বাবা

বাবা
– উৎপল দাস

আমি মাকে দেখিনি। কিন্তু বাবার মুখে শুনেছি যে মা খুবই সুন্দর ছিলেন। আমায় পৃথিবীর আলো দেখিয়েই বিদায় নিয়েছিলেন আমার মা। আমার নাকি চোখই ফুটেছিল জন্মের একদিন পর। যদি একবারও দেখতে পেতাম আমার মাকে ! হয়তো সেই কচি কচি টুপ টুপ চোখেই !!

তবে বাবা আমায় ঠাম্মির কোলে তুলে দিয়েছিলেন। আর্থিক অপ্রতুলতায় ভালো চিকিৎসার অভাবে মাকে বাঁচাতে পারেনি বাবা। আমায় কানাই বলে ডাকে বাবা। ঠাম্মি আজ নেই। গত বছর ক্লাস ফাইভ এর রেজাল্ট যেদিন দিলো, দৌড়ে এসেছিলাম ঠাম্মির কাছে,
– ” ঠাম্মি ঠাম্মি, আমি ফার্স্ট হয়েছি ফার্স্ট.. ফার্স্ট”- বলতে বলতে। বাড়ি ফিরে দেখি, আমার ঠাম্মিও আমায় ছেড়ে চলে গেছেন। বাবা আমায় বুকে জড়িয়ে খুব কাঁদছিলো সেদিন।
– “কানাইরে মা নেই … আমি অনাথ হয়ে গেছিরে বাবু…”
নিজেকে আমিও আর সামলাতে পারিনি সেদিন, বাবাকে ধরে খুব কেঁদেছিলাম আমিও। যেন মাকে হারানোর কান্নাটাই কেঁদেছিলাম সেদিন।

আজকে আমার হাতে প্রগ্রেস রিপোর্ট। এতে লেখা “নাম: শ্রী কানাই মালাকার, পিতা: শ্রী বাসুদেব মালাকার, মাতা: স্বর্গীয়া সুরবালা মালাকার, ষষ্ঠ শ্রেণী উত্তীর্ণ, প্রথম স্থান।” আমি আজকে ক্লাস সিক্সে উঠেছি, ফার্স্ট হয়েছি। বাবাকে দেখাবো এই প্রগ্রেস  রিপোর্ট, আর যেন তর সইছে না। আজকে যে আমার খুশির দিন। বাবা বলেছিলো এবার ফার্স্ট হলে নতুন একজোড়া জুতো কিনে দেবে। ওঃফ… বেলা যে আর ফুরাচ্ছে না আমার !

সন্ধ্যায় বাবা বাড়ি আসে কাজ শেষ করে।
ঠক ঠক ঠক….
– “কানাই গেইট খোল….  ঠেলাটা বাড়িতে ঢুকাই”
বাবা এসে পড়েছে। কি মজা, কি মজা…
– “এতো দেরি করলে কেনো বাবা? …. জানো,  আমি ফার্স্ট হয়েছি..”
– “এই হলো আমার ছেলে, ফার্স্ট তো হতেই হবে, খুব খুশি হয়েছিরে বাবু।”
– “বাবা…. মনে আছে তো… একজোড়া নতুন জুতো যে…”
– “হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু…  মনে আছে..  দেবো দেবো … এখন একটু সাহায্য কর আমাকে…  এই দেখ.. ময়দার পোটলাটা, ময়দা গুলিস.. কালকের জন্য অনেক ফুচকা বানাতে হবে।”

আমার বাবা ফুচকা বিক্রি করে সংসার চালায়। আমি কিছুই বায়না করি না। তবুও বাবা যেন সবই বুঝতে পারে, চেষ্টা করে আমাকে এনে দিতে। আমি বাবাকে রোজ সাহায্য করি। ভাত রান্না করতে পারি, ডাল ও পারি। বাবা অনেক রাত পর্যন্ত ফুচকা বানায়। ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই আমিই আজকাল ভাতটা রান্না করি। চোঙ দিয়ে চুলায় ফুঁ দেই। লাকড়ি, পাতা, ঘুঁটে দিয়ে আগুনে আঁচ দেই। বাবা ছাড়া তো আর কেউই নেই আমার !

এখন রাত সাড়ে দশটার উপর বাজে। ভাত বেড়েছি, শুধু ডাল আর মিষ্টি কোমড় ভাজা দিয়ে খাওয়া হবে।
– “বাবা, ভাত বেড়েছি…  আসো আসো”
– “ওহ, দারুন হয়েছেরে বাবু… তোর হাতের রান্না তো দেখি তোর মায়ের মতোরে কানাই…!!!”
– “মা?”
বাবা যেন চুপটি করে গেলো। অনেক্ষন ধরে ভাতের থালায় মাথা নত করে তাকিয়ে ছিলো। হয়তো মাকে খুব মনে পড়েছে বাবার।

সকালে তাড়াতাড়ি উঠে যাই ঘুম থেকে আমরা। অনেক দিনের অভ্যাস তো। সূর্যের উদয়ন রোজ দেখতে পাই। ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে রোদ সারা ঘরকে যেন মুক্তোর মতো উজ্জ্বল আলোকিত করে তুলে। উঠোন ঝাড়ু দেই। দুই বালতি জল আনি। বাবার চা খাওয়ার অভ্যাস আছে। চা খেয়ে বাবা গোবর কুড়োতে মাঠে যায়। ঘুঁটে বানিয়ে আমাদের বেড়ার ঘরের বাইরে চিপকে দেয়। সারাদিন রোদ লাগে। শুকিয়ে ঠন ঠন হয়। এগুলিই তো রান্নার সম্বল।

দুজনে আজকে রাতের পান্তা ভাত খেয়েছি।
-“কিরে কানাই..নতুন ক্লাসে কবে নাম উঠবে ?”
– “আজকেই তো…. দিদিমনি বলেছেন একটা ইস্কুলের ড্রেস কিনে দেবেন। খুব আদর করেন আমাকে। রোজ পড়া পারি তো, তাই.. …”
– “বাবু…  সুচ সুতোটা নিয়ে আয় তো…  সিলিয়ে  দেই তোর ইস্কুলের শার্টটা, বগল তলা দিয়ে ছিঁড়ে গেছে।”
সুচে সুতো লাগিয়ে দিয়েছি বাবাকে। খুব যত্ন করে বাবা সেলাই করে দিচ্ছে আমার ইস্কুলের শার্টটা। মা থাকলে বোধহয় এমনিতেই আমার খেয়াল রাখতো। আমার বাবাই আমার মা। বাবার মধ্যেই রোজ আমি আমার মাকে খুঁজে পাই।

আজকে ঘরে চাল ফুরিয়ে গেছে। বাবা ঠেলা নিয়ে কাজে যাওয়ার সময় বলে গেছে ফেরার সময় বাজার করে নিয়ে আসবে। আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম। আজ নাম উঠবে দুপুরের স্কুলে। আমার চটি জুতো গুলি ক্ষয় পেয়ে গেছে। ফিতাও ছিঁড়ে গেছে। গুনা তার দিয়ে আজ কোনোমতে সারাই করে নিয়েছি। বাবাতো বলেইছে একজোড়া নতুন জুতো কিনে দেবে। আজ না হয় কোনোভাবে চালিয়ে নেই !

দুপুরে স্কুলে খেতে পাই রোজ। আজকে ডিম দিয়েছে। শুধু ঝোল দিয়ে খেয়েছি ভাত গুলো। কেউই দেখেনি, আমি ডিমটি পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ি নিয়ে এসেছি। এটাকে দুটুকরো করে রাতের জন্য ডিমের ঝোল রান্না করবো বাবার জন্য। বাবার খুব কাশি। কিছু ভালো খেতে না পেলে অষুধেও সারবে না। আমার জন্য কতো পরিশ্রম করে বাবা। সারাদিন রোদে রোদে ঠেলা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। খুব কালো হয়ে গেছে বাবা। আর আমি নাকি আমার মায়ের মতো ফর্সা! আমার ঠাম্মি বলতো। বাবার জন্য খুব কষ্ট হয় আমার। কিছু রোজগার করে যদি বাবাকে একটু সাহায্য করতে পারতাম ! চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু বাবা মেরেছে সেদিন। (কুল)বড়ই-এর আঁচার বানিয়ে চড়ক মেলায় বেঁচতে গিয়েছিলাম। বাবা দেখে ফেলল। বাড়ি এসে পিঠে দুই থাপ্পড় দিয়ে বলেছিলো, – “আমি কি মরে গেছি? সাবধান… তোর কাজ শুধু পড়া.. খুব সাবধান।”
সেদিনের পর থেকে আর রোজগারের নামও নেইনি।

– “কানাই…  কানাইরে… বাবু গেইটটা খুল তো”- বাবার ডাক পড়লো।
– “বাবু…  আজকে এতো তাড়াতাড়ি এসে পড়েছো কেনো গো? এতো তাড়াতাড়ি তো তুমি আসোনা !”
– “আরে শরীরটা জানিনা কেনো ভালো লাগছিলোনা। আচ্ছা, নে নে বাজরের বেগটা ধর.. যেই ভারী, চার কেজি চাল এনেছি, কিছু আলু আছে, আর বাঁধা কপি দাম কম, এনেছি দুই কেজির মতো।”
বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে আজ। এসেই খাটে শুয়ে পড়লো। সন্ধ্যাবাতি দিয়ে ঘুঁটে গুলি রান্নাঘরে নিয়ে এসেছি। আমাদের কোনো টিভি মোবাইল নেই। সেই সামর্থ্যও নেই। একটি পুরোনো রেডিও আছে। মাঝে মাঝে চালিয়ে গান টান শুনি। রান্না ঘরে আজ রেডিওটা নিয়ে বসলাম। আলু কাটছি। সেই ডিমটাও বাটিতে রাখা আছে। বাবাকে আজ চমকে দেবো। ডিমের ঝুল বাবার খুবই পছন্দ। রেডিওটা চালিয়ে গান শুনতে শুনতে রান্না বসাই।
রাত দশটা বেজে গেছে প্রায়। রান্না হয়ে গেছে। কাল বাবার তাড়া নেই, অনেক ফুচকা রয়ে গেছে, কালকের দিনটা চলে যাবে। ভাত বেড়ে নিয়েছি।
– “বাবা… ও বাবা…  উঠো উঠো…  খেতে আসো।”
– “কি রেঁধেছে বাপ্ আমার… ও আলু ভাজা.. সেরা… ওইটা কি…. থালা দিয়ে ঢাকা… নিচে কিসের তরকারি কানাই?”
বাবা থালা উঠিয়ে বলে,
– “ওমা ডিমের ঝুল কোথায় পেলি?”
– “আজকে ইস্কুলে ডিমের ঝুল দিয়েছিলো, আমি শুধু ঝুল দিয়ে খেয়েছি, ডিমটা তোমার জন্য এনেছি।”
বাবা চোখের জল মুছতে মুছতে বললো,
– “আমার বাপ্ আজকে অনেক বড় হয়ে গেছে…  বেঁচে থাকরে বাবু… আমার মাথায় যত চুল আছে, তত বছর বেঁচে থাক”।
বাবার এই আশীর্বাদ পেয়ে চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি আমিও, সিক্ত চোখেই আজকের রাতের খাওয়া শেষ হলো।

আজকে দ্বিতীয় দিন, দুপুরের স্কুল। সকাল থেকে যেন সময়ই  কাটছেনা। সকাল সকাল স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস ছিলো তো। আর এখন তো দশটার পর বের হই।

দিদিমনির প্রথম ক্লাস। নাম ডাকলেন।
– “রোল নাম্বার ওয়ান”
– “প্রেজেন্ট মেডাম”
বাংলা ক্লাসে নতুন বইয়ের প্রথম গল্পটি আজ পড়িয়েছেন তিনি। বাংলা পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে। ক্লাস শেষ হলে দিদিমনি আমায় ডেকে বলেন,
– “কিরে কানাই, লেইজার এ আমার সাথে দেখা করবি তো, কেমন?”
– “হ্যাঁ, ঠিক আছে দিদিমনি।”

লেইজার পড়েছে। তাই সোজা আগে দিদিমনির কাছে গেলাম।
– “আসি দিদিমনি?”
– “আয় আয় কানাই, এই নে ৬৫০ টাকা দিলাম, আজকেই বাজারে গিয়ে নতুন স্কুল ড্রেস অর্ডার করবি কেমন? যা যা খেলতে যা মাঠে…”
খুবই লজ্জা লাগছিলো টাকাটা হাতে নিতে, অনেক স্যার দিদিমণিরা বসেছিলেন সেখানে। তবে খুউব খুশিও লাগছে। এটা দিদিমনির দেওয়া পুরস্কার। পকেটে গুঁজে সোজা দৌড়ে মাঠে চলে গেলাম।

স্কুলের অনতি দূরে একটু ভিড় জমেছে। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি বাবার ফুচকার ঠেলা !!! ওমা, বাবা এখানে !!! দৌড়ে বাবার কাছে যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম। হঠাৎ দেখি বাবার ঠেলায় ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে একটি গাড়ি। সব খাবার গুলো রাস্তায় ছিটকে পড়ে গেলো। গাড়ি থেকে তিনটি ছেলে বেরিয়ে আসে, বাবার শার্টের কলার টেনে ধরে গালিগালাজ করতে থাকে, – “রাস্তার মধ্যে কিসের ব্যবসা রে?”
আমি একদম থমকে দাঁড়ালাম। খুবই ভয় করছে আমার। এগিয়ে যেতে পারছিনা যেন।
বাবার ঠেলা তো রাস্তার অনেক সাইডেই ছিলো। গাড়িটিই অগত্যা গিয়ে ধাক্কা মেরেছে। আবার উল্টো বাবাকেই ধমকাচ্ছে ! কিছুক্ষন পরেই গাড়িটা ফুস করে দ্রুত গতিতে চলে গেলো। পড়ে রইলো আমাদের ঠেলা গাড়িটি। জলের পাতিলটিও ভেঙে গেছে, ফুচকার বাক্সটিও টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় কাঁচ বিছিয়ে গেছে। বাবার শার্টটি ছিঁড়ে গেছে টানাহেঁচড়ায়।
অনেকে মিলে বাবাকে সাহায্য করছে, ঠেলা গাড়িটি উঠিয়ে বাবা ভিড়ের মধ্যেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কেনো জানি না পা চলছিল না আমার। এতো ভয় কোনোদিন পাইনি। সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো, শুধু আমিই ছিলাম না। নিজেকে কেনো জানি খুবই ধিক্কার দিচ্ছিলাম।

আজকে বাড়ি ফিরতে আমার সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাবার বকা আজ নির্ঘাত খাবো। বাবা নিশ্চই সোজা বাড়িতে চলে এসেছে।
গেইটটা খুলাই ছিলো। ঢুকতেই বাবা ধমক দিয়ে বলে উঠলো,
– “কিরে কানাই, বাজে কয়টা, বদমাশ, কোথায় ছিলি এতক্ষন?”
আমি মাথা নিচু করে কিছু না বলেই ঘরে ঢুকে গেছি। স্কুলের ছেড়া বেগটা খাটের এক পাশে রেখে কলসি থেকে জল খেতে গ্লাস হাতে নিয়েছি। অপরাধী মনে হচ্ছে নিজেকে। যে বাবা এতো পরিশ্রম, এতো লাঞ্ছনা, এতো কষ্ট সহ্য করে শুধু আমার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, সেই ভগবানের হাতটি আজ ধরতে পারিনি !!! তখন  আমাকেই তো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিলো বাবার!
আজকে বাবার মেজাজ ভালো থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।
– “কিরে.. কিছু জিজ্ঞাসা করেছি … উত্তর দে”
– “বাবা, একটু বাজারের দিকে গিয়েছিলাম”
– “কি…? তোকে বাজারে যেতে কে বলেছে.. হে? বদমাশ…”
এসেই পিঠে দুটো সজোরে থাপ্পড় দিলো বাবা। অপমানে চোখে আমার বন্যা নেমে এলো যেন। বাবাও কাঁদছে। হ্যাঁ ঠিক করেছে বাবা, এটাই শাস্তি হওয়া উচিৎ আমার, কেনো যাইনি বাবার হাতটি ধরতে যখন বিপদে ছিলো বাবা!
– “কানাইরে, বাপ্ আমার…”
এবার আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে অজস্র কান্নায় ভেঙে পড়লো বাবা। আমিও জড়িয়ে কাঁদছি আমার একমাত্র ঈশ্বর, আমার জীবন, আমার সব কিছু, আমার বাবাকে।

অনেক্ষন পর আবার স্বাভাবিক হলাম দুজনেই। চোখ মুছতে মুছতে বাবা বললো,
– ” দাঁড়া, তোর জন্য একটা জিনিস এনেছি”, বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে বেড়ায় টাঙানো বেগটা ভেতরে আনলো।
– “এই নে… ”
বাবা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
– “বলেছিলাম না… নতুন একজোড়া… ”
আমি তো খুশিতে আত্মহারা আজ। আমার উপহার আমি জয় করেছি। জুতোর বাক্স খুলে পাঁচ নম্বর এক্কেবারে নতুন গন্ধে ভরা নতুন জুতো পায়ে লাগিয়ে লাফালাফি করছি আনন্দে!!
– “বাবা, আমি খুব খুশি হয়েছি গো, আমার আদরের বাবা”- বলেই বাবার গালে চুমু খেলাম। বাবা আমায় কোলে তুলে নিলো, পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে বললো,
– “আমার সোনা মানিক।”
– “বাবা, আমিও তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি, দেখবে?”
– “কি জিনিস রে কানাই?”
স্কুলের বেগটা খুলে তা থেকে একটা পলিথিনের বেগ বাবার হাতে তুলে দিলাম। বেগটি খুলেই বাবা বললো,
– “কিরে.. এটাতো নতুন শার্ট… টাকা পেলি কই?”
– “বাবা, দিদিমনি যে বলেছিলেন না ইস্কুলের ড্রেস দেবেন, তো ৬৫০ টাকা দিয়েছেন আজকে।”
– “আর তুই ইস্কুল ড্রেস না কিনে আমার জন্য শার্ট আনলি?”
– “ড্রেসও এনেছি তো বাবা, এই দেখো”
– “এগুলি তো দেখি পুরোনো কাপড় !”
– “হ্যাঁ বাবা, সেকেন্ড হেন্ড কাপড়ের দোকান থেকে ড্রেস এনেছি, কম দাম…..তাতে কী…এগুলি তো আমার জন্য নতুনই !”

কিছুক্ষন চুপ ছিলাম দুজনেই। আমার ঈশ্বর আমার বাবা পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত রেখে বললো,
– “কানাই রে, তোর মত ছেলে যেন সব বাপ্ মা-ই পায়!”
আমিও বাবাকে জড়িয়ে ধরি অফুরন্ত ভালোবাসায় আর পরম শ্রদ্ধায়।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।