দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 7+8
তীব্র আড়চোখে মিশান কে দেখছে,,,,ইফতি এসে নীলিমার পাশে বসলো,,ইফতি তীব্র কে ডাক দিলে তীব্র ইফতির পাশে এসে বসতে যেয়েও উঠে মিশানের পাশে বসে,,মিশান দেখেও না দেখার ভান ধরে চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছে,,,,।

সংকুচ ভেঙে তীব্র নিজে থেকেই বললো.
তীব্র- হাই!
মিশান- হ্যালো!( ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে,মৃদু স্বরে)
তীব্র- কেমন আছেন?
মিশান- আলহামদুলিল্লাহ ভাল,,আপনি?
তীব্র- সেম এজ ইউ! (লাজুক হেসে)

মিশান কেনো জানি তীব্রর সামনে লজ্জা পাচ্ছে,,কেমন একটা ফিল হচ্ছে মিশান রিয়ালাইজ করতে পারছে না,, তীব্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে মিশানকে,,,,,মিশান দেখতে আজকে খুব বেশিই সুন্দর লাগছে,,,মিশানের হাল্কা সাজগোছ তীব্রর খুব মনে ধরেছে,,,প্রথম দেখার পর থেকেই তীব্রর নজর কেড়েছে মিশান!


তীব্র কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখন ই মিশান বলে উঠলো,,

মিশান- এক্সকিউজ মি! ড্যাড ডাকছে আমি আসছি!
তীব্র- ওকে,,সি ইউ!

মিশান উঠে গেলো,, তীব্র এবার ইফতির পাশে যেয়ে বসলো,,
,
ইফতির কানে কাছে গিয়ে তীব্র বলতে লাগলো,

তীব্র- মেয়ে টা দেখতে একটু বেশিই যেনো মিষ্টি,ঠিক আমার মনের মতো,যেমন টা আমি চাই! চাপা স্বভাব এর, কথা কম বলা,লাজুক,মিষ্টি ঠোঁট আর মায়াবী তার চোখের চাহনি!!! (ব্লাশিং মুডে)

ইফতি- হুম্মম,(আড়চোখে তীব্রর দিকে তাকিয়ে))প্রেমে ট্রেমে পড়লে নাকি!!!
তীব্র-( মুচকি হেসে) আই থিংক সো!!.
ইফতি- অও মাই গড!!(বড় বড় চোখ করে)
তীব্র- বাই দি ওয়ে, ও কিসে পড়ে,,?
ইফতি- লন্ডনেই তো ওর জীবন,,, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পলিট, নাও পি এইস ডি করছে কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে…।

তীব্র- ওয়াও গ্রেট!!আমার সাব্জেক্ট নিয়ে পি এইসডি করছে!!
ইফতি- বাবাহ!!এমন ভাবে বলছো তুমি আর ও সেম এইজ!! চার বছর আগে তোমার পি এইস ডি কম্পলিট করেছো ভুলে যেও না (টিটকারি করে বললো)

তীব্র- শাট আপ ইফতি,, ( হেসে হেসে)))…..


মিশান দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তীব্র কে দেখছে, ওর হাসিটা দেখতে খুব বেশি ভাল লাগছে, খুঁচা খুঁচা দাড়ি, সরু লম্বা নাক, ছেলে আন্দাজে ভ্রু টা খুব বেশি মোটা না, চোখটা লেডি কিলারের মতো,দাঁতে গুলো হাল্কা কুঁকড়ানো বলে হাসি টা এতো বেশি সুন্দর তীব্রর,,
মিশান নিজেও জানে না ও তীব্রর দিকে তাকিয়ে আছ।।

এদিকে নীলিমাকে ইফতি সব টা খুলে বলেছে,,নীলিমা খুব ভয় পাচ্ছে,,, ব্যাপার টা নিয়ে,ইফতিকে নীলিমা বুঝানোর চেষ্টা করলো এটা কোনো ভাবেই সম্ভব না,মিশান চাই তার লাইফ পার্টনার একজন মাফিয়াই হোক ঠিক ওর লেভেল এর,,এদিকে তীব্র চাই ওর লাইফ পার্টনার হোক একদম তীব্রর থেকে আলাদা,,সাদাসিধে আর মিষ্টি মেয়ে!

হিসেব কিছুতেই মিলছে না,তীব্র ঠিক যতটা ঠান্ডা মেজাজ এর ঠিক এর থেকেও হিংস্র রূপ নিতে পারে,ঠান্ডা মাথায় ও মানুষ মারে,যদি জানতে পারে মিশান একজন মাফিয়া তবে ও মিশানের প্রতি ওর ফিলিংস গুলো কে মেরে ফেলতে এক সেকেন্ড টাইম নেবে না !!!


।।

ইফতি নীলিমাকে টেনশন করতে না করলো।।যা করার অই হ্যান্ডেল করে নিবে বলে দিলো।


হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে,,সব আত্তীয়স্বজন রা এসে গেছে,,, কনে পক্ষ বর পক্ষের সবাই হাজির।।।।


মিশানের কাজিন রা একটা ঝুড়ি তে লটারির মতো কাগজ দিয়ে ভরেছে,,,যার মধ্যে কোনো টাই আছে, নাচ,গান, কৌতুক, অভিনয়, র‍্যাম্প শো, ইত্যাদি,,, যার ভাগ্যে যা পড়বে সে সেটাই করবে।

একে একে প্রায় সবার পালা হতে লাগলো,কেউ নাচছে তো কেউ অভিনয়, খুব বেশি মজা হচ্ছে,বড়দের ও বাদ রাখে নি।।।।নিলয় দাদা আর বৌদিদি এক সাথে নেচেছে, এমন সময় পালা এলো তীব্রর, তীব্র কে লটারি নিতে বলা হলে তীব্র নিতে চায় না, তীব্র কে জোড় করে লটারি হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়,আর লটারি তে যা ছিলো সেটা দেখে সবাই ই অবাক,,সেখানে শর্ত ছিলো মিশানের সাথে নাচতে হবে,,,নীলিমার কলিজার পানি ঠান্ডা হয়ে গেছে এটা শুনে,,ওদের বাড়ির সবাই ই হা হয়ে গেলো,,মিশান অনেক টা শকড খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো,এটা ভেবে কার এতো বড় সাহস হলো এই শর্ত টা লেখার মিশান কে নিয়ে!! মিশানের বাবা বুঝতে পেরে,, মিশানের পাশে দাঁড়িয়ে মিশান কে বললো!

রাইয়ান খান- বাবা মিশান প্লিজ রাগ করো না,, যে করেছে সে তো মজা করার জন্য করেছে,, বাবা প্লিজ সিন ক্রিয়েট করো না,,আর তুমি তো নাচ পারো।।।।আগে তুমি কত্ত নাচানাচি করতে,,,,প্লিজ বাবা না করো না যাও বাবা,,(অনুনয় স্বরে বললো)


মিশান চোখ গরম করে বাবার দিকে তাকালো চোখ দুটো রাগে টগবগ করছে,,কিন্তু এদিকে তীব্র ওর তো শরীল ঠান্ডা হয়ে আসছে,,ও তো নাচ পারে না কিভাবে নাচবে!!



মিশান এসে তীব্রর সামনে দাঁড়ালো,,,।
তীব্র মিশানের কানের কাছে যেয়ে বললো।।
তীব্র- আমি না নাচ পারি না, আপনি একটু কষ্ট করে হ্যান্ডেল করে নিবেন প্লিজ!!
মিশান- আই উইল ট্রাই ( তীব্রর চোখের দিকে তাকিয়ে))
.
.
.গান বেজে উঠলো একটা ইংলিশ এভারগ্রিন গান,,
Take me to your heart! take me to your soul … 🎶🎶🎶🎶🎶

গানের সাথে তাল মিলিয়ে নাচতে লাগলো তীব্র মিশান,সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখছে ওদের নাচ,,,,নাচের একটা স্টেপে তীব্রর মিশানের কোমর জড়িয়ে ধরতে হয়,কোমরে হাত পড়তেই মিশান কেঁপে উঠে,,,,,প্রথম কোনো ছেলে মিশান কে এভাবে ধরেছে,, মিশানের হৃদস্পন্দন কেনো জানি ফল্ট করছে ,,, বুকের ভেতর যেনো ধরপাকড় চলছে ক্রমাগত,, একই অবস্থা তীব্রর ও হচ্ছে,একটা পর্যায় গান শেষ হয়ে গেলো,কিন্তু মিশান আর তীব্র দুজনের এক ঘোরের মধ্যে আছে, এক জনের চোখের মধ্যে ডুবে আছে আরেক জন,মিশানের হাত টা তীব্রর বুকের সই ব্লেজার ধরে আছে,,আর তীব্রর হাত মিশান এর কোমরে,,চারপাশ থেকে হাত তালির আওয়াজ আসতেই দুজনের ঘোর কাটলো,,মিশান থমকে গিয়ে, ছিটকে দূরে সরে গেলো,, তীব্র মিশানের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।।আর মিশান তীব্রর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে পিছনের দিকে পিছিয়ে যাচ্ছে , তীব্র মিশানের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে পিছনে ঘুরে ইফতির পাশে যেয়ে বসলো।।


ইফতি- কি ভাই পুরো ফাটিয়ে দিলে তো!!দুজনকে কিন্তু হেব্বি লাগছিলো,,আর ডান্স তো লা জাবাব!!

তীব্র ইফতির দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসি হেসে দিলো,এরই মধ্যে মিশান গার্ডদের রেখে একছুটে সবার থেকে বাইরে চলে এলো,,মিশানের বাবা তা লক্ষ্যে করলো,মিশানের পিছু নিতেই মিশান বাইরে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে লাগলো মিশানের বাবাও মিশানকে ফলো করতে লাগলো,,,,,

আর এদিকে তীব্রর এক গার্ড প্রিতম এসে তীব্রর কানে কানে কিছু একটা বলতেই,,তীব্রর চোখে রাগের শিখা ফুটে উঠলো,,ইফতি কে তীব্র কাজের ছুতো দিয়ে বেরিয়ে চলে এলো,,,,তীব্র প্রিতম পলাশ আরো কিছু গার্ড সবাই বেরিয়ে পড়লো গাড়ী নিয়ে।



মিশান গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো,,, এক ছুটে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো,,রুমে ডুকেই আয়নার সামনে যেয়ে দাঁড়ালো,, নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে,,

মিশান- না মিশান এটা তুই না,, বি কেয়ারফুল মিশান এন্ড কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ,,, কাম ডাওন মিশান কাম ডাওন ইউর অওন মেন্টালিটি এন্ড মাইন্ড,,(দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলছে),,,,,,দ্যাট ওয়াজ ইন দি মিরর, ইটস নট ইউ,,,, ইউ আর এ মাফিয়া , ইউ আর হার্টলেস ইমোশনলেস,,এ ইয়াং গ্যাংস্টার,, অর নাথিং!নাথিং নাথিং নাথিং!!!


চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে মিশান,,,হঠাৎ করেই মিশান ডিসিশন নিলো মিশান এখনি লন্ডনে ব্যাক করবে এখানে এক সেকেন্ড ও থাকবে না,,, ভেবেই গা থেকে অরনামেন্স গুলো খুলতে লাগলো এরই মধ্যে মিশানের বাবা এসে মিশানের রুমে নক করলো,,মিশান ওর বাবা কে ভেতরে আসতে বললো।।।


রাইয়ান – কি করছো বাবা,,অনুষ্ঠান তো শেষ হয় নি এখনো, এভাবে চলে এলে যে?(প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
মিশান- আই উইল গো ব্যাক ড্যাড, আই কান্ট স্টে মোর, ইন বাংলাদেশ!
রাইয়ান – বাবা কি হয়েছে তোমার,,এরকম কথা বলছো কেনো? প্লিজ এমনটা করে না! বাড়ির সবাই মন খারাপ করবে, ,বাড়ির সবার কথা ভাবো একটা বার প্লিজ,

মিশান- ড্যাড,( একটা নিশ্বাস ছেড়ে))
রাইয়ান- বলো ড্যাড?
মিশান- তুমি জাস্ট এই টুকুও বলো, এক্সাক্টলি তুমি চাইছো টা কি বলো আমাকে?? (দাঁতে দাঁত চেপে)
রাইয়ান- আমি জাস্ট এই টুকুই চাই, তুমি বিয়েটার অনুষ্ঠান এর শুরু থেকে শেষ অব্দি উপস্থিত থাকো,, দ্যাটস ইট,,দেন তুমি বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে ব্যাক করো আমার কোনো আপত্তি নেই, তোমাকে আর কোনো দিন আমি বাংলাদেশ আসার কথা বলবো না,

মিশান- ওকে ফাইন,,দেন এটা বলো,,এসব সার্কাস এ এটেন্ড করে তোমার কি লাভ??(রাগীস্বরে)
রাইয়ান – বাবা তুমি কি বলছো এসব(উত্তেজক স্বরে)

মিশান- ইয়াহ,আই সি।।।ইউ হ্যাভ নো এন্সার ওকে নো প্রব্লেম।।। এখানে থেকে তোমার কি লাভ হচ্ছে আমি জানি না,তোমার একটা বুড়ো বাবা আছে ভাই আছে, একটা হোল ফ্যামিলি আছে,, তার জন্য না হয় তুমি রইলে,, বাট আমার তো এখানে থেকে কোনো লাভ হচ্ছে না, উল্টো ক্ষতিই হচ্ছে।।এখানে এত্ত এত্ত মানুষ এদের হৈচৈ এর সাউন্ড এ আমার মাথা শেষ,তারপর বিভিন্ন স্টেপ এ বিভিন্ন রিচুয়াল মেন্টেন করা।।তার মধ্যে এরকম একটা (নিজের দিকে দেখিয়ে)))সং সেজে ঘুরাফেরা,,আম জাস্ট ফেড আপ ড্যাড,আই কান্ট টেক এনি মোর।।

রাইয়ান – না বাবা একটু মাথা টা ঠান্ডা করো,,এমন কথা বলো না।।ড্যাডের দিকে তাকিয়ে অন্তত! আর দুটো দিন সেক্রিফাইস করো প্লিজ বাবাই,,,,,(নরম স্বরে))


মিশান অনেক বেশি অবাক ওর বাবার আচরণ দেখে,,এতো টা মিনতি করে কখনোই বাবা কথা বলে না,,এতক্ষণ ধরে এভাবে ঠান্ডা মাথায় কথা বলার ও কথা না, একটু তেই রেগে যায় বলে সে কথা বন্ধ করে চুপ করে সরে যায়,অথচ বাংলাশে আসার পর থেকে খুব মিনতি করে কথা বলে,, মিশানের মাথায় ডুকছে না,,,এদিকে মিশানের এখান থেকে চলে যাওয়ার কারণ টাও মুখ ফুটে বলতেও পারছে না,,চোখ বন্ধ করলেই তীব্রর কথা মনে পড়ে,বাবার আচরণ গুলো ভিন্ন হওয়াই মাথা কাজ করছে না মিশান এর,, কথা না বাড়িয়ে মিশান ফ্রেশ হতে চলে গেলো,,,,,,মিশানের বাবা মিশান কে অনুষ্ঠান এ সাথে করে নিয়ে যায়,,,, মিশান চুপচাপ বসে আছে একটা চেয়ারে, কপালে হাত দিয়ে কিছু একটা ভাবছে,, নাচ গান শেষে সবাই হলুদ দিতে লাগলো বর কনে কে,, এরই মধ্যে তীব্রও এসে পড়লো,,এতো এতো মানুষের মধ্যে তীব্রর চোখ শুধু মিশানকেই খুঁজছে,,, হঠাৎ পলাশ জানালো মিশান একটা নিরিবিলি জায়গায় বসে আছে,, তীব্র মিশানের কাছে যেয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়ে বললো।।।

তীব্র- ক্যান আই সিট হেয়ার?
মিশান- সিউর!

তীব্র চেয়ার টেনে বসলো,,

তীব্র- মন খারাপ??
মিশান- নাহ, জাস্ট মাথা টা একটু ব্যাথা করছে.
তীব্র- ওহ আচ্ছা,,তো পড়াশুনার কি অবস্থা?
মিশান- (তীব্রর চোখের দিকে তাকিয়ে) জি ভাল,একটা কথা বলবো?
তীব্র- ইয়াহ সিউর!
মিশান- নীলিমা আপু বলছিলো আপনি ইফতি ভাইয়ার সমান সমান সো আপনি তো আমার থেকেও বড়,তাই আমাকে আপনি করে বলবেন না প্লিজ,তুমি করে নাম ধরেই ডাকবেন।
তীব্র- ওকে, নো প্রব্লেম, আসলে পারমিশন ছাড়া কাউকে নাম ধরে ডাকা প্লাস তুমি করে বলা টা আমার ডিকশনারি তে নেই, তাই আর কি।
মিশান- ইটস ওকে।।।তো আপনি বিয়ে করছেন কবে?
তীব্র- মেয়ে মিলছে তাই বলতে পারছি না এক্সাক্টলি।।।
মিশান- মেয়ে মিলছে না আপনার!!!!কি বলছেন।। আপনি দেখতে এতো সুন্দর প্লাস আপনার চালচলন একদম পারফেক্ট আর আপনি কোনো মেয়ের দিকে তাকালে তো এমনি এমনি পটে যাবে , কিছু বলতেও হবে না, এমনি এমনিই মেয়ে রা আপনার পিছু নেবে!

তীব্র- একটু বেশিই প্রশংসা হলো না? ( ভ্রু কুঁচকে হেসে দিয়ে)
মিশান- নো ইটস রেইলি ট্রু!!(উত্তেজিত কন্ঠে)
তীব্র- ওকে আই সি,,বাট আমার মিলছে না আই মিন মন মতো পাচ্ছি না।।। পেলে সাথে সাথেই বিয়ে করে ফেলব,

মিশান- সাথে সাথেই!!?
তীব্র- ইয়াহ,,আমার এসব হৈ হুল্লোড় করে বিয়ে করা পছন্দ না,,,আমার বউ কে সবাই ফ্রি তে দেখে মজা নিবে, আই ডোন্ট লাইক দিস।।যাকে পছন্দ হবে সাথে সাথে বিয়ে করে ঘরে তুলবো।।
মিশান- ও আচ্ছা,,( কেমন মেয়ে পছন্দ জিজ্ঞেস করবো কি!না থাক,কি মনে করবে আবার,,,মনে মনে,,, )))
তীব্র- তারপর তুমি বিয়ে করছো না কেনো?
মিশান- সেম! আমারো,, মন মতো মিলছে না।।
তীব্র- গ্রেট,,(বাঁকা হাসি দিয়ে) ( কেমন ছেলে পছন্দ এক বার জিজ্ঞেস করবো কি!!না থাক….. মনে মনে))
.

এরই মধ্যে এক সার্ভেন্ট এসে মিশান আর তীব্র কে কফি দিয়ে গেলো,, দুজনে বসে অনেক গল্প করছে আর কফি খাচ্ছে,,এদিকে সবাই বর কনের গায়ে হলুদ তো লাগাচ্ছেই সাথে নিজেরা নিজেরা হলুদ জড়াজড়ি করে মজা করছে,,মিশান আর তীব্র কথা বলতে বলতে অনুষ্ঠান এর দিকে যাচ্ছে,,মিশান অনেক টাই ফ্রি লি তীব্রর সাথে গল্প করছে,,অনেকটাই মিশে গেছে ওরা দুজন,,সবার মাঝখানে যেতেই মিশানের এক কাজিন এসে তীব্রর গালে আচমকা হলুদ লাগিয়ে দিলো,,তীব্র আড়চোখে দেখেও কিছু বললো না,, মিশান অনেক টা রেগে গেলো তীব্রর গালে হলুদ লাগানো হয়েছে বলে,,উল্টো তীব্র বললো,,

তীব্র- আচ্ছা ঠিক আছে এতো রাগ করতে হবে না , (হেসে হেসে)) মজা করে দিয়েছে একটা একটা একটু মজা তো করবেই বিয়ে বাড়ি,,
মিশান -হুম,বাট!
তীব্র- কোনো কিন্তু নয়, বাই দি ওয়ে আপনি তো আমার সম্পর্কে বেয়ান লাগেন তাই না?
মিশান- মে বি.!
তীব্র- বিয়ে বাড়ি বেয়ান এর সাথে তো মজা করা যায় তাই না?? (ডেভিল স্মাইল)))
মিশান- মা মানে!
তীব্র এক চোখ টিপ দিয়ে ডেভিল স্মাইল দিয়ে নিজের গালে থেকে হলুদ হাতের আঙুল এ নিয়ে নিলো, এদিকে মিশান বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে! তীব্রর দিকে বড় বড় করে তাকিয়ে আছে,তীব্র হলুদ নিয়ে মিশানের গালে লাগিয়ে দিলো,, এমন সময় মিশানের চোখ আটকে যায় অন্য কিছু তে,তীব্রর হাতের কব্জি তে রক্ত লেগে আছে কিছু টা,, মিশান এটা ভালভাবেই দেখতে পাচ্ছে,,,তীব্র কে বলতে যেয়েও বললো না,,কিছু টা সন্দেহ হলো,,মিশান স্বাভাবিক ভাবেই তীব্রর সাথে কথা বলে যাচ্ছে।।।।।।

চলবে……
.
#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 8
মিশান তীব্রর সাথে কথা শেষ করে,, ওর বাঙালি গার্ডদের কাছে যেয়ে,তীব্রর দিকে দেখিয়ে বললো,
মিশান- এর ফুল ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফরমেশন আমার চাই, আজ রাতের মধ্যেই।।।
-ওকে ম্যাম,,,

মিশান আড়চোখে তীব্রকে দেখছে আর পর্যবেক্ষণ করছে, তীব্রর ব্যাপার টা নিয়ে মিশান খুব ভাবছে!
তীব্রকে দেখে পুরোটাই কেমন জানি রহস্যময় লাগে,,আরেক দিকে তীব্রর কাছে গেলেই কেমন একটা ফিল হয় ভিতরে, যা অন্য কারো জন্য হয়নি কোনোদিন ।।।। এই প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ মিশান পেলো,, মিশান সব সময় পুরুষের থেকে দূরেই থাকে,পুরুষের সঙ্গ ওর পছন্দ না,যার কারণে মিশানের প্রতিটি গার্ড প্লাস কেয়ার টেকার সব গুলো মেয়ে,,এদিকে তীব্রর ধারণারও বাইরে মিশান একটা মাফিয়া,,তীব্রর ধারণা মিশান একটা সাদাসিধে মেয়ে,ভদ্র মিষ্টি একদম তীব্র যেমন মেয়ে চায়,,তীব্র ঠিক বুঝতে পারছে না ও মিশানকে ভালবেসে ফেলেছে কি না,,এদিকে মিশানের ও একি কনফিউশন,,তীব্র কে না আবার ভালবেসে ফেলে!


গায়ে হলুদের রাত কেটে পরের দিন এসে গেলো বিয়ের দিন,,সবাই সকাল থেকে খুব হৈচৈ করছে।।।ঘুম ভাঙতেই সেফা এসে মিশানকে জানালো তীব্রর ফুল ইনফরমেশন ,, মিশান অনেক টা বাঁকা হাসি হাসলো,,হয়তো তীব্র ওর মন মতো মিলে গেছে! আর এদিকে ইফতি বার বার তীব্রর থেকে জানার চেষ্টা করছে,ও মিশানকে পছন্দ করে কি না,,মিশানের গুণগান গেয়ে চলছে তীব্রর কানের কাছে,, তীব্র হাসবে না কাঁদবে ঠিক বুঝতে পারছে না ইফতির পাগলামি দেখে,,,তীব্র আলাদা করে মিশানের ব্যাপার এ কিছু জানার চেষ্টা করে নি,,মিশানের কোনো কাজ ই সন্দেহজনক লাগে নি,



এদিকে সেই বিরক্তিকর আননোন নাম্বার থেকে আবারো মিশানকে বিরক্ত করে যাচ্ছে।মিশান এবার অসহ্য হয়ে লোকটিকে দেখা করতে বললো।

।।
সকাল থেকেই সবাই সাজগোছ শুরু করেছে এদিকে মিশানের এসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথাই নেই,,ঘুরে ঘুরে সবার সাজগোছ দেখছে,,,

বৌদিদি- মিশান তুমি কি এভাবেই যাবে নাকি???সাজগোছ এর খবর নেই,,সবাই কখন থেকে রেডি হওয়া শুরু করেছে?

মিশান- বৌদিদি,,আমি কার জন্য সাজবো বলো তুমি সাজলে নিলয় দাদা তোমায় দেখবে, নীলিমা আপু সাজলে ইফতি ভাইয়া দেখবে,রাফা সারা ইতু ওরা সাজলে ওদের বয়ফ্রেন্ড দের পিক তুলে দেখাবে,, বাট আমি কাকে দেখাবো কার জন্য সাজবো বলো?( মজার ছলে)

বৌদিদি- আহা রে! আমার ননদিনীর কত কষ্ট,, তা নন্দাই একটা খুঁজবো নাকি??(দুষ্টু হাসি দিয়ে)

মিশান- নাগো বৌদিদি আমি নিজেই খুঁজে নেবো নি,,,আর সাজুগুজু সেদিন ই করবো নি।।

বৌদিদি- মানে তুমি এখন সাজবে না??
মিশান- আমার রেডি হতে টাইম লাগবে না, সেফা..(বলে ডাক দিলো)
,
সেফা- ইয়েস ম্যাম।।
মিশান- এক কাপ কফি আনো।( বলেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলো))
সেফা- সিউর ম্যাম।।


বৌদিদি- মিশান ভাল হবে না কিন্তু বলে দিচ্ছি যাও রেডি হয়ে নাও।।
মিশান- আচ্ছা আমি কি বলেছি আমি রেডি হবো না, হবো তো।।। কফি টা খেয়ে নেই??আমার টাইম লাগবে না।।
বৌদিদি- সিউর তো??
মিশান – একদম।।



বৌদিদি চলে গেলো মিশানের রুমে থেকে।।
মিশান কফি টা খেয়ে নিলো,,,কিছুক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালো।।।।,,

একটা শাড়ি ব্ল্যাক কালারের, হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে,,শাড়ী টার আঁচল ব্লু কালার,আর বাকিটা ব্ল্যাক,, শাড়ী টা খুব ই সিম্পল বাট দেখতে খুব সুন্দর,, মিশান শাড়ী টা পড়ে নিলো, চোখে হাল্কা কাঁজল আর ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক দিলো যদিও মিশানের ঠোঁট এমনিতেই গোলাপি, লিপস্টিক টা দেয়াই বুঝা যাচ্ছে না,, আর লম্বা চুল গুলো আলগাই রাখলো,,আর কোনো সাজ সাজলো না,,রাফা এসে মিশানকে জোড় করে হাতে অনেক চুলো নীল চুড়ি পড়িয়ে দিয়ে গেলো,,, তা ছাড়া আর কোনো সাজ মিশানকে কেউ সাজাতে পারলো না,,মায়ের মারা যাওয়ার আগে যে লকেট আর চেইন টা মিশানের গলায় পড়িয়ে দিয়েছিলো মিশান সেটা আজ অব্দি খুলে নি আর এর উপর দিয়ে কোনো অরনামেন্স ও পড়ে নি,,,,,মিশান এমনিতেই অনেক লম্বা,শাড়ি পড়ায় ওকে আরো বেশি লম্বা লাগছে,,,,সবাই মিশানকে অবাক হয়ে দেখছে,,মিশানকে দেখতে খুব ই সুন্দর লাগছে,,এদিকে নীলিমা এমনিতেই একটা মিস্টি মেয়ে,,বৌ সাজাতে ওকে যেনো হুর পরীর মতো লাগছে,,অসম্ভব সুন্দর লাগছে!!




সবাই ইফতি কে বর বানানো তে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে,,ইফতি কে রেডি করে দিয়ে ইফতির বন্ধুরা ওর সাথে ছবি তুলা নিয়ে ব্যাস্ত।।।। আর তীব্রর কোনো হুদিস নেই,,ইফতি ফোনের উপর ফোন করে যাচ্ছে।।।সেই সকাল থেকে তীব্র বাড়িতে নেই,,গার্ড নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে,,,,,ফোন দিতে দিতে হয়রান, কিন্তু তীব্র ফোন রিসিভ করছে না,দুপুর এর দিকে তীব্র বাসায় এসে হাজির হলো ইফতির সামনে,,,ইফতি রেগে আছে চরম ভাবে,,তীব্র বুঝেছে সেটা ভালো ভাবেই,,,

তীব্র- বিয়ের বর বিয়ে করতে যাবে আর এরকম লাল দেখাচ্ছে কেনো!!মরিচ খেয়েছো নাকি?
ইফতি- কোথায় ছিলে,রেডি হবে কখন??৫ মিনিট এর মধ্যে রেডি না হলে??
তীব্র- রেডি না হলে??(ভ্রু কুঁচকে)
ইফতি- আমি বিয়ে করতে যাবো না !!

তীব্র- (একটা নিশ্বাস ফেলে),,ইফতি! তুমি জানোই তো আমার পেশা টা কি।।এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকাটা আমার পক্ষে সম্ভব না,,,

ইফতির বাবা(পেছন থেকে)- হ্যাঁ তা তো হবেই না,,ইফতি তো আর নিজের ভাই না,, মামাতো ভাই,, তার জন্য কি আর সময় হবে( রাগীস্বরে)

তীব্র- যেখানে আমার বাবার মতো একটা মামা পেয়েছি সেখানে আমার ভাই টাকে আলাদা করে দিলে মামা??

মামা- তা নয়তো কি? এখন আসার সময় হলো তোমার?যখন তখন বেপাত্তা হয়ে যাও তুমি।(অভিমান করে)।

ইফতি- ওকে ওকে আমরা কথা না বাড়াই,এবার তীব্র প্লিজ ভাই রেডি হয়ে আসো,, লেট হয়ে যাচ্ছে আমাদের বেড়িয়ে যেতে হবে।।।

তীব্র- ওয়েট জাস্ট টেন মিনিট।।


তীব্র তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো।।।একটা ব্লু কালারের শার্ট আর তার উপর ব্ল্যাক কালারের ব্লেজার।। দেখতে কি দারুন ই না লাগছে।।। মাঝারি চুল গুলো হাল্কা জেল দিয়ে পিছনে এলিয়ে দিয়েছে,,,দেখতে আজ তো পুরোই ড্যাশিং হিরো অওহ সরি ভিলেন লাগছে! ! বিয়ে বাড়ির আজ সব কটা মেয়ে তীব্রর পিছু লাগবে!


বরযাত্রী বেরিয়ে গেলো সেন্টারের উদ্যেশে,, কনেযাত্রী ও বেরিয়ে গেলো,, সবাই সময় মতো চলে আসলো, নীলিমা আর ইফতিকে পাশাপাশি বসানো হলো সোফায়,,যার পুরোটাই ফুল দিয়ে সাজানো,,,,মিশান নীলিমার পাশে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকা তাকি করছে,যেনো কাউকে খুঁজছে, , সে আর কেউ নয়,মিশানের চোখ তীব্রকে খুঁজছে,,, হঠাৎ মিশান থমকে গেলো তীব্র ফোনে কথা বলতে বলতে আসছিলো ওদের দিকেই কিন্তু তীব্র এখনো মিশানকে খেয়াল করেনি,,,কথা বলতে বলতে তীব্রর সামনে মিশান পড়ে গেলো, তীব্রর চোখ আটকে গেলো মিশান কে দেখে,,অপলক হয়ে মিশানকে দেখছে,আর মিশান তো সেও কখন থেকে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে তীব্রর দিকে,,,তীব্রর কানে ফোন কিন্তু তীব্রর সে দিকে কোনো ধ্যান ই নেই,ফোনের ওপাশ থেকে হ্যালো হ্যালো করছে,,অনেক্ষণ পর ওপাশ থেকে ফোন কেটে আবার কল করতেই তীব্র মিশান কল রিংটোন এর আওয়াজে হুশে ফিরে!!

তীব্র- আই কল ইউ ব্যাক( ফোন রিসিভ করে)


এবার মিশান এর দিকে তাকিয়ে বললো।।।
তীব্র- ইউ আর লুকিং সো বিউটিফুল মিশান,
মিশান- থ্যাংকস,,(আস্তে করে)
তীব্র- বাট সামথিং ইজ মিসিং!!!(চোখ কুঁচকে তাকিয়ে)
মিশান- হোয়াট?!
তীব্র- ইউর স্মাইল!
মিশান- (কিছু না বলেই মুচকি হেসে দিলো,)
তীব্র- হুম,নাও ইউ আর লুকিং পারফেক্ট!! 😍
মিশান- থ্যাংক ইউ,,,এন্ড ইউ আর লুকিং সো ড্যাশিং,, বি কেয়ারফুল ওকে!
তীব্র- হোয়াই??(ভ্রু কুঁচকে)
মিশান- বিয়ে বাড়ি তো,, তাই বলা যায় না, এরকম একটা হ্যান্ডসম ড্যাশিং ছেলে সামনে দিয়ে ঘুরবে আর মেয়ে রা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে?,যে কোনো সময় যে কেউ ঘাড়ে ঝুলে যেতে পারে!!!(হাল্কা হেসে)
তীব্র- অও রেইলি!!!!
মিশান- ইয়াহ!
তীব্র- বাট আমি নিজেই যদি কারো ঘাড়ে ঝুলে যাই?? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
মিশান- তাহলে তো হলোই,,,আর যে মেয়েকে আপনি পছন্দ করবেন সে তো মাস্ট আপনি বলার আগেই রাজি হয়ে যাবে.. ।
তীব্র- অও শাট আপ,একটু বেশিই প্রশংসা করে ফেলছো তুমি!!
মিশান- বিলিভ না হলে ট্রাই করে দেখতে পারেন,,আমি ভুলভাল কথা বলি না, যা বলি তাই ই সত্যি হয়,,,,
তীব্র- রেইলি??
মিশান- ইয়াহ অফকোর্স,,
তীব্র- ওকে আই উইল ট্রাই ইট,,
মিশান- ওকে,,
তীব্র- ভেবে বলছো তো??
মিশান- কেনো?
তীব্র- এমনও তো হতে পারে, তোমার ঘাড়েই ঝুলে গেলাম(খিল খিল করে হেসে দিয়ে)
মিশান- আগে ট্রাই করে তো দেখুন, পরের টা পরে দেখা যাবে!
তীব্র- ওকে ওকে,,,,,




হৈ চৈ চলছে বিয়ে বাড়ি,,সন্ধ্যার দিকে বিয়ে পড়ানো হলো নীলিমা আর ইফতির,, একে অপরে মালা বদল করলো,,মালা বদলের সময় মিশান ছিলো নীলিমার পাশে আর তীব্র ছিলো ইফতির পাশে,,যখন নীলিমা ইফতি মালা বদল করলো সবাই হাত হালি দিয়ে উঠলো এক সাথে,,এদিকে তীব্র মিশানের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে হেসে দেয়,,মিশানও তীব্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দেয়,,,,
,
,
ইফতি আড়চোখে সব দেখছে,,, তীব্রকে আলাদা করে নিয়ে ইফতি তীব্রকে বললো,

ইফতি- দেখো সত্যি করে বলো,, তুমি মিশান কে পছন্দ করো??
তীব্র- কি যা তা বলছো তুমি!
ইফতি- লুকাবে না বলে দিলাম,শিকার করো,,আমি কাল থেকে ভাল ভাবে খেয়াল করছি তুমি ঘুরে ফিরে মিশানের আশে পাশে দিয়েই যাচ্ছো, ওর সাথে কথা বলছো,, আবার মুচকি মুচকি হাসছো ওর দিকে তাকিয়ে,, তুমি তো আর সবার মতো না,মেয়েদের সাথে কথা বলা, তাদের দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকানো এসব তো কোনো দিন ই ছিলো না তোমার মধ্যে!!

তীব্র- ইফতি,(মাথার পেছনে হাত দিয়ে চুলকাতে চুলকাতে)
ইফতি- বলো
তীব্র- আই থিংক ( লাজুক হেসে দিয়ে)
ইফতি- হোয়াট?
তীব্র- ইয়াহ,আই থিংক, শি ইজ পারফেক্ট এজ এ লাইফ পার্টনার !
ইফতি- রেইলি!!!(হেসে দিয়ে উত্তেজিত স্বরে)
তীব্র- আই থিংক,,, ওর প্রতিটা কথা আমার মন ছুঁয়ে যায়,,সব সময় যেনো আমার চোখ দুটো ওকেই খুঁজে,, আই নো ইটস হ্যাপেন্ড ভেরি আর্লি, বাট আই ওয়াজ স্টিল রিয়ালাইজ,, আই জাস্ট লাভ হার, এন্ড আই ওয়ান্ট হার,ফর মাই লাইফটাইম পার্টনার,,,


ইফতি- তাহলে লেট করো না প্লিজ,,প্রপোজ টা করে ফেলো(উত্তেজিত স্বরে)


তীব্র- করবো!!! বাট কিভাবে করবো বুঝতে পারছি না!! ,।
ইফতি- আজ রাতেই করে ফেলো,,
,
তীব্র- আজ রাতেই?

ইফতি- হ্যাঁ,যা বলার আমি বলে দিবো,,
তীব্র- বাট ইফতি ও যদি রাজি না হয়!!তখন তো আমার মাথায় রক্ত উঠে যাবে, আর আমি ওকে মেরেই ফেলবো!

ইফতি- আরে না না, তা হবে না।।। আমার ভাই কাউকে পছন্দ করবে, আর সেই মেয়ে করবে না, এটা হয় নাকি,!!….আই থিংক মিশানও তোমাকে পছন্দ করে!

তীব্র- দেখি কি হয়,!! বাট আজ রাতে না আমার টাইম লাগবে,

ইফতি- কি বলছো, সময় লাগবে মানে??মিশান লন্ডনে চলে যাওয়ার পর বলবে??(রাগীস্বরে)

তীব্র- আরে না তা না।।।
ইফতি- কোনো কথা না, আজ এক্ষুনি বলবে,,আমি মিশানকে ডেকে আনছি,ওয়েট,,,

বলেই আর ইফতি দেরি করলো না,মিশানকে খুঁজতে লাগলো,,বাট মিশানকে কোথাও দেখছে না,,যাকেই জিজ্ঞস করছে কেউ বলতে পারছে না মিশান কোথায়,,,ইফতি বাইরে গার্ড পাঠালো, মিশানকে তাও পেলো না খুঁজে,,, এবার তীব্র বেড়িয়ে এলো মিশানকে খুঁজতে,,,


কমিউনিটি সেন্টার টা পুরোটাই সাজানো, বিশাল এড়িয়া টাও আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো,,, রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে মিশান,আলোকসজ্জার শেষ প্রান্তে প্রায়,মিটিমিটি আলোতে মিশানকে বুঝা যাচ্ছে না দূর থেকে,শুধু মনে হচ্ছে কেউ এক জন হেটে যাচ্ছে,,,, মিশান একটা মোড়ের সামনে দাঁড়ালো,, আর একটা হাইস থেকে দুজন লোক বেড়িয়ে এলো,তাদের পেছন থেকে একজন কালো কোট পড়া সানগ্লাস চোখে দেয়া, মিডিয়াম হাইট এর একজন লোক বেড়িয়ে এলো,,গায়ের রঙ কালো, মাথায় তেল বা জেল কিছু একটা দিয়েছে যার জন্য চিক চিক করছে,,,

-হাই বিউটিফুল!
মিশান- হাই!
– তুমি সাজলে এতো সুন্দর লাগে জানতাম নাহ, মনে হচ্ছে আজ ই তোমায় বিয়ে করে ফেলি,মিস লন্ডন!! ( মিশানের কাছে যেতে যেতে)
মিশান-অওহ,আমাকে পাওয়ার খুব শখ তোর তাই না??
.
– ইয়াহ বেবি,,,আই জাস্ট ফল্ট ইউর সেক্সি মুড এন্ড ইউর চার্ম,,আই ওয়ান্ট এট এনি কস্ট!

মিশান- বুকের পাটা আছে!( ডেভিল স্মাইল)
– বুকের পাটা তো তোমার আছে মনে হচ্ছে, তুমি একা একটা মেয়ে আমার সাথে একা দেখা করতে এসেছো!!ভালোই করেছো,আমার কাজে সুবিধা করে দিলে!!।
মিশান- হোয়াট( রাগীস্বরে)

– তোমাকে শাড়ি তে হেব্বি সেক্সি লাগছে,,( বলতে বলতে মিশানের শাড়ির আঁচল ধরে ফেললো)

মিশান- হুমহ,,শাড়ীর ভাঁজে শুধু নারীই থাকে না ( ( আঁচল টা হাতে থেকে ছাড়িয়ে),,,তোদের মতোও কুকুরদের যম ও থাকে!!.

বলেই মিশান পিস্তল বের করলো,,একদম অই লোকটার কপালে তাক করলো,,,।

– খেলনা বন্দুক দিয়ে আমাকে ভয় দেখাচ্ছো!! হা হা হা….
মিশান সাত পাচ না ভেবে কারেন্ট এর গতিতে একটা গুলি বসিয়ে দিলো লোকটার পেছনের একজনের বুকে সাথে সাথে সে মাটিতে নুয়ে পড়লো,,

মিশান- Now???(লোকটার কপালে বন্ধুক রেখে)
– প্লিজ এমন কিছু করো না!!,,
মিশান- নাম?(রাগীস্বরে)
-ফারুক মিয়া!(ভয়ে ভয়ে)
মিশান- বাড়ি?
– ধানমন্ডি!(ভয়ে ভয়ে)

আমার পিছু নিয়েছিস কেনো??
মালোশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময়,এয়ারপোর্ট এ তোমাকে দেখেছিলাম,প্রথম দেখাই ভাল লেগে গেলো, খুঁজ নিয়ে দেখলাম তুমি নিলয় খান এর বোন লাগো, লন্ডনে থাকো পড়াশুনা করো,,তারপর থেকে আরো বেশি ভাল লাগলো তোমায়,,তাই তোমার ফোন নাম্বার টা কালেক্ট করি,, আর তোমায় কল করে বিরক্ত করতাম!(ভয়ে ভয়ে)

মিশান- গুড,,(ডেভিল স্মাইল) বাট একটা কথা,, তুই আমার সম্পর্কযুক্ত যা যা শুনেছিস সব ঠিক,বাট একটা খবর তুই জানিস না,,,

-কি ক্কি!!(ভয়ার্ত স্বরে)

মিশান- আই এম নট এ সুইট চকলেট গার্ল,,,, আই এম দি টপ মাফিয়া ইন লন্ডন,,টপ গ্যাংস্টার ইন লন্ডন,, গেট ইট? (রাগীস্বরে)) দি ফিউচার লিডার অফ দি প্লাটিনাম স্টার গ্রুপ,,,


– ম্যাম ম্যাম,ভুল হয়ে গেছে, প্লিজ ক্ষমা করে দিন,,,

মিশান- ক্ষমা!!মিশান ওয়ার্নিং ই দেয় না , সেখানে ক্ষমা করা টা অতি তুচ্ছ,,সো নাও গুড বাই!(ডেভিল স্মাইল)


মিশান ফারুক এর কপালে শুট করে দিলো, আর পেছনে আরেকজন গার্ড ছিলো,তাকেও গুলি করে দিলো,,,এর পর মিশানের গার্ড রা এসে লাশ গুলো সেই হাইস এ নিয়ে হাইস নিয়ে দূরে চলে গেলো,,, রাতের অন্ধকারে রোডের মধ্যে লেগে থাকা রক্ত গুলো বুঝা যাচ্ছে না,।
হাইস টা ছেড়ে দেয়ার পর ই মিশান পিছনে ঘুরে কমিউনিটি সেন্টারের দিকে যাবে ঠিক তখন ই দেখতে পেলো কিছুটা দূরে তীব্র দাঁড়িয়ে আছে মিশানের দিকে তাকিয়ে…….মিশান থমকে গেলো অনেকটাই, তীব্রকে দেখে…..




চলবে…….

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।