♥ এক অন্ধ মেয়ের প্রেমের গল্প♥ Part-2

♥এক অন্ধ মেয়ের প্রেমের গল্প♥

লেখক-রাজা

Part-2

অন্নপূর্ণা চলে যাওয়ার পর দুটো বছর কেটে যায়। পরিবর্তন হয়ে যায় শহর-নগর। আমিও পরিবর্তন হয়ে যাই তবে অন্য ভাবে। আমি আর ঐদিন বাড়িতে ফিরে আসেনি।ওই রাস্তার ধারে পড়েছিলাম দুটো বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে তবে আমার গা থেকে ওই জামা প্যান্ট কিছুই পরিবর্তন হয় নি। ওই রাস্তার ধারে এখনো পড়ে আছি। যে খেতে দেয় দুটো খাই না দিলে সারাদিন উপোস। হ্যাঁ এখন আমি পাগল কাউকে চিনি না। শুধু মনে পড়ে অন্নপূর্ণা মুখের হাসিটা। ওর সাথে কাটানো স্মৃতিটা আর কিছু মনে পড়ে না। এখন আমার মাথায় এক বোঝা চুল, মুখে দাড়িতে ভর্তি, গায়ের জামাটা অর্ধেক নেই তাই ভয়ে কেউ কাছে আসে না। সারাদিন রাস্তায় পড়ে থাকি চোখ দিয়ে জল পড়ে কেউ আসেনা চোখের জল মুছে দিতে। আজ যদি আমার অন্নপূর্ণা থাকতো তাহলে ও ঠিক আমার কাছে আসতো। মাঝে মাঝে ওর কথা ভেবে জোরে জোরে করে কেঁদে উঠি তখন সবাই আমাকে দূর থেকে দেখে কেউ কাছে এসে জানতে চাই না এই পাগলের কথা। আজ তিনদিন কেউ খেতে দেয়নি। গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে আর বাঁচবো না। চিৎকার করে করে অন্নপূর্ণাকে ডাকছি। এমন সময় কেউ আমার কাঁধে হাত দিয়ে ডাকলো।
আমি: কে?
কাছ থেকে উত্তর এল রানী।
আমি: পাগলকে পাগল ভেবে রানী বলে দিচ্ছ।
রানী: না, আমার নামই তো রানী।
আমি: দাও না গো, দাও না গো কিছু খেতে, আমি অনেকদিন কিচ্ছু খাইনি।
রানী: এই নাও এত খাওয়া সব তোমার জন্য।

 





 

রানী আমার খাওয়া দেখে হাসছে তবে ওর চোখের কোনে জল ছিল। দেশে এমন কত অভুক্ত ছেলে মেয়েরা এমন ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ঠিক নেই।

রানী: এইতো খাওয়া শেষ এবার বাড়ি চলো।
আমি: বাড়ি সে কি করে যাব। ওই যে নদীর পাশে অন্নপূর্ণা আছে ওকে নিয়ে যেতে হবে না। ওর আমি ছাড়া যে কেউ নেই। তাছাড়া ও চোখে দেখতে পায় না কি করে বাড়ি ফিরবে ও আমি চলে গেলে। ওকে আমার কাছে নিয়ে এসো না। আমার অন্নপূর্ণা কে এনে দাও না, এনে দাও না (কানতে কানতে)………
রানী: আচ্ছা চলো আমার সাথে এখন।
আমি: কোথায়।
রানী: চলনা।

তারপর রানী আমাকে জড়িয়ে ধরে উঠে নিল ওর গাড়িতে। ওর মায়াবী চোখ মার নরম হাতের স্পর্শে আমিও চুপ করে রইলাম।
তারপর রানী ওর বাড়িতে আমাকে নিয়ে গেল। ওর মা আমাকে দেখেই প্রশ্ন করলো।
মা: রানী কে এ।
রানী: জানিনা মা। রাস্তার ধারে বসে জোরে জোরে কান ছিল। কাছের লোক গুলো কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি ছোটবেলা থেকে সব কিছু হারিয়েছি। তাই আজ ও এমন। তাই নিয়ে চলে এলাম।
মা: ভালো করেছিস।এখন অনেক রাত হয়ে গেছে ওকে ঘুমিয়ে দিয়েয়ে তুই ঘুমিয়ে যা।

তারপর রানী একটা খাটে আমাকে ঘুমিয়ে দিল আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে গান করতে লাগলো। আমার চোখ দিয়ে জল পরছে মনে হচ্ছিল আমি আমার ছোটবেলা যেন ফিরিয়ে পিয়েছি। তারপর কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনি।
সকাল বেলায় যখন ঘুম থেকে উঠি তখন লক্ষ করি আমার শরীরের মধ্যে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। গায়ে নোংরা জামা প্যান্ট বাদে একটা ভালো জামা প্যান্ট পড়ে রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম আমার ফোনটা নেই। পাগল অবস্থায় আমার কাছ থেকে সবাই সবকিছু নিয়ে নিয়েছি কিন্তু ফোনটা নিতে পারেনি কারণ ওইখানে কয়েকটা ফটো যে অন্নপূর্ণা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাছাড়া যে আর আমার কাছে আর কিছুই নেই। আবার কাঁদতে শুরু করে দিললাম আর অন্নপূর্ণা অন্নপূর্ণা বলে চিৎকার করতে লাগলাম……
রানী (আমার চোখের জল মুছে দিল) তুমি আবার কাঁদছো। শান্ত হও প্লিজ।
আমি: আমাকে ওইখানে ছেড়ে দিয়ে আসো না। ওইখানে অন্নপূর্ণা যে একা। ওকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করবে। জানো ও বলেছিল সবাই যখন ওকে দেখে হাসে তখন ওর খুব কষ্ট হয়।
রানী: তুমি কি চাও তোমার অন্নপূর্ণা কষ্ট পাক।
আমি: না
রানী: তাহলে এখন আমার কথা শোনো।
আমি: কি বলো।

 





 

তারপর রানী আমাকে বাথরুমে নিয়ে গেল। আমার চুল দাড়ি কেটে দিল। সাবান দিয়ে আমাকে পরিষ্কার করে দিল।
রানী: এইতো এবার তোমাকে রাজার মতো লাগছে। কত সুন্দর তোমাকে দেখতে। আর তুমি পাগলের মতন রাস্তায় পড়ে থাকো।
আমি: হ্যাঁ আমি রাজা তো।
রানী: মানে
আমি: আমার নাম রাজা কিন্তু তুমি কি করে জানলে।
রানী: ও সত্যিই তোমার নাম রাজা।
আমি: হুম।

তারপর আমি ওই একটা ঘরে থাকতাম। রানী প্রায় আমার সাথে থাকতো। ওর বাবা-মা মাঝে মাঝে আসতো তবে কথা বলত না। আমাকে রোজ ডাক্তার দেখত আর আমি ধীরে ধীরে কয়েক মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলাম। একদিন রানী আমাকে ওর বাড়ির সবার সামনে নিয়ে এলো।

রানীর বাবা: এই নাও তোমার ফোন। ফোনটা তো পুরো খারাপ হয়ে গিয়েছিলো তাই সারাতে দিয়েছিলাম।
আমি: ধন্যবাদ আঙ্কেল।
বাবা: কিন্তু তোমার মোবাইল আর পেটিএম এর ব্যালেন্স দেখে বুঝতে পারলাম তুমি কোন সাধারন ঘরের ছেলে নও। সত্যি করে বলতো তোমার আসল পরিচয় কি। আর অন্নপূর্ণা টা বা কে।

আমি বলতে শুরু করলাম আমার জীবনে ভয়ঙ্কর অতীতের কথা…….
তারপর অনেকক্ষণ চুপ কেউ কোনো কথাই বলছিল না। সবার চোখের কোনে জল।
আমি: আমাকে যেতে হবে।
বাবা: কোথায় যাবে তুমি।
আমি: ওই রাস্তায় ওইখানে অন্নপূর্ণা যে একা আছে।
রানী: তুমি কি পাগল?
আমি: (কাঁদতে শুরু করলাম) হ্যাঁ আমি পাগল অন্নপূর্ণার জন্য।
রানী: আচ্ছা যখন তুমি কানতে তখন অন্নপূর্ণা কি করতো।
আমি: ও ও কাঁদতে শুরু করতো।
রানী: আজ যদি ও তোমাকে এই অবস্থায় দেখে তাহলে ও কি সুখে থাকবে।
আমি: তাহলে আমি কি করবো।
রানী: আবার পড়াশোনা করো। তোমার বয়স তো অল্প । নিজেকে এইভাবে শেষ করে দিচ্ছ কেন?
আমি: হ্যাঁ আমি ফিরে যাব আমার বাড়িতে । আমি অন্নপূর্ণার সমস্ত স্বপ্নগুলো পূরণ করব।
বাবা: কেন একা থাকবে। এই সময় একা থাকলে তুমি আরো ডিপ্রেশনে ভুগবে বরং তুমি তোমার কাকুর কাছে ফিরে যাও।
আমি: না
বাবা: কেন
আমি: আমি ফিরে গেলে আমাকে মেরে দেবে ওরা নাহলে কাকুর মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে। কারণ 18 বছর পর আমার বাবা সমস্ত সম্পত্তির মালিক আমি। আর বিয়ের পর আমার স্ত্রী সম্প্রতি অর্ধেক মালিক হবে। তাই সম্পতির জন্য তারা সবকিছু করতে পারে।
বাবা: ওরা মানুষ না…. ছোটবেলা থেকে বাবা-মা নেই কোথায় মানুষ করবে না…….
আমি: শুধু তাই নয় ওরা যদি জানতে পারে আমি এখানে আছি তাহলে ওরা এখানে চলে আসবে। ওদের চোখে আমি লোভ-লালসা দেখেছি। সম্পত্তির জন্য ওরা সবকিছু করতে পারে।

 





 

রানী: তাহলে তুমি আমাদের কাছে থেকে যাও।
বাবা: হ্যাঁ আমাদের কোন ছেলে নেই তুমি না হয় আমাদের ছেলে হয়ে থেকে যাও।
আমি: ভেবে দেখব ( এই বলে রুমে চলে এলাম)
মা: আচ্ছা রানী তুই তো আজ পর্যন্ত কোন ছেলেকে চোখে দেখতি না তা আজ যে ওই ছেলেকে বাড়িতে থাকতে দিলি।
রানী: জানিনা তবে ওই ছেলেটার প্রতি আমি যেন ভীষণ দুর্বল।
মা: বুঝেছি লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম।
রানী: হ্যাঁ। যে কেউই ওকে ভালবাসতে চাইবে। কিন্তু অন্নপূর্ণা একমাত্র লাকি পারসন।
মা: হ্যাঁ রে।
রানি : একটা ছেলে যে একটা মেয়েকে এত ভালবাসতে পারে তা আগে কোনদিন ভাবিনি। ও কবে মরে গেছে তবুও আজ ওকে কতটা ভালোবাসে।
মা: দেখবি একদিন তোকে ও ভালবাসবে।
রানী: সম্ভব নয়। ওর অন্নপূর্ণাকে ওর থেকে কেউ ভোলাতে পারবে না…..

তারপর আমি রানী বাড়িতে থেকে যাই‌। আমি রানীর কলেজে ভর্তি হই। বেশ ভালো ভাবেই আমাদের দিন কাটছিল। তবে আমি অন্নপূর্ণা কে ভুলতে পারিনি। এখনো মাঝরাতে মাঝেমাঝে কেঁদে উঠি তখন রানি ওর রুম থেকে চলে আসে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আমার পাশে ঘুমিয়ে যায়। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কত সুন্দর গান করে। যখন আমার জ্বর হয় তখন ও সারারাত জেগে থেকে আমার সেবা করে। ওর গ্রাম রোজ আমাকে ঘুরে দেখায়। কখনো আমার চোখে জল ফেলতে দিত না। আমার একটা টাকাও খরচ করতে দিত না। মাঝে মাঝে মনে হতো আমি যেন আমার ছোটবেলা ফিরে পেয়েছি। আমি আবার আমার বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছি। এই ভাবে দুটো বছর কেটে যায়……..

রানী: ওই রাজা আজ গ্রামে যাত্রা আছে দেখতে যাবি।
আমি: হ্যাঁ যাবো।
রানী: বেরিয়ে পড় তাহলে।
তারপর জামা পড়ে রানী আর আমি মেলায় চলে গেলাম। তারপর একসময় যাত্রা শুরু হলো কিন্তু কে আর যাত্রা দেখে। আমি আর রানী মেলায় ঘুরছি আর এটা কিনছি ওটা কিনছি।
রানী: বাড়ি চল আর ভালো লাগছে না। আবার কাল আসবো।
আমি: হ্যা চল।
রানী: সবাই হাত ধরে কেমন হাঁটছে দেখ। তুই আমার হাত ধরনা। একসাথে হাটবো।
আমি: হাত ধরবো।
রানী: হ্যাঁ ধর।
তারপর ওর নরম হাত ধরে গল্প করতে করতেই বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম।
রানী: দেখ বাড়িতে এখনো তালা লক। বাবা-মা এখনো মেলা থেকে আসেনি।
আমি: চল ছাদে বসি কি করবি এখন।
রানী: আচ্ছা তুই এত রোগা কেন রে।
আমি: ছোটবেলা থেকেই শুধু যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা কি করে মোটা হবো বল।
রানী: তোকে আর যন্ত্রনা পেতে দেবো না রে।
আমি: মানে?
রানী: বিয়ে করবি আমাকে।
আমি: ওটা কি করে হয়।
রানী: কেন?
আমি: আমি যে অন্নপূর্ণা কে কথা দিয়েছি আমি শুধু ওর।
রানী: কিন্তু ও তো আজ পৃথিবীতে নেই।
আমি: জানো ও সব সময় ভয় পেতো আমি যদি অন্য কারো হয়ে যাই। আর আজ যদি সত্যি সত্যি আমি তোমার হয়ে যাই তাহলে ও কত কষ্ট পাবে ভাবো।
রানী: ওই যে আকাশের তারা দেখছো ও হচ্ছে তোমার অন্নপূর্ণা ও তোমাকে সবসময় দেখছে। ও যখন দেখবে তুমি সুখে আছো। আর তুমি কাঁদছো না । তখন ও ও সুখে থাকবে।
আমি: হ্যাঁ সে তো জানি।
রানী: তোর আমাকে ভালো লাগে না বুঝি।।
আমি: না লাগে তো।
রানী: তাহলে।
আমি: ভয় করে যদি অন্নপূর্ণা কষ্ট পায়। আমি ওকে কষ্ট দিতে চাইনা।
রানী: তুমি সব সময় অন্নপূর্ণা থাকো তাতে আমার কোনো অসুবিধে নেই। কিন্তু আমাকে একটু তোমার ভালোবাসা দাও।
আমি: হুম বাসবো তো। অন্নপূর্ণা মারা যাওয়ার পর তুই আমাকে মানুষ করেছিস। আমার যত্ন করেছিস। আমিও তোকে ভালোবাসি। কিন্তু কোনদিন হয়তো তোকে অন্নপূর্ণার জায়গায় বসাতে পারব না। ওর মত তোকে ভালবাসতে ও পারব না।
রানী: আমি চাইনা তোর অন্নপূর্ণার জায়গা নিতে। শুধু একটু তোর ভালোবাসা দিও। তাতেই আমি খুশি।
এই বলে রানী আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমিও ওকে জড়িয়ে ধরলাম….

 





 

তারপর আরো অনেকটা দিন কেটে গেল। আমাদের বিয়ের দিন ও চলে এলো। খুব ভয় করছিলো আমার কারণ বাড়িতে যদি জানতে পারে তাহলে কিছু একটা ঘটাবে। অন্নপূর্ণাকে অনেকটাই ভুলে গিয়েছিলাম।
বাবা: আরে রাজা এত ভয় পাচ্ছ কেন।
আমি: না আসলে বাড়ি…….
বাবা: কিচ্ছু হবে না আমরা সবাই আছি তো।
রানী: আজ তোমার বিয়ে আর তুমি ভয় পাচ্ছ।

তবে আমার ভয় টা সত্যি হলো। বিয়ে শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ এসে উপস্থিত। আমি নাকি একটা মেয়েকে ধর্ষণ করেছি। সবাই বাধা দিল এমন কাজ আমি করতে পারিনা কিন্তু কে শুনে কার কথা পুলিশ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আর আমি রানীর দিকে তাকিয়ে রয়েছি। ওর সিঁথিতে সিঁদুর জ্বলজ্বল করছে আর চোখ দিয়ে জল পরছে পুরো বিয়ের বাড়ির শান্ত কোথাও কোন কথা নেই……….
পরের দিন সকালে রানীর ডাকে ঘুম ভাঙলো।
আমি: রানী;
রানী: কাঁদতে শুরু করল।
আমি: (কেঁদে কেঁদে) বিশ্বাস করো রানী আমি ওই কাজ করিনি। আমার কাকু সম্প্রতি জন্য এসব করেছি। তোমাকে তো আমি আগেই বলেছিলাম।
রানি : আমি জানি তুমি এসব কাজ করোনি।
আমি: তোমার বাবা-মা ভেবেছে না আমি সব সত্যি করেছি।
রানী: চুপ রাজা! চুপ; আমার পরিবার তোমাকে কত বিশ্বাস করে ওরা কোনদিন ওই সব কথা ভাবে না।দেখো আমার বাবা মা ও এসেছি তোমার সঙ্গে দেখা করতে……
আমি: আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওনা। এখানে আমি একা খুব ভয় লাগে। এই দেখো আমি কত রোগা তাও ওরা আমাকে মেরেছে। খুব লেগেছে আমার…..
রানী: ( কেঁদে কেঁদে) কথা দিলাম তোমাকে আমি ছাড়িয়ে ঠিক নিয়ে যাব।
আমি: তোকে বউর সাজে খুব সুন্দর লাগছে রে।
তারপর রানী কানতে কানতে ছুটিয়ে পালিয়ে গেল।
আরো কয়েকটা দিন কেটে গেল আজ বিচারের দিন। আমাকে কোর্টে নিয়ে আসা হয়েছে কিন্তু এখনও রানী আসেনি।

 





 

(রানী গাড়ি নিয়ে আমার কাছে আসছিল হঠাৎ একটা মেয়েকে ধাক্কা মারে। রানী কাছে গিয়ে দেখে অবাক হয়ে যায়। এই মেয়েটা যে অন্নপূর্ণা। নিমেষের মধ্যে রানী যেন কোথায় হারিয়ে যায়। ওর ছোট্ট স্বপ্নটা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। ও কি ছুটে পালাবে। নাকি ওই মেয়েটা কে রাজার কাছে পৌঁছে দেবে। রাস্তায় বসে রানী অঝোরে কাঁদতে লাগলো।)

আর এদিকে আমার কোন উকিল না থাকায় আমার তিন বছরের জেল হয়ে যায়। আমাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এখন আমি আর কাদছিনা। কষ্ট পেতে পেতে কখন যেন আমার কান্নাটা হারিয়ে গেছে। নিশ্চুপ নিরব হয়ে আমি পুলিশের সাথে চলে যাচ্ছি। ভাবছি রানীও আমাকে অবিশ্বাস করলো। অবিশ্বাস করবে না বা কেন কথায় আছে না পাগল কে সবাই দয়া করতে পারে কিন্তু ভালবাসতে নয়।

তোমাদের কি মনে হয় অন্নপূর্ণা চলে যাওয়ার পর রাজা রানী কে বিয়ে করে ঠিক করেছে? প্লিজ কমেন্ট করে জানাবে।

Part-3 coming soon

 

 




গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।