দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part:-18+19
ছেলেকে এতদিন পর দেখে ভেতরটা যেনো ঠান্ডা হয়ে আসছে মায়ের, আহা!আবার অভিমান ও হচ্ছে।, ছেলেটা দেখতেও আসে নি, চোখ দুটো জলে টলমল করছে, ইশ! যদি একটু ছেলেটাকে ছুঁয়ে দেখতে পারতো! আদর করে বুকে জড়িয়ে নিতে পারতো বড্ড শান্ত হতো অশান্ত মন,, এমন রাজপুত্রের মতো ছেলেটা দেখতে, যার উপর অভিমান করে থাকাও যেনো পাপ!!এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছেলের দিকে আলিফা রেজা, ঠোঁট জোড়া কাঁপছে যেনো তার কান্না পাচ্ছে।।

তীব্র মায়ের সামনে বসে আছে চুপটি করে, যেনো নিষ্পাপ একটা শিশু ছেলে।।।।মায়ের অনুভুতি টা বুঝে মা ভাল নেই তার ছেলেকে না দেখে, তাই তীব্র মায়ের দিকে মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যেনো মায়ের মান ভাঙে, চোখে চোখে মা ছেলের কত শত কথা হচ্ছে।।

তীব্রর বাবাও তীব্রর মতোই একজন বড় মাফিয়া ছিলো, , নামকরা মাফিয়া ছিলো আরিফ রেজা,,যার নামে সাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন স্তরের মাফিয়ারা চাঁদা তুলতো কোটি কোটি টাকা,,, তীব্রর বাবার এক মাত্র দুর্বলতা ছিলো তীব্রর মা, স্ত্রীকে তিনি প্রচন্ড রকম ভালবাসতেন, তীব্রর মাও অনেক ভালবাসতেন।।
কিন্তু তীব্রর মায়ের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস স্বামী কে এতো বেশি ভালবাসতো আর সেই স্বামী কেই চোখের সামনে নির্মম ভাবে মরতে দেখে ব্রেনে নিতে পারে নি, কোমায় চলে গিয়েছিলো, কোমায় থেকে ফিরে প্যারালাইজড হয়ে আছে।।

তীব্র- রাগ হচ্ছে খুব তাই না মা??সরি!!এই কানে ধরলাম আর এমন হবে না মা,তোমার ছেলে তো কাজে ব্যাস্ত ছিলো মা,সেই জাপান গিয়েছিলাম পরশু রাতে ফিরেছি কাল সাড়াদিন কাজ ছিলো তাই তোমার কাছে আসতে পারি নি মা,, প্লিজ মা রাগ করে না মা, আই লাভ ইউ মা।।

একে একে তীব্র পাগলামো করেই যাচ্ছে মায়ের সামনে, মায়ের চোখে এখন জল নেই চোখে এখন হাসি জ্বলজ্বল করছে ছেলের পাগলামোর কাছে মায়ের অভিমান হেরে যেতে বাধ্য।।

-মা ছেলের কথার মধ্যে ডুকে গেলাম!
তীব্র- আরে নীলিমা আসো!(হাল্কা হেসে)
নীলিমা -কেমন আছো ভাইয়া? (তীব্রর হাতে শরবতের গ্লাস দিতে দিতে বললো)
তীব্র- আলহামদুলিল্লাহ, তোমার কি খবর?
নীলিমা -কোন খবর চাও?
তীব্র- সব গুলোই বলো শুনি!
নীলিমা -ওম্মম্মম সব খবর ই ভাল।
তীব্র- তাহলে তো ভালই, নতুন শ্বশুর বাড়ি কেমন লাগছে?
নীলিমা-হ্যাঁ এমনি তে ভাল, কিন্তু একটা ননদ বা জা থাকলে ভাল হতো, শাশুড়ি মা আর সার্ভেন্ট ছাড়া এতো বড় বাড়িতে কেউ নেই, বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগে গো, সময় কাটে না, একটা জা বা ননদ থাকলে সাড়াদিন ঝগড়া করে কাটিয়ে দিতাম বিন্দাস লাইফ!!!।
তীব্র- কি আর করার নেই যখন! তবে একটা কাজ করা যায় নীলিমা!
নীলিমা -কি কাজ?
তীব্র- ইফতি কে আরেক টা বিয়ে করিয়ে দেই সতীন নিয়ে সংসার, সাড়া দিন কেনো চাইলে সাড়া রাত দিন ২৪ ঘন্টাই ঝগড়া করতে পারবে, বিন্দাস লাইফের উপর স্কয়ার!!(হাসতে হাসতে বলছে)
নীলিমা-ব্যাপার টা ভেবে দেখতে হবে, তোমার কথা টা ফেলে দেয়ার মতো না!! (বলেই নীলিমা হেসে দিলো)

 




 

 

তীব্র নীলিমার দিকে তাকিয়ে আছে একটু অন্য রকম নজরে!খারাপ নজরে না ঠিক, নীলিমার মধ্যে কিছু একটা পর্যবেক্ষণ করছে, নীলিমা খেয়াল করলো ব্যাপার টা, কিছু বলতে যাবে নীলিমা তার আগেই তীব্র বলে উঠলো,
তীব্র- নীলিমা!
নীলিমা -হ্যাঁ ভাইয়া.!
তীব্র- তোমার মধ্যে একটা জিনিস খেয়াল করলাম, তোমার হাসি টা অনেক টা মিশানের মতো, প্রায় সেম ক্যাটাগরি তে তোমাদের হাসির ধরণ ইভেন হাসির সাউন্ড টাও সেম ।
নীলিমা -বুঝতে হবে তো আমার বোন ও, বাই দি ওয়ে ভাইয়া, তুমি এই দুদিনে মিশানের হাসি ও দেখে ফেলেছো? সাপে বর!
তীব্র- কেনো?
নীলিমা- ওর সামনে পৃথিবীর বিখ্যাতো জোকস বললেও ওর মধ্যে কোনো ফিলিংস কাজ করে না, হাসবে তো দূরে থাক, হ্যাঁ মাঝে মাঝে ও ডেভিল স্মাইল দেয় কিন্তু ওর ঠোঁটে মিস্টি হাসির খুব অভাব!

তীব্র- কিন্তু কেনো?
নীলিমা -কান্না হাসি দুটো জিনিসই মিশান এর কাছে দূর্লভ ব্যাপার!

তীব্র- হুম বুঝলাম।, কিন্তু আমার সাথে ও ম্যাক্সিমাম টাইম হেসেই কথা বলেছে, না দেখলে আমি বললাম কিভাবে!

নীলিমা-এতো মিল হয়েছে তোমাদের?(চোখ বড় বড় করে অবাক চোখে তীব্রর দিকে তাকিয়ে)ভালহ,

তীব্র- মিলললল…..হ্যাঁ হতেই পারে!দুজনেই যেহেতু এক ই জলের মাছ।।
নীলিমা – তাহলে আমার বোনকে তোমার নামে লিখেই দেয়া যায় কি বলো?(হেসে দিয়ে)

তীব্র- তোমার কথা ঠিক বুঝলাম না?অনেক টা ইফতির কথার ধরণের মতো লাগছে!
নীলিমা -তুমি সরো তো আমি একটু ফুফি মার সামনে বসবো!
বলেই নীলিমা উঠে তীব্রর মায়ের সামনে গিয়ে বসলো,
তীব্রর মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,

-জানো ফুফি মা, তীব্র ভাইয়া একটা মেয়ে কে পছন্দ করে! আর সেই মেয়েটা তোমার ছেলে যেমন মাফিয়া কিং সেও তেমন মাফিয়া কুইন, কিন্তু দেখতে ভারী মিস্টি মেয়ে,,,আমার থেকেও অনেক মিষ্টি!! তোমার ছেলে যেমন তালগাছের মতো লম্বা সেই মেয়েটাও তেমন সুপারি গাছের মতো লম্বা, আচ্ছা তোমার কি কোনো আপত্তি আছে তীব্র ভাইয়ার সাথে যদি তার বিয়ে দেই?

নীলিমার কথা শুনে তীব্রর মা যেনো হাসার চেষ্টা করছে নীলিমার দিকে তাকিয়ে, যেনো তার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে!!

তীব্র- কি পাগলামো শুরু করলে বলোতো নীলিমা? ইফতির ভূত তোমার মাথায় ও চেপেছে,!মাকে এসব বলে কি হবে, মা কষ্ট পাবে আরো। আমি কোনো বিয়ে টিয়ে ক…..(বলার আগেই)

নীলিমা – আরে ভাইয়া তুমি থামো, ফুফি মার দিকে তাকাও দেখো ফুফি মা হাসছে, তার সায় আছে এই ব্যাপারে, সেও চাই তুমি বিয়ে করো,, তুমি না ফুফি মাকে এত্ত এত্ত ভালবাসো তাহলে তার জন্য এই টুকু করতে পারবে না?
তীব্র- তোমাকে আমি যথেষ্ঠ সুস্থ মস্তিষ্কের ভেবেছিলাম, এখন দেখছি তুমি আর ইফতি এক ই নদীর মাছ!
নীলিমা -হ্যাঁ তাই ই তো হবে, যে যে রকম তার কপালে ঠিক সেই রকম জুটে,,আর ইফতি আমায় বলেছে তুমি মিশানকে প্রচণ্ড রকম ভালবেসে ফেলেছো এখন কথা লুকিয়ে লাভ নেই,!!! হুমহ!!

বলেই নীলিমা রুমে থেকে চলে গেলো।।


এরই মধ্যে তীব্রর ফোনে কল এলো, ফোন টা রিসিভ করতেই তীব্র বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।এদিকে তীব্রর মামী সে পেছন পেছন ছুটছে তীব্র এসেছে বলে সে তীব্রর পন্দের রান্না করছে,তীব্র বললো রাতে খাবে, এখন কাজ আছে,,মামা বাড়ি এসে তীব্র অনেক টা বাচ্চাদের মতো করে, এক মাত্র মামা বাড়ি আসার সময় সাথে কোনো গার্ড কেয়ার টেকার, ড্রাইভার কিচ্ছু রাখে না, একদম একা আসে মামা বাড়ি,, মামা বাড়ি আসলেই তীব্র একজন সাধারন মানুষ হয়ে যায়, পুরো দুনিয়ার কাছে তীব্র মাফিয়া কিং হলেও এই জায়গাটায় মামা মামির আদরের অতি ভদ্র এক মাত্র ভাগ্নে…..



কাজে কাজে নিয়ম মাফিক চলে যাচ্ছে মিশান তীব্রর জীবন প্রতিদিনের নিয়মে,, শুধু দুজনের পরিবর্তন এসেছে একটা জায়গায়, প্রায় রুটিন করেই বলা যায় রোজ মিশানের সাথে তীব্রর কথা হয়,,, রোজ দুজনকে মিস করা কথা বলা এরকম কেনো হয় ওরা জানে না, এতো দিনে তীব্র মিশান অনেক ভাল বন্ধু হয়েছে বটে।।। কিন্তু ওদের মাঝে যে অজানা অনুভুতি বিস্তার করছে সেটা কেউ বুঝতে পারছে না,,,,


এদিকে পার্টনারশিপ বিজনেসের ব্যাপারে মিশানের বাবা বাংলাদেশে এসেছে তীব্রর সাথে দেখা করতে, তীব্রর অফিসে নয় তীব্রর বাড়িতে, ক্লাইন্ট মিটিং রুমে বসে আছে
তীব্র আর মিশানের বাবা রাইয়ান খান




তীব্র- আপনি কষ্ট করে আসতে গেলেন কেনো আংকেল আমাকে বলতেন আমিই যেতাম আপনার কাছে!
রাইয়ান খান-ইটস ওকে বেটা! আমার আসতেই হতো বাংলাদেশে তাই ভাবলাম তোমার সাথে মিট টা করে যাই।
তীব্র- ওহ!
রাইয়ান খান-আমি আসলে অনেক দুঃখিত তীব্র গত ১০ বছরে আমি তোমাদের কোনো খোঁজ খবর নেই নি,কেমন আছো কি করছো, কোনো খবর নেই নি, তার জন্য হয়তো তোমার বাবার আত্মা আমায় ক্ষমাও করবেন না, একজন বাঙালী হয়ে আমি এমন নির্দয় কিভাবে হলাম কে জানে!

তীব্র- ইটস ওকে আংকেল, একই কথা আমিও বলতে পারি, আমারো উচিৎ ছিলো আপনার সাথে যোগাযোগ রাখা,আসলে পরিস্থিতিই সব বদলে দিয়েছে আমাদের,,।

রাইয়ান খান-হ্যাঁ তা ঠিক,পরিস্থিতিই আমাদের আবার এক করে দিয়েছে (মৃদু হেসে)
তীব্র- হুম,সব ই উপর আলার ইচ্ছা!!
রাইয়ান খান-তোমার কথার ধরণ একদম ই তোমার বাবার মতো হয়েছে, বাবার মতো ঠান্ডা মেজাজের, গুছিয়ে কথা বলা, বাবার মতো বুদ্ধিমান, বাবার বৈশিষ্ট্য গুলো ধরে রাখতে পারলে জীবনে তোমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না!
তীব্র- দোয়া করবেন আংকেল তাই ই যেনো হয়!
রাইয়ান খান-আমি তো ভাবতেও পারি নি তুমি এই পেশায় আসবে, তোমার বাবা তোমাকে পড়ানোর জন্য ইউ এস পাঠিয়েছিলো জানতাম,আর সব সময় বলতো টাকা পয়সা অনেক কামিয়েছি ছেলেকে আর এই পেশায় জড়াবো না, ছেলে পড়াশুনা শেষ করে চাইলে একটা ভাল কম্পানি খোলে দেবো ব্যাবসা দেখবে ছেলে আমার,,,,,আমি তো মিশানের জন্য বাংলাদেশেই আসতে পারি নি আর কারো খোঁজ খবর নেয়া হয় নি,অতীত টাকে ভুলার জন্য অতীতের সৃতি গুলোও মুছার ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়েছি (মন ভার করে)

তীব্র- পরিস্থিতি আর সময় সব টা বদলে দিয়েছে আমাদের জীবন।।। মাফিয়া রাজ্যে আমার পা রাখতেই হতো তাই বাবার পরে সব ছেড়ে এই বাবার পেশাকেই বেছে নিয়েছি!

রাইয়ান খান-তোমার মা এখন কেমন আছে বলো তো?
তীব্র- মা আছে প্যারালাইজড হয়ে সেদিনের পর মা একটা জীবিত লাশ হয়ে আছে,,,


চলবে…….
#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part:-19

তীব্র আর রাইয়ান খান খুঁটিনাটি অনেক কথা বলে যাচ্ছেন
মিশানের বাবা আসলে দেশে এসেছিলো বড় ভাই এর পলিটিকাল কাজের জন্য, তাই এক সাথে দুই কাজ করে যাওয়ার জন্যই তীব্রর সাথেও কথা বলে যাওয়াটাই উদ্যেশ্য,, দুপুর হতেই রাইয়ান খান বেরিয়ে পড়তে নিলে তীব্র লান্স না করে বের হতে দেয় না,অনেক টা জোড় পূর্বক রাইয়ান খানের লান্স করতে হলো তীব্রর বাড়িতে,তীব্রর মা এখনো মামা বাড়িতেই আছে তাই আর তার সাথে দেখা হলো না,,,, এক দিনেই রাইয়ান খানের মনে জায়গা করে নিয়েছে তীব্র,, পার্টনার হিসেবে তীব্র একদম ই পারফেক্ট!!!
বাবার মতোই অনেক এক্সপার্ট হয়েছে ছেলে!!আমির রেজার জায়গায় তীব্রর আসা টা খুব জরুরীই ছিলো তীব্রকে এই পজিশনে দেখে রাইয়ান খানের অনেক ভাল লাগছে,, আমির রেজা একটা সময় রাইয়ান খানের অনেক ভাল বন্ধু ছিলেন,+পার্টনার ও ছিলেন,, কিন্তু সময় পরিস্থিতি আর একটা ভয়ংকর অতীত বদলে দিয়েছে সব রঙ!

 




 

রাইয়ান খান বাংলাদেশে গেছেন দুদিন পাড় হয়ে গেলো,এমনিতেই মিশান একা একা থাকে তার মধ্যে মিশানের বাবা বাড়ি না থাকলে মিশানের আরো একা লাগে,,কিন্তু মিশান কখনো বুঝতে দেয় না !!

রাত প্রায় ১০ টা বাজে,
, ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলো, কেনো জানি আজ খাবার টা গলা দিয়ে নামছে না,আবার শরীল টা দুর্বল ও লাগছে অনেক টা জোর করেই খেলো রাতের খাবার টা।।

এক কাপ কফি হাতে নিয়ে বসে আছে ছাদের কিনারায়,,
বাড়ির এই বিশাল ছাদটা মিশানের পছন্দের সব ফুল গাছ দিয়ে ভরা,, ছাদের রেলিং গুলো মোটা কাচের যার ভেতরে আবার কালারফুল আলোও জ্বলছে,,, ছাদের এক পাশে কাচের সুইমিং পুল, যার মধ্যে স্বচ্ছ আকাশী নীল রঙের পানি, যখন আকাশে চাঁদ উঠে তখন পুলের উপর চাঁদ এর আলো চাঁদেরকণার মতো উপচে পড়ে পানির উপর,, বাড়ির চারপাশে কালো সানগ্লাস পড়া বিশাল দেহের আকৃতি বিশিষ্ট গার্ড রা রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে,,
মিশান কখনো ছাদে এলে ফোন সাথে আনে না এই সময় টুকু একা একা থাকতেই ভালবাসে, কোনো কিছুর সঙ্গ পছন্দ না,, কিন্তু আজ অনেক টা মনের ভুলেই মোবাইল টা পকেটে রয়ে গেছে।। একমনে আকাশের চাঁদ তারা দেখে যাচ্ছে আর কফি তে চুমুক লাগাচ্ছে এরই মধ্যে মিশানের ফোন টা বেজে উঠলো ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই দেখলো তীব্র কল করেছে।। মিশানের একটা বাজে স্বভাব আছে,সেটা হলো মিশানকে কেউ যত ইমারজেন্সি কল ই দিক মিশান সহজে রিসিভ করে না, কেনো করে না মিশান নিজেও জানে না, আবার নিজে ঠিকি একবারের বেশি কাউকে কল দেবে না,,, কিন্তু তীব্রর ভাগ্য টা অনেকটাই লাকি,এক বার কল দিতেই মিশান রিসিভ করে ফেলে।।।কিন্তু আজ মিশান ফোন টা রিসিভ করলো না!! কেনো করলো না মিশান ই ভাল জানে, আমি কি করে বলবো!!!

এদিকে বিকেল ৬ টা বাজে প্রায়,
তীব্র একটা সাগরের উপর ভাসমান ট্রলারে ব্রেঞ্চে হাতে রিভলভার নিয়ে বসে আছে একা একা, গার্ড রা দূরে থেকে তীব্রকে পর্যবেক্ষণ করছে, কেনো জানি আজ তীব্রর মন টা ভাল নেই, খুব বেশি শুন্যতা অনুভব করছে ভাল লাগছে না কিছুই, তীব্র অনেক টা চাপা স্বভাবের ভেতরে রাগ অভিমান কষ্ট কাউকে বুঝতে দেয় না, বেশির ভাগ সময় হেসেই এড়িয়ে দেয় ,, দেশের অন্যান্য মাফিয়া রা তীব্রকে ঠান্ডা মাথার ভিলেন বলে,কারণ তীব্র কাউকে খুন করতে গেলেও তার সামনে একটা মিস্টি ডেভিল স্মাইল দিয়ে কপালে শ্যুট করে দিবে, একজনের উপরের রাগ আরেক জনের উপর কখনোই ঝাড়বে না, যার উপর রাগ তার উপর ই বিপদ অবতীর্ণ হবে তীব্রর দ্বারা,,
যাই হোক!!! তীব্রর মন খারাপ হলে চুপচাপ হয়ে নিরিবিলি কোথাও বসে থাকবে এটাই তীব্রর নিয়ম, আজও কোনো ব্যাতিক্রম নয়!!!!
কাজের জন্য কক্স বাজারে এসেছিলো তীব্র , আজ ভাল লাগছে না কিছুই একাকীত্বের সময়টাতে তীব্রর বাবার কথা
মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিলো, কি মনে করে যে তীব্র মিশানকে ফোন দিয়েছিলো নিজেও সেটা নিয়ে ভাবছে

কিছুক্ষন পর তীব্রর ফোনে কল এলো স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো মিশান কল করেছে, রিসিভ করতেই
ওপাশ থেকে মিশান বলে উঠলো।
-হেই মিস্টার তীব্র!আজ হঠাৎ কি মনে করে অসময়ে কল দিলেন?
তীব্র- অসময়ে কল দিলেও কি আপনি রিসিভ করতে পেরেছেন?
মিশান- আসলে হয়েছেটা কি আমি না কফি খাচ্ছিলাম তাই রিসিভ করি নি,এই যে এখন কফি খাওয়া শেষ ফোন ব্যাক করেছি
তীব্র- ধন্য করে দিয়েছেন আপনি আমাকে,, আপনার প্রশংসা আমি কি দিয়ে করবো সেটা ভেবে পাচ্ছি না!!!তা কফি খেলে ফোন রিসিভ করা যাবে না সেটা তো জানতাম না কোনোদিন!!
মিশান- আরে কাহিনি পুরো টা আগে শুনুন তো!
তীব্র- বলুন!
মিশান- প্রথমতো আপনি আপনি থামান!! দ্বিতীয়ত আসলে আমি যদি আপনার ফোন টা রিসিভ করতাম তাহলে আমার কফি খাওয়া টা হতো না, কারণ আমার তো একটা ভাল গুণ আছে সেটা তো আপনি জানেন ই, আমি যখন যে টা করি খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে করি আর এতো টা মনোযোগী থাকি আশে পাশে দিন দুনিয়া খেয়াল থাকে না, সো এখন আর কোনো প্রশ্ন আছে আপনার?
তীব্র- বুঝেছি ম্যাডাম খুব ভাল মতো বুঝেছি, তো এখন কি করছো?
মিশান- ছাদে বসে বসে আকাশের তারা দেখছি,আপনি?
তীব্র- আমিও দেখছি!
মিশান- কি দেখছেন?
তীব্র- একটা ক্লান্ত দূর্বল সূর্যের মুমূর্ষু রূপ, তার সাথে আগুন বর্ণ লালচে মেঘ, মেঘ টার নিচের সবুজ রঙের পানির সাথে মিশে যেতে চাইছে আর কিছু গাংচিল এর ঝাঁক যেনো মিলতে দিচ্ছে না মেঘ আর সাগরের সবুজ পানিকে ওদিকে সূর্যটা আড়চোখে তাকিয়ে ডুব দিচ্ছে ঘুমের সাগরে!!! সেই দৃশ্যটা পরোখ করে দেখছি।।
মিশান- ওয়াও হোয়াট এ ন্যাচার!!
তীব্র- হুম,,,আচ্ছা তুমি কি সব সময় অফিস টু বাসার ছাদ এই টুকুই ঘুরা ফেরা করো?
মিশান- কেনো?
তীব্র- দিন হলে কাজে থাকো, অফিসে, বাইরে, আর রাত হলে শুনি বাসার ছাদে, আর কোথাও না!
মিশান- মাঝে মাঝে যখন মন চায় ওয়ার্ল্ড টুরে বেরিয়ে পরি কিন্তু গতো ৩/৪ মাস ধরে কোথাও যাওয়া হয় নি কাজের ব্যাস্ততায়,,
তীব্র- আমারো একই অবস্থা গো,, তোমার তো তাও বাবা আছে, তোমার পাশাপাশি তোমার বাবাও তোমার কাজ এগিয়ে দেয়, আমার তো তাও নেই!!সব কিছু নিজের ই করতে হয়!

তীব্রর কথা টা শুনে মিশানের কেমন জানি খারাপ লাগলো, আর বুঝতেও পারলো তীব্রর মন খারাপ , তীব্র অনেক টা মন খারাপ নিয়েই কথা টা বললো,,মিশান কথা টা এড়িয়ে গেলো ইচ্ছে করে,

মিশান- হুম বুঝলাম, লন্ডন আসেন, একসাথে ঘুরতে যাবো নি!!
তীব্র- সময় হলে যাবো নি
মিশান- ওকে !
তীব্র- আচ্ছা মিশান তুমি সামনা সামনি তো খুব একটা কথা বলো না, আবার ফোনে দেখছি খুব কথা বলতে পারো, কাহিনী টা বুঝলাম না ভাই।
মিশান- সত্যি?
তীব্র- অবশ্যই!
মিশান- মাথায় রেখে দিলাম কথা টা পরে ভেবে বলবো নি!!




 

টুকটাক কথা বলতে লাগলো দুজনে,, কি এমন কথা বলছে কে জানে!!! অনেক্ষন কথা বলার পর ফোন টা রাখা হলো, কথা বলার পর দুজনের ই মন টা হাল্কা লাগছে,,
রাত হয়েছে অনেক মিশান রুমে চলে গেলো, বিছানায় শুতে যাবে ঠিক তখন নিজের চোখ টা আয়নার দিকে গেলো, কখনো আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা হয় নি,কেনো জানি মিশান এক মনে তাকিয়ে আছে আয়নাটার দিকে,, কখনো নিজের মায়াবী চোখটার দিকে চোখ রেখে দেখা হয় নি, মিষ্টি গোলাপি চিকন ঠোঁট টার দিকে কখনো তাকানো হয় নি, বিশেষত্বে ভরপুর এই মেয়েটা নাকি সাড়াদিন খুন খারাপি নিয়ে থাকে, এই চেহারাই সেই চেহারা যে টাকে মিশান ধারণ করে রেখেছে? দুধে হলুদের ন্যায় গায়ের রঙ, নাকের গড়ন টাও কি সুন্দর সরু, দেহের উচ্চতা এতো লম্বা! ,,, সৃষ্টিকর্তা যে নো কোনো ক্ষুত দিয়ে বানায় নি,, একদম পরিপূর্ণ।। কিন্তু এই মিশান টা কেনো সাদাসিধে জীবন না নিয়ে এমন ভয়ংকরী রূপ নিয়ে মৃত্যুর খেলায় মেতে থাকে!!আয়নাতে নিজেই নিজেকে দেখছে, আর ভাবছে
-আমি কি বদলে যাচ্ছি??ভালবাসা নামক অভিশাপ কি আমায় আবার মুড়ে নিচ্ছে?? না না কোনো ভাবেই এটা সম্ভব না, মিশান তোর গোল টা কি তুই খুব ভাল করে জানিস, কোনো মায়ায় আটকাবি না, হিংস্র মিশান টাকেই ধরে রাখ তুই, অনেক ভাল থাকবি, আগের মতো হয়ে যাস না মিশান , বর্তমান টাই তোর বাস্তব!!!

কথা গুলো মিশান বলছে আর চোখ দুটো টগবগ করছে জলে,,,,চোখ বন্ধ করলেই তীব্রকে দেখতে পাচ্ছে মিশান,, যেটা মিশানের খুবই অস্বস্তিকর লাগছে!!!!

এদিকে তীব্র সেও তো এই মাফিয়া রাজ্যে এসেছিলো একটা মিশনে!! বাবার স্বপ্ন ছিলো না তীব্রও মাফিয়া পেশাই আসুক, বাধ্য হয়ে তীব্রর মাফিয়া রাজ্যে পা রাখতে হয়েছে,, হোটেলে ফিরে সেই কখন থেকে ওয়াশরুমে ডুকে সমানে চোখে মুখে আর মাথায় পানি দিয়ে যাচ্ছে,,, তীব্রর প্রচন্ড পরিমাণে অস্থির লাগছে

চলবে…..।।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।