ফাইজান : দ্য মাস্টারমাইন্ড

#সুপারহিরো_ফিকশন
দ্য মাস্টারমাইন্ড
পর্ব:১

অন্ধকার রুম। তবে পুরোপুরি অন্ধকারও বলা যাবে না। গোল টেবিলের ঠিক উপরে একটি অল্প পাওয়ারের বাতি জ্বলছে। কিছু লোক সে গোল টেবিলের চারিদিকে বসে মিটিং করছে। সে মিটিং এর লিডিং রোলে এক মধ্যবয়স্ক সুঠাম দেহের ব্যক্তি,তার হাতে চুরুট। অনেকক্ষণ পর তাদের মিটিং শেষ হলো। লোকগুলো উঠে চলে গেল। কিন্তু সে লোকটি তখনো রুমেই ছিল। চুরুট টানায় মগ্ন। সবাই বের হওয়ার পর এক ভদ্রলোক ঢুকল রুমে। তার নাম ওয়ার্নার।
“কাজের খবর বলো?” ওয়ার্নারকে জিজ্ঞাসা করল সেই সুঠাম দেহের ব্যক্তি।
“কাজ প্রায় শেষ…”
“হমম..”
“আপনি বলেছিলেন কাজ শেষের দিকে এগোলে আপনি ল্যাবে আসবেন?”
“হ্যাঁ…. বলেছিলাম!”
“তবে.. আমি কি গাড়ি বের করতে বলব?”
চুরুটের বাকি অংশটুকু অ্যাশট্রেতে চাপা দিয়ে লোকটি উঠে দাঁড়ালো।
“চলো…” নিজের কোটে একটি ঝাঁড়ি দিয়ে বলল লোকটি। এবার আসি.. কে এই লোক?তার কিসের কাজ? এসব নিয়ে…
লোকটির নাম রুশো খান। সে একজন বিশাল মাফিয়া। বলা হয়ে থাকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে তাকে টক্কর দেয়ার মতন আজও কারো জন্ম হয়নি। তার অনেক বিজনেস রয়েছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই ইল্লিগাল। বেশিরভাগ বলতে সবই….কিছু কিছু বিজনেসকে সে লিগাল বলে চালিয়ে দেয়…এসব সে লোক দেখানোর জন্যেই করে। আর তার বিজনেসের মূলকেন্দ্র হলো মিডলইস্ট এবং ওয়েস্টার্ন দেশগুলো। তার ইল্লিগাল কাজের মধ্যে অন্যতম এবং সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রোজেক্ট হলো হিউম্যান হাইব্রিড প্রোডিউস করা। এই প্রোজেক্টে সে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ধরে এনে তাদেরকে জেনিটিক্যালি মডিফাই করে এভিল হিউম্যান হাইব্রিডে পরিণত করে এবং সেই লোকগুলোকে সে তার সিকিউরিটি হিসেবে ব্যবহার করে। এই প্রোজেক্টের পাশাপাশি সে একটি নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে এখন কাজ শুরু করেছে। সেই প্রোজেক্টটির নাম হলো ‘মাস্টারমাইন্ড প্রোজেক্ট’। এই প্রোজেক্টে সে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক জিনিয়াস সায়েন্টিস্টদের ধরে এনে কাজে লাগায়। এই প্রোজেক্টের উদ্দেশ্য হলো…. এমন একটি ডিভাইস বানানো, যে ডিভাইস দিয়ে মানুষ তার ব্রেইনের ১০০% ব্যবহার করবে এবং পৃথিবীর সব ধরণের ডিভাইস এমনকি স্যাটেলাইট পর্যন্ত কন্ট্রোল করতে পারবে। ডিভাইসটি অনেকটা হেলমেটের মতন, যেটি পড়ে কোনো ব্যক্তি উপরোক্ত অ্যাবিলিটি গুলো ইউজ করতে পারবে।
রুশো এবং ওয়ার্নার চলে আসলো তাদের সিক্রেট ল্যাবে। বিশাল হলরুমের মত একটি জায়গায় অনেক বিজ্ঞানী একসাথে কাজ করছেন।
“অ্যাটেনশন…জেন্টেলমেনস!” উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করে বলল ওয়ার্নার।
“আজ আমাদের সাথে আছেন…আমাদের এই ‘মাস্টারমাইন্ড প্রোজেক্টের’ মূল হোতা….মিস্টার.রুশো খান!!! তিনি আজ আমাদের প্রোজেক্টের প্রথম লঞ্চিং এ এসেছেন দেখার জন্যে কিভাবে আমাদের এই ডিভাইস কাজ করে। তাই আপনারা দেরি না করে এক্ষুনই আমাদের প্রোজেক্টের ফার্স্ট এক্সপেরিমেন্ট শুরু করে দিন।”
কিছু লোক একজন ব্যক্তিকে ধরে আনল
এক্সপেরিমেন্টের জন্যে। তাকে একটি চেয়ারে বসানো হলো। চেয়ারের হাতলের সাথে শক্ত করে হাত ও পা বাঁধল। এরপর তাকে হেলমেটটি পড়ানো হলো। লোকটি খুবই ভীত সন্ত্রস্ত। তার কপালে ছোপ ছোপ ঘাম জমেছে। একজন বিজ্ঞানী ডিভাইসটির সুইচ অ্যাক্টিভেট করল। ডিভাইসের পোটেনশিয়ালিটি আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করলো। ২৫%….৫১%….৭৩%….৮৯%…..৯৬%……এবং ১০০%!!!!
বুমমমমম….বিকট শব্দ….লোকটি তার সর্বস্ব দিয়ে চিৎকার দেয়া শুরু করল!!! আশপাশের জিনিসগুলো কাঁপতে লাগলো…..কিছু কিছু জিনিস এদিক সেদিক উড়ে উড়ে আছাড় খেতে লাগলো….
“সুইচ অফ করো…” চিৎকার দিয়ে আদেশ দিল ওয়ার্নার।
“নাহহহ…” বলল রুশো খান,”সুইচ অফ করবে না…আমি এর শেষ দেখতে চাই!”
এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর হঠাৎ ডিভাইসটিতে ম্যালফাংশন দেখা দিল। হেলমেটটিতে ইলেক্ট্রিসিটি স্পার্ক করতে লাগল। লোকটির চিৎকারও আরো বাড়তে লাগল। তারপর….সব শান্ত হয়ে গেল।
আশপাশের জিনিসগুলো কাঁপা বন্ধ হলো…উড়তে থাকা জিনিসগুলোও এখন থেমে সব নিচে পড়ে গেল। লোকটি যেখানে বসেছিল সে জায়গায়টা কালো ধোঁয়ায় ভরে গেল। আস্তে আস্তে সে ধোঁয়াও সরে গেল। লোকটি চেয়ারে ঘাঁড় এলিয়ে বসে থাকল। তার মুখ, কান, নাক এবং চোখ থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। একজন গিয়ে তার নার্ভ চেক করল।
“সে আর বেঁচে নেই..”
রুশো খান এবার রাগান্বিত হয়ে ওয়ার্নারের কলার ধরে তাকে কাছে টেনে নিল…
“এসবের মানে কি????? তুমি বলেছিলে কাজ শেষ…কিন্তু এগুলো কি ছিল…আমি আমার ক্যারিয়ারে যত প্রোজেক্ট করেছি তার মধ্যে এ প্রোজেক্টেই সবচেয়ে বেশি বাজেট লাগিয়েছি….কিন্তু তুমি এটিকে ছেলেখেলা হিসেবে নিচ্ছ…. আর এক সপ্তাহ সময় তোমার। এক সপ্তাহের মধ্যে এ প্রোজেক্ট শেষ করতে হবে তোমাদের!!!” এসব কথা বলে সে ওয়ার্নারকে ছুঁড়ে ফেলেদিল এবং সাথেসাথে চলে গেল ল্যাব থেকে।
(চলবে…)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close