ফাইজান : দ্য মাস্টারমাইন্ড

#সুপারহিরো_অরিজিন
ফাইজান:দ্য মাস্টারমাইন্ড

অরিজিন

প্রফেসর সৈকত হাসান প্রতিদিনের মত আজও তার বাসায় নিজের রুমে হোয়াইট বোর্ডে একের পর এক জটিল ইকুয়েশন সলভ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কিন্তু কিছুতেই তিনি প্রবলেমটি সলভ করতে পারছিলেন না। তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন….সময় প্রায় শেষ। তিনি হোয়াইট বোর্ডে তার মাথা লাগিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণ হোয়াইট বোর্ডে মাথা এলিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর তার ডেস্কের ড্রয়ার খুললেন। ড্রয়ার থেকে একটি খাঁকি রঙের কাগজের প্যাকেট বের করলেন। প্যাকেটের ভেতর থেকে একটি ছোট পিস্তল বের করলেন। এরপর তিনি তার টেলিফোনটির কাছে গেলেন। তার স্ত্রী ফারিন হাসান কিছুদিন আগেই তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিলেন। ফুটফুটে এক ছেলে।তিনি বর্তমানে হাসপাতালে। সৈকত তার স্ত্রীকে কল দিলেন….
“ফারিন….!”
“হ্যাঁ….সৈকত বল? আজ আসতে পারবে? নাকি আজও তোমাকে তোমার রিসার্চ করা লাগবে…”
“আই লাভ ইউ ফারিন….এন্ড আই লাভ আউয়ার চাইল্ড!!!”
“আই লাভ ইউ টু সৈকত….”
“আমি পারিনি ফারিন….আমি পারিনি..”
এটুকু বলে সৈকত ফোন রেখে দিল। পিস্তল হাতে হাঁটুগেড়ে বসে কাঁদছে। ফারিনও তার ফোন রেখে দিল। তার চোখ থেকেও পানির ফোঁটা পড়ছে….সে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে জানালায় বাইরের দিকে তাকিয়ে থেকে তার কোলের ফুটফুটে বাচ্চাটির কপালে চুমু দিল।
ওদিকে সৈকত তার মাথায় পিস্তল লাগিয়ে দিয়েছে..শুধু ট্রিগারটিতে চাপ দেয়ার বাকি….আর ব্যস….সে ট্রিগারে চাপ দিয়ে দিল!!! তার হাঁটুগেড়ে বসে থাকা দেহটি এবার রুমের ফ্লোরে এলিয়ে পড়ল। মাথার রক্তে ভেসে গেল ফ্লোর।

১৫ বছর পর।।
ফাইজান আজ পনের বছরে পা রাখল। তার বাসায় আজ উৎসব মুখর পরিবেশ। তার বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন সকলে এসেছে তাদের ঘরে। তার মা মিস ফারিন তার ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে আজ ঘরে পার্টি রেখেছেন। সবাই এসেছে….
কিন্তু যার জন্মদিন তাকেই দেখা যাচ্ছে না।
“ফারিন….আমাদের বার্থডে বয় ফাইজান কোথায়?তাকে দেখা যাচ্ছে না যে..?” জিজ্ঞাসা করলেন এক অতিথি।
“ফাইজান সম্ভবত তার বেডরুমেই আছে….আমি এক্ষুনি তাকে ডেকে আনছি।” ফারিন ফাইজানের বেডরুমের দিকে এগোল তাকে ডেকে আনতে।
এলোমেলো রুম।আছে একটি ডেস্ক।ডেস্কের উপর ফিজিক্সের অনেক বই এবং অনেকগুলো খাতা এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। এ যেন অদ্ভুত এক সৌন্দর্য! আর এই সৌন্দর্যের স্রষ্টা ফাইজান হাসান…. যে বর্তমানে হোয়াইট বোর্ডে জটিল সব গাণিতিক ইকুয়েশন যেন একজন সুনিপুণ আর্টিস্টের মত সলভ করতে চলেছে। খুব ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে জিনিয়াস লেভেল ইনটালেকচুয়ালিটি এবং অসাধারণ প্রতিভা লক্ষণীয়। তার এই ১৫ বছর বয়সেই সে ইউনিভার্সিটি লেভেলের প্রবলেমও সলভ করতে শিখে গেছে। তার ইন্টালিজেন্সের জন্যে সে তার স্কুলে এবং তার এলাকায়ও খুব বিখ্যাত।আমেরিকার ওয়েস্ট কোস্ট শহরে তারা থাকে। তার বাবার সব গুণাবলি এবং প্রতিভা যেন তার মধ্যে একেবারে বরাবর কপি হয়ে এসেছে। কিন্তু সে তার বাবা থেকেও খুব জিনিয়াস। তাই মিস ফারিনের ভয় থাকে সবসময় তাকে নিয়ে।
ফারিন তার রুমের বাইরে থেকে নক করল….
“ফাইজান! অতিথিরা সবাই এসে পড়েছে….তুমি চলে আসো নিচে।”
ফাইজান সাথে সাথেই দরজা খুলল। আর মিস ফারিন তাকে নিয়ে নিচে গেলেন। অতিথিদের সাথে সে সাক্ষাৎ করল। কেক কাটল। সবাই খানাদানা করল এবং সন্ধ্যায় সবাই চলে গেল। এরপর ফাইজান আবার তার রুমে চলে গেল। তার গাণিতিক শিল্পকর্ম সম্পন্ন করতে। ফারিন তার রুমে এলেন।
“ফাইজান…”
“বলো মা…” বোর্ডে অংক কষতে কষতে বলল ফাইজান।
“কিছুই না…”
“আমি জানি….কিন্তু আমাকে এটি করতে হবে….বাবার খুনের প্রতিশোধ আমি নিব।”
(চলবে..)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 5   Average: 2.6/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close