দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#দি_মাফিয়া_কিং_ভার্সেস_কুইন
#Writter :-Riya Khan
#Part:-2+ 3
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে মিশান,,মা মারা যাওয়ার পর আকাশের তারার মাঝেই মাকে খুঁজে নেয় মিশান,রাতে এক নজর এর জন্য হলেও তারা দেখতে আসে মিশান,,ছোট বেলায় মা বলতো প্রিয় মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পর আকাশে তারা হয়ে যায়।।।


।::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::।
সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছে তীব্র ,, পুলের সাইড দিয়ে গার্ড রা দাঁড়িয়ে আছে।।।।।
এর মাঝে প্রদীপ বলে উঠলো,
প্রদীপ – স্যার আপনার কাজিন কল করেছে।
তীব্র- কে?(ভ্রু কুঁচকে পিছনে ঘুরে)
প্রদীপ -স্যার ইফতি।
তীব্র- ওপস,(চোখ বন্ধ করে) রিসিভ করো।।

প্রদীপ ফোন রিসিভ করলো আর তীব্র কে হাতে ব্লুটোথ দিলো,তীব্র কানে ব্লুটোথ লাগাতেই।ওপাশ থেকে ইফতি বলে উঠলো
।।
ইফতি (মামাতো ভাই)-সমাজ জামাত থেকে নিজেকে আলাদা করতে চাইছো?(রাগীস্বরে)

তীব্র- আরে আমার ভাই টা রেগে আছে যে,

ইফতি- রাগ করার মতো কাজ করলে তো রাগ করবোই,,

তীব্র- আমি আবার কি করলাম।

ইফতি- আমার বিয়ের কয়দিন বাকি আছে???

তীব্র-বিয়ে তো সামনের সপ্তাহে,,,আমি তো যাবোই বিয়ে তে,, তো সমস্যা কোথায়?

ইফতি- হ্যাঁ সেটা তো বুঝলাম, বিয়ের শপিং টা কবে করবো বলো তো?? যেখানে তোমাকে ছাড়া আমি ঈদের শপিং করি না, সেখানে বিয়ের শপিং আমাকে তোমায় ছাড়া করতে হবে?( রাগীস্বরে)

তীব্র- ওকে ওকে কুল ডাওন ব্রো,,,বি কুল।।।আমি যাবো তো কবে যাবে বলো?

ইফতি- কাল নীলিমার কাজিন আসবে লন্ডন থেকে, শপিং তো এক সাথেই করবো।।তাহলে পরশু শপিং এ যাবো।।

তীব্র- ওকে ওকে,,,আমি যাবো,,, অনেক দেরি আছে পরশু, এতো আগে বলার কি হলো।।

ইফতি- আগে ভাগেই বলে রাখলাম পরে যেনো কোনো এক্সকিউজ না দিতে পারো তাই বলে রাখলাম।।

তীব্র- ওকে ব্রো যাবো যাবো।।।বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমাকে জাস্ট একটা কল দিয়ো।।

ইফতি- ওকে।।আর শুনো বাড়িতে সব গেস্ট এসে গেছে,, তোমাদের তো কোনো পাত্তাই নেই,মিনিমাম ফুফি কে তো
বাসায় দিয়ে যাও।।।

তীব্র- ওকে, আজকেই পাঠাচ্ছি মা কে।।এবার শান্ত হয়েছো তো,, এবার ফোন টা রাখো আমি বাইরে যাবো কাজে।।

ইফতি- ওকে বাই।।।

তীব্র- হুম।।।

বলে তীব্র রুমে চলে গেলো,,, রেডি হয়ে বেড়িয়ে যেতে লাগতে মায়ের কাছে গেলো,,রহিমা কে বললো মায়ের সব জামা কাপড় গুছিয়ে নিতে ,,সন্ধ্যায় মামার বাসায় পাঠাবে,,,,তীব্রর মা হুইল চেয়ারে বসে আছে,,একটা দুর্ঘটনার কারণে তীব্রর বাবাকে হারিয়েছে আর সেই ঘটনা তীব্রর মায়ের সামনে হয়েছিলো বলে মা কোমায় চলে গিয়েছিলো,আর কোমায় থেকে সে সুস্থ হয়ে ফিরে না, প্যারালাইজড হয়ে আছে,,,,,,,, তীব্র মায়ের সামনে যেয়ে বসলো,, মায়ের কপালে একটা চুমু খেয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো,,

হয়তো আবার কারো প্রাণ নিতে বেড়িয়ে গেলো।।



:::::::::::::::::::::::::””””””’:::::::::::::::::::

রাইয়ান – Is Mishan ready?[মিশান কি রেডি হয়েছে] প্ল্যাটাম – She didn’t let us enter into the room….madam is alone in the room,,[উনি রুমে আমাদের যেতে দেয় নি,ম্যাডাম রুমে একা]

রাইয়ান – মিশান !!! বাবা হয়েছে তোমার ( মিশানকে ডেকে).
মিশান – Dad, I’m coming
রাইয়ান -ok, I’m waiting dear..
মিশান- Wait just five minute…

.
.রেডি হয়ে মিশান নিচে আসতেই রাইয়ান হা করে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে,,,,একটা ব্লু কালারের চুড়িদার পড়েছে, হাতে নীল চুড়ি,ঠোঁটে হাল্কা লিপ স্টিক, চুল গুলো বেণী করে সামনে দিয়েছে,,আজকে পুরোই বাঙালী মেয়ে মনে হচ্ছে,,মিশান হয়তো এরকম সাজ সেই ছোট্ট বেলায় সেজেছিলো।।।বাবা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,তার মেয়েটাকে এত্ত সুন্দর লাগছে।।।

রফিক- স্যার মিশান মামুনিকে তো আজকে পুরোই মেয়ে লাগছে,,আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম মিশান মেয়ে,
রাইয়ান – তা যা বলেছো রফিক, আমার মেয়েটাকে কি অসাধারণ লাগছে!!

।।।
।।
মিশান- এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো তোমরা আমার দিকে আমাকে কি আজিব লাগছে নাকি।
রাইয়ান- না বাবা,,তোকে অনেক বেশি মিষ্টি লাগছে রে,,
মিশান – ও(ভ্রু কুঁচকে)
রাইয়ান- বাট সামথিং ইজ মিসিং অফ ইউ..
মিশান- হোয়াট??
রাইয়ান- কখনো তো হাসো না বাবা, এই সাজটার সাথে একটু হাসলে আরো বেশি মিষ্টি লাগবে বাবা।।

মিশান- ড্যাড তুমি ভাল করেই জানো, মিথ্যে বলা আর মিথ্যে অভিনয়,দুটোয় আমার অপছন্দের, সো আমাকে এই ফেইক মাস্ক নিয়ে থাকার এক্টিং করতে বলো না,, আমি আমার সর্বোচ্চ টা সেজেছি তোমাদের জন্য,,দ্যাট ইজ এনাফ,,আমার পক্ষে আর সম্ভব নয় ( রাগীস্বরে)

রাইয়ান- ওকে ওকে বাবা কুল ডাওন,,চলো এখন ( কিছুটা মন খারাপ করে)

মিশান – হুম।।।।

রফিক- স্যার, মন খারাপ করবেন না,, জানেন ই তো চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু টা মিশান কে অনেক বড় ধাক্কা দিয়েছে যা ওর ঠোঁট থেকে হাসিটা কেড়ে নিয়েছে।।।

রাইয়ান – জানি না আমার মেয়েটার হাসি আবার কবে ফিরে আসবে ( বড় নিশ্বাস ছেড়ে)

।।।

সবাই বেড়িয়ে পড়লো, এয়ারপোর্ট এর উদ্যেশে,, মিশানদের নিজস্ব প্লেন আছে,, ওরা সেটা তেই যাবে।। প্লেন এ উঠে গেলো,,সিট বেল্ট লাগিয়ে মিশান মাথা হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে রইলো।।।মিশানের বাবা বুঝতে পারলো কেনো মিশান এমন আনমনে মন মরা হয়ে আছে,, কিছু না বলে সেও বসে পড়লো অন্য সিটে।।।



;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;
কুয়াকাটা সি বিচের ধারে দাঁড়িয়ে আছে তীব্র, পিছনে গার্ড রা,,,,আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক জন লোক,, তীব্র বন্দুক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে আর বলছে,

তীব্র- আপনার সাথে আমার না অই একটা জায়গায় মিল মিস্টার প্রশান্ত সাহ্ ,, আমিও মিথ্যে বলায় এক্সপার্ট আপনিও মিথ্যে বলায় এক্সপার্ট,,, মিল টা শুধু এখানেই,,,,আর পার্থক্য টা হলো আমার মিথ্যে বলার রাইট আছে,কিন্তু আপনার নেই।(দাঁতে দাঁত চেপে)..।।এটা কোনো ব্যাপার নাহ,,কিন্তু সমস্যা টা হলো আপনি সবার সাথে মিথ্যে বলতে বলতে কার সাথে মিথ্যে বলছেন সেটা ভুলে গেছেন,,তীব্র সব সহ্য করলেও মিথ্যে সহ্য করবে না।।(চোখ গরম করে রাগীস্বরে)


-পাওয়ার আছে বলে আপনি যা খুশি করতে পারেন না।।।

তীব্র- জাস্ট শাট আপ,,, জীবনের শেষ সময় এসে দাঁড়িয়ে এতো কথা ফুটছে কি করে হ্যাঁ?(রাগীস্বরে)

– দেখুন আমায় যেতে দিন,,ভালো হবে না বলছি(ভয়ে ডুক গিলতে গিলতে)

তীব্র রাগে নাক ফুলিয়ে চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস ছেড়ে, এক সেকেন্ড দেরি করলো না, বন্দুক শুট করে দিলো প্রশান্তর বুকে, লেপ্টে নিচে পড়ে গেলো,, পলাশের হাতে পিস্তল টা দিয়ে চলে গেলো,,প্রশান্তর লাশ টা কে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়ে দেয়া হলো।।।


গাড়িতে উঠেই ঢাকা রওনা হলো তীব্র।।।




।:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর এসে ল্যান্ড করলো মিশানদের প্লেন।।।

।।
প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্ট এর ভিতরে ডুকতেই, মিশানকে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরলো নীলিমা,,
নীলিমা- কেমন আছিস বোন।।।(এক্সাইটেড হয়ে)
মিশান – ভালো তুমি?
নীলিমা – এতক্ষণ খুব নার্ভাস ছিলাম সত্যি তুই আসবি কি না ভেবে,,এখন খুব ভাল আছি!
মিশান- তাই বুঝি,,
নীলিমা – হ্যাঁ রে,,,কত্ত দিন পর দেখা হলো,,তুই তো আর বাংলাদেশে আসিস না, আমার ই যেতে হয় লন্ডন তোকে দেখতে।।
মিশান – আহা!পুরোনো কথা বাদ দাও তো আপু।।এখন চলো আমার মাথা টা কেমন যেনো ঝিমঝিম করছে।।

নীলিমা – হ্যাঁ চল চল।।।


এয়ারপোর্ট এর নীলিমা আর ওর বাবা ওদের রিসিভ করতে এসেছে,,সবাই গিয়ে গাড়িতে উঠলো বাসায় যাওয়ার উদ্যেশ্যে,,,,,
ঢাকা মিরপুর -১ মিশানদের দাদার বাসায় এসে পৌঁছে গেলো সবাই।।।।।।বাড়িতে এত্ত এত্ত লোকজন , মিশান একটু অন্য রকম বেশি মানুষের আনাগোনা পছন্দ না,,,,আর নীলিমা মিশানকে এত ভালবাসে যে মিশানের মন স্পষ্ট পড়তে পারে,,মিশানকে নিয়ে নীলিমা মিশানের রুমে দিয়ে গেলো,,মিশান ফ্রেস হয়ে নিলো,, বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে,,,,।।।। এমন সময় নীলিমা মিশানের রুমে নক করলো।।

নীলিমা – মিশান আসবো?
মিশান- হ্যাঁ আপু আসো,,
নীলিমা – নে শরবত টা খেয়ে নে।।
মিশান- আপু সার্ভেন্ট থাকতে তুমি কষ্ট করে আনতে গেলে কেনো।।
নীলিমা – আমার বোনটাকে ভালবেসে একটু শরবত খাওয়াতে ইচ্ছে হয়েছে, আর কি বলছে এই মেয়ে!
মিশান- ওকে দাও।।তুমিও না পারো আপু,,বাচ্চাদের মতো করো।।

মিশান শরবত টা খেয়ে নিলো।।।।
নীলিমা খুব সুন্দর একটা মিস্টি মেয়ে,,, ধার্মিক সহজ সরল, শান্তও বটে,,,ইফতি একজন বিশাল ধনি বিজনেস ম্যান, ওর সাথে ইফতির সম্পর্ক হয়, আর এখন ইফতি নীলিমাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে।।।,,,।

ছোট বেলা থেকেই নীলিমা মিশানকে খুব ভালবাসে অনেক আদর করে মিশানকে।।।


মিশান- আপু.
নীলিমা – বল
মিশান- আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেবে?
নীলিমা – দেবো না মানে অবশ্যই দেবো আয়।।।
।।
নীলিমা খাটে উঠে বসলো, মিশান নীলিমার কোলে মাথা রাখলো,,মিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ,, মিশান চোখ বন্ধ করে আছে,,

নীলিমা – তোর মনে আছে মিশান ছোট বেলায় আমি নিজের মাথার চুল আঁচড়াতে পারতাম না ঠিক মতো,,কিন্তু তোর চুল আঁচড়ে দেয়ার লোভ হতো খুব,,আর তোর চুলে চিরুনী দিতেই এতো এতো জটলা পাকাতাম,,তার পর ছোট মা এসে আমাদের চুল ঠিক করে দিতো।।

মিশান – বাদ দাও না আপু,,অতীত মনে করে কি লাভ বলো,(মায়ের কথা মনে পড়বে বলে ইগনোর করে গেলো)
চলবে…….
#দি_মাফিয়া_কিং_ভার্সেস_কুইন
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 4
নীলিমা- হুম।।
মিশান – ইফতি ভাইয়া তোমায় অনেক ভালবাসে তাই না আপু,
নীলিমা- হ্যাঁ,একদম তোর মতো।।

মিশান- আমার মতো মানে?!
নীলিমা- এই যে তুই যেমন ভালবাসিস অনেক,কিন্তু তোর প্রকাশ টা কম তেমন।।।
মিশান- তাহলে তোমার কপাল পুড়েছে
নীলিমা- কেনো!!
মিশান- আমি তো রোম্যান্টিক না,, তারমানে তোমার বরও রোম্যান্টিক না,,তোমার মতো একটা মিষ্টি মেয়ে এমন একটা তীতা মানুষের সাথে থাকলে তোমার জীবনও তীতা হয়ে যাবে।।

নীলিমা-হি হি হি,,,, তাই বুঝি (দুষ্টু হাসি দিয়ে,মিশানের নাক টান দিয়ে)
মিশান- হ্যাঁ।(মুখ গুমড়া করে)
নীলিমা- তাহলে শোন, আমার মিষ্টি ভালবাসা দিয়ে সব তীতা কাটিয়ে দেবো।।(মিশানের কপালে আংগুল বুলিয়ে)
মিশান- ওহ তাহলে তো ভাল।।
নীলিমা- হ্যাঁ,আর শুন কাল কিন্তু আমরা সবাই শপিং এ যাচ্ছি।।
মিশান- কে কে যাচ্ছি?
নীলিমা- আমাদের বাড়ি থেকে আমরা সব কাজিন,আর বৌ দিদি,,, আর ভাইয়া যাবে কি না বলতে পারলাম না।।
মিশান- ঠিক আছে, বুঝলাম।।কিন্তু বৌদিদি কোথায় দেখলাম না তো!
নীলিমা- রোহান কে স্কুল থেকে আনতে গেছে।।।
মিশান- ওহ,রোহান টা মনে হয় বড় হয়ে গেছে অনেক।।
নীলিমা- পাক্কা বুড়ো একটা,,এত্ত দুষ্টুর দুষ্টু,, কি বলবো।।
মিশান – বাচ্চা আছে,,এখনি তো দুষ্টুমি করার বয়স।।
নীলিমা- জানিস ও না তোর নাম শুনলে খুব ভয় পায়,,
মিশান- কেনো আমি আবার কি করলাম?
নীলিমা- অই যে গত বছর যে লন্ডনে সবাই বেড়াতে গিয়েছিলাম,,, তখন যে ছেলে রাস্তায় মাস্তানি করছিল,তুই তাকে গুলি করেছিলি, সেটা রোহান দেখেছিলো,,বাংলাদেশে আসার পর ও সেটা বলেছে।।।তারপর থেকেই তোর নাম শুনলেই ভয় পায়।।
মিশান- কিন্তু ও তো লন্ডন ও থাকা কালীন স্বাভাবিক ই ছিলো।।

নীলিমা- আরে ওতো ভয় পেয়েছিলো অনেক।
মিশান- ও আচ্ছা।।। বুঝেছি।।



– বিকেলের মধ্যেই মিশানের সব কাজিন এসে পড়লো,, সবার সাথে কথা বলছে,, ভালোই মিশছে মিশান।।।মিশানের বাবা মিশান কে দেখছে অবাক হয়ে,,প্রথমবার মিশান এতো টা সেক্রিফাইস করছে,,যে মিশানের কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল নেই সেই মিশান সব কাজিন দের সাথে কেমন মিশে গেছে।।।মিশান সব সময় একা থাকতে পছন্দ করে,মানুষের আনাগোনা একদম পছন্দ না ওর।।।আজ ওকে দেখে সত্যিই খুব অবাক লাগছে,,,যে মিশান সব সময় ছেলেদের মতো পোশাক পড়ে,ছেলেদের মতো করে চলে,সে আজ স্বাভাবিক বাঙালী মেয়েদের মতো সেজেছে।।। কে বলবে এই মেয়ে একটা টপ গ্যাংস্টার মাফিয়া।।।।মিশানের বাবাও একজন মাফিয়া, কিন্তু মিশান অল্প বয়সে ওর বাবার থেকে ওপরে উঠেছে।।।। মিশান লন্ডনেই কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করে ভার্সিটি তে সব থেকে ভাল রেজাল্ট করেছে,,কিন্তু ও। মাফিয়া পেশা টাই বেছে নিয়েছে।।।।


রফিক- স্যার, কি দেখছেন এতো অবাক হয়ে?
রাইয়ান- আমার মেয়েটাকে দেখে আমি চিনতে পারছি না রফিক,,ও কত টা বদলে গেছে এক দিনে!!
রফিক- স্যার ছোটো মুখে একটা বড় কথা বলি,,মিশান মামুনি বদলায় নি,,শুধু সল্প সময়ের জন্য নিজেকে অন্য রূপে রেখেছে,,,ভেতরে ভেতরে সেই হিংস্র মিশান ই আছে।।।
রাইয়ান- কি সব বলছো!!
রফিক- জি স্যার, আজকে আসার সময় মিশান মার্ডার করেছে জানেন?
রাইয়ান- হোয়াট!!! কখন করলো??
,
রফিক- যখন আমরা বাংলাদেশে আসার উদ্যেশে প্লেনে উঠছিলাম,,, মিশান আমাকে বললো আংকেল তুমি ড্যাড কে নিয়ে যাও,আমি একটু আসছি।।।।মিশান এই বলে অন্য দিকে যেতে লাগলো আর সব গুলো গার্ড দের রেখে গেলো আমার একটু খটকা লাগলো তাই আমি ওর পিছু নেই,,ও আমাদের প্লেন থেকে অনেকটা দূরে গেলো স্টেডিয়াম এর লাস্ট প্রান্তে একটা হেলিকপ্টার এর কাছে কিন্তু ও ওড়না দিয়ে মুখ টা ঢেকে যাচ্ছিলো আমার আরো বেশি খটকা লাগে সেখানে যেয়ে কারো সাথে কথা বললো মিশান আর অই হেলিকপ্টার টার কাছে যাওয়ার আগেই হেলিকপ্টার টা উড়ে যায়,,আর নিচে কিছু লোক ছিলো তাদের কে অন্য দিকে নিয়ে কথা না বাড়িয়ে ডাইরেক্ট তাদের পেটের মধ্যে শুট করে দেয়,,তারপর চলে আসে,,,

আর তারপর প্লেনে উঠার পর থেকে দেখি ও কেমন একটা মন মরা হয়ে আছে,,দেখে মনে হলো কিছু একটা ভাবছে,আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম না কিছু, বাট বাংলাদেশে আসার পর মিশান আমাকে ডেকে বললো, —আংকেল মনে হচ্ছে এবার বাংলাদেশে বেশ কিছু দিন থাকতে হবে।।।
এই বলেই ও চলে গেলো,, আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না, মিশানের বাংলাদেশে আসার জন্য অন্য কোনো উদ্যেশ্য আছে।।।


রাইয়ান – কি বলছো, এতো কিছু ঘটে গেছে আমি জানি না,,মিশান আমাকে বললো না একবার ও।।।
রফিক- স্যার আমার মনে হয়, মিশান চায় না আপনি এই রকম একটা আনন্দময় সময় অন্য কিছু নিয়ে ভাবেন।।।।

রাইয়ান- পাগলি মেয়ে আমার।।।মাঝে মাঝে ভাবী জানো,এই মেয়ে না থাকলে কি হতো আমার,,লন্ডন এর মতো দেশে বাঙালী হয়ে রাজ করে খাওয়া টা চারটি খানি কথা না,,, আই এম প্রাউড অফ মাই ডটার।।

রফিক- জি স্যার।।।।। মিশান আপনার খুব টেক কেয়ার করে।।।


রাত্রি বেলা মিশান রুমে একা একা বসে ল্যাপটপ এ কাজ করছে,,মিশান কে দেখে ওর সব কাজিন রা ভয় পায়,এই রকম একটা উৎসব মুখর সময়ে সবাই কত মজা করছে আর মিশান আলাদা রয়েছে,,কেউ এসে ওকে ডাক দেয়ার সাহস পাচ্ছে না।।এদিকে নীলিমাও ফোনে ইফতির সাথে কথা বলাই ব্যাস্ত,,,,,একমাত্র নীলিমা আর নীলিমার বড় ভাই নিলয় এরা দুই জন সাহস পায় মিশান এর সাথে ফ্রি লি কথা বলতে,,।।।নিলয়, সেও ব্যাস্ত তার পলিটিক্স নিয়ে।।


ল্যাপটপ এ কাজে মগ্ন হয়ে আছে মিশান,,মিশানের কেয়ার টেকার জেসি এসে মিশানকে কফি দিয়ে যায়,,এমন সময় মিশানের বাবা মিশানের রুমে এলো,,

রাইয়ান- বাবা কাজ করছিস?
মিশান- ইয়াহ ড্যাড।।
রাইয়ান – ব্যাস্ত কি খুব?
মিশান- না খুব বেশি না,কি বলবে বলো?
রাইয়ান- না কিছু না, এমনিই দেখতে এলাম
মিশান – ওকে।
রাইয়ান- আব, … মিশান…(কিছুক্ষণ পর)
মিশান – ইয়াহ,প্লিজ টেল

রাইয়ান- may I know, what is your plan in Bangladesh?[আমি কি জানতে পারি?তোমার প্ল্যান টা কি বাংলাদেশে]

মিশান ওর বাবার দিকে তাকালো,, তাকিয়ে বললো

মিশান- ড্যাড,, তুমি তো ভাল করেই জানো আমার প্রতিটা সাকসেস এর পেছনে সিক্রেট থাকে,,,আমাকে কি কখনো দেখেছো, কারো সাথে প্ল্যান শেয়ার করতে?(কর্কশ স্বরে)
রাইয়ান- ওকে সরি বাবা,,আসলে বাংলাদেশে তোমার কোনো প্ল্যানিং চলছে, এটা ভেবেই খুব জানতে ইচ্ছে করছিলো,,
মিশান- আ’ম সরি টু ছে ড্যাড আমি বলতে পারবো না,,,তুমি এসব নিয়ে একদম ভেবো না।।। বিয়ে বাড়ি মজা করো।।

রাইয়ান- ওকে বাবা,,,বেস্ট অফ লাক।।
মিশান- থ্যাংকস ড্যাড।।।।




::::::::””’:::::::::::::
ইফতি- হ্যালো!
তীব্র- বলো।
ইফতি – কোথায় তুমি?
তীব্র- এখন ঢাকার বাইরে আছি,,ঢাকার দিকে ব্যাক করছি।।
ইফতি- ওহ ওকে,,কালকে বিকেলে রেডি থেকো কিন্তু,,কালকে শপিং এ যাবো,,
তীব্র- মনে আছে,,আসবো তো।।
ইফতি- হ্যাঁ সেটাই,মনে করিয়ে দেয়ার জন্যই ফোন টা করেছি,,,এক কাজ করো না,, ফুপি তো আমাদের বাড়িতে এসেছেই, তুমিও এসে পড়ো।।
তীব্র- নাহ,আমার কাজ আছে, যেতে পারবো না।।।আমি কাল আসছি।।
ইফতি – ওকে।।রাখছি তাহলে( মন মরা হয়ে)
তীব্র- হুম,বাই।।।


ইফতি আর তীব্র সমবয়সীই,,,বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক ওদের,,ইফিতির প্রতিটা শুভ কাজে তীব্র কে ছাড়া চলেই না,, ,, ইফতি দেশের বাইরে পড়াশুনা করে বাবার বিজনেস সামলাচ্ছে,,আর অই দিকে তীব্র ইউএস এ থেকে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে, গোল্ড মেডেল নিয়ে বাংলাদেশে এসে মাফিয়া পেশাটাই বেছে নিয়েছে,তীব্রর বাবাও একজন মাফিয়া ছিলেন,,একটা দুর্ঘটায় মারা যান তিনি!




পরদিন বিকেলে সবাই রওনা হলো শপিং এ যাওয়ার উদ্যেশে।।।মিশান রা সবাই এক সাথে যাবে বলে কেউ আলাদা আলাদা গাড়িতে গেলো না,, একটা বড় হাইস নিয়ে যাচ্ছে ওরা সবাই।।।রাস্তায় সবাই খুব মজা করছে,,মিশান, নীলমা, নীলয়, নীলয় এর বউ শ্রেয়া, তার ছেলে রোহান,, মিশানের দুই ফুফুর ছেলে মেয়ে, সারা,সাইমন,,রাফা, রাতুল,,,ফুফাতো ভাই বোন সবাই কলেজ ভার্সিটি তে পড়ে।।। পেছনের কয়েকটা গাড়িতে গার্ড রা আসছে।।।



এদিকে ইফতি, তীব্র,ইফতির তিন জন বন্ধু এই কয় জন গেলো শপিং এ।।।। পেছনে অবশ্য তীব্রর গার্ড রা রয়েছে,,,




সবাই বসুন্ধরা তে গেলো।।।।।

নীলমারা শপিং মলের ভিতরে ডুকতে না ডুকতেই ইফতিরা এসে গেলো।।।,,,।

নীলিমা- যাক এট লাস্ট টাইমলি এসেছেন আপনি,কত ভাগ্য আমার।।
ইফতি- মানে কি বুঝাতে চাইছো তুমি, আমি লেট করি?(ভ্রু কুঁচকে)
নীলিমা- অবশ্যই!!!
ইফতি- ভাল,,বাই দি ওয়ে মিশান কোথায়?
নীলিমা- ওহ হ্যাঁ দাঁড়াও, মিশানকে ডাকছি,।।আর তুমি না বলেছিলে তীব্র ভাইয়াও আসবে কোথায় সে?
ইফতি- এসেছে,ভেতরে আসছে,,
নীলিমা- ওহ ওকে,।।

সবাই শপিং এর জন্য জামা কাপড় দেখছে, আর মিশান এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ফোন টিপছে,,নীলিমা ডাক দিতেই বাধ্য মেয়ের মতো নীলিমার কাছে গেলো,,

নীলিমা- মিশান,এই হলো…( পুরোটা বলার আগেই)
মিশান- হাই ব্রো!
ইফতি- হ্যালো!
নীলিমা- বাহ!চিনে ফেলেছিস?
মিশান – ইয়াহ!
ইফতি- মিশান,তোমার ছবিতে তোমাকে যতটা সুইট লাগে বাস্তবে কিন্তু তুমি তার থেকে হাজার গুণ বেশি সুইট।।
মিশান- কেনো আমার বোন কি কম নাকি কোথাও।(ভ্রু কুঁচকে)
ইফতি- তোমার বোন তো সুইট, তুমি তার থেকেও সুইট।
নীলিমা- মিশান তুই তো দেখছি বিয়ের আগেই আমার বরের চোখ কেড়ে নিয়েছিস (হেসে হেসে)
ইফতি- কেনো একথা বলছো কেনো? জানো না তুমি,শালি আধা ঘর ওয়ালি।।।(হেসে হেসে).

এরকম ইয়ার্কি মিশানের একদম পছন্দ না হওয়া সত্যেও নীলিমার মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলো।।এরই মধ্যে তীব্র চলে এলো,,ইফতি মিশান আর নীলিমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো,,,হাই হ্যালো পর্ব পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রইলো, মিশান এক নজর তীব্রর দিকে তাকিয়ে আর ওর দিকে তাকায় নি, তীব্রও এক নজর তাকিয়ে আর তাকালো না।।।।



সবাই শপিং নিয়ে ব্যাস্ত,, মিশান শপিং মল থেকে সরে এসে ক্যাফে তে চলে গেলো,,বসে বসে কফি খাচ্ছে আর ফোন টিপসে।।এদিকে তীব্র,সেও একি অবস্থা ক্যাফে তে বসে কফি খাচ্ছে।। দুজন দু টেবিলে বসে আছে,, কেউ কারো দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করছে না।।।।

মিশান আড়চোখে তীব্রকে একটু করে দেখেও না দেখার ভান ধরে আছে,,কিন্তু তীব্র একবারের জন্যও তাকায় নি।।।

কফি শেষ দিয়ে বিল পেমেন্ট করতে যাবে ঠিক তখন মিশান খেয়াল করলো দুটো ছেলে মিশানের দিকে কু নজরে তাকিয়ে তাকিয়ে কি যেনো বলা বলি করছে,,মিশান পাত্তা না দিয়ে, পেমেন্ট করে,শপিং মলের দিকে গেলো।।

ছেলে দুটো মিশানের পিছু পিছু গেলো,,মিশান চুপচাপ শুধু আড় চোখে দেখছে,,,,


– দোস্ত দেখেছিস মেয়েটা কি হেব্বি দেখতে!!
– হ্যা রে,,কেমন জানি বিদেশি বিদেশি ভাব আছে, মালটা সেই হবে রে।।।একে তো পটিয়েই ছাড়বো।।
– আমাদের চেহারা কম নাকি,, দুজনের একজন পটাতে পারবোই,,মজা তো পরে দুজন নিবো।।
– না রে এই মেয়েকে পটাতে পারলে আমি একে বিয়েই করবো।,,,কি হাইট, কি গায়ের রঙ,কি সুন্দর তার রূপের বৈশিষ্ট্য এ নারীর,,সব কিছু পারফেক্ট আছে।।

।।
ছেলে দুটি বলাবলি করছে আর মিশানের পিছু নিচ্ছে,,সবাই শপিং নিয়ে ব্যাস্ত।।।

মিশান একটা সময় নিরিবিলি জায়গার দিকে গেলো সামনে ছায়া তে দেখতে পেলো ছেলে দুটি ওর দিকেই আসছে


মিশান ডেভিল স্মাইল দিয়ে ছায়া থেকে চোখ সরালো,,তারপর ব্যাগে থেকে গান বের করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে।।।


ছেলেদুটি মিশানের হাতের গানটা খেলনা পিস্তল ভেবে হাসা হাসি করছে,,,
– দোস্ত,মেয়েটা আমাদের খেয়াল করেছে বোধয় তাই খেলনা পিস্তল টা বের করে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে,, হি হি হি….
– মেয়ে টা হেব্বি ট্যালেন্টেড রে!!
.

মিশান ডেভিল স্মাইল দিয়ে, ছেলে দুটোর দিক ঘুরলো,ঘুরে বন্দুকটা ওদের দিকে তাক করলো,ছেলে দুটো হেসেই যাচ্ছে,,,, মিশান বন্দুক টা নিচের দিকে টার্গেট করে এক স্পিডে তিন চারটা গুলি করলো ছেলে দুটো ভয় পেয়ে গেলো এতো সত্যি কারে পিস্তল,,ভয়ে ছেলে দুটো এক দৌঁড়ে চলে গেলো।।।


চলবে……….

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।