দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:-4+ 5

নীলিমা- কি রে মিশান কোথায় থাকিস তুই,কখন থেকে খুঁজছি তোকে কেনা কাটা করবি না নাকি?
মিশান – এই তো এই দিকেই ছিলাম বলো,কেনো খুঁজছিলে?
নীলিমা- ম্যাডাম আমরা সবাই জামা-কাপড় নিচ্ছি আপনি নেবেন না!
মিশান – আপু তুমি তো জানোই আমার কোনো চয়েস নেই এসব ব্যাপার এ,, তুমি কিছু একটা কিনে নাও,যা নিবে তাই পড়বো।।
ইফতি- বাপরে!! এই প্রথম কোনো নারীর মুখে এমন কথা শুনলাম!!ভাবা যায়!!(আশ্চর্য হয়ে) এইগুলা! মেয়ে মানুষ শপিং করতে পছন্দ করে না।
নীলিমা- হ্যাঁ কারণ এটা আমার বোন যে তাই।।
ইফতি- হি হি হি,তাহলে তুমি ওর উল্টো কেনো (টিজ করে)
নীলিমা- ধেত!!.

-মিশান দেখতো এই জামা টা কেমন লাগে তোর(একটা জামা দেখিয়ে)

মিশান- আহা,আপু নাও না তোমার পছন্দ মতো।।যা নিবে তাই পড়বো, এসবের মধ্যে আমায় টেনো না (বিরক্তি ভাব নিয়ে)

নীলিমা- মিশান তুই না একটা যা তা।।



নীলিমা মিশানের জন্য জামা দেখছে, মিশান শুধু নীলিমার পিছন পিছন যাচ্ছে আর ফোন টিপছে আর ওদিকে সব কাজিন বৌদিদি নিলয় ভাইয়া সবাই নিজেদের জন্য জামা নেয়াই ব্যাস্ত।।।।।।
।।।

তীব্রও এতক্ষনে ইফতির কাছে এলো।ইফতির জামা চয়েস করে দেয়ার জন্য।

তীব্র- ইফতি.
ইফতি- হ্যাঁ বলো।
তীব্র- একটা কথা বলবো মাইন্ড করবে না বলো।
মানে তোমার শশুড় বাড়ি নিয়ে বলবো ।(ইফতির কানের কাছে যেয়ে))
ইফতি- ওকে বলো,,
তীব্র- নীলিমার অই কাজিনটা দেখতে তো ভালোই কিন্তু মেয়েটাকে এতোক্ষণে একটা বারও হাসতে দেখলাম না ,, মেয়েটা কি এমনই গোমড়া হয়ে থাকে!!

ইফতি- না মানে একটু লাজুক তো ও তাই,,
তীব্র- আমাকে শেখাবে তুমি কোনটা কে লাজুক বলে!(চোখ রাঙিয়ে)) মেয়েটা কেমন জানি রাগী রাগী একটা মুড নিয়ে চলছে,দেখে মনে হচ্ছে এটিটিউড টা বেশি! ।

ইফতি আর তীব্রর কথা নীলিমা পাশে থেকে শুনে ফেললো,,নীলিমা বললো।।

নীলিমা- আসলে ভাইয়া মিশান এমন ই,আগে এমন ছিলো না, ও যেমন একটা মিষ্টি মেয়ে ঠিক তেমন ই মিষ্টি হয়ে হাসি খুশি থাকতো ও,,একটা এক্সিডেন্ট এ ছোট মার মৃত্যু টা চোখের সামনে দেখে এতটা ধকল সহ্য করতে পারি নি,,ছোট মার মৃত্যুর সাথে সাথে ওর হাসি টাও চলে যায়,জানেন ভাইয়া আমার না ঠিক মনে পড়ছে না, মিশান লাস্ট কবে হেসেছিলো,শুধু এই টুকুও মনে আছে ছোট মা বেঁচে থাকতে ওকে লাস্ট হাসতে দেখেছিলাম।(আবেগী হয়ে বললো)


ইফতি- মেয়েটার কষ্ট গুলো হয়তো এভাবেই চাপা দিয়ে রাখে।

তীব্র আর কিছু বললো না,,চুপ করে আড়চোখে মিশানকে তাকিয়ে দেখছে।


নীলিমা হলুদের জন্য হাতে একটা ব্লু আর ইয়েলো কম্বিনেশনের একটা লেহেঙ্গা হাতে নিয়ে মিশানকে ডাক দিয়ে ট্রায়াল রুমে যেয়ে পড়ে আসতে বললো,, মিশান জামাটা পড়তে নারাজ হলেও নীলিমা ওকে জোড় করে জামা টা হাতে দিয়ে ট্রায়াল রুমে পাঠায়,,,মিশান খুব ইতস্ত বোধ করছে, এরকম জামা পরার অভ্যেস নেই,সেই ছোট্ট বেলায় পড়েছিলো নিলয় ভাইয়ার বিয়েতে ,তাও মা পরিয়ে দিয়েছিলো, মিশান লেহেঙ্গাটার দিকে তাকিয়ে মায়ের কথা মনে করতে করতে ট্রায়াল রুমে গেলো,অনেক কষ্টে লেহেঙ্গা টা পড়ে মিশান বের হয়,বেরিয়ে আসতেই সবাই হা করে মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে ,,, নীলিমার তো চোখের পলক ই পড়ছে না,, মিশানকে দেখতে এত্ত বেশি সুন্দর লাগছে,, বলার ভাষা নেই,তীব্র একটা ছেলে যে কিনা কোনো মেয়ের দিকে একবার ছাড়া দুইবার তাকায় না, সেও মিশানের দিকে অপলক ভাবে চেয়ে আছে, তীব্রর এই সিচুয়েশনে ইফতি খেয়াল করলো।


বৌদিদি – আরে মিশান তুমি এই জামা টা হলুদে পড়ো না(উত্তেজিত কন্ঠে)

নীলিমা- কেনো, পড়বে না কেনো???(ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে)
বৌদিদি- এই জামাটা মিশান পড়লে ছেলে পক্ষ ভুলে ওকে হলুদ লাগিয়ে চলে যাবে.(খিল খিল করে হেসে দিয়ে)


বৌদিদির এমন কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।

নীলিমা- মাশাল্লা আমার বোনটাকে যা লাগছে না!!
মিশান- তোমাদের সবার দেখা হয়েছে??? এবার জামাটা চেঞ্জ করে আসি??(কঠিন স্বরে)
নীলিমা- ঠিক আছে যা।


মিশান জামা টা চেঞ্জ করার জন্য ট্রায়াল রুমের দিকে যাবে বলে ঘুরতেই কিছু একটার সাথে স্লিপ খেয়ে পড়ে যেতে নেয়,মিশান নিজের ব্যালেন্স আটকাতে পারে না, তখনই পাশে থেকে কেউ একজন মিশান কে টেনে ধরলো,, এক হাত মিশানের কোমরে আরেক হাত মিশানের ডানা বরাবর,,মিশান চোখ বড় বড় করে তাকালো, তীব্র মিশানকে ধরেছে! মিশান হতভাগের মতো তীব্রর দিকে তাকিয়ে আছে,,এতক্ষনে মিশানের চোখে পড়লো তীব্র!
তীব্র মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে,,মিশান ও তাকিয়ে আছে,মিশানের পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা শুধু নীলিমা আর ইফতি দেখতে পেলো,,ওরা কিছু না বলে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো,কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর মিশানের হুঁশ ফিরলো,,

মিশান- এভাবেই বাঁকা করে রাখবেন আমায়,সোজা করবেন না?? (কড়া স্বরে)
তীব্র- ও হ্যাঁ, স সরি।।
মিশান- ইটস ওকে,এন্ড থ্যাংকস।।।।।

বলেই মিশান চলে গেলো।।মিশানের কেমন যেনো ফিল হচ্ছে,আর নিজের উপর রাগ হচ্ছে কেনো জানি মনে হচ্ছে পড়ে গেলেই ভাল হতো,,এমন ভাবে কোনো দিন কোনো ছেলে মিশানকে স্পর্শ করে নি।।তাই এতো রাগ হচ্ছে,এদিকে তীব্র কেমন জানি একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে,সেও এই প্রথম কোনো মেয়েকে স্পর্শ করলো এমন করে!


ইফতি- নীলিমা!
নীলিমা- হুম বলো,,
ইফতি- বলছিলাম কি তীব্রর ও তো বিয়ের বয়স হয়েছে,,,,ও তো কোনো মেয়ের দিকে ঘুরেও তাকায় না,,,আজকে সব উল্টো পাল্টা লাগছে,,ভাবছিলাম কি তীব্রর সাথে যদি মিশানের লিংক টা করে দেয়া যায়!!

নীলিমা- তুমি কি পাগল, হয়েছো??(চোখ রাঙিয়ে) মিশান করবে বিয়ে!!!ইফতি তুমি কি মিশানের একরম পোশাক দেখে ভুলে গেলে ও একটা মাফিয়া কুইন,,গ্যাংস্টার!!(ঝারি মেরে)


ইফতি- হ্যাঁ তো কি হয়েছে!আমার ভাই ও একজন মাফিয়া কিং,,,দুজনের মিলবে।(কুল মুডে)

নীলিমা- তোমার মাথায় কিছু আছে?? কি নিয়ে তুমি বিজনেস করো??(রাগীস্বরে) তুমি জানো না,এক বনে দুই বাঘ থাকে না?

ইফতি- হ্যাঁ জানি তো,আর এই খানে দুজন বাগ কোথায়?(চোখ কুঁচকে তাকিয়ে) একজন বাঘ আরেকজন বাঘিনী,,, দুজন দুজনের প্রয়োজন, আমি আজই তীব্রর সাথে কথা বলবো।

নীলিমা- যা ইচ্ছে করো,,আমি মিশানকে কিছু বলতে পারবো না,,আমার ভয় লাগে,,,মানুষ মারতে মিশান দুই সেকেন্ড ভাবে না।।।আর আমি যদি ওকে কিছু বলি ও বলবে, বসতে দিলে শুতে চাও!

ইফতি- ওকে,,যা করার আমিই করবো..(ঝারি দিয়ে))




শপিং শেষ করে সবাই বাইরেই ডিনার করবে বলে ঠিক করলো,,,রেস্টুরেন্ট এর ভিতর গিয়ে সব থেকে বড় টেবিল টা বুক করলো,, যেখানে ওরা সবাই প্লাস বডি গার্ড রাও।
ইফতি ইচ্ছে করে মিশানের পাশে তীব্রকে কৌশলে বসালো,তীব্রর কেমন যেনো নার্ভাস লাগছে মিশানের পাশে বসে,,,হার্ট বিট ফার্স্ট হয়ে যাচ্ছে,সবাই ভারী খাবার খাচ্ছে, আর মিশান জাস্ট স্যুপ আর সালাদ নিয়ে বসে রইলো,তীব্র আড়চোখে মিশানের খাওয়া দেখছে,মিশান একমনে খাবারের দিকে তাকিয়ে খাবার খেয়ে যাচ্ছে চুপচাপ , সবাই কথা বলছে হাসাহাসি করছে আর খাবার খাচ্ছে,,কিন্তু মিশান নিজের মতো করে খাবার খাচ্ছে,,,মিশানের এমন অদ্ভুত আচরণে তীব্র খানিকটা অবাক ই হলো,এমন ভাবে মিশান খাচ্ছে যেনো ওর আশে পাশে কেউ নেই!! কোনো আওয়াজ ওর কানে যাচ্ছে না!! এরই মধ্যে, মিশানের ফোনে কল এলো একটা আননোন নাম্বার থেকে মিশান নাম্বার টার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর ফোন কানে নিয়ে চেয়ার থেকে উঠে সবার থেকে একটু দূরে গেলো।

– হ্যালো……. (স্বর টান দিয়ে বললো) আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম!
মিশান- ওয়ালাইকুম আসসালাম, কে বলছেন?
– কেউ তো আছি,বলতে পারেন আপনার কোন শুভাকাঙ্ক্ষী (কিটকিটে হাসি দিয়ে)
মিশান- হোয়াট রাবিশ,,,, কি যাতা বলছেন(রেগে গিয়ে) হু আর ইউ?
– ম্যাডাম আপনার মাথা হট আছে,, আমি পরে আবার কল করবো কেমন? খোদা হাফেজ।।
মিশান – হোয়াট দ্যা…. (বলতে না বলতেই ফোন কেটে গেলো))


মিশান অনেক টাই রেগে ফোন টা সুইচ অফ করে পিছনে ঘুরতেই চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো,, মিশানের পিছনে তীব্র দাঁড়িয়ে আছে!

মিশান- আপনি আমার পিছনে দাঁড়িয়ে কি করছেন?
তীব্র- সেটা আমি বললে কি বিশ্বাস করবেন?টেবিলে যারা বসে আছে তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করেন.

মিশান অনেক টা অবাক হয়ে, সবার দিকে তাকাতেই দেখে সবাই মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে,,

মিশান- হোয়াট?????(সবার দিকে রাগীস্বরে প্রশ্নসূচক ভাবে))


নীলিমা- মিশান, তুই কি ঠিক আছিস,,, কোন জগতে থাকিস বলতো?

মিশান- আরে কি হয়েছে সেটা বলবে তো??
তীব্র- কুল ডাওন মিস্টার অওহ সরি মিস মিশান,, আমি বলছি,,,…(তীব্র বলতে লাগলো….)


মিশানের যখন ফোনে কল আসে, মিশান উঠে দাঁড়িয়ে ঘুরতেই তীব্রর হাতে টান লাগে, তীব্র অনেকটা অবাক হয়ে হাতের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো মিশানের ওড়না টা তীব্রর ঘড়ির সাথে বাজে ভাবে আটকে আছে।।। মিশান বেখেয়ালে সামনের দিকে যাচ্ছেই,, এদিকে তীব্র মিশানকে ডাকছে পিছন থেকে নীলিমা ডাকছে মিশানের তাতে কোনো হুদিস ই নেই,,না জানি কোন ঘোরের মধ্যে ছিলো মিশান,, বাধ্য হয়ে তীব্ররও খাবার টেবিল ছেড়ে মিশানের পিছু যেতে হয়।



এবার সবটা শুনে মিশানের হুশ ফিরলো,,চোখ বন্ধ করে বড় নিশ্বাস নিয়ে তীব্রর দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললো।।

মিশান- আ’ম স.. স.. স….. (মিশানের মুখ দিয়ে কোনো ভাবেই সরি বের হচ্ছে না,, বিকজ মিশান আজ অব্দি কাওকে সরি বলে নি,,সরি বলার প্রয়োজনই পড়ে নি)

তীব্র- ইটস ওকে মিশান,, সরি বলতে হবে না (মুচকি হেসে)

মিশান পুরোই ভীতু হয়ে গেলো,তীব্রর দিকে করুণ দৃষ্টি তে তাকালো!

মিশান- হুম।।

তীব্র- Can I ask you a question ??
.
মিশান- সিউর!
তীব্র- Any problem??
মিশান- নো, ইটস ওকে।।

তীব্র- কোনো সমস্যা থাকলে বলতে পারেন।।

মিশান- নো থ্যাংকস,,, এভরি থিং ইজ অল রাইট।।।

তীব্র- ওকে।।।কোনো সমস্যা হলে জানাবেন
.মিশান- সিউর!



তীব্রর কেনো জানি আজ মিশান মন ছুঁয়েছে,, বার বার মিশানকে দেখছে!


সবাই যার যার বাড়িতে যাওয়ার উদ্যেশে গাড়িতে উঠে পড়লো,সবাই বাড়িতে পৌঁছে গেলো।বাড়ির সবাই শপিং নিয়ে খুব মাতামাতি করছে।আর মিশান নিজের নিয়মে রুমে চলে গেলো,রুমে গিয়ে এক সেকেন্ড ও দেরি করলো না,, সাথে সাথে বাথ রুমে ডুকে শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে রইলো।।।।মিশান চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে,,শপিং মলে পড়ে যাওয়ার সময় তীব্র কিভাবে ওকে ধরে।মিশানের খুব ইতস্ত লাগছে,, এই প্রথম কোনো ছেলে মিশানকে এভাবে টাচ করেছে,,মিশানের ছেলেদের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই,ওর প্রতিটা গার্ড, কেয়ার টেকার সব মেয়ে।


আর আজ ওর সাথে কি হয়ে গেলো,,নিজেকে আয়নায় দেখছে, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে নিজেকে কেনো জানি আজ অন্য রকম লাগছে,,কেন এমন লাগছে সে উত্তর মিশান পাচ্ছে না।।।

চলবে. …..
.
#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 6

বাসায় ফেরার পথে গাড়িতে বসে আছে তীব্র ইফতি,,ইফতি ড্রাইভ করছে পাশের সীটে তীব্র বসে আছে,,,গার্ডরা পেছনে গাড়ি নিয়ে আসছে,,,,,তীব্র অনেক টাই চুপচাপ বসে আছে,,ইফতিও বসে আছে আর নানান কথা বলছে,,,এরই মধ্যে ইফতি বলে উঠলো।।

ইফতি -একটা কথা জিজ্ঞেস করবো তোমায়??
তীব্র- বলো।
ইফতি- ,আমরা সম বয়সী হওয়া সত্ত্বেও আমি বিয়ে করছি আগে, আর তোমার কোনো হুদিস ই নেই! যদিও আমি ৩ মাসের বড়, তবুও এটা কোনো ফ্যাক্ট না,,তা বিয়ে টা করবে কবে শুনি??বয়স তো আর কম হয় নি??

তীব্র- তিন মাস পরে যখন জন্মেছি, তিন মাস পরেই বিয়ে করবো!
।।
ইফতি- মানে!! এর গ্যারান্টি দিচ্ছো???

তীব্র- হুম অবভিয়াসলি!

ইফতি- এমন ভাবে বলছো যেনো সব ঠিক ঠাক আছে তিন মাস পরেই বিয়ে টা করে নিবে!!তা আছে নাকি কেউ???

তীব্র- ইফতি, এটা কোনো প্রশ্ন হলো না!আমার যদি কোনো পছন্দ থাকে সেটা আর কেউ না জানলেও তুমি জানবে..

ইফতি- অওহ আই সি,তা কেমন মেয়ে চাই আপনার??
তীব্র- শান্ত শিষ্ট, ভদ্র,যেহেতু কথা বেশি বলা আমার পছন্দ না,সো মেয়ে কথা কম বলবে আর শুনবে বেশি!
ইফতি- হুম হুম, (মাথা নাড়িয়ে)তার পর?

তীব্র- তারপর মেয়ে টা অত্যন্ত সাধারণ থাকতে হবে,আর পাঁচটা মেয়ের মতো না, চঞ্চল হবে না, মিষ্টি একটা মেয়ে হবে,দিন শেষে যখন ঘরে ফিরবো বউ টার মুখ দেখেই যেনো সব ক্লান্তি চলে যাবে,,,,মনে হাজারো অভিযোগ থাকলেও সেগুলো প্রকাশ করবে না,,,, আর আমি তো একটা মাফিয়া,আমার ব্যাস্ততা আর কাজ সব কিছু মুখ বুজে মেনে নিতে হবে,,মোট কথা মেয়েটা সব দিকেই মিষ্টি হবে!

ইফতি – বাপরে সব ই তো তোমার ডিম্যান্ড দেখছি শুধু,এমন মেয়ে দেশে কেনো এই গ্রহেও নেই!
তীব্র- যেখানে আছে সেখান থেকে খুঁজে আনবো।।


ইফতি মুচকি মুচকি হাসছে,,,আর তীব্র কথা শেষ করেই চোখ বন্ধ করে নিলো, চোখ বন্ধ করতেই মিশানের
চেহারা টা ভেসে উঠলো!

ফ্রেশ হয়ে মিশান রুমে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসলো,,ল্যাপটপ এ কিছু কাজ শেষ দিয়ে বারান্দাই দাঁড়িয়ে রইলো আনমনে,,,আজ কেনো জানি একা থাকতেও ইচ্ছে হচ্ছে না,,, সব কাজিন রা ছাদে পূর্ণিমা রাতের চাঁদেরহাট বসিয়েছে,,, সবাই খুব হই হুল্লোড় করছে,,,মিশান কি মনে করে যেনো ছাদের দিকে গেলো,সবাই খানিক টা অবাক হয়ে মিশানের দিকে তাকালো,,কেনোনা মিশানকে ডাকলেও মিশান এসব আড্ডায় আসে না। আজ হঠাৎ নিজে থেকেই এসে সবার মাঝখানে বসে পড়লো।।।।


সারা- আরে এতো দেখছি, গরীবের বাড়ি হাতির পাড়া!!(মিশানের দিকে তাকিয়ে)
মিশান-মানে? (ভ্র কুঁচকে)
সারা- তুমি আমাদের সাথে আড্ডায় বসেছো, আনএক্সপেক্টেড ছিলো এটা!
মিশান- আমি আসা তে কি কারো প্রব্লেম!! (সবার দিকে তাকিয়ে,,)না তাহলে আমি চলে যাই,নো প্রব্লেম।
সায়মন – আরে মিশান আপু,তুমি রাগ করছো কেনো সারা তো মজা করছিলো!!( মৃদু স্বরে)
বউদিদি- আমার এই ননদিনী টা যে কি হচ্ছে দিন দিন,চুপ করে বসো আমি এতো বড় হয়ে সবার সাথে গল্প করছি,তাতে কিচ্ছু হচ্ছে না, আর তুমি আসা তে কি হবে শুনি??
মিশান- ওকে ওকে, আই সি।।ইটস অলরাইট । তোমরা কি নিয়ে গল্প করছিলে, জানতে পারি?

নীলিমা- হ্যাঁ কেনো জানতে পারবি না,, অবশ্যই জানতে পারবি, এখানে গল্প হচ্ছে এই টপিক নিয়ে কে কত সালে বিয়ে করবে, এবং কেমন লাইফ পার্টনার চাই (বৌদিদির দিকে চোখ টিপ দিয়ে)))

মিশান- অওহ আচ্ছা, বুঝলাম।।

নীলিমা- হ্যাঁ রে বোন,এখন তোর পালা এসে গেলো!

মিশান- মানে!! (অবাক হয়ে)

নীলিমা- মানে, আমরা তো সবাই গোল হয়ে বসেছি,এক জন আরেক এর পর সিরিয়াল ধরে বলছে, তুই তো রাফির পাশে বসেছিস রাফির গল্প এই মাত্র শেষ করলো,তাহলে এখন তোর পালা!

মিশান- হোয়াট দ্যা!!! আমার কোনো গল্প নেই,তোমরা বলো আমি শুনছি।

নীলিমা- না না,, এমন কথা বললে চলবে না, বলতে হবে!
।মিশান- কি বলতে হবে?
নীলিমা- আগে বল তোর কেমন ছেলে চাই,আর কবে বিয়ে করবি??
মিশান- বিয়ের জন্য আমি এখনো রেডি নই,,,,সো এটার কথা বলতে পারলাম না। আর কেমন ছেলে চাই, সেটা হলো যাকে আমি বিয়ে করবো তাকে আমার লেভেল এর ই হতে হবে,মানে আমার মতোই টপ মাফিয়া!

নীলিমা- আল্লাহ!!! দড়ি ফালাও আমি উইঠা যাই!!

রাফায়েত- আপু তারপর বলো!
মিশান- তারপর আর কি,বললাম ই তো আমার লেভেল এর হতে হবে।।মানে আমার মতো রাগী জেদী, এক কথার মানুষ,সত্যবাদী, বেপরোয়া।

,
মিশানের এমন কথা শুনে সবাই ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।।।।মিশান কিছু বুঝতে পারছে না এতো অবাক হওয়ার কি হলো!!এরই মধ্যে, কফি নিয়ে এলো বাড়ির কাজের লোক,, সবাই কফি খাচ্ছে আর গল্প করছে,,,মিশান চুপচাপ সবার গল্প শুনছে।।।



দেখতে দেখতে ঘনিয়ে এলো নীলিমার বিয়ের দিন,,পুরো বাড়ি আলোকসজ্জা দিয়ে ভরপুর,, শহরের সবচেয়ে দামী হোটেল টা বুক করেছে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য,,,বিশাল কমিউনিটি সেন্টার সেখানে,,,,,আনন্দে হৈ চৈ এ ভরপুর ছেলে মেয়ের বাড়ি,,,,, ,, বাড়ির ভেতরে ফুল দিয়ে অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে,,আর বাড়ির বাইরের দিক আলোকসজ্জা।।।।।।



মিশান ছাদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চারপাশ টা ঘুরে ঘুরে দেখছে আর মনে পরছে সেই ১১ বছর আগে নিলয়ের বিয়ের কথা,, নিলয় কে ছোটো বেলা থেকে দাদা বলে ডাকতো,,ওর বিয়েতে কত্ত মজাই না করছিলো,,ঠিক এমনটা করেই তো বাড়ি টা সাজানো হয়েছিলো,তবে এখন কেনো আগের মতো মজা করতে পারছে না মিশান,,ভাবছে সে কথা মিশান।।উত্তর টা পেয়েও যায়, সে দিন মিশানের মা ছিলো কিন্তু আজ নেই,, মিশানের সবটুকু খুশি জুড়ে মিশানের মা ই ছিলো,,,,,এরই মধ্যে আবারো মিশানের ফোন বেজে উঠলো,,সেই একই নাম্বার থেকে,,মিশান রিসিভ করতেই,,,

মিশান- হ্যালো!
– কি করছেন ম্যাডাম??
মিশান- হু আর ইউ (((দাঁতে দাঁত চেপে)))
– আহা রাগ করছেন কেনো ম্যাম!!আমি কি রাগের কোনো কথা বলেছি,কুল ডাওন!!
মিশান- জাস্ট শাট আপ,,,,
– অই যে আবারো রেগে যাচ্ছে,,,আমি শুনেছি আপনার বাবা নাকি একজন বড় মাফিয়া, আপনি কি আপনার বাবার পাওয়ারে এতো তেজ দেখাচ্ছেন??(ঝাঁঝালো স্বরে)

মিশান- অওহ আই সি,আর কি শুনেছেন??
-আপনি লন্ডনে থাকেন,আপনার বাবা মাফিয়া,লন্ডনে একটা ভার্সিটি তে পি এইসডি করছেন সফট ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর।বাবার পাওয়ার এ চলেন।

মিশান- ওকে,,,আপনি দেখছি আমার সম্পর্কিত অনেক কিছুই জানেন,,ভেরি ইন্টেলিজেন্ট! তো আপনি কে সেটা বলবেন না??আর আমার সাথে কন্ট্রাক্ট করার উদ্যেশ্য?

-বলবো বলবো, তবে আপাততো এই টুকুই বলছি আমিও আপনার বাবার লেভেল এর একজন,,, আর আপনার সাথে কন্ট্রাক্ট করার কারণ আমি আপনাকে পছন্দ করি বিয়ে করতে চাই।।।।(হেসে হেসে))

মিশান- অও রেইলি!!! আ’ম ইম্প্রেসড!! ইউর অ্যাটিটিউড!! গ্রেট, সো ক্যান আই মিট ইউ??
।।
– করবো করবো ম্যাম,,,এতো উত্তেজিত হবেন না,,সময় হলে ঠিক দেখা দিবো!

মিশান- ওকে আ’ম ওয়েটিং!,,, সো দেন গুড নাইট!!



মিশান ফোন টা রেখে দিয়ে রুমে চলে গেলো,, সাথে সাথে মিশান ল্যাপটপ নিয়ে বসলো,,ল্যাপটপ এ নাম্বার টা ট্রেস করার চেস্টা করলো,,সিম টা কোনো বিকাশের নাম্বার যে টা কারো নামে রেজিস্টার করা নেই,,,আর লুকেশন ঢাকাতেই দেখাচ্ছে,,,,,, মিশান বুঝতে পারলো মিশানের সম্পর্কিত সব ইনফরমেশন টা বাইরের কেউ দিয়েছে,,, ভেতরের কেউ দেয় নি।।।।মিশান শুধু ভাবছে কে হতে পারে!!


আর লোক টার কোনো খারাপ মতলব আছে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারলো,,





সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো সবার হৈ চৈ এর আওয়াজ এ,, তীব্র কাল রাতে ইফতির সাথেই এসেছে মামা বাড়ি,,ইফতির সব বন্ধুরা এসে গেছে,, তীব্র মানুষ টা অনেক রাগী আর জেদি হলেও ওর একটা দিক ভাল আছে,সব সময় ঠান্ডা মাথায় কাজ করে,,,হাসি মুখে সব কিছু ম্যানেজ করবে।।এমন ভাবে থাকে কেও ওকে দেখে বুঝতেই পারে না ও এতো ডেঞ্জারাস,,,,,, খুব সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে,,,,,তীব্র এটা বিশ্বাস করে কারো সাথে না মিশলে বুঝা যায় না কে কি রকম চেহারা দেখে কাওকে ১০০% জাস্টিফাই করা যায় না।




দিন কেটে যাচ্ছে বিকেলের দিকে সবাই সাজগোজ শুরু করেছে,,,,কনেপক্ষ আগেই চলে গেছে কমিউনিটি সেন্টার এ,,,পাত্র পক্ষ পরে আসলো,,কনেপক্ষ রা বরণ করে নিলো ওদের,,,,,, মিশান আজ সেই লেহেঙ্গা টা পড়েছে,,বৌদিদি নিজের হাতে মিশান কে সাজিয়ে দিয়েছে,,মিশান খুব ই হাল্কা সাজ সেজেছে,,, তবুও ওকে নজর কাড়া সুন্দর লাগছে,,,,,সাজগোছের প্রতি মিশানের কোনো ইন্টারেস্ট ই নেই,,,,মিশান এর বাবা মিশান কে দেখে পুরোই অবাক,, মিশান কে কত্ত ঠান্ডা লাগছে,,শান্ত মেয়ের মতো নীলিমার পাশে বসে আছে চুপ চাপ।।।।। যেনো ওর কোনো কিছুতে বিরক্ত লাগছে না,,,,, চারদিকে গান বাজনার আওয়াজ,,,,।




চলবে……

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 4/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।