নেকড়ে মানব

নেকড়ে মানব

নেকড়ে মানব
লেখকঃ মোঃ নাজিউল হক

সেদিন ছিল পূর্নিমার রাত।
চাঁদ ধীরে ধীরে রক্ত লাল হতে শুরু করেছে
বারান্দায় দাড়িয়ে অাছে অনিন্দ্য। তার প্রেমিকার অপেক্ষায়।
চারদিকে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে অাকাশে।
ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
ঘোর অমানিশা নেমে এসেছে।
ঠিক ঐ সময় দরজায় ঠকঠক শব্দ হলো।
তারপর দরজা অাপনাঅাপনি খুলে গেল।
অরুনিমা ভেতরে ঢুকলো।
ঘড়িতে তখন সময় রাত ১১.৫৫ মিনিট।
সময় ঘনিয়ে এসেছে অনিন্দ্যর।
অনিন্দ্য দৌড়ে নিচে অাসল।
অরুনিমা অনিন্দ্যকে জিজ্ঞেস করল, এত রাতে অামাকে ডাকার মানে টা কি????
অার এ কোন বাড়ির ঠিকানা দিয়েছ???
এটাতো তোমার অাগের বাড়িটা নয়,
অনিন্দ্য রাগী দৃষ্টিতে অরুনিমার দিকে তাকিয়ে অাছে।
অরুনিমা বললো, কোন কথা বলছ না কেন???
কি হয়েছে????
অনিন্দ্য কোন কথা না বলায়
অরুনিমা সেখান থেকে যাওয়ার জন্য সেই দরজার দিকে যাবে
তখনি অনিন্দ্য হাত টেনে ধরল অরুনিমার।
অরুনিমা তখন বললো, তুমি এতক্ষন কোন কথা বললে না,
অাবার রাগী দৃষ্টিতে অামার দিকে তাকিয়ে রইলে,
তুমি কি ভাবছ,
এর পরেও তোমার সাথে অামি কথা বলব।
এই বলে অরুনিমা হাত ঝ্যাংটা দিয়ে ছাড়িয়ে ওখান থেকে গেল।
ওদিকে রাত ১২টা বেজে গেছে।
অরুনিমা গাড়ির কাছে অাসার পর
সে দেখল অনিন্দ্য ওর দিকে দৌড়ে অাসছে,
দেখে মনে হচ্ছে ধরতে পারলে এখুনি খুন করে দেবে।
অরুনিমা গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করল,
কিন্তু গাড়ি কিছুতেই স্টার্ট দিচ্ছে না।
তখন অরুনিমা গাড়ি থেকে নেমে সামনের দিকে দৌড়াতে লাগল।
অনিন্দ্য অরুনিমার পিছন পিছন দৌড়াতে লাগল।
ধীরে ধীরে অনিন্দ্যর হাতের নখ বড় হয়ে যাচ্ছে,
মুখের দাত লম্বা হয়ে যাচ্ছে,
শরীর দিয়ে পশম বের হচ্ছে,
ধীরে ধীরে একটা ভয়ংকর নেকরে মানুষে  পরিনত হচ্ছে।
অরুনিমা দৌড় থামছে না,
ভয়ে কেঁপে উঠছে অরুনিমা অনিন্দ্যর রুপ দেখে।
অনিন্দ্য ততক্ষণে পুরো নেকড়ে মানুষে পরিণত হয়েছে।
অরুনিমা ক্লান্ত হয়ে একটা ঝোপের অাড়ালে লুকিয়ে পড়লো।
রক্ত পূর্নিমার চাঁদের অালো অনিন্দ্যর শরীরে পড়ল।
তখন অনিন্দ্য নেকড়েদের মত উচ্চ অাওয়াজে হু, হু করতে লাগল।
অার সেই চাঁদের অালোয় অনিন্দ্য নামক নেকড়ে মানুষটা এক ঝলকানিতে উধাও হয়ে গেল।।
অরুনিমা ঝোপের অাড়াল থেকে বের হয়ে অাসল।
তারপর অরুনিমা মন্দিরের ঘন্টার অাওয়াজ শুনতে পেল।
তারপর একটু এগিয়ে দেখল একটা পুরাতন শিব মন্দির।
তারপর অরুনিমা মন্দিরের দিকে এগোতে লাগল।
ঠিক তখন অাবারো নেকড়ে মানুষটা অামার সামনে চলে অাসল।
অরুনিমা জানত শিব মন্দিরের সিড়ি একবার স্পর্শ করতে পারলে কোন শয়তান নাগালের বাইরে চলে যায়।
তখন অরুনিমা শিব মন্দিরের সিড়ি ছোয়ার চেষ্টা করল।
নেকড়ে মানবটা অরুনিমার পা টেনে ধরল। অার পিছন দিক টেনে নিয়ে যেতে লাগল।
অরুনিমা কিছুতেই শিব মন্দিরের সিড়ি ছুঁতে পারছে না।
নেকড়ে টা অরুনিমাকে পিছন দিক টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
তখন কোনরকমে নেকড়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে অরুনিমা মন্দিরের দিকে ছুটতে লাগল।
তারপর ঘটল এক ভয়ংকর ঘটনা।
দেখল,
অনেক নেকড়ে মানব ওর সামনে দাড়িয়ে পড়ল।
কি করবে বুঝতে পারছিল না অরুনিমা।
ধীরে ধীরে নেকড়ে গুলো অরুনিমার দিকে এগিয়ে অাসতে লাগল।
তখন অরুনিমা কোনকিছু না ভেবে এক দৌড় দিল মন্দিরের দিকে।
তারপর যা হলো+++++++++++++++++
অনিন্দ্য নামক নেকড়ে বাদে সব নেকড়ে উধাও হয়ে গেল
অার অরুনিমা মন্দিরের সিড়ি ছুয়ে ফেলল।
তারপর নেকড়েটা ঝলসে মাটির সাথে মিশে গেল।
অরুনিমা বেহুশ হয়ে গেল।
ঘোর অমানিশা রাতের পর সকাল হলো,
অরুনিমা কোনরকমে বাড়ি গেল।
সেখানে গিয়ে অাবার বেহুশ হয়ে গেল।
যখন অরুনিমার জ্ঞান ফিরল,
তখন দেখল অনিন্দ্য ওর পাশে বসে অাছে।
অরুনিমা একটু ভয় পেল।
অনিন্দ্য অরুনিমাকে জিজ্ঞেস করলো,
ভয় পাচ্ছো কেন???
অরুনিমা তখন সবকিছু খুলে বললো।
তখন অনিন্দ্য বললো, অামি তো তোমাকে ফোন করে ডাকিনি,
তুমি কোথায় গিয়েছিলে????
অার তুমি যে জায়গার কথা বলছ,
সে জায়গাটা ভালো না,
অনেক ভয়ংকর ভয়ংকর ঘটনা ঘটে ওখানে,
ওখানে সবাই খুব কম যায়।
অরুনিমার মা বললো, তুমি ডেকেছো বলে অার না করিনি,
ও অাসলো না ভাবলাম তোমার ওখানেই থেকে গেছে,
অার ফোন ও করিনি।
তিন মাস পর++++++++++++++++
অরুনিমা এখন সুস্থ অাছে।
সামনে ওর সাথে অনিন্দ্যর বিয়ে।
ওদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে এখন। কিন্তু অরুনিমা তার প্রশ্নের উত্তর এখনো খুজে পায়নি যে কেন তার সাথে এরকম ভয়ংকর ঘটনা ঘটলো??

===========সমাপ্ত===========

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 1/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।