♥এক অন্ধ মেয়ের প্রেমের গল্প♥

♥এক অন্ধ মেয়ের প্রেমের গল্প♥

♥এক অন্ধ মেয়ের প্রেমের গল্প♥

লেখক-রাজা

 

বাই বলে জীবনে কাউকে মন দিয়ে ভালোবাসলে আর অন্য কাউকে ভালোবাসা যায় না। আমিও তাই ভাবি কিন্তু সত্যি কি। আসলে জীবনে অনেক অনেক মানুষ আসে আর তারা প্রত্যেকেই হারিয়ে যায় কিন্তু কিছু মানুষ হৃদয় থেকে যায়। যাদের সাথে পরিচয় হয়তো অল্পদিনের। মিষ্টি আমার ছোট্ট মেয়ে আমার হাতটা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি তাকিয়ে রয়েছি রাণীর দিকে। রানী চলে যাচ্ছে………

আমি রাজা খুব ধনী পরিবারের ছেলে কিন্তু আমার বয়স যখন সাত তখনই এক অ্যাক্সিডেন্টে আমার বাবা-মা আর ছোট বোন মারা যায়। তারপর পিসি কাছে বড় হয়েছে। কিন্তু কাকু, পিসি দের মধ্যে সম্পতি নিয়ে সবসময় ঝগড়া হতো তাই আমি ক্লাস টেন কমপ্লিট করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। যেখানে আমার বাবা-মা থাকতো। তারপর গ্রামের স্কুলে ভর্তি হই।ভর্তি হতে কোন সমস্যা হয়নি কারণ ওই স্কুলে আমার মা একসময় শিক্ষিকা ছিল। স্কুলে অনেক দিন কাটিয়ে ফেলি। অনেকের সাথে বন্ধুত্ব ও হয়।স্যার এদের কাছে খুব প্রিয় হয়ে ওঠি কারণ আমার মা ও তো এক সময় উনাদের মধ্যে একজন ছিলেন। বেশ ভালোই কাটছিল দিন। এমনই একদিন (সরস্বতী পূজার আগের দিন) আমি প্লেট-ভর্তি সিন্দুর নিয়ে নিচে নামছি। হঠাৎ কেউ একজন ধাক্কা মারলো আর সমস্ত সিঙ্গুর ওর মাথায় গিয়ে পরলো। সর্বনাশ! মনে মনে ভাবলাম আমার অবস্থা খুব খারাপ কারণ ওই কেউটা যে একটা মেয়ে ছিল। আর মেয়েটা কি অপরূপ সুন্দর দেখতে।পরেনা চোখের পলক কি তোমার রুপের ঝলক তুমি অপরূপ সুন্দরী যে তাই।

 





 

আমি: আরে দেখে আসতে পারো না।
মিয়ে: সরি। তোমার হাত থেকে সব ফুল পড়ে গেল না।
আমি: মানে ফুল কোথায় ছিল।
মেয়ে: তাহলে কি ওটা।
আমি: ওটা সিঙ্গুর ছিল। তুমি কানা নাকি।
মেয়ে: রাগ করোনা। আর হ্যাঁ সিন্দুর টা জলদিয়ে মুছে দাও না প্লিজ।
আমি: মনে মনে বললাম। কি আর করা যায় সিঁদুর টা তো আমার কাছেই ছিল সবাই জানতে পারলে আমার অবস্থা খারাপ। তবে মেয়েটার উপর রাগ হচ্ছিল কারণ আমাকে নতুন পিয়ে বেশ খাটিয়ে নিল। তারপর জল দিয়ে বেশ ভালো করে ওর মাথা থেকে সিঁদুর মুছে দিলাম।
মেয়ে: আচ্ছা আর একটা সাহায্য করবেন।
আমি: অসহায়ের মতন বললাম হুম। কি সাহায্য বল।
মেয়ে: ক্লাস টেনের এ সেকশন রুমটা কোনদিকে বলতে পারবেন।
আমি: বাহ বাহ। আমাকে নতুন পিয়ে তুমি বেশ মজা নিচ্ছো তো। তুমি তোমার ক্লাসরুম কোনটা তুমি জানো না।
মেয়ে: (কাঁদতে শুরু করল) আমি অন্ধ। চোখে দেখতে পাই না।

আমি অদ্ভুতভাবে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। অনেকক্ষণ দুজনের মধ্যে কোন কথা নেই। আমার বিবেকে লাগতে লাগলো। একটা নিষ্পাপ মেয়েকে এমনিতেই কত কথাই না শোনালাম।। নিজেকে নিজের কাছে ছোট লাগতে লাগলো।
মেয়ে: কি হলো চলে গেলেন নি।
আমি: না নিজেকে ঘৃণা বোধ করছি।
মেয়ে: কেন।
আমি: না জেনে তোমাকে অনেক কথা শুনেছি। পারলে ক্ষমা করে দিও।
মিয়ে: এই অন্ধ মেয়ের কাছে তুমি ক্ষমা চাইছো।
আমি: হুম চাইছি। ভুল করলে তো ক্ষমা চাইতে হয়।
মেয়ে: না আজ পর্যন্ত এই স্কুলে আমি একটা সবার কাছে হাসির মাত্র তো তাই বললাম।
আমি: চলো, আমার হাতটা ধরো।
মেয়ে : তুমি আমার হাত ধরবে।
আমি: হুম, তারপর ওর হাতটা ধরলাম। প্রথম কোন এক মেয়ের হাত স্পর্শ করেছিলাম তাই অন্য
এক অনুভূতি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সারা জীবন যেন ওর হাতটা ধরে রাখি।
মেয়ে: আচ্ছা তোমার নামটা কি জানতে পারি।
আমি: রাজা।

 





হঠাৎ মেয়েটা আমার হাত ছেড়ে দিল।
আমি: আরে, কি হলো হাত ছেড়ে দিলে যে।
মেয়ে: তুমি আখি ম্যাডামের ছেলে রাজা।
আমি: হুম
মেয়ে: সরি। তুমি অনেক বড় পরিবারের ছেলে। আর সব বড় পরিবারের ছেলেমেয়ের খুব স্বার্থপর হয়। ওদেরকে আমার ভীষণ ভয় লাগে। সরি তুমি চলে যাও।
আমি: কে বলেছে, সবাই সমান নয়, স্বার্থপর নয় অনেক ভাল মানুষ ও হয়। তাছাড়া আমি এক ছোট্ট গ্রামে তোমাদের মতনই থাকি।
মেয়ে: তুমি বেশ সুন্দর সুন্দর কথা বলতো।
আমি: জানিনা। কিন্তু এখন তুমি তোমার ক্লাস রুমে চলে এসেছো যাও।
মেয়ে: ধন্যবাদ
আমি: আবার পরে কথা বলবে তো। না বড়লোকের ছেলে ভেবে দূরে সরিয়ে দিবে।
মেয়ে: না বলব।

তারপর বেশ কয়েকটা মেয়ে এসে ওকে নিয়ে চলে গেল ক্লাসের ভিতর। আমি বেশ বুঝতে পারলাম ওই মেয়েগুলো ওকে খুব ভালোবাসে। তেমনি ক্লাসে সবার হাসাহাসি দেখে বুঝতে পারলাম মেয়েটা প্রায় সবার কাছে একটা হাসির পাত্র।

হে ভগবান তোমার এ কেমন বিচার এত ছোট্ট একটা সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে তার কাছ থেকে তুমি দুটো চোখ কেড়ে নিয়েছো। এই বয়সে যে হাসি খেলায় মেতে ওঠার কথা সে আজ ডিপ্রেশনে ভুগছি। অথচ এই পৃথিবীতে কত পাবি নির্বিধায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তারপর আরো অনেকটা দিন কেটে যায় মেয়েটা সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি যে ওর নাম অন্নপূর্ণা। ও খুব গরীব ঘরের মেয়ে তাই হয়তো বড়লোকের ঘরে ছেলে মেয়েদের বিশ্বাস করে না। ছোটকালে চোখে দেখতে পেত একদিন ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওর দুটো চোখ চলে যায়। তারপর থেকেই ও অন্ধ।

এমনই একদিন ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে স্কুল ও ছুটি হয়ে গেছে। প্রায় সবাই বাড়ি চলে গেছে আমি হঠাৎ অন্নপূর্ণাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম।
আমি: ও অন্নপূর্ণা…
অন্নপূর্ণা: কে?
আমি: আমিগো; রাজা।
অন্নপূর্ণা: ও কেমন আছো।
আমি: ভালো তুমি বাড়ী যাবে না।
অন্নপূর্ণা: বৃষ্টি হচ্ছে তাই মনে হয় দিদি নিতে আসতে পারছে না।। তাছাড়া তুমি আমার নাম কি করে জানলে।
আমি: সে আমি জানতে পেরে গেছি। কিন্তু এই বৃষ্টির মধ্যে তুমি একা দাড়িয়ে থাকবে।
অন্নপূর্ণা: কি আর করব বল।
আমি: চলো আমার সাইকেলে বসো। আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়ে আসবো।
অন্নপূর্ণা: কিন্তু আমি তো রাস্তা দেখাতে পারব না।
আমি: আমি জানি তোমার বাড়ির রাস্তা।

 





তারপর অন্নপূর্ণা কে ধরে আমার সাইকেলে বসিয়ে দিলাম আর একটা ছাতা ধরিয়ে দিলাম। যদিও ছাতা কোন কাজ দিবে না বুঝতে পারছিলাম।

অন্নপূর্ণা: তুমিতো অনেক ভালো দেখছি। যতটা শুনেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো।
আমি: হবে হয়তো, আচ্ছা তুমি পড়াশোনা কি করে করো।
অন্নপূর্ণা: আমি শুধু শুনি। আর আমার জন্য শুধু শর্ট কোশ্চেন পরীক্ষায় আসে। পরীক্ষার সময় আমি একজনকে বলে দিই আর ও লিখে। জানো আমি এই স্কুলে সবার কাছে একটা হাসিরপাত্র। শুধু ছাত্রছাত্রীর নয়। অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা কাছে ও আমি একটা হাসির পাত্র। যখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসে তখন না আমার খুব কষ্ট হয়।
আমি: দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। যারা তোমাকে আজ গালি দিচ্ছে দেখবে তারাই একদিন হাততালি দেবে।
অন্নপূর্ণা: তুমি সত্যি খুব সুন্দর। প্রথমে ভেবেছিলাম তুমি বড়লোকের ছেলে মানে ওই মদখোর মাতাল হবে। কিন্তু তুমি তা নয়, তুমি অনেক অনেক সুন্দর।
আমি: আচ্ছা তোমার কোনদিন ভালোবাসতে ইচ্ছা হয় না।
অন্নপূর্ণা: কেন হবেনা? আমিও তো আর চারটা মেয়ের মতন একটা মেয়ে। আমারও মন আছে। হয়তো দুটো চোখ নেই।
আমি: তাহলে কেন ভালোবাসো না।
অন্নপূর্ণা: তুমি সত্যিই একটা বুদ্ধ। এইঅন্ধ মেয়েকে কে ভালবাসবে বল। স্যারদের কাছ থেকে তোমার কত কথা শুনি তোমার নাকি ভীষণ বুদ্ধি। কিন্তু কাঁচকলা।
আমি: তুমি আমাকে ভালোবাসবে। তোমাকে না আমি আমার রানী করে রাখবো।
অন্নপূর্ণা: তুমিও ওদের মতন আমাকে অন্ধ বলে অপমান করছ।
আমি: না তোমাকে অপমান করবো কেন। সত্যি বলছি তুমি না অনেক সুন্দর একটা মেয়ে। তোমার কথাগুলো খুব সুন্দর। তোমার মধ্যে যে কত ভালোবাসা আছে সেটা কেউ বুঝতে পারবে না। রানী হবে আমার।
অন্নপূর্ণা: কিন্তু আমি অন্ধ। তুমি আমার থেকে অনেক ভালো একটা মেয়ে পাবে। আমাকে বিয়ে করে কেন তুমি তোমার জীবন নষ্ট করবে।
আমি: কোন কিছু নষ্ট হবে না। একবার ভালোবেসে দেখো না।
অন্নপূর্ণা: ভেবে দেখব।
আমি: চলো বাড়ি পৌঁছে গেছি।

 





তারপর অন্নপূর্ণা কে বাড়িতে ছেড়ে দিলাম। ওর বাড়িতে আমাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। স্বাভাবিক সবাই অবাক হবেই তো। কিন্তু ওর দিদি আমাকে দেখেই প্রশ্ন করলো-

দিদি: তুমি কি আঁখি ম্যাডামের ছেলে?
আমি: হ্যাঁ কেন বলতো।
দিদি: আসলে তোমার মুখটা আখি ম্যাডামের মুখের সাথে অনেক মিল।
আমি: তুমি কি আমার মা কে চিনো?
দিদি: হ্যাঁ উনার কাছে আমি পড়েছি। উনা একটা ছবিও আছে দেখবে এসো।
মায়ের পুরনো ছবি দেখে আমি কাঁদতে শুরু করে দিলাম।
অন্নপূর্ণা: কানছো কেন? সবার মা বাবাকি সবার কাছে সারাদিন থাকে। এরপর থেকে আমি তোমাকে আর কোনদিন কাদতদেবো না।
আমি: মানে।
অন্নপূর্ণা: মানেটা কাল বলব। কাল আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে তো।
আমি: কিন্তু কি করে তুমি যাবে। তোমার বাড়িতে তো আমি আবার আসতে পারবো না। বুঝতে পারছো তো আমি কি বলতে চাইছি।
অন্নপূর্ণা: তুমি আমার বাড়িতে এসে আমাকে নিয়ে যাবে। আমার বাড়িতে কেউ কিছু বলবেনা।
আমি: আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আমি বাড়ি চলে এসেছিলাম আর অন্নপূর্ণা ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আমার দিকে তাকিয়ে কিন্তু কি অদ্ভুত আমাকে দেখতে পাচ্ছে না ও।

তার পরদিন সকালে অন্নপূর্ণা কে নিয়ে পার্কে ঘুরতে গেলাম।
আমি: আচ্ছা তুমি রাজি তো।
অন্নপূর্ণা: রাজি না হলে বুঝি তোমার সাথে ঘুরতে আসতাম।
আমি: তুমি নিজেও জাননা তুমি কত সুন্দর। আসলে তোমার ভালোবাসাটা কেউ বুঝতেই পারিনি।
অন্নপূর্ণা: জানো আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমাকে কেউ একজন পাগলের মতো ভালোবাসবে। ও শুধু আমার হবে ।।ওর জীবনে কেউ আর আসবেনা। কিন্তু এটা শুধু স্বপ্ন ছিল। আমি কোনদিন ভাবিনি যে সেই স্বপ্নটা সত্যি হবে।
আমি: (মনে মনে ভাবলাম)নিষ্পাপ মেয়েটা কত তাড়াতাড়ি আমাকে বিশ্বাস করে নিয়েছে। ওর সামনে যদি আমি কোন দিন আর একটা মেয়েকে নিয়ে ঘুরি ও জানতেও পারবেনা।
অন্নপূর্ণা: আচ্ছা তুমি আমাকে কোনদিন ছেড়ে যাবে নাতো?
আমি: সারা জীবন আমি তোমার থাকবো।
অন্নপূর্ণা: তোমার জীবনে এমন কেউ আসবে নাতো যে আমাকে ভুলতে বাধ্য করবে তোমাকে।
আমি: কথা দিলাম আমি কোনদিন কারো হবো না। সবসময় তোমার কাছে থাকবো।

 




এই বলে আমি অন্নপূর্ণা কে জড়িয়ে ধরলাম। বেশ হাসিখুশিতে আমাদের দিনকাল কাটছিল। আর অন্নপূর্ণার বাড়িতে জানতে পেরে গিয়েছিল যে আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আমাদেরকে মেনে ও নিয়েছিল। বাড়িতে আমি একা থাকতাম তবুও অন্নপূর্ণা বাড়ির লোকজন আমাকে বিশ্বাস করে আমার সঙ্গে অন্নপূর্ণাকে পাঠিয়ে দিত। এভাবে আমাদের স্কুল শেষ হয়ে যায় কলেজ ও অর্ধেক হয়ে যায়। আর অন্নপূর্ণাকে আমি রোজ বিকালে কোথাও না কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতাম। ওর ছোট্ট ছোট্ট মিষ্টি আবদার গুলো আমি পূরণ করতাম। ও আমাকে পিয়ে বেশ খুশি হয়েছিল। ওর মুখে ক্লান্তি,দুর্বলতা, ভয়, চলে গেছিল ।ওর মুখে হাসি ফুটে ছিল। আমি ও ওকে পিয়ে বেশ খুশি হয়েছিলাম। তবে অন্নপূর্ণা সব সময় ভয় করতো আমি যদি ওকে কোনদিন ছেড়ে চলে যাই। তবে আমি ওকে সব সময় আগলে রাখতাম। এমনই এক বিকালে ওকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওর বাড়িতে গেলাম…..

আমি: অন্নপূর্ণা বেরিয়েছো।
অন্নপূর্ণা: হুম চলো।
আমি: হা হা।
অন্নপূর্ণা: হাসোছো কেন?
আমি: তোমার দিদি বুঝি বাড়িতে নেই?
অন্নপূর্ণা:না বাইরে গেছে একটু কেন বলতো।
আমি: তোমার কপালে টিপটা কোথায় দেখো।
অন্নপূর্ণা: হু ঠিক করে দাও।
আমি: ওকে। আর জামা ও কেমন পড়েছ দেখো।
অন্নপূর্ণা: কি করব। একদিন তো তুমি আমার বর হবে তো সবকিছু ঠিক করে দাও।
আমি: ওকে করে দিচ্ছি। তারপর অন্নপূর্ণার একটু জড়িয়ে ধরলাম। আর কপালে ছোট্ট একটা কিস দিলাম। আমার সোনাটা।

তারপর দুজন নদীর ধারে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি।

আমি: আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব। আকাশে প্রচুর মেঘ করেছে।
অন্নপূর্ণা: না যাবো না। আজ দুজনে বৃষ্টিতে ভিজবো। অনেকদিন আমি বৃষ্টিতে ভিজে নি।
আমি: আচ্ছা ঠিক আছে।
অন্নপূর্ণা: জানো আমার কিছু দেখার ইচ্ছে নেই। আমি দিনের সূর্যের আলো দেখেছি। রাতের জোনাকি দেখেছি। কিন্তু এখন তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে আমি দেখতে চাই আবার। আমার দেখতে চাই।
আমি: তুমি আবার আগের মতন সব দেখতে পাবে। আমি তোমার চোখের অপারেশন করে দেবো।
অন্নপূর্ণা: অপারেশন হয়ে গেলে আমাকে নিয়ে যারা হাসতো তাদের প্রত্যেকে জবাব দিব। তুমি সাথে থাকবে তো।
আমি: থাকবো। আইসক্রিম খাবে।
অন্নপূর্ণা: কিন্তু কোথায় পাবে।
আমি: ঐতো লাইনের পাশে আছে। তুমি এখানে একটু চুপটি করে দাঁড়াও আমি নিয়ে আসছি। আর ছাতাটা রাখো একটু একটু বৃষ্টি পড়ছে তো।
অন্নপূর্ণা: তাড়াতাড়ি এসো কিন্তু।

লাইন পেরোতে না পেরোতেই জোর বৃষ্টি শুরু হল। আমি আইসক্রিম কিনছি হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনতে পিয়ে পেছনে ঘুরলাম। আমি বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছি তাই অন্নপূর্ণা ছাতাটা নিয়ে আমার কাছেই আসছিল। সেই সময় একটা গাড়ী এসে ওকে ধাক্কা মারে ।আর ধাক্কাটা এতো জোরে মারে যে ওর লাশ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। গোটা নদীর জল লাল হয়ে গেছে। আর আমি দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কখন যে রাস্তায় পড়ে গেছি বুঝতে পারিনি।

 





 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।