দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

O#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part-16+17
ইফতি- শুনো হে বৎস, যে যে রকম, উপর আলা তার ভাগ্যে ঠিক সেই রকম কাউকেই পাঠায়, এটা কোরআন ও হাদিস এর কথা, তুমি চাইলেই অস্বীকার করতে পারবে না বুঝেচো???

তীব্র- আরে রাখো তোমার বকৃতা, বিয়েই করবো না আমি একা থাকবো(বিরক্তি নিয়ে)
ইফতি- কেনো কেনো কেনো?? মিশানকে বিয়ে করতে পারবে না বলে??
তীব্র- ইফতি তোমার কি মনে হচ্ছে না তুমি আমার সাথে বাড়াবাড়ি করছো?
ইফতি- মুটেই না! আমি যা সত্যি তাই বলছি,আরেক টা কথা ফুপি বলেছে তুমি বিয়ে না করা অব্দি ফুফি আমাদের বাড়িতে থাকবে,তোমার বাড়িতে আসবে না, সেটা জানাতে এসেছিলাম।
তীব্র- অও তাই বুঝি??? তা সেটা কি মা তোমাকে স্বপ্নে বলেছে??
ইফতি- স্বপ্নে বলতে হবে কেনো? ফুফি কথা না বলতে পারলেও ফুফির চোখের ভাষা আমি স্পষ্ট পড়তে পারি। আর আমি ফুফি কে বলেছি তোমার ছেলে যাকে বিয়ে করবে সেও তোমার ছেলের মতো। ফুফি কি বললো জানো?ফুফি বললো একটা হলেই হলো তবুও ওকে বিয়ে করতে বল,মরার আগে ছেলের বউটা দেখে যাই।।
তীব্র- তোমার আজগুবি প্যাঁচাল শেষ হলে তুমি আমার বাড়ি থেকে বিদেয় হও, তোমাকে দেখলেই আমার রাগ হচ্ছে!(বিছানা থেকে উঠতে উঠতে)
ইফতি- এই কেনো কেনো???(ভ্রু কুঁচকে)
তীব্র- কেনো মানে? তুমি জানো না কেনো? এতো বড় মিথ্যে কথা বলেছো তুমি আমার সাথে,ভাগ্যিস সেদিন আমি মিশানকে প্রপোজ করি নি, তাহলে তো নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারতাম।।।
ইফতি- করো নি তো কি হয়েছে করবে!
তীব্র- তুমি সব জেনে রেখেছো?(রাগ দেখিয়ে)
ইফতি- অবশ্যই!! যেখানে আমার ভাই কোনো মেয়েকে পছন্দ করে না,মেয়েদের দিকে ফিরে তাকায় না সে খানে প্রথম দেখায় একটা মেয়েকে ভালবেসে ফেলেছে তাকে কি আর ভুলতে পারবে!!!
তীব্র- তোমার অফিস নেই?
ইফতি- আছে কেনো?
তীব্র- অফিস যাও লেট হয়ে যাচ্ছে তোমার।
ইফতি- বুঝেছি আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে মিশানের কথা ভাববে তাই না?(হেসে দিয়ে)

তীব্র একটা বড় নিশ্বাস ফেললো, ইফতির চোখের দিকে তাকিয়ে বললো

তীব্র- একটা জিনিস খেয়াল করেছো?
ইফতি- কি?
তীব্র- বিয়ের দিন থেকে তুমি খুব বাচাল হয়ে গেছো, আগে মুটেই এমন ছিলে না,বাচাল টাইপ মানুষ একদম পছন্দ না আমার।

কথা গুলো বলতে বলতেই তীব্রর ফোনে কল এলো,হাতে নিয়ে দেখে মিশান কল করেছে।।তীব্র ফোনের দিকে তাকাচ্ছে একবার ইফতির দিকে তাকাচ্ছে একবার।
ইফতি- কে ফোন করেছে?(ভ্রু কুঁচকে)
তীব্র- মিশান!
ইফতি- রিসিভ করো রিসিভ করো,কেটে যাবে তো! মিশান এক বারের বেশি কাউকে কল দেয় না,

কথা টা শুনে তীব্র সাথে সাথে রিসিভ করলো
তীব্র- হ্যালো!
মিশান- কি অবস্থা মিস্টার তীব্র?
তীব্র- এই তো আছি , তুমি?
মিশান- আমিও উপর আলা যে রকম রেখেছে!
তীব্র- কোনো দরকারে কল করেছিলে?
মিশান- না এমনি!আপনার হাতের কি অবস্থা এখন?
(তীব্রর মনেই ছিলো না ওর হাত কাটা মিশানের কথা শুনে মনে পড়তেই হাতের দিকে তাকালো)
তীব্র- হ্যাঁ ভাল,ড্রেসিং করাতে হবে হাতটা
মিশান- হ্যাঁ করে ফেলুন, লেট হয়ে গেলে সেপ্টি হয়ে যাবে।।
তীব্র- হুমম।।কি করছো?
মিশান- দাঁড়িয়ে আছি!
তীব্র- কোথায়?
মিশান- রাস্তায়।
তীব্র- অওহ, কাউকে মারার জন্য দাঁড়িয়ে আছো নাকি?
মিশান- নাহ এমনি, ভাল লাগছিলো দাঁড়িয়ে থাকতে স্ট্রাইক চলছে আজকে ল্যান্ড মার্কে, মানুষজন নেই, জায়গাটা বেশ শুমশাম!!তাই আর কি
তীব্র- একা থাকতে ভাল লাগে খুব তাই না?
মিশান- হুম,খুব!

।।এভাবে টুকটাক কথা তীব্র মিশান বলেই যাচ্ছে, আর তীব্রর সামনে ইফতি বসে বসে তীব্রর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে, ইফতি যে তীব্রর সামনে বসে আছে তীব্রর খেয়াল ই নেই,, ঘন্টা খানেক হয়ে আসে তীব্র কথা বলছেই ইফতি তীব্রর বিছানায় শুয়ে পড়েছে এতক্ষণে আর তীব্রর দিকে ড্যাব ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে,,,,প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় পর কথা শেষ করে তীব্র ফোন টা রাখতেই খেয়াল করলো ইফতি ওর সামনে শুয়ে আছে আর তীব্রর থেকে নজর ই সড়াচ্ছে না।।।

তীব্র- এভাবে তাকিয়ে থাকার মানে কি??(ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে)
ইফতি- আমি জানতাম তুমি খুব ভাল মিথ্যে বলতে পারো কিন্তু এতো ভাল মিথ্যে বলতে পারো সেটা জানতাম না!
তীব্র- আমি আবার কি মিথ্যে বললাম!?
ইফতি-এই তো দেড় ঘন্টা আগে মিশানের নামে কত্ত বদনাম করলে, অথচ মিশানের সাথে কত সুন্দর রসিয়ে রসিয়ে কথা বললে বাপ রে!! নীলিমার সাথে প্রেম করতে যেয়েও টানা ১ ঘন্টা কোনো দিন কথা বলি নি আর তুমি!!!!ভাভা গো ভাভা!!(কিটকিটে হাসি দিয়ে)
তীব্র- শাট আপ ইফতি! উই আর বি লাইক গুড ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ড ইয়ার নাথিং এলস!
ইফতি- হ্যাঁ ইদানীং গার্লফ্রেন্ড এর থেকে জাস্ট ফ্রেন্ড এর অনেক ডিম্যান্ড, চালিয়ে যাও।
তীব্র- তুমি বডড বেশি কথা বলছো,, অফিস যাও আমার কাজ আছে এখন বের হবো।।
ইফতি- এখন থেকেই পর করে দিচ্ছো, মানুষ এতোটা বদলাতে পারে (বিছানা থেকে উঠতে উঠতে)!!!

তীব্র আর কোনো কথা বললো না ইফতির দিকে তাকিয়ে মিটমিট হাসি দিয়ে বাথরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো….


রাত প্রায় ১১ টা,
হাই ওয়ে তে, রাস্তার কিনারায় দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে হাতের মধ্যে ছুড়ি নিয়ে বসে আছে মিশান, দুই হাত রক্তাক্ত হয়ে আছে হাত বেয়ে চুপসে পড়ছে রক্তের ঢল, মিশানের চোখ দুটো রক্ত চক্ষুর ন্যায় হয়ে আছে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে, যেনো ওর নাকের সামনে থেকে অক্সিজেন সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর সামনে পড়ে আছে এক যুবকের আহত শরীল, যার রক্তের বন্যা বয়ে গেছে রাস্তার মাঝ বরাবর, , বেঁচে উঠার জন্য কাতরাচ্ছে দেহো টা প্রাণ বুঝি যায় যায় বেরিয়ে…..

মিশান- আজকে কাউকে মারার নিয়তে ঘর থেকে বের হই নি,, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিয়ত করেছিলাম আজ যতো যাই হোক কাউকে মারবো না, শালার মুড টাই অন্য রকম ছিলো!!! কিন্তু মিশানের ভাগ্য? ঘুরে ফিরে কেনো মরার জন্য তোরা আমার হাত টাই বেছে নিস বলতো! (চিৎকার দিয়ে) না তোরা শুধরাবি না আমায় ভাল হতে দিবি, মিশানের ডিকশনারি তে ওয়ার্নিং বলে শব্দ নেই, তবুও কেনো তুই ভুল করলি?শালা নেশা করে উলটা পালটা গাড়ি চালাচ্ছিস তুই, আর গালি দিচ্ছিস তুই আমার মাকে! তোর সাহস হলো কি করে আমার মাকে গালি দেয়ার(অনেক জুড়ে চিৎকার দিয়ে)!!!

এতক্ষণে শরীল টাতে প্রাণ নেই, গার্ড রা লাশ টাকে নিয়ে প্যাকেট করে দূরে নদীতে ভাসিয়ে দিলো,

মিশান রক্তাক্ত হাত নিয়েই বাড়ি চলে গেলো।।।

বাড়ি ফিরে দেখে মিশানের বাবা ড্রয়িং রুমে বসে আছে, মিশানের অপেক্ষায় ই ছিলো, আজ বাংলাদেশ থেকে ফিরেছে মিশান কে জানায় নি আজ ফিরবে সারপ্রাইজ দিবে বলে, কিন্তু নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেলো মেয়ে কে দেখে।। কেমন যেনো ছন্নছাড়া ভাব নিয়ে মিশান ঘরে ডুকছে হাতের মধ্যে তাজা রক্ত লেগে আছে এতক্ষনে রক্ত গুলো জমাট বেধে হাতের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে, মিশানের বাবা মেয়ে কে দেখে হতাশার নিশ্বাস ছাড়লো,,, মিশান কোনো কথা না বলে রুমে চলে গেলো,

এদিকে মিশানের বাবা কেনো জানি চিন্তাই পড়ে গেলো, মিশানের রাগ টা অতিরিক্ত,,, মিশানের সব কিছুর সমাধান
ঝামেলাটাকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে দেয়া,, এভাবে আর কতো দিন চলবে!!!!!

মিশান ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসে আছে রুমের মধ্যে, ভেজা চুল গুলো আলগা দিয়ে বসে আছে, চুল গুলো মুছেও নি টব টব করে পানি পড়ছে চুল থেকে।।।
জেসি এসে মিশানের হাতে কফি মগ দিয়ে টাওয়াল নিয়ে আলতো হাতে মিশানের চুল গুলো মুছে দিচ্ছে,,, এরই মধ্যে মিশানের বাবা এলো মিশানের রুমে,,রুমে এসেই জেসিকে ইশারা করলো চলে যেতে জেসি চলে গেলো রুম থেকে।।
মিশানের বাবা মিশানের পাশে বসলো।।

রাইয়ান খান -মাফিয়া পেশার হাত ধরেই আমার জীবন চলা,, এতো এতো নাম ডাক কামিয়েছি মাফিয়াগিরি করেই, কিন্তু আমার পুরো জীবনে এতো মার্ডার করি নি, যতো গুলো মার্ডার তুমি এক বছরে করো (খানিক টা ক্ষোভ নিয়ে বললো)
মিশান- আমি কখনো নিষ্পাপ কাউকে মারি না ড্যাড!!
রাইয়ান খান-আমি সে কথা বলি নি মিশান, অনেক সময় কিছু পাপী কেও রেখে দিতে হয় কিছু প্রশ্নের উত্তরের জন্য, সব কিছুর সমাধান কোনো ভাবেই মার্ডার হতে পারে না।।। তুমি রাগ টা কন্ট্রোল করো?
মিশান- পেয়েছো উত্তর??
মি.রাইয়ান-কিসের উত্তর?
মিশান- তুমিই তো বুঝালে ড্যাড তুমি মার্ডার প্রয়োজন ছাড়া করো না, কিছু উত্তরের জন্য রেখে দাও কিছু পাপী দের,তাহলে পেয়েছো আমার মায়ের খুনি কে? এই প্রশ্নের উত্তর, পেয়েছো কেনো আমার মাকে এভাবে মরতে হলো?? আজ অব্দি পাও নি ড্যাড গত ১০ বছর ধরে আমি মিশান এই একটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজে খোঁজে মরছি!শান্তির ঘুম টাকে বিদেয় দিয়েছি শুধু একটা প্রশ্নের জন্য ড্যাড যে প্রশ্নটার মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজারো উত্তর! আমি শুধু সেই মানুষটাকে জীবিত সামনে চাই আর বাকি সব চুলোই যাক, আই ডোন্ট কেয়ার ড্যাড, আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার!!

রাইয়ান খান-মিশান কুল ডাওন বাবা,, মাথা ঠান্ডা করো।। মাথা গরম করে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না,!!মাথা গরমের জন্য হয়তো দেখবে শিকার তোমার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে,, আমি খুঁজছি না তাকে?? খুঁজছি আমিও তাকে!
মিশান- কোনো দরকার নেই ড্যাড,(বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে) কারো খুঁজতে হবে না, আমি পারবো এন্ড ওয়ান মোর থিং খুব তাড়াতাড়িই আমি তাকে পেতে যাচ্ছি।।।।

রাইয়ান খান- আজকে কেনো মারলে?
মিশান-মাকে তুলে গালি দিয়েছিলো তাই।
রাইয়ান- তাকে সর্বোচ্চ দুটো চড় মারা যেতো তাই বলে একদম মেরে দিলে? মিশান তোমার কি মনে হয় না তোমার মাথার ব্রেন টা ইদানীং ব্রেক ফেইল করছে, কিছুদিন পর তো…. ফরগট ইট যা ইচ্ছে করো(অভিমানি স্বরে)

বলেই চলে গেলো রাইয়ান সাহেব,, মেয়ের উপর আজ কেনো জানি রাগ হচ্ছে খুব,,, মিশান দিন দিন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, ওর অনেক টা রিফ্রেশমেন্ট দরকার কিন্তু কিভাবে মিশানকে বুঝাবে,, রাইয়ান খান অনেক টা চিন্তিতো হয়ে পড়লো।। কি করা যায় মিশানের অল্পতেই ভয়ংকরী রূপ নেয়ার থেকে পরিত্রাণ দেয়ার!!

মিশান যতোই মাফিয়া রাজ্যে নামকরা হোক, মিশানকে কেউ টপকাতে পারবে না মিশানের বাবা ভাল করেই জানে কিন্তু মিশানের জন্য কারণে অকারণে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে!!!মার্ডার করবে করুক কিন্তু সেটা পরিস্থিতি বুঝে
কিন্তু মিশান!!!!!

চলবে………
#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part:-17
রাইয়ান খান:-রফিক
রফিক:-জি স্যার!
রাইয়ান খান- মিশান টাকে নিয়ে কি করা যায় বলোতো?ডিপ্রেশনে ডিপ্রেশনে মেয়েটা শেষ হয়ে যাচ্ছে এভাবে চললে তো ও একটা সাইকো হইয়ে যাবে…
রফিক:-জি স্যার আমিও ভাবছি!
রাইয়ান খান-মাফিয়া রাজ্যে পাড়া দিয়েছিলাম পাওয়ার, মানি, নাম ডাক এসবের জন্য কিন্তু মিশান কি করছে!শুধু মার্ডার আর মার্ডার এভাবে আর কতো দিন চলবে,,যত দিন যাচ্ছে মায়ের খুনিকে খোঁজে না পেয়ে মেয়ে টা ততোই হিংস্র হয়ে যাচ্ছে !!

রফিক- ডিপ্রেশন থেকে মেয়েটা এমন হয়ে গেছে ওর একটা রিফ্রেশমেন্ট দরকার,তাহলে মিশান মামুনি কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসতে পারবে।।

রাইয়ান খান -যদি এমন টা হতো রফিক অই যে সিনেমার মধ্যে হয় না, ধরো মিশানকে বদলে দেয়ার জন্য ওর জীবনে কেউ আসতো, মিশানের সব ডিপ্রেশন দূর করে দিতো,ভালবাসা নামক ভুলে যাওয়া শব্দটা মিশান আবার অনুভব করতো!!

রফিক- সে রকম কেউ আসবে কি না জানি না, তবে একটা কাজ করা যেতে পারে!
রাইয়ান সাহেব-কি?
রফিক- মিশান আপনার কথা যেমন শুনে না তেমন নীলিমা মামুনির কথা ফেলতে পারে না,,, তাই বলছিলাম যদি নীলিমা মামুনি কে দিয়ে মিশানকে কিছু দিনের জন্য বাইরের কান্ট্রি তে ঘুরতে পাঠানো যায় তাহলে মিশান ডিপ্রেশন থেকে বের হতে পারতো
রাইয়ান খান-কথা টা খারাপ বলো নি রফিক।

……………………… ………..

অন্ধকার ঘরে চেয়ারে বসে এক মনে সিগারেট টেনে যাচ্ছে, প্রতিটা নিশ্বাস এ বের হয়ে আসছে কালো ধোঁয়া, ঠান্ডা মাথার এই ভিলেন টা হাসি মুখে সুন্দর করে মানুষের মাথায় বাজ ফেলে! অপর পাশে বসে আছে আলী আজাজ,,,

আলী আজাজ-তুমি যে টা করেছো তীব্র তার জন্য তোমার অনেক বড় মাশুল দিতে হবে!
তীব্র- অও রিয়েলি??(টিজ করে,বাঁকা হাসি দিয়ে)
আলী আজাজ-মজা নিচ্ছো! হুমহ নাও নাও যতো পারো নাও মজা, কিন্তু এটা জেনে রাখো তোমাকে শেষ করার জন্য এই আলী আজাজ না এমন একজন আসবে যে তোমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিবে (রাগীস্বরে হাসি দিয়ে)
তীব্র- তুমি ইদানীং মাফিয়া পেশার পাশা পাশি জোত্যিশগিরি শুরু করেছো নাকি, আলী আজাজ??(কিটকিটে হাসি দিয়ে)
আলী আজাজ- জোত্যিশগিরি কিনা জানি না তবে তোমার ভবিষ্যৎ আমি স্পষ্ট পড়তে পারছি!তোমার পতন হবে খুব শীগ্রই!
তীব্র- দি রয়েল কিং রাজ্যের দি ইয়াংস্টার মাফিয়া কিং সাফুয়ান রেজা তীব্রকে টপাকাবে??? বাহ খুব ভাল লাগলো তোমার কথা! জানার আগ্রহ হচ্ছে খুব কার হাতে আমার পতন??(আবারো কিটকিটে হাসি)
আলী আজাজ- হয়তো বা কোনো নমনীয় নারীর হাতে! কেনো জানি মনে হচ্ছে কোনো নারীর হাতেই তোমার পতন!
সুন্দর মৃদু মায়াবতী কোনো হিংস্র নারী,, যে তোমাকে শেষ করে দিবে!
তীব্র- তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো আলী আজাজ, নারী আর মাদক এই দুটো জিনিসের উপর আমার একদম ই ইন্টারেস্ট নেই,, আর বললে নমনীয় মায়াবতী নারী!!!যদি এমন হয় আমার মতোই কোনো এক রাজ্যের মাফিয়া কুইন আমার সাথে জোড় বাঁধলো তখন???(ডেভিল স্মাইল)
আলী আজাজ- সে রকম কেউ নেই, তবে এই টুকু জেনে রাখো কোনো এক রূপবতী নারী তোমার জীবনে প্রাণ ভ্রুমর হয়ে দাঁড়াবে আর সেই প্রাণ ভ্রুমর টাকে কেড়ে নিয়ে তোমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিবো….!!!

তীব্র মৃদু হেসে মুখ টা আলী আজাজের কানের কাছে নিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বললো,
তীব্র- আগে আমার লেভেল এ আসো আলী আজাজ! তারপর আমাকে শেষ করার স্বপ্ন দেখো!

।।
সকাল হতেই নীলিমা মুখ গম্ভীর করে বসে আছে খাটে, ইফতি অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে এমন সময় খেয়াল হলো বউ টা মন খারাপ করে বসে আছে,,,

ইফতি- আহা!আমার মায়াবতীর কি হলো? সকাল থেকে দেখছি মিষ্টি ঠোঁটে মিস্টি হাসি টা নেই,, কি হয়েছে বলো তো?
নীলিমা -ভাল লাগছে না কিছু এমনিই!
ইফতি- না না না আমার মায়াবতীর এমনি এমনি কখনো মন খারাপ হয় না আমি জানি, কি হয়েছে বলুন রাণী সাহেবা! (নীলিমার সামনে যেয়ে বসতে বসতে বললো)
নীলিমা- বললাম তো কিছু হয় নি! (বিরক্তি মেজাজ এ)।
ইফতি- আমি কি আজ অফিস যাবো না?
নীলিমা-অফিস যাবে না কেনো! অফিস যাবে রেডি তো হয়েছোই বেরিয়ে পরো।
ইফতি- বউ এর এমন চেহারা দেখে বের হতে ইচ্ছে করছে না, ঠিক আছে আজকে না হয় অফিস না গেলাম!(আদুরে কন্ঠে)
নীলিমা-না না অফিস যাবে!(ইফতির চোখের দিকে তাকিয়ে)
ইফতি- তাহলে বলো মন খারাপ কেনো?
নীলিমা-আচ্ছা ইফতি আমরা হানিমুনে যাবো কবে?
ইফতি- ওমমম দেখছি সামনের মাসে!
নীলিমা-সামনের মাস তো অনেক দেরি!
ইফতি- এই মাসে কি করে যাই বলো তো! দুদিন আগে বিয়ে করলাম বিয়ের চাপে কতো দিন অফিস যাই নি, এভাবে যদি ব্যাবসা ছেড়ে ঘরে বসে থাকি আর ঘুরি তাহলে তো ব্যাবসা ভ্যানিশ হয়ে যাবে গো!
নীলিমা-কিছু দিনের জন্য বাবাকে বলো না সব টা ম্যানেজ করে নিতে! আমার না মিশানের কথা খুব মনে পড়ছে, ভাবছিলাম হানিমুনে যাওয়ার সময় মিশানকেও সাথে নিয়ে যাবো,,!!
ইফতি- ভাল হয় ব্যাপার টা যদি সাথে তীব্রকেও নেয়া যায়!!
নীলিমা- এই তোমার কি মতলব বলো তো?সব সময় তীব্র ভাইয়ার সাথে মিশানকে টানো কেনো?আর তীব্র ভাইয়ার কি সময় হবে আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য?
ইফতি- আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য সময় হবে না ঠিকি, কিন্তু মিশানের জন্য ঠিকি হবে!!!
নীলিমা-মানে তুমি কি বুঝাতে চাইছো ইফতি?
ইফতি- অনেক কিছু!! (রহস্যময় ভাবে)
নীলিমা -খোলে বলো(রাগীস্বরে)
ইফতি- বলছি বলছি শুনো……………
………………………………………………………

অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে মিশান নিচে নামলো খাবার খেতে, রাইয়ান খান মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছে এক সাথে ব্রেকফাস্ট করবে বলে, মিশান এসে সোজা ডাইনিং এ বসে পড়লো, সার্ভেন্ট খাবার সার্ভ করছে মিশান এদিক ওদিক না তাকিয়ে খাবার খেয়েই চলছে অপর পাশে যে বাবা বসে আছে সে দিকে খেয়াল ই নেই ওর, রাইয়ান সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে খাওয়া বাদ দিয়ে এরই মধ্যে মিশানের চোখ পড়লো ওর বাবা ওর দিকে তাকিয়ে আছে,
মিশান- হোয়াট হ্যাপেন্ড ড্যাড!! এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
রাইয়ান খান -দেখছি!
মিশান- কি?
রাইয়ান খান -আমার মেয়ে টা আমাকে একটুও ভালবাসে না!
মিশান- হঠাৎ এই কথা মনে হচ্ছে কেনো?? আজ ই কেনো?(অনেক টা রাগী ভাবে)
রাইয়ান খান-আমি যে ডাইনিং এ বসে আছি শুধু মাত্র আপনার অপেক্ষায়! আপনি যখন ডাইনিং এ এলেন আমি গুড মর্নিং বললাম উত্তর তো দিলেন ই না, খেতে বসে খেয়েই যাচ্ছেন আমার সাথে কথাও বলছেন না।।

(মিশান হতাশাময় একটা নিশ্বাস ফেললো তারপর বাবার চোখের দিকে তাকালো)
মিশান- সরি ড্যাড আমি মুটেও খেয়াল করি নি!
রাইয়ান খান-মিশান!!! বাবা আর ইউ অলরাইট??
মিশান- ইয়াহ ড্যাড আ’ম কম্পলিটলি ওকে!
রাইয়ান খান-কেনো জানি মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা নিয়ে ডিপ্রেশন এ আছো বাবা
মিশান- বললাম তো ড্যাড আমার কিছু হয় নি,, তুমি খাবার খাও ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে,
রাইয়ান খান-আমি একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম
মিশান- বলে ফেলো।
রাইয়ান সাহেব- ইউ এস পার্টনারশিপ টা এবার আমিই দেখবো, তুমি পরের বার থেকে দেখো।
মিশান- এজ ইউর উইশ,,
রাইয়ান সাহেব-হুম
মিশান- ভ্যালির কাছে সব ডকুমেন্ট পেপারস আছে, নিয়ে নিয়ো, কোনো প্রব্লেম হলে বলো,আর বাংলাদেশ থেকে আসলেই যখন তাহলে মিস্টার তীব্রর সাথে মিট করেই আসতে.
রাইয়ান খান-ইটস ওকে,পরেও দেখা করা যাবে, রয়েল কিং তো?
মিশান- হুম
রাইয়ান খান-ওকে,আমি বেরুচ্ছি এখন তাহলে
মিশান- এক সাথেই বের হই?
রাইয়ান খান – নাহ তুমি অফিস যাও আমি একটু ওয়্যারহাউজ এ যাচ্ছি দেখে আসি কি অবস্থা
মিশান- ওকে,বাই
রাইয়ান সাহেব-হুম।(বলেই বেরিয়ে গেলো)

দুপুরের দিকে তীব্র মামার বাসায় এসেছে কাউকে না জানিয়েই। বাড়িতে ডুকতেই মামির সামনে পড়লো,
-আরে তীব্র বাবা তুই এসেছিস, আমাদের না হয় মনে পড়ে না তোর মায়ের কথা ভুলেই গেছিস, একটা বার ফোন দিয়েও তো খবর নিতে পারিস নাকি,,
তীব্র- কেনো মায়ের কি হয়েছে?
-কিচ্ছু হয় নি, বেচারি উদাস হয়ে থাকে কখন তার ছেলের চাঁদ মুখ খানা দেখবে, বলতে পারে না বলে কি আর অনুভুতি থেমে আছে??, কার জন্য এতো কিছু করছিস বলতো না একটা বিয়ে করছিস না মাকে একটু সময় দিচ্ছিস এতো টাকা দিয়ে কি করবি বল তো?
তীব্র- কথা না বাড়িয়ে মা কোথায় বলো
-রুমেই আছে যা!
তীব্র- ঠিক আছে,(বলেই মায়ের ঘরের দিকে যেতে লাগলো)
-আর কি খাবি দুপুরে সে টা তো বলে যা!
তীব্র- যা রান্না করেছো তাই ই খাবো (বাচ্চাদের মতো করে



চলবে…………

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।