প্রাক্তনী

প্রাক্তনী

।।প্রাক্তনী।।
কলমে– স্বর্নেন্দু সিনহা্

হঠাৎ সেদিন দেখলাম তোকে, নয় নয় করে বছর চারেক পর ই হবে , একটা ছেলের সঙ্গে বসেছিলি কলেজ ঘাটে বৃষ্টির মধ্যে, তোর পাশেই ছিলাম আমি, একলা; দাঁড়িয়ে গঙ্গার বৃষ্টিস্নান দেখছিলাম, আমাকে দেখেও দেখলি না। হঠাৎ এই ভাবে দেখবো, ভাবতে পারিনি; ভেবেছিলাম এখানে নেই তুই।একটু অপ্রস্তুত ই হয়ে পড়েছিলাম।।

চেহারা টা বেশ শুকিয়ে গেছে তোর,একটু কালোও হয়েছিস।হয়তো অনেক চাপ যায় তোর উপর দিয়ে, রোদে ঘুরতে হয় অনেক ; সেই জন্যই হয় তো….
নতুন জন বেশ দেখতে তোর, টল,ডার্ক,হ্যান্ডসাম; মানাচ্ছে দুজনকে।। বৃষ্টির মধ্যে যখন ওর হাতটা তোর সরু আঙ্গুলগুলো দিয়ে আঁকড়ে ধরেছিলি- চোখেমুখে তোর ভেসে উঠছিলো প্রচ্ছন্ন গর্ব। কিন্তু তোর নতুনজন কেমন একটু রক্ষনশীল; তোকে তো চিনি আমি- স্বাধীনচেতা তুই; তাও হয়তো কোথাও একটু মানিয়ে-গুছিয়ে নিচ্ছিস; চোখে তাই হয়তো কোথাও একটা বিষন্নতার ছোঁয়া ছিলো। ভুলও হতে পারি, বৃষ্টিতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছিলো হয়তো।।

জানি না , কতক্ষন দাঁড়িয়ে বৃষ্টিস্নাত গঙ্গা দেখছিলাম। আচ্ছা, বৃষ্টির জল কি নোনতা হয় রে?? কেমন নোনাজলের স্পর্শ পাচ্ছিলাম ঠোঁটে; হয়তো অ্যাসিড বৃষ্টি হচ্ছিলো।

বৃষ্টি ছাড়ার দিকে তোরা উঠে পড়লি; গল্প করতে করতে আপনজনের হাত আঁকড়ে ধরে হাঁটতে শুরু করলি সেই পথ দিয়ে; যেপথে একদিন আমরা ভিজে বাড়ি ফিরেছিলাম। পরের দিন থেকে তোর ধূম জ্বর; সেই খবর পেয়ে দৌড়ে গিয়েছিলাম তোর বাড়ি। আমায় দেখে মলিন হাসি হেসেছিলি, কথা হয় নি একটাও; শুধু একটু নোনা জল চিবুক বেয়ে ওষ্ঠে নেমেছিলো তোর। শুধু ডুবিয়ে দিয়েছিলি তোর ঠোঁট আমার ঠোঁটে; সেই প্রথম তোর উষ্ণ ওষ্ঠের স্পর্শ পেয়েছিলাম আমি, সময় থমকে গিয়েছিল আমাদের। সেই ষাট সেকেন্ড এখনো আমার ঘড়ির কাঁটায় আটকে থেকে গেছে।

এগিয়ে গেছিস তুই,সময়ের আগে; আর আমি দম দেওয়া ঘড়ির কাঁটার মতো সেইখানেই আছি।ভাবতে ভাবতেই শ্রী’র ফোনে ভাবনার জাল কেটে বাস্তবে এলাম,”কোথায় তুমি??আমি স্কোয়ারে অপেক্ষা করছি। এসো”।

ফোনটা পকেটে রেখে একটা সিগারেট ধরালাম,এই সময়টুকুই তো আমার,দুমিনিট দেরি হলে হোক না, ক্ষতি কি??

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।