"বাঁশিয়ালার প্রেম" দ্বিতীয় ভাগ

“বাঁশিয়ালার প্রেম” দ্বিতীয় ভাগ

বাঁশিয়ালার প্রেম
লিডিয়া গাঙ্গুলী
দ্বিতীয় ভাগ –
৭ম পর্ব-
সকালে উঠে দিঠি নিজের ঘর থেকে বাইরের ঘরে আসে…ইন্দ্রানী বসে চা খাচ্ছে, আর অরিজিৎ পেপার পড়ছে চা খেতে খেতে। সোফায় বসে বাবার কোলে মাথা দিয়ে আবার শোয় দিঠি, ইন্দ্রানী মেয়ের কান্ড দেখে -কি রে আজ ইউনিভার্সিটি যাবিনা?
-হুম…তোমরা কাল কখন ফিরলে? দিঠি জিজ্ঞাসা করলো মাকে…
-আর বলিসনা যা বৃষ্টি শুরু হলো যে ফিরতে রাত ১০টা বেজে গেলো…এসে দেখলাম তুই ঘুমিয়ে পড়েছিস…কিছু খাসনি পর্যন্ত…আমি ডাকছিলাম কিন্তু তোর বাবা বললেন থাক ঘুমিয়ে যখন পড়েছে আর ডেকোনা। দিঠি চুপ করে থাকলো, কুসুম এসে দিঠিকে চা দিয়ে গেলো। ইন্দ্রানী দিঠিকে জিজ্ঞাসা করলো-কি রে কুসুমদি বলছিলো কাল তুই নাকি বৃষ্টিতে ভিজেছিস? বুড়া তখন ঘরে দাঁড়িয়ে অরিজিতের সাথে কিছু আলোচনা করছিলো…দিঠি বুড়ার দিকে তাকিয়ে বললো -“হুম “…বলে চা নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো, একেবারে স্নান সেরে নিচে এসে অরিজিৎকে বললো-বাবা বঙ্কা দা কে বলোনা যাতে আমাকে একটু ইউনিভার্সিটিতে ছেড়ে দেয়।
-কেন আজ শ্যামের ক্লাস নেই?
-বলতে পারবনা…তাছাড়া আমাদের ক্লাসের সময় এক নয়… আমাকে ছেড়ে দিয়ে সুন্দরদা কে অনেকক্ষণ বসতে হয়… ওদের ক্লাস একটু দেরিতে শুরু হয়…তাই ভাবছি আমি টোটোতেই চলে যাবো। অরিজিৎ ঈষৎ মাথা নাড়িয়ে- ঠিক আছে আমি বঙ্কাকে ফোন করে দিচ্ছি… এখুনি আসতে বলবো??
-হুম এখুনি বলো। ইন্দ্রানী রান্না ঘর থেকে বাবা মেয়ের কথা শুনতে পেয়ে বসার ঘরে এসে বলে- কিছু খেয়ে যাবিতো?? কাল রাতেও কিছু খাসনি!
-হ্যাঁ বঙ্কা আসতে আসতে তোর খাওয়া হয়ে যাবে। দিঠিকে বলে অরিজিৎ।
-আমাকে দুটো পাউরুটিতে একটু মাখন লাগিয়ে দাও মা…বেশী কিছু খেতে ইচ্ছা করছেনা। পেট ভরা থাকলে ক্লাস করতে বসলে ঘুম পায়। ইন্দ্রানী তাড়াতাড়ি দুটো পাউরুটিতে মাখন লাগিয়ে দিলো, কুসুম একটা ডিম অমলেট করে দিলো, দিঠি শুধু পাউরুটি দুটোই খেলো। ইতিমধ্যে বঙ্কা তার টোটো নিয়ে হাজির, দিঠি ইউনিভার্সিটির দিকে রওনা দিলো।

আজ দিঠির পর পর দুটো ক্লাস ছিলো, ক্লাস দুটো শেষ করে সাওনি, দিঠি আর অনিক ক্যান্টিনে এসে বসলো। শ্যাম তার বন্ধুদের সাথে কন্টিনেই বসে আছে, শ্যাম, অঙ্কিতা আর সুরেশ দরজার সোজাসুজি টেবিলটাতেই বসে, সেখান থেকে দেখতে পেলো দিঠি আসছে। লখনৌ চিকন এর সাদা একটা পাঞ্জাবী, নীল জিন্স…আর চুল টা কোনোরকমে বাঁধা…সামনে কিছু অবিন্যস্ত চুল বারবার আঙ্গুল দিয়ে সরাচ্ছে। চোখে কোন কাজল নেই তাতেও ওকে অপূর্ব লাগছে। শ্যাম দিঠিকে যখন দেখছে অঙ্কিতা বুঝতে পেরে কনুই দিয়ে শ্যামকে একটা ঠেলা দিলে শ্যাম চোখ নামিয়ে নিল। দিঠির আজ কোন দিকেই খেয়াল নেই, খুব উদাস দেখাচ্ছে। সাওনি বক বক করে যাচ্ছে…দিঠি শুধুই মাটির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছে আর মাথা নাড়াচ্ছে। ক্যান্টিনে ঢুকেও কোন দিকে না তাকিয়ে শ্যামের দিকে পিছন করে বসলো। শ্যাম যে আছে সেটা খেয়াল করেনি দিঠি। এরইমধ্যে ময়ুক হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে দিঠিকে বললো-উফঃ দিঠি তোকে পুরো ক্যাম্পাস খুঁজলাম…পরেশদা তোকে কখন থেকে খুঁজছে।
দিঠি একটু চমকে উঠে চোখে মুখে বিস্ময় নিয়ে- আমাকে!!!কেন !!!
-জানিনা বললো দিঠিপ্রিয়া কে দেখলে একটু অফিস ঘরের সামনে পাঠিয়ে দিও। দিঠি সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার ছেড়ে উঠে বাইরে যেতেই দেখলো পরেশ এদিকেই আসছে, দিঠি এগিয়ে গেলো।
-কি রে মা আজ কিছু খেয়ে আসিসনি!!!বৌদি শ্যামকে দিয়ে তোর টিফিন পাঠিয়ে দিয়েছে, শ্যাম আমাকে দিয়ে বললো ওর নাকি কি কাজ আছে… তোকে যেন আমি টিফিনটা দিয়েদি। দিঠি হাপ ছেড়ে বাঁচলো, কত কিছুই না ভেবেছিলো… সুন্দরদা কি পরেশ কাকাকে কিছু বলেছে…নাকি বুড়া কিছু জানিয়েছে… ইত্যাদি। হাসি মুখে টিফিন বাক্স টা নিয়ে-আর বলোনা মা এর সব কিছুতেই বারাবারি…আমিতো কন্টিনেই খেতে পারতাম। পরেশ তাতে বাদ সেধে বললো-না না বাইরের খাওয়ার যত কম খাবি শরীর ভালো থাকবে…বলে সে চলে গেলো। দিঠি টিফিন বাক্স নিয়ে ক্যান্টিনে ঢুকতে গিয়ে এবার শ্যামের সঙ্গে চোখাচুখি হলো, টিফিন বাক্স টা ব্যাগে ঢুকিয়ে সাওনিকে বললো- আমি যাই তোরা বসলে বোস এখানে। সাওনিও সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে এলো, অনিক ময়ূখও ওদের সঙ্গে এলো। অনিক দিঠিকে জিজ্ঞাসা করলো – কি হলো তোর হঠাৎ বেড়িয়ে এলি ক্যান্টিন থেকে!!
-খুব দম বন্ধ লাগছে রে ক্যান্টিনটা, তোরা চাইলে যা, আমি এখানেই ঠিক আছি।
ময়ূখ-এই তোরা জানিস এর মধ্যে আমাদের নবীনবরণ হবে? সাওনি খুব আনন্দের সঙ্গে-তাইনাকি…কে আসছে রে? দিঠি একটু হেসে-এখানে কলকাতার কলেজের মতো বাইরের থেকে  কোন শিল্পী আসেনা, এরা নিজেরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। অনিক সাওনির উদ্দেশ্যে-আজ আদ্রিজাকে দেখতে পারছিনা!!!
-ও তো হোস্টেলের ঘরে এখনো ঘুমাচ্ছে, কাল সারা রাত জাগা গিয়েছে বেচারীর। দিঠি জিজ্ঞাসা করলো -কেন? সাওনি মুখটা বেজার করে বললো -“ওর বয়ফ্রেইন্ড এর সাথে কি ঝামেলা চলছে। দিঠি হঠাৎ সাওনিকে জিজ্ঞাসা করলো-এই তোদের হোস্টেলে কোন ঘর ফাঁকা আছে?
-হ্যাঁ আমাদের রুমটাতেই একটা জায়গা ফাঁকা আছে, কেন?
-ভাবছি যদি থাকা যায়।
-তোকে কাকু, কাকিমা ছাড়বেন!!!
-দেখি বলবো, আচ্ছা ঘর পেতে গেলে কাকে এপ্লিকেশন জমা দিতে হয়?
ময়ূখ হেসে-তোর আবার এপ্লিকেশন লাগবে নাকি !!!এখানের সবাই তোকে চেনে, তাছাড়া পরেশদাকে একবার বল সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
-সাওনি চলতো একটু পরেশ কাকার কাছে যাই, বলে হাত ধরে টানতে টানতে সাওনিকে নিয়ে গেলি দিঠি।

দিঠির ওই ভাবে ক্যান্টিন থেকে বেড়িয়ে আসাতে মনে মনে একটু কষ্ট পায় শ্যাম, কালকের ঘটনাটায় খুব কষ্ট পেয়েছে দিঠি সেটা অনুমান করতে পারে শ্যাম, কিন্তু ওর সত্যি কিছু করার নেই। এটা কখনই সম্ভব নয় দিঠিকে সেটা বুঝতে হবে। কোনো ভাবেই দিঠিকে কষ্ট দিতে চায়না শ্যাম, এসব না না কথা ভাবতে থাকে। ইতিমধ্যে অঙ্কিতা চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠেতে-চল ক্লাস আছে তো…কি রে শ্যাম!!!বলে একটা মৃদু ধাক্কা দেয়। শ্যামের সম্বিৎ ফেরে, অঙ্কিতা বুঝতে পারে শ্যাম কিছু একটা ভাবছে, ক্লাসে যেতে যেতে “দিঠিকে সত্যিটা জানিয়ে দিছিসনা কেন!!! শ্যাম চুপ করেই থাকে কোনো উত্তর দেয়না।

কাকা ও কাকা বলোনা আমি থাকতে পারবো হোস্টেলে? পরেশ গম্ভীর হয়ে -বললাম তো না। তোমার বাড়ি এখানে, তাছাড়া বাপ /মা ছেড়ে কি দরকার হোস্টেলে থাকার!
-দরকার আছে…(মনে মনে ভাবলো-তুমি আর কি বুঝবে!)তুমি ব্যবস্থা করে দাওনা।
-আমি তা পারবোনা। বৌদি খুব বকবে।
-মা কিচ্ছু বলবেনা। দাওনা প্লিজ…দিঠি নাছোড়বান্দা করতে থাকে। অবশেষে পরেশ বলে -আচ্ছা দাদা আর বৌদি যদি আমায় বলে তারপর ভেবে দেখবো। দিঠি রণে ভঙ্গ দিয়ে বলে -আচ্ছা তুমি ঠিক বলছো? তিন সত্যি বলো… পরেশ হেসে -সত্যি সত্যি সত্যি… পাগলী মা আমার।

শেষের ক্লাসের স্যার আজ অফ দিয়েছেন তাই দিঠি বাড়ির দিকে পা বাড়ালো। ময়ূখ যদিও বললো ক্যান্টিনে বসতে কিন্তু দিঠির আজ ইচ্ছা করছেনা, যতক্ষনে বাড়িতে গিয়ে না বলছে যে সে হোস্টেলে থাকতে চায় ততক্ষন ওর শান্তি হবে না। কথা টা আগে বাবাকে বলতে হবে। মা কে বললে কাজ হবেনা। দিঠিকে একদম কাছ ছাড়া করতে চায়না ইন্দ্রানী। ইউনিভার্সিটির গেট থেকে বেড়িয়ে দেখলো বকুলদা টোটো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যাবে কিনা জানতে চেয়ে উঠে বসলো দিঠি। বকুল চলতে শুরু করলো। দিঠিদের গ্রামেই থাকে বকুল, এখানে ছোটো থেকে আসতে আসতে বেশ চেনা হয়েগেছে দিঠির। তাছাড়া শ্যামসুন্দর আর পরেশের দৌলতে খানিকটা সুবিধা হয়েছে, যাইহোক এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বাড়িতে এসে পৌছালো। ওদিকে ইউনিভার্সিটিতে দিঠিকে কোথাও দেখতে না পেয়ে শ্যাম অনিক আর ময়ূখ কে জিজ্ঞাসা করাতে জানতে পারলো দিঠি বাড়ি চলে গিয়েছে, আর একটুও সময় নষ্ট না করে বাড়ির দিকে রওনা দিলো শ্যাম।

দিঠি বাড়ি এসে হাত মুখ ধুয়ে ইন্দ্রানীর ঘরে ঢোকে—মা বাবা কথায় গো?? ইন্দ্রানী একটা বই নিয়ে বসেছিলো দিঠিকে দেখে-তুই কখন এলি? আজ এতো তাড়াতাড়ি!!!কুসুম পিসিকে বলেছিস কি খাবি? শ্যাম আসেনি? দিঠি একটু বিরক্ত হয়ে -উফঃ আমি তোমাকে যে প্রশ্নটা করেছি তার আগে উত্তর দাও!!!
-দেখ স্টুডিওতে ছিলো তো…মায়ের কথায় আর কোন উত্তর না দিয়ে দিঠি স্টুডিওর দিকে হাঁটা লাগলো।
–বাবা ও বাবা…ডাকতে ডাকতে স্টুডিওতে ঢুকলো দিঠি, অরিজিৎ কাজে ব্যস্ত ছিলো দিঠিকে দেখে কাজ করতে করতেই-কি ব্যাপার আজ এসেই বাবার খোঁজ!!!কিছু পারমিশন করাতে হবে নাকি হেড অফিস থেকে?
-আমার একটা প্রস্তাব আছে… না মানে ঠিক প্রস্তাব না একটা আর্জি আছে।
-বলে ফেলো শুনি কি তোমার আর্জি?
-আমি এখন থেকে হোস্টেলে থাকবো।
-কি !!!ওরে বাবা এতো কঠিন ব্যাপার!!!তোর মা তোকে ছাড়বে!
-সেই জন্যই তো তোমাকে বলছি মা কে একটু রাজি করাতে।
-ওরে বাবা রে!আমি তা পারবনা। তাছাড়া নিজের বাড়ি ছেড়ে!অরিজিতের কথা শেষ না করতে দিয়েই-আরে আমার যাতায়াত করতে রোজ রোজ অসুবিধা হয়, আর সুন্দরদার ক্লাস দেরিতে শেষ হয়, আমার বাড়ি ফিরতেও দেরি হয়। তাছাড়া আমি তো কখনোই একা থাকিনি, একটুতো ইচ্ছাও করে আমার। সব বন্ধুরা হোস্টেলে থাকে, দাওনা বাবা থাকতে…একটু রাজি করাওনা মাকে… অরিজিৎ কাজ করতে করতে মেয়ের কথা শোনে আর মাথা নাড়ায়।
-বাবা ও বাবা কি গো!! কিছু বলছোনা কেন!!!তুমিওতো ১৬বছর বয়স থেকে একা কলকাতায় থেকেছো…আর আমি তো খুব দুরে থাকবোনা। বাবা প্লিজ…
—হুম বুঝেছি বড়ো হওয়ার ইচ্ছা আর মা বড়ো হতে দিচ্ছেনা তাই তো?
-হ্যাঁ তাই, হোস্টেলে থাকলে অনেক সুবিধা হবে, গ্রুপে কাজ করতে পারবো। এক্সপোসার বাড়বে, তোমরা যখন ডাকবে চলে আসবো।
-দাঁড়া দেখছি…তুই কুসুম পিসিকে একটু চা করতে বলতো…চা খেতে খেতে কথা বলবো।
দিঠি বাবার কথায় আস্বস্ত হয়ে স্টুডিও থেকে বেড়োতে গিয়ে দেখে বাইরে শ্যাম দাঁড়িয়ে আছে, কোন কথা না বলে ঘরে চলে আসে।

চা খেতে খেতে অরিজিৎ ইন্দ্রানীর কাছে মেয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে। ইন্দ্রানী পুরো আকাশ থেকে পড়ে—কী!!!!নিজের বাড়ি থাকতে মেয়ে থাকবে হোস্টেলে!!!কি খাবে!!কি করবে!!না না এটা আমি হতে দেবো না। আর তুমি কি অরি!!!মেয়ের এই অন্যায় আবদারে নিজে মত দিয়েছো !!!আবার আমাকে মত দিতে বলছো!!!দিঠি মুখ কালো করে -মা রোজ যাওয়া আসায় অনেক সময় যায়, তাছাড়া… দিঠিকে থামিয়ে ইন্দ্রানী-তাছাড়া কি বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে থাকবে তাই তো!!!নিয়মের কোন বালাই থাকবে না যা ইচ্ছা তাই করবে!!!
-আহা তুমি খামোখা চটছো কেন…? কতদিন আর মেয়েকে নিজের আঁচলের তলায় রাখবে? দাওনা একটু একা থাকতে, এখন থেকে প্রাকটিস না করলে তোমার মতো অবস্থা হবে। ইন্দ্রানী একটু রেগে গিয়ে- আমার মতো অবস্থা বলতে!!!
-না মানে বিয়ের পর যেমন তুমি রোজ কাঁদতে মার কাছে যাবে বলে, এই আর কি…বলে হেসে ওঠে অরিজিৎ সঙ্গে সঙ্গে দিঠিও হেসে ওঠে। ইন্দ্রানী একটু অপ্রস্তুত হয়ে -বাজে কথা ছেড়ে কাজের কথায় আসো। তোমার কি মত শুনি? হাসি থামিয়ে অরিজিৎ বলে-আমার কোন অমত নেই, তাছাড়া ওখানে পরেশ থাকে, পাশেই প্রিয়তোষ আর বনানী আছে, চিন্তা কি???
-ঠিক আছে আমি আর কি বলবো, তোমরা তো নিজেরা নিজেরাই সব ঠিক করে ফেলেছো!!!তবে আগে আমি পরেশের সঙ্গে একটু কথা বলবো। পরেশকে ফোন লাগায় ইন্দ্রানী, পরেশের কাছ থেকে সব খবর নিয়ে তারপর মত দেয়। স্টুডিও থেকে শ্যাম বেড়িয়ে এদিকেই আসছিলো, ইন্দ্রানী শ্যামকে ডেকে-শুনেছিস দিঠি পরশু থেকে হোস্টেলে থাকবে। শ্যাম একটু হেসে-ভালো তো, কিন্তু ভিতর শ্যামের ফেটে যেতে থাকে। সকাল বিকাল দিঠিকে দেখতে পাওয়া বন্ধ হবে সেটা ভেবে। দিঠির সাথে চোখাচুখি হওয়াতে নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর জন্য অরিজিতের সঙ্গে কাজের কথা বলতে শুরু করে শ্যাম, আর দিঠি চা এর আসর ছেড়ে ঘরে যেতে যেতে সাওনিকে ফোন করে সুখবরটা জানায়।

৮ম পর্ব-
পরদিন দিঠি সকাল সকাল উঠে সব গোছগাছ করতে শুরু করেছে। আজ আর ইউনিভার্সিটি যাবেনা ঠিক করেছে, সব গোছাতে একটা দিনতো লাগবেই। ইন্দ্রানীও কাজের ফাঁকে এসে এসে এটা ওটা দিয়ে যাচ্ছে দিঠিকে গোছানোর জন্য. অরিজিৎও মেয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করছে মাঝেমধ্যে।
-সব কিছু ঠিক করে নিয়েছিস তো? ইন্দ্রানী ঘরে ঢুকে জিজ্ঞাসা করে।
-হুম আর যদি কিছু যাই এসে নিয়ে যাবো। কাছেই তো থাকবো মা এতো চিন্তা করোনা। ইন্দ্রানী দিঠির ঘর থেকে বেড়িয়ে রান্না ঘরে আসে। আজ দিঠির পছন্দের কিছু রান্না করছে…ভেটকি মাছের কাটা চচ্চড়ি, ভেটকি পাতুরি, ট্যাংরা মাছের বেগুন দিয়ে ঝোল, মাংস… অরিজিৎ স্টুডিওতে যেতে যেতে রান্না ঘরে একটু উঁকি দিয়ে কুসুমকে মজা করে বলে, —-বুঝলে কুসুমদি তাও মেয়ের দৌলতে আজ একটু ভালো মন্দ খাওয়া যাবে কি বলো ইন্দু? “কুসুম মুখ টিপে হাসে”। ইন্দ্রানী অরিজিৎকে উদ্দেশ্য করেই- হ্যাঁ রোজ রোজ তো না খেয়েই থাকা হয় তাই না!!!
-আহা রাগ করছো কেন!!আমি কি সে কথা বললাম!!! যাকগে রাগলে তোমায় আজও বড়ো ভালো লাগে ইন্দু… ইন্দ্রানী কটমট করে তাকাতেই হাসতে হাসতে স্টুডিওতে চলে যায় অরিজিৎ। শ্যামও আজ কোথাও বেড়োয়নি সেরামিক্সের ওয়ার্কশপে কাজে ব্যস্ত.শ্যাম বুঝতে পারছে দিঠি তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই কাজটা করলো। বুকের ভিতরে একটা কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু শ্যাম ভীষণ চাপা স্বভাবের কাউকে বুঝতে দেবেনা তার ভিতরে কি চলছে। সকাল বিকাল দেখতে না পেলেও ইউনিভার্সিটিতে তো একবার না একবার দেখা হবেই দিঠির সাথে… বার বার ভাবছে শ্যাম মনে মনে। দিঠিকে অরিজিৎ কিছু ডিজাইন করতে দিয়েছিলো, সেগুলো নিয়ে স্টুডিওর দিকেই আসছিলো দিঠি, মাঝে শ্যামের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলl
-সব গোছানো হয়ে গিয়েছে? শ্যাম স্বাভাবিক স্বরে জিজ্ঞাসা করলো দিঠিকে।
-প্রায়, এই ডিজাইন গুলো বাবা করতে দিয়েছিলেন, হয়ে গিয়েছে, তাই বাবাকে দিতে যাচ্ছি। কিছু যদি ঠিক করার থাকে করে দিও। বলে স্টুডিওতে গিয়ে ঢুকলো দিঠি, শ্যাম খানিক্ষন দিঠির দিকে তাকিয়ে থেকে আবার নিজের কাজে মন দিলো।

দুপুরে খাওয়ার পরে আজ সবাই মিলে অনেক ক্ষণ আড্ডা মারলো। কুসুম পিসি আর বুড়াও ছিলো দিঠিদের আড্ডার আসরে। শ্যাম প্রথমে কাজের অজুহাত দিয়ে না আসতে চাইলেও অরিজিতের কথায় তাকে খাওয়ার পর বসতেই হলো। ইন্দ্রানী এমন ভাব করছে মেয়ে যেন অনেক দুরে চলে যাচ্ছে। অরিজিৎ ইন্দ্রানী এমন আচরণে খুব মজা করছে, তাতে ইন্দ্রানীও রেগে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বেশ মজাই হচ্ছে। শ্যামকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে অরিজিৎ শ্যাম এর উদ্যেশ্যে-কী রে শ্যাম এতো চুপচাপ কেন!শ্যাম একটু হেসে-না কী বলবো আমি তোমাদের কথা শুনছি,বলেই দিঠির দিকে তাকালো, দিঠি শ্যামের দিকেই তাকিয়ে ছিলো চোখাচুখি হতেই সঙ্গে সঙ্গে চোখটা নামিয়ে নিয়ে অরিজিতের উদ্দেশ্যে বললো-না বাবা তোমরা কথা বলো, আমি যাই দেখি আবার কিছু ভুলে যাচ্ছি নাকি, নাহলে আবার তোমাদের ব্যস্ত করবো।
বেশী রাতে আজ বেশ বৃষ্টি হলো শ্যাম তখন স্টুডিওতে কাজ করছে, দিঠিরও ঘুম আসছে না। শ্যাম আজ যেন কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারছেনা। বাঁশিটা নিয়ে বসলো, সেই বাঁশির আওয়াজ বৃষ্টির আওয়াজ চাপিয়ে দিঠির কানে এসে পৌছালো। দিঠির খুব পছন্দের একটা গান ধরেছে বাঁশিতে শ্যাম আজ…
-“আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি
মন বান্ধিবি কেমনে?
আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি
পরান বান্ধিবি কেমনে?”
নিজের মনে মনে গানটা গুন গুন করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লো দিঠি।
সকাল থেকে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। দিঠিকে ইন্দ্রানী আর অরিজিৎ দুজনে মিলেই দিতে যাবে, সঙ্গে শ্যামও থাকবে। সব গোছগাছ করে তারা রওনা দিলো, হোস্টেলে পৌঁছেও গেল তাড়াতাড়ি, পরেশ ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো। দিঠিরা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে পরেশ হোস্টেলের ঘরে রেখে এলো, সাওনি আর আদ্রিজা দুজনেই আজ খুব খুশি, দিঠিকে আনন্দে জড়িয়ে ধরলো দুজনেই। দিঠি ওদের অরিজিৎ আর ইন্দ্রানীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলো। ইন্দ্রানী ওদের দুজনের সাথে কথা বলতে বলতে হোস্টেলের পরিবেশটা একবার দেখে নিলো। তারপর ইন্দ্রানী আর অরিজিৎ প্রিয়তোষ আর বনানীর সঙ্গে দেখা করতে চলে গেল।
ভালোই সময় কাটছে দিঠির, সকালটা ক্লাস করে আর বিকালটা বন্ধুদের সাথে আড্ডা, গান আর মাঝে মধ্যে কাজ নিয়ে। ইন্দ্রানীর সঙ্গে রোজ দুবেলা ফোনে কথা হয়, মাঝেমধ্যে অরিজিতের সঙ্গেও কথা হয়। আজ থেকে দিঠিদের অনুষ্ঠানের মহড়া শুরু হয়েছে। সিনিয়রদের মধ্যে খুব তোড়জোড় চলছে। অঙ্কিতা একটা গান গাইতে বলেছে দিঠিকে, প্রথমে করবেনা বলেছিলো গানটা তারপর অনেক বার বলাতে শেষমেশ রাজি হয়েছে দিঠি। শ্যামের সঙ্গে আগের মতো দেখা হয়না আজকাল, ইচ্ছা করেই সামনাসামনি হতে চায় না দিঠি। চাপা একটা কষ্ট হয় মনের মধ্যে শ্যামকে দেখলে, মাঝেমধ্যে বাঁশির আওয়াজ শুনতে পায় তখন কষ্টটা যেন আরো বেড়ে যায় দিঠির। এরমধ্যে একদিন দিঠি ও তার বন্ধুরা মিলে ক্যান্টিনের দিকে যেতে গিয়ে সেই বাঁশির আওয়াজ শুনতে পেয়ে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। সাওনি দিঠিকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে-কী রে এমন দাঁড়িয়ে রইলি কেন চল!!!দিঠি সাওনির কাছে এগিয়ে এসে –সুন্দরদা কোথাও একটা বাঁশি বাজাচ্ছে। আদ্রিজা অবাক হয়ে-কী করে বুঝলি বাঁশিটা তোর সুন্দরদাই বাজাচ্ছে!!!দিঠি একটু হেসে-বুঝতে পারি, বলে যত ক্যান্টিনের দিকে এগোতে লাগলো বাঁশির সুর ততই কাছে আসতে লাগলো। দিঠি তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ক্যান্টিনের দরজার কাছে এসে দেখলো শ্যাম বাঁশি বাজাচ্ছে আর সবাই মন্ত্র মুগ্ধের মতো শুনছে। দিঠি খুব সোন্দর্পনে এসে একটা চেয়ারে বসলো, সাওনি আর আদ্রিজাও বসলো। বাঁশি বাজানো শেষ হলে শ্যাম চোখ খুলে দিঠিকে দেখতে পেলো, দিঠি ওর দিকেই তাকিয়ে আছে আর ওর চোখ দুটো ছল ছল করছে।

আজ সকাল থেকেই খুব ব্যস্ত সবাই। নবীনবরণ অনুষ্ঠান আর কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হবে। মেয়েরা সবাই শাড়ি পড়েছে, আর ছেলেরা পাঞ্জাবী। সাওনি, আদ্রিজা, ময়ূখ, অনিক ওদের ব্যাচের সকলে মোটামুটি উপস্থিত হয়ে গিয়েছে অনুষ্ঠানের জায়গায়, তবে দিঠিকে এখনো দেখা যায়নি। শ্যামের দুটো চোখ যেন দিঠিকেই খুঁজছে অনবরত, আজ অনেক সকাল সকাল এসেছে সে ইউনিভার্সিটিতে। ময়ূরকন্ঠী রঙের একটা হ্যান্ডলুম পাঞ্জাবী আর জিন্সে খুব হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে শ্যামকে। একটু উতলা হয়ে উঠেছে শ্যাম দিঠিকে দেখতে না পেয়ে। অঙ্কিতা বুঝতে পারছে শ্যামের এদিক ওদিক তাকানো দেখে, তাই সে সাওনিকে এসে জিজ্ঞাসা করলো-এই সাওনি দিঠি কোথায় রে!!!
-ও তো তৈরী হচ্ছে, আমাদের আগে আগে করে চলে আসতে বললো, ওর একটু সময় লাগবে। অঙ্কিতা শ্যামের কাছে গিয়ে নিচু স্বরে বললো-তোর চোখ যাকে খুঁজছে, সে তৈরী হচ্ছে এক্ষুণি চলে আসবে, তুই চিন্তা করিসনা। শ্যাম একটু লাজুক হেসে নিজের কাছে মন দিলো। ইতিমধ্যে দিঠি সাদা রঙের হ্যান্ডলুম শাড়ি, সঙ্গে কনট্রাস্ট ব্লাউস, মানানসই জুয়েলারি, চুলটা খোলা, চোখে স্ম্যাচ করা কাজল আর হালকা লিপস্টিক দিয়ে সেজেগুজে ক্যাম্পাসে এলো। দুর থেকেই শ্যাম দিঠিকে দেখতে পেয়েছে, ওকে দেখে শ্যামের সেই দুর্গা অষ্টমীর সকালটা মনে পরে গেল। দুগ্গা মাকেও সেদিন ঠিক এরকমই দেখতে লাগছিলো, যেবার শ্যাম আর দুগ্গা মা এক সাথে অঞ্জলি দিয়েছিলো। দিঠি সব সময় সাজেনা, কিন্তু যখন সাজে তখন আর চোখ ফেরানো যায়না। অবশ্য না সাজলেও দিঠিকে ভালো লাগে। দিঠিকে দেখে ময়ূখ-উফঃ প্রেমে পরে গেলাম রে! দিঠি হালকা হেসে সাওনিদের পাশে গিয়ে বসলো। সাওনি দিঠিকে দেখেই-অন্য রকম সেজেছিস বেশ ভালো লাগছে। আদ্রিজা-খুব স্নিগ্ধ লাগছে তোকে দিঠি। শ্যামের যেন চোখের পলক পড়ে না, দিঠি যদিও অতো ভিড়ের মধ্যে শ্যামকে খেয়াল করেনি। অঙ্কিতা শ্যামের অবস্থা দেখে ঈষৎ ধাক্কা দিতেই শ্যাম নিজের কাজে মন দিলো।

অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে, প্রথমে নবীনবরণ তারপর গান, নাচ সবই হয় এক এক করে। দিঠিকে স্টেজে উঠে গানও গাইতে হয়-
দুজনে দেখা হল মধুযামিনী রে–

কেন কথা কহিল না, চলিয়া গেল ধীরে॥

নিকুঞ্জে দখিনাবায় করিছে হায়-হায়,

লতাপাতা দুলে দুলে ডাকিছে ফিরে ফিরে॥

দুজনের আঁখিবারি গোপনে গেল বয়ে,

দুজনের প্রাণের কথা প্রাণেতে গেল রয়ে।

আর তো হল না দেখা, জগতে দোঁহে একা–

চিরদিন ছাড়াছাড়ি যমুনাতীরে॥
এই গানটি গেয়ে স্টেজ থেকে যখন নামছে সামনেই শ্যামের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়, অঙ্কিতা এসে দিঠিকে অনেক অভিনন্দন দিলো -বাঃ খুব সুন্দর গানের গলাটা তোর। দিঠি একটু হেসে নিজের জায়গায় চলে যায়।
অনুষ্ঠান শেষ হলে দিঠি ও তার বন্ধুরা মিলে ক্যান্টিনের দিকে এগোতে থাকে, ময়ূখ নিজের হাতটার মধ্যে দিঠির হাতটা নিয়ে বলে-দিঠি কী ভালো গানটা গাইলি মন ছুঁয়ে গেল, বাকিরাও ময়ূখকে সমর্থন করে। শ্যাম সবটাই খেয়াল করে, ওরা ক্যান্টিনে গিয়ে বসলে শ্যাম দিঠিদের ব্যাচের একটা ছেলেকে দিয়ে দিঠিকে ডেকে পাঠায়, আর নিজে ক্যাম্পাসের বাইরে অপেক্ষা করে। আজ দুগ্গা মা দিঠিকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলেছেন, সেটা জানানোর জন্যই দিঠিকে ডাকতে পাঠানো শ্যামের। শ্যাম এখন বাড়ি ফিরছে, তাই সে দিঠিকেও সাথে করে নিয়ে যাবে।ওই ছেলেটির কথায় দিঠি ক্যান্টিন থেকে বেড়িয়ে ক্যাম্পাস দিয়ে হেঁটে আসছে, পথে দেবোত্তম এর সঙ্গে দেখা হতেই দেবোত্তম দিঠির সাথে মজা করে-কী রাধিকা চললে কোথায়? দিঠি মিষ্টি হেসে শ্যামের দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে—“অভিসারে”, দিঠির কথায় মুচকি হেসে দেবোত্তম চলে যায়।
দুর থেকে দিঠিকে আসতে দেখে শ্যামের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, মনে হয় বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে তার আওয়াজ। এর আগে কখনো এরকম হয়নি শ্যামের। দিঠি চুলটা হাতে পেচিয়ে একটা হাত খোঁপা করতে করতে এগিয়ে আসছে শ্যামের কাছে, মাঝেমধ্যে চেনা পরিচিত কারোর সঙ্গে দেখা হলে একটু দাঁড়িয়ে কথাও বলে নিচ্ছে। এতো সুন্দর দিঠিকে আগে কখনো লাগেনি, সত্যি মনে হচ্ছে হৃদপিন্ডটা বেড়িয়ে আসবে শ্যামের। দিঠি শ্যামের কাছে এসে -বলো কেন ডাকছো!
-দুগ্গা মা আমার সাথে তোকে বাড়ি ফিরতে বলেছে আজ।
-কেন?
-জানিনা
দিঠি জানে কেন মা তাকে শ্যামের সাথে আজ বাড়ি ফিরতে বলেছে, কাল দিঠির জন্মদিন, মা গতকাল রাতেই বলেছে আজ সুন্দরদার সাথে ফিরতে। কালকেই তো জানিয়ে দিলো মা কে যে সে একাই ফিরবে বাড়ি, কারোর সঙ্গে সে ফিরবেনা!উফঃ মা কে নিয়ে আর পারা যায় না!!!মায়ের উপর ভীষণ রাগ হচ্ছে এই মুহূর্তে দিঠির, কেন যে সুন্দরদাকে বলতে গেল এখন তো দিঠিকে না নিয়ে যাবেই না মনে হচ্ছে!!!তাও গলায় একটু জোর নিয়ে- তুমি চলে যাও, আমি একটু পরে যাবো।
-কত পরে যাবি !আমি দাঁড়াচ্ছি তোর জন্য।
-আমি তোমার সঙ্গে যাবো না।তাছাড়া আমি তো আর ছোটো বাচ্ছা নই,!একা ঠিক যেতে পারবো. বলে চলে আসতে উদ্যত হলে শ্যাম দিঠির হাত টা শক্ত করে ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। দিঠি অপ্রস্তুত হয়ে -ছাড়ো হাতটা সবাই দেখছে। শ্যাম চোয়াল শক্ত করে -আমি যখন বলেছি তুই আমার সাথে যাবি, তখন তোকে আমার সাথেই যেতে হবে। দিঠি দেখলো শ্যামের চোখ দুটো রেগে লাল হয়ে গিয়েছে, শ্যামের চোখে চোখ রেখে অস্ফুট স্বরে বলে -আমার লাগছে, শ্যাম দেখে দিঠির চোখ থেকে জল পড়ছে, হঠাৎ সম্বিৎ ফেরে শ্যামের,সে দিঠির হাতটা ছেড়ে দেয়। দুজনে দুজনের দিকে খানিক ক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর দিঠি নীরবতা ভেঙে-তুমি দাঁড়াও আমি আসছি। দিঠি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে ক্যাম্পাসের বাইরে এসে একটা টোটো তে উঠে-আমি টোটোতে যাবো। শ্যাম একদম চুপ করে গিয়েছে. কী যে হলো হঠাৎ করে শ্যামের সেটাই ভাবায় শ্যামকে!এতটা অধিকার বোধ দেখানোটা ঠিক হলো কিনা সেটা ভাবতে থাকে !ওকি কোন ভাবে দিঠিকে কষ্ট দিলো! এদিকে দিঠি ব্যাথা পেলেও এটা বুঝতে পারে যে সুন্দরদা শুধু তাকেই ভালোবাস, তা না হলে এতো অধিকার কেউ কারোর উপর দেখাতে পারেনা। দিঠি এটাও বুঝতে পারে সুন্দরদা শুধু তার দুগ্গা মা এর কথা ভেবেই ওর কাছ থেকে এতো দুরে দুরে থাকে।

(ক্রমশ )

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।