দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part:-20+21
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে, কফি খেতে খেতে ছাদে গিয়ে ফুল গাছে পানি দেয়া থেকে শুরু করে ফুল গাছের পরিচর্যা করা মিশানের দিনের প্রথম ভাগের কাজ,রাত যতোই জাগুক ভোরে সুন্দর মনোরম দৃশ্যটা দেখায় মিস নেই মিশানের,কারণ ভোরের প্রকৃতি আর রাতের নিস্তব্ধতায় মিশান যেনো ওর মাকে খুঁজে পায়,, মা যখন ছিলো রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়ে ভোরের প্রকৃতি দেখাতো,আর রাত হলে আকাশের চাঁদ তারা দেখাতো।।।বাড়ির চারপাশে বাগান বিস্তৃত বলে পাখিদের আনাগোনার শেষ নেই,, ভোর বেলা পাখির কিচিরমিচির শব্দ মিস্টি ফুলের ঘ্রাণ ঠান্ডা মনোরম এক ঝাঁক বাতাস নীল আকাশে পূর্ব আকাশে সূয্যি মামার আগমন ,,, সব মিলিয়ে এ দৃশ্য হাত ছাড়া করার মতো নয়!!!

বেলা ৯ টা বাজে,
ব্রেকফাস্ট এর জন্য জেসি ডাকতে এলে মিশান বলে দেয় রুমেই খাবে, নিচে যেতে মন চাইছে না,, সার্ভেন্ট এসে মিশানের রুমে খাবার দিয়ে গেলো,,, মিশান সোফায় বসে আছে, টি টেবিলে জেসি খাবার টা রাখতে বললো সার্ভেন্টদের,,জেসি খাবার টা সার্ভ করার জন্য যেই ঢাকনা খুলে প্লেটে উঠিয়ে দিতে যাবে, মিশান খাবারের দিকে তাকিয়ে বললো.
মিশান- এক মিনিট!
জেসি- এ এনি প্রব্লেম ম্যাম?(ভয়ে ভয়ে)

মিশান কোনো কথা বলছে না, খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে, এমন ভাবে খাবার টার দিকে তাকিয়ে আছে যেনো খাবারের মধ্যে কেউ বিষ মিশিয়ে দিয়েছে, আর সেটা মিশান স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে,, মিশান চোখ টা বন্ধ করে হাল্কা নিশ্বাস নিয়ে একটু জুড়েই বললো,

মিশান- ওহে মায়াবতী, দরজার আড়ালে লুকিয়ে না থেকে দর্শন দাও দেবী নীলিমা!!!

কথা টা শুনে জেসি ফিক করে হেসে দিলো, (নীলিমা এসেছে কাল রাতেই মিশানের বাবার সাথে, মিশান জানেই না! সারপ্রাইজ দেবে বলে সকালে উঠে মিশানের পছন্দের খাবার নিজ হাতে রান্না করেছে,, আর দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলো মিশান কি বলে সেটা শুনার জন্য,তা তো ধরাই খেয়ে গেলো!))
নীলিমা-এই তুই সব সময় কিভাবে বুঝে যাস রে? (আবেগী আবেগী ভাব নিয়ে, রুমে ডুকতে ডুকতে)
মিশান- খাবারের চেহারা দেখেই বুঝেছি এতো কুৎসিত দেখতে খাবারের চেহারা একমাত্র নীলিমা দেবীর ই হবে!! (টিজ করে)
নীলিমা -হয়েছে বুঝেছি,এবার খাবার টা খা দেখি, আর বল কেমন হয়েছে (মিশানের পাশে বসতে বসতে)
মিশান- খাবো তো, খাওয়ার জন্যই তো খাবার! এদিকে ঘুরো দেখি,
বলেই মিশান চামচে করে খাবার তুলে নীলিমার দিকে তুললো!!নীলিমা মিস্টি একটা হাসি দিয়ে খাবার টা মুখে নিয়ে বলতে লাগলো
নীলিমা -জানিস মিশান আমার জীবনে একটা ইচ্ছা সাড়াজীবন অপূর্ণ থেকে যাবে!
মিশান- কি সেটা জানতে পারি?
নীলিমা-তুই নিজ হাতে আমাকে খাইয়ে দিবি!!
মিশান- তাহলে আমি এটা কার হাত দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছি?
নীলিমা -চামচ!

মিশান একটা হতাশার নিশ্বাস নিয়ে বললো,
মিশান- নিজের হাত দিয়ে নিজেই খেতে পারিনা, চামচ ছাড়া তোমাকে কিভাবে খাইয়ে দিবো বলো তো??
নীলিমা -সেই জন্যই তো বললাম এই ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না,,
মিশান- ঠিক আছে আমি ট্রাই করবো আগে প্র‍্যাক্টিস করে নেই, যদি সাকসেস হই তারপর তোমাকে খাইয়ে দেবো,তোমার ইচ্ছা অপূর্ণ রাখবো না, ওকে হ্যাপি???

নীলিমা মুচকি হেসে দিয়ে বললো!
-হুম হ্যাপি,এবার আয় দেখি তোকে খাইয়ে দিয়ে নেই খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে,,(বলেই নীলিমা মিশানকে খাইয়ে দিতে লাগলো)
মিশান একমনে নীলিমার দিকে তাকিয়ে খাবার খাচ্ছে, , এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মিশান যেনো একটা ১০ বছরের শিশু আর নীলিমা মায়ের মতো একটা বড় বোন!!

মিশান- খাবার টা দারুণ হয়েছে,!!তোমার হাতে না একটা এক্সট্রা জাদু আছে রান্নার হাত টা জোস!
নীলিমা-তাই বুঝি!!
মিশান- অলরাউন্ডার বোন আমার (বলেই নীলিমার গাল টেনে দিলো,নীলিমা হেসে দিলো)..

খাবার শেষ করে দুজনে বসে আছে সোফায়,, গল্প করছে,মিশান আর আজ বের হবে না, কারণ জানেই নীলিমা আজ কোনো ভাবেই মিশানকে বের হতে দেবে না, আজ সাড়াদিন ই নীলিমা মিশানের সাথে লেগে থাকবে,মিশানের মাথায় বিলি কেটে দিবে, চুল নিয়ে নানা রকম ডিজাইন বানাবে, আবার মিশান কে কুলে শুইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবে,,নানান রকম গল্প করবে,, যার কোনো টাই মিশানের বিরক্ত লাগে না, বরং ভাল লাগে,, নীলিমার মধ্যে পুরো মা মা ভাব আছে,, মিশান নীলিমাকে অনেক পছন্দ করে আর ভালোওবাসে কিন্তু মিশান প্রকাশ করে না, বুঝতেও দেয় না,, নীলিমা যখন কথা বলে মিশান নীলিমার দিকে এক মনে চুপচাপ তাকিয়ে থেকে কথা শুনে।।।মিশান ছেলে হলে কোনো ভাবেই নীলিমার মতো মিষ্টি মেয়েকে হাত ছাড়া করতো না,প্রয়োজনে জোড় করেই বিয়ে করতো ,,, এতো বেশি মিষ্টি এই মেয়ে যার সব গুন ই মিষ্টি!!

নীলিমা মিশানের বাবার সাথে একাই এসেছে, ইফতি কাল পরশু আসবে কাজে আটকে আছে,

নীলিমা -এখন বল তো মিশান কোথায় যাওয়া যায়?
মিশান- হুম্মম্মম, ভেবে দেখছি,,।।। তোমার পছন্দের কোনো জায়গা নেই?
নীলিমা -আছে কিন্তু এক জায়গায় বার বার যেতে ভাল লাগে না, তুই ভেবে বল।।

নীলিমা মিশানের কথার মধ্যে এন্ট্রি নিলো রাইয়ান খান।
রাইয়ান খান- দুই বোনের মধ্যে কি এতো কথা হচ্ছে শুনি?(হাসি হাসি মুখে)
নীলিমা-হানিমুনে কোথায় গেলে ভাল হয় সেটা নিয়ে ভাবছি চাচ্চু,তুমি একটা বুদ্ধি দাও না, কোথায় গেলে ভাল হয়?
রাইয়ান খান- আই থিংক, তোমাদের এখনো নায়াগ্রার জলপ্রপাত দেখা হয় নি,তোমরা চাইলে সেখানে যেতে পারো আমেরিকা/কানাডা সাইড থেকে!
নীলিমা-গ্রেট আইডিয়া চাচ্চু ইউ আর ব্রিলিয়ান্ট, আমার মনের মতো একটা জায়গার নাম বলেছো, আমার মাথায় আসছিলো না,, তাহলে ওখানেই যাওয়া যাক মিশান কি বলিস?
মিশান- ঠিক আছে যেটা ভাল বুঝো,, আমাকে যেদিকে নেবে সেদিকেই যাবো শুধু সাগর বাদ দিয়ে!!
রাইয়ান খান-আমি এই মেয়ে কে নিয়ে কি করবো বলো তো নীলিমা!
নীলিমা-কেনো কি হলো আবার?(অবাক হয়ে)
রাইয়ান খান- মেয়েটা পানি দেখে ভয় পায় বলে ওকে এথেলেটস ট্রেনিং দেয়ালাম, চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরে মেডেল নিয়ে এলো সেই মেয়ে সাগরের/সমুদ্রের জল দেখে ভয় পায়! মিশান তুমি কি জানো এটা লোকে শুনলে হাসবে!

মিশান- জানি না ড্যাড আমার সাগরের/সমুদ্রর দিকে তাকালে কেমন জানি দম বন্ধ হয়ে আসে!! মনে হয় কেউ আমার ফুসফুস আটকে ধরে রেখেছে! আর আমি কি জেতার জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছি নাকি! পানিতে নামলে মনে হয় আমাকে কিছু একটা চুম্বকের মতো টানছে নিচের দিকে, আর মনে হয় আমার কেউ নেই আমি একা,, গভীর তলে হারিয়ে যাচ্ছি আর এখন আমায় নিজেকে বাঁচাতে হবে,, আর বাঁচার জন্যই হুমড়ি খেয়ে উঠে পড়ে লেগেছি,এখন দেখি আমি চ্যাম্পিয়ন!!! ভাবা যায়!! আমার আইডিয়ার বাইরে ছিলো!!

মিশানের কথা শুনে রাইয়ান খান আর নীলিমা দুজনের অনেক জুড়েই হেসে দিলো, কেনোনা মিশান কথা গুলো এমন ভাবে বলছিলো মিশানের চেয়াহায় বোকা বোকা ভাব কাজ করছিলো!!এরই মধ্যে নীলিমা বলে উঠলো
নীলিমা-মিশান তোর কথা শুনে একটা জোকস মনে পড়ে গেলো আমার বলবো?
রাইয়ান খান- এটা জিজ্ঞেস করার কি হলো বলে ফেলো,,

নীলিমা-এক লোক গ্রামে থেকে শহরে এসেছে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে,, তো রেস শুরু হওয়ার আগে জানতে পারলো পায়ে কনভার্স পড়ে রেস নিতে হবে, লোকটা পড়লো মহা মুশকিলে গ্রামে তো খালি পায়ে রেস নিয়েছে তাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এখানে এমন ভারী জুতো পড়ে রেস নিবে কি করে ভাবছে! তারপর কি হলো জানিস রেস শুরু হয়ে গেলো আর গ্রামের লোকটা চ্যাম্পিয়নও হলো,, তখন সাংবাদিক এসে জিজ্ঞেস করলো ভাই আপনি তো গ্রামে থেকে এসেছেন,শহরের মানুষের সাথে রেস কম্পিটিশন তার মধ্যে জুতো পড়ে কিভাবে সম্ভব!তখন লোকটা বললো আরে ভাই আমি কি জেতার জন্য দৌড় দিছি নাকি, পেছন থেকে গুলির আওয়াজ শুনে ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড় দিয়েছিলাম,কে জানতো এরা বাশি ফুঁ না দিয়ে গুলির আওয়াজ করে (নীলিমা হাসতে হাসতে বললো)

নীলিমার কথায় রাইয়ান খান অনেক জুড়েই হেসে দিলো মিশান তো হাসতে যেয়েও হাসি আটকে রাখলো।।।



নীলিমার সাথে মিশানের দিন ভালোই কাটছিলো নীলিমাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া সাড়াদিন নীলিমার সাথে থাকা
দুই দিনে মিশানকে কোনো কাজ ই করতে দিচ্ছে না নীলিমা সাড়াদিন মিশানের কানের কাছে বক বক করতেই থাকে মিশানের বাধ্য হয়ে শুনতে হয়, কারণ নীলিমার কথা মিশান সেই ছোট্ট বেলা থেকে শুনে, বাবার পরে পৃথিবীতে কেউ যদি মিশানকে ভালবেসে থাকে সেটা নীলিমা,, নীলিমার মতো মিস্টি মেয়েকে আঘাত দিয়ে কথা বলাও যেনো পাপ।।।আর মিশানের পুরো দুনিয়ার উপর বিরক্তি এলেও নীলিমার উপর বিরক্তি আসে না,, রাতে নীলিমা মিশানের পাশে ঘুমায়, আলাদা রুমে না।।। মিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় গল্প করে মিশান ঘুমিয়ে পড়ে,নীলিমার জন্য রাইয়ান খান এবার একটু চিন্তামুক্ত! কারণ মিশানের কাজের চাপ মিশান নিজে কখনো কমাবে না বাবার কথাও শুনবে না, একমাত্র নীলিমায় বশ করতে পারে,কাজ থেকে কিছু দিন দূরে থাকলে মিশানের ডিপ্রেশন টা কমে আসবে!

রাতে ঘুমানোর জন্য শুয়ে আছে নীলিমা মিশানের মাথার চুল টেনে দিচ্ছে আর কথা বলছে আর মিশানের চোখে ঘুম নেমে আসছে ঘুমের রাজ্যে চলে যাবে ঠিক তখন মিশানের ফোনে কল এলো, পাশ ফিরে দেখে তীব্র ফোন করেছে, ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে গেলো,কিছুক্ষন পর আবার ফোন এলো, এবার মিশান পুরো পুরি ঘুমের রাজ্যে, কিন্তু নীলিমা ঘুমায় নি,, মিশানের ফোন টা হাতে নিতেই দেখে তীব্র! রিসিভ করে কানে নিতেই,ওপাশ থেকে বলে উঠলো

তীব্র- দু’ দিন ধরে কোনো খোঁজ ই নেই আপনার, ইহদেশে বিরাজমান আছেন কি মহারাণী?
নীলিমা- নাহ আপনার রানী ঘুমের দেশে বিরাজ করছে! ইহদেশে নেই এলেই বলে বলে দেবো (হেসে দিয়ে)
তীব্র- হেই নীলিমা ইউ!!এতো রাতে মিশানের কাছে মিশানের ফোনে কি করছো??
নীলিমা-প্রথমতো আমি মিশানের সাথে ঘুমাই,দ্বিতীয়ত মিশান ঘুমিয়েছে ওর ফোন বাজছিলো আর দেখলাম তুমি তাই রিসিভ করেছি!!
তীব্র- কাজ টা ঠিক করো নি,মিশান জানলে তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে, মিশানের ফোন রিসিভ করেছো জানলে?(হুমকি স্বরূপ)
নীলিমা -যে না ভাইজান, মিশানের কলিজায় এতো জল ধরে নাই, যে নীলিমাকে বাড়ি থেকে বের করবে তো দূরে থাক নীলিমার দিকে চোখ গরম করে তাকাবে!! হুমহ!!
তীব্র- বাব্বাহ এতো কনফিডেন্স?? গুড,,বাই দি ওয়ে তুমি নতুন বউ জামাই রেখে একা একা বেড়াইতে গেছো কোন আক্কেলে?
নীলিমা-জামাই যদি না আসে আমি কি জামাই বাইন্দা আনমু নাকি?বাই দি ওয়ে কাল আসবে ইফতি,আর দয়া করে আপনিও আসিয়েন ভাইজান!
তীব্র- আচ্ছা আমি একটা জিনিস খেয়াল করলাম, তোমরা দুই বোন ই প্রচুর কথা জানো, একটা কথা মাটিতে পড়তে দাও না, অথচ তোমাদের চেহারা দেখে মনে হয় ভাজা মাছ উল্টে খেতে গেলে হাতে ফুসকা পড়বে!!
নীলিমা-কি করে কথা মাটিতে পড়তে দেই বলো তো?? কথা কি মাটিতে পড়ার জিনিস?
তীব্র- হয়েছে বুঝেছি, ঘুমাও!!আর মিশানকে বলার দরকার নেই আমি কল দিয়েছিলাম।
নীলিমা -ওকে,,কিন্তু তুমি কিন্তু কাল ইফতির সাথে আসবে বলে দিলাম,
তীব্র- কেনো??
নীলিমা-আমি আর ইফতি, তুমি আর মিশান আমেরিকার/কানাডা সাইডে নায়াগ্রা দেখতে যাবো!!
তীব্র- আমার না তোমাদের মতো আজাইরা টাইম নেই, তোমাদের হানিমুন তোমারা যাও, মিশানকেও টানার দরকার নেই,,বাই,, গুড নাইট(অনেক টা ঝগড়াটে স্বরে বললো মজা করে) বলেই তীব্র ফোন কেটে দিলো


সকাল প্রায় ১০ টা বাজে,
মিশান ঘরে বসে রিভলভারে গুলি লোড করছে,, নীলিমা মিশানের জন্য খাবার নিয়ে এলো, মিশানের সামনে খাবার রেখে ওর সামনে বসে পড়লো, মিশানের কাজ দেখছে বসে বসে! মিশান রিভলভারে গুলি লোড করাই গভীর মনোযোগ দিয়ে আছে পাশে নীলিমা এসে বসেছে সে দিকে খেয়াল ই নেই ওর, এক মনে কাজ করে যাচ্ছে, হঠাৎ পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে নীলিমা তাকিয়ে আছে ওর রিভলভারের দিকে, মিশান একটা ডেভিল স্মাইল দিয়ে রিভলভার নীলিমার কপালের দিকে গান পয়েন্ট করলো, নীলিমা চমকে যায় হুট করে এমন করাই তারপর মিশানের চোখের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দেয়!
মিশান- আচ্ছা তুমি কি আমায় দেখে পাও না একটুও??
নীলিমা -হুমহ ভয় পাবো কেনো? তুই বড় না আমি বড়?
মিশান- (একটা বড় নিশ্বাস নিয়ে বললো) তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করো যেনো আমি অতি সাধারন তোমারি মতো কেউ, আমি যে অন্য দুনিয়ার মানুষ সেটা হয়তো ভুলে যেতে চাও!
নীলিমা-ওও হ্যালো আপনি মাফিয়া হোন ডন হন ঘরের বাইরে ভেতরে না, ঠিক আছে, বাড়ির ভেতর বাড়ির মেয়ে আর কিছু না!(কথা শেষ করতেই নীলিমা মিশানের হাত থেকে রিভলভার নিয়ে নিলো, মিশান নীলিমার কর্ম কান্ড দেখছে, নীলিমা দুই হাত দিয়ে ধরে রিভলভার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে আর বলছে
-আচ্ছা এটা এতো ভারী কেনো মিশান? ইফতিরও একটা রিভলভার আছে হাতে নিয়েছিলাম ওটা এতো ভারী ছিলো না, এটা সাথে নিয়ে ঘোরিস কিভাবে!!
মিশান- এটাতে গুলি লোড করা আছে আপু, গুলির জন্য এতো ভারী এটা,, গুলি বের করলেই হাল্কা,, আর রিভলভার আমি বেশি ক্যারি করি না, এই টা ক্যারে করি সব সময়(বলেই একটা ছোট্ট ছুরি বের করলো ছুড়ি টার দৈর্ঘ্য প্রায়
৬ ইঞ্চি হবে, এতো ছোটো)
নীলিমা -এবাবা দেখি এটা তো অনেক ছোটো (বলেই ছুরি হাতে নিলো নিয়ে চমকে গেলো নীলিমা,ছুরি টা সাইজে ছোটো হলেও এটা এতো বেশি ধারালো এর উপর হাত পরলেই কেটে যাবে,,)
মিশান ছুরি চালাতে খুবই এক্সপার্ট, কংফু স্টাইলে ছুরি চালানোর ওস্তাদ মিশান!

দুপুর বেলা ইফতি এসেছে লন্ডন, শুধু ইফতিই না ইফতির সাথে তীব্রও এসেছে, সাথে কোনো গার্ড আনেনি, ইফতি আনতে দেয় নি,,,, মিশানদের বাড়িতে প্রবেশ করতেই নীলিমার সামনে পড়তে হলো তীব্রর,নীলিমা তীব্রর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে,, তারপর তীব্রর কানের কাছে যেয়ে বললো
নীলিমা-তাহলে কারো আজাইরা টাইম হয়েছে আসার জন্য??
তীব্র হতাশার নিশ্বাস ফেলে বললো,
তীব্র- সব সহ্য করতে পারি কিন্তু দূর্বল জায়গায় আঘাত সহ্য করতে পারি না,, বিয়ের আগে ইফতি অনেক ভাল ছিলো বিয়ের পর দেখি ওর মধ্যে পাগলের বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে যেটা ওর মধ্যে এসেছে তোমার প্রভাবে, ,, তোমরা দুজনেই বড় মাপের পাগল, হানিমুন শেষে একটক ভাল সাইকোলজিস্ট দেখিয়ে নিয়ো তোমরা কেমন??

চলবে…….
#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part-21
ইফতি তীব্র আসার সাথে সাথে সার্ভেন্টদের আপ্যায়ন শুরু হয়ে গেছে,, রাইয়ান খান কাজের জন্য বাইরে আছে, ফিরতে রাত হবে,, আর মিশান এখনো জানে না ওরা এসেছে কারণ ও বাথরুমে শাওয়ার নিচ্ছে,,,,
ইফতি মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো বাড়ি দেখছে, মিশানদের বাড়ি টা অনেক টা রাজ প্রাসাদের মতো এতো বিশাল আর সুন্দর বাড়িতে দুজন মালিক আর সব সার্ভেন্ট কেয়ারটেকার,,, মিশান গোসল সেরে বের হতেই জেসি মিশানের চুল গুলো আলতো হাতে টাওয়াল দিয়ে মুছে দিলো,,মিশান গায়ে একটা ব্ল্যাক কালারের টি শার্ট যার হাতা টাও ফুল আর একটা ব্ল্যাক জিন্স ফুল প্যান্ট পড়ে আছে।।অবশ্য মিশানের সব জামা কাপড় ই শুধু ব্ল্যাক, হোয়াইট আর ডার্ক ব্লু কালারের প্যান্ট শার্ট টিশার্ট, আর কোনো জামা পড়ে না,, মেয়ে হয়ে এতো বেরঙা কেনো কে জানে, আবার সব জামা ফুল হাতা, যদিও সব সময় হাতা ফোল্ড করে রাখে,আবার মাঝে মধ্যে হাতার বোতাম খোলে নিচের দিকে ছাড়িয়ে দেয়।।।

ভেজা চুলের পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে শার্ট এর মধ্যে,, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই তীব্রর চোখ গেলো মিশানের দিকে এরকম ভেজা চুলে মিশানকে আজ প্রথম দেখলো।।কি অপরূপ ই না লাগছে মেয়েটাকে, এক মনে তাকিয়ে আছে মিশানের দিকে, চার দিকে কোনো কিছুই খেয়াল নেই, নীলিমা আর ইফতি তীব্রর অবস্থা দেখে মজা নিচ্ছে,,
মিশান এসে সবার সামনে বসলো,ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করলো,,টুকটাক কথা বলার পর ইফতি নীলিমার সাথে গেলো ফ্রেশ হতে আর তীব্রকে গেস্ট রুমে নিয়ে দিয়ে আসা হলো,,, কাল ভোরেই সবাই বেরিয়ে পড়বে নায়াগ্রার উদ্যেশে।।।।

রাত প্রায় নয়টার দিকে রাইয়ান খান বাড়ি ফিরলেন, তীব্র এসেছে দেখে তার খুব ভাল লাগলো,তীব্রর সাথে একদিন কথা বলেই অনেক ভাল লেগেছে ছেলেটাকে,, তীব্রর সাথে নানান বিষয়ে কথা জুড়লো,,সবাই এক সাথে ডিনারে বসলো,,, নীলিমা ইফতি পাশাপাশি বসেছে আর মিশানের পাশে ইফতি তীব্রকে বসায়, টেবিলের অপর পাশে বসেছে রাইয়ান খান,,খাওয়ার সময় খেয়াল করলো মিশানের দিকে তাকিয়ে তীব্র আর মিশান দুজনকে কতো মানাচ্ছে,,, তীব্র দেখতে অনেকটা চকলেট বয় টাইপ তার মধ্যে ঠোঁটে সব সময় হাসি লেগেই থাকে,, তীব্রর চাল চলন দেখেও বুঝা যায় না বাংলাদেশের নামকরা টপ মাফিয়া ও।। যেটা মিশানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য,, এদের চেহারার সাথে কাজের মিল নেই।।।। রাইয়ান খান এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে, মিশান খাওয়ার মাঝখানে খেয়াল করলো বাবা তাকিয়ে আছে আড়চোখে বাবার দিকে তাকাতেই রাইয়ান খান বুঝে ফেলে সাথে সাথে চোখ সড়ায়।।।।

রাতে ডিনার শেষে নীলিমা, ইফতি, তীব্র, মিশান সবাই ছাদে চলে আসলো গল্প গুজব করবে, সার্ভেন্ট এসে সবাইকে কফি দিয়ে গেলো।।।।তীব্র মিশান আলাদা এক সাইডি দাঁড়িয়ে আছে,, কফি খেতে খেতে গল্প করছে দুজন।
তীব্র- তোমার রোজ রাতে ছাদে আসার কারণ টা আমার আজকে স্পষ্ট হলো,,সত্যি এতো সুন্দর রাতের এই দৃশ্য যেনো স্বর্গ থেকে কিছু অংশ এখানে রাখা হয়েছে,,
মিশান- থ্যাংক্স((মৃদু হেসে))আসলে এই ছাদের দৃশ্যটার ক্রিয়েচার আমার মা ছিলো মা রোজ সব ফুল গাছের যত্ন নিতো মা শুধু এই ছাদের বাগানটায় দেখা শুনা করতো এই যে বাড়ির চারপাশে এতো বড় বাগান সেটার জন্য এতো খাটতো না, বাড়ির বাগান দেখাশুনার জন্য সার্ভেন্ট ছিলো কিন্তু ছাদের প্রতিটা ফুল গাছের যত্ন মা নিজের হাতে নিতো,,আর মা চলে যাওয়ার পর আমি নিয়েছি দায়ীত্বটা , মায়ের সৃতি টা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি শুধু।।

তীব্র- হুম তোমার মায়ের চয়েস আছে কিন্তু!!
মিশান- হুম।।।


সবাই গোল বৈঠকে বসে প্ল্যানিং করা শুরু করলো প্রথম দিন আমেরিকার সাইডে নায়াগ্রা দেখবে তারপর আমেরিকা থেকে কানাডার সাইডে দেখবে, মোট কথা পুরো টা জুড়ে দেখবে,ইফতি আগেই , নীলামার পছন্দ মতো গ্রামীণ পরিবেশ পছন্দ বলে লেক অন্টারিও ঘেষে একটা সুন্দর মনোরম পরিবেশ ইয়োংস্টন এ একটা কর্টেজ বুক করেছে আগেই।।
প্রথম দিন নিউ ইয়র্ক থেকে ওরা ওখানেই উঠবে,, সাথে কোনো গার্ড যাবে না ওরা চারজন ই যাবে।।।সব ব্যাবস্থা রাইয়ান খান করে দিতে চাইলেও ইফতি না করে, সব দায়ীত্ব নিজের করে নেয়, কারো কোনো হেল্প লাগবে না জানিয়ে দেয়।।।।।


পররের দিন ভোর হতেই বেরিয়ে পরে ওরা নিউ ইয়র্ক এর উদ্যেশে, নিউ ইয়র্ক সিটি তে ল্যান্ড করেই নিউ ইয়র্ক স্টেটে বাফেলোর দিকে রওনা হলো ট্রেনে করে, কারণ ট্রেনে গেলে সব থেকে মজায় যাওয়া যায় পরিবেশ টা উপভোগ করা যায়, চাইলে প্লেনে যাওয়া যায় কিন্তু ওরা ট্রেনেই যাত্রা শুরু করলো,,বাফেলোর গ্রামীণ দৃশ্যটা অনেক বেশি মনোরোম!!জালানার পাশে বসে বসে আছে মিশান বাইরের দিকে তাকিয়ে আর অপর পাশে বসে আছে তীব্র, কিন্তু বাইরের দিকে তাকিয়ে নয় মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে,,খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মিশানকে দেখে যাচ্ছে এক মনে।।।পর পর ১৩ টা স্টেশন পাড় করে ১৪ নাম্বার স্টেশনে দীর্ঘ ৭৬০ কি.মি. ট্রেন জার্নির পর পৌঁছে গেলো ইয়োংস্টন এ,, গাড়ি নিয়ে কটেজের দিকে যেতেই পরিবেশ টা খুব পছন্দ হলো সবার, প্রায় ছবির মতো গ্রাম টা! চারপাশে পরিপাটি গাছ পালা, সুন্দর একটা এলাকা,,,, দুতলার একটি কটেজে উঠলো কটেজটির নাম শেল কটেজ, যেখানে তিনটি বেড রুম ডাইনিং,ড্রয়িংরুম একটা বিশাল কিচেন রুম, আবার একটা রিডিং রুম ও আছে,,
কটেজ টা একদম অন্টারিও ঘেষে, কটেজের অপর দিকে দিয়ে কাঠের বারান্দার মতো সেখান থেকে সিঁড়ি গিয়েছে একদম অন্টারিওর তীরের পানিতে,, জায়গা টা সবারই পছন্দ হলেও মিশান মনে মনে গাইছে যে খানে বাঘের ভয় সে খানের সন্ধ্যে হয়! যে পানি দেখে ভয় পায় সেই পানি ঘেষেই থাকতে হবে বাইরের দিকে তাকালেই অন্টারিওর গভীর জল,,, এই কটেজে বসেই কক্স বাজারের মতো সুন্দর সূর্যাস্ত আর সূর্যদয় দেখা যায়।।।

সবাই অনেক টায়ার্ড যার যার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা ভাসিয়ে দিলো,, ওদের এখানে আসতে আসতে বিকেল হয়ে গেছে,,,, একজন সার্ভেন্ট এসে ওদের স্ন্যাকস জাতীয় খাবার দিয়ে গেলো, ওরা খেয়ে বিশ্রাম নিতে লাগল।।।


ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে মিশান, চোখ দুটো টেনে আসছে ঘুমে , এরই মধ্যে তীব্রর নক পড়লো মিশানের রুমে,
তীব্র- মিশান আসবো?
মিশান- হুম(ঘুম ঘুম চোখে)
তীব্র- ঘুম আসছে?
মিশান- হুম ওমহু!(ঘুমের ঘোরে
তীব্র- ওকে আমি পরে আসবো নি,তুমি রেস্ট নাও।
মিশান- মিস্টার তীব্র! (ঘুমের ঘোরে)
তীব্র- হ্যাঁ বলো?
মিশান-জেসি কে একটু ডেকে দিন না আমার মাথা টা খুব ব্যাথা করছে, মাথা টা (বলেই গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়লো)
তীব্র- (এই রে ঘুমের ঘোরে কি বলছে জেসি কে পাবো কোথায় আবার! নীলিমাকে ডাকবো!না থাক ও তো ইফতির সাথে সময় কাটাচ্ছে,, কি করি এখন!)

মিশান বেচারীর চোখে ঘুম এন্ট্রি নিলে দিন দুনিয়া কিছুই খেয়াল থাকে না, ঘুমের ঘোরে সব শুনতে পায়, স্পষ্ট সব কথার উত্তর দেয় কিন্তু ও ঘুমের ঘোরেই থাকে, ঘুম থেকে উঠার পর কিছুই মনে থাকে না ,,, আবার যখন মাথার যন্ত্রণা উঠে তখন ঘুমের ঘুরে উল্টা পাল্টা কথা বলে, মিশান দূরের জার্নি করলেই ওর মাথার যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়।।

তীব্র কি করবে বুঝতে পারছে না, সাত পাঁচ না ভেবে মিশানের পাশে বসে পড়লো মিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,, মিশান ঘুমিয়ে আছে আর তীব্র অপলক হয়ে তাকিয়ে আছে, এতো বেশি মিষ্টি মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে বলে আরো বেশি যেনো টানছে মিশানের মায়াবী রূপ, ইচ্ছে করছে গাল দুটো টেনে দিয়ে গোলাপি ঠোঁটে একটা চুমু বসিয়ে দেই,, মিশানের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে তীব্র,, বসে বসে মাথার চুল আলতো হাতে টেনে দিচ্ছে, জীবনের প্রথম কোনো নারীকে এভাবে স্পর্শ করছে তীব্র, মিশানের চুল গুলো অনেক সিল্কি, এতো লম্বা ঘন চুল বলে মিশানের মাথা টাও নিজে আঁচড়ায় না, জেসি সব সময় ওর চুলের যত্ন নেয়,মিশান চুল গুলো কাটতেও পারে না কারণ মিশানের মায়ের মিশানের চুল অনেক পছন্দের ছিলো, মা বেঁচে থাকতে মাই সব যত্ন নিয়েছে,,,,মিশান গভীর ঘুমের জগতে পাড়ি জমিয়েছে,, ঘুমের ঘোরেই মিশান তীব্রর হাত দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে উল্টো ঘুরে গালের নিচে রেখে ঘুমাতে লাগলো, মিশানের হেচকা টানে তীব্র ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে মিশানের গায়ের উপর পরে যেতে নেয়, তীব্র না পারছে মিশানকে ডাক দিতে, না পারছে হাত টা টান দিয়ে নিতে, তীব্র অনেকটা বে কয়েসে পড়ে গেলো, এভাবে বাঁকা হয়ে কতক্ষণ থাকবে!!!তীব্র আনমনে মিশানকে দেখেই যাচ্ছে, এতে কোনো প্রকার বিরক্তি কাজ করছে না,, অনেক্ষন পর মিশান তীব্রর হাত টা ছেড়ে দিয়েছে,, হাত ছাড়তেই তীব্র উঠে দাঁড়ালো।। নিজের রুমে যেতে নিলেই নীলিমার সামনে পড়লো তীব্র অনেকটাই থমকে গেলো হুট করে এভাবে সামনে পড়বে ভাবতে পারে নি!

নীলিমা-কি করছো এখানে?(সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
তীব্র- না মানে এমনি এসেছিলাম, মিশান তো ঘুমাচ্ছে তাই চলে যাচ্ছি!
নীলিমা-অও তাই বুঝি?
তীব্র- হ্যাঁ তাই ই তো, তা ছাড়া আর কি হবে?
নীলিমা -এতো ভাব নিচ্ছো কেনো তুমি বলোতো? মিশানকে ডাইরেক্ট প্রপোজ করলেই তো পারো!
তীব্র- তোমাদের জামাই বউ এর ভেতরে কি এক চিলতিও ডর ভয় নাই?আমার সাথে এভাবে কথা বলো? (ভয় দেখিয়ে)
নীলিমা-ইম্মম্মম কি আমার লোক আসছে ওনাকে দেখে ভয় পাবো, বাড়ির ছেলে দেখে ভয় পাবো কেনো ওসব মাফিয়া গিরি বাইরে গিয়ে করো, সেম কথা তোমার আর মিশান দুজনের জন্য(ভেংচি কেটে)
তীব্র- হুম বিঝলাম,তা তোমার বোন কি আমায় পছন্দ করে?যে আমি ওকে প্রপোজ করলেই ও মেনে নেবে!
নীলিমা -পছন্দ করবে না কেনো??তোমার কোন দিক দিয়ে কম আছে,না রূপ কম বা টাকা পয়সা, পাওয়ার??আর সব থেকে বড় কথা তুমি মিশানের লেভেল এর,, মিশান চায় ওর লাইফ পার্টনার ওর লেভেল এর ই হবে,, তাহলে তো হলোই,
তীব্র- কি করে এক লেভেল এর?
নীলিমা-প্রথমত তুমিও দেখতে হ্যান্ডসাম ড্যাশিং ওদিকে মিশানও ও সুইট বিউটিফুল,, তুমিও মাফিয়া কিং মিশানও মাফিয়া কুইন,, দুজনে এক লেভেলের হলো না?
তীব্র- হ্যাঁ সেটা ঠিক, কিন্তু ভুলে গেলে হবে না তো আমরা আলাদা আলাদা রাজ্যের আমি বাংলাদেশ আর ও লন্ডন,, বিয়ে করে কি দুজন দু’ দেশে থাকবো নাকি???
নীলিমা-ধেত তোমার সাথে কথা বলাই বৃথা (বলেই নীলিমা চলে গেলো,, তীব্র নীলিমার রাগ দেখে মুচকি হাসি দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।।।।।

রাত প্রায় ১০ টা বাজে মিশানের ঘুম এতোক্ষনে চোখ থেকে ছুটলো, যদিও নীলিমা অনেক্ষন যাবৎ ডাকাডাকি করছে ডিনারের জন্য।। ঘুম ঘুম চোখে বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো।।

সবাই এক সাথে ডিনার করতে বসলো,রাতের রান্না টা নীলিমা করেছে আর ইফতি সাহায্য করেছে নীলিমার কাজে।।।
তীব্র নীলিমার হাতের রান্নার প্রশংসা করে যাচ্ছে সমানে,, সবাই ই নীলিমার হাতের রান্না পছন্দ করছে এরই মধ্যে ইফতি বলে উঠলো,
-আমার না একটা মন বাসনা হয়েছে জানি না পূরণ হবে কিনা!
নীলিমা-কি?
ইফতি- মিশানের হাতের রান্না খাওয়ার খুব ইচ্ছে হয়েছে?
তীব্র- মিশান রান্না জানে নাকি? (বলেই ফিক করে হেসে দিলো)
(মিশান তীব্রর দিকে বোকার মতো তাকালো)
নীলিমা-ওই হ্যালো আমার বোন অলরাউন্ডার, মানুষ মারতে গেলেও যেমন হাত চলে রান্না ঘরেও তার হাত চলে!
তীব্র- তাই নাকি?? (মিশানের দিকে তাকিয়ে)সত্যি?
মিশান- টেস্ট নিতে চাইছেন? ?
তীব্র- নেওয়াই যায়!(হেসে দিয়ে)
মিশান- ওকে কাল ব্রেক ফাস্ট আমি বানাবো..

রাত হয়েছে অনেক, বিকেলে বেলা ঘুম দিয়ে রাতে ঘুম থেকে উঠার পর চোখে ঘুম নেই,, মাথা টা যেনো কেমন করছে, একা একা ভালোও লাগছে না মিশানের,, কফি করার জন্য কিচেনের দিকে যেতে লাগলো, চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দুধ গরম দিয়ে মগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিশান,এরই মধ্যে পিছন থেকে কিছু একটার ছায়া সামনে পড়ছে আস্তে আস্তে ছায়াটা মিশানের দিকে আসছে মিশান ভাল করে বুঝার চেষ্টা করছে কিসের ছায়া, হাতের কাছে থাকা ছুরি নিয়ে পিছনের দিকে ঘুরতেই ছিটকে গেলো.
তীব্র- হা হা হা…. ভয় পেয়েছো তুমি?
মিশান- আপনি”!!এভাবে কেউ আসে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তো!!
তীব্র- বাবাহ!!মিশান খান ভয় পায় আবার??
মিশান- ভূত ভেবেছিলাম! মানুষ না
তীব্র- অও আচ্ছা,, কি করছো এতো রাতে এখানে তুমি?
মিশান- মাথা টা যন্ত্রণা করছে ঘুমও আসছে না, তাই কফি করতে এসেছিলাম।
তীব্র -অও,,আমার জন্যেও এক কাপ করো,
মিশান -ওকে!
বলেই মিশান দুই কাপ কফি করলো একটা তীব্রর হাতে দিলো আরেকটা নিজের হাতে,,তীব্র কফি হাতে নিয়ে মিশানকে জিজ্ঞেস করলো
তীব্র- মাথা খুব ব্যাথা করছে?
মিশান- হুম অনেকটাই!
তীব্র- আমার সাথে আসো.
মিশান- কোথায়?
তীব্র- আসো তো, (বলেই মিশানের হাত ধরে টান দিয়ে বাইরে নিয়ে গেলো, অন্টারিওর তীর ঘেঁষে বারান্দায় নিয়ে গেলো,বারান্দায় বেতের সোফা টি টেবিল আছে মিশান বসতে যাবে তখন তীব্র বলে উঠলো
তীব্র- এখানে বসো না
মিশান- কেনো?
তীব্র- এখানে বসে ভাল লাগবে না, চলো নিচে নামি,, অই পাথরের উপর বসে কফি খেতে খেতে পূর্ণিমা চাঁদ দেখবো! দেখছো না আকাশে কতো সুন্দর পূর্ণিমা চাঁদ, এখানে বসলে চাঁদ রাগ করবে চলো।।
মিশান- না না বাবা আমি যাবো না,, আমার পানি ভয় করে, কেমন এদিক টা যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি!!
তীব্র- আরে চলো তো আমি আছি তো,, কিচ্ছু হবে না আমি সাঁতার জানি তুমি পড়ে গেলে আমিও পানিতে নামবো, চলো কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!!

বলেই আর দেরি না, মিশানকে জোড় করে নিচে নামালো, মিশান কিছু বলতেও পারলো না, অসহায়ের মতো তীব্রর সাথে নিচে নেমে গেলো, তীব্র হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে যাচ্ছে।।।

একটা বিশাল পাথরের উপর বসে, পানিতে পায়ের পাতা অব্দি ভাসিয়ে বসে বসে দুজন কফি খাচ্ছে আকাশে প্রায় রক্ত বর্ণের ন্যায় পূর্ণিমা চাঁদ,, শু শু বাতাস বইছে প্রকৃতির উপর।। আকাশে মিটিমিটি তারা গুলো জ্বলছে খুব ফূর্তি করে!

মিশান- প্রকৃতি ভীষণ অদ্ভুত তাই না? দেখতে কতো সুন্দর এর রূপের বর্ণনা হয় না কোনো ভাবেই!!অথচ এই প্রকৃতির ধর্মটা বড্ড নিষ্ঠুর!! মাঝে মাঝে ভাবি জানেন কি ছিলাম আর কি হয়ে গেলাম! প্রকৃতি আমায় কি থেকে কি বানিয়ে দিলো, এমন টা কি হওয়ার কথা ছিলো?? ছিলো না !! প্রকৃতির মতোই আমার জীবন সুন্দর গুছানো ছিলো, আর একটা ঝড় এসে সব উলট পালট করে দিয়ে গেলো!!!গত ১০ বছরে একটা ফেইক মিশান এর রূপ নিয়ে আছি, আমি সেই মিশান যে মিশানকে আমি কোনো কালেই ডিজার্ব করি নি!! ভালবাসা নামক শব্দটায় আতংক ধরে গেছে যেনো নতুন করে কাউকে ভালবাসতে না হয়, নিজেকে একা করে রাখি তার জন্য( কথা গুলো বলেই থেমে গেলো, তীব্র মিশানের দিকে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালো, মিশান আবার বলতে শুরু করলো )

-জানেন তো, সবাই না শুধু মিশানের রাগ জেদ টাই দেখে, মিশানের হিংস্রতা কেই দেখে,কিন্তু ভেতরের আহত ক্ষত টা কেউ দেখতে পায় না,, মায়ের অই কঠিন ভয়ানক মৃত্যু টা না আমি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারি নি,, নিজেকে ভেঙে গুড়ো করে দিয়েছি, মাফিয়া রাজ্যে পা রাখার একমাত্র উদ্যেশ্য ছিলো সেই পাপী টাকে খুঁজে শাস্তি দেয়া!! হতাশ হয়ে গেছি আমি তাকে খুঁজতে খুঁজতে!!!।

আমার মা ছিলো আমার সব সুখের চাবি, মাকে ছাড়া ডানে থেকে বামে আমি অবাধ্য মিশান কখনোই যেতাম না,, মায়ের একমাত্র লক্ষি মেয়ে ছিলাম আমি!! আর পাঁচটা মেয়ের মতোই সাদাসিধে ছিলাম,জানেন তো অনেক বেশি ভীতু ছিলাম আমি , নিজের আলাদা করে কোনো চাওয়া পাওয়া ছিলো না, শুধু আমার একটাই চাওয়া ছিলো আমার মা বাবা ভাল থাকুক!!! কিন্তু আমার অই ভীতু হওয়াটাই যে আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে বুঝতে পারি নি!মাঝে মাঝে মনে হয় মায়ের মৃত্যুর জন্য আমিই দ্বায়ী!আমি যদি আজকের মিশান সেদিন ও ওমন থাকতাম আমি হয় তো মাকে বাঁচাতে পারতাম, নিজের চোখে মায়ের মৃত্যু টা দেখতে হতো না,, (একা ধারে মিশান বলেই যাচ্ছে, কথা গুলো বলতে বলতে চোখের কোণে পানি জমে এলো,,)

তীব্র বুঝতে পারছে মিশানের অনেক খারাপ লাগছে,, তীব্র আলতো করে মিশানের হাতের উপর হাত রাখলো, মিশান একবার তীব্রর দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো
তারপর আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো, তীব্র মিশানের হাতটা মুঠি করে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো দুই হাত দিয়ে মিশানের ডান হাতটা চেপে ধরে মিশানের দিকে তাকিয়ে তীব্র বলতে লাগলো।

তীব্র- জানো মিশান তোমার আমার গোল টা না একই!!,,আমার জীবনটাও এমন হওয়ার কথা ছিলো না!!
সময় টা আমার এই দশা করে দিয়েছে, শুধু তোমার আমার পার্থক্য এই টুকুই তুমি হাসি টাকে বিসর্জন দিয়েছো আর আমি হাসিটাকে আঁকড়ে রেখেছি,, তোমার মায়ের সাথে সেদিন যে আরেক টা লোক মারা গিয়েছিলো সেটা ছিলো আমার বাবা(কথা টা শুনে মিশান তীব্রর চোখের দিকে তাকালো)হুম আমার বাবা সে, তুমি তো সেদিন তোমার মা কে হারিয়েছিলে আর আমি আমার বাবাকে তো হারিয়েছিই সাথে পেয়েছে আমার মায়ের জীবিত লাশ!! যে মরেও বেঁচে আছে।। সেই পাপী কে খোঁজে বের করার জন্য মাফিয়া জগতে প্রবেশ করা আমার!! জানি না কবে পাবো! তবে যেদিন পাবো তাকে তিলে তিলে প্রতিটা সেকেন্ড এর কষ্ট দিয়ে মারবো,, সব থেকে নিকৃষ্ট মৃত্যু টা হবে তার,, প্রয়োজনে নিজের প্রাণ দিয়ে দেবো তবুও তাকে শেষ করে
মরবো!!!

(মিশান কি বলবে বুঝতে পারছে না,, সত্যিই তো তীব্র অনেক একা। মিশানের থেকে একা ও,, মিশানের তো তাও বাবা আছে, কিন্তু তীব্রর তো কেউ নেই বললেই চলে, শুধু জীবিত লাশের মতো একটা মা আছে,)

-ইউ এস এ থেকে গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে সিজিপিএ ফোর নিয়ে দেশে এসে জানতে পারি আমার বাবা টা নেই, বাবার মুখ তো দূরে থাক মৃত লাশটাও আমার দেখার ভাগ্য হয় নি, ছেলে হয়ে বাবার জানাজায় শামিল হতে পারি নি, কেউ জানাই নি অব্দি আমাকে,, শুধু দেশে ফিরে দেখি আমার মা টা হসপিটালে কোমায় চলে গেছে।। আমার সব স্বপ্ন সব প্রশ্নের উত্তর ঝাপসা ঘোলাটে হয়ে আছে,, মা ঠিক থাকলেও নিজেকে সামলে নিতে পারতাম, এতো বড় আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিলো না,, সেই সময় শুধু মামা মামী ছাড়া আর কেউ শান্তনা দেয়ার ছিলো না, আমার একটা চাচ্চু আছে একটা উনি ইন্ডিয়াতে থাকেন সেখানেই তার মাফিয়া রাজ্য, বাবার চলে যাওয়া টা সেও নিতে পারে না!!!মাফিয়া রাজ্যে টিকে থাকার জন্য আমার চাচ্চু আমাকে সাহায্য করেছে,, আমার মামা বলেছিলো তার বিজনেস এ জয়েন করতে, কিন্তু আমি করিনি কারণ শুধু সেই পাপী টাকে খোঁজে বের করা আর আমার বাবার জায়গাটা ধরে রাখা এটাই ছিলো আমার একমাত্র লক্ষ্য ।।

কথা গুলো বলতেই তীব্রর গলা ধরে এলো,, ছেলেটার কত কষ্ট, এতো বড় কষ্ট নিয়ে সব সময় হাসি মুখে থাকে তীব্র।।
মিশান করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তীব্রর দিকে।। কোনো কথা বলছে না কেউ, দুজনের মনেই একই যন্ত্রণা একই প্রতিশোধের আগুন,, মিশান তীব্রর হাত টা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওর কাধে মাথা রাখলো,যেনো খুব বেশি ভরসা পাচ্ছে মিশান, ওর কষ্ট বুঝার মতো পৃথিবীতে কেউ আছে, সেটা হলো তীব্র!!

চলবে…….
(কে কে মিশান তীব্রর বিয়ে খেতে চাই হাত তুলুন😀)প

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।