আয়না

আয়না

#আয়না

#অনন্যা সেন

 

জ পীযুষ খুব জোড় বাঁচান বেঁচে গেছে.তবে সেই ছোট বাচ্চা ছেলেটার জন্য তার একটু মায়াও হচ্ছে. -“ইস যদি ওরম ভাবে ছেলেটা গাড়ির সামনে না এসে পড়তো তাহলে এইভাবে মরতে হতোনা.” অফিস থেকে ফেরার পথে পীযুষ গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলো.তখন রাস্তায় একটা ছোট বাচ্চা খেলতে খেলতে তার বলটা রাস্তার দিকে চলে যাওয়ায় বাচ্চাটা দৌড়ে দৌড়ে অজান্তেই কখন রাস্তার মাঝখানে পীযুষের গাড়ির সামনে এসে পড়েছিল বাচ্চাটা সেটা দেখতে পায়নি.অবশেষে পীযুষের গাড়ির ধাক্কায় বাচ্চাটা সেখানেই মারা যায়.প্রাথমিকভাবে পীযুষ খুব ভয় পেয়ে যায় .ভাবলো যে পুলিশকে জানাবে কিনা.তারপরেই তার মনে হলো যে বাচ্চাটা মরে যাওয়ার জন্য আবার তাকেই না লকআপে ঢোকায় পুলিশ.তখন রাস্তার চারদিকে একবার ভালো করে দেখে নিলো পীযুষ যে তাকে কেউ দেখে ফেলেছে কিনা তারপর একবার উপর দিকটা দেখে নিলো যে রাস্তায় কোনো সিসিটিভি আছে কিনা.তারপর বাচ্চাটার সেই রক্তাত্ব মৃত শরীরটা সেখানে ফেলে গাড়ি চালিয়ে রাতারাতি পীযুষ সেখান থেকে চম্পট দিয়েছিলো. বাচ্চাটার জন্য হালকা আফসোস করে এবার ঘরের এসি টা অন করে পীযুষ এবার ঘুমানোর চেষ্টা করলো.এরপর আসতে আসতে পীযুষের চোখ লেগে গেলো.




এরপর পীযুষ তার স্বপ্নে একটা ছায়ামূর্তি দেখতে পেলো.চারিদিক ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন আর ছায়ামূর্তিটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে পীযুষের দিকে.এরপর যখন ছায়ামূর্তিটা পীযুষের একদম সামনে এসে দাঁড়ালো পীযুষের সারাশরীর বিদ্যুতের মতো চমকে উঠলো.ছায়ামূর্তিটা দেখে পীযুষ আঁতকে উঠলো. আরে…এ কি ?এ তো সেই বাচ্চাটা. বাচ্চাটার মাথার একটা দিক থেঁতলে গেছে সেখান থেকে রক্ত বেরিয়ে বাচ্চাটার শরীরটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে.সেই বাচ্চাটার পরনের সাদা স্যান্ডো গেঞ্জিটা সেই রক্তে লাল হয়ে গেছে.উফফ কি ভয়ঙ্কর বাচ্চাটার দৃষ্টি.এক অদ্ভুত হিংস্র দৃষ্টিতে ঠোঁটে এক মারাত্মক পৈশাচিক হাসি নিয়ে বাচ্চাটা আরও যেন পীযুষের কাছে এগিয়ে আসছে.পীযুষের সারাশরীর এবার দরদর করে ঘামছে.গলা শুকিয়ে আসছে.




বুকের বামদিকটা পীযুষের হঠাৎ চিনচিন করে উঠলো.বুকটা তার বামহাত দিয়ে সজোড়ে চেপে সেই ছেলেটার পৈশাচিক রূপের দিকে দেখতে দেখতে মাটিতে পরে গেলো পীযুষ. এরপর ঘুম টা ভেঙে গেলো পীযুষের.চোখ খুলে তার ঘরের সিলিং ফ্যানের দিকে নজর যেতে খানিকটা শান্তি পেলো. -“যাক বাবা স্বপ্ন ছিল.উফফ কি মারাত্মক ভয় পেয়েছিলাম.আমিও বলিহারি একটু বেশিই ভাবতে শুরু করেছিলাম ছেলেটাকে নিয়ে.ঐজন্যই হ্যালুসিনেশন হলো বোধহয়.এত ভয় পাওয়ার কোনো মানেই হয়না.আমি কি ইচ্ছে করে মেরেছি নাকি বাচ্চাটাকে?নিজেই তো না দেখে আমার গাড়ির সামনে এসে গেছিলো.” মনে মনে কথা গুলো ভেবে নিজেই পীযুষ নিজেকে সান্তনা দিলো.গলাটা শুকিয়ে গেছে তাই ড্রেসিং টেবিলের কাছে রাখা জলের জগটা আনতে গেলো সে.ড্রেসিং টেবিলের কাছে গিয়ে আয়নায় চোখ যেতেই এবার পীযুষ যা দেখলো তাতে পীযুষ চমকে গিয়ে আয়নার কাছ থেকে ছিটকে পিছিয়ে এলো .সে দেখছে বিছানায় সে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে.তার বামহাতটা বামবুকে চেপে ধরে রাখা,মুখটা হা করে রাখা.আর তার সেই মৃতদেহের পাশে সেই ছেলেটা বসে সেই একইরকম পৈশাচিক হাসি হাসছে.ঠিক যেমন পীযুষ স্বপ্নে দেখেছিলো.

 

সমাপ্ত

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 3   Average: 4/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।