কালীর দর্শন

কালীর দর্শন

সাঈদ রহমান

 

 

টনাটি আমার নানির কাছ থেকে শোনা।
যার সাথে ঘটনাটি ঘটেছিল উনি আমার নানির মা, মানে আমার বড় মা।
এটা ১৯৪৫ সালের ঘটনা, আমার বড় মার ৫ সন্তানের সংসার, বছর দুয়েক আগে স্বামী মারা গেছেন।বাজারের শেষ প্রান্তে একটি কালি মন্দির ছিল তার পাশেই উনাদের বাড়ি।
তখনকার সময়ে বাংলার মানুষের প্রয়োজনিয় টাকা থাকলেও দ্রব্যসামগ্রী এতটা সহজলভ্য ছিল না। তখন মানুষের অভাব অনটন ও বেশি ছিল।
আর সংসারের রান্নার খড়ি/লাকড়ি/কাঠ গ্রামের বেশির ভাগ মহিলারা বড় বড় বাগান, রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পাতা কুড়িয়ে সেই পাতা জ্বালিয়ে রান্না করতেন।
যাই হক এবার মুল গল্পে আসি, তখন পৌষ মাস। বিশাল বড় করে পৌষ মেলা আয়োজন করা হত। ঐ বাজারেও মেলা শেষ। বড় মার বাড়ির সামনেই মেলা হয়েছিল। ত রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য বড়মা উঠলেন, কাজ শেষে জ্যোস্না রাত উনি ভাবলেন ভোর হয়ে গেছে।
ভোর ভেবে উনি বাড়িটা ঝাড়ু দিতে লাগলেন। এক সময় ঝাড়ু দিতে দিতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দেখেন অনেক গুলো পাতা, মেলার ওখানে জমা হয়ে গেছে।উনি বাড়ির সামনের বাজারের মেলার জায়গাটুকু ঝাড়ু দিয়ে বেশ কিছু ঝরা পাতা জড় করতে করতে কালি মন্দিরের সামনে থেকেও ঝাড়ু দিয়ে পাতা গুছিয়ে ছেন।

 




 

এমন সময় পেছনে থেকে জোরে জোরে নিশ্বাস নেওয়ার শব্দ পান।বড়মা পেছন ফিরে দেখেন মন্ডপের কালি মূর্তি তার বড় জীব নিয়ে তার সামনে দাঁড়ানো।
উনিতো তাৎক্ষনিক ভয় পেয়ে জান, কিন্তু উনি অনেক দুঃসাহসী মহিলা ছিলেন।
উনি সাথে সাথে হাতের ঝাড়ু ঘুরিয়ে দোয়া কালাম পড়তে পড়তে বড় বৃত্ত বানিয়ে তার মাঝে দাড়িয়ে কাঁপতে থাকেন।
সামনের কালি বৃত্তের চরপাশে হাটছে আর বড় বড় করে শ্বাস ফেলছে।

কিছুক্ষণ পরে কালিটি মুখ খুললো
“বড় বাচা বেচে গেলি, এলাকার বামুন রে ১০ দিন চাল ডাল দিয়ে দিস।”
বলেই উদাও।

আমার বড়মা ঠিকই ১০ দিন বামুনকে(নাম মনে নেই।ধরি গুপি বামুন-ব্রাক্ষাণ) চাল ডাল দিয়ে ছিলেন।

তার বেশ কিছু দিন পরে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় গুপি বামুন ই কালি সেজে ভয় দেখিয়ে ভিক্ষা করে। আর মানুষ ভয়ে হুস হারিয়ে ভাবে সত্যি সত্যি মন্ডপের কালি মণ্ডপ ছেঁড়ে সামনে দাড়িয়ে আছে।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।