দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

দি মাফিয়া কিং ভার্সেস কুইন

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 14+15

তীব্র- আচ্ছা মিশান তুমি এই পেশায় কতো বছর ধরে নিয়োজিত??
মিশান- ৮/১০ বছর
তীব্র- তুমি এতো ভাল স্টুডেন্ট এতো ভাল রেজাল্ট, ভাল কিছু করতে পারতে, তাহলে এই প্যাশন?? ক্যানো?
মিশান- এই মাফিয়া রাজ্যে পা দিয়েছিলাম একটা মিশনে কিন্তু কালে কালে এটা আমার জীবনে প্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে (অনেক টা মন ভার করে)

তীব্র- ঠিক বোঝলাম না!
মিশান- পরে বলবো নি কেমন? আপনি রেস্ট নিন!(বলেই উঠে দাঁড়ালো)
তীব্র- রাগ করে চলে যাচ্ছো??
মিশান-এখানে রাগ করবো কেনো?
তীব্র- না এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছ ভেবে বললাম,,
মিশান- মুড নেই বলার,,, অনেক সময় আছে মিস্টার তীব্র, আরো হাজার বার দেখা হবে যদি কখনো বলার মুড হয় তখন বলবো (তীব্রর দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলেই চলে গেলো()

মিশানের এভাবে এড়িয়ে যাওয়া টা তীব্রর পছন্দ হলো না, অনেক টাই রাগ হলো তীব্রর মুখের উপর নিজের দর দেখিয়ে চলে গেলো ভেবেই রাগ হচ্ছে,, তীব্রর কাছে এটা অনেক টা বেয়াদবির মতো লাগলো।।


মিশান টা ভুলে গেছে তীব্রর প্রতি ওর দুর্বলতা, মনে মনে মিশান কিছু একটা নিয়ে হিসেব মেলাতে ব্যাস্ত,, যা কাউকে বোঝতে দিতে চাইছে না,, মিশানকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে অংক টা।।

বিকেল হতেই জাপান বিদায় নিয়ে যার যার দেশে পারি জমানোর উদ্যেশে বেড়িয়ে গেলো এয়ারপোর্ট এর উদ্যেশে,,

এয়ারপোর্ট এ শেষ বারের মতো দাঁড়িয়ে কথা বলছে তীব্র মিশান,,
মিশান- সো মিস্টার তীব্র শুধু কাজের জন্য নয় সময় করে অবশ্যই অবশ্যই লন্ডন বেড়াতে আসবেন।
তীব্র- হ্যা একই কথা তোমাকেও,বাংলাদেশে অবশ্যই যাবে বেড়াতে।।
মিশান- বাংলাদেশে তো যাবোই, কিন্তু আপনার কিন্তু মাস্ট আসা চাই লন্ডন, একজন বিজনেস পার্টনার হিসেবে নয় এজ এ ফ্রেন্ড ইনিভাইট করছি আসবেন কিন্তু?(আগ্রহ নিয়ে)
তীব্র- অবশ্যই আসবো,,,, সোওওওওওও (লম্বা টান দিয়ে) আব…..টেক কেয়ার অফ ইউর সেল্ফ!
মিশান- হুম আপনিও ভাল থাকবেন!
তীব্র- গুড বাই মিশান (বলেই হ্যান্ডশেক এর জন্য হাত বাড়ালো)
মিশান- আবার দেখা হবে( বলেই তীব্রর সাথে হাত মেলালো,,
দুজন দুজনকে বাই জানিয়ে দুই দিকের গন্তব্যে চলে গেলো,,


প্লেন আকাশ পথে যাত্রা শুরু করার পর দুজনের মনে হলো একজন আরেকজনকে মিস করছে।।কেনো জানি ভেতর থেকে একটা অন্য রকম চিনিচিনে ব্যাথা অনুভুতি হচ্ছে দুজনের ই,,এই চিনচিনে ব্যাথার কারণ ওরা নিজেরাই নিজের আত্তার উপর জুলুম করে আত্তার চাওয়া কে প্রাপ্তি না দিয়ে মস্তিষ্কের কথা কে প্রশ্রয় দিচ্ছে,,, ভিতরের কথাগুলো প্রকাশ করার কায়দা টা কারো জানা নেই।।।

বাংলাদেশে পা পড়তেই তীব্র মিনিট খানিক দেড়ি না করে অফিসে চলে গেলো , প্রিতম পলাশ কে বাড়িতে চলে যেতে বলেছে কারণ তুলনামূলক ভাবে সব গার্ড দের থেকে তীব্র ওদের দুজনকে খাটায়, ওরা দুজন সব থেকে বিশ্বাসী কর্মী।।

তীব্র অফিস যেয়েই কাজে লেগে গেলো বাংলাদেশে তীব্রর আত্তীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব এর থেকে শত্রুর পরিমান অনেক বেশি!

পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট হাতে নিয়ে টানছে আর ল্যাপটপ এ কিছু একটা দেখছে, তীব্রর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ১০/১২ জন গার্ড।।। ল্যাপটপে একটা ভিডিও টেনে টেনে দেখছে,,

তীব্র-মেয়েটাকে কোথায় মেরেছে?
-স্যার মতিঝিল ব্রিজের আগে ,, মেয়েটা ভিডিও তার এক কাজিন কে পাঠায় আর ফোন টা নিয়ে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগেই ওকে রাস্তাই গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে দেয়।। ওর বয়ফ্রেন্ড ওর আইডির পাসওয়ার্ড জানতো ওর আইডি তে এই ভিডিও দেখার পর সাথে সাথে ও সবুজ কে দেখায়

তীব্র- সবুজ?
-স্যার আমাদের গ্রুপের যে নিউ এসেছে ধানমন্ডির টাই
তীব্র- অও আই সি…

তীব্র এতক্ষণ যে ভিডিও টা দেখছিলো এটা ছিলো তীব্রর চির শত্রু আলি আজাজ নারী পাচারকারীর, একটা মেয়ে দেখে সেটা ভিডিও করেছিলো,, ।।ভাল ঘরের সুন্দর মেয়েদের কিডন্যাপ করে বিভিন্ন দেশে বেচে দেয় আলী আজাজ।।।

তীব্রর ব্যাবসায় আর যাই হোক দুটো জিনিস নেই নারী পাচার আর মাদক দ্রব্য,, এগুলো কে তীব্র অতি নিম্ন মানের মনে করে।। কঠিন হিংস্র তীব্রর পেছনে কোনো এক নরম মনের তীব্রও বাস করে,,প্রায় দু’ শ মেয়ে হবে, এতো গুলো মেয়ের জীবন এভাবে শেষ হতে দেবে না।।।।

রাত প্রায় ১২ টা বাজে,
সামনে রক্তাক্ত এক পুরুষ বসে আছে তীব্রর সামনে , ছেলেটাকে প্রচুর মারধোর করা হয়েছে, ছেলেটা আর কেউ নয় রুমি নামের মেয়েটা যে কাজিন কে ভিডিও দিয়েছিলো সেই ছেলে..
-স্যার আমি সত্যি বলছি আমি কিছু জানি না স্যার!
তীব্র- তাহলে তুই পুলিশ কে ইনফরমেশন দিস নি কেনো??তোকে ভিডিও টা দেয়ার পর মেয়েটাকে গাড়ী চাপা দেয়া হয়েছে মানলাম তুই কিছু জানিস না, তাহলে তুই এই ভিডিও দেখা সত্যেও কাউকে জানাস নি কেনো?
– স্যার স্যার সত্যি বলছি, আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যদি রুমির মতো আমাকেও মেরে দেয়, সেটা ভেবেই স্যার আমি কাউকে কিছু বলিনি!!!

এবার তীব্র হাতে পিস্তল নিয়ে ছেলেটার দিকে তাক করলো
তীব্র- এবার তো সত্যি টা বল?যাহ তোকে কথা দিলাম মরার আগে তোর শেষ ইচ্ছে টা পূর্ণ করবো, এখন সত্যি টা বল না হলে আমার বলতে দেড়ি কিন্তু বন্দুক থেকে চকলেট বের হতে দেড়ি হবে না, সো ইউর টাইম স্টার্ট নাও.
– স্যার স্যার বলছি বলছি মারবেন না আমায় স্যার প্লিজ প্লিজ স্যার(কান্না করতে করতে হাত জোড় করে বলছে)
– স্যার আমি রুমি কে পছন্দ করতাম কিন্তু ও আমি ওকে বলার আগেই ও অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় ও সব সময় আমায় ভাইয়ের চোখেই দেখতো অনেক চেষ্টা করেছি ওদের সম্পর্ক নষ্ট করার কিন্তু পারি নি,ওদের বিয়েও ঠিক হয়ে যায় তাই মেনে নিতে পারি নি আমি এটা।
আমার এক এলাকার বড় ভাই আছে আলি আজাজের ডান হাত, আমি তার সাথে যোগাযোগ করে ওকে কিডন্যাপ করাই আর ও কোনো ভাবে পালিয়ে আসে আর অই খানে আরো মেয়েদের আটকে রাখা হয়েছে অন্য একটা ডেরায় ও মোবাইলে অই খানকার সব কিছু ভিডিও করেছে আমাকে জানাতেই আমি অই ভাই কে দিয়ে দেই তারপর ওকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলা হয়…..
স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে স্যার।।

ছেলেটা খুব কাঁদছে, কিন্তু তীব্র ছেলেটার সব কথা শুনার পর এক সেকেন্ড ও সময় না দিয়ে ওকে শুট করে দেয়,,!!,

তীব্র অলরেডি খুঁজ পেয়ে গেছে মেয়ে গুলো কে কোথায় আটকে রেখেছে,,,চকবাজারের একটা পুড়া বাড়ির পেছনেই ডেরার মতো আছে সেখানেই মেয়ে গুলো কে রেখে দেয়া হয়েছে।।
দেড়ি না করে পুরো টিম নিয়ে তীব্র বেড়িয়ে গিয়েছে সেখানকার উদ্যেশে।। যত গুলো গার্ড ছিলো সব কটাকে মেরে মেয়ে গুলো কে উদ্ধার করা হলো, যার যার ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হলো মেয়ে গুলো খুব করে তীব্রর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো।।।

রাত প্রায় ৩ টে বাজে তীব্র সবে মাত্র বাড়ি ফিরলো মাথা টা কেমন যেনো ব্যাথায় চাপ ধরেছে, ফ্রেশ হয়েই বিছানায় গা ভাসিয়ে দিলো।।

রাত মানেই সব ছাদে দাঁড়িয়ে এক মনে আকাশের তারা দেখা, মিশান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে , আজ কেনো জানি খুব বেশি একা একা লাগছে। শুন্য শুন্য লাগছে কেনো জানি,, এমন সময় ছাদের গেটে নক পড়লো
-ম্যাম আসবো?(ভয়ে ভয়ে)
মিশান পিছনে ফিরে তকিয়ে দেখলো জেসি এসেছে। মিশান পারমিশন দিলো।।
মিশান- বলো কি বলবে?
জেসি- ম্যাম আসার পর থেকে কিচ্ছু খান নি, আপনার কি শরীল খারাপ করছে??
মিশান- নাহ এমনি খেতে ইচ্ছে করছে না কিছু।
জেসি- ম্যাম স্যার বার বার জিজ্ঞেস করছে আপনি খান নি কেনো আপনাকে ফোন করছে অনেক বার আমি বলেছি আপনি ছাদে, স্যার বলেছে আপনাকে খাইয়ে তাকে জানাতে।।
মিশান- আমি কি ছোটো বাচ্চা??(কঠিন ভাবে বললো)
জেসি- মানে ম্যাম,বোঝলাম না!! (ভয়ে ভয়ে)
মিশান- আমার খিদে পেলে আমি খেয়ে নেবো, এতো টেনশনের কিছু নেই আমি ঠিক আছি।
জেসি- ঠিক আছে ম্যাম তাহলে আমি আসছি।
মিশান- আমি কি যেতে বলেছি?(চোখ গরম করে তাকিয়ে)
জেসি- না মানে ম্যাম্ম,সরি ম্যাম?
মিশান- এখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে।
জেসি -ওকে ম্যাম।

মিশান আবারো আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো কোনো কথা বলছে না, পাশেই জেসি দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে,,
জেসি খুব ই শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে, ধবধবে ফর্শা গায়ের রঙ লাল টকটকে ঠুঁট মায়াবী চোখ , মেয়েটার কেউ নেই অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে, মিশানের বাবা মিশানের দেখাশুনা করার জন্য বাংলাদেশ থেকে মেয়েটাকে এনেছে অনেক বছর ধরে,বয়সে মিশানের থেকে ছোটোই হবে, জেসির কাজ মিশান ঠিক মতো ও খেলো কিনা, কি খাবে, মিশান কোন জামা পড়বে সেটা রেডি করে দেয়া মিশানের চুল আচড়ে দেয়া এই সব।।।

কিছুক্ষন পর মিশান বলে উঠলো।
মিশান- আচ্ছা জেসি তোমরা আমাকে দেখে ভয় পাও কেনো?
জেসি- ম্যাম মানে, মানে ম্যাম ভয় ক ক করে।।
মিশান-ওকে ফরগট ইট.তুমি মেয়েটা খুবই ভাল,,এতো এতো গার্ড আমার তারা বিপদে আমাকে প্রটেক্ট করার জন্য আর তুমি শুধু আমার পেছনে খাবারের প্লেট নিয়ে দৌড়ানোর জন্য, তবুও আমার তোমাকেই ভাল লাগে, তোমার মধ্যে না একটা মা মা ভাব আছে ভবিষ্যৎ এ তোমার সন্তানদের ভাল মা হতে পারবে।।

জীবনের প্রথম মিশানের মুখে এমন কথা শুনে জেসি একটু না অনেক বেশিই অবাক হলো, মিশান কোনো দিন ই গল্প করার জন্য কারো সাথে ৫ মিনিট সময় নষ্ট করে নি, কাজ ছাড়া কারো সাথে একটা ছাড়া দুটো কথা বলে নি,, শুধু মাত্র মাঝে মাঝে মিশান ওর বাবার সাথে দুই একটা কথা বলে অবসর সময়েও মিশান একাই থাকে,চুপচাপ থাকা আর একাকীত্বের মাঝে যেনো ওর অন্য রকম টান, একা থাকতেই মিশান ভালবাসে।।।। আজ কি মনে করে এই প্রথম কাজের ট্রপিক ছাড়া ইজিলি ভালমতো কথা বলছে, যেখানে মিশানের প্রতিটা কথায় রাগ প্রকাশ পায় সেখানে এতো ঠান্ডা মেজাজে কথা বলছে।।। জেসি চুপচাপ মিশানের কথা শুনে যাচ্ছে।।।

মিশান- তো বিয়ে করছো কবে জেসি?
জেসি- বিয়ে মা মা মানে ম্যাম!!!! (কথা টা শুনে ভিতরে ধক করে উঠলো))
মিশান- প্রিতম ছেলেটা ভালোই অনেক সুখে রাখবে তোমায়…অবাক হচ্ছো আমি কি বলছি এসব ভেবে??
জেসি- হুম (ভয়ে ডুক গিলে গিলে(
মিশান- মিশানের চোখ ফাঁকি দেয়া টা এতো ইজি না,, এতো বছর ধরে চলছো আমার সাথে এইটুকু বুঝলে না আমায়, প্রিতমের সাথে তোমার চোখা চোখি হয় সেই বিয়ে বাড়ি থেকে,আমার ধারণা যদি ভুল না হয় তোমরা ইন এ রিলেশনশিপ???
জেসি- হ্যা ম্যাম(ভয়ে কান্না কান্না অবস্থা)
মিশান- আরে ভয় পাচ্ছো কেনো ভয়ের কিছু নেই এখানে, জীবনে চলার পথে কাউকে ভাল লাগতেই পারে,,যাও তোমাকে আমি কথা দিলাম নেক্সট টাইম বাংলাদেশে গিয়ে তোমাদের ধুম ধাম করে বিয়ে দেবো আমি নিজে থেকে,, ওকে??

জেসি বোঝতে পারছে না কি রিয়্যাকশন দিবে, মিশানের কথা গুলো কান বিশ্বাস করতে চাইছে না,, আধৌ কি সত্যি শুনছে নাকি স্বপ্ন!!!!!!

রুমে যেয়েই মিশান বিছানায় গা এলিয়ে দিলো, কেনো জানি মনে হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে গেছে ও কিছু একটা!! জেসি মিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মিশান চুপচাপ বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে।।

কি অদ্ভুত এই মিষ্টি মেয়ে টা দেখতে কতো শান্ত আর ঠান্ডা মেজাজ এর অথচ এর ভিতরে দয়া মায়া বলতে নেই, ভেতরে শুধু রাগ আর জেদ কে পুষে রেখেছে,, রেগে গেলে কতো হিংস্র রূপ ধারণ করতে পারে সেটা ওর চেহারা দেখে আইডিয়ার বাইরে….

চলবে…….

#The_Mafia_King_VS_Queen
#Writter :-Riya Khan
#Part:- 15

সকাল হতে হতে না হতেই আলী আজাজ এর মাথায় বাজ পড়েছে তার এতো বড় একটা লস হয়ে গেলো, সমস্ত ডিল কম্পলিট ছিলো আজকের রাত পোহালেই মেয়েদের পাচার করা হয়ে যেতো,, দুই একটা মেয়ে না পুরো দু ‘শ টা মেয়ে,, এতো বড় ধাক্কা আলী আজাজ কোনো ভাবেই নিতে পারছে,, আলী আজাজ ভাল করেই জানে এই কাজ টা তীব্র ছাড়া আর কেউ করতে পারে না,,, রক্তচক্ষু নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে আলী আজাজ!!

-যতবার ঘর থেকে বের হয় মানুষ টা ততবার আতংক নিয়ে থাকতে হয়,, এই সময় এতো টেনশন কুলায়!,,এই মৃত্যু মৃত্যু খেলা আমার আর ভাল লাগে না,, আজ বাদে কাল বাবা হবে তার কোনো হুদিস ই নেই উপর আলা কে কতো ডাকি সে কি আমায় একটু তাকিয়ে দেখতে পারে না, আমার লাগবে না এতো টাকা শুধু একটু সুখ চাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাই, শুনে না আমার কথা উপর আলা
(সকাল হতেই পলাশের স্ত্রী বক বক শুরু করে দিয়েছে, বিছানা গুছাচ্ছে আর একা একা বক বক করছে)

পলাশ- এই তুমি থামবে??কি শুরু করলে আমি কি বাসা থেকে বের হয়ে যাবো??
-থামবো আমি, সেদিন ই থামবো যে দিন তুমি এই পেশা টা বাদ দিয়ে সৎ পথে ভাল কিছু করবে!
পলাশ- আমি কি কারো টাকা মেরে খাচ্ছি?? কারো মাথায় বারি দিয়ে টাকা কামাই করছি?? শুনো আমি যে টা করছি সেটা একদম হালাল,,আর কি হ্যা কি??এতো চেঁচানোর কি হলো?? কি পাও না তুমি কিসের এতো অভাব যে তুমি সুখে নেই বলছো??
-তোমার অভাব, তোমার সময়ের অভাব, আরো কিছু জানতে চাও সুখি না হওয়ার কারণ??
পলাশ- কেনো আমি কি তোমায় ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে যাই? নাকি রাতে ঘরে ফিরি না কোনটা??
– পলাশ আমি প্রেগন্যান্ট (অভিমানী স্বরে)
পলাশ- হ্যা তো কি হয়েছে? তুমি প্রেগন্যান্ট বলে কি আমি কাজে যাবো না??ঘরে বসে থাকবো?? দুনিয়াতে কি আর কারো বাচ্চা হয় না?? যাদের স্বামী বিদেশ থাকে তাদের হয় না??
– তোমার সাথে এতো যুক্তি দিয়ে আমি থাকতে পারবো না,, সবার সাথে তোমার তুলনা না, তুমি যে পেশায় আছো সে টা আমার সমস্যা,পলাশ আমার ভাল লাগে না, যতবার তুমি ঘর থেকে বের হও ভেতরে এক অজানা ভয় চলে আসে, এই ভেবে তুমি আবার ঘরে ফিরবে তো?যখন ফোন করি তোমায় তুমি রিসিভ না করলে ভয় করে কিছু হলো না তো তোমার?,,তোমায় ভালবেসে সব ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলাম একটু সুখে থাকতে তোমার বুকে মাথা রেখে সাড়াটা জীবন কাটাতে,,কিন্তু দেখো কি ছিলো আমার ভাগ্যে..
পলাশ-মিনি
(আবেগী স্বরে ডাক দিয়ে , বউ এর হাত ধরে টান দিয়ে কাছে এনে বলতে লাগলো)
তোমার ভালবাসা আমায় কখনো হারাতে দেবে না! তোমার তো আর অজানা নেই মিনি বিয়ের পর আমাদের কেমন দিন যাচ্ছিলো খেয়ে না খেয়ে কতো কষ্টের দিন ছিলো সেই সময় তীব্র স্যারকে পাশে না পেলে আজকে আমরা এই জায়গায় থাকতাম না, ভাল খাচ্ছ ভাল পড়ছো এসবটা তীব্র স্যারের জন্যই,, উনি কখনো আমাদের গায়ে আঁচ লাগতে দেবেন না, তীব্র স্যার আমাদের ভাইয়ের মতো দেখেন কখনো আমাদের নকারের চোখে দেখে না,, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো নিজের খেয়াল রাখো আমাদের বাচ্চাটার একটা ভবিষ্যৎ আছে তো বাবা মা হয়ে আমাদের কতো দায়িত্ব বলো তো।। (বলেই বউ এর কপালে চুমু খেলো)


আকাশ টা মেঘলা মেঘলা খানিকটা অন্ধকার ছেয়ে এসেছে চারপাশে,,,
সকালে ঘুম থেকে উঠার পর কেমন যেনো লাগছে মিশানের ফ্রেশ হয়ে কফি হাতে নিয়ে বারান্দায় আনমনে বসে আছে আকাশ পানে তাকিয়ে,,,কিছু একটা ভাবছে, জেসি এসে মিশানের পেছনে দাঁড়িয়ে চিড়ুনি নিয়ে চুল গুলো আচড়ে দিচ্ছে,,,

জেসি- ম্যাম একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
মিশান- বলো( কফি খেতে খেতে)
জেসি- আপনাকে কখনো এমন ভাবে দেখিনি দু দিন ধরে কেনো জানি আপনার চেহারায় একটা চিন্তার ছাপ এসে গেছে!দেখে মনে হয় আপনি অসুস্থ!
মিশান- একটা অংক মেলানোর খুব চেষ্টাই আছি মিলছে না জেসি!!আচ্ছা জীবনে চলার পথে কি সত্যিই কাউকে প্রয়োজন হয়?? ভালবাসা কি?? এটা সত্যিই খুব প্রয়োজন?? বাবা মা ছাড়া আর কাউকে কি সত্যি ভালবাসা যায়?
জেসি- প্রতিটি মানুষের জীবনে কেউ না কেউ আসে যে অপর মানুষ টার জীবনের চিনচিনে ব্যাথা গুলো দূর করে দেয়ার জন্য, ভালবাসা হলো সেই অনুভুতি যেখানে ভালবাসার মানুষ টা পাশে থাকলে নিশ্চিন্তে মৃত্যুকে বরণ করা যায়!! ভালথাকার জন্য ভালবাসা টা জরুরি, যাই হোক আপনি তো এসব বোঝবেন না তাই বলেও লাভ নেই।।

মিশান- আমার মা, সে শুধু মা ছিলো না, ছিলো আমার কমরেড, মা কে ছাড়া কিছুই বোঝতাম না, মাকে এতো বেশি ভালবেসেছিলাম উপর আলা আমার মা টা কে নিয়ে নিলো।।। খুবই খারাপ ভাবে নিয়েছে,,, আমার মাকে ভালবাসার পরিণাম এ পেয়েছি চোখের সামনে মায়ের ভয়ংকরী মৃত্যু!! এই জীবনে আর কাউকে ভালবাসতে চাই না , নতুন করে আর কাঁদতে চাই না!!!নিজেকে সব সময় বন্দি করে রাখি এই জন্যই যেনো কাউকে ভালবেসে না ফেলি,,এই দেখো কাল রাতে তোমার সাথে একটু কথা বলেছি আর তোমার প্রতি আমার দূর্বলতা চলে এসেছে মনে হচ্ছে আমার কোনো ছোটো বোন তুমি,, সবাই শুধু মিশানের কঠিন রূপ টাই জানে ভেতর টা যেনো না জানে তাই সব সময় নিজেকে একা করে রাখি!! ভয় আতংক এগুলোই না আমাকে দিনের পর দিন হিংস্র করে দিয়েছে!!!(

কথা গুলো বলতে যেয়ে কেনো জানি মিশানের গলা টা ধরে এলো,,জেসি বোঝতে পারলো মিশানের খারাপ লাগছে,, আবার অবাক ও লাগছে মিশান খান এর মতো কঠিন পাথরের মাঝেও ইমোশন বলে কিছু আছে!!

জেসি মিশানের সামনে যেয়ে ফ্লুরে বসে পড়লো মিশানের চোখের দিকে তাকালো মিশানের চোখ টলটল করছে,, মিশান হাতে কফি মগ টা নিয়ে মগের ভেতর টার দিকে তাকিয়ে আছে,,

জেসি- ম্যাম?
মিশান- হুম বলো
জেসি- আপনার খুব কষ্ট তাই না??
মিশান- নাহ, মিশান খানের কোনো কষ্ট নেই, আ’ম অলরাইট জেসি, তোমাকে আমায় নিয়ে ভাবতে হবে না,তুমি তোমার কাজ করো.
জেসি- ম্যাম আপনি আমাকে ছোটো বোন মনে করে শেয়ার করতে পারেন!
মিশান- হুমহ!মানুষ বলে ভেতরের কোনো কষ্ট শেয়ার করলে কষ্ট নাকি কমে যায়,,,কিন্তু জানো কি জেসি আমার ক্ষেত্রে না উলটো আমার কষ্ট মনে করতে গেলেই আমার সেই ভয়ংকর অতীত মনে পড়ে যায়!! ভেতরে আগুন নামক যন্ত্রণা ধাও ধাও করে জ্বলে..সব থেকে বড় কথা কি জানো জেসি আমার রাগ আর জেদ টাই আমাকে আরো বেশি নির্দয় করে দিচ্ছে,, প্রবাদ এর ধারায় হয়তো আমিও একদিন একা হয়ে যাবো আমার এই রাগ জেদের কারণে তাই আগে থেকেই নিজেকে একা করে দিয়েছি যেনো ভবিষ্যৎ এ কোনো একাকীত্বের অনুভব না হয়,,ফরগট ইট।।অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছি আমি অফিস যাবো এখন খাবার রেডি করো।।

বলেই মিশান উঠে চলে গেলো রুমে,, জেসির কেনো জানি মিশানের জন্য খুব কষ্ট লাগছে,,,গত রাতে থেকে মিশানের কথা বার্তা গুলো একদম অন্য রকম লাগছে, কথা শুনে মনে হচ্ছে না এটা সেই মিশান যাকে সবাই চেনে আড়ালে আড়ালে অন্যরূপ এর মিশান বাস করে।।।।

বেলা প্রায় ১২ টা বাজে,
গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরলো মিশান অফিসের উদ্যেশে,, আজকে গাড়িটাও নিজেই ড্রাইভ করছে, মিশানদের বাড়ি টা অক্সফোর্ড স্ট্রেট এ, অফিস টা টাওয়ার ব্রিজের থেকে আরো ১০ মিনিট পথ ,,,, অফিসে যাওয়ার পথে মিশান টাওয়ার ব্রিজের সামনে থামলো, পর্যটক বহুল জায়গাটাতে আজ মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে,গাড়ি ও নেই বললেই চলে,পরক্ষনেই মনে পড়লো আজকে ল্যান্ড মার্কে স্ট্রাইক চলছে,বেশ শুমশাম লাগছে ব্রিজের নিচে পানি টলমল করছে গাড় সবুজ রঙ এর পানির ওপর মৃদু বাতাস বইছে,,গাড়ি থেকে বেড়িয়ে মিশান একা একা দাঁড়িয়ে আছে,,, গার্ড রা কোনো মতেই মিশানের পিছু ছাড়ছে না,, মিশান বলার পর খানিকটা দূরে গার্ড দাঁড়িয়ে আছে এতে মিশানের যথেষ্ট বিরক্ত লাগছে।

কালো প্যান্ট কালো শার্ট পড়া মেয়েটা কালো সানগ্লাস পড়ে দাঁড়িয়ে আছে আলাদা কোনো সাজসজ্জা নেই লম্বা চুল গুলো জুটি করা ছাড়া আর কোনো ভাবেই রাখে না,,,
অশান্ত হিংস্র মেয়েটা কত শান্ত মনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।।কখনো এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে তো আবার কখনো পানির উপর তাকিয়ে থাকে….

অনেক বেলা হয়েছে চোখ থেকে ঘুম ছুটছেই না,,এরই মধ্যে তীব্র অনুভব করলো মুখের উপর কেমন ঠান্ডা ফিল হচ্ছে অনেক টা ঠান্ডা ফ্রিজের পানির মতো কিছুক্ষন পর চোখের উপর ঠান্ডা পানির সেই অনুভব,, অনিচ্ছাকৃত ভাবে চোখ খুলে তীব্র ছিটকে যায়, মুখ বরাবর ইফতি তীব্রর দিকে তাকিয়ে আছে এক গ্লাস পানি নিয়ে গ্লাস টার দিকে তাকাতেই দেখলো গ্লাসের গায়ে বিন্দু বিন্দু জলকনা তীব্রর
বোঝতে দেড়ি হলো না ইফতি এতক্ষণ ভরে ঠান্ডা পানি ওর মুখে দিচ্ছিলো

তীব্র- কি করলে এটা? দিলে তো শান্তির ঘুম টা নষ্ট করে!
ইফতি-বিচার করতে এসেছি রসের আলাপ করতে আসি নি!(তীব্রর সামনে বসতে বসতে)
তীব্র- কি বলবে বলো(অন্য মনষ্ক হয়ে)
ইফতি- এতো দিন তোমাকে ফোন দিলাম রিসিভ করলে না কেনো??
তীব্র- ইচ্ছে করে নি তাই।
ইফতি- ইচ্ছে করে নি মানে?? তুমি আমার ফোন রিসিভ না করে থাকতে পারলে!!!
তীব্র- ফাও প্যাঁচাল পাড়ার টাইম পাই নি(নাক ফুলিয়ে অভিমানি স্বরে)
ইফতি- এরে আমার ভাই আমার উপর রাগ করেছে,, জানতে পারি রাগের কারণ??(ন্যাকামি কন্ঠে)
তীব্র- মিশান সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কম্পিউটার সাইন্স এর উপর পি এইস ডি করছে, এই অব্দি ঠিক ছিলো।।।মিশান অনেক ভাল শান্ত শিষ্ট ইন্নোসেন্ট মেয়ে!!
এই রকম মিথ্যে টা আমার সাথে তুমি কোন আক্কেলে বললে?শি ইজ দ্যা টপ মাফিয়া ইন লন্ডন, হার নিক নেইম মাফিয়া কুইন!!!এটা কেনো আমাকে বলো নি তুমি???তুমি জানো না আমার কেমন মেয়ে পছন্দ??
ইফতি- জানি তো তোমার মিশানকে পছন্দ, আর সমস্যা কোথায় তুমিও যে রকম মিশান ও সেরকম তুমি তো জানো না তোমাদের জুটি টা হেব্বি মানাবে!!

চলবে…….

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।