কিছু আবদারের জানি নেই মানে

কিছু আবদারের জানি নেই মানে

#অণুগল্প
#কিছু_আবদারের_জানি_নেই_মানে
✍#ঝিলিক_মুখার্জী_গোস্বামী

মুঠোফোনের কলার টিউনটা বেজেই চলেছে। প্রায় বার দশেক। ওপ্রান্ত নীরবতা পালন করেই চলেছে। বিরক্ত হয়ে, স্যামসঙ জি৭ টা বিছানার উপর ছুঁড়ে ফেলে দিল, ইলিয়ানা।

আলাপটা ছিল ভার্চুয়াল। সেই আলাপে কখন যে আত্মিকতা জুড়ে গেছে কেউ টের পায়নি। একে অপরের বেশ খানিকটা কাছে আসতে খুব একটা সময় নেয়নি।

-“বন্ধু হবি?”

আবদারে পৌঁছে গিয়েছিল ইলিয়ানার দোরগোড়ায়।

জিজ্ঞাসার, আবেগী আবদারকে দূরে ঠেলে দিতে পারত!

ভার্চুয়ালি আলাপনের আজ প্রথম দিন। মুখোমুখি দু’টো মানুষের দাঁড়ানোর।

আসমানি রঙা অ্যাক্টিভা প্লাসকে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়ে, জিজ্ঞাসা। লকডাউনের দিনে একমাত্র ভরসা।

”যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব?”
অবশেষে পাড়ি দিয়েছিল।
উপেক্ষা করতে পারেনি, বন্ধুর হাতছানি।

মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে।
স্কুটির স্পিডোমিটারের কাঁটা শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে।
হাইওয়ে ধরে গাড়ি গুলো সাঁই সাঁই করে বেরিয়ে যাচ্ছে, কেউ কাওকে তোয়াক্কা না করে।

-“হ্যালো”
-“সরি….রিসিভ করতে পারিনি!”
-“ইলিশ-পোলাও রেডি থাকে যেন!”
-“গিভ মি থার্টি মিনিটস মোর প্লিজ।”
-“আই উইল বি……..”

ঘড়ির ছোট -বড়ো হাত গুলো পাল্লা দিয়ে রাউন্ড দিচ্ছে। সূর্য কিরণ মাথার ওপর থেকে সরে গিয়ে পশ্চিমে ঢলতে শুরু করেছে।

“কিছু আবদারের জানি নেই মানে।
তোর সঙ্গে আজ আমাকে নে।”

বার কয়েক টিউনটা বেজে আবারও বন্ধ হয়ে গেল।

আকাশ, বীভৎস রকমের লাল রঙা আবির নিয়ে খেলা শুরু করেছে। অকাল হোলি।

ডোরবেলে মিষ্টি আওয়াজটা বেজে উঠল।
ইলিয়ানা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই…..

-“ইলিয়ানা বলছেন?”
-“আপনার নামটাই ফেভারিটের তালিকায় পেলাম।”

অন্ধকার নামছে।
জানালা ভেদ করে সরু আলোর রেখাটা প্রবেশের বৃথা চেষ্টা করছে।
সোফার একটা কোণে বসা থাকা শরীরটা হঠাৎই বলে উঠল…..

-” আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম। এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি।”

-” গল্পের শুরু তুই করলেও শেষটা……”

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 4.5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close