পরকীয়া

#পরকীয়া

✍#ঝিলিক_মুখার্জী_গোস্বামী

 

“আশ্বিনের শারদ প্রাতে” বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় পাড়ার মাইকে চলছে মহালয়ার আগমণীর বার্তা। ভোরে ওঠা ! কস্মিন কালেও আমার অভ্যাসের মধ্যে, একটি অভ্যাসগত কারণ হয়ে উঠতে পারেনি। বাড়ির লোকের অনেক চেষ্টায়, সমস্ত জল ঢেলে যখন আমি মনুষ্য রূপ পরিবর্তিত করে পেচক রূপ ধারণ করলাম। হায়!
হায়!
বলে বাড়ির লোক, আমার উপর ‘হায়’ লাগিয়ে তেজ্য সন্তানে পরিণত করল। আমিও কম যাইনা। বাক্স প্যাঁটরা, তলপি তলপা যা বংশগত সূত্রে পেয়েছিলাম সব কিছুকে লাইফ বয় সাবান মাখা বগলে, বগল দাবা করে বেরিয়ে পড়েছিলাম। বাড়ি ছেড়ে। গ্রাম ছেড়ে।

কলকাতায় এসে থিতু হতে সময় লেগেছিল বৈকি। এখানে আমার মায়ের কোনো ভাই থাকে না। না মায়ের কোন বাবা। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের কাছে, রেলিং ক্ষয়ে যাওয়া একটা দোতলা বাড়িতে টুক করে ঢুকে পড়েছিলাম। দোতলায় ওঠার সময় নীচের যা পরিবেশ চাক্ষুষ করেছিলাম, ওটা আমার ভবিষ্যৎ হতেই পারত। নীচে সারি দিয়ে ইউজ এন্ড থ্রো চারপেয়েগুলো সাজানো। বৃত্তাকার রজনীগন্ধার চাকা গুলো থেকে ভেসে আসছে মিষ্টি গন্ধ। সে সব তোয়াক্কা না করে, ইটের হাসি মাখা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলাম।

কলিং বেল বাজাতেই, “হরে রাম হরে কৃষ্ণ” বেজে ওঠায় নীচের পরিবেশ টা একবার কল্পনা করে নিলাম। মিনিট তিনেকর অপেক্ষায় থাকার পর, পাশবালিশ সাইজের এক ভদ্রমহিলা দরজা খুললেন। মুখ দেখে মনে হ’ল কতকাল তাঁর ইয়ে হয়নি। বা আমি এসেই কলিং বেল বাজাতে রাম-কৃষ্ণ মিলে তাঁর ইয়েতে ব্যঘাত ঘটিয়েছে।

ভিতর থেকে একটা বাজখাঁই গলে এমন ভাবে ভেসে এল, আকস্মিক ভয়ে হাত থেকে বাবার দেওয়া জন্মদিনের উপহার অ্যালুমিনিয়াম ট্রাঙ্ক হাত থেকে ফসকে গেল। কোনো রকমে ট্রাঙ্ক টা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। বাজখাঁই গলার আদেশ মিললে ঘরে প্রবেশ করলাম, পদযুগলে থাকা কিলো খানেক ধূলো নিয়ে।

-“কোথা থেকে আসা হচ্ছে?”
-“বাড়ি থেকে পালিয়ে?”

কাউচের উপর বিশালাকার বপু নিয়ে বসে আছে, স্লিভলেস নাইটি পরিহিতা এক মধ্য বয়স্কা ভদ্রমহিলা। আমার আবার ভীষণ নজর খারাপ। কারণে-অকারণে এর ওর শরীরের দিকে চোখ চলে যায়। এর জন্য আমার চোখ জোড়া দায়ি। পাপিষ্ঠ চোখদ্বয়, সোজাসুজি ভদ্রমহিলার পেশিবহুল হাতের দিকে। মনে মনে ভেবে ভেবে অনেকক্ষণ মনে করার চেষ্টা করলাম, ওনাকে কোনও বক্সিং রিং এ দেখেছি কিনা!

আমি আমার ইতিহাসের ইতিবৃত্তি করে, ভদ্রমহিলার থেকে তাঁকে “কাকিমা” ডাকার অনুমতি নিয়ে, বিরহে কাতর ক্ষয়িষ্ণু রেলিংএর বারান্দা ধরে একটা কুঠুরিতে সেঁধিয়ে গেলাম। থাকা-খাওয়া বাবদ ভাড়া মাত্র হাজার টাকা। বাড়ি থেকে বাবার পকেট কাটা কিছু টাকা থেকে কাকিমা কে হাজার টাকা দিয়ে বাকিটা রেখে দিলাম।

আরে! এনাকে তো কাল দেখলাম না। না কি জিরো ফিগারের বলে চোখে পড়ে নি। মনে হচ্ছে জামা-প্যান্টের ভিতর এক কাকতাড়ুয়া। যখন তেনার পরিচয় পেলাম, লজ্জায় কালীঘাটের মা কালীর মতো একহাত জীভ বেরিয়ে গেল।
ছিঃ। ছিঃ।
ইনি হলেন বক্সিং ফিগার ওয়ালা কাকিমার, জিরো ফিগারের করিনা কাপুর ওয়ালা হাফপ্যান্ট। ইয়ে মানে হাজব্যান্ড। কু চিন্তা আমার মাথায় সারাদিন ঘুরঘুরে পোকার মত ঘুর ঘুর করছে। আমার চিন্তার দাগ নীল হয়ে নীল দাগের সীমায় পৌঁছে গেছে।
********

নয় নয় করে কাকিমার কাছে বছর তিন হয়ে গেল। চুটিয়ে টিউশন পড়াচ্ছি। কাকিমার সাথে ঘনিষ্ঠতা হিমালয়ের পিকে এমন ভাবে পৌঁছে দিয়েছি যে, হাজার এখন পাঁচশত তে এসে ঠেকেছে। বাকি টাকায় নিজের ডেনিমের পকেট গরম করে, সকাল বিকেল মোড়ের মাথায় ঠোঁট গরম করে আসি। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড মেশানোর দায়ভার ও দায়িত্ব করে নিয়ে নিয়েছি। এক এক সময় মনে হয়, সবুজ পাদপগুলো আমার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে। এইবুঝি ঠাঁটিয়ে একটা দিল।

আমার সুখবরের মতো আরও একটি সুখবর আপনাদের দিই। আমি তো আজকাল ভালোই আছি। রাত গুলোও আলো হয়ে আছে। কাকা-কাকিমার রাতগুলো নীল থেকে লালে এসে পৌঁছেছে। জিরো ফিগারের কাকার এত ক্ষমতা!
একসাথে যমজ পুত্র-কন্যার জন্ম দিয়েছেন, আমার আপাতত হওয়া কাকিমা। সেই উপলক্ষ্যে একদিন লুচি-পায়েস খাওয়ানো হল আমাকে।

তবে এই সুখ বেশী দিন টিকল না। কাকা-কাকিমার সংসারে শোকের ছায়া নামল। সেই ঘটনা বলি?
আমার করিনা কাপুর কাকা। রাতের খাবার শেষ করে বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিয়ে, গান গেয়ে হাই তুলে; হাঁ করা মুখের সামনে আঙুল দিয়ে টকাস টকাস আওয়াজ তুলে পায়েস খেয়ে আয়েস করছে। চোখে সবে নিদ্রা দেবীর আগমণ হচ্ছে হব করছে….

-” একটু সরে শুতে পার না?”

কাকিমার কথায়, জিরো ফিগারের কাকা হাড় জর্জরিত শরীরে ফতুয়া চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ল। পরদিন সকাল থেকে কাকার কোনো খোঁজ নেই। কাকিমার কান্নায়, দোতলা বাড়ির নীচ বন্যরা দখল করেছে। মিউনিসিপল কর্পোরেশন থেকে এসে জল ক্লিয়ার করা হচ্ছে বারবার। তাতেও কাজ হচ্ছে না। কর্পোরেশন এর লোক কাকিমার হাতে নোটিশ ধরিয়েছে। কান্নাকাটি বন্ধ করার নোটিশ।

এরকম করে মাস খানেক যাওয়ার পর একটি চিঠি এল কাকিমার নামে।

-“হাওড়া অবধি সরেছি। আর সরব?”

কাকার পাঠানো চিঠি পড়ে আমি আর কাকিমার মুখের মধ্যে একটি গহ্বর সৃষ্টি হল। সেই গহ্বর থেকে বত্রিশ নম্বর দন্তক লাইন স্ট্রিট বেরিয়ে এল। হঠাৎই কাকিমা বলে উঠল,

-“রোগা লিকলিকে। আমার কথার কি মানে করেছে!”

অনেক চিঠি চাপাটির পর, কাকতাড়ুয়া কাকাকে আবারও কাকিমার ক্ষেতে আনা সম্ভব হয়েছে।
******

বিশ্বকর্মা পূজো সামনেই। কাকা আমাকে বগল দাবা করে বাজার থেকে তিন চারটে লাটাই। সুতো। চাঁদিয়াল, পেটকাটি; বগ্গা এরকম করে বেশ কিছু পরিমাণে ঘুড়ি কিনতে গিয়ে একরকম ঘুড়ির আড়ত তুলে নিয়ে এল।

আমি আর কাকা মিলে ছাদে উঠে সুতোয় মাঞ্জা দিচ্ছি। এমন সময় কাকা,

-“জানিস? তোর কাকিমা আজকাল আমাকে আর লাভ করতে দেয় না।”
-“বাচ্ছা দু’টো কে নিয়েই ব্যস্ততা তুঙ্গে তার।”
-“আমিও তো মানুষ। আমারও তো…..”
-“চুমুটা অবধি…..”

আমার মতো ব্যাচেলার কে এসব কথা বলার মানেটা কি? এসব বলে যে….

বিরক্ত হয়ে কাকাকে অজান্তেই ধমক দিয়ে উঠলাম।
-“তুমি থামবে?”

আমার অকৃত্রিম রাগ দেখে কাকা মিইয়ে যাওয়া পটাটো চিপসের মতো চুপসে গেল। আবারও আমরা সুতোতে মাঞ্জা লাগানোর কাজে মন নিবেশ করলাম।

দেখতে দেখতে বিশ্বকর্মা পূজো চুকে গেল। ভোকাট্টা শব্দ টা মিলিয়ে গেল। কিন্তু কাকার ঘুড়ি ওড়ানো শেষ হল না। কি যেন একটা মাদকের নেশার মতো কাকা সারাদিন ঘুড়ি উড়িয়ে চলেছে। ঘুড়ি বানানোর দোকান থেকে স্পেশাল ডিজাইন ওয়ালা ঘুড়ি কিনে নিয়ে এসেছে গুচ্ছের। কাকিমার বকাবকি তে এক সময় এসে শুধুমাত্র চারটি গিলেই আবারও ছাদে চলে যাচ্ছে। কাকিমার প্রতি, বাচ্ছাগুলোর প্রতি দিনের পর দিন চুম্বকত্ব কমতে থাকছে।

এরকম করে অনেকদিন গেল। কাকার পাগলামি চুড়ান্ত হয়ে উঠেছে। বাড়ির ছাদে ঘুড়ির বাস। হরেক রকমের হরেক ডিজাইনার ঘুড়ি। প্রথমটা ভেবেছিলাম, পাশের ছাদের প্রেমে পড়ে নি তো? ওই চুমুর বিরহে। এরকম আশঙ্কা নিয়ে একদিন ছাদের দিকে চুপিচুপি গেলাম। একটা লাটাই, নিজের ইচ্ছে মতো নীল-সাদা ঘুড়িটাকে এদিক ওদিক করছে। লাটাই টা বাঁধা আছে ছাদের কার্নিশে। আকাশে অন্য কোনও ঘুড়ি না থাকায় তার ভোকাট্টা হওয়ার আশা নেই।

কাকাকে কোথাও চোখে না পড়ায় এদিক ওদিক তাকিয়ে থাকতেই একটা কোণে চোখ গেল। একটা ঘুড়ি হাতে নিয়ে বসে আছে। চারিদিকে ছড়িয়ে আছে অন্য ঘুড়ি গুলো। একটু এগিয়ে গিয়েই দেখি, কাকার হাতে ক্যাটরিনা কাইফের ছবি ওয়ালা একটা ঘুড়ি। আর একটু কাছে যেতেই কাকার কথা গুলো কানে এল…..

-“ক্যাটরিনা তুমি আমার কাতলিনা।”
-“তোমাকে ছাড়া আমি আর থাকতে পারি না।”

আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলাম,
-“ওটা হবে করিনা! আমি আর পারি না।”

আমার কথা শুনেই কাকা, ক্যাটরিনা কে ফেলে দিয়ে করিনা কে তুলে নিল।
******

আমার এখন অবস্থা, ন যযৌ। ন তস্থৌ।
কাকার এরূপ রূপ দেখে কাকিমার কাছে জানাতেও পারছি না। কাকাকেও বাগে আনতে পারছি না। এ কিরকমের পাগলের পাল্লায় পড়েছি রে বাবা।

মাথায় একগাদা চিন্তাদের সঙ্গী করে, আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে কয়েকটি সুখটান দিতে লাগলাম। যদি কোনো আইডিয়া মেলে।

হঠাৎই কাকিমার চিৎকার…..
পনেরো টাকা নষ্ট করে, কাকিমার ঘরের দিকে ছুটে গেলাম। ঘরে যেতেই…..

-“আতা গাছে তোতা পাখি।
ডালিম গাছে মৌ।
পাশ ফিরে চেয়ে দেখি,
পাশে নেই তোর কাকা!”

হাজার খানেক টাকা খরচ করে, লরিয়াল এর ব্রাউন কালার করা চুল গুলোকে ছিঁড়ে ফেলতে মায়া হলেও ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিল। টাকার মায়া করে সেই কাজ থেকে নিজেকে বিরত করলাম। এদের সব ভুল ভাল কবিতায় পেয়েছে। ওই সিচুয়েশনেই বলে উঠলাম। কাকিমা কি সব ভুল ভাল কথা বলছ? ওটা এরকম হবে,

-“আতা গাছে তোতা পাখি।
ডালিম গাছে মৌ।
পাশ ফিরে চেয়ে দেখি,
কাছে নেই বৌ!”

কাকিমার পুরোনো বাজখাঁই গলা ফিরে এসেছে। চেঁচিয়ে বলে উঠল….

-“তোকে আর ভয়ঙ্কর কবিতা জ্ঞান দিতে হবে নি বাপু।”
-“মিনসে টা কোথায় গেল দেখ।”
-“হাড়মাস আমার জ্বালিয়ে দিলে গা।”

বোঝো।
কার ঝাল কার উপর।
******

কাকাকে সেদিন পাওয়া গিয়েছিল ছাদের চিলেকোঠায়। একরাশ ঘুড়ির মাঝে। একরাশ সুতোর ভাঁজে। ক্যাটরিনা -করিনা-বিপাশা সবার মাঝে তিনি কলির কেষ্ট সেজে বসেছিলেন। কাকিমার বিশাল বপু ছাদ দখল করে নিয়েছিল। কাকা কে হিড় হিড় করে টানতে টানতে ছাদ থেকে নামিয়েছিল কাকিমার ডব্লিউ ডব্লিউ এফ ওয়ালা পেশী। বিড়ালের মতো কুঁই কুঁই করলেও, কাকিমার সে সব শোনার মতো সময় ছিল না। কাকিমার মধ্যে তখন নান, ব্যান্ডেড কুইন; গব্বর সিং সবার সমাবেশ ঘটেছিল।

ছাদের চিলেকোঠা এখন সমাধিতে পরিণত হয়েছে। কাকা মাঝেই যায় সেখানে। এরকমই একটা মায়াবী রাতে কাকা, যেন কার ডাকে আবারও ছাদে চলে এসেছিল। ঘুড়ি ওড়ানোর নেশায়, সবে ঘুড়িতে সুতোটা পরিয়েছে। অমনি পেছন থেকে কাকিমা……..

-“যতই ঘুড়ি ওড়াও রাতে।
লাটাই তো আমার হাতে।”

বলেই একটা সুতো জড়ানো লাটাই নিয়ে কাকার দিকে তাক করে থাকে।

******
এইসব দেখে আমি মানে মানে কাকিমার আরাম খানা ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলাম। কাকার ঘুড়ি পরকীয়া, কাকিমার কারণেই হয়েছে। কি চেয়েছে জীবনে? কাকার তো একটাই চাওয়া ছিল। একটু চুমু। তবে চুমুর কারণে পরকীয়া ! এটাও বাড়াবাড়ি রকমের বাড়াবাড়ি। সে কাকা-কাকিমার ব্যক্তিগত ব্যপার। আমি আবার হেব্বি ভদ্দর। কারোর ‘পাস্সনাল’ ব্যপারে কথা বলি না।

কাকিমার আদর খানায়, কাকিমার আদরে আদরে নিজের মনুষ্য রূপ ছেড়ে বাঁদরে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই কাকা-কাকিমা সমেত সমস্ত কিছু ছেড়ে আসার সময় , দাঁত বের করা সিঁড়ি গুলো আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত ইয়ে করে হেব্বি হাসছিল। মনে হচ্ছিল পতঞ্জলি দন্তকান্তি দিয়ে দাঁত মেজেছে। সেই রাশি রাশি হাসি উপেক্ষা করে, ওদের হাসি ডিঙ্গিয়ে মেইন রাস্তায় আসতেই অস্থায়ী চারপেয়ে গুলো আমার দিকে এগিয়ে এসে একটা আদর চাদর দিতে চাইছিল। আমার আবার আদর- ভালোবাসা এসবে বেগুনের মতো অ্যালার্জি, কচুর মতো চুলকানি। সেইসব জিনিস কে কিক মেরে একছুট্টে নেতাজীর পায়ের কাছে।

আমি আর ওমুখো হইনি। ওমুখো হওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। কি জানি! সিঁড়ি গুলো আজও অবলীলায় হাসছে কিনা? তাদের হাসিতে কেউ ফেঁসেছে কিনা? হাসি মতলব ফাসি।
জানিও না কাকার পরকীয়ার খবর। কাকিমাকে আদর করার বিরহে, বিরহাতুর কাকা বর্তমানে কতটা ‘মেদ’ ঝরিয়েছে তাও অজানা। ওনার সাইজের আন্ডারওয়্যার থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, শ্যামবাজার টু হাতিবাগান কোথাও মিলেছে কিনা তাও অজানা। কাকা-কাকিমার চুমুতে আমার কস্মিন কালেও ‘ইন্টারেস্ট’ ছিল না। চুমু পর্বের উপসংহারে কাকা কি কাকিমার সাথে ‘লিপ লক’ করতে পেরেছিল? গোদরেজের তালা-চাবি দিয়ে। সবই অজানা। অজানা তথ্য নিয়ে, বাবার দেওয়া সম্পত্তি গুলোকে কাকিমার দেওয়া বল সাবান মেখে ওই একই ভাবে বগল দাবা করে একটি অজানা জায়গায় ঘাঁটি গেড়েছি। সকাল বিকেল নিজর ঠোঁট গরম করছি। বর্তমানে আমার ঠোঁট পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছে, মোড়ের মাথার চায়ের ভাঁড়ে এবং রাজুদার দোকানের নিকোটিনের সাথে। দিব্যি আছি। সুখেই আছি।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।