কৃতজ্ঞতা

কৃতজ্ঞতা

কৃতজ্ঞতা

মোঃ নাজিউল হক

 

নী পরিবারের একজন পাহাড়াদার
নাম তার রহিম।
রহিম তার পরিবারকে নিয়ে খুব কষ্টে চলে,
তবুও সে তার মনিবকে বেতন বাড়ানোর কথা বলতে সাহস পায় না।
যখন তার মনিব অাসত তখন বাড়ির গেট খুলে তাকে অভিবাদন জানাত।
কিন্তু শাহেদ সাহেব(রহিমের মনিব) কোন উত্তর দিত না।
প্রতিদিন রহিম শাহেদ সাহেবকে অভিভাদন জানাত,
কিন্তু কোন উত্তর পেত না।
রহিম মনে করত তার মনিব খুব কঠোর।
যখন শাহেদ সাহেবের বাড়িতে অনুষ্ঠান হতো অনেক খাবার রান্না হতো।
খাবার পর্যাপ্ত বেঁচেও যেত,
সে খাবার রহিম তার পরিবারের জন্য নিয়ে যেত।
শাহেদ সাহেবের বাড়ির গেটের পাশে অনেক ডাস্টবিন ব্যাগ রাখা হত,
এসব ডাস্টবিন ব্যাগ শাহেদ সাহেবের বাড়ি থেকেই অাসত।
রহিম সব নিজে ফেলে দিতো।
রহিম একদিন ডাস্টবিনের ব্যাগ ফেলতে গিয়ে দেখে একটি সতেজ খাবারের ব্যাগ।
ব্যাগে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, খাবার ও ফলমূল।
রহিম কিছু মনে না করে খাবারের ব্যাগটা নিয়ে যায়।
এভাবে রহিম প্রতিদিন এইরকম খাবারের ব্যাগ পেত,
সেটা রহিম নিয়ে যেত,
এতে তার পরিবারের চাহিদা মিটে যেত।
এভাবে পাঁচ বছর কেটে যায়।
হঠাৎ তার মনিব মারা যায়।




শাহেদ সাহেব মারা যাওয়ার পর থেকে সেই জায়গায় অার রহিম খাবারের ব্যাগ পায় না।
রহিম প্রতিদিন অাশায় থাকে,
যে খাবারের ব্যাগ পাবে কিন্তু অার সে পায় না।
তখন রহিম বাধ্য হয়ে শাহেদ সাহেবের স্ত্রীর কাছে বেতন বাড়ানোর কথা বলে।
তখন শাহেদ সাহেবের স্ত্রী বলে, হঠাৎ তুমি শাহেদ মারা যাওয়ার পর বেতন বাড়ানোর কথা বলছ???
এতদিন কেন বললে না????
রহিম কি বলবে বুঝতে পারছিল না।
তখন রহিম নানারকম কথা বলে কিন্তু শাহেদ সাহেবের স্ত্রী সেটা বিশ্বাস করে না।
তখন রহিম অাসল কথাটা বলে দেয়,
তারপর শাহেদ সাহেবের স্ত্রী কেঁদে ফেলে।
তখন রহিম বুঝতে পারল সে বেতন বাড়ানোর কথা বলে ভূল করেছে।
তখন শাহেদ সাহেবের স্ত্রী বললো, তুমিই হলো ৭ম ব্যাক্তি যাকে শাহেদ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও ফলমূলের ব্যাগ দিত।
রহিম এই কথা শুনে অবাক হয়ে গেল,
সে ভাবতেই পারছে না তার মনিব তাকে এত খাবারের ব্যাগ দিত অার
এর অাগেও অনেক পাহাড়দারকে দিয়েছে।
তারপর থেকে শাহেদ সাহেবের ছেলে অাছাদ খাবার, ফলমূল, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রহিমের বাড়ি পৌছে দিয়ে অাসে।
একদিন অাছাদ রহিমকে খাবার, জিনিসপত্র দিয়ে অাসার সময় রহিম অাছাদকে ধন্যবাদ জানালো।
কিন্তু সেও তার বাবার মত কোন উত্তর দিলো না।
রহিম তখন জোরে বললো, ধন্যবাদ।
তখন অাছাদ পিছন দিক ফিরে তাকিয়ে বললো, অামিও বাবার মত কানে শুনতে পাই না,
অামারও একই সমস্যা,
কিছু মনে করো না এই বলে অাছাদ চলে গেল।
রহিম এত বছর সেখানে কাজ করেও সে জানতে পারে নি তার মনিব কানে শুনতে পায় না।
রহিম বুঝতে পারল কেন তার অভিবাদনের উত্তর দেয় নি তার মনিব।
রহিমের চোখে চলে এলো অনুশোচনা ও কৃতজ্ঞতার কান্নার পানি।

🙂🙂🙂🙂🙂🙂সমাপ্ত🙂🙂🙂🙂🙂

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।