আনন্দনিকেতন

আনন্দনিকেতন

 

আনন্দনিকেতন

samimaktar

কে বলেছে শুধু ছোটোবেলাতেই পড়াশোনা শেখার জন্য হোস্টেলে থাকতে হয়;বড়োবেলাতেও থাকা যায়। যেমন আমি আছি। আমাদের এই জায়গাতে প্রায় জনা তিরিশ বৃদ্ধ বৃদ্ধা আছেন।আমাদের এই আশ্রমের নাম আনন্দনিকেতন। এখানে একজন ম্যানেজার এবং দুজন কর্মী আছে। আমাদের প্রতিদিনের রুটিন থাকে। সে অনুযায়ী সবাই কাজ করি। সকালে উঠে প্রার্থনা তারপর রান্না খাওয়া ঘর পরিষ্কার বাগান পরিচর্যা বিকেলে সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া আবার রাত্রে খাওয়ার পর একটু গল্প গুজব হয়। সবাই যেন এক পরিবারের সদস্যের মতো থাকি।আমি এবং আমার মতো যারা একটু কমবয়সী আছি এরকম তিন চারজন এর উপর দায়িত্ব একটু বেশি থাকে বাকিদের বুঝিয়ে দিয়ে চলতে হয়।এছাড়াও উৎসব অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে বাইরে থেকে লোক আসে, আমাদেরও নিয়ে যাওয়া হয় ঘুরতে।আমার প্রায় চার বছর কেটে গেল এখানে। বছর দশেক আগে অন্তুর বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। তার দুবছর পর অন্তু বিয়ে করে, পরের বছর ই বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পায়। এই বয়সে আমার আর যেতে মন করলো না।আমার ছেলে তো ওর মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারছিলাম ও একটু দ্বিধায় আছে আমাকে নিয়ে।অবশেষে দীপ্তি, আমার বউমা ই একটা উপায় বার করলো। এই বৃদ্ধাশ্রম। অন্তত একা থাকতে হবে না।প্রথম যেদিন ওদের সাথে জায়গাটা দেখতে আসি বেশ ভালো লেগেছিল সাদা রংয়ের বাড়ি সামনে বেশ বড়ো ফুলের বাগান।আমার ঘরে আমার সাথে আরও একজন মহিলা থাকে। তার ঘটনা অবশ্য অন্যরকম। কেউ স্বেচ্ছায় আমার মতো আসে কাউকে বা জোর করেই দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে যাই হোক,সপ্তাহ শেষে সকলেরই চোখ প্রিয়জনদের দেখবার আশায় আকুল হয়ে থাকে।কারও ইচ্ছা পূরণ হয় কারও বা হয় না। এই আশ্রমে আমরা একে অপরের সুখদুঃখ ভাগ করে নিই। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে। যুগের সাথে সাথে নিজেদের মানসিকতার ও পরিবর্তন করতে হয়। ঘরে একা থাকার থেকে এখানে একসাথে থাকাটা আমার কাছে বেশ লাগে। সামনের বছর অন্তুরা ফিরে আসবে বলেছে।সেই আশাতেই আছি। বাড়ি ফিরে গেলেও আনন্দনিকেতনে নিয়মিত আসবো।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 2/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close