প্রতিতার প্রেমে----বেশ্যার প্রেমে

প্রতিতার প্রেমে—-বেশ্যার প্রেমে

প্রতিতার প্রেমে,,, বেশ্যার প্রেমে,,,,
🌷🏃————–🌷🏃——————👇
Part__ 1⬇

কোটি পতির ছেলে অয়ন বাইক নিয়ে রাস্তার মোড়ে কিছুক্খন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়।ও মাস্টার্স পাশ করে বাবার বাড়ী গ্রামেই পাঁচ মাস থেকে আছে।অয়ন ভিষণ রাগী স্বভাবের & সমাজের কুসংস্কারাছন্ন মানুষ গুলোকে নেত্রকোনায়ও দেখতে পারে না।প্রতিদিনের মত আজও রাস্তার মোড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা রত।অনয়ের সামন দিয়ে সাইড ব্যাগ কাঁধে ঝুলানো এক অপরুপী সুন্দরী মেয়ে হেঁটে গেল।অয়নের মনো আকর্ষণ করল ওই মেয়েটা। বোধ হয় সতের, আঠার বছর বয়স হবে।সামনেই কলেজ & সামনেই পতিতালয়।অনয় ভাবল মেয়েটা হয়ত কলেজে যাচ্ছে। মেয়েটাকে অয়ন মন থেকে কেমন জানি ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু না মেয়েটাকে ওকথা বলার সাহস জুটে না।প্রায় দুই মাস হয়ে গেল তবুও মেয়েটাকে ওর নিজের মনের কথাটি বলতে পারল।অয়ন একদিন মনো সিদ্ধান্ত নিল আজই মেয়েটাকে প্রপোজ করব।অয়ন এক গোছা গোলাপ ফুল নিয়ে অপরুপী সুন্দরী মেয়েটার সামনে হাঁটু পেড়ে প্রপোজ করল।কিন্ত না মেয়েটা কোন সাই না দিয়েই চলে গেল।একটু,আধটুও কথা বলল না।অয়ন এর মনটা ভিষণ খারাপ হয়ে গেল।সুন্দর চেহারার অয়ন আজকে কালো মুখ – এ পরিনত হয়ে বাড়ী ফিরে গেল।অয়নের বাবা-মা অয়নের  মন খারাপের কারনটা জানতে চাইলেও কোন কথা না বলে ছাদের উপরে চলে গেল।অয়নের মা জানে যে ওর  মনো ইচ্ছে পূরন না হলে ভিষন মন খারাপ করে।তাই অয়নের মা অয়নের পিছে পিছে ছাদে গেল।

অয়নের মা__ কি হয়েছে বাবা তোর? আমাকে বল,,,,
অয়ন__ মা তুমি পারলে আমাকে একটু একা থাকতে দাও।
অয়নের মা আর কথা না বাড়িয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।

অয়ন প্রতিদিনই মেয়েটাকে দেখার জন্য রাস্তার মোড়ে যায়।অয়ন চিন্তা করল আমার বাবার এতো টাকা তবুও না?
অয়ন কিছুতেই মানতে পারছে না যে, মেয়েটা ওর সাথে রিলেশনে জড়াবে না।অয়নের মন পীড়া দিনদিন বেড়েই চলেছে।মেয়েটিকে দেখতে দেখতে আরও মাস খানেক কেটে গেল।সামনে পুজো। তাই অয়ন ভাবল মেয়েটাকে একটা শাড়ী গিফট করা যাক।যদি সে নেয়,না হলে আমার জীবনটা ব্যার্থ।অয়ন বাজারের সব চাইতে বেশি প্রাইজের শাড়ীটা ক্রয় করে পুজোর একদিন আগে মেয়েটার সামনে গিয়ে বলল,,,,

অয়ন__ আপনি আমাকে ভালোবাসবেন কি না বাসবেন সেটা আপনিই জানেন। তবে এই শাড়ীটা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি, প্লিজ নেন।
মেয়েটা__ আপনি আমার সম্পর্কে কতটুকু জানেন আর কেনওবা আমাকে শাড়ী দিবেন?
অয়ন__ আমি জানি আমরা দুজনেই মানব। শাড়ীটা না হয় বন্ধু হিসেবে গিফট করলাম।প্লিজ নেন।
অয়ন অনেক চেষ্টার &  কৌশলের পর মেয়েটাকে শাড়ীটা দিল।

অয়ন__ আপনি কিছু মনে না করলে আপনার নামটা জানতে পারি?
মেয়েটা__ নাম???
অয়ন___জ্বি নাম।
মেয়েটা__ আমার নাম নুপুর। আপনার নাম?
অয়ন__ আমার নাম অয়ন।কালকে তো পুজো,,,,
মেয়েটা__ তো,,,??????
অয়ন__ না মানে আমরা এক সাথে কিছু সময়..
মেয়েটা__ কি কিছু সময়?????
অয়ন__ না মানে পুজোর দিন বেশ আনন্দ তাই না কি? আমরা যদি একসাথে কিছু সময় ঘুরাঘুরি করি।
মেয়েটা__ আপনি আমাকে ভালোবাসেন এটা মানছি। তবে আমার তা কোনদিন হবে না।
অয়ন__ বন্ধু হিসেবে তো পুজোর দিনে আনন্দ করতে পারি?কালজে এখানে আসবেন আমিও আসব। তারপর পুজোর অনুষ্ঠানে যাব।
মেয়েটা__ দেখা যাবে। আসতে পারি নাও পারি।
এই কথা বলে মেয়েটা(নুপুর) চলে গেল।
Part__ 2⬇

অয়ন সকালে ফ্রেশ হয়ে & নাস্তা করে রাস্তার মোড়ে অপেক্ষা করছে নুপুরের জন্য। কিন্তু না প্রায় দশটা বেজে গেল তবুও না আসছে নুপুর।প্রায় একঘন্টা অয়েট করার পর নুপুর এলো।

নুপুর__ আপনি সত্যি এসে দাঁড়িয়ে..
অয়ন__ প্রায় একঘন্টা যাবৎ অপেক্ষা করছি।আচ্ছা  যাই হোক বাইকে উঠেন।
নুপুর__ বাইকে?????
অয়ন__ সমস্যা নেই উঠুন।
অবশেষে নুপুর বাইকে উঠল।সেদিন পুজো অনুষ্ঠানে বেশ আনন্দ করল।অয়নের আনন্দ মেলা & ভালোবাসার ঝোক দেখে নুপুর ভাবল,,,আমি যদি প্রতিতা না হতাম তাহলে সত্যিকারের একজন প্রেমিক পেতাম। কিন্তু কিবা করার ছিল পেটের দায়ে প্রতিতা।

অয়ন__ আপনার মন খারাপ কেন? সমস্যা????
নুপুর__ না এমনিতেই।( মিথ্যা বলল)
সেদিন বেশ আনন্দ করে নুপুর বাড়ী ফিরল।
সেদিনের পর থেকে নুপুর ওই পথ বেয়ে প্রতিতালয়ে যায় না। কারন সে বেশ্যা/ নটী এটা কি করে অয়ন কে বুঝাবে?  তাই অন্য পথ বেয়ে প্রতিতালয়ে যায়।

অয়ন প্রতিদিনই রাস্তার মোড়ে বসে থাকে কিন্তু নুপুর কে দেখতে পায় না। মন খারাপ করেই অয়ন প্রতিদিন রাস্তার মোড়ে বসে রয়, যদি নুপুরের দেখা মিলে।কিন্তু  না প্রায় পনের দিন কেটে গেল তবুও নুপুর ওই পথ দিয়ে আসে না।অয়নের কোন কিছুতেই মন বসে না।
অয়ন একদিন বিশেষ কাজে বটতলীয় রাস্তা বেয়ে যাচ্ছে। ওই পথ দিয়েই নুপুর প্রতিতালয়ে যাচ্ছিল। অয়ন কে দেখে নুপুর নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করল।কিন্তু অয়ন দেখে নিল নুপুর কে।বাইক দাঁড় করিয়ে নুপুরের পাশে গেল।

অয়ন__ আপনি আর কলেজ জান না?
নুপুর__ আমার কলেজ প্রতিদিনই। (প্রতিতালয় বুঝাতে)
অয়ন__ তো আপনাকে তো দেখতে পায় না।যাই হোক আমার একটা সিরিয়াস কথা বলার ছিল।

নুপুর বুঝে গিয়েছিল যে, ভালোবাসার কথা বলবে।

নুপুর__ আমাকে যেতে হবে। আমি যাই,,,।
অয়ন__ আমি আপনাকে তুুমি বানাতে চায়,জীবন সঙ্গীনি করতে চায়।
নুপুর__ তা কোন দিনই সম্ভব নয়।
অয়ন__ তা কেন?
নুপুর__ আমি তা বলতে প্রস্তুত নয়। আমার পথ ছাড়ের,আমার তাড়া আছে।
অয়ন__ আমি কি এতটাএতটাই খারাপ? আমাকে কেন আপনি ভালোবাসতে প্রস্তুত নন?
নুপুর__ প্রায় কান্না,,,,,, এর পিছনে ইতিহাস জড়িয়ে।আমার পথ ছাড়েন।

নুপুর অয়নের সামন থেকো যেতে যাবে ওমনি অয়ন নুপুরের হাতটি ধরে,,,,

অয়ন___ প্লিজ বলবেন কি?  আমাকে কেন আপনি ভালোবাসবেন না। আমার কোন কমতি থাকলে বলেন, কোন দিনই আপনার সামনে ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাঁড়ব না।
নুপুর__ আমার হাতটি ছাড়েন।আমার ভালোবাসার অধিকার নেই।
অয়ন__ কেন নেই? আপনি কি মানুুষ না?আপনার কি মন নেই?
নুপুর__ কাঁদো কাঁদো স্বরে,,,,,,কারন,,, আমি প্রতিতা,বেশ্যা।
অয়ন__ কি কি কি????  কি বললেন?
নুপুর__ চমকিয়ে গেলেন?  হ্যাঁ আমি সত্যি প্রতিতা,বেশ্যা।
এখন আমি যাই, প্রতিতালয়ে যেতে হবে।
অয়ন__ দাঁড়ান,,,,  আমি জানি আমি আপনাকে মন থেকে ভালোবেসেছি। আমার ভালোবাসা পবিত্র।আমি আপনাকে বিয়ে করে পূনরায় পবিত্র জীবনে আনতে চায় এবং আজকেই।
নুপুর__ তা কি হয়?
অয়ন__ কেন হয় না?
নুপুর __ কারন,, সমাজে, আপনার বাবা- মা কেউ  আমাকে মানবে না।আমি প্রতিতা।
অয়ন___ আমি আপনাকে মানতে পারলে সবাই মানবে। আমাকে বিয়ে করতে আপনার কোন সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে হয় না।প্লিজ আমার ভালোবাসার বুকে তীর মেরে এড়িয়ে যেয়েন  না।
নুপুর এসব কথা শুনে কান্না করে অয়ন কে জড়িয়ে ধরল।সত্যি আপনাকে ভালোবাসি, সত্যি। লাভ ইউ,,,।
ধর্মানুযায়ী অয়ন ও নুপুর বিয়ে করল।অয়নের বাবা-মা এতে  খুশি হয়েছে। কারন একটা মেয়েকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবন দেখার জন্য।

এখানেই শেষ করছি,,,,সমাপ্ত।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 3   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।