দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writer :-Riya khan
#Part-22

“১০ বছর আগে”______[ফ্ল্যাশ ব্যাক]

মিস্টার রাইয়ান খান আর মিস্টার আমির রেজার দুজনেই অনেক ভাল বন্ধু ছিলেন,হয়তো বাঙালী বলেই!! আমির
রেজার সাথে ২০০৮ সালে ইউএস এ পার্টনারশিপ এ একসাথে কাজ করেছে সেখান থেকেই উনাদের দুজনের সুসম্পর্ক!! এখনো পার্টনারশিপ টা চলছে, উনাদের সাথে কক্স বাজারের একটা হোটেলে মিটিং, রাইয়ান খান লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে গেলে মিশান আর মিশানের মা মাধুরী দুজনেই বায়না ধরে কক্স বাজার সি বিচ দেখবে,, বাধ্য হয়ে মিশান আর মিশানের মাকে নিয়ে দেশে ফিরে পরের দিন কক্স বাজার গিয়ে আমির রেজার সাথে মিট করে প্রথমদিন, আমির রেজা ঢাকার বাইরে এক রাতের বেশির জন্য কোথাও গেলে স্ত্রী কে সাথে করে নিয়ে যেতো, কারণ আমির রেজার স্ত্রী আলিফা রেজা হার্ট এর রোগী ছিলেন, স্বামী কে নিয়ে টেনশন করেই উনার এই অবস্থা, একটু তেই খারাপ অবস্থা হয় উনার, এদিকে তীব্র দেশে থাকতো না, মাফিয়া পেশার প্রভাব তীব্রর উপর পরবে বলে তীব্রকে দেশের বাইরে লেখা পড়া করিয়েছে,,, তাই স্ত্রী কে সাথে নিয়েই চলতো,, বড্ড ভালবাসতো স্ত্রী কে, আমির রেজার স্ত্রীর সাথে মিশানের মায়ের খুব ভাল সম্পর্ক ছিলো,,তারা একই হোটেলে উঠেছে,, রাইয়ান খান বা আমির রেজা কেউ সাথে কোনো গার্ড ই আনেন নি, আমির রেজা যাও দুজন এনেছে রাইয়ান খান তাও আনেন নি,,

সন্ধ্যে বেলা ঘুরতে বের হলো সবাই, রেস্টুরেন্ট এ খেতে গেলো সবাই মিলে ভি আই পি কেবিনে উনারা সবাই বসলো,, খুব গল্প গুজব চলছে সবার মাঝে,,, মিশানের বয়স তখন ১৬, কিন্তু দেখে বুঝা যেতো না কারণ মিশান লম্বা চওড়া আর বয়সেই বড় ছিলো শুধু,, পুরো একটা ভীতুর ডিম ছিলো, কথা বলতো কম শুনতো বেশি,কেউ যখন মিশানের সাথে কথা বলতো মিশান মিস্টি গেসে উত্তর দিতো, ঠোঁটের মধ্যে সব সময় হাসি লেগেই থাকতো ওর,, কিন্তু মিশান এতো টা বোকা হওয়ার কারণ হয়তো ওর মা ই ছিলো, মিশান কে ওর বাবা মা অনেক বেশি আদর আর কেয়ারে রাখতো, সব সময় মার আঁচল ধরেই থাকতো মিশান,,

গল্প গুজবের মধ্যে রাইয়ান খানের ফোনে একটা কল আসে রিসিভ করে কথা বলতে যায় কিন্তু কথা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো না, আমির রেজা বললো বাইরে গিয়ে কথা বলতে হয়তো নেটওয়ার্ক প্রবলেম, আমির রেজার কথায় রাইয়ান খান বাইরে গেলো ফোন কানে নিয়ে,,,
অনেক্ষন কেটে গেলো রাইয়ান খানের কোনো খোঁজ নেই,,এদিকে অর্ডার করা খাবার এসে গেছে, খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, রাইয়ান খানের জন্য কেউ খাওয়া শুরুও করতে পারছে না ,, মিশানের মা মিশানকে পাঠালো রাইয়ান খান কে ডেকে আনার জন্য মিশান এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি করা শুরু করলো বাবাকে,,, কথায় কথায় আমির রেজার স্ত্রী আলিফা রেজা ওয়াশ রুমে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালো, ওয়াশ রুমে চলে গেলো, কেবিনে আমির রেজা আর মিশানের মা বসে টুকটাক কথা বলেই যাচ্ছে, মিশান ওর বাবা কে খুঁজেই যাচ্ছে কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না,, এরই মধ্যে এক দল লোক ভি আই পি কেবিন টাতে ডুকে পড়লো পারমিশন ছাড়াই, আমির রেজার বুঝতে দেরি হলো না এরা কোনো শত্রু পক্ষ, সাথে সাথে রিভলভার বের করে গুলি করতে শুরু করলেন, সাথে সাথে বাইরে থেকে আমির রেজার গার্ড রা এসে পড়লো, কিন্তু এতো গুলো মানুষের সাথে পেরে উঠা জীবন যুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, মিশান বাবাকে খুঁজে না পেয়ে কেবিন এ ডুকতেই দেখে মিশানের সামনে আমির রেজা কে গুলি করলো, সাথে সাথে মিশানের মা কে দুটো গুলি করতেই মিশান মা বলে চিৎকার দিয়ে পাশের টেবিলে একটা ছুরি ছিলো সেই ছুরি দিয়ে লোকটার হাতের মধ্যে আঘাত করলো প্রায় দুটোর মতো ছুরির আঘাত করলো লোকটার হাতে,, লোকটা মিশান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মিশানের বুকে দু’ টো গুলি চালিয়ে দেয়,মিশানের মা মিশান বলে চিৎকার দিয়ে মিশানের কাছে যেতে নিলেই মিশানের মার পেটে ছুরি দিয়ে কয়েকবার আঘাত করে,, মিশানের মা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।। আর আমির রেজার দেহ থেকে এতক্ষণে প্রাণ টা চলেই গিয়েছে।।। আর এ দৃশ্য আমির রেজার স্ত্রী ওয়াশ রুম থেকে ফিরে দেখেই সাথে সাথে স্ট্রুক করে পড়ে গেলো, শত্রু পক্ষের লোক আলিফা রেজা কে কিছু করলো না, শুড় শুড় করে চলে গেলো দল বেঁধে।।।

এতক্ষনে লাশের বন্যা বয়ে গেছে কেবিন,,রাইয়ান খান কেবিনে ডুকেই এমন দৃশ্য দেখে যেনো দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি
পাচ্ছিলেন না,চিৎকার দিয়ে মাটিতে বসে কান্না করতে লাগলেন।।।

সাথে সাথে সবাইকে হসপিটালে নেয়া হলো,, আলিফা রেজা স্ট্রুক করে কোমায় চলে গেছেন, চোখের সামনে স্বামীর মৃত্যু টা সহ্য করতে পারে নি বলে।।। আর মাধুরী আমির রেজা এদের দেহ থেকে প্রাণ টা বেরিয়ে গেছে স্পটেই কিন্তু মিশান বেঁচে ছিলো।।।। এই পরিণতি দেখতে হতো না যদি সেদিন যদি রাইয়ান খান গার্ড নিয়ে যেতো সাথে,
কে করে গেলো এমন টা তাও জানা নেই!!

মিশানের জ্ঞান ফিরতেই স্তব্ধ নির্বাক হয়ে থাকে,এক ফোটা কান্নাও করছে না,, মায়ের কবর বাংলাদেশে দিতে দেয় না, লন্ডন নিয়ে যায় বাংলাদেশে থেকে,, লন্ডনের কবর দেয়া হয়,তারপর আর মিশান কোনো দিন বাংলাদেশে আসে নি,,দু বছরে মিশান একটু একটু করে মাফিয়া রাজ্যে প্রবেশ করছিলো নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে, আর খোঁজে বেড়ায় সেই নর পাপীষ্ঠ কে।।। শান্ত শিষ্ট ভদ্র মিশান টা যেনো আর মিশান নেই,, এক ধাক্কাই বদলে যায় মিশানের জীবন, ফুলের মতো জীবন কাঁটা হয়ে যায়!, প্রতিটা রাত শুধু মায়ের মৃত্যুর দৃশ্যটা মনে করেই কাটে,,,

এদিকে তীব্র গ্র‍্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে হাসি হাসি দেশে ফিরে দেখে এই অবস্থা! বাবা নেই, মা কোমায়, একদম ভেঙে পড়ে,, প্রতিশোধ নেয়ার তাড়াই তীব্রর সুন্দর গোছানো জীবন টা বিষের খনিতে রূপান্তর হয়,কোণঠাসা হয়ে যায় তীব্র,,সময়ের সাথে মাফিয়া রাজ্যে প্রবেশ করে বাবার মতোই মাফিয়া কিং হয়ে গেলো!
.
।________[কম্পলিট ফ্ল্যাশ ব্যাক]__________

রাত প্রায় ২/৩ টা বাজে, মিশান তীব্র নানান রকম গল্প করেই যাচ্ছে, সময়ের দিকে খেয়ালই নেই,মিশান তীব্রর হাত জড়িয়ে বাম কাঁধে মাথা রেখেছে আর তীব্র মিশানের হাত টা খুব শক্ত করে ধরে আছে,যেনো মিশানের হাত টা ছেড়ে দিলেই মিশান হারিয়ে যাবে! ইচ্ছে করছে মিশানকে জড়িয়ে ধরতে!!! ভালবাসার কথা সব সময় মুখে না বললেও অনুভুতি গুলো ঠিকি বলে দেয় ভালবাসার গান…!
তীব্র- মিশান!!
মিশান- হুম
তীব্র- অনেক রাত হয়েছে চলো রুমে যাই, ঘুম আসছে খুব
মিশান- ঠিক আছে চলুন।।

বলেই উঠে গেলো দুজনে কটেজে ডুকে গেলো,, দুজনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে, মিশান কথার মধ্যে প্রায়ই হেসে দিচ্ছে,, তীব্র মিশানের হাসি টা খুব পরোখ করে দেখে,, মিশান আর তীব্রর রুম পাশাপাশিই, নীলিমা আর ইফতির রুম দু তালায়, রুমে ডুকার আগে তীব্র বলে উঠলো
তীব্র- তুমি আমার সামনে হেসো না মিশান!
মিশান- কেনো?(ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে)
তীব্র- তুমি যখন হাসো আমার এই খানে (বুকের বাঁ পাশে দেখিয়ে) তীরের মতো লাগে গো।।
মিশান- তাই বুঝি??হি হি হি!!
তীব্র- অই যে আবার হাসে,, জানো আমার না তোমার দিকে তাকালেই ইচ্ছে করে তোমার গাল দুটো খুব টানতে!!
মিশান- আমার গাল কি গুলুমুলু গাল নাকি টানতে ইচ্ছে করে?
তীব্র- তোমার গাল টা মাত্রাতিরিক্ত সুইট- কিউট কম্বিনেশনের দেখলেই টানতে ইচ্ছে করে!!
মিশান- ঠিক আছে, এতো যখন ইচ্ছে নিন গাল টেনেই দিন, তবে আস্তে যেনো ব্যাথা না পাই!(হেসে দিয়ে)
তীব্র হেসে দিয়ে মিশানের গাল টানতে লাগলো,মিশান হেসেই যাচ্ছে,, কিন্তু হুট করেই তীব্র নিজের অজান্তে একটা কাজ করে ফেললো ঠাস করে মিশানের ঠোঁটে চুমু খেয়ে দিলো,,মিশান শক খেয়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো, বোকার মতো চোখ বড় করে তীব্রর দিকে তাকিয়ে রইলো,কথা বের হলো না মুখ দিয়ে, আর তীব্র নিজের কাজে নিজেই বোকা বনে গেলো,, বোকার মতো উল্টো ঘুরে রুমে চলে গেলো, মিশান ও রুমে চলে গেলো।।।


সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে তীব্র মিশানের রুমের দিকে যায় গিয়ে দেখে মিশান নেই, এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে কিচেনের দিকে শব্দ পেয়ে কিচেনে যেয়ে দেখে অবাক মিশান রান্না করছে একা একা,, রান্না প্রায় শেষের দিকে,মিশান মনোযোগ দিয়ে রান্না করছে ।।তীব্র কিচেনে ডুকে মিশানের পেছন থেকে বলে উঠলো,
তীব্র- ওয়াও হোয়াট এ স্মেইল, সাত সকালে এতো কিছু রান্না করেছো?
মিশান- আমি তো ঘুম থেকে উঠেছি সেই ভোরে,
তীব্র- ইশসসস!
মিশান- কি হলো?
তীব্র- তুমি যদি এই মুহুর্তে নীলিমার মতো শাড়ি পড়া থাকতে তাহলে তোমাকে পুরো বউ বউ লাগতো, এই প্যান্ট শার্ট পড়া মেয়ে কিচেনে মানায় না ঠিক!(মুখ বাঁকা করে)
মিশান- (তীব্রর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো)খাবার দেখতে যেমন ই হোক খেতে ভাল হলেই হলো!!
তীব্র- হুম্মম লজিক আছে কথায়!!বাই দি ওয়ে এক কাপ কফি হবে?
মিশান- ওয়েট দিচ্ছি.
তীব্র- থ্যাংক্স!

মিশান কফি করে তীব্রর হাতে দিলো, তীব্র কেবিনেটের উপর বসে কফি খাচ্ছে আর মিশানের রান্না করা দেখছে, মিশান খেয়াল করলো তীব্র মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে একমনে!
মিশান- এভাবে তাকিয়ে কি দেখছেন?
তীব্র- তোমাকে!
মিশান- আবারো কি গাল টিপতে ইচ্ছে করছে?
তীব্র মিশানের কথায় ফিক করে হেসে দিলো,, মিশানকে বলতে লাগলো
তীব্র- প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড মিশান আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারি নি ওরকম একটা কাহিনী করে ফেলবো!!! আসলে তোমার ঠোঁট টা এতো বেশি সু……. (পুরো টা বলার আগেই)
মিশান- স্টপ মিস্টার তীব্র, ফরগেট ইট!

তীব্র- বিয়ে করবে আমায়?
মিশান- (তীব্রর দিকে তাকিয়ে ) হোয়াট রাবিশ!
তীব্র- হুমম!!ভেবে দেখো যদি আমায় বিয়ে করো তাহলে তোমার মাফিয়া ক্যারিয়ার কন্টিনিউ করতে পারবে, আর অন্য কাউকে করলে এভাবে সাড়াদিন রাত কিচেনে পড়ে থাকতে হবে, ভেবে দেখতে পারো অফার সীমিত সময়ের জন্য!!
মিশান কিছু বললো না তীব্রর দিকে তাকিয়ে মিস্টি একটা হাসি দিলো,, কফি শেষ করে মগ টা পাশে রেখে কেবিনেট থেকে নেমে গেলো, নেমেই মিশানের পিছনে দাঁড়িয়ে খুব কাছে গিয়ে মিশানের এক হাত চেপে ধরে কানের কাছে গিয়ে বললো
তীব্র- সম্মতি আছে কি আপনার??
মিশান- আগে আমার মিশন টা সাকসেস হই, যদি বেঁচে থাকি তখন দেখা যাবে নি, কেমন!!
তীব্র-তাহলে ততো দিন আমার থেকে দূরে থেকো!
মিশান- কেনো?
তীব্র- এখন তো তোমায় দেখলে গাল টিপতে ইচ্ছে করে পরে আবার কি না কি হয় আবার!!
মিশান- দূরেই তো থাকি আপনি বাংলাদেশ আমি লন্ডন,, আরো দূরে যেতে বলছেন নাকি??এর থেকে দূরে মানে তো আমাকে একদম পর পাড়ে চলে যেতে হবে!! ভালোই হবে মায়ের কাছে চলে যাবো!!
তীব্র- ধেত কি বলছো তুমি??এই টুকু সময় তুমি দুটো ফালতু কথা বললে, আমার সামনে কখনো এই রকম কথা বলবে না!(রাগীস্বরে)
মিশান- ওকে ওকে, আমি এসব বলি না, আপনার কথায় মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে,!!
তীব্র- হেই মিশান!
মিশান- হুম!
তীব্র- গার্ল ফ্রেন্ড হবে আমার?? বিয়ে না করলে গার্লফ্রেন্ড হতেই পারো,, প্লিজ মিশান না করো না!
মিশান- কি শুরু করলেন বলুন তো!
তীব্র- বলো না, বউ তো হবে না এট লিস্ট জি এফ তো ডিজার্ব করতেই পারি!! আমি কি কোনো দিক থেকে কম আছি নাকি।
মিশান- ভেবে দেখবো!
তীব্র- ওকে টেক ইউর টাইম! তবে এন্সার পজেটিভ চাই।।
মিশান মুচকি হেসে দিলো
তীব্র- তোমাকে বলেছি না আমার সামনে হাসবে না, লাগে তো খুব!!!!
মিশান- ওকে হাসবো না,, আমার রান্না শেষ আমি এখন কিচেন থেকে বের হবো, আপনি কি এখানেই থাকবেন?
তীব্র- না না চলো চলো!!

বলেই কিচেন থেকে বেরিয়ে গেলো,,নীলিমা ইফতি দুজনেই বেলা করে উঠলো ঘুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো, এসে দেখে মিশান সব রান্না করে রেখেছে,,সবাই এক সাথে খেতে বসলো,মিশান তীব্র পাশাপাশি বসলো আর টেবিলের অপর পাশে ইফতি নীলিমা , মিশানের হাতে রান্না খেয়ে সবাই খুব প্রশংসা করছে,সবাই এক কথায় বলছে মিশানের হাতের রান্না হবুহু নীলিমার হাতের রান্নার মতো হয়েছে,,, সবাই খাচ্ছে এরই মধ্যে মিশান নীলিমার দিকে তাকিয়ে বললো
মিশান- আপু তোমার ঠোঁটে কি হয়েছে অমন কালচে হয়েছে কেনো ব্যাথা পেয়েছো কিভাবে??? (চিন্তিতো স্বরে)

নীলিমা মিশানের কথায় লজ্জা পেয়ে গেলো কি বলবে উত্তরে বুঝতে পারলো না,মিশানের কথা শুনে তীব্র মিশানের পায়ে পাড়া দিলো, মিশান কিছুই বুঝলো না তীব্রর চোখের দিকে তাকাতেই , ইফতি হেসে হেসে উত্তর দিলো,
ইফতি- আসলে মিশান হয়েছে টা কি, বিছানায় পিঁপড়া ছিলো তোমার বোন দেখেই নি,পিঁপড়া টা ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিয়েছে!!
মিশান- কিন্তু…(বলার আগেই)
তীব্র- কোনো কিন্তু নয় মিশান খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি লেট হয়ে যাচ্ছে আমারা বের হবো না?? তাড়াতাড়ি খাও(মিশানের দিকে চোখ টিপ দিয়ে)

মিশান কিছুই বুঝলো না, চুপ হয়ে গেলো,, খাওয়া শেষ হয়ে যেতেই নীলিমা ইফতি উপরে চলে গেলো কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে বের হবে সবাই নায়াগ্রার উদ্যেশে!

মিশান- অই আপনি আমাকে তখন থামালেন কেনো পায়ে পারা দিয়ে?? আমি সিউর ইফতি ভাইয়া আপুর গায়ে হাত তুলেছে আপুকে হিট করেছে(রাগীস্বরে) ঠোঁট টা কেমন কালচে হয়ে আছে আপুর অনেক ব্যাথা পেয়েছে মনে হয়,(মন মরা হয়ে)

তীব্র- মিশান!তুমি কি সত্যিই কিছু বুঝো না?
মিশান- কি বুঝবো?
তীব্র- এতো বড় হয়েছো এটা বুঝো না, নীলিমার ঠোঁট অমন হয়েছে কেনো!!
মিশান- মানে বুঝলাম না!! (ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে)
তীব্র- মানে ইফতি নীলিমাকে হিট করেছে কিন্তু সেটা হাত দিয়ে নয়! কাল রাতে যে আমি তোমার সাথে যেটা করেছিলাম সেম কাজটাই ইফতি নীলিমার সাথে করেছে শুধু ডোজ টা বেশি হয়ে গেছে,,, বুঝেছো??(ডেভিল স্মাইল দিয়ে)
মিশান চুপ করে গেলো ,,
তীব্র- তুমি পারমিশন দিলে আমি তোমাকে প্র‍্যাকটিক্যাললি জিনিস টা বুঝাতে পারি!! তোমার কি সম্মতি মিশান??(ডেভিল স্মাইল)

মিশান- একবার বয়ফ্রেন্ড বানানোর চিন্তা করে ছিলাম, কিন্তু এখন আপনাকে বয়ফ্রেন্ড বানাবো না (বলেই রুমে চলে গেলো)
তীব্র মিশানের অবস্থা দেখে হেসে দিলো!!!

সবাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরেছে নায়াগ্রা দেখার উদ্যেশে,,, প্রায় ৪০ মিনিট জার্নির পর পৌঁছালো নায়াগ্রা ফলস এ..
অনেক বেশি সুন্দর একটা দৃশ্য তিনটা ঝর্ণার সমন্বয়ে নায়াগ্রা ফলস এর সৃষ্টি একাধারে জল ঢেলে যাচ্ছে নায়াগ্রা ফলসে,, এদের মধ্যে দুটো ঝর্ণা আমেরিকার সীমান্তে( দ্যা আমেরিকান ফলস এন্ড দ্যা ব্রাইডাল ভেইল ফলস)
আর একটি কানাডার সিমান্তের(দ্যা হর্সশু ফলস)
এদের মধ্যে হর্সশু ফলস সব থেকে বড় নায়াগ্রা জলপ্রপাত এর পানির প্রায় ৯০% ই এই ফলস থেকে আসে।।

একাধারে এই ঝর্ণার পানি গুলো পতিত হচ্ছে হাল্কা রোদ উঠতেই পুরো জায়গা জুড়ে রংধনুর সৃষ্টি হয়েছে যে রংধনুর উৎপত্তি জলে হয়েই আবার জলে তার প্রস্থান।।

এমন মনো মুগ্ধকর পরিবেশ যে কারো মন টা পরিষ্কার করে দিতে পারে, সব ডিপ্রেশন দূর করতে পারে,, নীলিমা ইফতি সমানে ছবি তুলে যাচ্ছে, কিন্তু মিশান তীব্র যেনো দৃশ্য দেখায় মগ্ন,, চারপাশে থেকে ঘুরে দেখতে লাগলো, প্রায় বিকেল হয়ে গেছে ওরা এখনো এখানেই আছে, ইফতি নীলিমার জুড়াজোড়ি তে মিশান তীব্রকে ছবি তুলতে বাধ্য করলো, দুজনকে এক সাথ করিয়ে ছবি তুলতে চাইলে,তীব্র মিশান চুপ হয়ে যায়।।।
ইফতি- কি রে ভাই এমন করছিস কেনো কাপল পিক তুললেই তো আর কাপল হয় না, প্লিজ মিশান তুমিও কেমন? এক মাত্র দুলাভাই আমি আমার আবদার রাখবে না?এগুলো তো সৃতি!!
তীব্র চুপ করে আছে।।
মিশান- ওকে যাও তোলো ছবি, আমরা দাঁড়াচ্ছি,,

তীব্র মিশানের পোজ দেখে নীলিমা ইফতি দুজনেই হতভাগ, তীব্র মিশানকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মিশানের গালের সাথে গাল লাগিয়ে দাঁড়ায়, একজন আরেক জনের দিকে হেসে তাকিয়ে পিক তুলছে নানান রকম পোজ,,,।
তীব্র- মিশান!
মিশান- হুম?
তীব্র- তোমাকে একটু কোলে নিয়ে একটা ছবি তুলি? বয়ফ্রেন্ড তো বানাবেই না অন্তত ছবি দেখে দুঃখ ভুলবো নি।।
মিশান- মাথা ঠিক আছে??
তীব্র- তাহলে সামনা সামনি জড়িয়ে ধরে একটা ছবি প্লিজ!!!(বাচ্চাদের মতো করে বললো)
মিশান- এই না এক দম না খবর দার!!আপনার কিন্তু হেব্বি সাহস বুঝেছেন, আমাকে কোনো ছেলে আজ অব্দি টাচ করে নি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে ভয় পায়, আর আপনি আমাকে যখন তখন জড়িয়ে ধরছেন কাজ টা কিন্তু ঠিক করছেন না বলে দিলাম হ্যাঁ!!!(চোখ গরম করে তাকিয়ে)
তীব্র- সবার সাথে আমার তুলোনা নাকি?? কোথায় সাফুয়ান রেজা তীব্র আর কোথায় আর পাঁচ টা ছেলে,,বাই দি ওয়ে গাল টেনে একটা ছবি তুলতেই পারি??এটা না করো না।।
মিশান হেসে দিলো তীব্রর দিকে তাকিয়ে,,মিশানের গাল টান দিয়ে ছবি তুলতেই তীব্রর চোখ মিশানের ঠোঁটের দিকে চলে যায়, মিশান বুঝতে পেরেই হেসে দিয়ে তীব্র কে সরিয়ে দেয়!!!

ইফতি- নীলিমা!
নীলিমা-কি?
ইফতি- মিশান তীব্রর ভালোই মিল হয়েছে, কি বলো?
নীলিমা- আমিও তাই ভাবছি গো মিশান তো এমন না ওর ধারে কাছে ছেলে রা আসবে তো দূরে থাক ওর দিকে তাকাতে ভয় পায় সেখানে তীব্র ভাইয়া কতো রকম করছে ওর সাথে, আর বড় কথা হলো মিশান গত দশ বছরে এরকম ভাবে হাসেনি কোনো দিন, তীব্র ভাইয়া সাথে থাকলেই যেনো ওর ঠোঁটে হাসি লেগেই থাকে!!!.
ইফতি- আমারো সেম কথা নীলিমা,আমার ভাই টার কোনো মেয়েলী নেশা নেই, আর সেই কিনা মিশানের সাথে এমন করছে,, আর মিশান টাও এতো রাগী সেও কিচ্ছু বলছে না,,!!
নীলিমা-সাড়াজীবন শুনেছি এক বনে দুই বাঘ টিকে না!!
ইফতি- আরে এখানে এক বনে দুই বাঘ কি করে?একজন বাঘ আরেক জন বাঘিনী!!! (হেসে দিয়ে)
নীলিমা-হ্যাঁ গো তাই ই দেখছি!!!



সবার সময় টা খুব ভাল কাটছিলো, সন্ধ্যার দিকে কটেজে ফিরতেই তীব্রর ফোনে কল এলো, তীব্রর মা কেমন যেনো হয়ে গেছে, হসপিটালে এডমিট করানো হয়েছে,তীব্র এক সেকেন্ড দেরি না করে বাংলাদেশের জন্য বেরুতে গেলেই সবাই ওর সাথে চলে আসতে চাইলে মিশান বলে দিলো মিশান তীব্রর সাথে যাবে আর নীলিমা ইফতি থাকবে।।।
তাই ই হলো,, মিশান তীব্রর সাথে বাংলাদেশে ব্যাক করলো,
সকাল প্রায় ৮টা বাজে, মিশান তীব্র বাংলাদেশে ল্যান্ড করলো, তীব্রর চোখে মুখে চিন্তার ছাপ,,
হসপিটালে পৌঁছাতেই দেখলো তীব্রর মা সুস্থ হয়েছে, কেবিনে ডুকতেই দেখলো তীব্রর চাচা এসেছে ইন্ডিয়া থেকে মায়ের কেবিনে উনি বসে আছে,, তীব্রর মা তাকিয়ে আছে এক পলক হয়ে, তীব্র মিশানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ওর চাচার, তীব্রর চাচা মিশানের দিকে তাকিয়ে মিশানের সাথে ভাল মন্দ কথা বললো,, কেনো জানি উনাকে চেনা চেনা লাগছে মিশান মনে করতে পারছে না ,পরক্ষণেই মনে পড়লো তীব্রর চাচার চেহারা প্রায় ৭০%ই তীব্রর বাবার মতো চেহারা,,
তীব্র মিশান আলিফা রেজার সামনে যেয়ে বসলো,, মিশান এক মনে তাকিয়ে আছে তীব্রর মায়ের দিকে,, তীব্র মিশানের পরিচয় মাকে বলার সাথে সাথে তীব্রর মা কেমন যেনো ছটফট করতে লাগলো, মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে, খুব উত্তেজিত লাগছে উনাকে,, প্রচন্ড রকম ছটফট করতেই ডক্টর রা এসে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো উনাকে,, ।।।।অনেক্ষন পর জ্ঞান ফিরতেই আলিফা রেজা আবার স্বাভাবিক হলো,,কিন্তু মিশানের দিকে চোখ ফিরতেই আবারো উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়,,

তীব্রর চাচা তীব্রকে আলাদা করে নিয়ে বলতে লাগলো, ওর মাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখাই ভালো,মিশানকে দেখে অজথা ছটফট করছে,।।আর মিশান চুপচাপ বসে বসে ভাবছে কিছু একটা গভীর মনোযোগ দিয়ে, তীব্রর মার দিকে তাকাতেই কেনো জানি মাথায় কিছু একটা খেলছে!!….


তীব্র- মিশান তুমি কি ঢাকাতেই থাকবে? নাকি আমার সাথে যাবে?
মিশান- কোথায় যাবেন আপনি?
তীব্র- আমি একটু কুয়াকাটা যাবো কাজ পড়ে গেছে, তুমি চাইলে যেতে পারো আমার সাথে!কাল ই ফিরবো!
মিশান- ঠিক আছে চলুন, আমি একা একা ঢাকা থেকে কি করবো?
তীব্র- ওকে লেট’স গো..
.

মিশান তীব্র আর তীব্রর কিছু গার্ড নিয়ে দুপুরে পারসোনাল ফ্লাইটে রুওনা হলো, বিকেলের দিকে কুয়াকাটা পৌঁছালো,, একটা হোটেলে উঠলো ওরা ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রেস্ট নিচ্ছে মিশান, এরই মধ্যে তীব্র মিশানের রুমে এলো।।
তীব্র- খারাপ লাগছে মিশান?
মিশান- অই মাথা টা একটু ব্যাথা করছিলো, জার্নি সহ্য করতে পারি না!
তীব্র- ঠিক আছে তুমি শুয়ে থাকো আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি!
মিশান- আপনি কাজে যাবেন না?
তীব্র- একটা ডিল আছে কিন্তু সেটা রাতে,, (মিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে)
মিশান- থাক হাত বুলিয়ে দিতে হবে না, পেইন কিলার খেয়ে নিয়েছি আমি ঠিক হয়ে যাবে একটু পর.
তীব্র- সমস্যা নেই দিচ্ছি আমি,, এমনিতে তোমার মাথায় হাত বুলাতে ভালোই লাগে আমার.
মিশান- এমন ভাবে বললেন যেনো এর আগেও কত শত বার মাথা টিপে দিয়েছেন!
তীব্র- হ্যাঁ দিয়েছিই তো, পরশু সন্ধ্যায় যে তোমাকে মাথা টিপে দিয়েছি, তুমি ঘুমিয়ে গিয়েছিলে তাও আবার আমার হাত জড়িয়ে!
মিশান- তাই নাকি!! সেই জন্যই তো এতো ভাল ঘুম হয়েছিলো (হেসে দিয়ে)
তীব্র- অই যে আবারো হাসছে, এই তোমাকে কত বার বলবো আমার সামনে হাসবে না,,
মিশান মুচকি হেসে দিয়ে তীব্রর কলার চেপে ধরলো দুই হাত দিয়ে, তীব্র ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে,, মিশান তীব্রকে কাছে টেনে নিলো
মিশান- বয়ফ্রেন্ড হবেন নাকি আমার কিং হবেন?
তীব্র- (হেসে দিয়ে) মাফিয়া কুইনের সাথে বয়ফ্রেন্ড মানায় না কিং ই মানায়,,
মিশান- দুজনে মিলে পুরো বিশ্ব রাজ করবো!!
তীব্র- ঘরে ফিরে রোম্যান্স করবো!!
মিশান- এখানে আবার রোম্যান্স কেনো?(কলার ছেড়ে দিয়ে)

তীব্র কিছু বললো না ডেভিল স্মাইল দিয়ে মিশানের গাল টেনে দিয়ে ঠোঁটে ছোট্ট করে চুমু খেলো, মিশান লজ্জায় বালিশ দিয়ে মুখ ঢাকলো…..



রাত প্রায় ১০ টা বাজে কুয়াকাটা সি বিচের ধারে একটা জাহাজ এসে দাঁড়ালো,, মিশান তো পানি দেখেই ভয়ে মরে, মিশান যেতে না চাইলেও তীব্র জোড় করে বলে কয়ে জাহাজে উঠায়,, জাহাজে উঠতেই তীব্র মিশান জাহাজের এক কিনারায় দাঁড়ায় পানির দিকে তাকালেই প্রচুর ভয় পাচ্ছে মিশান,, জাহাজ টা একদম সাগরের মাঝ বরাবর চলে গেছে আকাশের দিকে তাকাতেই সুন্দর চাঁদ লক্ষ্য করলো,, জাহাজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ভয় টা এখন কম কম লাগছে, মিশান এক মনে পানির দিকে তাকিয়ে আছে,, এরই মধ্যে তীব্র এসে মিশানকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মিশানের গালের সাথে গাল ঘষতে লাগলো,,
মিশান- গাল টা সড়ান আপনার দাড়ি আমার গালে বিদে পড়ছে,
তীব্র- ওকে, এজ ইউর উইশ (বলেই মিশানের গালে চুমু খেলো, মিশান কিছু বললো না, চাঁদ দেখায় মগ্ন আছে,
তীব্র মিশানকে ছেড়ে দাঁড়ালো,,
তীব্র- মিশান!
মিশান- হুম
তীব্র- সরি!
মিশান হাল্কা হেসে পিছনে তীব্রর দিকে ঘুরে
মিশান- বাট হোয়া………(পুরো টাই বলার আগেই, তীব্র মিশানের বুকের বাঁ পাশে গুলি চালিয়ে দিলো)
মিশান পিছনের দিকে পড়ে যেতে নিলেই তীব্র মিশানের হাত টা ধরে ফেলে,মিশান কিছুই বলতে পারছে না, শরীল থেকে সব শক্তি যেনো বেরিয়ে যাচ্ছে.!
তীব্র- আ’ম সো সরি মিশান,,জানি অবাক হচ্ছো তো??? ,,বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ এর জন্য আমি সব করতে পারি মিশান, , তোমার বাবা আমার বাবাকে মেরেছে তোমার বাবাকে মারতে হলে আমার তোমাকে শেষ করতে হবে, কারণ মিশান খান কে টপকে রাইয়ান খান কে মারা ইম্পসিবল! তাই বাধ্য হয়ে তোমাকে আগে শেষ করতে হলো,, সো গুড বাই মিশান খান! (বলেই আরেক টা
গুলি করে মিশানের হাত টা ছেড়ে দিলো,,,

বুকের বাঁ পাশে পর পর দুটো গুলি করাই শরীল থেকে প্রাণ টা বেরিয়ে যেতে বাধ্য! প্রাণহীন শরীল টা গভীর জলে মিশে গেলো নিমেষেই)

তীব্র একটা ডেভিল স্মাইল দিলো পানির দিকে তাকিয়ে……

চলবে.)
বি:দ্রঃ- কেউ ভাইবেন না হয়তো স্বপ্ন দেখতেছে কেউ,তীব্র আসলেই মিশানকে মেরে ফেলছে)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।