❤️ আরেঞ্জ ম্যারেজ ❤️

❤️ আরেঞ্জ ম্যারেজ ❤️

❤️ আরেঞ্জ ম্যারেজ ❤️

 

(সিলিকা ঘোষ)

 

গল্পের প্রধান চরিত্র সাগরিকাকে লেখিকা ছদ্দ নাম ব্যাবহার করেছে সাগর। 

 

রেঞ্জ ম্যারেজ বলতে আমরা যা বুঝি এই গল্প টা একটু অন্যরকম।সেটা আমরা সাগরিকার জীবন দিয়ে বুঝতে পারি।সেই মহাপ্রলয় কাটিয়ে সাগরিকা কিভাবে সুখের জীবন ফিরে পেল আমরা জানব।

সাগরিকা একটি সাধারণ মেয়ে।একটি বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াশুনো করেছে।ফাস্ট সেকেন্ড না হলেও ভালোভাবে পাস করত সাগর।তার বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানি তে জব করেন।আর মা গৃহবধূ।সাগরের ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল যে সে নাচ শিখবে।কিন্তু সেটা পূরণ হয়নি কোনোদিন।কারণ তার বাবার ব্যাবসা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চারদিকে ধার দেনা বেড়ে যায়।তাদের ফ্লাট গাড়ি গয়না সব বেঁচে দিতে হয়।অভাব আসে জীবনে।সেই থেকে সাগরের স্বপ্ন আর পূরণ হয় না কোনদিন।

সাগরকে তার বাবা খুব কষ্ট করে উচ্চমাধ্যমিক পাস করায়।ক্লাস টেন থেকে তাদের ফ্যামিলির লোকজন সাগরের বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করে।কিন্তু সাগরের বাবা মা এই বিষয়ে কোনো পাত্তা দেয় না।সাগর স্কুল ফাইনাল পাস করার আগেই তাদের ফ্যামিলির চাপে সম্বন্ধ দেখতে আসে।ছেলেটা বিলেত ফেরত ডক্টর।দেখতে বেশ ভালো।গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সার কোনো অভাব নাই।তারা কোনো পন চায় না।শুধু বলে আমাদের মেয়ে চাই।কিন্তু সাগরে র বাবা রাজি হতে চায় না।কারণ তার হাতে সেই টাকা নাই বিয়ে দেবার মত।কিন্তু অনেক চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত রাজি হয় তার বাবা মা।সাগরের বাবা তার অফিসের পি এফ এর টাকা ভাঙিয়ে এবং কিছু ধার দেনা করে মেয়ের বিয়ে দেয়।

স্পেশাল বিরিয়ানী গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।





সাগরের বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি।না না তার শশুর বা শাশুড়ি কেউ অশান্তি করে না।অশান্তি তা শুরু করে সাগরের ননদ নন্দাই ছোট দেওর আর জা।তারা সবসময় খোটা দিত সাগরকে।ভিখিরীর মেয়ে বলে।সাগর কিছু বলে না।কারণ সে এমনিই একটু চুপচাপ।আর তার বাবা মার কথা ভেবে সে আরো চুপ থাকে।এই ভাবে চলতে থাকে অশান্তি।সাগরের বর আর্য সবসময় বাড়ি থাকতো না।সে একজন বড় ডাক্তার।তাই সকালে বেরোত আর রাতে ঢুকতো।কিন্তু আর্য বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই সব লাগতো তার ননদ।।আর আর্য সব শুনে দিয়ার ওপর ক্ষেপে উঠলো।খুব বকাঝকা করতো।সাগর মুখ বুজে সব সহ্য করতো।

একদিন খাবার পরিবেশন করার সময় সাগরের হাত থেকে বাটি পরে ভেঙে যায়।তখন ওর ননদ উঠে ওর গালে চড় মারতে আসে।ঠিক তখনই সাগর ননদের হাত চেপে ধরে।অনেক অশান্তি হয়।সবাই সাগরকে দোষ দেয়।বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে।সাগর তখন ঠিক করে ও চলে আসবে ওর বাবা মা র কাছে।তাই ই করে।বাবা মা র কাছে চলে আসে।

বাবার খুব কষ্ট করে সংসার চালায়।তার মধ্যে ও আসে।যতই হোক।ও চেয়েছিল পড়াশুনো শিখে চাকরি করে বাবার পাশে দাঁড়াবে।কিন্তু সেটা হয়নি।তাই ও একটা চাকরি খুঁজতে থাকে।দেড় মাসের মধ্যে একটা চাকরি পেয়েও যায়।এরই মধ্যে সাগরের সাথে আর্য র ডিভোর্স হয়ে যায়।অনেক চেষ্টা করেছিল সাগরের বাবা মা।যাতে মেয়ে আবার সংসার করতে পারে।কিন্তু সেটা আর হয়নি

সাগর চাকরি পায় একটা নার্সিংহোমের রিসেপশনে।10 থেকে 12000 র মতো স্যালারি পায়।তাতে বাবাকে দিয়ে দিব্বি চলে যায় সাগরের।এদিকে আর্য একদিন শুনতে পায় হঠাৎ করে তার দিদি দের কথোপকথন।আড়ালে দাঁড়িয়ে সব শোনে আর্য।তার দিদি বলছিল বেশ হয়েছে এবার।থাক বাপের বাড়ি।একদম দেখতে ইচ্ছা করতো না।কত ইচ্ছা ছিল ভাই টার সসুরবাড়ি পয়সা ওলা হবে।তানা।।এবার ভাইয়ের বিয়ে দেব একটা বড়লোক পরিবারের মেয়ের সাথে।একটা মেয়ে দেখে রেখেছি।মেয়েটা একটা অফিসে উচ্চপদস্থ কর্মচারী।অনেক টাকা মাইনে।বাবারও গভর্নমেন্ট জব ছিল।ওদের স্ট্যাটাস ই আলাদা।

নবনীতার জীবনের গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।





আর্য র ভাইয়ের বউ বলে ঠিক বলেছ দিদি।উফফ গরিবের মেয়ে।কোনো স্ট্যাটাস নাই।আমাদের সাথে মানিয়ে নেবার মতো মেয়েই না।দাদার সাথে কি আর ওই মূর্খ মেয়ে মানায়??দেখতে ভালো হলে কি হবে কেমন যেন কথা গুলো।যে মেয়েটা দেখেছো দিদি সেই মেয়েটার কথাই বাবা মা কে বলো।

হ্যাঁ বলবো তো।এই জন্য ই তো এত কষ্ট করে ওকে তাড়ালাম।দিদি বলে

একদম।আমিও তো ইচ্ছা করে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।আর ও যেতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে বাটি ফেলে দিলো।।ব্যাস।ভাইয়ের বউ বলে।

দিদি বলে ঠিক করেছ।সহ্য হতো না।দেখলে গা জ্বলে যেত একদম।একটা ক্লু পাচ্ছিলাম না বাড়ি থেকে তাড়ানোর।সেদিন তোমার দৌলতে শেষ পর্যন্ত তাড়ানো গেল।

হম্ম তাহলে আমার ক্ষমতা দেখো।ও দিদি তাহলে একটা পার্টি হোক কি বলো??চলো না।তুমি আর দাদা আর আমি তোমার ভাই চারজন মিলে একটা পার্টি দি।বাড়িতে কাউকে বলবো না।কি জন্য পার্টি।

হম্ম তাই হোক।তোর দাদা আজকে অফিসে থেকে ফিরুক।বলবো সব অর্রেঞ্জ করতে।

আর্য সব শোনে।ও রাগে ফুঁসছে।।ও ঘরে ঢুকেই বলে বাহঃ দিদি বাহঃ।।এই ছিল তোদের মনে??আর এই কারণে আমি ওকে এত অপমান করলাম।সেই কারণটা যদি জানতাম তাহলে কখনোই এরকম করতাম না।আমি এক্ষুনি বাবা মা কে জানাবো।।আর এই বাড়ি ছেড়ে এক্ষুনি বেরিয়ে যাবো।যে বাড়িতে তোদের মতো মানুষ থাকে সেখানে আমি থাকব না।এই বলে আর্য বেরিয়ে যায়।বাবা মা বলে চিৎকার করে ওঠে।বাবা মা এসে ডাইনিং রুমে।

কি হলো রে??এত চিৎকারে করছিস কেন??আর্যার বাবা বলে

বাবা আমি এই মুহূর্তে এই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাবো।আর 1 দিনও আমি থাকব না

আর্যর মা বলে কেন ??কি হয়েছে বল??হঠাৎ এরকম কথা??

কৃতজ্ঞতা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।





আর্য সব বলে।ওর দিদি ওকে বোঝাতে যায়।কিন্তু আর্য কিচ্ছু শুনতে চায় না।বলে আমি যা শুনে নিয়েছি তারপর আমি আর কিচ্ছু শুনবো না।

এই বলে সে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।বাবা মা কে বলে আমি তোমাদের সাথে এসে মাঝে মাঝে দেখা করে নেব।চিন্তা করো না।

আর্য বেরিয়ে এসে হসপিটালের ডক্টোর হোস্টেল এ থাকতে শুরু করে।সে মনে মনে সাগরিকার জন্য খুব কষ্ট পায়।সে ঠিক করে সাগরিকা কে আবার নিজের করে নেবে।ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে।পরের দিন আর্য সাগরিকার বাড়ি যায়।সাগরিকা তখন বাড়ি নাই।কাজে বেরিয়ে গেছে।দরজা খুলতেই সাগরের মা দেখে আর্য।

আরে আর্য বাবা তুমি??এস বাবা ভিতরে এস।বাড়ির সবাই কেমন আছে??সাগরের মা জিজ্ঞেস করে।

আর্য ভিতরে এসেই ওর মা কে প্রণাম করে।জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন।বাবা কেমন আছে??সবশেষে জিগ্গেস করে আর্য সাগর কোথায়??ওকে দেখছি না যে??

সাগরের মা বলে ও তো কাজ করে।একটা নার্সিংহোমে রিসেপশনে কাজ পেয়েছে।10 -12000 টাকা মাইনে পায়।

আর্য অবাক হয়ে যায়।বলে তাই নাকি।??নার্সিংহোমের নাম কি??

ওর মা বলে SUNFLOWER NURSING HOME।আর্য চিনতে পারে।বলে অত অনেকটা পথ।ট্রেনে করে যেতে তো খুব কষ্ট??কখন ছুটি হয়??

সাগরের মা বলে সকাল 10 টা থেকে রাত 8.30 অব্দি।ট্রেনে করে যায়।কিন্তু যখন ট্রেনে গন্ডগোল হয় তখন খুব কষ্ট হয়।বাসে করে ঘুরে ঘুরে যেতে হয়।

আর্য কিছু ভাবে।তারপর বলে ঠিক আছে আমি তাহলে এখন যাই।আবার পরে আসবো।

সাগরের মা বলে এমা এসব কি বলছো।??কিছু তো খেতেই হবে।আর দুপুরে খেয়ে তারপর যাবে।তুমি একটু বসো আমি খাবার বানিয়ে আনি।

আর্য সাগরের মায়ের হাত ধরে বলে না মা আজকে কোনো খাবার নয়।আজকে থাক।আমি SUNDAY এসে বরং খাবো দুপুরে।এখন যাই।

আর্য বেরিয়ে যায়।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়।সাগরের ছুটির সময় হয়।সাগর সই করে বেড়ায় দেখে কিছুক্ষন আগেই বৃষ্টি হয়েছে।রাস্তা পুরো ভিজে।ছাতা ও সঙ্গে নাই ওর।ও তাড়াতাড়ি করে হাটতে থাকে।হঠাৎ পিছন থেকে হাত টা কেউ ধরে সাগরের।ভয় পেয়ে পিছন ঘুরে তাকায় সাগর।দেখে আর্য দাঁড়িয়ে

সাগর বলে আপনি??আপনি এখানে??

আর্য বলে হ্যাঁ।তুমি এখানে কাজ করো তাই এলাম।সাগর বলে হাত তা ছাড়ুন আমি যাব।বলে হাত তা ছড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে সাগর।কিন্তু চেপে ধরে আছে আর্য।

মিরাকেল গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

কি হল ছাড়ুন হাত টা।আমার লাগছে তো নাকি??আর আমার বাড়িও ফিরতে হবে।অনেক রাত হয়ে যাবে যদি ট্রেইন টা ধরতে না পারি।ছাড়ুন হাত।

আর্য তাও হাত ধরে রাখে সাগরের।কিছুক্ষন পর আর্য বলে I AM SORRY SAGOR।আমায় ক্ষমা করে দাও।

ক্ষমা??কিসের ক্ষমা??আমি আপনাকে চিনি না।আপনি হাত টা ছাড়ুন আমার।আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তুমি আমায় চেনো না।এত রাগ করেছ আমার ওপর??তুমি জানো আমি ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছি।আমি জানি ওরা তোমার সাথে অন্যায় করেছে।আমি সেগুলো সব সুনেছি।

সাগর অবাক হয়ে তাকায় আর্যর দিকে।আপনি আপনার প্রিয় দিদিভাইকে ছেড়ে চলে এলেন??যার কোথায় আপনি ওটা বসা করেন তাকে ছেড়ে চলে এলেন??বাবা এ কি শুনছি আমি হ্যাঁ।বাঙ্গ করে বলে সাগর।

তুমি বিস্বাস নাই করতে পারো।কিন্তু প্লীজ আমায় ক্ষমা করো।আমি যা করেছি ভুল করেছি।হাত জোর করে আর্য।

দেখুন আমার সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই এখন।তাই আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ নাই।আমার অনেক দেরি হইয়ে গেছে আমি যাই।বলে এগোতে থাকে সাগর।আর্য সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

দাঁড়াও সাগর।তুমি আমার গাড়ি তে ওঠো।আমি পৌঁছে দেব তোমায়।

মানে??আপনি পৌঁছে দেবেন মানে?

মানে আমি এবার থেকে তোমায় রোজ নিয়ে দিয়ে আসবো।তোমায় কষ্ট করতে হবে না।

আপনার কি মাথা খারাপ??আপনি কে??যে আমি আপনার কথা শুনবো??আপনি একজন পরপুরুষ।আমি আপনার সাথে কোনোরকম সম্পর্ক রাখতে চাই না।

দেখো সাগর তুমি নিজের হতে আমার থেকে খোরপোষ নিতে চাওনি।কষ্ট করে কাজ করছো।আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে তোমার কাছে এসেছি।তুমি আমায় না ই মানতে পারো।আমি জানি তোমার অভিমান হয়েছে।কষ্ট হয়েছে।কিন্তু তুমি এই কাজ তা ছেড়ে দাও আর নাহলে আমি তোমায় রোজ দেওয়া নেওয়া করবো।

কখনো না।আপনি যদি এরকম করেন তাহলে আমি আবার আপনার নামে কেস করবো।বলবো আপনি আমায় বিরক্ত করছেন।তাই বলছি।সাবধান হোন।আমায় যেতে দিন।আর কোনোদিন আমার সাথে এরকম ব্যাবহার করতে আসবেন না।ছাড়ুন বলে হাত ছাড়িয়ে নেয় সাগর।

আর্য চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে সাগরের দিকে চেয়ে।সাগর চলে যায়।আর্য র চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে।আর্য ভাবে যে একদিন ওর নামে পুজো দিত।ওর মঙ্গল কামনায় ব্রত করতো।সে আমায় আজ এভাবে দূরে সরিয়ে দিল??আর্য দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে পরে।কিছুক্ষন পর একটা ফোন আসে।হসপিটাল থেকে জানায় একটা ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট আছে।তাই এক্ষুনি যেতে হবে আর্য কে।হন ছেড়ে গাড়িতে উঠে পড়ে আর্য।
এদিকে সাগর স্টেশন এ পৌঁছে দেখে ট্রেইন তা বেরিয়ে গেছে।8.45 এর পর আবার সেই 9.10।।উফফ আজকে অনেক লেট হবে পৌঁছতে।সাগর শেডের তলায় গিয়ে বসে।সাগর ভাবতে থাকে হঠাৎ তার জীবনে আবার নতুন করে কি ঝড় এলো।ভালোই তো ছিল সে।আর্য কে খুব ভালোবেসেছিল সে।কিন্তু আর্য বোঝেনি।আর্যর পরিবারকে নিজের পরিবার ভাবতো।কিন্ত কি থেকে যে কি হয়েগেল?সে তো এরকম করে ভাবেনি?সব কিছুর পর তো ছেড়ে চলে এসেছিল।সব সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছিল এক কথায়।তাহলে আবার কেন আর্য ফিরে এলো??সে তো একজন বড় ডক্টোর।তার এত সময় আছে যে সাগরের কথা ভাবার মতো??সব কাজ ছেড়ে এসে তার জন্য ওয়েট করছিল হঠাৎ??আবার ক্ষমাও চাইলো??শুনলাম ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে।কেন??এই ভাবতে ভাবতে হঠাৎ এনউন্সমেন্ট শুনতে পেল সাগর।চমকে উঠলো।শুনলো ট্রেইন আসছে তার।সে উঠে মহিলা কামরার দিকে গিয়ে দাঁড়ালো।

না ফেরার দেশে সুহান গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




বাড়ি ফিরে সাগর শুনলো মার কাছে আজকে সকালে নাকি 11টা নাগাদ আর্য আসে।কথাবার্তা বলে চলে যায়।সাগরের মা জিজ্ঞেস করে সাগরকে হ্যাঁ রে তোর সাথে কি কোন কথা হয়েছে ওর??

সাগর বলে আমার সাথে কি কথা বলার সম্পর্ক আছে মা??যে তুমি জিজ্ঞেস করছো??

মা বলল না না আমি এমনি জিজ্ঞেস করলাম।হয়তো ফোন করতে পারে আর্য তোকে।

ফোন করলেই যে ফোন ধরতে হবে কথা বলতে হবে এর কি মানে??ওর সাথে তো কোনো সম্পর্ক নেই আমার কথা বলার মতো।তাই না??

সাগরের মা আর কোনো কথা বলে না।রান্নাঘর এ চলে যায়।সাগর ফ্রেশ হয়ে আসে।আর্যর ফোন আসে ল্যান্ড ফোনে।সাগরের মা ফোন ধরে।কথা হয়।সাগরের মা সাগর কে ডাকে
সাগর আসে।মা বলে এই নে আর্য র ফোন।কথা বল।ও তোর সাথে কথা বলতে চাইছে।

সাগর বলে আমি কথা বলবো না।।আমার এখন ভালো লাগছে না কথা বলতে।এই বলে ঘরে চলে যায় সাগর।

ওর মা কিছু বলে না।আর্য বলে ঠিক আছে মা আমি SUNDAY তে বাড়ি যাবো।তখন কথা হবে।ফোন কেটে দেয় আর্য।

সাগরের মা ফোন ছেড়ে সাগরের ঘরে যায়।সাগরে খাটের ওপর বালিশ নিয়ে বসে আছে।চোখ বন্ধ করে।

এই সাগর এগুলো কিন্তু তোর খুব খারাপ।তুই কেন কথা বললি না আর্যার সাথে??

আমি কথা বলবো না মা।কে উনি??যখন কেউ ছিল তখন অনেক কথা হয়েছে তবে এখন আর না?এখন আর কোনো কথা নাই আমার ওনার সাথে।সব শেষ।দেখো মা এই নিয়ে তুমি আমার সাথে আর একটাও কথা বলবে না।প্লিজ মা প্লিজ।আমি সব ভুলতে চাই মা।সব ভুলতে চাই।

আর কোনো কথা বলে না সাগরের মা।ঘর থেকে চলে যায় ওর মা।সাগর কাঁদতে থাকে বালিশে মুখ গুঁজে।

রবিবার সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠে সাগর।ফ্রেশ  হইয়ে এসে বসে খাটে।বাবা মার ঘরে।বাবা কাগজ পড়ছে।মা চা নিয়ে আসে বসে।সাগর চা খেতে থাকে।গল্প করে মা র সাথে।হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।

সাগর গিয়ে দরজা খুলে দেখে আর্য দাঁড়িয়ে।সাগর তাকিয়ে থাকে আর্য র দিকে।আর্য বলে কি আমায় ঢুকতে দেবে না ঘরে??সাগর সরে যায়।আর্য ভিতরে ঢোকে।এদিকে ওর মা এসে যায় গেটের কাছে।

ওমা তুমি এসেছ বাবা।।এস এস ভিতরে এস।সাগরের মা বলে।

আর্য ভিতরে গিয়ে প্রণাম করে মা কে।ওকে ভিতরে নিয়ে যায় মা।সাগরের বাবা ও বেশ আনন্দ।অনেকদিন বাদে এসেছে আর্য।সাগর গেট দিয়ে এসে এ র পাশে এসে দাঁড়ায়।আর্য বলে আজকে কিন্তু আমি দুপুরে খেয়ে তারপর যাবো।

সাগরের মা হেসে বলে দুপুর কেন??তুমি যখন ইচ্ছা এসে খেয়ে যাবে।কোনো অসুবিধা নাই।

আর্য হাসে।সাগরের বাবা বলে ওকে আগে কফি করে দাও।আর্য সাথে সাথে বলে না না কফি না।চা খাবো।

সাগর বড় বড় চোখ করে তাকায় আর্যার দিকে।এ কি শুনছে সে??চা খাবে আর্য😮😮।।

সাগরের মা গিয়ে চা করে নিয়ে আসে।সাথে বিস্কুট।তারপর আর্য বলে মা আজকে কিন্তু আমি লুচি সাদা আলুর তরকারি আর সুজি খাবো।সাগরের ফেভারিট।সাগর তাকিয়ে থাকে আর্য র দিকে।আর্য কথা গুলো বলে সাগরের দিকে তাকায়।সাগর মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

তোমার আগমন গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগরের মা বাবা তো খুব খুশি।জামাই এই প্রথম এসে আবদার করে খেতে চাইছে।এতদিনেও যেটা হয়নি।অবাক হচ্ছে আবার আনন্দ হচ্ছে।

সাগর পাশের ঘরে চলে যায়।।আর্য সাগরের বাবা র সাথে কথা বলতে থাকে।কিছুক্ষন পর সাগরের বাবা মিষ্টি আনতে বাজারে বেরোয়।

আর্য সাগরের ঘরে যায়।মা রান্নাঘরে কাজ করছে।সাগর জামা কপির গুছিয়ে আলমারিতে তুলছে।আর্য ঘরে গিয়ে বলে ব্যাস্ত আছো??

সাগর তাকায় আর্যর দিকে।আবার মুখও ঘুরিয়ে নেয়।নিজের কাজ করতে থাকে।আর্য গিয়ে সাগরের খাটে বসে।সাগর নিজের মতো কাজ করে।আর্য বলে তোমার নার্সিংহোমে আমি গেছিলাম 1 বার।আমার বাবার সাথে।

সাগর কোনো কোথায় পাত্তা দেয় না নিজের মতো কাজই করে।আর্য উঠে যায় সাগরের কাছে।সাগর পিছন ঘুরতেই আর্য র সাথে ধাক্কা খায়।সাগর পরে যাচ্ছিল।আর্য ধোরে ফেলে।একদম কাছাকাছি দুজন।একে অপরের দিকে চেয়ে আছে।সাগর ধাক্কা খায় আর্যর সাথে।পরে যাচ্ছিল সাগর।কিন্তু আর্য ধরে ফেলে।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।সাগর উঠে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করতে থাকে।আর্য তাকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়।

একি আপনি এখানে??আমার সামনে এসে কেন দাঁড়িয়ে আছেন আপনি?সাগর রাগি গলায় বলে।

তুমি তো আমার কথায় সারা দিচ্চ না তাই ভাবলাম তোমার সামনে গিয়ে দাড়াই কথা বলি।আর্য বলে।

আমার কি আপনার সাথে কথা বলার মতো সম্পর্ক আছে।কেন বার বার ভুলে যাচ্ছেন আপনি যে আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে।আপনি প্লিজ এরকম ভাবে আমার সামনে আসবে না।আমাদের সমাজে মেয়েদের খুব সাবধানে থাকতে হয়।নাহলে সেই মেয়ের আর মুখ দেখানোর জো থাকে না।তাই বলছি দোয়া করে আমার সাথে কথা বলতে আসবেন না।

আর্য চুপ করে থাকে।সাগর আলমারির দিকে ফিরে যাবার গোছাতে শুরু করে।এমন সময় ওর মা ঢোকে হাতে থালা নিয়ে।তাতে লুচি আলুরদম সুজি মিষ্টি সাজানো আছে।

এস বাবা খাটে এসে বসো তো।খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি।গরম গরম আছে।

আর্য দেখেই বলে ওয়াও মা।লুচির ইয়াম্মি গন্ধ।উফফ।আমি আর পারছি না বাবা কারোর জন্য ওয়েট করতে।আমি খাই।কথাগুলো আর্য সাগরের দিকে তাকিয়ে বলে।সাগরের মা হাসে।আর্য খেতে শুরু করে।

সাগর গোছানো শেষ করে রান্নাঘরে চলে যায় মার হাতে হাতে কাজ করবে বলে।সাগরের মা দাঁড়িয়ে থাকে আর্যর কাছে।সাগর রান্নাঘরে গিয়ে সবজি কাটে আর ভাবে এ কি সত্যি আর্য নাকি আর্য সেজে কেউ এবাড়িতে ঢুকে গেছে??এত টা পরিবর্তন??আর্য খেয়ে হাত ধুতে আসে।হাত ধুয়ে আর্য মা কে বলে যাই মা অনেক খেয়ে ফেলেছি এবার একটু ঘুমিয়ে নি।আবার তো দুপুরে উঠে খেতে হবে।সাগর তাকায় আর্যর দিকে।আর্য হেসে চলে যায় ঘরে।

সাগরের মা বলে ছেলে তা সত্যি অনেক বদলে গেছে রে।প্রত্যেকটা মানুষেই ভুল করে।আবার বুঝতে পেরে শুধরেও যায়।

সাগর চুপ করে কাজ করতে থাকে।আর মনে মনে ভাবে কি জানি একই তার স্বপ্ন না সত্যি কে জানে??

আজ আমার বিয়ে গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




কাজ শেষ করে সাগর স্নান শেষ করে আয়নার সামনে এসে চুল মোছে।এমন সময়ে আর্যর ঘুম ভাঙে।আর্য দেখে সাগর খোলা চুলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ওয়াও কি অপূর্ব লাগছে সাগরকে।আগে কোনোদিন এভাবে দেখিনি তো??সত্যি কিউট লাগছে।আর্য হা করে তাকিয়ে থাকে সাগরের দিকে।সাগর সিঁদুর পরে।আর্য অবাক হয়ে যায়।সাগর এখনো সিঁদুর পরে নাকি।কিন্তু কেন??তাদের মধ্যে তো আর কোনো সম্পর্ক নেই।তাহলে??

সাগর পিছন ফিরে দেখে আর্য হা করে তাকিয়ে থাকে।মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চলে যায় সাগর।কিচুখন পর সাগরের মা খেতে ডাকে।আর্য গিয়ে দেখে টেবিলে তাকে খেতে দেওয়া হয়েছে।

আর্য বলে একই মা আমি টেবিলে বসবো নাকি??ওর মা বলে হ্যাঁ বাবা।তুমি তো মাটিতে বসতে পারো না।অসুবিধা হয় তাই আমি টেবিলে দিলাম।

আর্য বলে না না মা।আমি মাটিতে বসবো।।কতদিন মাটিতে বসে খাইনি।সেই লন্ডন এ থাকাকালীন sunday হলে সবাই মিলে মাটিতে বসে আড্ডা দিতাম খেতাম।সেই দিন গুলো মনে পড়ে।এই বলে আর্য থালা নিয়ে মাটিতে বসে পরে।সাগর দেখে হা করে চেয়ে থাকে আর্যর দিকে।আর্য খেতে শুরু করে।সাগরের মা ও বেশ অবাক জামাইয়ের কান্ড দেখে।আর্য বেশ খুশি এত রকম খাবার পেয়ে।তাও আবার বাঙালি খাবার।উচ্ছে ভাজা,,আলুভাজা,,বেগুনভাজা,,পটলভাজা,, কুমরোভাজা, মাছভাজা,,শাকভাজা,, মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল, চিংড়ি পটল দিয়ে কারি,,কাতলা মাছের কালিয়া,,মুরগির মাংস,,আমের চাটনি,,দই।।আর্য খেতে খেতে বলে আহা কি স্বাদ ।।যেন অমৃত।।কতোদি পর যে খাচ্ছি এসব।আর্য ওর মা কে বলে জানেন আমাদের লন্ডন এ অনেক বাঙালি থাকে।।তাদের নিয়ে একটা সমিতি আছে।সেখানে বাঙালি দের যত পুজো আছে সব পালন করা হয়।বাংলা ভাষা নিয়ে চর্চা হয়।ওখানে সবাই বাংলায় কথা বলে ,,বাংলা খাবার খায়,,এমনকি ওখানে অন্য ভাষা আর অন্য জাতির মানুষ এসে আমাদের সমিতি তে যোগ দেয়।বাংলা ভাষা শেখার জন্য।ওখানে সপ্তাহে 1 দিন সব বাংলা খাবার রান্না হয়।আর সবাই মিলে খাওয়া হয়।বাংলা গান কবিতা গল্প সব বলা হয়।বেশ মজা হয় জানেন।

সাগরের মা শোনে।আর সাগরও হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে শোনে ওর কথাগুলো।বলা শেষ হলে আর্য তাকায় সাগরের দিকে।আর্য বলে খাবে নাকি আমার সাথে??সাথে সাথে সাগর মুখ ঘুরিয়ে নেয়।রাগি মুখে মা কে বলে দেখো মা আমি কোনো মজা পছন্দ করি না অজানা মানুষের সাথে।বলে আর চোখে আর্যর দিকে তাকিয়ে ঘরে চলে যায় সাগর।আর্য হাসতে হাসতে খেতে থাকে।ওর মাও হেঁসে ফেলে।

আর্য খেয়ে উঠে সাগরের ঘরে যায়।দেখে সাগর জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।বাইরে খুব মেঘলা করেছে আকাশ।এক্ষুনি হয়তো বৃষ্টি আসবে খুব জোরে।আর্য গিয়ে সাগরের পিছনে দাঁড়িয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে বলে বৃষ্টিতে ভিজবে নাকি??চকিতে তাকায় পিছন ফিরে সাগর।রাগি মুখে বলে আমার কোনো ইচ্ছা নাই বৃষ্টি তে ভেজার।আপনার ইচ্ছা হলে আপনি যান।বলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

আর্য বলে ইচ্ছা তো করছে।কিন্তু একটা সঙ্গী না পেলে কি ভালো লাগে বলো??তাই তোমায় জিজ্ঞেস করছিলাম।আমার সাথে যদি যেতে তাহলে ভালো হতো।

বললাম না আমার কোনো ইচ্ছা নাই।আর যদি খুব ইচ্ছা হয় তাহলে রাস্তা এ অনেক মেয়ে পাওয়া যায়।তাদের ধরে ভিজুন গিয়ে যান।

আর্য বলে হ্যাঁ সে হয় কিন্তু সেই মেয়েদের মধ্যে ঠিক সেরকম ফিলিংস পাওয়া যায় না জানো।এই রোমান্টিক WEATHER এ একটু বেশি রোমান্টিক হওয়া যায় বুঝলে।সেটা শুধু নিজের মানুষের সাথেই হয়।বাইরের কোনো মানুষকে দিয়ে সেটা হয় না।

সাগর বলে এই শুনুন এসব কথা একদম আমার কাছে এসে বলবেন না।প্লিজ ।।কেন এরকম করছেন আমার সাথে??এতবার বলছি কানে কথা যাচ্ছে না।এবার সত্যি যদি বলেন তাহলে খুব খারাপ হবে।আমি পুলিশ এ খবর দেব।বলবো আমায় একটা অচেনা লোক বিরক্ত করছে বার বার।তখন বুঝবেন কেমন লাগে।

রিভেঞ্জ গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর চলে যায় কথা গুলো বলে।আর্য হাসি মুখে কথা গুলো সনে।আর্য সত্যি ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।তাই ওর অভিমান ওকে ভাঙিয়ে কাছে নিয়ে আসবেই।ও যতই রাগ করুক আর্য শুনবে না সেটা।আর্য খুব ভালো করে জানে যে এটা সাগরের অভিমান।সত্যি যদি ভালোবাসা না থাকতো সাগরের মনে তাহলে আর্যর নামে সিঁদুর দিত না।আর্য জানলার ধারে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসে।এমন সময়ে সাগরের বাবা ঘরে আসে।

আরে আর্য দাঁড়িয়ে আছো কেন??বসো বিছানায়।

আর্য বলে হ্যাঁ এই বসি।বৃষ্টি আসবে এক্ষুনি।তাই একটু দেখছিলাম বাইরে।।বেশ ভালো হওয়া দিচ্ছে।প্রকৃতি টাও বেশ সুন্দর হয়েছে।

হ্যাঁ বাবা ঠিক বলেছ।যা গরম পড়েছে।রাতে ঘুম আসে না গরমে।একটু বৃষ্টি হলে শান্তি পাই।

হ্যাঁ বাবা ঠিক বলেছেন।খুব গরম।আর এই নিয়ে সব মানুষই শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

কিছুক্ষন পর সাগরের মা আসে খাবার খেয়ে।সঙ্গে সাগর।

এই তো মা এসে গেছে।বসুন আসুন।বলে আর্য উঠে দাঁড়ায়।

মা বলে এমা এমা করছো কি??তুমি বসো।আমি এখানে বসি বলে একটা chair নিয়ে আসে বসে মা।সাগরও তাই।

এমনি একথা সেকথা হতে থাকে আর্যর।এই করতে করতে আর্য বাবা মার কথা বাড়ির সবার কথা জিজ্ঞেস করে সাগরের বাবা মা।আর্য সাথে সাথে বলে আমায় ওদের কথা জিজ্ঞেস করবেন না।আমার ওদের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

সাগরের বাবা মা অবাক হয়ে বলে মানে।কেন বাবা??কি হয়েছে??

আর্য বলে আমি তো বলেছি সাগর কে।ও বলেনি।সাগরের দিকে তাকিয়ে বলে আর্য।

মেহেন্দী গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগরের বাবা মা সাগরের দিকে তাকায়।কি রে আমাদের তো বলিসনি তুই??মা বলে

সব কথা জানার কি প্রয়োজন খুব??আর অচেনা মানুষের খোঁজ নিয়ে তোমাদের কি বলো তো??তার পরিবারের সাথে যা খুশি হোক।তাতে তোমাদের অটো আগ্রহ কিসের হ্যাঁ??আমরা গরিব মা।।আজকে বেশি আগ্রহ দেখালে পরে সেই নিয়ে কথা শোনাবে।তখন খারাপ লাগবে সেটা শুনতে তোমাদের।তাই বলছি বেশি না জানাই ভালো।

আর্য সাথে সাথে বলে ওকে ওকে।আমি বলছি।ও না বলুক আমি বলছি।আর্য সব বলতে থাকে।সাগরের বাবা মা চুপ করে সনে।

আর্য রেগে যায়।বলে আমার বাবা মা র সাথেও কথা হয় না বেশি আর।কারণ আমার বাবা মা ও এখনো ওদের ওই বাড়িতে রেখে দিয়েছে।ঠিক আছে।কোনো অসুবিধা নাই।আমি তো বেরিয়ে গেছি।যা খুশি করুক ওরা।

সাগরের বাবা মা বলে না না বাবা।রাগ করো না।তুমি যেমন তাদের সন্তান তোমার দিদি আর ভাইও তো তাদের সন্তান তুমি বলো??কি করে ফেলে তাদের??তোমার বাবা মার তোমার জন্য ও কষ্ট হচ্ছে।কিন্তু কিছু যে করার নাই।হাত পা বাঁধা।তুমি কারোর ওপর রাগ করো না।দেখবে একসময় সব ঠিক হইয়ে যাবে।সব ঠাকুরের পরীক্ষা ।।

আর্য বলে জানেন সবাই শুধরে গেলেও আমার ভাই আর দিদি কোনোদিন শুধরবে না।আমি তো চিনি ছোট থেকে।হ্যাঁ ভালো আমি বাসতাম কিন্তু যেদিন থেকে আমি শুনেছি সেদিন থেকে আমি আর দিদি কে পছন্দ করি না।আর ভাইকেও।অন্যায় পছন্দ না আমার।আমি জানি আমি সাগরকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।তার জন্য আমি বড় বড় কষ্ট পাই।হাত জোড় করে ক্ষমা চাই ওর কাছ থেকে।ও যদি চায় তাহলে আমি সবার সামনে ওর পায়ে হাত দিয়েও ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।কারণ ভুল এর ক্ষমা চাইতে কোনো লজ্জা নাই আমার।আমি নিজেকে ছোট করেছি আপনাদের কাছে।নিজের বাবা মা সঙ্গে শিক্ষা কেও ছোট করেছি।আমি সত্যিই দুঃখিত।

সাগরের বাবা বলে একি একি কি করছো তুমি??এভাবে হাত জোড় করে !!ছি ছি আমাদের সামনে এরকম করছো??ভুল মানুষের হয়।কিন্তু ভুল করে ক্ষমা চাইছো তুমি।তুমি আমার ছেলের মতো।তুমি এভাবে আমাদের সামনে হাত জোড় করো না।।খারাপ লাগে।

আর্য সাগরের দিকে চেয়ে বলে আমি সাগরের সাথে আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই।আলাদা করে সংসার করবো।সেখানে আমি আর ওই থাকবে।কেউ সেখানে ওকে কিছু বলবে না।আর এবার থেকে আমি ওকে প্রটেক্ট করবো।

সাগর ফোন ঘটছিল।কথাগুলো শুনে উঠে দাঁড়িয়ে বলে আপনার তো সাহস কম না।আপনি আমায় বলছেন আবার নতুন করে সব কিছু শুরু করতে??কখনো না।আমি একা থাকবো।।জীবনে অনেক শিখেছি।আর না।পারবো আমি একা থাকতে।কারোর দরকার নাই।আর সংসার করার স্বপ্ন আমার ঘুচে গেছে।দেখুন ডক্টোর আর্য এই ফাস্ট আর এই লাস্ট।আমি যদি আর কোনোদিন এই কথা শুনি তাহলে আমি সত্যি কিন্তু স্টেপ নিতে বাধ্য হবে।

স্টেপ।কি স্টেপ নেবে বলো।কি ভুল বললাম।ভুল করেছি।ক্ষমা চাইছি তো।

না ক্ষমা আপনাকে আমার কাছে চাইতে হবে না।আপনি থাকুন না আপনার মত।আর শুনুন আমি একটা অশিক্ষিত মেয়ে।ভালো করে কথা বলতে পারি না।আমার কোনো স্ট্যাটাস নাই।কেন পরে আছেন হ্যাঁ।।খুঁজলে আরো ভালো মেয়ে পাবেন।আমার পিছনে দোয়া করে ঘুরবেন না।প্লিজ।।সাগর জোরে জোরে কথা গুলো বলে।সাগরের বাবা মা সাগরকে বকে।উফফ এত জোরে জোরে কেন কথা বলছিস??।একটু আস্তে কথা বল।আর এরকম বাজে ভাবে কেন কথা বলছিস ওর সাথে??ও তো ক্ষমা চাইছে।

না মা।চাইতে হবে না ক্ষমা।চাইনা আমার ওনার দয়া।ওনাকে বলে দাও কোনোদিন যেন আমার পিছনে না ঘরে।অনেক মেয়ে আছে তাদের সাথে সম্পর্ক করুক গিয়ে।

সাগরের মা উঠে গিয়ে আর্যকে বলে বাবা ওর কথা এ কিছু মনে করো না।

আর্য সাথে সাথে বলে মা আপনি এসব নিয়ে ভাববেন না।আপনার শরীর খারাপ এমনিই।আপনি বসুন আমি দেখছি।

সাগরের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর্য।বলে আচ্ছা সাগর তুমি মন থেকে একটা কথা বলো তো।আমি যদি অন্য কোনো মেয়ে র সাথে সম্পর্ক করি তোমার ভালো লাগবে??তুমি খুশি হবে??

লীলা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




সাগর আর্যর দিকে তাকায়।সাগরের চোখ গুলো ভিজে আছে লাল হয়ে।আর্য বলে কি হল বলো উত্তর দাও??

সাগর বলে কাঁপা কাঁপা গলায় হ্যা হ্যা যা ইচ্ছা করুন গিয়ে।আম আমার কি??আমি আমার মতো থাক থাকবো বা বাস।এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সাগর।আর্য চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।আর ভাবে সত্যি অনেক অভিমান জমে আছে।সহজে এই অভিমান ভাঙাবে না।

আর্য বলে মা ওকে এই নিয়ে কিছু বলবেন না প্লিজ।আমি যা বলার বলবো।বোঝাবো ওকে।প্লিজ।বলবেন না কিছু।

সাগরের মা বলে বাবা তুমি ওকে বুঝতে পারছো??সত্যি ও অনেক কষ্ট পেয়েছে।আমি তোমায় দোষ দি নি।কিন্তু কি করবো বলো তো।ওর কষ্ট দেখে যে আমার কষ্ট হচ্ছে।

আর্য বলে বুঝতে পারছি আমি।আমি আপনাদের কটা কথা বলবো আজকে।আপনারা আমায় কথা দিন।কাউকে বলবেন না।এই কথা শুধু আমরা 3 জন জানবো।ও যেন ঘুণাক্ষরেও টের না পায়।

সাগরের বাবা বলে কি কথা??

আর্য বলে বসুন মা বলছি।বলে ফিস ফিস করে কথা গুলো বলে।সাগরের বাবা মা শুনে বলে কিন্তু বাবা ও কি মানবে।যখন জানতে পারবে।যদি আগে জানতে পেরে যায়??

না মা পারবে না আগে জানতে।আর পরেও কিছু করতে পারবে না।আমি তার জন্য সব প্লান করে রেখেছি।শুধু আপনাদের আমার পাশে চাই।তাহলেই হবে।

সাগরের বাবা মা বলে তুমি নিশ্চিন্তে করো কাজ।আমরা পাশে আছি।আর্য বলে তাহলে হাত মেলান।3 জন হাতে হাত রাখে।

সাগর ঘরে ঢুকতে যায়।ওমা একি।কি করছে ওরা??কোনো প্লান করলো??হাত মেলাচ্ছে 3 জন??আমার আড়ালে প্লান??কি প্লান??না এবার থেকে আমায় খুব সতর্ক থাকতে হবে।কখন কি থেকে কি বলবে বাবা।আমি আর এসবে নাই।

আর্য দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে সাগর দাঁড়িয়ে আছে।ওমা তুমি??দরজার বাইরে কেন??ভিতরে এস??

সাগর বলে সেটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।আমার ঘর আমি যখন ইচ্ছা ঢুকবো ঘরে।আপনি আপনার মত থাকুন। আর্য বলে ঠিক ঠিক।আমারই ভুল।আর্য বলে মা কে চোখ টিপে তাহলে মা ওই কথা রইলো।ওই দিন ওই তা হবে।আপনি আর বাবা যাবেন।আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেব।ওকে।

সাগর তাকিয়ে থাকে 3 জনের দিকে।আর্য বলে কি হলো সাগর কিছু বলবে??

অমনি সাগর মুখ ঘুরিয়ে বলে না কি বলবো??আমার কোনো কথা বলতে ভালো লাগছে না।

আর্য বলে ওওও আচ্ছা।না আমি ভাবলাম তুমি মুখের দিকে হা করে চেয়ে আছো।তাই হয়তো কিছু বলবে?

সাগর বলে আমার চোখ আছে তাই চেয়ে ছিলাম।আপনার তাতে কিসের অসুবিধা হ্যাঁ??

আর্য বলে না না।কোনো অসুবিধা নাই।এই বলে সে খাটের উপর আধা শোয়া হয়ে বসে।

সাগর আবার চেয়ার এ আসে বসে।আর ভাবে কিসের প্লান করলো??না কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।তবে কোথাও একটা যাবার বেপার আছে।আচ্ছা তাহলে কি আর্য আমায় নিয়ে যাবেন না??হম্ম বুঝেছি আমি কে হ্যাঁ??এই জন্য আমার আড়ালে এত কথা।নিজের মনে কথা বলে সাগর ।।

আর্য বলে কি বেপার সাগর।একা একা কথা বলছো।শরীর খারাপ করছে না তো??

সাগর বলে উফফ।বলছি না??বার বার আমায় বিরক্ত করছে।যায় একটু শান্তি তে বসতেও দেবে না।এই বলে সে বেরিয়ে বাবা মা র ঘরে চলে যায়

আর্য হা হা করে হেসে ওঠে।বলে জানেন সাগর ভাবছে কি না কি প্লান করছি ওকে না জানিয়ে।ওতো জানে না আমরা কি ভেবেছি।

সাগরের মা বলে হ্যাঁ বাবা।কিন্তু আমার ভয় করছে যেদিন জানতে পারবে সেদিন কি করবে??

‘লুচি’গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

আর্য বলে চিন্তা করবেন না মা।।আমি আছি তো।সব সামলে নেব।নানা কথা বলতে থাকে এরপর।বিকেল হয়।আর্য বলে এবার সে হোস্টেল এ ফিরবে।কি সব কাজ আছে তাই করতে হবে ল্যাপটপে।সাগরের মা কফি করে দেয়।সঙ্গে স্যান্ডউইচ।আর্য খেয়ে নেয়।তারপর বলে আমি যাই মা।গিয়ে কথা বলবো।ফোনে।

আর্য বেরিয়ে যায়।সাগর জানলা দিয়ে দেখে আর্য চলে যাচ্ছে।সাগর মনে মনে ভাবে বাবা মা র সামনেই যত আদিখ্যেতা।কৈ চলে যাবার সময় তো একবার ও বলে গেল না।।হম্ম সব জানা আছে আমার।তারপর আবার ভাবে যাক গিয়ে আমার কি।আমিই বা এত ভাবছি কেন??বলুক আর না বলুক।তাতে আমার কি??

সাগর কে ওর মা ডাকে।বলে এই সাগর কাল তো আবার কাজ আছে ।।ব্যাগ টা গুছিয়ে নে।কাল আবার তাড়াহুড়ো লাগবে।তখন আর্ধেক জিনিস ভুলে যাবি।

সাগর বলে হ্যাঁ মা যাচ্ছি।পিছন ফিরতেই সাগরের মনে পড়ে যায় ওই কথা টা জিজ্ঞেস করবে।সাগর মা কে বলে আচ্ছা মা তোমরা তখন কি কথা বলছিলে চুপি চুপি।আমায় দেখে চুপ করে গেলে।

সাগরের মা বিপাকে পড়ে।বলে ওই কি বলছিল আর্য কোথায় নাকি অনুষ্ঠান আছে।অনেক আর্টিস্ট আসবে।তাই আর কি বলছিল।আমাদের জন্য গাড়ি পাঠাবে।আমরা যাবো।

সাগর বলে কিন্তু আমি যে দেখলাম তোমরা হাত মেলালে।সেটা তাহলে কি মা??

সাগরের মা বলে ওই তো বললাম।অনুষ্ঠান আছে তাই নিয়ে যাবে।এবার যদি তোর বিশ্বাস না হয় তুই আর্যকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নে যা।।

সাগর চুপ করে যায়।কিন্তু মনে মনে বলে কিছু তো একটা প্লান আছেই।নাহলে আমায় দেখে চুপ কেন করলো??সাগর চলে যায় ।।ঘরে গিয়ে বলে আমায় না নিয়ে নাকি অনুষ্ঠানে যাবে।একবারও আমার কথা টা ভাবলো না আর্য।আমি যে আছি সেটা মনে পড়লো না তার।খাটের উপর মন খারাপ করে বসে সাগর।

পরের দিন কাজে যায়।কিছুক্ষন পর একটা জরুরি মিটিং এর সব স্টাফ দের ম্যানেজার এর ঘরে ডেকে পাঠায়।

সাগর যায়।ভাবে হঠাৎ জরুরী মিটিং কেন ডাকলো।কারণ ম্যানেজার এর জরুরি মিটিং মানে নয় কাউকে ঝাড়বে আর নয় কোনো খারাপ খবর।উফফ।আর ভালো লাগে না।

কিছুক্ষন পর সব স্টাফ দের নিয়ে মিটিং শুরু হল।মিটিং এর মূল বিষয় এই যে নার্সিং হোম টা অন্য একজন কিনে নিচ্চে।সে একজন বড় ডক্টোর।এখন যে মালিক আছে নার্সিংহোমের সে নার্সিংহোম বিক্রি করে বিদেশ চলে যাবে।তাই এক ডক্টোর নাকি অফার করেছে।টাকা পয়সার কথা নাকি সব হয়ে গেছে।এবার শুধু handover এর পালা।

সাগর শুনে তো খুব টেনশনে পরে যায়।কি হবে তার।এবার যদি কোনো কারণে তাকে ছাড়িয়ে দেয়।কি হবে??কি করে চালাবে সে সংসার??কানাঘুসএ শুনছে অনেককে নাকি ছাড়িয়ে নতুন লোক রাখবে।সাগরের তো মাথা কাজ করছে না।

লাঞ্চে সাগর মা কে ফোন করে।বলে মা জানো আমাদের নার্সিং হোম নাকি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।একজন ডক্টোর নাকি সেটা কিনছে।

সাগরের মা বলে হ্যাঁ তো কি হয়েছে।।কিনছে কিনুক।

সাগর বলে উফফ মা তুমি বুঝতে পারছো না আমি কি বলছি??জানো আমি শুনেছি যে উনি নাকি অনেক লোক ছাড়িয়ে দিয়ে নতুন লোক রাখবে।কি হবে বলে তো।যদি আমায় ছাড়িয়ে দেয় কি করবো আমি??আমার খুব টেনশন হচ্ছে।

সাগরের মা বলে টেনশনের কি আছে??যদি এই কাজ টা না থাকে অন্য কাজ খুঁজে নিবি।কাজ এর অভাব নাকি??

বর্তমান ভারত ও বিজ্ঞান গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বলে তুমি বুঝতে পারছো না।টাকার দরকার জানো।নাহলে বাবার একার ওপর চাপ পড়ে যাবে।

সাগরের মা বলে কেন তুই যে ছোট থেকে বড় হলি তোর বাবা কি তোকে খাইয়ে পরিয়ে বোরো করেনি??তোর কাজ না থাকলেও ঠিক তোর বাবা তোকে দেখবে।চিন্তা নেই।আগে বল তুই খেয়েছিস কিনা??

সাগর বলে হ্যাঁ মা অল্প খেয়েছি।খাওয়ার ইচ্ছা নাই।মাথা ব্যাথা করছে।

সাগরের মা বলে অল্প খেয়েছিস কেন??তুই কাজ করছিস।অল্প খেলে হবে??বেশি করে না খেলে তো তুই কাজ করতে পারবি না??শরীর খারাপ হয়ে যাবে

সাগর বলে কিচ্ছু হবে না মা।আমি ঠিক থাকবো।খিদে পেলে পরে খাবো।তুমি খেয়ে নাও।বাবা কে ফোন করেছিলে তো।আর হ্যা ওষুধ তা খেয়ে নেবে কিন্তু দুপুরের

হ্যা করেছিল ফোন কথা হয়েছে।।আমি এবার খাবো।তুই সাবধানে থাকিস।বিকেলে ফোন করিস।

হ্যাঁ মা তুমিও সাবধানে থাকবে।বলে সাগর ফোন ছেড়ে দেয়।সাগর ভাবে মা যতই বলুক।তাও বাবার বয়স হয়েছে।কি করে এত খরচ চালাবে??

এই ভাবে দিন কাটাতে থাকে সাগর।নার্সিং হোম সাজানো হচ্ছে।সাগর কে বলা হয়েছে নতুন মালিক এলে তাকে বরণের ব্যাবস্থা করতে।এবং সেই বরণ সাগর করবে।সবাই সেদিন সারী পরে আসবে।বরণ করার পর তাকে রুমে গিয়ে বসানো হবে।কিছু খাবারের আয়োজন করতে হবে।সামনের রবিবার অনুষ্ঠান আছে।সবাইকে আস্তে হবে।

রবিবার আসে গেল।সাগর শনিবার রাতেই মায়ের লালপার সাদা সারি বার করে রেখেছে।বেশ সুন্দর দেখতে শাড়ী টা।সঙ্গে লাল blouse।।সাগর রবিবার সকালে স্নান সেরে সারী পড়লো।চুলে সুন্দর করে খোঁপা বাঁধলো।মায়ের গয়না পড়লো।মাঝারি সাইজের ঝুমকা,,গলায় পার্টি নেকলেস সিতাহার,,দুহাতে বালা।সবই ইমিটেশন।গরিব মানুষ।সোনার জিনিস তো পরে আর রাস্তায় ঘোড়া যায় না।যায় হোক সম্পূর্ণ সাজে সাগরকে অত্যন্ত সুন্দরী লাগছে।চোখে কাজল কপালে লাল টিপ মাথায় মোটা করে সিঁদুর।ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক।।মা লক্ষীর মতো লাগছে পুরো।

সাগরের মা বলে তোকে আজকে খুব সুন্দর দেখাচ্চে।

সাগর বলে তাই মা??জানো ম্যানেজার বলেছে সবাইকে ফিটফাট হয়ে যেতে।সেজেগুজে যেতে।তাই।।

ঠিক ই তো বলেছে।আজকে একজন আসবে।তাও সে আবার তোদের নতুন মালিক।ডক্টোর।ফিটফাট না হলে চলে।

নকুল গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বেরিয়ে যায় ।।আজকে ওকে একটু আগেই বেরোতে হয়েছে।11 তার সময় আসবে নতুন বস।তার আগে সব রেডি করতে হবে।সাগর পৌঁছে দেখে অনেকেই এসে গেছে।সবাই দেখে বললো বাহঃ সাগরিকা তোকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে।সাগর লজ্জা পেয়ে যায়।ম্যানেজারও দেখে বলে বাহঃ সাগর তুমি তো আজ নন্দিনী।দারুন দেখাচ্ছে।সাগর বলে থ্যাংক ইউ স্যার।

দেখতে দেখতে 11 টা বেজে যায়।ম্যানেজারের কাছে ফোন আসে বস আসছে।ম্যানেজার রেডি হতে বলে সবাইকে।সাগর বরণের থালা হাতে নিয়ে গেট এর কাছে এসে দাঁড়ায়।সঙ্গে আরও সবাই আসে।

কিছুক্ষন পর একটা গাড়ি এসে থামে।ম্যানেজার গিয়ে দরজা খুলে দেয়।

আসুন SIR।।বলে আহ্বান জানায় ম্যানেজার।

গাড়ি থেকে নামে বস।।সবাই তো দেখার জন্য খুবই উদগ্রীব।কিন্তু সে তো পিছন ফিরে কথা বলে যাচ্ছে।ধুর।দেখাই যায় না।শুনেছে সবাই খুব নাকি রাগি।তবে দেখতে নাকি হ্যান্ডসম।

সাগর ও দেখার জন্য ছটফট করছে।তাকে তো আবার বরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।উফফ কি nourvous লাগছে রে বাবা।আগে তো কোনোদিন এসব করেনি।

ম্যানেজার বলে আপনার জন্য কিছু ছোট আয়োজন করা হয়েছে SIR।যদি আপনি একটু সময় দেন আমাদের তাহলে একটু আপ্যায়নের সুযোগ পাই।

বস বলে হ্যাঁ কিন্তু যা হবে তাড়াতাড়ি করতে হবে।কারণ এটা নার্সিং হোম।এখানে বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না।আমি একটু পরেই ঘুরে দেখবো সব।

হ্যাঁ হ্যাঁ SIR নিশ্চই।।তবে তার আগে একটু।।

ঠিক আছে ঠিক আছে।যা করার তাড়াতাড়ি করুন ok।।

হম্ম আসুন SIR এদিকে।।ম্যানেজার নিয়ে আসতে থাকে।পিছন থেকে সামনে ফেরে সেই বস।ফিরতেই সাগর দেখে চমকে ওঠে।একি কি দেখছে সে।এত আর্য।তিনি এখানে??তার মানে আর্য এই নার্সিংহোম তা কিনলো??

সাগরের সারা শরীর কেমন যেন করে।সাগর এর প্রচন্ড শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে।ততক্ষনে বস সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায় সাগরের সামনে।

এই সাগরিকা।এনই আমাদের SIR।।ডক্টোর আর্য সেন।।এনাকে মালা পরিয়ে বরণ করো।সাগর তাকিয়ে আছে আর্যর দিকে।আর্য ও গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে।

আরে কি হলো সাগরিকা??দাঁড়িয়ে আছো কেন??বরণ তা শুরু কর??sir কতখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে??

শুভ পরিণীতা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




সাগর ভিতরে ভিতরে খুব রেগে গেছে।তাকে ঠকিয়েছে আর্য।সব তার প্লান।ইচ্ছা করে এরকম করলো।।আবার তাকেই কিনা বরণ করতে হবে।।কিচ্ছু করার নাই সাগরের।অনিচ্ছা সত্ত্বেও বরণ কিরতে শুরু করে সাগর।তাও অন্য দিকে তাকিয়ে।মালা পরিয়ে মিষ্টি খাইয়ে ভিতরে নিয়ে যায়।সাগরের যেন চারদিক ধোঁয়া র মতো লাগছে।কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।কি করবে সাগর??সাগর নিজের জায়গায় চলে আসে সব শেষ হয়ে গেলে।রাগে,,অভিমানে খুব কষ্ট পেলো সাগর।তিনি এরকম একটা কাজ করলেন।কিন্তু কেন??কৈ একবারও তো কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করল না??আমি তো এই খানেই কাজ করি।উনি যা করেছেন সব ইচ্ছা করে করেছেন।না কে কি করবে আমি জানি না।আমি এই কাজ ছেড়ে দেব।এই খানে আর এক মুহূর্তও না।এক্ষুনি লেটার জমা দেব।এই বলে সাগর একটা কাগজ আর পেন নিয়ে লিখতে শুরু করে।1.30 নাগাদ সাগর যায় আর্যর ঘরে।

আর্য ফোন করছে।চেয়ারে পিছন ঘুরে বসে কথা বলছে।সাগর ঢুকতে গিয়ে দেখে আর্য কথা বলছে।সাগর বলে SIR আসবো??আর্য শুনতে পায় না।সাগর ভাবে কি করবে??সে কি দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি চলে যাবে??অন সময় আর্য ফোন ছেড়ে দেয় এবং বলে কামিং।।সাগর অবাক হয়ে যায়।আর্য কি করে বুঝলো যে সে এসেছে??😮😮

সাগর ঢুকলো।আর্য বললো বসুন ম্যাডাম।বলুন কি বলবেন??সাগর বলে না আমি বসবো না।আমি একটা লেটার দিতে এলাম।এমন সময়ে ম্যানেজার ঘরে ঢোকে।এসে ম্যানেজার বলে ও কি সাগরিকা তুমি এখানে??কিছু দরকার আমায় বলতে পারতে তো।।শুধু শুধু SIR কে কেন??

ম্যানেজার কথা শেষ হয় না।আর্য বলে না না থাক।কি হয়েছে এসেছে তো??ওনার অসুবিধা র কথা উনি বলবেন।।সাগরের দিকে তাকিয়ে আর্য বলে আপনি বলুন।আর এই চিঠি টা কিসের??

SIR আমি কাজ ছেড়ে দেব।কাল থেকে আমি আর আসবো না।আমি চিঠি দিলাম কারণ এটা একটা ভদ্রতা।আমি তো সবার মতো অভদ্র না যে কাউকে কিছু না জানিয়ে আৰ কাজ চুপি চুপি সেরে নেব।।আসলে আমি যতই অশিক্ষিত হয়ই না কেন একটু শিক্ষা আমার আছে যেখানে  আমি মনে করি কিছু করার আগে একটু জানিয়ে করতে হয়।

আর্য চুপ করে সব সনে সাগরের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে।পাস থেকে ম্যানেজার ভয়ের চোখে তাকিয়ে থাকে সাগরের দিকে।

ম্যানেজার বলে একি একি কি করছো টা কি??তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি??তুমি SIR এর সাথে এরকম করে কথা বলছো??তোমার সাহস তো কম না??আর্য থামিয়ে দেয় ম্যানেজার কে।আঃ বলতে দিন ওকে।ওর অসুবিধা র কথা ও বলছে।আপনি চুপ করুন।আর্য বলে হ্যাঁ ম্যাডাম কি বলছিলেন আপনি??শুরু করুন।

সাগর বলে আমার কিছু বলার নাই আর।দয়া করে ওই চিঠি টা পরে নিন।আর্য চিঠি টা খুলে পড়তে শুরু করে।

পড়ার পর আর্য বলে আমি যা বুঝলাম আপনি আপনার নিজের প্রব্লেমের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন কাজ।আচ্ছা আমি কি জানতে পারি কি প্রবলেম আপনার??

সাগর চুপ করে থাকে।ম্যানেজার বলে কি হলো টা কি??উত্তর দাও SIR কি জিজ্ঞেস করছে বলো??

সাগর বলে আমতা আমতা করে আসলে আমার নিজের অসুবিধা।তাই আমি কাজ ছাড়ছি।

আর্য বলে ও ওকে।।কিন্তু হঠাৎ করে যে আপনি কাজ ছাড়বেন বললেন আপনি কি জানেন যে একটা নতুন নিয়ম হয়েছে এমপ্লয়য়ী দের জন্য??

সগীর তাকায় আর্যর দিকে।সাগর বলে না আমি সেই নিয়ম তো জানি না।

আর্য বলে ওকে আমি ম্যানেজার বাবু কে বলে দিচ্ছি তোমায় নিয়ম টা বুঝিয়ে দেবে।

ম্যানেজার বাবু আপনি ওনাকে নিওম টা বলে দিন।শুধু ওনাকে না।সবাইকে।

ম্যানেজার বলে হ্যাঁ হ্যাঁ SIR আমি এক্ষুনি বলে দিচ্ছি।ম্যানেজার বলে এই সাগরিকা তুমি এস আমার সাথে।বলে দিচ্ছি।।সাগর বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।

কাটাকুটি গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

আর্য মনে মনে বলে নিয়ম টা সোনার পর হয়তো তুমি এই চিঠি টা আমার থেকে ফেরত নিতে চাইবে।হয়তো বলবে sir আমার ভুল হয়েছে??কিন্তু মনে মনে তো আমার ওপর রেগে আগুন তেলে বেগুন।কতই না কিথ বলছে মনে মনে।।আর্য একা একা হেসে ফেলে।বলে সত্যিই পাগল।এবার আর আমায় ছেড়ে যাবার নাম করবে না পাগলী।।

সাগর ম্যানেজার এর ঘরে যায়।ম্যানেজার বাবু বলে এই সাগর তুমি এভাবে কেন কথা বললে SIR এর সাথে??জানো SIR কত রাগি??তুমি এভাবে হঠাৎ করে গিয়ে ওনার কাছে লেটার জমা দিয়ে দিলে??একবার তো আমায় জানাতে পারতে??আমি না হয় তোমার অসুবিধা সলভ করতাম।

সাগর বলে দেখুন Sir আমার মনে হয়েছে তাই আমি লেটার দিলাম।আমার আর কাজ করার ইচ্ছা নাই।

কিন্তু কেন??কেউ কি কিছু বলেছে তোমায় এখানে??

না কে কি বলবে??আমি আমার অসুবিধা এ কাজ ছাড়ছি।আপনি আমায় নিয়ম বলুন।কি নিওম আছে সেটা আমি জানবো।

ম্যানেজার বাবু আর কোনো কথা না বাড়িয়ে তাকে একটা কাগজ পড়তে দেয়।সাগর কাগজ হাতে নিয়ে পড়তে থাকে।পড়তে পড়তে সাগরের চোখ ছানা বরা হতে থাকে।মুখটা কাচুমাচু হয়ে যায়।এ কি??এ আবার কেমন নিওম??আমি তাহলে কাজ ছাড়বো কি করে??হাত কাঁপতে থাকে সাগরের।উফফ কি জ্বালায় পড়া।কাজ ছাড়লে স্যালারি পাবো না??আর সাথে সাথে কাজ ছাড়া যাবে না।।1 month পরে কাজ ছাড়তে হবে।আর স্যালারি পাবে না??😢😢যে ভগবান।আমি যদি স্যালারি না পাই তাহলে বাবার ডাক্তার খরচ হবে কি করে??কদিন ধরে বাবার পিঠে খুব ব্যাথা করছে।তাই একটা ডাক্তার দেখাবে।কিন্তু স্যালারি না পেলে।না না ওসব হবে না।এখন কাজ ছাড়লে কাজ পাবে কি করে??

ম্যানেজার বাবু বলে কি পড়লে তো পুরো টা।।এবার ভাব যে কি করবে।তুমি যা খারাপ ভাবে ওনাকে কথা সোনালে??কাজ টা থাকে কিনা দেখো??

সাগর কি করবে ভেবে পায় না।সাগর মাথা কাজ করে না।কি হবে??সত্যি যদি এবার ছাড়িয়ে দেয়।ও তো আর জানতো না যে এরকম কোন নিয়ম আছে।তাহলে তো বলতো না।

সাগর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।নিজের জায়গায় গিয়ে চেয়ার এ বসে পড়ে।ভয়ে আর শরীরে কাজ হচ্ছে না।

হঠাৎ ডাক পরে সাগরের।নতুম sir ডাকছে।সাগর ভাবতে থাকে  এই রে কি বলবে এবার??সে তো জোর দিয়েবলে এসেছে যে সে কাজ ছাড়বেই।এবার তো।উফফ জীবনে অশান্তি ছাড়া আর কিছুই নাই।ভালো লাগে না।

সাগর আস্তে আস্তে sir এর ঘরের দিকে যায়।দরজা খুলে বলে আসবো sir??

আর্য বলে কামিং।।ভিতরে ঢোকে সাগর।আর্য বলে কি পড়েছেন নিওম গুলো??

সাগর মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।।আর্য বলে ওকে তাহলে আপনি আর 1 month কাজ করে নিন।তারপর তো ছুটি।

অচেনা বাবা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।মুখ তা ভয়ে শুকিয়ে গেছে।আর্য বলে আপনি বসুন এখানে।বসে কথা বলুন।এখনো অনেক কথা আছে।দাঁড়িয়ে থাকবেন না প্লিজ।

সাগরগিয়ে বসে চেয়ারে।আর্য বলে আসলে আমি 1 month সময় নিলাম কারণ আপনার জায়গায় লোক নিতে তো একটু সময় লাগবে।তাই 1 month করলাম।আর এমাসের স্যালারি আপনি পাবেন।তবে সামনের 1 month এর স্যালারি আপনি পাবেন না।সেই জায়গায় আপনাকে কিছু টাকা দেওয়া হবে।ওকে।

সাগর কোনো কথা বলে না।আর্য বলে কি হলো আপনি যে কোনো কথা এ বলছেন না??কিছু বলুন।আচ্ছা আপনি কি খাবেন বলুন চা না কফি??

সাগর মাথা নেড়ে না জানায়।আর্য এবার গম্ভীর হয়ে বলে আচ্ছা ম্যাডাম আপনার গলায় কি কিছু হলো।না মানে কোনো প্রবলেম??

সাগর তাকায় আর্যর দিকে।আর্য ও তাকিয়ে আছে।সাগর বলে আপনি হয়তো জানেন না যে আমার বাবা আর পিঠে একটা ব্যাথা হচ্ছে।খুব কষ্ট পাচ্ছে।আর সংসার খরচ ও আমি দি কিছু।বাবার বয়স হয়েছে।মা র অনেক ওষুধ লাগে সেগুলো আমি দি।

আর্য মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে বলে আরে আরে আপনি আমায় এসব কেন বলছেন ম্যাডাম??দেখুন সবার বাড়িতেই কোনো না কোনো প্রবলেম আছে।সেগুলো থাকবেই।সুখ দুঃখ মিলিয়ে আমাদের জীবন।আর আমি তো এই বেপারে কিছু জানি না।আপনি তো কাজ করতে চাইলেন।

সাগর কেদেঁ ফেলে।আর্য চমকে ওঠে।সত্যি অপ্রস্তুত হয়ে গেছে আর্য।এটা ভাবেনি যে সাগর কষ্ট পাবে।আর্য বলে আহা কাঁদছেন কেন??কি হলো??আরে কি হলো কাঁদবেন না প্লিজ??চুপ করুন।চোখ মুছুন।।

সাগর চোখ মোছে।আর্য জলের গ্লাস বাড়িয়ে দেয় সাগরের দিকে।।নিন জল খান।শান্ত হন।

সাগর জল খায় অল্প।তারপর বলে আমায় ক্ষমা করে দিন প্লিজ।আমি এই কাজ ছাড়তে পারবো না।আমায় এই কাজ থেকে দয়া করে  ছাড়বেন না।

আর্য বলে ওকে ওকে।ঠিকাছে।কিন্তু আপনি তো কিছুক্ষন আগেই বললেন যে কাজ ছেড়ে দেবেন।

ভুল বলেছি।আমি ভুল বলেছি।এই বলে হাত জর করে কাঁদতে থাকে সাগর।

আর্য বলে আহহ আবার কাঁদে।আচ্ছা আপনি যে এত কাঁদছেন আপনি কি জানেন যে আপনাকে আজকে কতটা সুন্দর লাগছে দেখতে।চোখ ফেরানো যাচ্ছে না ।।আর আপনি এত সুন্দর সাজ টাকে নষ্ট করছেন কেঁদে কেঁদে।

ভূতুড়ে ট্রেন গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




সাগর তাকায় আর্যর দিকে।আর্য মুচকি হাসতে থাকে।সাগর মাথা নিচু করে নেয়সাগর বলে মাথা নিচু করে এরকম ভাবে না ঠকালেই পারতেন।আমায় জানালে কি এমন হতো।

আর্য বলে জানালে কি আর তোমায় আটকে রাখতে পারতাম।তাহলে তো তুমি আমায় ছেড়ে আবার পালিতে যেতে।

সাগর চোখ মুছে নেয়।তারপর বলে আর্যর দিকে তাকিয়ে আমি এমনিই চলে যাবো।আমি আর আপনার কোনোদিন হবো না ডক্টোর আর্য।আপনি যে দিবাস্বপ্ন দেখছেন সেটা দেখবেন না।একবার যে সম্পর্ক নষ্ট হইয়ে যায় সেটা আর জোড়া লাগানো যায় না।আমাদের আইনি ভাবে সব মিটে গেছে।তাই আপনি চাইলেও আর ধরে রাখতে পারবেন না।

আর্য বলে কেন সাগর এত কষ্ট দিচ্চ আমায়??আমি তো বলছি যে আমি ভুল করেছি।আমার বাড়ির লোক ভুল করেছে।হ্যাঁ আমার বাড়ির লোক তোমার থেকে ক্ষমা চাইনি ঠিকই।কিন্তু আমি তো চাইছি।আমি তো বলেছি সবার সামনে আমি তোমার পা ধরে ক্ষমা চাইব।আমার একটুও তাতে সম্মান নষ্ট হবে না।।কারণ ভুল তো ভুলই হয়।

সাগর বলে না ডক্টোর আর্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে না।আপনি এত বড় একজন নাম করা ডক্টোর।আপনি কিনা আমার মতো একটা অশিক্ষিত,,ক্লাসলেস,,কুৎসিত মেয়ের থেকে ক্ষমা চাইবেন।তাহলে তো আমার মতো আপনার ও স্ট্যাটাস নষ্ট হবে।আর আপনি কেন বুঝছেন না বলুন তো??আপনি অনেক অনেক ভালো মেয়ে পাবেন আমার থেকে।সুন্দরী,,শিক্ষিতা,,পয়সা ওলা,,স্ট্যাটাস আছে।এরকম মেয়ে খুজুন।কেন ফালতু আমার পিছনে সময় দিচ্ছেন??

আর্য বলে আমি সময় দিচ্ছি না সাগর।এটা আমার অধিকারে করছি।এটাকে তুমি যদি বলো সময় দেয়া তাহলে আমার কিছু বলার নাই।

সাগর বলে দেখুন SIR দোয়া করে আমার পিছন ছাড়ুন।আগেও বলেছি আর এখন বলছি যা সাহ হবার হয়ে গেছে।আর না।সব শেষ আমাদের।আমি একা থাকবো।অনেক শিক্ষা নিলাম জীবন থেকে।আর না।

আর্য বলে ও আচ্ছা।।সব শেষ তো।।তাই না।তাহলে আজ আমি তোমায় একটা প্রশ্ন করি।তুমি সঠিক ভাবে জবাব দেবে।আর সত্যি বলবে।।

সাগর মনে মনে ভাবে এই রে আবার কি প্রশ্ন করে কি জানি??

কি হলো বলো চুপ করে কেন আছো??আমি কি প্রশ্ন করতে পারি??

সাগর মাথা নেড়ে বলে হ্যাঁ আপনি প্রশ্ন করুন।তবে আমার কাছে যদি এই উত্তর না থাকে তাহলে আমি দেব না উত্তর।

আলবাত দেবে তুমি।।চিৎকার করে টেবিলে হাত দিয়ে আচার মারে আর্য।সাগর ভয় পেয়ে চমকে ওঠে।আর্য সাগরের দিকে আঙ্গুল তুলে বলে আমি প্রশ্ন করবো এবং তুমি উত্তর দেবে।আর যদি তুমি না দাও উত্তর তাহলে আমি ভাববো তুমি এতদিন যা যা বলতে আমাদের সম্পর্কে তাহলে সব মিথ্যে।

সাগর আমতা আমতা করে বলে হ্যাঁ আম আমি বল বলবো।

আর্য বলে ওকে তাহলে বলি।আচ্ছা সাগর তুমি তো বলছিলে যে আমাদের মধ্যে সব সম্পর্ক শেষ।আর কোনো বাধা নেই আমাদের।খুব ঠিক কথা।কিন্তু তুমি তাহলে সিঁদুর আর শাখা পোলা নয়া পরে কার জন্য মঙ্গল প্রার্থনা করো??আমি তো জানি তুমি আর কোনো নতুম সম্পর্কে যাওনি যে তার জন্য তুমি এত কিছু করছো???

সাগর চমকে উঠে আর্যর দিকে তাকিয়ে থাকে।আর্য বলে কি চুপ করে কেন আছো??উত্তর দাও।প্রশ্ন করলাম।উত্তর দাও।আর্য দুই পকেট এ হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।সাগর বলে আমি আমি জানি না।।জানো না।নাকি উত্তর দিতে পারবে না।এই উত্তর নাই।কারণ তুমি এখন আমার নামে

সাগর উঠে দাঁড়িয়ে বলে আমি যাব।আমি এখানে থাকবো না।বলে পিচিন ফিরতেই আর্য গিয়ে ওর হাত চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।আবার দুজন খুব কাছাকাছি।সাগরের চোখে জল।আর্য বলে চোখে জল,,তবুও মন টা কঠিন করে কথা গুলো বলে যাচ্ছ।কি ভাব কিছু বুঝি না??যতই আমায় মিথ্যে বলো না কেন আমি জানি তুমি আমায় এত ভালোবাসো।আর তাই আমি তনকের ভালবাসায় আবদ্ধ হতে চাই।

সাগর নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায়।কিন্তু আর্য আরো শক্ত করে চেপে ধরে।বলে আমি জানি তোমার এই ছেড়ে যাওয়া তা অনিচ্ছাকৃত।মন চায় আমার কাছে থাকতে কিন্তু তাও তুমি জোর করে নিজেকে সরিয়ে রাখছো কষ্ট করে।আমি যেতে দেব না তোমায়।

সাগর বলে আমায় ছাড়ুন।।আমার একটুও ভালো লাগছে না।কষ্ট হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছাড়ুন।কেউ যদি দেখে নেই তাহলে অনেক কথা হবে।ছাড়ুন।

না ছাড়বো না।কেন ছাড়বো??আর যদি ছেড়ে কোনোদিন যায় তাহলে মরে গিয়ে ছেড়ে যাবো।মুক্তি দেব।

সাগর বলে বাজে কথা একদম বলবেন না। আমি কেন ছাড়তে বলছি জানেন।কেউ যদি এই অবস্থায় দেখে তাহলে আপনার হয়ত কিছু যাবে আসবে না।তবে আমার হবে।কারণ আমি এখানকার স্টাফ।তাই লোকে বদনাম করলে আমার সম্মান নষ্ট হবে।

আর্য বলে না হবে না।আমি সবাইকে আৰ বলে দেব।তুমি একবার আমায় বলো যে তুমি আমায় ভালোবাসো।আমায় ছেড়ে যাবে না।বল যে আমায় ক্ষমা করেছ তাহলে আমি চিৎকার কিরে সবাইকে বলবো তুমি আমার।আমি এখনো বলতে পারি।কিন্তু তুমি আমায় মেনে নিচ্ছ না।আমি সবাইকে বলতে গেলে আমায় তুমি অস্বীকার করে দেবে।

সাগর বলে দেখুন আপনি আগে ছাড়ুন।আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব।

আর্য ছেড়ে দেয়।তবে হাত ধরে রাখে সাগরের।সাগর বলে একটা মেয়ে যখন একজনের সাথে সম্পর্কে জড়ায় তার নতুন পরিবার পায় নতুন মানুষ পায় তখন সে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেষ্টা করে।আমি জানি প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে অশান্তি হয়।কিন্তু তার পাশে যদি তার স্বামী থাকে তাহলে তার আর কোনো চিন্তা থাকে না।কিন্তু আমার ভাগ্য এতই খারাপ আমার দুর্দিনে কেউ পাশে ছিল না।।আর যখন আমার সব শেষ তখন আপনি এলেন আমার পাশে।

আর্য বলে কেন নতুন করে সব শুরু করা যায় না সাগর??আমরা দুজনে একটা নতুন জীবন শুরু করবো।সেখানে কেউ থাকবে না আমরা দুজন ছাড়া।নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেব সব।

না SIR।।আপনি আপনার বাবা মা র সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে পারেন না।আমি সেটা হতে দেব না।আমি এখন ভালো আছি সুখে আছি।আপনিও সেরকম চেষ্টা করুন।ভালো হবে সেটাই।

হাত ছাড়িয়ে সাগর বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।আর্য বলে আমি জানি আমার কোনো ক্ষতি না হওয়া অব্দি তুমি আমার ভালোবাসা বুঝবে না।যখন তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাবো তখন বুঝবে।আমি অনেক দূরে চলে যাবো।আমায় নিয়ে প্রবলেম তোমার তাই তো??ওকে দেখো এবার আমি কি করি??এই বলে আর্য ম্যানেজারকে ডেকে পাঠায়।

ম্যানেজার বাবু ঘরে এলে আর্য বলে আমি বেরোব।গাড়ি রেডি করতে বলুন।ম্যানেজার বলে কিন্তু SIR আপনি কে বলেছেন ঘুরে দেখবেন??

আর্য চিৎকার করে বলে যা বলছি তাই করুন।একদম বেশি কথা বলবেন না।যান এক্ষুনি গাড়ি রেডি চাই আমার।

ম্যানেজার বাবু চলে যায় তাড়াতাড়ি।আর্য চেয়ারে বসে মনে মনে বলে ভালো থেকো সাগর।আমায় আর কোনোদিন পাবে না।আর ওই সিঁদুর ও পড়তে হবে না কোনদিন।আমি চাই না আমার দেওয়া কিছু থাকুক।তুমি তো একটুও ভালোবাসো না।সব নিয়ে নেব।সিঁদুর টাও নেব।নিঃস করবি তোমায়।

কাটাকুটি গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

আর্যর কাছে ফোন আসে।গাড়ি রেডি।আর্য বেরিয়ে যায়।সোজা গাড়ির সামনে যায়।ড্রাইভারকে বলে আপনি সরুন আমি নিজে ড্রাইভ করব।।ড্রাইভার সরে যায়।সিটে বসে স্টার্ট দেয় আর্য।।সিট বেল্ট না পরেই গাড়ি চালাতে শুরু করে আর্য।আর নানা রকম কথা ভাবতে থাকে।তাকে এতবার বোঝানোর পরও সে বুঝলো না।এত রাগ সাগরের তার ওপর।না আর না।আর বোঝাবো না সাগরকে।এবার সাগর নিজে বুঝবে আমার ভালোবাসা।আমি যখন অনেক দুরে থাকব তখন বুঝবে। এই ভাবতে ভাবতে হাই ওয়ে তে ওঠে আর্য।গাড়ির স্পীড আরো বাড়িয়ে দেয়।হঠাৎ একটা বড়ো লরি কে ওভার টেক করতে গিয়ে পোস্টে গিয়ে জোরে ধাক্কা খায় আর্য গাড়ি।সাথে সাথে আর্য স্টিয়ারিং এ মাথা লেগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

সাগরের সেদিন তারাটারি ছুটি হয়ে যায়।সাগর বেরিয়ে বাস ধরে বাড়ী যায়।বারি পৌঁছে সোজা ঘরে চলে যায় সাগর।ফ্রেশ হয়ে এসে বাবা মা র ঘরে বসে।

সাগরের বাবা মা জিজ্ঞেস করে কি রে??নতুন বস কে দেখলি??কেমন সে??

সাগর চুপ করে থাকে।সাগরের বাবা বলে কি রে মা??এত চুপচাপ।কিছু হয়েছে নাকি??

কি আর হবে বাবা।কিছু ই না।।।সাগর বলে

তাহলে এত চুপচাপ।জিজ্ঞেস করছে তোর বাবা উত্তর দে।সাগরের মা বলে

সাগর বলে আর কি বলবো মা।সবই তো জানতে।তাহলে আর নতুন করে জেনে কি লাভ।??

সাগরের বাবা বলে জানি মানে।কি জানবো??

সাগর বলে সেদিন যখন আর্য এসেছিলেন তিনি সেদিন তোমরা ওনার সাথে কোনো প্লান করে হাত মিলিয়েছিলে।

আমরা হাত মিলিয়েছিলাম।কি সব বলছিস??

মিথ্যে বলিনি মা।দেখো মা তোমরা আমার বাবা মা।আমি তোমাদের দুঃখ টা বুঝতে পারছি।কিন্তু তোমরা একটা কথা হয়তো মনে রাখনি।উনি একবার আমায় সবার সামনে বলেছিলেন যে কোনোদিন উনি আমার কাছে ফিরে আসবেন না।যদি কোনোদিন কাছে আসেন তাহলে উনি মোহয় আসবেন।আর মোহ কেটে গেলে সরে যাবেন।সেই থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি যে আমি কোনদিন আর্য কে আর নিজের করে ভাববো না।

সাগরের মা বলে কিন্তু সেই কথা তো ভুলে গিয়ে তোর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে।দেখ সব ভুলের ক্ষমা হয় রে।।তুই এরকম ভাবে ওকে দূরে সরিয়ে রেখেছিস।আজকে যদি ওর কিছু হয় তাহলে সবাই তোকে দোষ দেবে।

হয় মানে??কি হবে ??কিচ্ছু হবে না??আমি কে যে আমার কথা ভেবে ওনার কিছু হবে??সাগরের কথা শেষ হয় না হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে।সাগর দেখে ম্যানেজার বাবুর ফোন

সাগর ফোন রিসিভ করে বলে হ্যালো ম্যানেজার বাবু বলে তোমায় একটা খবড় দেয়ার আছে।খারাপ খবর।জানো আমাদের নতুন SIR ডক্টোর আর্য গাড়ি নিয়ে তো দুপুরে কোথায় বেরিয়ে গেলেন রেগে মেগে।উনি হাই ওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ একসিডেন্ট হয় OVERTAKE করতে গিয়ে।আমি এখন পাশের একটা ছোট নার্সিং হোমে যাচ্ছি।তুমি এক কাজ করো সবাইকে ফোন করে একটু জানিয়ে দাও।ওকে।

সাগর থমকে দাঁড়িয়ে থাকে।চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।হাত থেকে ফোন তা পরে যায়।

সাগরের বাবা এ বলে কি রে??কার ফোন??কে ফোন করেছে??কি বলছে??

সাগর বলে আর্যর একসিডেন্ট হয়েছে মা।

সাগরের মা বলে মানে এসব কি বলছিস??

হ্যাঁ মা।।সাগর চোখ মুছে বলে আমি যাব মা।

সাগরের বাবা বলে এখন আর কেন যাবে??এতক্ষন তো বলছিলে যে তোমার কোনো দায় নাই এই সম্পর্কের।একা থাকবে তুমি।।এবার তো খুশি হওয়া উচিত।

সাগর বলে আমি যাব।আমার ফেরার চিন্তা করো না।ওকে।সাগর বেরিয়ে যায়।বাড়ির সামনে থেকে রিকশা ধরে।একটা স্টপেজ সাগরের বাড়ি থেকে সেই নার্সিংহোম।

পৌঁছে সাগর রিকশা থেকে নামে।রিক্সাওলা বলে দিদি 70 টাকা।সাগর 100 টাকা দিয়ে দেয়।দৌড়ে ভিতরে ঢুকে যায়।রিক্সাওলা 100 টাকা র থেকে 70 টাকা কেটে নিয়ে বাকি টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দেখে সামনে নাই।রিক্সাওলা খুঁজতে থাকে।বলে যা বাবা এ তো টাকা না নিয়েই চলে গেল।ঠিক আছে আমি একটু ওয়েট করি।যদি বেরোয় দিয়ে দেব টাকা টা।

সাগর ভিতরে গিয়ে রিসেপশনে জিজ্ঞেস করেআচ্ছা এখানে কি কিছুক্ষন আগে একটা একসিডেন্ট পেশেন্ট ভর্তি হয়েছে??

রিসেপশন এ থাকা মেয়েটি জানায় হ্যাঁ ম্যাডাম এক্ষুনি তাকে নিয়ে যাওয়া হলো।উনি তো ম্যাডাম একজন বড় ডক্টোর।ডক্টোর আর্য সেন।রোডে একসিডেন্ট হয়েছে।

সাগর বলে আচ্ছা ওনাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো একটু বলবেন প্লিজ

মেয়েটি বলে ওনাকে তো ওনার ই নার্সিং হোম ড্যাফোডিল এ নিয়ে গেল।

ও আচ্ছা থ্যাংকস।বলে সাগর দৌড়ে বেরিয়ে আসে।

রিক্সাওলা বাইরে ওয়েট করছিল।সাগরকে দেখে বলে আরে দিদি আপনি যে পয়সা না নিয়েই চলে গেলেন।আমি আপনাকে ফেরত দেব বলে দাঁড়িয়ে আছি।

সাগর বলে না না আমার পয়সা ফেরত চাই না।আপনি আমায় একটা হেল্প করতে পারেন।??

রিক্সাওলা অবাক হয়ে বলে হেল্প??কি হেল্প??

আমায় একটু ড্যাফোডিল নার্সিং হোম নিয়ে যেতে পারবেন।।

ড্যাফোডিল।।সেটা তো অনেক দূর।নাম করা একটা নার্সিং হোম।কিন্তু আমি এই রিকশা করে আপনাকে ওতো দূর কি করে নিয়ে যায় বলুন তো দিদি??

সাগর হাত জোড় করে পায়ের কাছে বসে পড়ে।আপনি আমায় একটু হেল্প করুন।খুব তাড়াতাড়ি ওখানে যেতে হবে আমায়।দয়া করে নিয়ে চলুন।

রিকশা ওলা বলে আরে দিদি করেন কি??আপনি উঠুন দিদি উঠুন।আমি আপনাকে যে কিভাবে সাহায্য করি??

সাগর বলে আপনি যত টাকা নেবেন নিন।আগে আমায় একটু পৌঁছে দিন।আমি আপনাকে টাকা দিয়ে দেব।।

রিকশা ওলা বলে টাকা নিয়ে ভাববেন না ম্যাডাম।আমি গরিব হতে পারি তবে চামার না যে মানুষের বিপদেও টাকার চিন্তা করে যাবো আমি।তবে আমি ভাবছি কি করে আপনাকে সাহায্য করব??

সাগর কাঁদতে থাকে।।রিক্সাওলা বলে দিদি কাঁদবেন না।এক কাজ করা যেতে পারে।আমি রিকশা টা স্ট্যান্ড করে আপনাকে নিয়ে যাবো।আপনি যেখানে যেতে চান চলুন।

সাগর রিক্সাওলা কে বলে আপনি নিয়ে যাবেন??কিন্তু আপনি তো কাজ এ আছেন।বাড়ি ফিরতে হবে??

রিকশা ওলা বলে তো কি দিদি।আপনি বিপদে পড়েছেন আর আমি আপনাকে দিদি বলছি এই টুকু সাহায্য ভাই এর থেকে নিতেই পারেন।আপনি চলুন

রিকশা ওলা সাগরকে নিয়ে স্ট্যান্ড এ আসে।রিকশা স্ট্যান্ড করে দিয়ে বলে চলুন দিদি।এখন  লাস্ট ট্রেইন পেয়ে যাব।ওটা ধরে শিয়ালদা  চলে যাই।ওখান থেকে কিছু পেয়ে যাব।

সাগর আর রিক্সাওলা টি প্লাটফর্মে আসে।ট্রেইন আসে 6 মিন পর।উঠে যায়।25 মিন পর শিয়ালদা নামে।স্টেশন এর বাইরে এসে একটা TAKSI ডাকে রিক্সাওলা টি।দুজনে ওঠে।বলে বালিগঞ্জ ড্যাফোডিল নার্সিংহোম চলো।

আধ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যায়।সাগর টাকা দিতে গেলে রিক্সাওলা টি বলে না দিদি আপনি না।আমি দেব।আপনি আগে ভিতরে যান।আপনার কাছের মানুষের পাশে যান।আমি আছি আপনার সাথে।কোনো চিন্তা করবেন না।কোনো দরকার লাগলে বলবেন।আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।যান আপনি।

সাগর ওর হাত ধরে বলে ধন্যবাদ অসংখ্য ধন্যবাদ।।বলে ভিতরে চলে যায় দৌড়ে।

রিক্সাওলা টি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে হে আল্লা রক্ষা করো দিদি কে।সব বিপদ কাটিয়ে দিও।তুমি যদি দিদির সব বিপদ কাটিয়ে দাও তাহলে আমি তোমায় মালা দেব।আমি তো গরিব।।কিন্তু তোমায় আগে দিদিকে রক্ষা করতে হবে আল্লা।

সাগর ভিতরে গিয়ে দেখে সব লোকজন দাঁড়িয়ে আছে।তাদের কাউকে চেনে কাউকে চেনে না সাগর।তার মধ্যে ওর নিজের নার্সিং হোমের ম্যানেজার ও আছে।ওকে দেখে ওর ম্যানেজার এগিয়ে এসে বলে আরে সাগর তুমি এখানে??কি বেপার??তুমি এখানে এলে কি করে??কে বলল তোমায়??

এক জন খুব দরকার গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বললো আমি আপনাকে সব বলবো তার আগে বলুন আর্য SIR কেমন আছেন??ওনার জ্ঞান ফিরেছে তো??কথা বলছেন উনি??আমি যাব ওনার কাছে এক্ষুনি।

ম্যানেজার বলে না ওনার ইন্টারনাল ব্লিডিং হচ্ছে।অবস্থা খুব খারাপ।অপারেশন করতে হবে এক্ষুনি।তাও কি হবে কিছু বলা যাচ্ছে না??

সাগর চিৎকার করে ওঠে না না না।কিচ্ছু হবে না ওনার।।উনি এভাবে আমায় ছেড়ে যাবেন না।যেতে পারেন না।আমি কি এমনি এমনি ওনার জন্য এই সিঁদুর পড়ছি।

সবাই হা করে তাকিয়ে আছে সাগরের দিকে।সাগর বলে আমি জানি ওনার কিচ্ছু হবে না।।ভগবান আছে।উনি যতই আমায় ছেড়ে চলে যেতে চাক না কেন আমি যেতে দেব না।

সাগরের ম্যানেজার বলে এসব তুমি কি প্রলাপ বকছ সাগর??তুমি একটা নার্সিংহোমে এসে সিন ক্রিয়েট করছো কেন??মাথা খারাপ হইয়ে গেল নাকি তোমার??

সাগর বলে না আমার মাথা খারাপ হয়নি SIR।।আমি সম্পূর্ণ ঠিক আছি।আমি এক্ষুনি ওনার কাছে যাবো।নিয়ে চলুন আমায়।।

ম্যানেজার কিছু বলতে যাবে ঠিক তার আগেই একজন লোক এগিয়ে আসে সাগরের দিকে।বলে আমি আপনাকে নিয়ে যাবো ম্যাডাম।

ম্যানেজার বলে SIR আপনি একে কেন নিয়ে যাবেন??আপনি জানেন এ কে??

লোকটি বলে হ্যাঁ আমি জানি ইনি কে।আর তাই আমি এনাকে নিয়ে যেতে চাইছি।ম্যানেজার বাবু আপনি চুপ করুন।আমি চাইনা আপনি কথা বলুন।

ম্যানেজার বাবু চুপ করে মাথা নিচু করে নেয়।বলে সরি SIR।।

সাগর কে লোকটি বলে ম্যাডাম আমি আপনাকে হেল্প করবো।কোনো চিন্তা নেই।আমি আপনাকে চিনি ম্যাডাম।হয়তো আপনি চেনেন না।আমি অনিমেষ বসু।SIR এর পি এ।।এক্ষুনি SIR এর অপারেশন শুরু হবে।তার আগে টেস্ট গুলো হচ্ছে এখন।সির এর গুরুজী নিজে এসেছেন SIR এর অপারেশন করবেন বলে।আপনি শান্ত হন ম্যাডাম।

সাগর বলে আচ্ছা SIR কতক্ষন লাগবে অপারেশন হতে??

অনিমেষ বলে সময় তো একটু লাগবে ম্যাডাম।

সাগর বলে সব আমার জন্য হয়েছে।আজকে আমি উনাকে অনেক কথা বলেছি।যদি না বলতাম তাহলে হয়তো এরকম করতো না।।ওনার সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছিল।কিন্তু তাও উনি ফিরে এসেছিলেন।আমি ভেবেছিলাম হয়তো ওনার মোহ এটা।তাই আমি নিজেকে ওনার থেকে দূরে রেখেছিলাম।কিন্তু !!

অনিমেষ বলে ম্যাডাম এখন এসব কথা থাক।।SIR খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে ।।ওনার জন্য আমরা বেঁচে আছি।পেশেন্ট রা ওনাকে ভগবান মানেন।তাই ওনাকে সুস্থ হতেই হবে।ম্যাডাম আপনি চেয়ারে গিয়ে বসুন।আপনি খুব TIRED আছেন।একটা মেয়ে ছিল সেখানে তাকে ডেকে বললো অনিমেষ এই তুমি ম্যাডাম কে গিয়ে বসাও।

মেয়েটি আসে সাগরকে ধরে নিয়ে গিয়ে বসালো চেয়ারে।সাগর খুব কাঁদছে।মেয়েটি সাগরের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে অনিমেষ এর কাছে ম্যানেজার বাবু আসে বলে SIR আপনি ওনাকে চেনেন নাকি?ওই মেয়েটা তো আমার নার্সিংহোমের রিসেপশন এ থাকে।

অনিমেয়াহ বলে আচ্ছা আপনি কি মানুষ হ্যাঁ??আপনি এত কিছু বোঝেন আর একটা সিম্পল বেপার বোঝেন না??কার সামনে কি বলতে হয় জানেন না??

ম্যানেজার বলে SIR আমি আবার কি করলাম??

অনিমেষ বলে যাকে আপনি বলছেন আপনার নার্সিংহোমের রিসেপশন এ কাজ করে সে কে জানেন??সে হলো SIR এর স্ত্রী।আমাদের ম্যাডাম।।আর আপনি ওনার সামনে যা তা বলে যাচ্ছেন??উফফ আপনাকে নিয়ে আর পারে গেল না।ভাগ্গিস SIR এর সামনে কোনোদিন পরেননি।পড়লে বুঝতেন

ম্যানেজার বাবু হা করে আছে।আর সবাই পাস থেকে হা করে তাকিয়ে আছে।।অনিমেষ বলে কি হলো কানে গেল কথা টা সবার??ম্যানেজার এর দিকে তাকিয়ে অনিমেষ বলে হা তা বন্ধ করুন।ধুলো ঢুকে যাবে।

ম্যানেজার বাবু ঢোক গিলে বলে SIR সত্যি বলছেন??উনি SIR এর স্ত্রী??আমি তো জানতাম আমার নার্সিংহোমের স্টাফ।কি কোনোদিন তো উনি আমাদের কাউকে কিছু বলেননি??

নিজের পরিচয় নিয়ে কি ঢাক পিটিয়ে বেড়াবে আপনার মত??অনিমেষ বলে SIR এর সাথে ম্যাডাম এর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।কিন্তু SIR পরে নিজের ভুল বুঝতে পারে।তাই আবার ম্যাডামের কাছে ফিরে এসেছে।অশান্তি হয়তো কিছু হয়েছিল তাই SIR এরকম করেছে।

ম্যানেজার বলে হ্যাঁ SIR।এবার আমি বুঝেছি।।আজকে যখন SIR আমাদের নার্সিংহোমে গেল তখন সাগর বরণ করবে বলে দাঁড়িয়ে ছিল।বরণ করে ওনার ঘরে গিয়ে কথা বলেছে অনেক্ষন।একটা লেটার ও দিয়েছিল সাগর ছেড়ে দেবে বলে।কিন্তু আমি তো বুঝিনি যে এত কিছু ভিতরে ভিতরে।

অনিমেষ বলে আপনাকে ওতো বুঝতে হবে না আমি তো বারণ করছি আপনি বেশি বুঝতে যাবেন না।আর একটা কথা এই মুহূর্ত থেকে যেন আমি আর না শুনি যে ম্যাডাম কে আপনি নাম ধরে ডাকছেন।আপনি ওনাকে ম্যাডাম বলে ডাকবেন।আর সন্মান দিয়ে কথা বলবেন।

ম্যানেজার বাবু বলে ঠিক আছে SIR।আর ভুল হবে না।

অনিমেষ এর ফোন আসে।অনিমেষ বেরিয়ে যায় কানে ফোন নিয়ে।

এদিকে সব টেস্ট এর পর অপারেশন শুরু হয় আর্য র।সাগর নার্সিংহোমের মন্দিরে যায় সেখানে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি আছে।নিত্ত্বপূজো হয় সেখানে।সাগর কাঁদতে কাঁদতে বলে তুমি তো সব জানো ঠাকুর সব জানো।আমি কেন ওনাকে সরিয়ে দিয়েছি তাও জানো।আমি তো তোমায় সব জানাই বলো।তাও তুমি আমার সাথে এরকম করলে??আমার তো সব শেষ বলো??আমি নিজের করে নিতে চাইনি ঠিক কিন্তু আমি তো এটা চাইনি যে ওনার কিছু হোক।ওনার কিছু হলে যে আমিও আর বাঁচবো না।আমি যার জন্য সিঁথিতে সিঁদুর দি তাকে তুমি করে নিও না।ও ঠাকুর শুনতে পাচ্ছ আমার কথা??তুমি কি চাও বলো??কি দিলে তুমি আমার কথা শুনবে?আচ্ছা তুমি আমার প্রাণের বিনিময়ে ওনার প্রাণ ফিরিয়ে দেবে।ওনাকে সুস্থ কিরে দেবে।আমি এক কথায় প্রাণ দিতে রাজি ওনার জন্য।আমি হাত কেটে তোমার সামনে রক্ত দেব ঠাকুর তুমি ওনাকে বাঁচিয়ে দাও এই বলে রাধকৃষ্ণের পায়ে মাথাতগুকে কাঁদতে থাকে সাগর।পিছনে রিক্সাওলা টি এসে দাঁড়ায়।সাগরকে ওরকম অবস্থায় দেখে বলে ও দিদি আপনি এরকম করবেন না দিদি।আপনি উঠুন।

সাগর কে টেনে তুলে বসায়।।বলে আপনি দিদি এরকম করবেন না।জানেন আমিও আল্লার কাছে দোয়া করেছি যেন আপনার কাছের মানুষকে তাড়াতাড়ি আপনার কাছে ফিরিয়ে দেয়।দেখবেন আল্লা কথা শুনবে।আমি ভগবান বা আল্লা কে বিভেদ করি না।আমি জানি সবাই সমান।তাই এই ঠাকুরের সামনে আমি মাথা ঠুকে প্রাথনা করেছি।রিক্সাওলা টি আরো বলে জানেন অনেক ছোট বেলকয় আমার দিদির বিয়ে হয়েছিল মাত্র 10 বছর বয়সে।তারপর থেকে খুব কষ্ট করতো দিদি।জামাইবাবু নেশা করে এসে দিদি কে খুব মারতো রোজ রাতে।একদিন এরকমই অশান্তি হতে হতে জামাইবাবু দিদির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে দেয়।দিদি পুড়ে শেষ হয়ে যায়।তখন আমাদের কিছু করার ছিল না জানেন দিদি।আমি খুব ছোট।।আর বাবা অনেক ছোটকালে মারা গেছে।মা একা কি করবে??সব দেখতে হয়েছিল চোখের সামনে।সেই থেকে আমি আল্লা কে বলেছিলাম আমি আর কারোর কোনো ক্ষতি হতে দেব না।

সাগর বলে ভাই আজ তুমি যদি না থাকতে তাহলে আমার যে কি হতো??তুমি ভগবানের স্বরূপ।তোমার ঋণ কোনোদিন মেটাতে পারবো না আমি।

রিকশা ওলা বলে ছি ছি দিদি এ কি বলছেন??ঋণ কিসের ঋণ??আপনি আমার দিদি।।আমার দিদির জন্য এটুকু করবো না আমি?নাহলে যে আল্লা আমায় পাপ দেবে বলুন??

সাগর বলে তুমি বাড়ি যাবে কি করে??আচ্ছা তোমার বাড়ি তে সবই তো চিন্তা করছে।তুমি তাদের কিছু না বলেই চলে এলে।আবার সারাদিনের রোজগারের টাকা থেকে তুমি ভাড়া দিলে।আমার খুব খারাপ লাগছে।

ভাগ্যদ্রষ্টা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




রিকশা ওলা বলে দিদি আমার বাড়ি তে কেউ নাই চিন্তা করার মতো।যে ছিল সে চলে গেছে আমায় ছেড়ে।আমার মা 3 বছর আগে মারা গেছেন।তারপর থেকে আমি একা।আর রোজগার টা তো আমি আল্লার পায়ে দিয়েছি দিদি।বাজে খরচ হয় নাকি আল্লার পায়ে দিলে??

সাগর কাঁদতে থাকে।রিকশা ওলা বলে দিদি আপনি শান্ত হন ।।এরকমভাবে কাঁদলে শরীর খারাপ হবে।

এমন সমিয়ে অনিমেষ বাবু আসেন।বলে ম্যাডাম অপারেশন চলছে।এক্ষুনি শেষ হবে হয়তো।আপনি চলুন গিয়ে সামনে বসবেন।

সাগর উঠে সামনে যায় আধঘন্টা পর অপারেশন শেষ হয়।কিছুক্ষন পর ডক্টোর আসে।অনিমেষ এগিয়ে যায় ডাক্তারের দিকে।সাগরও এগোয়।ইংলিশ এ কথা বলছে ডাক্তার সবার সঙ্গে।অনিমেষ বাবু কানে কানে কিছু বলে ডাক্তারের।ডাক্তার সাগরের দিকে তাকায়।সাগর কে জিজ্ঞেস করে তুমি সাগরিকা??

সাগরিকা মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানায়।আমি আর্যর SIR।

সাগর হাত জোড় করে নমস্কার জানায়।সাগর বলে আপনি বলুন না আর্য SIR কেমন আছেন??বলুন না??আমি যে আর পারছি না।

SIR বলে হ্যাঁ বলবো তো।সব বলবো।তুমি একটু এদিকে এস।SIR একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বসে সাগরকে।বলে তুমি তোমার স্বামী র কথা জানতে চাইছো আমি নিশ্চই বলবো মা।তবে তার আগে আমি তোমায় কটা কথা বলতে চাই।তুমি জানো আমি ওকে ছোট থেকে গাইড করি।সব রকম ভাবে।আমি ওকে খুব সাপোর্ট করি।ওর সব রকম কাজে আমি ওর পাশে থাকি।ওর যখন বিয়ে হয় তখন আমি এখানে ছিলাম না।ওর সাথে তোমার অশান্তি হয়েছে আমি জানতে পারিনি কিছুই।আমি যখন দেশে ফিরলাম শুনলাম সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে তোমাদের।সব জানতে চাইলাম আর্যর থেকে।আর্য সব বলেছে আমায়।আমি তাকে অনেক বোঝাই।কিন্তু ততদিনে তোমাদের আইনিভাবে সব শেষ।আমি আর কথা বাড়ায়নি।কারণ আর কিছুই করার ছিল না আমার তখন।তারপর জানতে পারি আর্য ভুল করেছে।ওর পরিবারের সাথে অশান্তি করে বেরিয়ে এসেছে।আমি তোমার কথা ওর মুখে শুনেছিলাম কিন্তু আজ তোমায় নিজের চোখে দেখলাম।একটুও বাড়িয়ে বলেনি আর্য।তুমি সত্যি একটা লক্ষী মেয়ে।আর্যর স্ত্রী হবার যোগ্য।আমি আর্য কে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসি।আমি আর্য কে ভুল করলে বকি।সেদিনও বকেছি।আমি আজ তোমার কাছে একটা অনুরোধ করতে চাই।তুমি রাখবে আমার সেই অনুরোধ??

সাগর মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানায়।

SIR বলে তুমি আমার মেয়ের মতো তাই বলছি তুমি আর ওকে কষ্ট দিও না মা।আমি জানি মা তোমার কষ্ট হয়েছে।তাও বলছি মা তুমি ওর কষ্ট র কথা ভেবে আর একটা সুযোগ ওকে দাও।আমি তোমায় কথা দিচ্ছি তোমায় ও খুব ভালোবাসবে খুব সুখী করবে।আর একটা সুযোগ দিয়ে দেখো না মা।।ওর দিকে তাকিয়ে।।

সাগর বলে SIR আপনি এভাবে কেন বলছেন??আমি উনাকে এখনো ভালোবাসি।আমি সবসময় চেয়েছিলাম ওনাকে নিয়ে ওনার পরিবারের সবাইকে নিয়ে সংসার করতে।কিন্তু তা হয়নি।জোটেনি আমার ভাগ্যে।হয়তো আমার ই দোষ।SIR আপনি বলুন আর্য SIR কি আমার মতো মেয়ের সাথে সংসার করার যোগ্য।ওনার মতো ট্যালেন্ট এ উনি অনেক ভালো মেয়ে পাবেন।শিক্ষিত সুন্দরী।আর আমি সবসময় ওনাকে এটাই বোঝাতে চেয়েছি।কিন্তু উনি আমার ভুল বুঝেছেন বার বার।

SIR বলে মা সব কিছু কি নিওম মেনে হয়।আমরা ভগবান কে কেন ডাকি??তার লীলা এখনো দেখতে পাই তাই।তাকে ভরসা করি তাই ডাকি।এই যে তুমি বললে না মা তোমার থেকে আরো ভালো মেয়ে হয়তো ও পেতো কিন্তু একটা কথা কি জান তো মা হয়তো ও অনেক ভালো মেয়ে পেতো ঠিকই কিন্তু যার সাথে যার ভাগ্যে লেখা থাকে তাকেই তো ভগবান দেবে তাই না।এটা কি তোমার আমার হাতে মা??তাই আমি বলছি তুমি এসব সব ভুলে যাও।সব ভুলে ওর কাছে যাও ওকে ক্ষমা করে দাও।মা আমি তোমার কাছে হাত জোড় করছি।

সাগর বলে SIR আপনি এরকম ভাবে বলবেন না।আমি চাই উনি সুস্থ হয়ে উঠুন।ভালো হয়ে যাক।তাহলেই আমার শান্তি।

SIR বললো যেখানে তোমার মত বউ আছে সেখানে তো তোমার স্বামী সুস্থ হবেই।তাই না।

সাগর মাথা নিচু করে কাঁদতে থাকে।।SIR বলে তোমার স্বামীর অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে।কিন্তু আবার রক্ত অনেকটা দেওয়া হয়েছে।নরমাল বেড এ দেওয়া হয়েছে।এখনো জ্ঞান ফেরেনি।কিন্তু ফিরবে জ্ঞান কিছু সময়ের মধ্যে।

সাগর বলে SIR ওনার কাছে আমি যাব।আমি একবার ওনাকে দেখবো।।একটি বার বলুন না।আমায় যেতে দিতে।।

তুমি তোমার নিজের অধিকারে যাবে মা।কেউ তোমায় বাধা দেবে না।তোমার সেবায় ও ভালোবাসায় ও সুস্থ হবে।আমি অনিমেষ কে বলছি তোমায় নিয়ে যাবে।

কেস হিস্ট্রি গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

SIR অনিমেষ কে ডাকে।অনিমেষ এলে SIR বলে তুমি নিয়ে যাও আর্যর কাছে।

SIR সাগরকে বলে যাও মা।আমি একটু পর যাচ্ছি।

সাগর যায় আর্যর কাছে।আর্যর ঘরে ঢুকে যায়।নার্স বলে ম্যাডাম কাঁদবেন না।।আপনি যদি কাঁদেন তাহলে SIR এর জ্ঞান ফিরে এলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যাবেন।তাই দয়া করে কাঁদবেন না।সাগর বলে ঠিক আছে।

সাগর সিটে গিয়ে বসে।আর্যর হাত ধরে কাঁদতে থাকে।অনিমেষ ফোন করে ভিতরে ঢুকে দেখে সাগর কাঁদছে।অনিমেষ বলে ম্যাডাম আপনি কাঁদবেন না।সাগর উঠে দাঁড়ায় বলে SIR আপনি বসুন।

অনিমেষ বলে একি ম্যাডাম আপনি বসুন।আর আপনি আমায় SIR SIR করছেন কেন??আপনি SIR এর স্ত্রী।।আমার ম্যাডাম।

সাগর বলে দেখুন SIR আমি আপনার আর্য SIRএর স্ত্রী ছিলাম।কিন্তু এখন নাই।আমি এখন আপনার আর্য SIR এর নার্সিংহোমে কাজ করি।সাধারণ স্টাফ।।আর আপনি আমার বস।আর্য SIR এর পরেই আপনি।তাই আপনাকে আমি SIR এ বলবো।

অনিমেষ কিছু বলে না।সাগর বলে আপনি বসুন SIR।অনিমেষ পাস থেকে একটা চেয়ার টেনে এনে বলে ঠিক আছে আমি বসচি তবে তার আগে আপনাকে বসতে হবে।তাহলেই আমি বসবো।

সাগর এসে চেয়ারে বসে।পাশের চেয়ারে অনিমেষ।অনিমেষ বলে জানেন ম্যাডাম SIR আমার ভগবান।SIR ছাড়া আমি বাঁচবো না।অনেকদিন আগের কথা।তখন আমি দিন আনি দিন খাই।আজ গেলে কাল কি খাবো সেটাই ভাবতাম।তার মধ্যে হঠাৎ আমার একটা মেয়ে হলো।আস্তে আস্তে বোরো হলো।স্কুলে ভর্তি করলাম।একদিন স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে ফিরছি আমি।আমার মেয়ে আগে আগে আর আমি পিছনে।হঠাৎ কথা থেকে একটা BYKE এসে আমার মেয়েকে ধাক্কা মারে।মেয়ে পরে যায় ছিটকে।আর রাস্তায় ইটে লেগে মাথা ফেটে যায়।সেই সময় সির ওখানে দাঁড়িয়ে কারোর সাথে কথা বলছিলেন।দেখতে পেয়েই সাথে সাথে আমার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে উঠে যায়।এই নার্সিংহোমে নিয়ে আসে।এবং নিজে হাতে অপারেশন করে আমার মেয়ে কে বাঁচিয়ে দেয়।আমি তখন সামান্য ইনকাম করি।SIR এর সাথে দেখা করে বলি আমার সামর্থ্য নেই এই নার্সিংহোমের খরচ চালানোর মতো।আপনি ওকে ছেড়ে দেবার অনুমতি দিন।আমি ওকে কোনো সরকারি হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি।

SIR তখন বলে যে আপ্নিএত চিন্তা করবেন না।আমি আছি।এই নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।ও সুস্থ হলে তবেই ছাড়া পাবে আপনার মেয়ে।আমি তখন SIR কে আর কিছু বলি না।যেদিন আমার মেয়ে ছাড়া পাবে সেদিন SIR আমায় বলে আপনি আমায় আপনার BOIDATA দিয়ে যাবেন কেমন।আমি কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে দরকার আছে।আমি পরের দিন ওনাকে BIODATA দি।দুদিন পর আমার কাছে ফোন আসে।আমি যাই ওনার কাছে।।SIR বলে আপনি কাল থেকে আমার পার্সোনাল ASSISTENT হয়ে কাজ করবেন কেমন।কখন ছুটি কত স্যালারি আপনি বাইরে থেকে জেনে নেবেন।আমি সেই মুহূর্তে কথা হারিয়েছিলাম।।সাক্ষাৎ ভগবান।সেই থেকে আমি কাজ করি।আজ আমার মেয়ে ক্লাস 6 এ পরে।আজ আমার একটা ফ্লাট আছে বউ মেয়ে কে নিয়ে সুখে আছি।আর সব এই SIR এর জন্য।

হাহাকারের শেষ প্রহর গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বলে আমি জানি উনি খুব হেল্পফুল একটা মানুষ।আমি কষ্ট দিতে চাইনি।কিন্তু এটাও চাইনি উনি আর আমার জীবনে ফিরুক।

অনিমেষ বলে আমি সব ঘটনা জানি ম্যাডাম।আমি ছিলাম SIR এর বন্ধুর মতো।সব SHERE করতো আমায়।আপনার বিয়ে হবে থেকে ছেড়ে যাওয়া সব জানি।অনেকবার বলেছিলাম SIR কে যা করছেন ভেবে করছেন তো।SIR বলেছিল হ্যাঁ।আমি ভেবে নিয়েছি সব।তারপির যখন SIR সব জানতে পারলো সত্যি কথা তখন আমি SIR কে বলেছিলাম যে আপনার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে।।SIR যায় আপনার কাছে।ভুল বুঝে যায় নিজের।SIR নিজের বাবা মা পরিবার কে ত্যাগ করে।বলে হাজার বিপদেও যেন তাদের কোনো খবর না দি।তাই আজ SIR এর এত বিপদেও আমি তার বাড়ির লোককে কোনো খবর দিতে পারিনি।কারণ SIR আমার।মেয়ের নামে দিব্বি করিয়েছিল।তাই।

সাগর বলে আপনি বলেননি কেন আমায়??আমি তো তাহলে জানাতে পারতাম।ঠিক আছে আপনি দিন ফোন টা আমি ফোন করে জানাবো।

অনিমেষ বলে না না ম্যাডাম।SIR যদি জানতে পারে তাহলে।??

সাগর বলে SIR কে আমি বলবো যে আমি ফোন করেছি।দেখুন SIR এর বাড়ির পুরো অধিকার আছে SIR এর ওপর।বিশেষ করে ওনার বাবা মার।কারণ SIR ওনাদের সন্তান।100%অধিকার আছে ওনাদের।তাই আপনি আমায় আপনার ফোন টা দিন আমি ফোন করে জানাব।

অনিমেষ ফোন দেয় সাগরকে।সাগর ফোন নিয়ে বাইরে চলে যায়।সাগর বাইরে গিয়ে বাড়ির ল্যান্ডফোনে ফোন করে।তখন মাঝ রাত।তাই ফোন বেজে বেজে কেটে যাচ্ছে।4/5 বার ফোন করলো।তাও ফোন করলো না।সাগর ভাবছে ফোন করে কি বলবে।সে কি নিজের পরিচয় দেবে নাকি অন্য পরিচয়ে কথা বলবে।।আবার ভাবছে নিজের পরিচয় দিলে যদি তাকে আবার অপমান করে।না সে অন্য পরিচয়েই কথা বলবে।

সাগর আবার ফোন করে।।এবার ফোন ধরে একজন মহিলা।সাগর বলে হ্যালো এটা ডক্টোর আর্যর বাড়ি তো??

ভিতর থেকে একটা মহিলা বললো হ্যা বলছি কেন??খুব রূঢ় হয়ে উত্তর দিলো।

সাগর বলে আপনাদের একটা নিউজ দেবার আছে।ডক্টোর আর্যর একসিডেন্ট হয়েছে।সে এখন ড্যাফোডিল এ ভর্তি।অপারেশন হয়েছে।।

ভিতর থেকে মহিলা টি বললো কি সব বলছেন হ্যাঁ??একদম বাজে বকবেন না।আমার ভাই এর কিচ্ছু হবে না।।

সাগর বলে এই রে এত দিদিভাই ফোন ধরেছে।।ওরে বাবা রে।এক্ষুনি যদি ধরতে পারে এটা আমি তাহলেই হয়েছে।উফফ তাড়াতাড়ি ফোন ছাড়তে হবে।নাহলে কেলেঙ্কারি।

ভিতর থেকে একজন পুরুষ এর গলা।।উফফ মাঝ রাতে যত ডিসটার্ব।চলে গেছে আর্য তাও ফোন তা ঠিক এই বাড়ি তে আসে।কে ফোন করেছে হাঁ??

দিদি বলে দেখো না আর্যর একসিডেন্ট হয়েছে।

সাগর বুঝলো ও এটা দিদির বর।সাগর চুপ করে শোনে।

বড় টা বলে একসিডেন্ট হয়েছে কিন্তু এখন যাবো কি করে।মাঝরাতে যাওয়া সম্ভব নাকি??একটা সেন্স নাই।মাঝরাতে ফোন কিরে ডিসটার্ব করছে।যত্তসব।

দিদি বলে এই যে শুনুন আমার ভাই এখন কেমন আছে??

সাগর বলে এখন বিপদ কেটে গেছে।এক্ষুনি জ্ঞান ফিরবে।

দিদি বলে ও আচ্ছা।ঠিক আছে আমরা কাল সকালে এর আগে তো যেতে পারবো না।

সাগর বলে ওকে ঠিক আছে।

ফোন কেটে দেয়।সাগর বলে কি অসভ্য।ভাই এর এরকম হয়েছে তাও কোনো হেলদোল নাই।কি নিষ্ঠুর।এরকম দিদি।।ছি।অনিমেষ হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসে।।

ম্যাডাম ম্যাডাম SIR এর জ্ঞান ফিরছে।।চোখ খুলছে SIR।।সাগর আনন্দে দৌড়ে ভিতরে ঢুকে যায়।দেখে আর্য চোখ খুলে কাউকে খুঁজছে।

আর্য SIR আমি এসেছি।গিয়ে হাত ধরে সাগর আর্যর।আর্য র মুখে অক্সিজেন মাস্ক আছে।তাই কথা বলতে পারছে না।আর খুব দুর্বল ও।।আর্য সাগরের দিকে তাকিয়ে আছে।তবে বোঝা যাচ্ছে সাগরকে পেয়ে আর্য খুব খুশি।

আর্য উঠে বসতে যায়।সাগর বলে একি আপনি একদম উঠবেন না এখন।।শুয়ে থাকুন।আমি আপনার পাশে আছি।

আর্য সাগরের হাত চেপে ধরে।কিছু বলতে চায়।

সাগর বলে আপনি এখন চুপ করে শুয়ে থাকুন SIR।আপনার কোনো চিন্তা নাই।আমি সারাক্ষন আপনার পাশে থাকব।কোথাও যাবো না।সাগরের চোখে জল।

আর্য তাকিয়ে আছে সাগরের দিকে।হাত চেপে ধরে কছে সাগরের।সাগর আর্য মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।অনিমেষ দাঁড়িয়ে আছে পাশে।

এমন সময়ে ঘরে ঢোকে আর্যর SIR।কি সেন্স এসেছে??

সাগর উঠে দাঁড়ায়।অনিমেষ বলে আসুন SIR।।সাগর সরে যায়।SIR গিয়ে আর্যর পাশে বসে।।

আর্য উঠে বসতে যায় আবার।SIR বলে কি করছো কি আর্য??চুপ করে এখন সুএ থাকো তুমি??একদম যেন উঠতে না দেখি।

সাগর বলে SIR ওনাকে কবে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবো??

SIR বলে বাড়ি তো নিয়ে যাবেই।তার আগে ও সুস্থ্য হোক।

SIR আর্যর দিকে তাকিয়ে বলে আর্য আমি তোমার থেকে এরকম কাজ আশা করিনি।তুমি এরকম কাজ করবে আমার বিস্বাস ই হচ্ছে না।আমি তোমাকে ছোট থেকে গাইড করি।পরামর্শ দি আমি।আমার কথা শুনে তুমি কাজ করো।তুমি একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষ।যা মনে চায় তুমি তাই করো।তুমি কত কষ্ট করে আজ এখানে এসেছো।এত বড় ডক্টোর তুমি।সবাই তোমায় ভরসা করে আর তুমি কিনা এরকম ভাবে বাজে একটা কাজ করলে??তুমি ছোটবেলায় বলতে না আমি আপনার মত বড় ডক্টোর হবো SIR??সবাই আমায় ডক্টোর আর্য বলবে।যেদিন তুমি ডক্টোর হলে সেদিন তুমি ফাস্ট আমার কাছে এসেছিলে প্রণাম করেছিলে।আর আমি সেদিন ফাস্ট তোমাকে বলেছিলাম এগিয়ে যাও ডক্টোর আর্য।তুমি খুব খুশি হয়েছিলে।কেঁদে দিয়েছিলে।তোমার জীবনে এত কষ্ট আমি জানি।কিন্তু তা বলে তুমি এরকম সিদ্ধান্ত নেবে আমি আশা করিনি।আমি ভাবতাম আমার আর্য কোনো ভূপ করতে পারে না।আর তুমি সেই ভুল তা করলে।আমি তাই আজ থেকে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি।তোমাকে আর আমি ডক্টোর আর্য বলে ডাকবো না।শুধু আর্য বলবো।কারণ যে ডক্টোর মানুষ বাঁচানোর জন্য জীবন দেয় সে নিজে কিনা এরকম নোংরা কাজ করে।ছি।।

আর্যর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।SIR বলে তুমি কি ভেবেছিলে সাগর তোমায় ভালবাসে না??তুমি একদিন আমায় বলেছিলে যে তুমি নাকি দেখেছো ওকে সিঁদুর পড়তে।কিন্তু বুঝতে  পারোনি।সেদিন আমি বলেছিলাম তোমায় যে পরে বুঝবে।সেদিন বুঝছো তো কেন বলেছিলাম??যে তোমায় ভালবাসে সে তোমার ভালো চায় বুঝলে।তাই তোমায় ভালো দেখতে চেয়েছিল।তুমি ওকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলে।তাই ও আর তোমায় কাছে নিতে চায়নি

সাগর চুপ করে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কাঁদে।আর্য সাগরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

অনিমেষ এর ফোন বেজে ওঠে।অনিমেষ ফোন কেটে দেয়।আতে করে সাগরের পাশে এসে বলে ও ম্যাডাম SIR ওর বাড়ি থেকে ফোন আসছে।কি করবো??সাগর অনিমেষ কে বলে আপনি ফোন তা আমায় দিন।আমি দেখছি।

একজন লেখকের মৃত্যু গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




অনিমেষ ফোন দিয়ে দেয় সাগরকে।সাগর বেরিয়ে যায়।পিছনে অনিমেষ ও যায়।আর্য ভাবে সাগর হঠাৎ ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেল কেন??কাকে ফোন করছে সাগর??

আবার ফোন আসে অনিমেষ এর ফোন এ।ফোন সরে সাগর।।উত্তেজিত একটা মহিলার গলা।আমার ছেলে কেমন আছে??বলুন না।ওর জ্ঞান ফিরেছে??

সাগর বুঝলো এটা আর্যর মা।সাগর মা বলে ডাকতে গিয়েও ডাকতে পারে না।বলে ম্যাডাম SIR এখন ভালো আছেন।।জ্ঞান ফিরেছে।

ওমা তাই।।দেখো না আমায় কেউ নিয়ে যাচ্ছে না।আমি কতবার বলছি নিয়ে যেতে।আসলে ড্রাইভার রা তো সকালের আগে আসবে না।।ওর বাবা তো গাড়ি চালানো বারণ করেছে।বাড়ির কেউ নিয়ে যাচ্ছে না।কতবার বলছি।বলছে সকালের আগে নিয়ে যাবে না।

সাগর চুপ করে থাকে।কোনো কথা বলতে পারে না সাগর।সত্যি তো তার অধিকার আছে তার ছেলেকে দেখতে আসার।কিন্তু এমন ই কপাল।না কিচু একটা করতে হবে।পাশে অনিমেষ বাবু দাঁড়িয়ে ছিলেন।সাগর বললো SIR আপনি আমায় একটা হেল্প করতে পারবেন??

অনিমেষ বাবু বলছেন বলুন না ম্যাডাম।।আপনি এভাবে কেন বলছেন??আপনি আমায় অর্ডার করুন।

সাগর বলে না SIR অর্ডার আমি করবো না।আপনার থেকে হেল্প নেব শুধু।আপনি আপনার গাড়ি টা একটু আর্য SIR এর বাড়িতে পাঠাবেন।ওখানে SIR এর বাবা মা ওয়েট করছেন।আস্তে পারছেন না ড্রাইভার নাই বলে।বাড়ির লোক ও নিয়ে আসছে না।খুব কাঁদছেন ওনার বাবা মা।তাই বলছি একবার গাড়ি টা আর্য SIR এর বাড়ী তে পাঠান।

অনিমেষ বাবু বলে ম্যাডাম আমি পাঠাতে পারি কিন্তু SIR যদি বাড়ির লোক দেখে আবার রেগে যান।কি হবে তাহলে??SIR কে তো এখন উত্তেজিত করা ঠিক হবে না।

সাগর বলে আমি জানি।কিন্তু আপনি বাবা মা র দিকটা বুঝুন।তাদের সন্তানের বিপদ হয়েছে।আর তারা শুনেও আসবেন না??

অনিমেষ বাবু বলে আমি জানি ম্যাডাম।ঠিক আছে আমি দেখছি।তখন ই রুম থেকে বেরিয়ে আসেন আর্যর SIR।।

কি এখানে খুব জরুরি কোনো আলোচনা??SIR বলে।।

সাগর বলে SIR আপনি কিছু একটা করুন।দেখুন আমি অনিমেষ SIR এর ফোন থেকে আর্য SIR এর বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছি।তাই এখন তার মা আমায় ফোন করে বলছেন তারা আস্তে পারছেন না।ড্রাইভার নাই। বাড়ির সবাই ও নিয়ে আসছেন না।আপনি বলুন বাবা মা র তো সন্তান উনি।তাদের কি দোষ??সাগর বলে আমি অনিমেষ SIR কে বলেছি তার গাড়ি পাঠিয়ে একটু নিয়ে আসতে।আমি কি ভুল বলেছি কিছু SIR??

SIR বলে একদম ঠিক বলেছ মা।অনিমেষ তুমি গাড়ি পাঠাও।ওনাদের ফোন করে বল যে গাড়ি পাঠানো হচ্চে।ওনারা যেন রেডি থাকেন।আমি একটু আমার রুমে যাচ্ছি।একটা কাজ আছে।কিরে নিয়ে আবার আর্যর CHECKING আসব।তুমি যাও গিয়ে আর্যর কাছে বসো।আর সাগর একটা কথা।ওনারা এলে তুমি আমার রুমে চলে এসো।তোমায় দেখতে পেলে কথা শোনাবে।আমি চাই না এই পরিস্থিতি যে তোমায় কথা সোনাক।।কি বললাম মনে থাকবে তো।??

সাগর বলে হ্যাঁ SIR।আমি তাইই করবো।

SIR ওকে বলে চলে গেল।অনিমেষ বাবু বলেন ম্যাডাম আমিও আপনার সাথে SIR এর রুমে গিয়ে বসে থাকবো।।ওনাদের আমার খুব ভয় লাগে।।বিশেষ করে SIR এর দিদি কে।।উড়ে বাবা উনি যেন লেডিস জম।।

সাগর মুচকি হাসে।বলে SIR আপনি এত ভয় পান কেন??আপনি কি কোনোদিন বোকা খেয়েছেন??

অনিমেষ বাবু বলে খাইনি আবার??উড়ে বাবা।।একদিন SIR ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর একদিন আমি ঐ বাড়ি গেছিলাম SIR এর ফাইল আনতে।ওনার দিদি সামনে চিলেন।উফফ কি জেরা।পুলিশি জেরা করছিল??আমার ভাই কেমন আছে??কোথায় আছে??কি খাচ্ছে??আপনার সাথে আবার কথা বলেছে কিনা??আমি কোন প্রশ্নের উত্তর দেব ভেবেই পাচ্ছি না।SIR এর ফাইল তা কোনোরকমে নিয়েই আমি পালিয়ে বেচেঁচি।।SIR কে বলেছি আর কোনোদিন আমি ওনাদের মুখোমুখি হবো না।

সাগর বলে ঠিক আছে আপনি থাকবেন না।এখন চলুন ভিতরে উনি একা আছেন।

এদিকে ভিতরে আর্য ভাবছে সাগর কার সাথে কথা বলছে ফোন এ??ও আবার আমার বাড়িতে ফোন করে জানাচ্ছে না তো??

ঘরে ঢোকে সাগর সেই সঙ্গে অনিমেষ।

আর্য বলে তোমরা কি কাউকে ফোন করলে??

পরিণতি গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর অনিমেষ তাকায় দুজন দুজনের দিকে।চুপ করে মাথা নিচু করে থাকে দুজন।

আর্য এখন কথা বলতে পারছে।আর্য বললো কি হলো আমি তো তোমাদের QUESTION করছি??LISTEN আমি যদি দেখি যে তোমরা এমকের বাড়ির লোক কে খবর দিয়েছো তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে??এই বলে হাপাতে থাকে আর্য।

সাগর বলে SIR আমি আপনার কাছে হাত জোড় করছি দোয়া করে উত্তেজিত হবেন না।।দেখুন আপনার বাবা মা কোনো দোষ করেননি।আপনি তাদের সন্তান তাদের তো অধিকার আছে তাই না??

আর্য বলে না কোনো অধিকার নেই।যাদের মনে ওরকম পাপ থাকে তাদের কোনো অধিকার থাকে না আমার সাথে সম্পর্ক রাখার।

সাগর বলে আপনি শান্ত হন।অনিমেষ বলে SIR আপনাকে কোনো কথা বলতে হবে না।আপনি বিশ্রাম নিন এখন।

আর্য বলে না।আমি আগে জানতে চাই কেন ফোন করলে অনিমেষ??আমি না তোমায় প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলাম।সেটা ভেঙে দিলে??

অনিমেষ আমতা আমতা করতে থাকে।সাগর বলে SIR আপনি অনিমেষ SIR কে কিছু বলবেন না।।ওনার কোনো দোষ নাই।সব দোষ আমার।আমি ফোন করেছি আপনার বাড়িতে।

আর্য বলে তুমি ফোন করেছ??তোমার কি মকথা খারাপ হয়ে গেছে সাগর??এত অপমান করেছে তোমায় তাও শিক্ষা নাই।

সাগর বলে দেখুন SIR এই মুহূর্তে আমি আমার অপমান নিয়ে ভাবছি না।আপনার এত বড় বিপদ আর আমি নিজেকে নিয়ে ভাববো??ওনাদের অধিকার আছে।তাই আমি ফোন করেছি।আমি মনে করি আমি কোনো ভুল করিনি SIR।।

আর্য সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকে।আর্য বলে আচ্ছা ওরা তো নিশ্চই আসবে।এবার একটা তুমুল অশান্তি লাগলো বলে।।উফফ আর পারি না।

অনিমেষ বলে SIR কোনো অসুবিধা হবে না।ম্যাডাম আপনার SIR এর ঘরে থাকবেন।ওখানে তো কেউ যাবে না।আর সেই সঙ্গে আমিও থাকবো।।ওই SIR এর ঘরে।

আর্য বলে তুমিও থাকবে??কেন??

অনিমেষ বলে SIR আপনি ভুলে গেলেন সেই আপনার ফাইল আনতে গিয়ে কিরকম হেনস্থা হয়েছিলাম।আমি তো আপনাকে এসে সব বলেছিলাম।আপনি তো বলেছিলেন যে ঠিক আছে।

আর্য বলে ওওও ওকে ওকে।।ঠিক আছে।আমি একা সব সামলে নেব।তোমরা কোনো ভাবে যেন ওদের সামনে না এসে পর ওকে।।

দুজনেই মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।এমন সময়ে নার্স ঘরে এসে সাগর কে জানায় ম্যাডাম আপনার সাথে বাইরে একটা ছেলে দেখা করতে চাইছেন।সাগর বুঝতে পারে ওই রিক্সাওলা ভাই টি দেখা করবে।সাগর বলে হ্যাঁ আপনি একটু ওকে ভিতরে ডেকে দেবেন??

নার্স বলে হ্যাঁ কিন্তু ম্যাডাম একসাথে এতজন তো ভিতরে থাকার নিওম নাই।SIR জানতে পারলে খুব বকবেন।

অনিমেষ সাথে সাথে বলে আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।আপনি ওকে ডেকে পাঠান।

নার্স চলে যায়।অনিমেষ বলে SIR আমি বাইরে আছি।আপনারা কথা বলুন।

অনিমেষ বাইরে চলে যায়।ওই রিক্সাওলা ছেলেটি ঢোকে।সাগর বলে আসুন ভাই আসুন।

আর্যর কাছে নিয়ে আসে সাগর ছেলেটিকে।বলে SIR আজ এই ভাই আমার সাথে না থাকলে আমি যে কি করতাম জানি না।এই ভাই আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।দায়িত্ব নিয়ে।যাওয়ার নামে প্রার্থনা করেছে।অপনিন্যাটে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যান তাই।

আর্যর কাছে হাত জোড় করে প্রণাম জানায় ছেলেটি।আর্যও তাই।ছেলেটি বলে দাদাবাবু আপনি একদম সুস্থ হলে আমি আল্লাকে মালা দেব।আমার কথা আমার আল্লা রেখেছে কিনা!!ছেলেটা আনন্দে কাঁদতে থাকে।।

আর্য ছেলেটির হাত ধরে বলে তুমি আজ আমায় এত সাহায্য করেছ।অনেক দায়িত্ব পালন করেছ তাই আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।

ছেলেটি কাঁদতে থাকে।আর্য বলে তুমি কেঁদো না।আমি সুস্থ হয়ে তোমার একটা কাজ এর ব্যবস্থা করবো।তোমার নাম বাড়ির ঠিকানা সব দিয়ে যাও।আমি যোগাযোগ করবো।

ছেলেটি বলে আপনাদের মত ভগবান এর দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।আমি রিকশা চালাই।আপনি আমায় ঠাঁই দিলে আমি ধন্য হবো।

আর্য বলে ঠাঁই না।তুমি তোমার নিজের অধিকারে আমার কাছে থাকবে।বুঝলে।

ছেলেটি বলে দিদি দাদাবাবু আমি বাইরে বসে আছি।আপনারা কথা বলুন।

সাগর বলে ভাই তুমি তো খাওনি।এই নাও টাকা কিছু খাও বাইরে গিয়ে।।সাগর 100 টাকা ছেলেটির হাতে গুঁজে দেয়।ছেলেটি নিতে চাইছিল না।কিন্তু আর্যও  সাগরকে support করে বললো হ্যাঁ তুমি গিয়ে খেয়ে নাও।যাও।।আমি বলছি।।ছেলেটা মাথা নেড়ে বাইরে চলে যায়।

সাগর আর্য র পাশে গিয়ে বসে।আর্য সাগরের হাতে হাত রাখে।।
সাগর মাথা নিচু করে বসে আছে।আর্য সাগরের হাতে হাত রেখে বলে কি কেমন লাগলো??ভালো লাগলো তো??সাগরের চোখে জল আসে।সগীর আর্যর মুখের দিকে তাকায়।আর্য বলে হয়তো আমি মরে গেলে বেশি ভালো হতো।

সাগর ভয় পেয়ে আর্যর ঠোঁটে আঙ্গুল রাখে।সাগর বলে এরকম কথা আর একবারও যেন না শুনি আপনার মুখে।আমি ভাবতে পারিনি আপনি নিজের এত বড় ক্ষতি করবেন।তাহলে আমি কখনোই এরকম ভাবে কথা বলতাম না আপনার সাথে।

আর্য বলে হম্ম হয়তো বলতে না।কিন্তু এটা করলাম বলে তো আমার ভালোবাসার প্রমান টা পেলে।নাহলে যে আমি কোনোভাবেই তোমায় বোঝাতে পারছিলাম না যে আমি তোমায় ভালবেসে ফেলেছি।

সাগর বলে দেখুন SIR ঝগড়া সবার মধ্যেই হয়।কিন্তু কে এরকম করে বলুন??আমার বাবা মার মধ্যেও তো এরকম হয়।আপনার বাবা মার মধ্যেও হয়।প্রত্যেকটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে ঝগড়া হবে।আবার মিল ও হবে।ঝগড়া না হলে কি ভালবাসা বাড়ে??

আর্য চোখ গোল গোল করে বললো উড়ে বাবা এত দেখছি ভূতের মুখে রাম নাম।।সাগর বলে না SIR আমি সত্যি বলছি সব।।একটাও মিথ্যে বলিনি।

আর্য বলে আমি জানি তো তুমি সত্যি বলছো।আচ্ছা সাগর তাহলে তুমি এখন বিস্বাস করো যে আমাদের মধ্যে এখনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক আছে।ভালোবাসা আছে।তাই ঝগড়া আছে।

সাগর মাথা নিচু করে নেয়।আর্য বলে কি হলো বলো??এতক্ষন তো এত বকর বকর করছিলে।এবার উত্তর দাও।

সাগর লজ্জা পেয়ে যায়।।আমতা আমতা করার বলে আম আমি কি সে সেসব বলেছি নাকি??আমি তো শুধু!!কথা শেষ হয় না সাগরের আর্য হাত ধরে কাছে টেনে নেয় সাগরকে।আর্যর বুকের ওপর গিয়ে পড়ে সাগর।

সাগর আর আর্য কিছু দুজন দুজিনের দিকে একভাবে তাকিয়ে।ভালোবাসার দৃষ্টিতে।

সাগর হঠাৎ বলে SIR ছাড়ুন।কে না কে ঢুকে যাবে।এভাবে দেখলে।।ছাড়ুন SIR

আর্য বলে কি??আমি SIR।।আমি ছাড়বো না।।

জীবাশ্ম গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বলে না ছাড়ুন।দেখুন এখানে নার্স আছে,, অনিমেষ বাবু যখন তখন চলে আসবে,,SIR ও আসবে বলেছে।।না না আপনি ছাড়ুন।প্লিজ ছাড়ুন।কেউ দেখে নিলে খুব বাজে বেপার

আর্য বলে বাজে বেপার??কিসের বাজে বেপার??আমি আমার বউকে আদর করবো এটা বাজে বেপার??কার এত বড় সাহস আছে যে বলে বাজে বেপার??তারা কি জানে না বোঝে না যে বউয়ের সাথে রোমান্স করলে শরীর খারাপ কমে যায়??আর তাদের ঘরে কি বউ নাই??তারা কি রোমান্স করে না??

সাগর বলে SIR আপনি মজা করছেন??আপনি ভাবুন তো কেউ যদি একবার এসে যায় আর আমাদের এই অবস্থায় দেখে তাহলে কি হবে??

আর্য বলে কি আর হবে??সবাই জানে রোমান্স করছি।।

আর্য বলে আপনি মজা করছেন।।ও SIR প্লিজ ছাড়ুন।প্লিজ

আর্য বলে ধুর ভালো লাগে না।একটু যে শান্তি করে বউয়ের আদর খাবো সেটাও হয় না।।ধুরর।।কি খিদে পেয়েছে।।ভাবলাম বউয়ের আদর খেয়ে পেট ভরাই।

সাগর বলে আপনার খিদে পেয়েছে??আমি নার্সকে বলছি এক্ষুনি খাবার দিতে।উঠে বসতে যায় সাগর।।আর্য আরো টেনে ধরে বুকের কাছে

এই বলছি না আমার আদর খিদে পেয়েছে।এমনি খাবারে আমার পেটে ভরবে না।সাগর বলে আপনি খুব দুস্টু বাজে এসব বলে সাগর আর্য বুকে মাথা রেখে দেয় লজ্জা পেয়ে

আর্য বলে তুমি আজকে জানলে??আমি তো এরকমই।

সগীর বলে আপনি ছাড়ুন।এক্ষুনি আপনার বাড়ি থেকে সবাই আসবে।

আর্য বলে ওকে ছাড়তে পারি তার আগে আমার  দুটো শর্ত আছে।।সেগুলো যদি মান তাহলে ছাড় পাবে।

সাগর বলে আমি আপনার সব কথা মানব এখন থেকে।বলুন কি শর্ত??

আর্য বলে এক নম্বর শর্ত হলো এই মুহূর্ত থেকে আমার আর্য বলে ডাকতে হবে।।ওসব SIR বললে আমি ছাড়বো না তোমায়।।আর দু নম্বর হলো আমায় খুব আদর করে দিতে হবে এক্ষুনি।।আমার চোখে কপালে গালে গলায় বুকে আর সব শেষে ঠোঁটে কিস দিলে তবেই আমি ছাড়বো।।আর যদি না করো এই শর্ত গুলো পালন তাহলে আমি যেমন ধরে আছি ধরে থাকবো।

সাগর হা করে তাকিয়ে থাকে।আর্য বলে ওসব তাকিয়ে লাভ নাই।যেটা বললাম সেটা ভালোএ ভালো এ করে দাও।।নাহলে

সাগর বলে দেখুন SIR এক নম্বর তা নাহয় ঠিক আছে কিন্তু দু নম্বর তা খুব খুব কঠিন।এরকম একটা জায়গায় ওসব!!

আর্য বলে ওসব মানে??ওসব বলতে তুমি কি বলতে চাইছো সাগর??আমি কিন্তু বেশি কিছু বলিনি।তুমি যেসব চাইছো সেসব করতে ইচ্ছা নাকি??

সাগর বলে ধুর আপনি না খুব বাজে হয়ে গেছেন।আমি কি সেসব বললাম নাকি??আমি তো শুধু বললাম যে দু নম্বর টা খুব কঠিন শর্ত।এখন যে আদর দেব কেউ যদি এসে যায়।

কেউ আসবে না।।তুমি তাড়াতাড়ি করে আদর দিয়ে দাও।।তাহলে আমিও ছেড়ে দেব ব্যাস।।

সাগর খুব লজ্জা পায়।আর্য বলে তুমি যত দেরি করবে তত আমারও ছাড়তে দেরি হবে।

সাগর বলে ওকে আমি দিতে পারি তবে আপনাকে একটা শর্ত মানতে হবে।বলুন মানবেন?

আর্য বলে আগে কথা তা শুনবো তারপর মানব।।যদি সেরকম কোনো শর্ত হয় তাহলে আমি মানতে পারবো না।

সাগর বলে ওকে তাহলে শুনুন আমি যখন আপনাকে আদর দেব তখন আপনাকে চোখ বুজে থাকতে হবে।আপনি তাকিয়ে থাকলে হবে না।লজ্জা লাগে আমার।

আর্য বলে তাই চোখ বন্ধ করতে হবে।এ আর এমন কি ব্যাপার??তোমার আদর খেতে লাগলে আমার এমনি চোখ বুজে যাবে।

সাগরকে আর্য টেনে নেয় আরো কাছে।।চেপে ধরে বুকের মাঝে।সাগর প্রথমে আর্যর কপালে চুমু দেয় তারপর একে একে গাল,, চোখ,,গলায় বুকে চুমু দেয়।এবং সব শেষে আর্যর ঠোঁটে দেবার জন্য এগোয়।

যেই না ঠোঁটে ঠোঁট টা রাখতে যাবে অমনি আর্য সাগরের ঠোঁট টা টেনে নেয় নিজের ঠোঁটে র মধ্যে।কতক্ষন এভাবে ছিল তারা জানেনা।হুশ ফেরে দরজায় শব্দে।কেউ দরজায় টোকা দেয়।

আর্য ঠোঁট তা ছেড়ে দেয়।সাগর আর্য কে ছাড়িয়ে উঠে যায়।আর্য বলে ভিতরে আসুন

অনিমেষ ভিতরে আসে।বলে SIR আপনার বাড়ির লোক এসে গেছে।আর 3 মিন পরই গাড়ি থামবে।তাই ম্যাডাম কে বলতে এলাম যে ম্যাডাম যেন SIR এর ঘরে চলে যায়।

আর্য বলে হ্যা তুমি ওকে নিয়ে যাও।

আর্য সাগর কে বলে তুমি অনিমেষের সাথে গিয়ে বসো।আমি যতক্ষন না বলবো তুমি আসবে না।কোনো ভাবেই যেন ওর তোমায় না দেখে।

সাগর বলে একটা কথা বলবো তুমি রাখবে আমার কথা।

আর্য বলে হম্ম বলো।

সাগর বলে তোমাকে আমার দিব্বি।তুমি কোনোভাবেই ওদের সাথে কোনো বাজে ব্যাবহার করবে না।আমি যেন না শুনি।

আর্য বলে তুমি এরকম বলছো সাগর।ওরা তোমায় এত অপমান করেছে আর তুমি সব ভুলে গিয়ে বলছো আমায় চুপ থাকতে।

হ্যাঁ বলছি।তুমি বলবে না ব্যাস।আমি যদি শুনি তুমি বাজে ভাবে কথা বলছো ওদের সাথে তাহলে আমি আর তোমার সাথে কথা বলবো না।

আর্য চোখ ঘুরিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে।বলে উফফ কেন তুমি এরকম বলছো??ওকে তুমি এখন যাও আমি ভেবে দেখবো??

সাগর উঠে দাঁড়িয়ে বলে ভেবে দেখবো না।তুমি বলবে না।আমি বলে গেলাম।আর যদি বলো না তাহলে দেখো কি করি আমি??

আর্য সাগরের দিকে তাকিয়ে বলে আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি যাও।কখন চলে আসবে।আমার টেনশন হচ্ছে।

অনিমেষ পিচিনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে।আর্য দেখে সেটা।।অনিমেষ কে আর্য বলে কি হলো??ওরকম ভাবে বোকার মতো হাসছো কেন??

অনিমেষ বলে SIR যা বলছে চুপ করে শুনে নিন।বউ এর কথা না শুনলে মহা বিপদ।হেশর ফেলে অনিমেষ।

আর্যও হেসে ফেলে।বলে আচ্ছা বাবা।ঠিক আছে।তুমি এখন ওকে নিয়ে যাও।আর সাগর তোমরা দুজন কিছু খাও।সাগর কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু আর্য থামিয়ে দেয় সাগর কে।বলে আমি যেটা বললাম সেটা করো।গিয়ে আগে ক্যান্টিন থেকে কোনো খাবার অর্ডার করে খেয়ে নাও তোমরা।না খেয়ে থাকবে না ওকে।।যাও।

সাগর বলে তুমি সাবধানে থাকবে।আৰ্য মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে।সাগর হাতে কিস করে।সাগর চলে যায়।

কিছুক্ষন পর আর্যর SIR নিয়ে আসে আর্যর বাবা মা দিদি কে।।ঘরে ঢুকেই আর্যর বাবা মা আর্যর কাছে এসে বলে বাবা তুই কেমন আছিস??কি করে হলো তোর এমন??খবর তা সোনার পর থেকে তোকে না দেখে থাকতে পারছিলাম না।তোর কত কষ্ট হয়েছে বাবা।আর্য মা কান্নায় ভেঙে পড়ে।।ওর বাবাও আর্যর হাত ধরে বসে থাকে।আর্য চুপ করে মাথা নিচু করে আছে।।আর্যর খুব খারাপ লাগছে বাবা মা কে এইরকম ভাবে কাঁদতে দেখে।কিন্তু দিদি সামনে আছে তাই কিছু বলছে না।

আর্য দিদি কিছু ক্ষণ পর বলে আচ্ছা ভাই তোর ওই অনিমেষ কোথায় গেল??তাকে দেখছি না যে??

আর্য বলে সে কি সবসময় আমার মুখের গোড়ায় বসে আমার মুখ দেখবে??তার অন্য কোনো কাজ নাই নাকি??অবান্তর প্রশ্ন করবি না দিদি।

দিদি বলে অবান্তর প্রশ্ন কোথায় করলাম??তার তো উচিত তোর সামনে থাকা।যার জন্য খেতে পারছে।তার পাশে থাকবে না।এরকম লোককে আমি হলে দূর করে দিতাম।

আর্য বলে দেখ দিদি আমার এখন কথা বলার কোনো ইচ্ছা নাই।তাও বলছি তুই না জেনে আর একটাও কথা বলবি না।ওকে।এসেছিস যখন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকক আর নাহলে বেরিয়ে যা রুম থেকে।

আর্যর দিদি মুখ বেকিয়ে চুপ করে যায়।আর্যর মা আর্যর দিদিকে বকে উফফ পারমিতা তুমি একটু চুপ করো।।দেখছো ভাই এর এই অবস্থা।

আর্যর বাবা বলে পারমিতা তুমি এত বড় হয়েছ বয়স তা তো কম হলো না।।নিজের স্বভাব তা বদলাও এবার।প্লিজ।।

আর্য বলে বাবা মা তোমরা কেন এলে বলো তো এখানে??আমাকে বিরক্ত করার জন্য??

আর্যর বাবা বলে আর্য তোমার এত বড় বিপদ আর আমরা আসবো না।তোমার মার অবস্থা টা দেখছো।কত টা ভেঙে পড়েছে দেখো।

আর্য বলে যদি আসতে তো দুজন এলে না কেন??দিদি কে কেন নিয়ে আসতে গেলে??

দিদি বলে হ্যাঁ আমি তো শত্রু।তোর বউয়ের নামে বলেছি বলে তোর এত রাগ?এমন করছিস যেন ও কি এমন মেয়ে??এরকম মেয়ে যেন আর পাবি না তুই??

দেখ দিদি একদক ফালতু বকবি না আমি বারণ করছি কিন্তু??চিৎকার করে ওঠে আর্য।

আর্যর SIR এতক্ষন চুপ করে শুনছিলো।এবার উত্তর দিলো SIR।।

দেখো পারমিতা তুমি নিশ্চই বুঝতে পারছো যে এখন তোমার ভাইয়ের অবস্থা কেমন??এখন কি এসব কথা বলার সময়??তুমি এত শিক্ষিত একটি মেয়ে হয়ে এরকম কাজ করো কেন??

দিদি বলে হম্ম বুঝেছি সত্যি কথা বললেই দোষ।ঠিক আছে।আমি এখানে থাকলে তো সবার প্রবলেম আমি চলে যাচ্ছি।বাবা মা তোমাদের হয়ে গেলে চলে এসো।আমি গাড়িতে ওয়েট করছি।

বেরিয়ে যায় আর্যর দিদি।আর্যর বাবা হাত জির করে এসে আর্যর SIR এর সামনে।বলে আপনি কিছু মনে করবেন না আলোকবাবু।ও এইরকমই।ওকে অনেক বোঝাই কিন্তু যেই কি সেই।আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে।

আরে আরে করছেন কি??আমি জানি।আপনি এভাবে আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন না।এখন আপনারা ছেলের পাশে থাকুন।তাহলেই হবে।আমি যাই একটু চেম্বারে।
আর্য অন্যদিকে তাকিয়ে বসে থাকে।আর্যর বাবা আর্যর পাশে এসে বসে।বলে আর্য একটা কথা বলবো।।

আর্য কোনো কোথায় সারা দেয় না।

আর্যর বাবা বলে বৌমা কোনো খবর দেওয়া হয়েছে??

আর্য বলে ওকে নিয়ে তোমাদের কাউকে ভাবতে হবে না।

আর্যর মা বলে 100 বার ভাববো আমরা।আমার ছেলের যেটায় ভালো হবে আমাদের তো সেটা নিয়ে ভাবতেই হবে।

আর্য বলে তাই নাকি??যদি এতই আমায় নিয়ে চিন্তা করো তো সেদিন সবাই মিলে আমায় কেন মিথ্যে বুঝিয়েছিলে।আমি জানি আমি খারাপ।কিন্তু তোমরা তো আমায় বকতে পাড়তে।মারতে পারতে।কিন্তু সেটা না করে তোমরা দিদির কথা।মতো আমার কান ভাঙিয়ে ওকে বাড়ি থেকে বার করে দিলে।তোমরা এখনো ওই বাড়ির মাথা।কিন্তু তোমরা একবারও আমাদের শাসন করোনি।কারণ যেহেতু সাগর পরের বাড়ির মেয়ে তাই ওকে আগে দোষ দিয়ে বাড়ি থেকে বার করলে।আর আমাদের ভালো করে দিলে।

আর্যর বাবা বলে দেখো আর্য আমরা সত্যিই খুব দুঃখিত।আমরা সত্যিই ওকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।আমাদের উচিত হয়নি এরকম ভাবে ওকে বার করে দেবার।

অন্য বিচার গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




আর্যর মা বলে একবার কি ভুল শুধরে নেওয়া যায় না আর্য??যা হয়েছে সব ভুলে গিয়ে আবার কাছে টেনে নেব আমরা আমাদের মেয়েকে।ক্ষমা চেয়ে নেব।

আর্য ভাবছে কি যে বলি।উফফ বলতে তো পারছি না।যে সাগর এখানে আছে।কি যে করি।মিথ্যে বলার অভ্যেস নাই।। কি বলি।

আর্যর মা বলে বাবা শোন না।একবার ওকে ফোন করে খবর দিলে কেমন হয়??

আর্য ভাবে এই রে হয়ে গেল।।যে ভয় টা পাচ্ছিলাম সেটাই এসে হাজির।এক্ষুনি ফোন করলে সব শেষ।না কিছু একটা বলতে হবে।

আর্য বলে না মা।।ওকে ফোন করার কি দরকার।কোনো দরকার নাই।আমি সুস্থ হয়ে যাই তারপর খবর দেব।

আর্যর বাবা বলে কখনো না।বিপদ হয়েছে এখন আর খবর দেব সব সেরে গেলে।কি ভাববে বলো তো??না না।আমি ভোর হলেই ওর বাড়ি তে একটা ফোন করবো।খবর দেব।আমি জানি ও এখনো তোমার এরকম বিপদ শুনলে ছুটে আসবে।

আর্যর মা ও বলে হ্যাঁ হ্যাঁ তুমি ভোর হলেই আগে ফোন করবে।ওকে খবর দেবে।

আর্য ভাবে উফফ সব শেষ।কি বলি??বলছে ফোন করবে।ভোর তো হতে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি।না না কি বলে আটকাই।সত্যি কথা টা কি বলে দেব??না বলেই বা উপায় তো কিছু দেখছি না।উফফ।না বলতে সব হবে।

আর্য বলে বাবা মা।তোমাদের সাথে একটা জরুরি কথা আছে।

আর্যর বাবা বলে জরুরি কথা।কি কথা??

আর্য বলে আমি তোমাদের মিথ্যে বলেছি।।তোমাদের ওকে খবর দিতে হবে না।আমি জানি না তোমরা কথা টা সোনার পর কেমন ভাবে নেবে।কিন্তু আমি অশান্তি র ভয়ে কিছু বলিনি এতক্ষন

আর্যর বাবা মা বলে তুমি নির্দ্বিধায় বলতে পারো আর্য।কোনো ভয় নাই।

আর্য বলে তোমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আমি হোস্টেল এ থাকি।আর তখন আমি মনে করি যে সাগরের থেকে ক্ষমা চাওয়াটা খুব দরকার।তাই আমি তখনই সাগরের বাড়ি যাই।শুনি ও নাকি একটা কাজ পেয়েছে SUNFLOWER নার্সিংহোমে।আমি তখনই ওই নার্সিংহোমে গিয়ে সাগরের সাথে দেখা করি।কিন্তু ও আমায় দেখে অনেক রকম কথা বলে।আমায় চলে যেতে বলে।আমি তাও হাল ছাড়িনি।ও যে নার্সিংহোমে কাজ করে সেই মালিকের থেকে কথা বলে আমি নার্সিংহোম কেনার ব্যাবস্থা করি।এবং কিনেও ফেলি।সাগর কিচ্ছু জন্য না প্রথমে।।কিন্তু উদ্বোধনের দিন জানতে পারে।এবং ও কাজ ছেড়ে দিতে চায়।আমি ওকে নানা কোথায় আটকে দি।তারপর অনেক কথা হয় আমাদের।আমি আর না পেরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি নিজেকে শেষ করে দেব বলে।আর তার আগেই গাড়ি ব্র্যাক ফেল করে ল্যাম্পপোস্ট এ ধাক্কা খাই।আর তারপর কিছু মনে নাই।

আর্যর বাবা মা বলে ও তারমানে সেই উদ্বোধনের দিন টা কাল ছিল তাই তো।।

আর্য বলে হ্যা বাবা।আর সাগর আমার এরকম বিপদ শুনে ছুটে আসে।এবং ও এখন এখানেই রয়েছে।আমি ওকে সরিয়ে দিয়েছি।কারণ আমি জানি ও যদি এখানে থাকতো তাহলে আবার ওকে নানা রকম বাজে কথা শুনতে হতো।তাই ওকে আমি SIR এর ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছি।

আর্যর বাবা মা অবাক হয়ে যায়। বলে তুমি এতক্ষন চেপে ছিলে আমাদের থেকে।।আমাদের বৌমা তাহলে আমাদের সাথেই আছে আর সেটা তুমি আমাদের এতক্ষন আমাদের বলোনি??

কারণ টা তো বললাম বাবা।কেন বলিনি ও আছে এখানে??

আর্যর মা বলে কোথায় আছে আমাদের বৌমা আমি এক্ষুনি যাবো তার কাছে।আর্যর বাবা বলে হ্যাঁ ঠিক বলেছ চলো চলো আমরা এক্ষুনি ওর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবো।

আর্য বলে না দিদি আছে এখানে।জানতে পারলে এক্ষুনি ওকে গিয়ে যা তা বলবে।।প্লিজ না মা।

আর্যর বাবা বলে আমি তোমায় কথা দিচ্ছি আর্য ওকে কেউ কথা শোনাবে না।

আর্য ছটফট করতে থাকে।আর্যর বাবা মা উঠে যায়।আর্য বলে তোমরা দাঁড়াও।আমি ওকে ডাকছি।।

নার্স কে ডাকে আর্য।বলে সাগরিকা কে ডেকে দিতে।

নার্স গিয়ে ডেকে আনে সাগরকে।সাগর ঘরে ঢুকেই দেখে আর্যর বাবা মা।সাগর ভয় পেয়ে যায়।। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।।

আর্যর বাবা মা সাগরের কাছে যায়।বলে আমাদের ক্ষমা করো মা বলে হাত জোড় করে।।সাগর বলে একি কি করছেন??এরকম করবেন না আমার পাপ হবে।আপনারা আমার বাবা মা।তাই আপনারা আমার সামনে হাত জোড় করবেন না।সাগর পায়ের কাছে বসে পড়ে দুজনের।বলে আপনারা ক্ষমা করুন আমায়।আপনার ছেলের আজ আমার জন্য এত বড় ক্ষতি হয়েছে।আপনারা আমায় ক্ষমা করুন।।

আর্যর বাবা মা বলে কি করছো মা??আমরা ভুল বুঝেছি তোমাকে।।ওঠো।।সাগরকে বলে তুমি আর কেঁদো না।সব কিছু ভুলে আবার নতুন করে সব শুরু হবে। আমরা তোমাকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোমার বাড়িতে নিয়ে যাবো।

আর্য বলে না মা।ও যাবে না ওই বাড়ি।আমি যাব না ওকে ওই বাড়ি নিয়ে।কারণ ওই বাড়ি নিয়ে গেলেই আবার ওকে অপমানিত হতে হবে।না মা।আমি যাব না ওকে নিয়ে।।আমি আমার ফ্লাটে নিয়ে থাকবো।।তোমরা চাইলে আমাদের সাথে থাকবে।কারণ সবই তোমাদের ।।কিন্তু ওই বাড়িতে আরো যারা আছে তাদের নিয়ে আমি থাকতে পারবো না।আর্যর বাবা বলে ঠিক আছে।তোমায় এই বাড়িতে থাকতে হবে না।তুমি বসপুকুরে যে ফ্লাট আছে সেই ফ্লাট এ থাকবে।আমি তোমায় চাবি দিয়ে দেব কাল।কিন্তু একটা কথা।।আমাদের একটা শর্ত আছে সেটক তোমায় মানতে হবে।

আর্য বলে শর্ত??আবার কি শর্ত??

আর্যর মা বলে আমাদের মেয়েকে তো আমরা প্রথম বার ঠিক করে যত্ন করে ঘরে তুলিনি।হয়তো জাঁক জমক সবই ছিল।কিন্তু ভালোবাসা ছিল না।তাই আমরা ঠিক করেছি আমাদের মেয়েকে এবার আমরা মালক্ষীর মতো সাজিয়ে আমাদের ঘরে প্রবেশ করাবো।।তাতে কিন্তু আমরা কারোর কথা শুনবো না।

সাগরকে আর্যর মা বলে কি মা??তুমি আমাদের ক্ষমা করেছ তো??

সাগর বলে ক্ষমা আপনারা করবেন আমায়।আমি এই টুকু বিস্বাস রাখি আপ্নারকে আমার বাবা মা হয়ে কখনো কোনো ভুল করবেন না,,আর করতে পারেন ও না।

আর্যর মা জড়িয়ে ধরে সাগরকে।সাগর ওর বাবা মা কে প্রণাম করে।অনিমেষ এতক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল ঘরে এসে।আর অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।এবার অনিমেষ হঠাৎ করে খুব জোরে হাততালি দিয়ে উঠলো।।

আর্যর বলে আরে কি করছো অনিমেষ??এসব কি??হাততালি দিচ্চ কেন??

SIR এই আনন্দে তো বাজি ফাটানোর মতো সুবিধা নাই।তাই হাততালি দিয়ে এই সময় তাকে সেলিব্রেট করছি।আমি জীবনে এরকম সময় কখনো দেখিনি তো??তাই দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।ম্যাডাম আর আপনাকে এবার একসাথে দেখলেই খুব ভালো লাগবে।আর সেই জন্য আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন SIR।আর সেই সঙ্গে তো অনেক ভালো ভালো খাওয়া।উফফ ভেবেই যেন স্বর্গসুখ অনুভব করছি।।

সবাই হাসে।আর্য বলে হ্যা সেটার প্রিপারেশন নাও এখন থেকে।বৌদি কে বলো এখন থেকে সাজুগুজু শুরু করতে।আর সেই সঙ্গে যেন আমার টাকে একটু সঙ্গে নেয়।সাজিয়ে দেয়।কারণ ও তো একটুও সাজে না।তাই। এই বলে সাগরের দিকে তাকায় আর্য।সাগর আর্যর দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নেয়।।

অনিমেষ বলে SIR আপনি যাই বলুন আমার গিন্নির মতো সাজের কম্পিটিশনে কেউ জিততে পারবে না।।আমি আপনার সাথে কোটি টাকার বাজি ধরলাম।

সবাই হেসে ওঠে।আর্যর বাবা বলে অনিমেষ ওরা তো ছোট একটু সাজুগুজু তো করবেই বলো।।

অনিমেষ বলে হ্যাঁ SIR সেই করতে গিয়ে আমার পকেট ছোট হয়ে যাচ্ছে।

আর্য বলে অনিমেষ আমি সব কথা রেকর্ড করে রেখেছি।এবার আমি বৌদি ফোনে সেন্ড করে দিচ্ছি ওকে।।

অনিমেষ বলে ওরে বাবা SIR।।আমি আপনার দাস হয়ে থাকবো।।আপনি এমকয় দুটো গালাগালি দিন তবু ভালো এরকম বিপদে ফেলবেন না SIR।।তাহলে আমার বাড়ি ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে।

সবাই হাসে।আর্য র বাবার ফোনে ফোন আসে।দিদির ফোন।।ফোন ধরে বলে হম্ম তুমি আর 5 মিন ওয়েট করো।আমরা আসছি।ফিন কেটে দিয়ে আর্যর বাবা বলে আমরা যাই।আবার ফ্রেশ হয়ে আসবো।

আর্যকে জড়িয়ে ধরে বাবা  বলে তুমি আমাদের প্রাণ আর্য।তোমায় ছাড়া আমরা বাঁচবো না।তোমাদের কাউকে ছাড়াই বাঁচবো না।কারণ তোমরা প্রত্যেকে আমার সন্তান।কাউকে ছেড়ে থাকা সম্ভব না।কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে আমাদের অনেক মতামত বদলাতে হয়।জামিন তোমার দাদা বিদেশ থাকে।সে বলেছে আর কোনোদিন এদেশে আসবে না।আমরা মেনে নিয়েছি।ও সুখে থাকলে আমরাও সুখী।ঠিক তেমনি তোমরা সুখে থাকলে আমরা সুখী।।ভুল বুঝ না আর্য।তুমি যখন বাবা হবে আর্য তখন বুঝবে বাবা মা র জ্বালা।সন্তানকে ছাড়া থাকা কত টা কষ্ট।

আর্যও জড়িয়ে ধরে বলে সরি বাবা।সরি মা।।আমি ইচ্ছা করে করিনি কিছু।কিন্তু আমি নিজের চোখের সামনে অন্যায় টা দেখেছি এবং অন্যায় করেছি তাই সেটা শুধরে নিলাম।

আর্য মা বলে আমি জানি বাবা।তোমরা আমাদের সন্তান তো।তোমাদের সুখ মানেই আমার সুখ।ভালো থেকো বাবা।।সুস্থ্য থাকো।

আর্যর বাবা বলে এবার চলো।।নাহলে ওদিকে আবার চিৎকার শুরু হয়ে যাবে।চলো।আর্য মা আর্য আর সাগরকে আদর করে সাগর আর্যর বাবা মা কে প্রণাম করে।।বাবা মা চলে যায়।

অনিমেষ বলে SIR আমিএক্টু আসছি।।SIR ডাকছে।এই বলে অনিমেষ বেরিয়ে যায়।

আবার সাগর ও আর্য একা।আর্য ইশারায় সাগরকে পাশে এসে বসতে বলে।সাগর বলে না আমি তোমার পাশে আর বসবো না।তুমি এক্ষুনি আবার শুরু করে দেবে।।

আর্য বলে শুরু করবো মানে??কি শুরু করবো??

সাগর বলে উফফ জানি না।আমি বসবো না।তারপর আর ছাড়বে না আমায়।কেউ এসে গেলে খারাপ ভাববে।

আর্য বলে ও আমি ভাবলাম কি আবার শুরুর কথা বলছো??আচ্ছা শুরু করতে গেলে তো আগে একটু!!☺️☺️

সাগর বলে তুমি একটু চুপ করবে কি??কেউ যদি চলে আসে খারাপ ভাববে।।ধুর।খালি বাজে কথা বলে।

আর্য বলে তুমি আগে আমার পাশে বস তো।ভালো লাগে না।।

সাগর গিয়ে বসে আর্যর পাশে।আর্য আবার ওকে জড়িয়ে ধরে।।সাগর বলে এই জন্য আমি বসেছিলাম না জানো তো??

আর্য বলে আচ্ছা আমরা কবে শপিংয়ে যাবো??

সাগর বলে তুমি যতক্ষন না একদম সুস্থ হবেন ততক্ষন আমি যাব না।।আগে SIR বলবে তুমি একদম ফিট তারপর সব হবে।

মানে??না না।।ওসব মানছি না মানব না।আমি আর কতদিন ওয়েট করবো হ্যাঁ।।এমনিই এতদিন ওয়েট করেছি।।উফফ।।কোথায় একটু বউকে জড়িয়ে ধরে সব।একটু দুস্টু করবো।একটু ইয়ে করবো।কিছুই হচ্ছে না।।আমি আর বেশি ওয়েট করতে পারবো না।বাবা মা কে বলবো তাড়াতাড়ি করতে সব ঠিক।।

সাগর বলে উফফ তুমি এরকম হ্যাংলার মতো কেন করছ বল তো??যেন আর পাবে না।।বলছি তো তুমি সুস্থ হলে সব হবে।।

না না।আমি আর পারছি না।আমি বলবো ব্যাস।।এই শোনো আমাএকটু আদর দেবে।।খুব ইচ্ছা করছে।প্লিজ

সাগর বলে আবার??আমি আর দেব না।।এক্ষুনি কেউ এসে গেলে।

আরে কেউ আসবে না।।দাও না।।প্লিজ।।এতবার চাইছি একবার।একটি খানি।।প্লিজ।।প্লিজ।।দাও না।আমি চাইছি।।একটা অসুস্থ্য পেশেন্ট আমি।এরকম করে কষ্ট দিতে নাই।প্লিজ।

সাগর বলে ওকে আমি দেব।কিন্তু আপনাকে আগে একটু ঘুমোতে হবে।অনেক্ষন আগে সিস্টার বলে গেছে যে আপনাকে ঘুমোতে।আপনি শোনেনি।

আর্য বলে ওকে ঘুমাচ্ছি।।আগে দাও তাহলে।তারপর।।

ব্রোকেন ওয়াচ গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সাগর বলে আপনি চোখ বুজুন।ঘুমোনোর চেষ্টা করুন।।

আর্য চোখ বজে।সাগর ওর কপালে চুমু দেয়।চুলে হাত দিয়ে হাত বুলিয়ে দেয়।আর্য বলে না না।।শুধু কপালে না।আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটে দেখায়।সাগর বলে ওকে।আপনি ঘুমান।।সাগর ঠোঁটে চুমু দেয়।আর্যও ওকে আবার টেনে নিয়ে গভীর ভাবে চুমু দেয়।

5 দিন পর আর্য কে ছাড়ে।আর্যর বাবা মা ঠিক করে সাগরের বাড়িতে গিয়ে আর্য থাকবে।সাগরের বাবা মাও খুব খুশি মেয়ের সুখে।

আর্যর বাবা মা আর সাগরের বাবা মা বিয়ের দিন ঠিক করে।মাঘ মাসে একই দিনে আবার আর্য আর সাগরের বিয়ে ঠিক হয়।।কিন্তু তার আগে রেজিস্ট্রি করে নেবে বলে ঠিক হয়।।কেনাকাটা হয়,, লোক নেমন্তন্ন হয়।।তার মধ্যেই একটা শুভ  দিনে দুজনের রেজিস্ট্রি হয়।অনেক হইহুল্লোড় খাওয়াদাওয়া হয়।তারপির বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়।সব জোগাড় করতে করতে বিয়ের মাস এসে যায়।

বিয়ের দিনও দেখতে দেখতে চলে আসে।নিওম মাফিক দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ দুজনের।।বিয়ের আগে দেখা করতে নাই😭😭

বিয়ের দিন আসে।সকাল থেকে নানারকম আচারবিধি পালন হয় দুজনের।বিয়ের লগ্ন আসে।সাগরকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।দারুন লাগছে সাগরকে।এদিকে আর্যাকেও বড় এর বেশে হ্যান্ডসম লাগছে।।

আর্য আসে।।বরণ করে ভিতরে নিয়ে যায়।শুভ দৃষ্টির সময় আসে।সাগরকে নিয়ে আসা হয়।পানপাতায় মুখ ঢাকা সাগরের।

আর্য এক ভাবে তাকিয়ে আছে সাগরের দিকে।পানপাতা সরিয়ে শুভ দৃষ্টি হয় দুজনের।মালাবদল হয়।তারপর অবশেষে সিঁদুর দান।

পরিবারের সবাই বাসর জাগে।পরের দিন চলে যায় সাগর।মেয়ে বিদায়ের যন্ত্রনা তো আমার লেখায় আমি বলতে পারবো না।।চোখের জলে সাগর বিদায় নেয় বাবা মার থেকে।কিন্তু এক বাড়ি ফাঁকা করে অন্য বাড়ি আলো তো মেয়ে রা করে।

আর্যর ফ্লাটে গিয়ে ওঠে সাগর।বরণ করে ঘরে নিয়ে আসার সাগরকে।আজকে আবার কালরাত্রি।মুখ দেখা যাবে না।।আর্য তো ছটফট করছে।।নিজের বাড়িতে থেকে বউয়ের মুখ দেখা বারণ।এ আবার কেমন নিওম হ্যা??কে এই নিয়ম বার করেছিল??তাকে যদি আমি পেতাম খুব মারতাম।।😡😡

আর্য তাও খুনসুটি করে সাগরের মুখ দেখার চেষ্টা করে।।কিন্তু পরিবারের ছোট রা তো খুবই চালাক।গার্ড দিয়ে রেখেছে তাদের নতুন বন্ধুকে।সাগরের খুব ভাব হয়েছে পরিবারের ছোটদের সাথে।

পরের দিন বৌভাত।সকাল থেকে স্নান সেরে ভাত কাপড় এর আয়োজন।ভাত কাপড়ের সময় আর্য প্রতিজ্ঞা করলো সাগরের কাছে আজ থেকে খাওয়া,,জামাকাপড়,,সিনেমা,,সাজ,,মোবাইলে রিচার্জ,,ঘুরতে যাওয়া,,সংসারের কাজ,,সব কিছুতে আমি তোমার পাশে থাকব,,তোমাই সাহায্য করব।সাগর তো লজ্জা পাচ্ছে।।বলছে কি এসব??সত্যি এবার মাথা টা গেছে!!☺️☺️

হৃদয়ে মোহনা গল্পটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।




বিকেলে অনুষ্ঠান হচ্ছে বোরো করে।ব্যাংকুয়েট ভাড়া করেচে আর্য।অনেক লোকজন।সব শেষে ফুলশয্যা।আর্যর ঘর সাগরের পছন্দের ফুল দিয়ে সাজানো।সাগর আগে থেকেই ওই ঘরে ছিল।।সঙ্গে ছোট রা।আর্য ওই ঘরে যেতেই সবাই বেরিয়ে গেল মজা করে।।আর্য দরজা দিয়ে সাগরকে আসে জড়িয়ে ধরলো।

সাগরও জড়িয়ে ধরলো আর্যকে।আর্য দেখলো সাগরের চোখে জল।আর্য বললো কাঁদছো কেন??

সাগর বললো আনন্দে।তোমায় পেলাম সারাজীবনের মতো।খুব ভয় হয়েছিল তোমায় হারিয়ে ফেলে।আবার তুমি আমার জীবনে এসে সেই ভয় কাটিয়ে দিলে।

আর্য বলে তুমি আমার জীবনে অনেক কিছু বদলে দিয়েছো।তোমায় পেয়ে আমি খুব খুশি।।শুধু এই জন্মে না সাত জন্মে তোমার মত সঙ্গী চাই আমার।।সাগর বলে আমিও তোমার মত সঙ্গী কে হাজার হাজার জন্ম চাই।আর্য বলে সাগর তুমি চোখ বজ।সাগর চোখ বুঝতেই তাকে পরিয়ে দেয় একটা আংটি।।সাগর জড়িয়ে ধরে আর্যকে কিস করে।বলে আমার তো কিছু নাই তোমাকে দেবার মত।।তাই এটা দিলাম

আর্য বলে কি নাই??আছে তো তোমার কাছে।।আমি এক্ষুনি নেব এই বলে আর্য সাগরকে খুব আদর করতে থাকে।সাগরও আর্য কে নিয়ে সেই সুখ অনুভব করে।সারাজীবন সুখী থাকার অনুভব সেটা।❤️❤️

প্রার্থনা করি আর্য আর সাগর যেন হাজার হাজার বছর সুখী হয়।সুন্দর জীবনে নতুন ভাবে বাঁচুক।সন্তানকে নিয়ে সুখী থাকুক।

আমার গল্পটি শেষ হলো।।*******

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 5   Average: 4.2/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।