন,,,,,,,
এটাই অামি চাই,,,,,

নিলয় অাবারো ধমকের সুরে বললো,,,,

নিলয়ঃ এই মেয়ে তুমি কি জানো অামি বিয়ে করিনি,,,,,,

নীলাশাঃ বিয়ে করেননি???
কেন স্যার,,,,অাপনি কেন বিয়ে করেননি????

নিলয়ঃ তোমার জন্য,,,,অামি বিয়ে করি নি,,,,
কারন,,,,,,,

নীলাশাঃ কারন কি স্যার,,,,,,

নিলয় তখনি নীলাশাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলো,,,,,

নীলাশাঃ কি করছেন কি স্যার,,,,,
অামাকে,,,,,,,

তখনি নিলয় বলে উঠলো,,,,

নিলয়ঃ কারন অামি তোমাকে অাজও ভালবাসি,,,,,,
তোমাকে অামি ভূলতে পারিনি,,,,,
সেইজন্যই বিয়ে করিনি,,,,,
বিয়ে করতামও না কোনদিন কিন্তু???

নীলাশাঃ কিন্তু কি???? স্যার,,
অামি কিছু বুঝতে পারছি না,,,,

নিলয়ঃ এখনো অামাকে স্যার বলছো,,,,,,
নিলয় বলা যায় না অামাকে,,,,,,

নীলাশাঃ মানে????

নিলয়ঃ মানে অামি তোমাকে অামার জীবনে ফিরে পেতে চাই,,,,,
তুমি কি ফিরতে রাজি অাছো????
তোমাকে পেয়ে অার হারাতে চাই না,,,,
কারন অামি যে তোমায় অাজও ভালবাসি,

নীলাশা এই কথা শুনে অজান্তেই কেঁদে ফেললো,,,,,
কিন্তু এটা দুঃখের কান্না নয়,,,,
সুখের কান্না,,,,,

নীলাশাঃ তুমি যদি অামাকে মন থেকে অাবার মেনে নাও,,,
সবকিছু ভূলে অামাকে জীবন সাথী বানাতে চাও
তাহলে অামিও রাজি,,,,,,,,,,
কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাবো না অার,,,,,
মরনও অামাদের অার অালাদা করতে পারবে না,,,,

নিলয় নীলাশার এই কথা শুনে সেও অজান্তেই সুখের পানি ফেলে চোখ দিয়ে,,,,,,,,,,,

নিলয় অার নীলাশা অারো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দুজন দুজনকে,,,,,,

❤❤❤❤❤ সমাপ্ত ❤❤❤❤❤

যে ভালোবাসা অসমাপ্ত হয়ে রয়েছিলো পাঁচ বছর পর সেই ভালবাসা পরিনতি পেলো,,,,,,
অটুট হোক নিলয় অার নীলাশার বন্ধন,,,,,




কাহিনীটা সবার কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন,,,,,

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 2.5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।