দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 12+13

মিশান- সবাই বলে আমি মায়ের মতো হয়েছি,,আমার মাও হাজার খেয়েও মোটা হতে পারেনি(হেসে দিয়ে)

তীব্র- তুমি জন্মের পর তোমার মাকে দেখনি??(অবাক হয়ে)
মিশান- হুম্ম দেখেছি তো,, ইভেন আমি আমার মা কে চোখের সামনে মরতেও দেখেছি,,

তীব্র-( মিশানের কথা শুনে অনেকটাই শকঠ হয়ে চোখ বড় করে মিশানের দিকে তাকালো কত্ত ইজিলি মিশান কথা টা বললো)) মানে!!!(ভ্রু কুঁচকে)

মিশান- এখন তো খাচ্ছি,এটা অনেক লম্বা একটা হিস্টোরি পরে সময় করে বলবো,,, কেমন? (চোখের দিকে তাকিয়ে)
.
তীব্র- আন্টির কি কোনো অসুখ হয়েছিলো?
মিশান- নাহ,,,আমার মা একদম ই সুস্থ ছিলো,, আমার থেকেও ইয়াং ছিলো,, আর দেখতে খুব মিষ্টি ছিলো আমার মা,,আমার মাকে তো মেরে ফেলেছে (রহস্যময় ভাবে)

তীব্র- তোমার কথা ঠিক বুঝলাম না!!
মিশান- বললাম না লম্বা হিস্টোরি,, পুরোটা না বললে বুঝবেন না,, আর এখন তো এতো টাইমও নেই খাওয়া শেষ করেই তো আবার বেরুতে হবে,, নিন খেয়ে নিন।।।(ভ্রু নাচিয়ে বললো)

তীব্র-হুম…(বলেই মিশানের ব্যাপারে ভাবতে লাগলো)


মিশান আবার আগের মতো খাওয়াই মনোযোগ দিলো,, তীব্র খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে মিশানের দিকে তাকাচ্ছে,,, কেনো জানি মিশানের প্রতি জমে থাকা রাগটা গলে যেতে চাইছে আপনা আপনি!! মিশানকে ভালবাসতে মন চাইছে,,, কিন্তু কি একটা যেনো মনের ভিতর আবার বাঁধাও দিচ্ছে।।।


মিশানের খাওয়ার স্টাইল দেখে মিটিমিটি হাসছে তীব্র।।।


খাওয়া শেষ করে সবাই যার যার রুমে চলে গেলো,,,, মিশান রুমে গিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে বসলো,,,আর তীব্র রুমের সাথেই থাকা বাড়ান্দায় বসে সিগারেট টানছে আর ফোনের মধ্যে থাকা মিশানের সেই ছবিগুলো দেখছে,, যেগুলো বিয়ে বাড়িতে তীব্র লুকিয়ে লুকিয়ে তুলেছিলো,আর ইফতি কালেক্ট করে দিয়েছিলো,,


বিকেলের দিকে সবাই বেরিয়ে পরলো, সেই একই গন্তব্যে।।।।সকাল বেলা যারা সিলেক্ট হয়েছিলো টপ টেনের জন্য সবাই উপস্থিত হয়েছে,,সবাই গিয়ে যার যার মতো আসন গ্রহন করলো,, একটা বিশাল টেবিলের চারপাশে সবাই বসেছে,,,, এরপর যে চিপ সে বলতে লাগলো,,


– Dear guys!! Welcome everyone to come back(সবাইকে স্বাগতম আবার আসার জন্য)…
We are talking about work, without wasting valuable time(আমরা মুল্যবান সময় নষ্ট না করে কাজের কথায় আসি)

So now the tropic is, today we will decide, which group will work with which group by raffel draw.. ( এখন বিষয়বস্তু হচ্ছে, আজকে লটারির মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে, এবছর কোন গ্রুপ কোন গ্রুপের সাথে কাজ করবে)

one of our superviser will take a bowl in front of you, you will pick a token from that..
( আমাদের একজন কর্মকর্তা, একটি বোল নিয়ে যাবে আপনাদের সামনে সেখান থেকে একটা করে টোকেন নিবেন সবাই।)


একজন লোক এসে সবাইকে একটা করে টোকেন দিল।।।

এরপর সবাইকে টোকেন খোলে দেখতে বলা হলো, যার টোকেন নাম্বার এর সাথে যার টোকেন নাম্বার মিলবে তারাই একসাথে কাজ করবে আগামী ৫ বছর,, এই অর্গানাইজেশন এর সাথে।।।


মিশানের টোকেন নাম্বার 0.5,, মিশান দেখেও চুপ করে আছে,,, এদিকে তীব্র এদিক ওদিক তাকাতাকি করছে,,এরপর আমেরিকান চিপ একে একে সবাইকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো যার সাথে যার টা মিল তাদের গ্রুপ করে দিচ্ছে,,,তীব্রকে জিজ্ঞেস করা হলো,

– মিস্টার সাফুয়ান রেজা তীব্র হোয়াট ইজ ইউর পয়েন্ট?
তীব্র-0.5

মিশান শুনে অনেকটা চক্কর খেয়ে তীব্রর দিকে তাকালো,,

– হোইচ ওয়ান 0.5???
মিশান- হাত তুললো,,

তীব্রও মিশানের দিকে তাকিয়ে রইলো,,অবিশ্বাস্য লাগছে পুরোটাই!!

এরপর মিশান তীব্রর পেপারস গুলো নিয়ে ডকুমেন্ট বানানো হলো,,, আগামী ৫ বছর এই অর্গানাইজেশন এর ডিল ওদের দুই জনের ক্যারি করতে হবে।।।


মিশান তীব্র হাত মিলালো,,, ,,,।।।।


কাজ শেষে রাতের দিকে হোটেলে ফিরতে লাগলো সবাই,,, ।।

এরই মধ্যে মাঝ রাস্তাই বাঁধলো এক বিপাক,,, মিশানদের গাড়িটা অনেক আগেই ছিলো,, তীব্র রা অনেকটা পিছনে ছিলো।

মিশানদের গাড়ীর সামনে এসে এক গাড়ী এসে থামে,গাড়ী টা সরাচ্ছে না, অনড় হয়ে আছে।। মিশান রেগে প্ল্যাটাম কে বের হতে বলে, প্ল্যাটাম আর কক্সি গিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়,,বের হতেই সামনে পরে ব্ল্যাক হুইল গ্রুপের ফিউচার লিডার ক্রাফটস!!


,((( অনেক বেশি ভয়ানক এই গ্যাং,, মাদক ব্যাবসাতে টপ , লন্ডনে মিশানের প্রতিদন্দী ও বলা যায়,,আগের বার ও টপ টোয়েন্টি তে আসতে পারে নি,এবারও পারে নি,,, কারণ টা শুধু মিশান,, কেনো না লন্ডন এ যদি মিশানদের গ্রুপ না থাকতো তাহলে লন্ডন থেকে ক্রাফটস ই টপে থাকতো,,,,, ,, টপ টোয়েন্টি /টপ টেনে,, একটা নিয়ম থাকে সেটা হলো প্রত্যেক রাজ্য থেকে একটা গ্রুপ ই নিবে,, এর বেশি না।। তাই ক্রাফটস এর অনেক রাগ মিশানের উপর,,বার বার চেষ্টা করে মিশানের ক্ষতি করতে,।।।সব থেকে বেশি রাগ এই কারণে মিশান বাঙালি হয়েও লন্ডনে রাজ করছে,, আর ক্রাফটস মিশানের জন্য এগিয়ে যেতে পারছে না লন্ডনবাসী হয়েও))


।[{বি:দ্র: দুই ভাষাই লেখতে প্রবলেম হয়,,সবার সুবিদার্থে শুধু বাংলাই লিখে দিতেছি,,,,সবাই মনে মনে ভাববেন ইংলিশ এ বলতেছে 😁}] ।

মিশান- হোয়াট হ্যাপেন্ড প্ল্যাটাম? ( বিরক্তি নিয়ে)

প্ল্যাটাম – ম্যাম, ক্রাফটস আর তার গ্যাং,,

মিশান- শীট আবারো( রাগী মেজাজে দাঁত কিড়িমিড়ি করে)
.
প্ল্যাটাম – ম্যাম আপনি বের হবেন না,আমরা দেখছি ব্যাপার টা,,,
মিশান- এর আগে কখনো পেরেছো? ওকে সাইজ তো আমাকেই করতে হয়,,শালা এখানে এসেও ওর ভিলেন গিরি,, ( দাঁতে দাঁত চেপে).

মিশান গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো,,,,,


ক্রাফটস – আরে রাণী ভিক্টোরিয়া এতক্ষণে নেমেছে গাড়ী থেকে ( ডেভিল স্মাইল,মিশানের দিকে তাকিয়ে)

মিশান- শাট আপ,, হোয়াটস ইউর প্রব্লেম ক্রাফটস?? কেনো বার বার আমার সামনে এসে বাঁধা দাও??সেই তো দিন শেষে হেরেই যাও তারপরেও শিক্ষা হয় না?(হুমকি স্বরূপ)

ক্রাফটস – অও কাম অন বেইব,,কুল ডাওন।।এতো উত্তেজিত হলে চলবে নাকি ,আমি কি চাই সেটা তো তুমি জানই! রাজত্ব চাই রাজত্ব রাজত্ব ( মিশানের চারদিক দিকে ঘুরে ঘুরে))(
.

মিশান- হ্যাঁ সেটা কেনো তুই আমাকে বলছিস, তোর বাবাকে বল,,, আমাকে কেনো??( রেগে ধমকের স্বরে)।
দেখ তোকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি আমার রাস্তা ছেড়ে তুই নিজের রাস্তায় চল,,, যেটা তোর দ্বারা হবে না সেটা করতে আসিস না,,,,

ক্রাফটস – কে বলেছে,, আমি তো সাকসেস হবোই মিশান খান,আর সেটা তোকে মেরে,, আরে তুই তোর বাবার একটা মেয়ে কি করবি এত কিছু দিয়ে,??সব ই তো আছে তোর,,,এবার আমাদের একটু রাজ করতে দে।।

মিশান- যোগ্যতা থাকলে রাজত্ব এমনি এমনি পাবি,,,যোগ্যতা থাকলে কারো লেজ কাটার জন্য ছুড়ি নিয়ে ঘুরতে হবে না,,,

ক্রাফটস – না মিশান খান আমার যোগ্যতা আছে, আছে আমার যোগ্যতা,, সব আছে,, শুধু রাস্তা টা পরিষ্কার নেই,তোকে উপরে সরিয়ে দিয়ে লন্ডনে চলবে আমার রাজত্ব,, তোর বাপ এর এখন আর আগের মতো তেজ নেই,, একা একা আর কত কাল!!তোকে একটা অপশন ও দিয়েছিলাম আমাকে বিয়ে কর, দুজনে মিলে রাজত্ব করি,,তা তো তুই শুনলি না,, সো এখন তবে মর ( বলেই মিশানের দিকে বন্দুক তাক করলো))

।সাথে সাথে মিশানের গ্যাং ক্রাফটস এর দিকে গান টার্গেট করলো,,আর ক্রাফটস এর গ্যাং মিশানের গ্যাং এর দিকে টার্গেট করলো,,,

মিশান আড় চোখে দেখেও ঠান্ডা মেজাজে হাসি দিলো,,রিল্যাক্সে পকেটে হাত রেখে ক্রাফটস এর চোখে চোখ রাখলো,,,,।

মিশান- এই বন্দুক দিয়ে আমাকে থ্রেড করছো ক্রাফটস!! ( ডেভিল স্মাইল) ,,, কাম অন, ভুলে যেও না আমি কিন্তু এই অস্রর হাত ধরেই আমার বেড়ে উঠা ,,, সো এসব না আমার কাছে খেলনাপাতি লাগে,,তার থেকে আমরা অন্য টাইপের গেম খেলি কেমন? ( ডেভিল স্মাইল)

ক্রাফটস – (অনেকটা হকচকিয়ে গেলো,মাথায় হুশ এলো মিশানের সাথে বন্দুক যোদ্ধে পারা যাবে না,একে তে এটা বাইরের কান্ট্রি তার উপর মিশানের ট্যালেন্ট) তুমি কি বলতে চাইছো??

মিশান- শত্রুতা তোমার আমার সাথে, আমার গ্যাং দের থেকে পিস্তল সরিয়ে নিতে বলো তোমার গ্যাং কে আর ওদের সরে যেতে বলো,,, যোদ্ধ টা তোমার আমার মাঝে হবে,,মিশান খান কি সেটা কিন্তু জানোই!
।।

বেচারা ক্রাফটস মিশানের কথা মতোই কাজ করলো!!!

,
চলবে…….
।, ]] #The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 13

.
মিশানের সাথে ক্রাফটস ফাইটিং শুরু করে দিলো,, মিশান একা হাতে নিজেকে সেফ করছে, ক্রাফটস যতবার এট্যাক করার চেষ্টা করছে ততবার ই ফেইল করছে,,,মিশান এমন একটা জিনিস যে কং ফু থেকে শুরু করে সব ধরনের মার পিট পারে,,,এদিকে ক্রাফটস এর সাথে থাকা চ্যালা প্যালা রা মিশানের গ্যাং এর উপর এট্যাক করতে শুরু করে,,মিশানকে পিছন থেকে একজন এসে আঘাত করতে নিলে ওর বেল্টে লাগিয়ে রাখা ছুরি বের করে সামনে থেকে পেছনে আঘাত করে, লোকটি মাটিতে নুইয়ে পড়ে,,এদিকে ক্রাফটস পিস্তল বের করে ফায়ারিং শুরু করে দিয়েছে,বাট প্রতিটা গুলি মিশানকে ক্রস করেছে,, পিস্তলের গুলি শেষ হতেই মিশান একের পর এক কে মেরে তক্তা বানিয়ে দিচ্ছে,, আর এবার হাতের মুঠে ছুরি নিয়ে ক্রাফটস এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,,ক্রাফটস মিশানকে এট্যাক করার জন্য পুরো গ্যাং ধরে নিয়ে এসেছিলো,,মিশানের সাথে
যতজন ছিলো তারা পেরে উঠছিলো না,,, কিন্তু মিশানের কাছে এসে সবাই ফেইল হয়ে যাচ্ছিলো,,মিশানকে এখনো কেউ একটা আঁচ ও দিতে পারে নি,,একের পর এক্ কে মেরে মিশান ক্রাফটস এর দিকে যাচ্ছে,, ক্রাফটস ওর পিস্তল এর গুলি চেঞ্জ করতে নিতেই মিশান ওর হাতের মধ্যে এট্যাক করে ছুরি দিয়ে অনেক টা কেটে যায় ক্রাফটস এর হাত, ছুরি টা ছোট্ট হলেও এটা দিয়ে মিশান অনেক এক্সপার্টলি মার্ডার করতে পারে,,কং ফু ভাল জানাই মিশান প্রায় সব কটাকে মেরে লাশ করে দিয়েছে।।।।,,ক্রাফটস এর বুক বরাবর দুটো ঘুষি মেরে পায়ের হাটু তে ছুরি দিয়ে আঘাত করতেই ক্রাফটস মাটিতে নুইয়ে পরে,,,,মিশানের রাগ অনেক হাইপার হয়ে গেছে।।।।।।



পলাশ- স্যার দেখুন ওটা মিশান ম্যাম না??(গাড়ির ভেতর থেকে)
তীব্র-( সামনের দিকে ভাল করে দেখে)হ্যাঁ তাই তো দেখা যাচ্ছে কিন্তু এই মাঝপথে,,,!!

পলাশ- স্যার ওরা মেবি বিপদে আছে,,দেখুন মারামারি হচ্ছে তো,,,।।।

তীব্র- হ্যাঁ তাই তো দেখছি,,গাড়িটা তাড়াতাড়ি টানো,, ওদের সাহায্য করতে হবে!!!


মিশান- বার বার বলেছি,আমার পিছু ছেড়ে নিজের রাস্তায় মনোযোগ দিয়ে চল,এমনিতেই সাকসেস হবি,, সোজা কথা কেনো বুঝিস না তুই??.. আসলে হয়েছে টা কি জানিস তোর মৃত্যুটা না আমার হাতে, তাই ঘুরে ফিরে বার বার তুই আমার সামনে আসিস,,মিশান একবারের বেশি কাউকে ওয়ার্নিং দেয় না, কিন্তু দেখ তোর বেলায় আমার বার বার নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে,, হাজার বারের কম হবে না তোকে আমি ওয়ার্নিং দিয়েছি,,, কেনো কেনো কেনো??(চিৎকার করে)? বল কবে শুধরাবি তুই???(ক্রাফটস এর বুকের উপর পা রেখে)

ক্রাফটস – তোকে শেষ না করা অব্দি আমি থামবো না,,যতবার আমি হেরে যাবো তত বার আমি নতুন করে তোকে শেষ করার চেষ্টা করবো,,যতবার তুই আমাকে মেরে ফেলবি ততবার এই ক্রাফটস ফিরে আসবে তোকে ধ্বংস করতে,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

মিশান- হুম্ম দম আছে বস,, পায়ের নিচে থেকেও মিশানকে শেষ করার স্বপ্ন দেখছিস,, শুন জীবন একটাই,,এটা সিনেমা নয় যে একবার মরে ৭ বার জন্ম নিবি,,, সো ইউর টাইম ইজ আপ ।।


বলেই মিশান এবার পিস্তল বের করে ক্রাফটস এর দিকে তাক করলো ,,,, এদিকে তীব্র রা ছুটে এলো মিশানদের হেল্প করতে তার আগেই তীব্রর সামনে মিশান একের পর এক গুলি দিয়ে আশে পাশে যতজন চ্যালা প্যালা ছিলো ক্রাফটস এর সব কটাকে শুট করে দিলো,, তীব্রর সামনে ওরা মাটিতে নুইয়ে পড়লো,, তীব্র হতবম্ব হয়ে মিশানের শুট করা দেখছিলো,,এবার বন্দুকে গুলি ভরে মিশান সব কটা গুলি ক্রাফটস এর উপর চালালো,,, হাতের মধ্যে রক্তের ছিটা এসে মিশানের হাত দিয়ে রক্ত চুইয়ে পড়ছে,,,,,।।।


তীব্র- মিশান!!!(জোড়ে ডাক দিলো,পেছন থেকে)

মিশান কিছু না ভেবেই পিছনের দিকে ঘুরতেই বন্দুক তাক করলো,,ভেবেছে ক্রাফটস এর লোক ভাল করে তাকিয়ে দেখে তীব্র,, তীব্রকে দেখে বন্দুক নিচে নামায়,,,, মিশানের চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না,রাগে চোখে রক্ত উঠে গেছে মিশানের, এই প্রথম তীব্র মিশানের আসল রূপ দেখলো,,কতটা নির্দয় হলে একটা মেয়ে হয়ে এভাবে মানুষ মারতে পারে,,,,,তীব্র আর কোনো কথা বললো না,, মিশান ও কিছু বলল না।।।

মিশান- গায়েজ আর ইউ অল ওকে??

-ইয়েস ম্যাম উই আর অলরাইট ।।
– ক্লিন হেয়ার ইমিডিয়েটলি,,,আই শুড গো।।
-ইয়েস ম্যাম।।।

মিশান দুজন গার্ড নিয়ে হোটেলের উদ্যেশে চলে গেলো এদিকে বাকিরা ডেট বডি গুলো সাথে সাথে প্যাকিং করে প্লেস টা পুরো ক্লিন করে ফেললো,, সব কটাকে গাড়িতে তুলে একটা ব্রিজের উপর গিয়ে পানিতে ছুড়ে ফেলে দিলো,,তীব্র রা শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো,,
হোটেলে ফিরে গেলো।।।



তীব্র ফ্রেশ হয়ে,রুমে এসে নিশ্চুপ হয়ে শুইয়ে আছে, আর চোখ বন্ধ করে মিশানের সেই কঠিন রূপ কল্পনা করছে,,।


এদিকে মিশান ফ্রেশ হয়ে বের হতেই ওর বাবার কল এসে গেলো।।

মিশান- ইয়াহ ড্যাড ।
ড্যাড- বাবা আর ইউ ওকে?!(উত্তেজিত স্বরে)
মিশান- ড্যাড! আই এম কমপ্লিটলি ওকে,,,, আমার কিচ্ছু হয় নি,, গায়ে একটা সামান্য চুট ও লাগে নি,,, প্লিজ ডোন্ড ওয়ারি ড্যাড,,
ড্যাড- ওয়েল মাই ডটার,,,, আমার তোমার উপর ভরসা আছে যে, মিশান খান আমার একমাত্র মিশান বাবার কিচ্ছু হতে দিবে না।।বিকজ শি ইজ ডটার অফ রাইয়ান খান।।(হেসে দিয়ে)

মিশান- ইয়াহ ড্যাড আই নো,,আমার কিছু হলে আমার ড্যাড আমার থেকে বেশি কষ্ট পাবে, সো,,
ড্যাড- হ্যাঁ বাবা,,তোকে নিয়ে আমার টেনশন নেই।।কিন্তু ক্রাফটস এর কথা শুনে একটু টেনশন হচ্ছিলো,,শালা মানুষের জন্মই না ও,,, মেরে দিয়েছিস একদম পারফেক্ট হয়েছে,,, বাবা আর ইউ শিউর হি ইজ ডেথ?
মিশান- ইয়াহ ড্যাড আই এম কমপ্লিটলি শিউর।। একটা মানুষের বুকে এক নাগাড়ি ৬ টা গুলি চললে তার কি বেঁচে থাকার কথা ড্যাড?(ডেভিল স্মাইল)

ড্যাড- ওকে বুঝলাম,,তাহলে এখন রেস্ট নাও,,
মিশান- ওকে ড্যাড।।
ড্যাড- এন্ড বি কেয়ার ফুল।
মিশান- ওকে,গুড নাইট ড্যাড।।
ড্যাড- গুড নাইট মাই ডটার ।


মিশান ফোনটা রেখে লম্বা ঘুম দিলো নিশ্চিন্তে,,,যেনো কিছুই হয় নি।।।।

এদিকে তীব্র সে ঘুমানোর চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারছে না,,,, শুধু মিশানের সেই দৃশ্য মনে পড়ছে…..

পরদিন সকালে মিশান ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করার জন্য বুফে তে চলে গেলো,,আর তীব্র সকালে খাবে না বলে বায়না করলেও পলাশ প্রিতম জোড় করে নিয়ে যায়,, বুফে তে গিয়ে দেখে মিশান আপন মনে সুন্দর করে চুপচাপ খাচ্ছে, যেনো কিচ্ছু হয় নি,,, মানুষ এতো টা স্বাভাবিক কিভাবে হয়ে যায়,, ছেলে হলে একটা কথা ছিলো, মেয়ে হয়েও এতো কঠিন,এতো তীব্রর থেকেও কঠিন!!

মিশানকে তীব্ররা দেখে অনেকটাই অবাক,পলাশ প্রিতম হা করে তাকিয়ে দেখছে,,এদিকে তীব্র মিশানকে দেখেও না দেখার ভান ধরে অন্য টেবিলে বসে পরে,,,তীব্রর কেনো জানি মিশানের দিকে তাকালেই খুব রাগ হচ্ছে,,,,,।

.
.
পলাশ- প্রিতম একটা জিনিস খেয়াল করেছো?
প্রিতম- আমি যে টা ভাবছি তুমিও কি সেটাই ভাবছো??
(দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে))
পলাশ- বাংলাদেশে যখন মিশান ম্যাম গিয়েছিলো তীব্র স্যার কেমন হুট করে বদলে গিলো,,,সব সময় মিশান ম্যামের পিছনে ঘুর ঘুর করতো,,,আর এখানে এসে যেই জানতে পারলো মিশান ম্যাম আর তীব্র স্যার এক ই জলের মাছ সেই তীব্র স্যার মিশান ম্যাম এর থেকে কেমন যেনো দূরে দূরে থাকে,,,,

প্রিতম- হ্যাঁ তাই তো দেখছি,,আরে তোমার মনে নেই স্যার একবার বলেছিলো না যে স্যার একটা ঘরোয়া লক্ষি মেয়ে বিয়ে করবে, যে স্যারের অনেক কেয়ার করবে, স্যার এর মাকে সময় দেবে,,, কিন্তু মিশান ম্যাম তো উল্টো একদম,,,
উনি দেখাশোনা কি করবে আর উলটো উনাকেই দেখাশুনা করতে হবে…..

– হ্যাঁ একদম ঠিক,, সেই জন্যই আমাদের ম্যাম সারাজীবন সিংগেল থাকবে (পেছন থেকে জেসি বলে উঠলো)
,
ওরা পিছনে তাকিয়ে দেখলো,,,
প্রিতম- আরে তোমরা!!(লজ্জা পেয়ে)
জেসি- হুম,, তোমাদের সব কথাই আমি শুনে নিয়েছি(হেসে দিয়ে)
পলাশ- অওহ তাহলে তো হলোই,, তা বলো তো তোমাদের ম্যাম এর কি অবস্থা?
জেসি- মিশান ম্যাম এর একটাই কথা বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে উনি উনার লেভেল এর একজনকেই বিয়ে করবে,,,, তোমাদের আইডিয়া নেই লন্ডন এ কত্ত ছেলে মিশান ম্যাম এর জন্য পাগল,,শুধু মিশান ম্যাম কে ভয় পায় বলে মিশান ম্যাম কে জোড় দিয়ে কিছু বলতে পারে না,,,,

প্রিতম- সেটা কি আমাদের তীব্র স্যারের ও কম নাকি,,(অহংকার নিয়ে)

জেসি- হুম্ম কি করা যায় বলো তো এদের জন্য??

পলাশ- আমি ভাবছি কি কোনো ভাবে যদি এদের মিলিয়ে দেয়া যায়??
প্রিতম +জেসি- গ্রেট আইডিয়া,,!! কিন্তু কিভাবে সম্ভব?? (একসাথে)

পলাশ -সেটাই ভাবতে হবে ।।।


তীব্র অন্য টেবিলে খেতে বসলেও কেনো জানি খেতে মন চাইছে না, কি মনে করে যেনো খাবার অর্ডার করতে যেয়েও উঠে রুমে চলে গেলো,,, মিশান খাওয়ার মধ্যেই চোখ তীব্রর দিকে গেলো তীব্র তো কেবল ই এসেছিলো না খেয়ে চলে গেলো, মিশান ভাবতে ভাবতেই মিশানের চোখ পড়লো তীব্রর হাতের দিকে ওর ডান হাত টা ব্যান্ডেজ করা।।

মিশান খাওয়া শেষ করেই প্রিতম পলাশ কে জিজ্ঞেস করলো হাতে কি হয়েছে,তীব্রর ওরা উত্তর দিলো
তার রুমের কারেন্ট এর সুইচ এ মেবি প্রব্লেম ছিলো রাতে রুমে লাইট অন করতে যেয়েই হাতে শক খেয়ে অনেক টা কেটে যায় হাত।।


রুমের সাথে বারান্দায় গিয়ে তীব্র পকেটে হাত দিয়ে এক মনে তাকিয়ে আছে, হঠাৎ রুমে নক পড়লো দরজা খোলতেই অনেক টা অবাক হলো তীব্র, মিশান এসেছে মিশানের পিছনে এক হোটেল বয় খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,

মিশান-আসতে পারি?
তীব্র- হ্যাঁ আসো, হঠাৎ কি মনে করে রুমে এলে?
মিশান-বলছি বলছি,,
(মিশান হোটেল বয় কে ইশারা করতেই খাবার টি টেবিলে রেখে চলে গেলো তীব্র তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে)
তীব্র- খাবার এনেছো কেনো?
মিশান- আপনার জন্য!
তীব্র- আমার খিদে নেই, খাবো না.
মিশান- মন খারাপ?(পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে)
তীব্র- মন খারাপ হবে কেনো?
মিশান- আপনার কথায় প্রকাশ পাচ্ছে।।
তীব্র- হুমহ(তুচ্ছ হাসি দিয়ে)
মিশান- আচ্ছা যাই হোক খাবার টা খেয়ে নিন,না খেলে শরীল খারাপ পড়বে।
তীব্র- বললাম তো খিদে নেই.
মিশান- খিদে নেই নাকি হাতে ব্যান্ডেজ বলে খেতে পারছেন না, কোনটা?
তীব্র-………………..
মিশান- বসুন
তীব্র- কেনো?
মিশান -আরে বসুন তো আগে, এতো প্রশ্ন করেন কেনো?

তীব্র সোফায় বসতেই মিশান তীব্রর সামনে বসলো,
টি টেবিলে রাখা খাবার টা নিয়ে নিজের হাতে তীব্রকে খাবার টা খাইয়ে দিতো গেলো তীব্র খানিক টা না অনেক টাই অবাক হলো মিশান তীব্রকে খাইয়ে দেবে ভাবনার বাইরে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিশানের দিকে?

মিশান- কি হলো তাকিয়ে আছেন কেনো? নিন খান?

তীব্র চুপ চাপ খেয়ে নিলো খাবার আর মিশানের দিকে তাকিয়ে আছে ,মিশানকে দেখে কত নরমাল লাগছে অথচ এই মেয়েই নাকি এতো হিংস্র রূপ নিতে পারে, সত্যি মিশান এমন এক নাম যে নাম টা শুধু ওর সাথেই মানায়, পরিবেশের সাথে যেনো অও বদলে যায়!!


খাবার খাওয়া শেষ, মিশান তীব্রর পাশে বসে আছে টুকটাক কথা বলছে আজকের বিকেলের ফ্লাইটে ওরা যার যার দেশে পাড়ি জমাবে…

চলবে……

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।