দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 9
মিশান তীব্রকে পেছনে ফিরে দেখে অনেকটা ভূত দেখার মতো ছিটকে গেলো! তীব্রকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে গেলো,

তীব্র- এখানে কি করছো তুমি??
মিশান- না মানে কিছু না, আপনি এখানে কেনো?
তীব্র- তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে এসে গেছি এদিকে,আর পেয়েও গেলাম,কিন্তু তুমি এখানে একা!! এনি প্রব্লেম??

মিশান- তার মানে মিস্টার তীব্র মাত্র এসেছে,আর কিছু দেখে নি (মনে মনে)
তীব্র- মিশান!!!
মিশান- না মানে এমনি,বিয়ে বাড়ির হৈ হুল্লোড় ভাল লাগছিলো না, তাই একটু নিরিবিলি খুঁজছিলাম,, হাঁটতে হাঁটতে এদিকে এসে পড়েছি,,(শীট মিথ্যে বললাম কেনো আমি!!!মনে মনে)
তীব্র- অও আচ্ছা,(মুচকি হাসি দিয়ে),, চলো অই দিক টা দিয়ে হেটে আসি,

মিশান- হুম শিউর!(কি হচ্ছে এসব আমার সাথে!!আমি মিথ্যে কেনো বললাম! মনে মনে,)


তীব্র মিশান দুজনেই হেটে যাচ্ছে রাস্তার পাশ দিয়ে,, ল্যাম্পপোস্ট এর আলো তে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দুজন,,কেউ কিছু বলছে না,চুপচাপ হেটে যাচ্ছে,,এরমধ্যে তীব্রই বলা শুরু করলো

তীব্র- আব…লন্ডন ব্যাক করছো কবে??
মিশান- ( ((লন্ডনে ব্যাক করার কথা মনে করে বুকের বা পাশে কেমন একটা অনুভব হলো)) এই তো কাল পরশু।।

তীব্র- এতো তাড়াতাড়ি??
মিশান- হুম।।

তীব্রর কথা টা শুনে খারাপ লাগতে লাগলো, মিশান লন্ডনে চলে গেলে ওর সাথে আর কথা হবে না, দেখা হবে না!পরিচয় টা কি তবে ক্ষণিকের ই থেকে যাবে?
তীব্র অনেক টা মন মরা হয়ে গেলো,,

মিশান- (মিস্টার তীব্র কি আমার ব্যাপার এ কিছু জানে না??আমি একটা মাফিয়া…ওনার কথার ভাবে মনে হচ্ছে আমি একটা সাদাসিধে মেয়ে,,,না না এটা কি করে হবে,এতো বড় একটা মাফিয়া উনি,যতটা জেনেছি উনি আর যাই হোক কাঁচা প্লেয়ার না,,,,আমি যে রকম উনার খোঁজ নিয়েছি উনিও নিশ্চয় আমার খোঁজ নিয়েছেন,,,হ্যাঁ ঠিক ই তো আছে,আমিও তো উনার সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছি,উনিও মে বি আমার মতোই সব টা জেনেও স্বাভাবিক বিহেভ করছে…মনে মনে ))


তীব্র- মিশান কি জানে আমি একটা মাফিয়া???ওর কথায় তো মনে হচ্ছে ও আমার সম্পর্কিত তেমন কিছু জানে না,,ও কি আমায় একসেপ্ট করবে!! আমি মিশান কে কোনটা আগে জানাবো? আমি মাফিয়া নাকি আমি ওকে ভালবাসি,,, কিচ্ছু বুঝতে পারছি না,মাথা কাজ করছে না কেনো আমার!!!!… মনে মনে)….


মিশান- বিয়ের পর ইফতি ভাইয়া আর নীলিমা আপু লন্ডন বেড়াতে যাবে,আই উইশ আপনিও ওদের সাথে আসবেন,,

তীব্র- ওকে আই উইল ট্রাই,,, বাই দি ওয়ে তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
মিশান- ইয়াহ শিউর!
তীব্র- তোমার কোথায় বেশি ভাল লাগে? বাংলাদেশ / লন্ডন??
মিশান- বাংলাদেশ বাদ দিয়ে সব জায়গাতে,,
তীব্র- কেনো??
মিশান- আমার জীবনের সব থেকে প্রিয় আর মুল্যবান জিনিসটি চিরতরে হারিয়ে গেছি আমি এই বাংলাদেশ থেকে।।(চোখের কোণে জল ভরে এলো)।
তীব্র- মানে?
মিশান- অন্যদিন বলবো।।

তীব্র দেখতে পেলো মিশানের চোখে জল টগবগ করছে,আর গলার স্বর ভেঙে আসছে।।।

তীব্র- ওকে!!
.
রাস্তার পাশে ফুচকার ভ্যান দেখে, তীব্র বললো,,
তীব্র- ফুচকা খাবে??
মিশান- নো আই ডোন্ট লাইক ইট!
তীব্র- হোয়াট?? আমি যতদুর জানি মেয়েরা আর যাই হোক ফুচকা অপছন্দ করে না!!
মিশান- না মানে,,আই নো বাংলাদেশে এটা খুব জনপ্রিয় বাট, এটা খুব অস্বাস্থ্যকর বিকয এটা খুব নোংরা পরিবেশ এ বানায়,,,বাট আমি হোম মেইড টা খাই,।।

তীব্র- ওহ আচ্ছা,বুঝলাম।। সো হোয়াট ইজ ইউর ফেভারিট ফুড?
মিশান- ওয়াটার,
তীব্র- ( অনেক টা অবাক হয়ে) পানি তো সবার পছন্দ,,ইটস ইম্পসিবল থিংকিং উইদাউট ওয়াটার,,ছে ডিফারেন্ট সামথিং।।

মিশান- সব কিছুই ভাল লাগে, কোনো টাই কম বেশি না,, সামনে যা পাই তাই ই তৃপ্তি করে খাই,,আমার কোনো রোটিন বা পছন্দ অপছন্দ নেই,শুধু শর্ত একটাই খাবার হালাল হতে হবে আই মিন, স্বাস্থ্যকর হতে হবে।

তীব্র- আ’ম ইম্প্রেস!! ভেরি গুড!
মিশান- আপনার কি কি পছন্দ?
তীব্র- সেম এজ ইউ..(মৃদু হাসি দিয়ে)

মিশান- গ্রেট!



দুজনে রাস্তা দিয়ে আপন মনে গল্প করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে,,,,হঠাৎ আকাশ খুব মেঘলা হতে লাগলো,বৃষ্টি নামবে নামবে ভাব,,, এরই মধ্যে মিশান আর তীব্র তাড়াতাড়ি করে একটা রিক্সা নিলো,আর কমিউনিটি সেন্টারে পৌঁছে গেলো,,,।।।।
।।


ইফতি- কি ব্যাপার, কত দূর এগোলে??
তীব্র- ধেত এতো তাড়াতাড়ি কি করে হয়!
ইফতি- তুমি এমন কাঁচা কাজ করছো কেনো,নিজেই তো বলো শুভ কাজে দেরি করতে নেই,,,তাহলে?
তীব্র- হ্যাঁ, তা বুঝলাম,বাট আমি তো ওকে বলতেই পারছি না, ওর সামনে গেলে সব ভুলে যাই।।
ইফতি- ওহ তীব্র, হুয়াই ইউ ডু নট আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইয়ার!!, উই হ্যাভ নো মোর টাইম, ফর ওয়াস্টিং,,মিশান আজ আছে তো কাল নেই!
তীব্র- মিশান আজ আছে তো কাল নেই মানে??
ইফতি- মা মা মানে, ও তো আর বাংলাদেশে থাকে না, লন্ডন চলে যাবে, এটা তো ঢাকা টু গাজীপুর না, তাই না??? সো আজ রাতে এক্ষুনি বলবে ওকে।।।

তীব্র- নো,,
ইফতি- হোয়াই!!
তীব্র- কাল বলবো।
ইফতি- কাল যদি মিশান চলে যায়,,বা তোমার যদি কোনো কাজ পরে যায়,তখন??
তীব্র- (চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিয়ে)ওকে আজ ই বলবো,,,
ইফতি- বৃষ্টি থামার আগে,, বৃষ্টি থেমে গেলে কনে বিদায়।।সো নো মোর টাইম, ইজ ইট ক্লিয়ার??

তীব্র- অওহ গড,, কোথায় এসে পড়লাম, তোমার বিয়েতে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে(বিরক্তি নিয়ে)


তীব্র ইফতির থেকে দূরে সরে গেলো,,,

মিশান- তীব্রকে বলবো আমি ওকে পছন্দ করি??না না থাক,ও যদি আমায় পছন্দ না করে,,মিশান না শুনতে পারবে না,, ও যত বড় মাফিয়াই হোক, না করলে এক গুলিতে ওকে উড়িয়ে দেবো,,,বাট আমি তো ওর সামনে গেলে সব ভুলে যাই,হায় খোদা আমায় শক্তি দাও,,,(মনে মনে বলতে বলতে যাচ্ছে,)

মিশান একটা নিরিবিলি তে গিয়ে দাঁড়ালো,,

তীব্র মিশানকে দেখে ওর দিকে গেলো,,


তীব্র যতই মিশান এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ততোই ওর হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে তীব্রকে দেখে মিশানের ও একই অবস্থা,দুজনেই পণ করেছে আজ মনের কথা বলে দেবে দুজনের।।।

তীব্র- মিশান আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
মিশান- আ আমিও আপনাকে কিছু বলতে চাই!

তীব্র- ওকে আগে তুমি বলো।
মিশান- না আগে আপনি বলুন।
তীব্র- লেডিস ফার্স্ট, সো তুমি আগে.
মিশান- না আগে আপনি বলেছেন আপনি কিছু বলতে চান সো আপনি আগে,
তীব্র- নো,ইউ!
মিশান – ঠিক আছে তাহলে আমি বলবোই না,, আপনারও বলতে হবে না,,
তীব্র- ইউ আর ভেরি ইন্টেলিজেন্ট, ওকে আমিই আগে বলছি,

মিশান- গুড!!(ডেভিল স্মাইল)

তীব্র- মিশান আমি….. আই মিন আ’ম আমি, আই থিংক!( নার্ভাস হয়ে))!

শরীল প্রচন্ড ঘামছে তীব্রর, এদিকে মিশানের ও নার্ভাস লাগছে, কি বলবে তীব্র সেটা ভেবেই…

মিশান- কি আইমিন আমি আমি করে যাচ্ছেন মিস্টার তীব্র,কাম অন হারি আপ!
তীব্র- ওয়েট! ( ডুক গিলে)

– আই থিংক, আই…. আই(ঠেকে ঠেকে বলছে)

প্রিতম- – স্যার আপনার ফোন!(পেছন থেকে)

তীব্র- আই কল ব্যাক! (রাগীস্বরে পেছনে তাকিয়ে)
প্রিতম- স্যার ইটস ইম্পরট্যান্ট!!
তীব্র ভ্রু কুঁচকে প্রিতম এর হাত থেকে ফোন টা নিলো, নিয়ে কানে ধরতেই তীব্র কথা বলতে বলতে অন্য দিকে চলে গেলো,,,,, এরই মধ্যে মিশানের ডাক পড়েছে, ওর বাবা ডাকছে,,


মিশান- ড্যাড!
রাইয়ান-ও মিশান,
মিশান- ড্যাড ডেকেছিলে আমায়?
রাইয়ান- হ্যাঁ বাবা,একটা প্রব্লেম হয়ে গেলো!
মিশান- হোয়াট হ্যাপেন্ড??
রাইয়ান- তুমি তো জানই প্রতি ৫ বছর পর পর জাপানে আমাদের একটা পার্টনারশিপ বিজনেস স্টার্ট হয় ইউ এস এর সাথে,, এন্ড সে খানে আমাদের ভাগ করে দেয়া হয় আমরা কোন গ্রুপের সাথে কাজ করবো,,

মিশান- ইয়াহ ড্যাড..সো হোয়াট?
রাইয়ান- গত ৫ বছর আগের পার্টনারশীপ টা ছিলো মালোশিয়ার সাথে,,আর এবার নিউ যে পার্টনারশীপ রিমেকওভার করা হবে, তার জন্য একটা মিটিং ফিক্সড হয়েছে জাপান এ আর তার ডেট হয়ে গেছে পরশু,,, এখন আমি এই অবস্থায় কি করে যাবো, বাবা ভাইয়া কষ্ট পাবে খুব!!আর এতো বড় একটা ইম্প্রট্যান্ট মিটিং এখানে তো অন্য কাউকে পাঠাতে পারবো না,,যদি তুমি যেতে মিটিং টাতে!!

মিশান- ইটস ওকে ড্যাড,আই উইল হ্যান্ডেল এভরিথিং,,,
ড্যাড- থ্যাংকস বাবা!!
মিশান- ওকে,তাহলে তো আমাকে কাল ভোরেই লন্ডন ব্যাক করতে হবে, পেপার রেডি করতে হবে।।
ড্যাড- ইয়াহ,,,!!
মিশান- ওকে( মিশান অনেক টা মন খারাপ করলো, কেনোনা তীব্রকে ওর ভেতরের কথা গুলো জানাতে পারলো না,,তার আগেই চলে যেতে হচ্ছে!))))
রাইয়ান- তোমার তো ভালই হলো,, বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার বাহানা খুঁজছিলে, আর পেয়েও গেলে।

মিশান- ইয়াহ ড্যাড( মন মরা হয়ে))


অনেক বেশি মন মরা হয়ে মিশান নিজের জগতে ফিরে এলো,,ইমোশনটাকে ভুলতে চাইছে এই খান থেকেই, মিশানের মনে জান দিয়েছে, মিশান সব দিক থেকে সাকসেস হলেও এই দিকে লোজার থেকে যাবে, সেটা হলো ইমোশনকে আঁকড়ে ধরে চলা।।।


বৃষ্টি থেমে গেলো,এবার কনে বিদায় হবে,,নীলিমার থেকে মিশান বিদায় নিয়ে নিলো,, যে সে লন্ডন ব্যাক করছে কাল আর দেখা হবে না।।।

নীলিমাকে নিয়ে ইফতি বেরিয়ে যাবে এখন, নীলিমা খুব কান্না কাটি করছে,বাবা মা, দাদা, নিলয় দা বউদিদি, ছোটচাচু।।।এদিকে পিছন থেকে মিশান তীব্রর সাথে ধাক্কা খেলো,,
তীব্র- হেই মিশান, কি যেনো বলতে চেয়েছিলে তুমি বললে না তো,

মিশান তীব্রর চোখের দিকে তাকালো, মিশানের মন খারাপ বুঝা যাচ্ছে,।


মিশান- আব আ আই,( থেমে গেলো)

তীব্র- হুম থামলে কেনো, !!

মিশান- আই উইল গো ব্যাক লন্ডন, টুমরো, সো গুড বাই,এন্ড কাম টু আউয়ার কান্ট্রি ফর ভিজিট, আই উইল ওয়েটিং ফর ইউ,,,সি ইউ লেটার,,টেক কেয়ার… ( এক দমে কথা গুলো বলে মিশান চলে গেলো, তীব্রকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না)


মিশান কারো সাথে কথা না বাড়িয়ে সোজা বাড়ির দিকে গেলো,, জেসি কে সব কিছু প্যাক করতে বললো, আরেক কাপ কফি হাতে নিয়ে মিশান বারান্দায় চেয়ারে হেলান দিয়ে চুপ করে বসে রইলো, বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে মিশান, পুরো বাড়ি আলোকসজ্জায় ভরপুর, পুরো শহরটাতে অন্ধকার হলেও মিশানদের বাড়ির টুকুতে অন্ধকার ছেয়ে আসতে পারে নি,,,, আলোকসজ্জা গুলো আঁধার কাটিয়ে দিয়েছে,,, চোখ বন্ধ করে মিশান কি যেনো ভাবছে।।।।।



এদিকে গাড়ি চালিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে তীব্র,,তীব্রর প্রচন্ড রকম রাগ হচ্ছে নিজের উপর, কেনো সে মিশানকে সবটা জানাতে পারলো না,,, ইফতির কথা মতো যদি সময় নষ্ট না করে যদি মনের কথা গুলো বলতো,,,

রাগ আর অভিমানের মেঘ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো,,,


প্রিতম – স্যার আওয়ার টিকেট ইজ রেডি,,টুমরো ফাইভ এ এম ইজ আওয়ার ফ্লাইট,,

তীব্র- ওকে,ইউ ক্যান গো নাও।।এন্ড বি রেডি।।

প্রিতম- ওকে স্যার,,


জেসি- হে প্ল্যাটাম টুমরো মিশান ম্যাম উইল ব্যাক ইন লন্ডন, এভরি ওয়ান বি রেডি,,উই উইল গো ইন জাপান টুমরো ফর এ ইম্প্রট্যান্ট মিটিং………,( কাগজ পত্র সব গুছিয়ে নিতে বলেছি))


– ম্যাম, সব রেডি করতে বলেছি,আর আমাদের টিকিট কনফার্ম হয়েছে, আগামীকাল ভোর ৫ টাই আমাদের ফ্লাইট,,


মিশান- ওকে ইউ ক্যান গো নাও,,নাও আই নিড সাম রেস্ট,ডোন্ট ডিস্টার্ব মি…
জেসি- ওকে ম্যাম, গুড নাইট।।


চলবে……

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।