এ কোন শহর?

এ কোন শহর?

এ কোন শহর?

– শাহরিয়ার সবুজ

– ০১/০৮/২০২০

 

জ ইদুল আযহার দিনে, কয়েকবছর আগের ইদুল আযহার কথা মনে পড়ল। সেই ইদের রাতে পাড়ায় এক অনু্ষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনু্ষ্ঠানে, পাড়ার লেখক লেখক ভাব, দাঁড়ি-কলামের অভাব, গাঁজাখোর বল্টু একটা গল্প বলে।
‘কোনো এক দেশের, কোনো এক শহরে, কোনো এক সময়ে একটি নিয়ম আছে। কোরবানির গোস্তের যে অংশ গরিবের হক, সেই শহরের সবাই তা বাড়ির নিকট মসজিদে দিয়ে আসে। এবং সবাই সবসময় এটা নিজ গরজে ঠিকমত দিয়ে আসে। তোমরা যদি কারণ জানতে চাও, তারা শুধু মুচকি হাঁসি দিবে। আর মনে মনে বলবে, “পাছে লোকে কিছু বলে।“ সেই শহরের সব প্রতাপশালী আর বিত্তবানরা আরেক কাঁঠি সরেষ। তাঁরা, যতটুকু দেওয়া দরকার, সেটার চেয়ে ঢের বেশি দেয়। পারে না যে নিজের সম্পূর্ণ অংশটুকুও দিতে। এটার যুক্তিতে তাঁরা বলে, “আমাদের দাম্ভিকতা বজায় রাখতে হবে না !”
এইদিন বিকালে কেউ যদি ঐ শহরের কোনো মসজিদের সামনে দাঁড়ায়, দেখবে, মসজিদের আঙিনায় একগুচ্ছ সমাজ নামক দালানের সর্বনিম্ন তলার বাসিন্দারা, কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউবা বসে আছে। সেসব বাসিন্দাদের মনে শুধু একটি প্রশ্ন প্রতিধ্বনি হয়, ”কখন আসবে কবি?”
এইদিন ঠিক সাড়ে চারটায় শহরের সকল মসজিদে সমাজ নামক দালানের সর্বনিম্ন তলার উপস্থিত সকল বাসিন্দাদের মাঝে উত্তম উপায়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষ গোসত বিতরন শুরু করেন। তাই এইদিন রাতে সমাজ নামক দালানের সকল তলার বাসিন্দার খাবারের তালিকায় গোস্ত সবার উপর থাকে। ধন্যবাদ সবাইকে, মনযোগ দিয়ে আমার গল্প শোনার জন্য।‘
বল্টুর বক্তব্য শেষ হতেই, ঐদিন হাজার হাজার শ্রোতার করতালিতে আকাশ-বাাতাশ কেঁপে উঠে। যখন করতালিতে কাঁপতে কাঁপতে ১১.১১ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার অবস্থা, ঠিক তখনই প্রতিবারের মত আমাদের এক ও একমাত্র সহজ-সরল আবুল ভাই ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে এলেন। দৃ্ষ্টিনন্দন ভঙ্গিতে দাঁড় হয়ে তিনি উঁচু কিন্তু মলায়েম গলায় জিজ্ঞেস করলেন,”ভাই বল্টু, তুমি যে শহরের কথা বললে, সেটা কোন শহর?” প্রশ্ন শুনে আমি থ, বল্টু থ, সব শ্রোতারা থ, প্রধান অতিথী সাথেদ চৌধুরী থ, বিশেষ অতিথী সুন্দরী পাপিয়া থ এবং বিশ্বাস করেন সেদিন ভূমিকম্পও থ বনে যায়। তাইতো সেদিনের পর, ভূমিকম্প আর এ পাড়া মাড়ায় নি।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।