তোমার আগমন

তোমার আগমন

লেখিকাঃ রামিশা আনজুম

 

জ সারাদিন এতো প্রেসার কাজের, পুরো টেবিল জুড়ে ফাইল অার ফাইল।  মাথা প্রায় যেতে চল্ল নাবিনার। এমন সময়,

-ম্যাডাম রনক স্যার এই মুহুর্তে এই ফাইলটা চেক করে দিতে বল্ল প্রেজেন্টেশন রুম এ অাছে স্যার ১৫ মিনিট সময় দিয়েছে বল্ল।

–হে হে অামি তো রোবট তাইনা?

–ম্যাডাম এখন কি অার করবেন?

–রবিন অাপনি এই মুহুর্তে রুম থেকে চলে যান স্যার কে বলে দিন অামি পারবোনা।

–কিন্তু ম্যাডাম নতুন ক্লাইন্ড অাজকেই অাসছে অার ৩০ মিনিট বাকি। অার তাছাড়া ম্যাম তারা উন্নত মানের ইউকে থেকে নাম্বার ওয়ান ব্রান্ড। “Seikh B&W colour of group Enterprise Cybersecurity brand ” বলে কথা।

–বাহ্ বাহ্ তোমার এইসব অার কি বল্লা?  seikh brand?

–yes madam.

–অাচ্ছা কোনো অফিশিয়ালি মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ সম্মত রনক স্যার এর সাথে কথা হয়েছিল এই ব্রান্ড এর?

–জ্বী ম্যাম। টাইম খুব কম অার তারা খুব কঠোর।

–বাহ্ বাবা বাহ্। ফাইল দেখসো? ভালো বুঝে এই “shaila group” কে উন্নত করতে গিয়ে অামাকেই বাঁশ মারছে না?

–ম্যাম অাপনি রাগ হচ্ছেন কেন?

–রবিন দেখেছেন?  টেবিলের অবস্থা ৪১ টা ফাইল বাকি  অাছে এখনও রেনুভার ও  করা হয়নি এতগুলো কাজ স্যার অামাকে কিভাবে দিল?




–ম্যাম ১ ঘন্টায় পারবেন না?  অার তাছাড়া অাপনি ম্যানেজার পোস্ট এ কম্পানির সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন অাপনি।

–উফফ। রবিন প্লিজ এই কাহিনি অারনা।  অামি এই চাকরিই অার করবোনা।

–কে বল্ল চাকরী করবেনা?

–রনক স্যার অাপনি?

–yes..my dear..তুমি যেদিন এই “shaila designed and g&E Technical group brand ” ছেড়ে চলে যাবা সেদিন এই ফ্যাক্ট্যারিও totally unexpected shock and off must be i tell you Ms.Nabina.

–স্যার এই ইমোশনাল মডেল এর ব্লাকমেইল বন্ধ করুন। অামি চলে গেলে এই গ্রুপ বন্ধ?অার শায়লা ম্যাম অাপনার ওয়াইফ।সে অাপনাকে কিছু বলবেনা?

–তোমার ভাবীর যদি ইচ্ছা থাকতো তাহলে সেদিন তোমাকে অার চোয়েস করতোনা। মনে অাছে তো ২৭ জনের মাঝে তোমাকে পছন্দ করেছে।

–এখন অামি কি করবো? অাপনি হেল্প করেন?  করবেন?

–অারে বাবা অামি তো রোবট না অার অামি এইসব পারবোনা।

–believe me sir…এই কম্পানি শায়লা ম্যাম এর হলে অামার এই অবস্থা হয়না। অাপনি অামাকে যেভাবে মানে বস হিসেবে অাপনার কোনো দায়িত্ব নেই বল্লেই চলে।

–হা হা হা। এই জন্যই তো তোমাকে দরকার অামাদের।

–স্যার অার নাবিনা ম্যাম অামি গেলাম ক্লাইন্ড অাসলো বলে গাড়ি হয়তো পার্ক করছে।

–ওকে। অার নাবিনা তোমার টেনশন এর।কিছু নেই এই ব্রান্ড এর রেডি করা ফাইলটা দেখ, বাকি গুলা কাল কে দেখলেও হবে।

–thank you.so much….Sir..

–হুমম। বাট মনে রাখো প্রেসেন্টিং কিন্তু তুমি করছো।

–শান্তি পাবোনা এই কম্পানিতে, বুঝতে পারলাম। অাপনি যান অামি অাসছি।

–ওকে তাড়াতাড়ি ফাস্ট করো। অার তুমি অাজ পরনে কি?

— স্যার অাজকে ব্রান্ড এর জন্য অাপনি বলছেন প্রতিটা স্টাফ কে শাড়ি পরতে অার অামি বাদ এ সবাই পরসে।




–হবেনা। তোমার ভাবী এইটা পাঠাইসে। অার তুমি অামার ছোট্ট বোনের মতো নাহ্ ছোট্ট বোন ই কারন তোমার ভাবী কিন্তু ফুল কম্পানির সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ব তোমাকে দিয়েছে এবং অাজ নামবার ওয়ান বাংলাদেশ এর মাঝে একটা সেটা তোমার জন্য সম্ভব হয়েছে। অামি তোমাকে অাগেই বলেছি সো বড় ভাইর কথা মানো। এই শাড়ী পরিধান করে অাসবা। চেন্ঞ্জিং রুম এ গিয়ে অার মোট কথা শায়লা দেখতে চায় তুমি মেইন মেম্বার।  সো মেইন্টেইন ইট।

–ওকে জো হুকুম মেরে বারে ভাই।

–হেই ওরা চলে অাসছে তাড়াতাড়ি।

–স্যার একটা কথা ক্লাইন্ড এর নাম?

–অারেহ্ এখন সময় নেই রেডি হয়ে অাসো।

–but sir…… sir…s..

অামার কেন যেন সেই রকম অনুভব হচ্ছে।  অাজবতো। এই ব্রান্ড এর সাথে অামার কি।  এখন থেকেই হার্ট বিট বেড়েই চলছে। এর অাগে তো এমন হয়নি অামার সাথে কতো ব্রান্ড ই তো এলো গেলো প্রেজেন্ট করলাম বাট এমন তো ফিল করিনি। সে কে?অার গ্রুপ এর নামটাও শেইখ। উফ নাবিনা ইট্স নট পসিবল। টেনশন নিস না জাস্ট চল রেডি হয়ে। কি যে হবে অাজ……

–নাবিনা ম্যাম?

–হে রবিন অাসছি।

–ম্যাম ফাইলটা?

–it’s almost done… চল।

–ম্যাম কোনো প্রবলেম?

–ইয়ে না।

–ম্যাম অাপনার হার্ট বিট অামিও শুনতে পারছি এতো জোড়ে সাউন্ড ম্যাম অাপনি নার্ভাস?

–না না চলতো। কিছু হবেনা।

–ম্যাম অাপনি না হয় মেডিসিন নিন?

–না না লেট হয়ে যাবে চল তো। কথা বাড়িও না।

প্রেসেন্টেশন রুম এ ঢুকতেই রনক স্যার পরিচয় করিয়ে দিলেন ইকবাল সাহেব এর সাথে। যে হলো অাজকের ইউকে থেকে অাসা ক্লাইন্ড। ঘড়ি তখন ১১ঃ০০ টা বেজে ১৮ মিনিট।

রনক স্যার ঃ মিস.নাবিনা। সে হচ্ছে অামার গ্রুপ এর ম্যানেজিং
———————মোট কথা এই কম্পানি ওর জন্যই অাজ এই শীর্ষে।

ইকবাল সাহেব ঃ বাহ্! নিশ্চই সে খুব ট্যালেন্টেড।

নাবিনা ঃ স্যার লজ্জায় ফেলে দিচ্ছেন তো।

ইকবাল সাহবে ঃ হা হা হা।

রনক স্যার ঃ মিস নাবিনা সাইড প্লিজ সে হচ্ছে অামাদের দ্বিতীয়
———————-ক্লাইন্ড শেখ…




নাবিনা পেছন ফিরতেই প্রায় ধাক্কা খায়। হা করে তাকিয়ে তাকে সেই লোকটি অার কেউ নয় ইকবাল সাহেবের একমাত্র ছেলে ফয়সাল শেখ। এই ছেলে সেই ছেলে যার ভাবনায় অাজও নাবিনা অানমনে অপেক্ষা করে অাজও সে অপেক্ষা তে হয়তো সে অাবার অাসবে ফিরে। নাবিনা ফয়সালকে দেখে প্রায় ঘোরপাক খাবার মতো অবস্থা। ফয়সাল ওর দিকে যতটা না বিস্মিত হয়ে তাকিয়েছে তার থেকে অনেক গুন বেশি থমকে তাকিয়ে অাছে নাবিনা। বাস্তবে ফিরে এলো নাবিনা রনক স্যার এর ডাক শুনে।

রনক স্যার ঃ তুমি ঠিকাছো?  কি হলো?

নাবিনা ঃ না ন….না না ইয়ে কিছুনা।

রনক স্যার ঃ ওকে তাহলে প্রেজেন্টেশন স্টার্ট করো।

নাবিনা ঃ জ্ব…..জ্বী স্যার।

ফয়সাল একটু একটু হাসি দিল।  কিন্তু নাবিনা ওর দিকে তাকাতে ওর চোখ প্রায় জলে ভরে যাচ্ছে। কান্না কান্না অবস্থা।

ইকবাল সাহেব ঃ সমস্যা কোনো?

নাবিনা ঃ নাহ্ নাহ্ স্যার অামার চোখ এ একটু ময়লা ময়লা
—————লাগছে অামি একটু অাসছি।

ইকবাল সাহেবঃ ইট্স ওকে বরং অামি বলি কি প্রেসেন্টেশনটা
———————–বরং পরেই করো।  কারন অামার অন্য যায়গা মিটিং টা ক্যানসেল করা হয়েছে।

নাবিনা ঃ কেন স্যার?

ফয়সাল ঃ কারন অামি ক্যানসিল করেছি।

নাবিলা ঃ স্যার অাপনি অামাকে একটু সময় দিন।

ফয়সাল ঃ অাপনি কোথাও যাচ্ছেন?

নাবিলা ঃ ইকবাল স্যার অাপনি না হয় একটু ওয়েট করুন।

ইকবাল সাহেব ঃ না না সমস্যা নেই।  ইয়ে রনক সাহেব অাপনি
————————–বরং ৪০ মিনিট পর মিটিংটা শুরু করুন।




নাবিলা ঃ রনক স্যার অামি অাসছি।

কথাটা বলেই নাবিনা দৌড়ে তার অফিস রুম এ চলে অাসে। চোখের পানি গুলো প্রায় বাধ যেভাবে অাটকে থাকে ঠিক ওমনি তার অফিস রুম এ ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে অঝড় কান্না। নাবিনা তার মুখ এ কাপড় দিয়ে চেপে ফুপিয়ে কান্না করেই চলছে। কান্না কি খুশির বর্ষা বিদায়ের নাকি মনের কথা বলার কোনো চেষ্টা নাকি কষ্ট টা অাবারো জেগে ওঠে সাইরেন সুযোগ এর কান্না। নাবিনা নিজেই কনফিউজড। ২০ মিনিট পর তার কান্না সে নিজেই থামায়। কান্না যেন সে না বরং অনিচ্ছায় অবিরাম পানি পরেই চলছে। সে নিজেকে সামলে নিয়ে প্রেসেন্টেশন রুম এ যায়। সেখানে গিয়ে অারেক কান্ড।

কেউই নেই শুধু ফয়সাল শেখ বসে অাছে। নাবিনা কিছু না বলেই চলে যেতে নেয় তখনই কল অাসে।

–হ্যালো?

–জ্বী রনক স্যার।  অাপনি কোথায়?

–অাসলে ইকবাল সাহেব কে নিয়ে একটু বের হয়েছি অন্য একটা মিটং এ যেতে হবে।

— তাহলে এখানের প্রেসেন্টেশন?

–ওটা তুমি সামলে নিও। ফয়সাল শেখ অাছেন তার সাথেই মিটিং টা করে নিও।

— কিন্তু স্যার অামি একা??

–অারেহ্ তুমি একাই একশো। বায় পরে কথা হবে। অার প্রেসেন্টেশন এর জন্য বেস্ট পফ লাক।  ঠিক মতো করো।

–হুমম। বায় স্যার অার অাপনি সাবধানে থাকবেন।

–হুমম।

–অার স্যার অাপনার দুপুরের ঔষধ?  খেয়েছেন?

–ওহো মনে নেই থাক অামি এসে করবো।

–অাপনি না স্যার।  কবে কি হয়ে যায় পরে?

–তুমি অার শায়লা অাছোতো।

–হে হে ওসবই বলবেন। ঠিকাছে রাখি স্যার।

–অার শেখ কে নিয়ে পারলে পুরো অফিস অার প্রতিটি স্টাফ এর সাথে কথা বলিয়ে দিও অার লাঞ্চ সেরে নিও।

–অামাকেই কেন করতে হবে?

–কারন সে বলেছে।

–অার রবিন কোথায়?

–ছুটি নিয়ে বের হয়ে গেল। কি যেন জরুরী কাজ।

–ওহ্ এমনি।

–ঠিকাছে সামলে নিও। কোনো  কমতি যেন না থাকে।

–জ্বী স্যার।

এখন কিভাবে যে কি করবে নাবিনা কিছুতেই কিছুই বুঝতে পারছেনা। নাবিনা তারপরেও সাহস নিয়ে গেল।

— মি.শেইখ শুরু করবো তাহলে?

–কি শুরু করবো।

–অাপনি অামি এখানে এসছি কেন?

–অাপনি বলুন।

–দেখুন প্রেজেন্টেশনের উপস্থাপনা করছি। for your kindly information about this…….

— অভিমান?

–জ্বী?

–না মানে শুরু করুন।

–হুমম।

–অাপনাকে একটা কথা বলি?
অাপনাকে অাজ খুব সুন্দর লাগছে।

–ও মাই গড…  অাপনি কবে থেকে অাবার অামার উপর নজর রাখতে শুরু করেছেন?

–সত্য বল্লাম।

–সবার মুখে সবকিছু শুট করেনা জানেন তো?




–তোমার।

–বাহ্! দেখুন অামি অাপনার কলিক এর থেকে বেশি কিছু না সো মনোযোগ দিয়ে দেখুন অামাদের কম্পানির সাথে ডিল করবেন কিনা?

–deal All most.done Ms.Nabina….

—মানে??

–অাপনার কোম্পানির সাথে অামাদের কোম্পানির ডিল ফাইনাল।

–কিন্তু অামি তো প্রেজেন্টেশন স্টার্ট ই করিনি।

–চলুন।

–কোথায়?

–বাহিরে মানে পুরো অফিস টা দেখতে চাই।

–অাসুন।

নাবিনা পুরো অফিস টা ঘুড়ে দেখালেন।প্রত্যেকটা স্টাফ এর সাথে ফয়সালের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। লাঞ্চ টা রেস্টুরেন্ট থেকে সেরে তারা অাবারও অফিস এ অাসার জন্য বের হয়।

–তো অাপনার অবস্থা বলুন।

–অামরা অফিস এ যাচ্ছি চলুন।

–নাবিনা অাপনি তো অাগে এমন ছিলেন না।

–যদি বলি সময়ের অাবির্ভাব।

–নাহ্। এটা কারো অাগমনের অাবির্ভাব।

–দেখুন মি.শেইখ। অাপনি একজন ভদ্রলোক তাই ওসব অাজে বাজে কথা না তুল্লেই হয়।

–এখনও ভালোবাসেন?

নাবিনা চোখ দুটো বড় করে তাকিয়ে এক বিন্দু জল ফেলে চলে যায়। রাত ৮ঃ০০ টায়।

রনক স্যার নাবিনাকে কল দিল।

–হ্যালো,  নাবিনা?

–জ্বী… স্যার অামি নাবিনার মা।

–অাচ্ছা।  কেমন অাছেন?

–এইতো বাবা ভালো। অাপনি?

–জ্বী অাছিই ভালো। তা নাবিনা কোথায়?

–বাবারে সেইযে অফিস থেকে ৫ঃ০০ টা বাজে চলে অাসলো অার সেইযে রুমের দরজা লাগালো এখনও খুলেনি।

–সে কি!

–হুমম। কি হলো বুঝলাম না।

–অাচ্ছা অামি অাসছি।

–অাপনি এখন অাসবেন? কষ্ট করে।

–অামাকে অাসতেই হবে। শিফমেন্ট এর পেপার এর বেপার এ কথা বলতে।

–অাচ্ছা।

রাত ৯ঃ০০ টায় নাবিনার স্যার নাবিনার বাসায় চলে অাসে।

নাবিনার মা ঃ নাবিনা মা নাবিনা দরজা খোল।  দেখ এই রনক
———————-অাসছে।

১৫ মিনিট পর দরজা খুলে।

নাবিনার মা ঃ কিরে তোর মুখ চোখ ফুলে গেসে কেন?

নাবিনা ঃ এমনি। স্যার কোথায়?

নাবিনার মা ঃ ড্রয়িংরুমে এ।

———————–




—স্যার বলুন।

–এই কি হয়েছে তোমার?

–মাথা বেথ্যা স্যার। অাপনি বলুন না!

–এই শিফমেন্ট এর কাজ এর বেপার এ অালাপ করতাম।

–স্যার শিফমেন্ট এর সব রেডী অাপনি অাপনার ডেস্ক এর হলুদ রং এর ফাইল টায় সব বুঝানো অাছে।

–thank you thank you so.much…

–welcome, sir.

–অাসি তাহলে।

–না না স্যার ডিনার করে যান।

–না রে ভাই তোমার ভাবীকে নিয়ে বাইরে যেতাম।

–ওহ্ ঠিকাছে স্যার।

–কাল সকাল এসে পরো।

–হুমম। সাবধানে যাবেন।

—————————————————–
নাবিনার মা ঃ তুই সত্যি বল কি হইসে?

নাবিনা ঃ মা অামি অামি……অা………..

নাবিনার মা ঃ কাদঁছিস কেন? কি রে মা?

নাবিনা ঃ মা ফয়সাল শেখ……….

নাবিনার মা ঃ মানে?

নাবিনা ওর মাকে সব কিছু খুলে বলে। তারপর

নাবিমার মা ঃ তুই তো ওর অপেক্ষা তেই ছিলি।

নাবিনা ঃ কিন্তু মা অামার ওকে দেখলাম তোল পার শুরু হয়ে যায়।

নাবিনার মা ঃ তুই চিন্তা করিস না। বিধাতা যা চেয়েছিল তাই হবে
————–

নাবিনা ঃ মা…

নাবিনার মা ঃ তোর ইচ্ছা বিধাতা নিজে পুরন করবেন। তো তুই
—————–কেন পেছাবি? ফয়সাল নিজে এসে দাড়িয়েছে তোর অাঙিনায় ফিরিয়ে দিসনা।

নাবিনা ঃ ওর কথার ধরন বুঝিনা।

নাবিনার মা ঃ চল খাবার খেয়ে বিশ্রাম কর তারপর ঘুমিয়ে পরিস

পরদিন সকাল এ সব দিনের মতো অাজও ব্যস্ত নাবিনা। হঠাৎ করেই ফয়সাল ওর পেছন এ। কাজ শেষ করে পেছন ঘুরে ফয়সাল কে দেখে চমকে ওঠে সে।

—অা…….অাপনি!

–হুম। কেন অাসতে কি পারিনা?

–বিনা অনুমতিতে অামার রুম এ কেউ অাসেনা।

–অামি তো যখন খুশি অাসতে পারি।

—হে হে অাপনি যখন খুশি অাসবেন যাবেন ভাংবেন অাবার গড়বেন সব অাপনার ইচ্ছা। অাপনার জন্য অামার শেষ ইচ্ছা অাপনি অার কখনোই অামাকে বিরক্ত করবেন না।

–অামি অামার ভুল মেনে নিয়েছিতো।

–৭ বছর অাগে যে কাজ টা করেছিলেন মনে পরে একটুও?

–অামি তো বল্লাম সরি।

–৭ বছর অাগের কথা খেয়াল নেই অার ওটা মাফ করার কোনো কথা না!




— প্লিজ। অামি বুঝতে পেরেছি অামি অাপনার সাথে খারাপ করেছিলাম। অামার এখন অাপনাকে ছাড়া অার কিছুই চাইনা।

–ধোকাটা কেন দিয়েছিলেন? অামি কি করেছিলাম?

–অামি রাগের মাথায় করেছিলাম। অাফসোস হওয়ার অনেক খুঁজেছি কিন্তু অাপনাকে পাইনি।

—অামি নতুন করে অাঘাত খেতে রাজি না। সরে যান।

–নাহ্ অাপনি দাড়ান।

–অাপনি  অাপনাকে সরতে বলেছি।

তখনই নাবিনাকে ফয়সাল দুহাত ধরে সরি বলে। তখনই নাবিনা ফয়সাল ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। সে চলে যায়। তারপর রনক স্যার বেপার টা দেখে ফেলে ফয়সাল সব কিছু খুলে বলে তারপর।

ফয়সাল একদিন নাবিনার বাসায় যায়।
তার সাথে নাবিনার কথা বারতে বারতে রাগারাগির পর্যায় চলেযায়। তারপর ফয়সাল খেয়াল করে ড্রেসিং টেবিলের উপর একটা ডায়েরী সে ডায়েরিটা পুরো ফয়সালকে জুড়ে লিখা।

—তুমি অস্বিকার করতে পারবে এই ডায়েরী তুমি লিখনি?

–অামি লিখিনি।

–তুমি মিথ্যা বল্ছো। তুমি অস্বীকার করতে পারবে তুমি এখনও কান্না করোনা?  তুমি অামাকে ভালো বাসোনা?

–প্লিজ চলে যান অামাকে অামার মতো থাকতে দিন।

—অামার উত্তর চাই।

–ফয়সাল প্লিজ অাপনি চলে যান প্লিজ।

–তুমি অামাকেই ভালো বাসো।

–না। অামি কাওকেই ভালোবাসিনা।

–অামাকে বাসো বলেই অন্য কারোর হওনি ভবিষ্যতে পারবেওনা।

–চলে যান।

–তুমি অামার কসম খেয়ে বল ভালো বাসোনা।

—কি হলো নাবিনা চুপ করে কেন বল ভাবোবাসোনা। বল।

–অাপনি ছাড়ুন অামাকে চলে যান অামার অার ভাল্লাগেনা প্লিজ।

–ভালোবাসো কি না?

–জানিনা।

–ভালো বাসো কি না?

–কি অাজব ছাড়ুন বলছি।

–ঠিকাছে।  ভালো বাসো।

–বল্লাম না বাসিনা।

ওমন সময় ফয়সাল এর বাবা এসে বলে,

–নাবিনা কেন মিথ্যা বলছো। খুশি তোমার কাছি নিজে এসছে। চলো অামার সাথে।

–অাপনারা চলে যান। যা কষ্ট অামি পেয়েছি এক বিন্দু অাপনি পেলে হতোই।

–মা রে বাবা হিসেবে শেষ অাবদার। অামি তোমাকে অামার বাড়ির বউ করে নিতে চাই অামার মেয়ে হয়ে যাবা তুমি চল মা।

লোকটা কেদেঁ ফেলে অার কিছু না বলেই নাবিলা কান্না করে ইকবাল সাহেব তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

অতঃপর পরের মাসে তাদের বিয়ে ঠিক হয়।

অাজ নাবিনার দীর্ঘ ৮ বছর এর অপেক্ষার প্রহর গুনে শেষ হয়ে গেল। ভালোবাসার পবিত্র জুটি গুলো যেন এভাবেই অাবদ্ধ হয়।
সত্যি কারের প্রেম হয়তো এটাই যতোই কষ্ট পাক না কেন মোনাজাতে অাজও তার নাম উঠলো বলেই কিন্তু নাবিনা ফিরে পেয়েছে। অপেক্ষা হয়তো সে অাসবে বলে……………

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।