আমার লাটাগুড়ি ভ্রমণ

আমার লাটাগুড়ি ভ্রমণ

আমার লাটাগুড়ি ভ্রমণ

(একটি ভৌতিক কাহিনী)

Pabitra Adhkary

1.
লাটাগুড়িতে আমি অনেকবার গিয়েছি. যাত্রামঙ্গল, চাপড়ামাড়ি থেকে গন্ডার, হাতি, বাইসন সব দেখেছি. তবে অনেকটা দূর থেকে. অ্যডভেঞ্চার তেমন হয়নি. তাই আমি ঠিক করলাম গভীর রাত্রিতে লাটাগুড়ি জঙ্গলে ঘুরতে যাব.
আমি আমার গাইড মিঃ তরফদারকে  বললাম.
মিঃ তরফদার বললেন, “ দেখুন, রাত্রিবেলায় জঙ্গল কিন্তু খুব Risky. দিনেরবেলায় জঙ্গলের এক রুপ, রাত্রি বেলায় জঙ্গলের আরেক রুপ. খুব ভয়ানক.
আমি বললাম, “ আমি জঙ্গলের ওই ভয়ানক রুপটাই তো দেখতে চাই. জীবন তো একটাই.”
উনি বললেন, “ঠিক আছে, তবে Next পূর্ণিমায় চলে আসুন. তবে রাত্রি বেলায় জঙ্গলে কিন্তু গাড়ি ঢুকবে না. পায়ে হেঁটে ঘুরতে হবে.”
আমি বললাম, “ আমি রাজি আছি”.

নবনীতার জীবনের গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




2.
আমি পূর্ণিমাতে লাটাগুড়ি পৌছে গিয়েছি. মনের মধ্যে একটা অ্যাডভেঞ্চার ঘুরপাক খাচ্ছে. জানি না, আজকে রাত্রিতে কী হবে   ?
আমি লাটাগুড়ি রিসর্টে E-209 নাম্বার রুম এ ছিলাম. রাত্রি 11 টার সময় কলিংবেলে আওয়াজ হল. আমি দরজা খুললামে.
দেখলাম 18-19 বছরের একটা মেয়ে. গায়ের রং শ্যামবর্ণা.
আমি জানতে চাইলাম, “  তুমি কে”?
ও উত্তর দিল, আমি মিঃ তরফদারের মেয়ে নিলীমা. উনি আজকে একটা বিশেষ কাজে আটকে পড়েছেন. তাই আমি আপনাকে জঙ্গলে গাইড করবো.”
আমি রেগে গেলাম, বললাম, তুমি একটা বাচ্চা মেয়ে, আমাকে জঙ্গলে গাইড করবে”?
আমি মিঃ তরফদারকে ফোন করলাম. কিন্তু ফোন out of reach.
নিলীমা বলল, দাদা আপনি চিন্তা করবেন না. এই জঙ্গলের রাস্তা আমি খুব ভালোভাবে চিনি. আপনার কোনো অসুবিধা হবে না.”
আমি কিছুক্ষণ ভাবলাম, তারপর বললাম, “ঠিক আছে, চলো.”
আমরা দুজনে জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম.
3.
রাত্রিতে জঙ্গলের যে সৌন্দর্য্য দেখলাম, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না. বাইসনের দল, হাতির দল আর বেশ কয়েকটা গন্ডার ঘুমিয়ে থাকতে দেখলাম.
নিলীমা বলল, কোনো গাইড আপনাকে এদিকে ঘোরাবে না. এদিকে আসতে সবাই ভয় পায়.
আমি বললাম, হ্যা, আমি এদিকটাতে কোনোদিনো আসি নি.”
নিলীমা বলল, দাদা, সাবধানে চলবেন. এই জঙ্গলে কিন্তু খুব বিষধর সাঁপ আছে. একটা ছোবল মারলেই সব শেষ.”
আমি বললাম “তাই নাকি,নিলীমা, তোমার এখানে ভয় করে না?”
ও বলল, “আমার আর হারানোর কিছু নেই, এখন এই জঙ্গল আমার সবকিছু.”
নিলীমার কথার হেয়ালি আমি বুঝতে পারলাম না.
ডানদিকের জঙ্গলটা দেখলাম আরও বেশি ভয়ানক.
আমি বললাম, “চলো, ওদিকটাতে ঘুরে আসি.”
নিলীমা বলল,  দাদা ওদিকে যাবেন না. ওদিকে একটা পাগল হাতি আছে. মানুষ দেখলেই তেড়ে আসে.”
আমরা দুজনে মিলে পুরো রাত্রি সেই জঙ্গলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে লাগলাম.
ভোর হল. আকাশে সুর্য্য উঠল.
নিলীমা বলল, “ দাদা, এবার আমাকে যেতে হবে”
নিলীমা আমাকে Main রাস্তায় পৌছে দিল. তারপর কিছু না বলেই উল্টোদিকে চলতে শুরু করল.
আমি ওকে ডাকলাম, কিন্তু ও শুনল না. অদ্ভুত মেয়ে.

কৃতজ্ঞতা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




4.
আমি লাটাগুড়ি রিসর্টে পৌছে গিয়েছি. খুব ক্লান্ত লাগছে, তাই একটু ঘুমিয়ে পড়েছি.
হঠাৎ কলিংবেলের শব্দ.
ঘড়িতে তখন এগারোটা বাজে.
আমি দরজা খুললাম, মিঃ তরফদার ভিতরে ঢুকলেন.
উনি বললেন, “মিঃ অধিকারী. I am extremely sorry. আমি কালকে রাত্রে আসতে পারি নি. Actually আমার ছেলে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল কালকে রাত্রে. ওকে Hospitalised করতে হয়েছিল.”
আমি বললাম, “ আমার কোনো অসুবিধা হয় নি. আপনার মেয়ে নিলীমা আমাকে জঙ্গলে খুব ভালো  গাইড করেছে”.
উনি হঠাৎ খুব রেগে গেলেন, বললেন, “ আপনি কি আমার সাথে ইয়ারকি করছেন. আপনি কি জানেন না, আমার মেয়ে সাত বছর আগে সাঁপের কামড়ে মারা গেছে. তখন ওর বয়স ছিল উনিশ”.
আমি কিছু বলতে চাইলাম. কিন্তু কোনো আওয়াজ বের হলো না. আমি Senseless হয়ে গেলাম.

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।