জনৈক চিত্রকরের মৃত্যু

জনৈক চিত্রকরের মৃত্যু

গল্প –জনৈক চিত্রকরের মৃত্যু (18+ গল্প)

লেখক- কৃষ্ণ গুপ্ত

 

লকাতা শহরে দিবাকর শেঠ একটি পরিচিত নাম। তিনি একটি রাজনৈতিক পার্টির প্রথম সারির শুধু লিডার নন। একটি মাল্টি ন্যাশানাল কোম্পানির ডিরেক্টর ও। এছাড়া ওনার আর এক বড় পরিচয়, উনি একজন বড় চিত্রকর। মাঝে মাঝে ই বিভিন্ন গ্যালারি তে ওনার ছবি প্রদর্শিত হয়। দেশ, বিদেশের বহু নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান , শিল্পপতী লাখ লাখ টাকা খরচ করে ওনার ছবি কেনেন। আর তাদের অন্দরমহল সাজিয়ে রাখেন। সেই সূত্রে দেশ, বিদেশ ঘুরে বেড়ান দিবাকর বাবু।
কয়েক মাস আগে একবার লখনউ বেড়াতে গিয়ে গোপন সূত্রে এক চিত্রকরের সন্ধান পান। যাকে স্হানীয় সবাই ‘ছবি বাবা’ বলেই চেনেন। কারণ ওনার ছবি নাকি কথা বলে। কিন্তু উনি প্রচার বিমুখ আর এক অজ গাঁয়ের নিরালা, নিভৃতে এক কামরার একটি ঘরে অনারম্বর জীবন যাপন করেন। চাষ-বাস আর আর বিভিন্ন পট, ক্যানভাসে ছবি এঁকে কোন রকমে তার দিন গুজরান হয়।

একথা শোনার পর দিবাকর তার লোক জন দের নিয়ে সেই তস্য নাম না জানা গাঁয়ের ‘ছবি বাবার’ ঘরে হানা দিলেন। দিবাকর বাবু উপস্থিত হবার পর খেয়াল করলেন সেখানে একটি বোর্ডে লেখা, সন্ধ্যা ছটার পর ‘ছবি বাবা’ কারোর সঙ্গে দেখা করেন না।
দিবাকর হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সন্ধ্যা ছটা বেজে গেছে। আর বোর্ডে লেখা অনুযায়ী ‘ছবি বাবা’ ও সব দরজা, জানালা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই কয়েক বার ডাকা ডাকির পর ও কেউ খুলল না।
কিন্তু তার নাম দিবাকর শেঠ। তিনি বাংলা থেকে এখানে এসে এক সামান্য ‘ছবি বাবার’ সঙ্গে দেখা করবেন, তার জন্য কারোর অনুমতির কি প্রয়োজন?
উনি তাই দরজার কড়া নাড়লেন, তাতে ও কেউ খুলল না দেখে দরজা তে কান পাতলেন। ভিতরে কথা বার্তার পরিষ্কার আওয়াজ কানে আসতে ই চাবির গর্তে চোখ লাগালেন। তার পর অবাক হয়ে গেলেন।
এ কি করে সম্ভব? ওনার বড় বড় পোট্রেট থেকে ছবি গুলো এক এক করে জীবন্ত হয়ে নেমে আসছে! কথা বলছে, গল্প করছে, আবার নিজের নিজের ফ্রেমে আশ্রয় নিচ্ছে! আশ্চর্য, এই ছবি বাবা কি ম্যাজিক জানে নাকি?
মনে মনে এত টাই উৎসাহিত হলেন, যে দরজা তে বল প্রয়োগ করে দরজা ভেঙে ঢুকে পড়লেন।
ভিতরে ঢুকে অবশ্য ফের অবাক হলেন দিবাকর বাবু। ‘ছবি বাবা’ যে দিব্যি একা বসে আছে! গাল ভর্তি সাদা দাঁড়ি তে বয়স বোঝা ভার। বোঝা ভার তিনি হিন্দু না মুসলিম। তবে দৃষ্টি শক্তি প্রখর বৃদ্ধের।
–কউন হ্যায় আপ? বাহার মে বোর্ড কা লিখা দেখা নেহি? — অনাহূত এত জন কে এভাবে ঢুকতে দেখে বৃদ্ধ ভয় পেয়ে গেল।
— জী, জরুর দেখা থা। লেকিন জরুরত নেহি সামঝা।
মেরা নাম দিবাকর শেঠ হ্যায়। মেরা যো মর্জি মে আতা হ্যায়, ওহি করতা হু। কিসিকা ইজাজত নেহি লেতে।

— ও আপ বাঙ্গাল কা হ্যায়? স্বামী বিবেকানন্দর ওখান থেকে এসেছেন? কিন্তু আপনার এরকম ঔদ্ধত্য কেন? কেন ই বা আমার নিরাবতা, আমার সংস্কার কে ভঙ্গ করতে এসেছেন? — এত গুলো লোক কে একসঙ্গে ঢুকতে দেখে বৃদ্ধ ঘাবরে গেল। মনের মধ্যে এক গাদা দুশ্চিন্তা দানা বাঁধল।
‘ছবি বাবা’ বাংলাতে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারেন দেখে দিবাকর অবাক ই হল। কোন ভদ্রতা বোধ না দেখিয়ে দিবাকর বড় ঘর টা ঘুরে বেড়াতে লাগল। দেখতে লাগল দেওয়ালে ঝোলানো আর মেঝেতে ফ্রেমে বন্দি একের পর এক অসাধারণ চিত্র গুলোকে। এই চিত্র গুলো যেন স্বর্গ থেকে আনা হয়েছে! সব কটিই এত সুন্দর আর জীবন্ত! সব হিন্দু অপ্সরা, অপ্সরী আর কিন্নর দের ছবি। দিবাকরের মনে হতে লাগল, ও যেন ছবি গুলো দেখছে না। ছবি গুলোই যেন ওকে দেখছে! এত টাই জীবন্ত সব।

 




 

একটা ফ্রেমের কাছে দাঁড়িয়ে দিবাকর এক ভয়ার্ত সুন্দরী ষোড়শী কে দেখছিল। যেন
দিবাকরের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা করছে সে। ও কাছে ভাল করে দেখতে যেতেই দেখল ফ্রেম সাদা। মেয়েটি ‘ছবি বাবার’ পাশে দাঁড়িয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছে।
সেদিকে তাকিয়ে দিবাকরের চোখ, মুখে এক বিস্ময়ের সৃষ্টি হল। — এ কি করে সম্ভব?
— আপনি কি যাদুকর, যে এক একটা ছবি এভাবে জ্যান্ত হয়ে যায়?
— না বাবা, আমি অত্যন্ত সরল, সিধে সাদা একজন মানুষ। আজ যে টুকু আঁকার ক্ষমতা আমি পেয়েছি। সবই মেরা গুরুজী কা আশীর্বাদ।
লেকিন, ম্যায় আপকো ইস বারে মে কুছ নেহি বাতাউঙ্গা। আপ ইধার সে আভি চলা যাইয়ে। আমি চাই না, আমার এই গোপন সৃষ্টির কথা লোক জানুক। — বৃদ্ধ হাত জোড় করে বলল।
দিবাকরের মুখে এক ক্রূর হাসি খেলে গেল। বলল– এত বড় প্রতিভা নিয়ে তুমি এরকম অনারম্বর ভাবে পড়ে আছ বাবা? আজ তুমি চাইলে তোমার সৃষ্টি তোমাকে কোটিপতি করতে পারে। তা আঁকার এত খরচ কোথা থেকে যোগার কর?

— উপর ওয়ালা কা মেহেরবানি সামঝিয়ে। আমি অর্থ চাই না স্যারজী।
মেরে লিয়ে তো উপর ওয়ালা কা দোয়াই সব কুছ হ্যায়। লেকিন, আপকো ম্যায় ফের হাত জোড়তা হু, এখান থেকে যান। আমার পারিবারিক জীবনে বিঘ্ন ঘটছে। আমাকে আমার পরিবারের মধ্যে থাকতে দিন।
— আপনার পরিবার? আপনি তো ফকির মানুষ।
–দিবাকর হেসে বলল।
দিবাকরের কথায় বৃদ্ধ হেসে বলল– ঐ যে দেওয়ালে অপ্সরার ছবি টা দেখছেন? ওর নাম কেতকী, আমার স্ত্রী। আর এই ষোড়শী পল্লবী আমারই ঔরস জাত মেয়ে।
— আপনার ঔরস জাত?
— হ্যাঁ, ঠিক তাই। বাস্তব জীবনে আমি বিয়ে থা না করলেও ছবি তে সৃষ্টি কেতকীর সঙ্গে আমার সব রকম সম্পর্ক আছে। তাই আমার ছবিতে সৃষ্ট কেতকীর সঙ্গে আমার সাধী হয়। এর পর যখন কল্পনার ক্যানভাসে পল্লবীর সৃষ্টি হয়, তখন সেই বলে যে সে আমার মেয়ে। তাছাড়া এই ঘরের সব সৃষ্টি ই আমার পরিবার। লেকিন আপ আভি যাইয়ে স্যারজি।

কি আশ্চর্য? এরকম হয় নাকি আবার! — আপনি আমাকে অবাক করলেন বাবা। ছবির চরিত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও করা যায় নাকি? — দিবাকর কথা টা বলে একটা সিগারেট ধরাতে গেল।
বৃদ্ধ এক ঝটকা তে তা ফেলে দিল। — আপকো ম্যায় পহলেই বোলা থা, ইয়ে যায়গা মেরা সৃষ্টি কা আধার হ্যায়। এখানে কোন নেশা চলে না।

দিবাকর বৃদ্ধের কথায় কিছুটা ক্রুদ্ধ হলেও বাকি কথায় ভ্রূক্ষেপ না করে এক দৃষ্টে মেয়ে টির দিকে তাকিয়ে রইল। এত রূপ বোধহয় কোন মর্ত লোকের কারোর সম্ভব না। মনের ভিতর একটা গোপন অভিলাষা জেগে উঠল। ও পকেট থেকে চেক বইটা বার করল। তার পর একটা সই করে ফাঁকা পাতা টা বৃদ্ধের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, — নাও, কত বসাবে বসাও। আমার সব ছবিগুলো দরকার। আমি সঙ্গে নিয়ে যাব।
— আমি ছবি বিক্রির জন্য বানাই না স্যার জী। এরা আমার পরিবার। উপর ওয়ালার আশীর্বাদে আমি এদের সৃষ্টি করেছি। কেন বিক্রি করব?
তাছাড়া এরা একমাত্র আমার কথা ই শোনে। বাইরের মানুষের পক্ষে এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। — ‘ছবি বাবা’ হাত জোড় করে বলল।
— টাকা নেবে না? — দিবাকরের মুখে ক্রূরতা ফুটে উঠল। তারপর পকেট থেকে পিস্তল টা বার করে বৃদ্ধের মাথায় ধরল ও।
— ভেবে দেখ একবার। আমি কাউকে বেশী সুযোগ দিই না।
দিবাকরের হাতে পিস্তল দেখে আর ওর নিচু স্বরের কথাবার্তা গুলোতে বৃদ্ধের শরীরে একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে এল। তবু তা সামলে বলল, — কেউ ভিক্ষে চাইলে আমি এমনি দেই। কিন্তু কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্য নিয়ে চাইলে প্রাণ থাকতে দেব না। এর আগে অনেকেই ছবি চুরির চেষ্টা করেছিল স্যার জী। লেকিন কামেয়াব নেহি হুয়া হ্যায়। আপনি ও এই ছবি নিয়ে বাঁচবেন না। কিউ কি আপকা নজর বুরা হ্যায়। দয়া করে এখান থেকে চলে যান।
‘ছবি বাবার’ কথায় দিবাকরের চোয়াল শক্ত হল। বলল–খুব বড় ভুল করলে। শেঠ সাহেব কারোর দয়া নেয় না। দয়া করে। নাও তবে এবার গুলিই খাও।
‘ছবি বাবা’ কে একটা ও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ট্রিগার টিপে দিল দিবাকর। সঙ্গে সঙ্গে খুলি ফেটে মাংস, রক্ত চারদিকে ছিটকে পড়ল।
ফাটা খুলি তে ছবি বাবা’ অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে ওর দিকে হা করে তাকিয়ে রইল স্থির হয়ে। তার পর বিছানা তে নিষ্প্রাণ শরীর টা গড়িয়ে পড়ল।
ছবি বাবা পড়ে যেতেই পল্লবী একটা আর্ত চিৎকার করে ভয়ে পুনরায় ফ্রেমে আশ্রয় নিয়ে নিল। দিবাকর লক্ষ্য করল ফ্রেমের ভিতরে পল্লবীর দু চোখ থেকে জলের ধারা নেমে আসছে!
দিবাকরের সঙ্গের গার্ড দের বলল, যে লাশ টার কোন একটা ঠিকানা করে সমস্ত ছবি গুলো যেন প্যাক করে তার বাড়ি নিয়ে আসা হয়।

এর দু দিন পর দিবাকর বাড়িতে ফিরে এল। ব্যবসার কাজের মধ্যে ছবি গুলোর কথা আর খেয়াল হয় নি। বাড়িতে এসে তিনি বিভিন্ন মহলে আর নিউজ চ্যানেলে খবর করে দিলেন আগামী দশ তারিখ তার বাড়ির গ্যালারি তে একদিনের একটা চিত্র প্রদর্শনী করতে চান। সব বড় বড় শিল্পপতি আর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানান হল।

দশ তারিখ আসতে এখনও তিন দিন বাকি। তার বিশ্বস্ত অনুচররা সমস্ত ব্যবস্থাপনা ঝড়ের গতিতে সব করতে লাগল।
এর মধ্যে একদিন ডিনার করার পর দিবাকরের পল্লবীর কথা মনে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব বারে এসে স্টোর রুম থেকে পল্লবীর ছবি টা আনিয়ে নিল। দু তিন দিন অন্ধকারে পড়ে ছিল সব ছবি গুলো।
মনে অনেক অভিলাষা নিয়ে দিবাকর ছবির ফ্রেম থেকে খবরের কাগজের আস্তরণ টা সরিয়ে নিল। কিন্তু একি!
কি চেহারা হয়েছে মেয়েটার? দু চোখে শোকের গভীর ছায়া! কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচ দুটো কাল হয়ে গেছে। শরীরের জৌলুস যেন হঠাৎ ই গায়েব হয়ে গেছে! লাস্যময়ী ছবি টা হঠাৎ পিতৃ হত্যা তে যেন মূর্ছা গেছে।
দিবাকর যত দেখছে ওকে, তত অবাক হয়ে যাচ্ছে।
মনে মনে হাসল দিবাকর। এ নিশ্চয়ই বুড়ো টার অকাল মৃত্যুর শোক!

দিবাকর একটা সিগারেট ধরাতে গেল। ভাবল একটু আয়েশ করে কটা টান দিয়ে মেয়ে টাকে ছবি থেকে টেনে নামাবে। কিন্তু মেয়ে টাই হঠাৎ ওর ভাবনা কে উল্টো করে জীবন্ত হয়ে নেমে এল। ‘ছবি বাবার’ মতন ওর সিগারেট টা ঠোঁট থেকে টেনে ফেলে দিল।
ও রাগ করার বদলে অবাক ই হল। তার পর মেয়েটার একটা হাত চেপে ধরল ও।
যন্ত্রণা তে কঁকিয়ে উঠল পল্লবী। — মুঝে ছোড় দিজিয়ে। ম্যায় আপকা কেয়া বিগারা?
— ছাড়ব বলে তো তোমার হাত ধরি নি খুকুমণি। তোমার সঙ্গে তো সোহাগ করব বলে তোমাকে নিয়ে এসেছি।
লেকিন স্যারজি আপ মেরা পিতাজি কে ওমর কা হ্যায়। পিতাজি কো মারকে এক গুনা তো আপনে করচুকা। লেকিন মুঝে ছোড় দিজিয়ে।

দিবাকর পল্লবীর কোন কথা কে পাত্তা না দিয়ে দু হাতে শক্তি প্রয়োগ করে ওকে সোফার উপর ফেলল। তারপর পল্লবীর ঠোঁট টা নিজের ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরল ও। তার পরই অনুভব করল তীব্র জ্বালা। ঠোঁট থেকে রক্ত ঝড়তে লাগল। মেয়ে টা আত্মরক্ষায় কামড়ে দিয়েছে ওর ঠোঁটে!

প্রবল আক্রোশে উঠে গিয়ে দিবাকর পল্লবীর মুখে একটা জোরে ঘুষি ছুড়ল। সোফা থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ল পল্লবী। ঠোঁটের কোনা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ল কিছুটা।

 




 

দিবাকর উঠে গিয়ে পুনরায় ওকে চেপে ধরল। তারপর প্রবল শক্তি তে তছনছ করে দিতে লাগল ওর সমস্ত প্রতিরোধ কে।
— মুঝে ছোড় দে শয়তাণ। খোদা কসম, তেরা ইয়ে হরকত বহত মেহেঙ্গা পড়েগা। মুঝে নিকাল নে দো। নেহি তো তু মর জায়েগা। –পল্লবী ছাড়া পাওয়ার জন্য নখ দিয়ে আঁচড়ে দিতে লাগল দিবাকর কে।
দিবাকর পল্লবীর কথায় কান না দিয়ে ওকে জোর করে বিবস্ত্র করতে লাগল। এরকম ছটফটে অল্প বয়সী দের ওর খুব পছন্দ।
— তু নেহি বাঁচেগা শয়তাণ। তু নেহি বাঁচেগা। । তু মেরা পিতা কা ভি কাতিল হ্যায়। ম্যায় তুঝকো নেহি ছোড়েগা। — পল্লবীর নখ, হাত, চোখ, মুখ সব এক সাথে প্রতিবাদে মুখর হয়ে লড়তে লাগল শয়তাণ টার সাথে।
কিন্তু পল্লবী কি যে এক টানা বলে চলেছে, তা দিবাকরের মাথাতে আর ঢুকল না। কিছুক্ষন আগের মদের নেশা টা এখন তুঙ্গে আছে। ওর পশুর মত লোমশ হাত দুটো যা ক্যানভাসে তুলির টান ফুটিয়ে তুলত, তা এখন এক সন্তান তুল্য মেয়ের বুকের উপর খেলা করছে।

পল্লবী অনেকক্ষণ চেষ্টা করছিল, ওর ডান হাতের আঙটি টার কাছে মুখ টা নিয়ে যাবার। যেটা দিবাকর চেপে ধরে রেখেছে। এতক্ষণ পর সেটা মুখের কাছে আনার সুযোগ পেল। আঙটির পাথরের নিচেই রয়েছে তীব্র বিষ। সেটাই এক ঝটকা তে খেয়ে নিল ও। তারপর দিবাকর কিছু বোঝার আগে মুখ থেকে ফেনা উঠে মাথা টা কেমন টলে গেল পল্লবীর।

থতমত খেয়ে উঠে দাঁড়াল দিবাকর। মেয়েটা যে সত্যি সত্যি স্যুইসাইড করল! এখন লাশ টা লুকাবে কোথায়?
এই বারে তো মেয়ে, বৌ সবাই সময়ে অসময়ে আসে নেশা করতে। বাইরে হলে লোক দের দিয়ে বডি গায়েব করা যেত। কিন্তু বাড়িতে সেই সম্ভাবনা কম। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দিবাকর পল্লবীর লাশ টাকে সোফার সিটের তলা তেই লুকিয়ে রেখে একটু নিশ্চিন্ত হল। কারণ সোফা টার উপরের কভার টা অনেক টা গার্ড করেছে। ও উঠে গিয়ে ক্যাবিনেট থেকে স্কচের বোতল টা বার করে আরও তিন-চার পেগ মারল। পর পর দুটো খুন। একবার ধরা পড়লে কোন সামাজিক প্রভাবই বেশী দিন ওকে গরাদের বাইরে রাখতে পারবে না।

ইতিমধ্যে দশ তারিখ চলে এল। গ্যালারির সব ব্যবস্থাপনা রেডি। ওর নির্দেশে ‘ছবি বাবার’ সব প্যাক করা ছবি ই টাঙানো হয়েছে। যে গুলো দেশ, বিদেশের সবার সামনে ও নিজের ছবি বলে চালাবে।
ইতিমধ্যে এক নতুন সমস্যা এসে উপস্থিত। মেয়ে হঠাৎ তার দুজন বান্ধবী কে নিয়ে বারের চাবি চাইল ড্রিঙ্কস করবে বলে। দিবাকর অনেক চেষ্টা করেছিল, যাতে ঐ ঘরে যাওয়া থেকে মেয়েকে আটকানো যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হল না।
ধরা পড়ে যাবার এক বড় সম্ভাবনা নিয়ে দিবাকর আর্ট গ্যালারি তে এল।

ততক্ষণে অতিথিরা সব আসতে শুরু করেছে। দিবাকর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সবাই কে ছবি গুলোর বিষয় বস্তু নিয়ে বোঝাচ্ছে। আর সবার প্রশংসা তে ভেসে যাচ্ছে। সবাই ভেবে অবাক, কিভাবে আঁকা ছবি জ্যান্ত হতে পারে! দিবাকর সবাই কে বোঝাতে লাগল যে, এগুলো সব তারই ক্রেডিট আর সন্ধ্যা র পর চরিত্র গুলো একদম জীবন্ত হয়ে যায়।
শিল্পপতি বাজাজ নিজে ও খুব বড় চিত্র বিশেষজ্ঞ। একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দিবাকর বাবু কে ডাকলেন।
— আচ্ছা মিস্টার শেঠ, এই ছবি টা একটু অন্যরকম না?

সবার কাছে প্রশংসা শুনে শুনে ততক্ষণে দিবাকর একটু ফুরফুরে হয়েছিল। কিন্তু বাজাজের ডাক শুনে কাছে আসতেই হাসি মিলিয়ে গেল মুখের। — এতো পল্লবীর ছবি! কিন্তু কি বিভৎস এটা!
একটা সোফার পাশে বিবস্ত্র অবস্হায় পড়ে আছে মেয়েটা! মুখ থেকে ফ্যানা বের হচ্ছে। চোখ দুটো স্থির। যেন ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু এ ছবি তো ‘ছবি বাবা’ আঁকে নি! এতো গত কাল রাতের ঘটনা। হঠাৎ যেন শ্বাস টা আটকে গেল দিবাকরের। নিজের মনে কথা টা ভেবে ই আতঙ্কে হাত, পা, ঠাণ্ডা হয়ে যেতে লাগল। কালকের স্যুইসাইড টা যদি ফ্রেমের উপর চিত্র হয়ে সত্যতা কে ফুটিয়ে তুলতে পারে। তবে তো ‘ছবি বাবার’ মৃত্যর ও ছবি তৈরি হয়ে থাকতে পারে তার অগোচরে।
— কি ভাবছেন মিস্টার শেঠ?
ছবি টা কিন্তু অসাধারণ হয়েছে। এটা স্যুইসাইড না খুন?
মিস্টার বাজাজের প্রশ্নে কেমন যেন ঘাবরে গেল দিবাকর। তাও মুখে হাসি টেনে বলল — না না, খুন না। খুন না। এটা একটা স্যুইসাইড।
দিবাকর বাবুর উত্তর টা যেন বাজাজ সাহেবের পছন্দ হল না। সেরকম ভাবেই ছবি টা দেখতে লাগল।
— আচ্ছা এটার দাম কত রেখেছেন? আমি এটা নিতে চাই আমার বেড রুমের জন্য।
— আমার সৌভাগ্য।– মৃদু হেসে বলল দিবাকর। মনের ভিতর যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল এই ভেবে যে, লোকটা হঠাৎ এই ছবি টা নিয়েই পড়ল কেন?

আর সবচেয়ে অবাক হল, পল্লবী কে তো সোফার তলায় রেখেছিল। ও মারা যাবার পর কিভাবে……..
ভাবনার মাঝেই মিহির এল কিছু বলতে। মিহির ওর ব্যক্তিগত সেক্রেটারি।
— স্যার, মিস্টার অচিন্ত্য সরকার এসেছেন। একটু এদিকে আসুন প্লিজ।
ওকে দেখে দিবাকর গলা নামিয়ে বলল–
— ওকে, আমি যাচ্ছি। কিন্তু যে ছবি টা মিস্টার বাজাজ দেখছেন, তা এখানে এল কিভাবে?
— তা তো স্যার আমি জানি না। আমি তো স্টোর রুমের সব ছবিই দুদিন আগে নিয়ে আসি গ্যালারি তে।
— তাজ্জব ব্যাপার! এও কি সম্ভব? — দিবাকর মাথা চুলকোতে লাগল।
ততক্ষণে মিস্টার বাজাজ আবার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। — আমি এই ছবিটার জন্য পাঁচ লাখ খরচ করতে রাজি আছি মিস্টার শেঠ।
— ওকে, ডান, — দিবাকর মৃদু হেসে ডান হাতের বুড়ো আঙুল টা একবার দেখিয়ে ওনাকে দ্রুত পাশ কাটিয়ে অচিন্ত্য সরকার কে দেখা দিতে চলল।
মিস্টার বাজাজ একটু হাসল তা দেখে।
পুরো প্রদর্শনী তে দিবাকরের পাঁচ পাঁচটি ছবি বিক্রি হয়ে গেল। একদিনে কামাই কুড়ি লাখ। দিবাকরের মিশন সফল।
পরদিন ছবি বিক্রি আর প্রশংসিত হবার আনন্দে বেশ খাসা মুডেই ছিল দিবাকর। কিন্তু তারপর এক এক করে শুধু খারাপ সংবাদ আসতে লাগল।
যে পাঁচ জন কাল বিকেলে ছবি গুলো কিনে নিয়েছিল, এক মাত্র মিস্টার বাজাজ বাদে বাকি সবাই কেই মর্মান্তিক ভাবে মৃত অবস্হাতে বেড রুমে পাওয়া গেছে! আর তার থেকে ও আশ্চর্যজনক ব্যাপার, সেই ছবি গুলো তাদের বাড়ি থেকে মিসিং!

কিন্তু মিস্টার বাজাজ বেঁচে গেলেন নাকি? একটা কি ফোন করে দেখবে ও?
না না, মন সায় দিল না দিবাকরের। কি দরকার আছে আগ বাড়িয়ে খোঁজ নিতে যাবার? এমনি তে মিস্টার বাজাজ খুব একটা সাদাসিধে লোক নন।
এই ঘটনার পর দিন একটা এন. জি. ওর হয়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করতে গিয়ে দিবাকরের বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেছিল।
গত কালকের মৃত্যু গুলো ওকে ভয়ঙ্কর নাড়া দিয়ে গেছে। প্রাইভেট বারে এসে ক্যাবিনেট খুলে আকণ্ঠ মদ গিলল ও। সত্যিই কি ‘ছবি বাবার’ ছবি গুলো অভিশপ্ত? যে চারজন ছবি গুলো নিয়েছে, তারা কি বেড রুমের নিভৃতে ওর মত অপ্সরী দের কু নজরে দেখছিল? তার জন্য ই কি তাদের কাউকে শ্বাস রোধ করে, কাউকে ছুরিকাহত করে মারা হল। তাহলে কি পল্লবী কে নষ্ট করার অভিপ্রায়ে ওর মৃত্যু ও আসন্ন? আর মিস্টার বাজাজ নিশ্চয়ই এসব করেনি, তাই বেঁচে গেছে?
প্রশ্ন গুলো এক সাথে ওকে যেন গিলে খাচ্ছে। চোখ খুললেই ‘ছবি বাবা’ আর পল্লবীর মৃত মুখ গুলো ভেসে উঠছে। ভাবতে ভাবতে দিবাকর মদের গ্লাসে যেন ডুবে গেল।
তারপর কতক্ষণ টেবিলের উপর মাথা দিয়ে পড়ে ছিল,ও জানে না। একটা ভয়ঙ্কর ঝড়, বৃষ্টি হয়ে গেছে কিছু আগে। চারদিকে এখনও শো শো আওয়াজ। আর্ট গ্যালারির কথা টা একবার মনে পড়তেই চাবি টা নিয়ে ও নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল।

 




 

ওদিকে দিবাকরের ছবি টা এনে বাজাজের মনে হল এই সৃষ্টি বোধহয় তিনি কোন এক সময় দেখেছেন বা শুনেছেন। তাও অনেক বছর আগে। নাম টা ও মনে পড়েছে– ‘ছবি বাবা’। যিনি কোনও দিন প্রচারের আলো তে আসেন নি। তবে তিনি ছবি বিক্রি করেন না। সারা বিকেল ছবি টা কে নাড়া ঘাটার পর তার মনে পড়ল, ‘ছবি বাবার’ কথা তিনি লখনউ তে শুনেছেন। কি মনে হল, তিনি সেখানে তার কিছু পরিচিত ক্লায়েন্ট কে ফোন করে নিশ্চিত হলেন যে কদিন আগে ‘ছবি বাবা’ কে কারা যেন হত্যা করে তার ছবি গুলো চুরি করে নিয়ে গেছে।
বাজাজের মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল। তিনি পুরো বিষয় টি জানিয়ে তার এক পরিচিত পুলিশের বড় আধিকারিক কে ফোন করলেন। আর ছবির বিষয় বস্তু বুঝিয়ে তাকে রাজি করালেন অবিলম্বে লোকাল থানার মাধ্যমে দিবাকর বাবুকে উদ্ধারের জন্য। কারণ তিনি ও ঐ চারজনের মতনই আজ খুন হতে পারেন।

এদিকে দিবাকর গ্যালারির চাবি খুলে পর পর আলো গুলো জ্বেলে দিল। গোল ঘর টিতে এখন আলোর বন্যা। প্রায় পনেরো টি ছবি কাল টাঙানো হয়েছিল। সে দিন ‘ছবি বাবার’ বাড়িতে এত গুলো ছবি দেখার সুযোগ পায় নি দিবাকর। ‘ছবি বাবা’ যে শুধু বেছে বেছে কিন্নর-কিন্নরী, অপ্সরা- অপ্সরীদের ছবি আঁকত তা নয়, এখানে এসে দেখল দক্ষ, অসুর, ইবলিশ, রাক্ষস কেউই বাদ নেই।
সব থেকে আশ্চর্যের, যে চার জন কাল অপ্সরী দের ছবিগুলো কিনে ছিল। তাদের ছবি গুলো এখানে আবার ফিরে এসেছে! সত্যি, কত বিচিত্র বিচিত্র সব ঘটনা ঘটে চলেছে ছবি গুলো নিয়ে!

দিবাকরের মনে হল, নেশা টা যেন একটু বেশী ই হয়ে গেছে আজ। লাইট টা বোধহয় জ্বালাতে ভুলে গেছেন। কারণ পুরো গ্যালারি টা ঘন কাল অন্ধকারে ডুবে গেছে। শুধু ছবির গুলোতে আলো দেবার জন্য যে হোল্ডার গুলো থেকে হাল্কা ফোকাস পড়ে, সে গুলো শুধু জ্বলছে এবং বেশ উজ্জ্বল ভাবেই জ্বলছে। যেন দুর্গা পূজোর কোন মণ্ডপসজ্জা দেখছে!

ছবি গুলো যে এত টা জীবন্ত হতে পারে তা কল্পনা করে নি দিবাকর। দক্ষের ছবির কাছে আসতেই মনে হল তা যেন ফ্রেম থেকে নেমে এল ওর গলা টেপার জন্য।
ও ভয়ে দু পা পিছিয়ে আর একটা ছবির সামনে এসে পিছন ফিরে দাঁড়াল। কিন্তু মনে হল, পিছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস নিচ্ছে। ও চকিতে ফিরতেই দেখে শয়তাণ ইবলিশ হিংস্র দৃষ্টি তে ওকে দেখছে। ও ঘামতে লাগল প্রচণ্ড। এবার এক লাফে সরে এসে দৌড়াতে গিয়ে অন্ধকারে মনে হল কারোর সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেল। একজন অপরিচিত রাজকুমার, হাতে খোলা তরবারি! ওর সারা শরীর বেয়ে হিম শীতল শিরশিরানি নেমে এল। ও দ্রুত পিছন ঘুরল। তারপর আবার ছুটতে শুরু করল। কিছু টা এসে দেখল ও বের হওয়ার রাস্তা ভুল করেছে। আর সামনে এক ভয়ঙ্কর রাক্ষস ওর পথ অবরোধ করে দাঁড়িয়েছে। ও ভয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ল! ওর মনে হল হৃত স্পন্দন যেন এখন ই স্তব্ধ হয়ে যাবে! ও হতভম্বের মতন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াতে লাগল। নিজের এই বৈভব পূর্ণ আর্ট গ্যালারি যেন ওর কাছে অজানা, অচেনা লাগল। যে দিকেই পালাতে যায়, এক একটা ছবির চরিত্র সশস্ত্র হয়ে ওর পথ অবরোধ করে দাঁড়ায়। এ যেন এক রূপ কথার রাজ্যে এসে পড়েছে দিবাকর। যেখান থেকে পালাবার কোন পথ নেই। সামনে শুধু মৃত্যুর হাতছানি।
ও এবার অনেক কষ্টে অন্ধকারে প্রধান দরজা টা দেখতে পেল যেন।
হ্যাঁ, ওটা তো দরজাই। বাইরে থেকে মনে হয় কেউ ধাক্কা মারছে। ওরা পুলিশ নাকি?

ও সেদিকে আসতেই একটা ছবির সঙ্গে ও ধাক্কা খেল। এই ছবি টা এখন ও কাগজ দিয়ে ঢাকা! ওরা কি এটা প্রদর্শনী তে টাঙাতে ভুলে গেল?
এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ল ও। পালাবার আগে এই অদেখা ছবি টাকে দেখার কৌতূহল কে নিবারণ করতে পারল না।
পিছনে তাকিয়ে দেখল অনেক গুলো পদশব্দ ক্রমশ এগিয়ে আসছে। ও তাড়াতাড়ি ফ্রেমের উপরের কাগজ টা সরিয়ে দিতেই আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ছবিটা যে ওরই মৃতদেহের! আর ওর চতুর্দিকে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে সব অপ্সরা আর কিন্নরের দল। এমন কি ঐ টুকু মুহূর্তের মধ্যে ও ‘ছবি বাবা’ আর পল্লবী কে ও চোখে পড়ল ওর। গলা দিয়ে আওয়াজ বের হল না দিবাকরের। অল্প আলোতে দেখল, একটা ফ্রেম থেকে এক সুন্দরী অপ্সরী ছোরা হাতে ওর শিয়রের কাছে নেমে এল। বেশ পরিচিত ইনি…. মনে পড়েছে — কেতকী। মানে ‘ছবি বাবার’ স্ত্রী। তবে কি সে স্বামী আর কন্যার হত্যার প্রতিশোধ নিতে এল?
দিবাকর শেষ বারের মতন পালাতে গিয়ে দেখল দরজা কিছুতেই খুলছে না। অথচ বাইরে থেকে একদল লোক ও দরজা খোলার মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে। আর ওরা পুলিশ!
হঠাৎ ঘাড়ের কাছে অসহনীয় তীব্র জ্বালা অনুভব করতেই ওর বিস্তারিত চোখ পড়ল ছবি তে নিজের মৃতদেহের দিকে। মুণ্ডু টা অনেক দূরে পড়ে আছে। একদম ‘ছবি বাবার’ পায়ের সামনে।

———- সমাপ্ত——-

 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।