বেশি জরুরি কে-অভিনেতা না সৈনিক?

বেশি জরুরি কে-অভিনেতা না সৈনিক?

বেশি জরুরি কে-অভিনেতা না সৈনিক?

 

 

আজ প্রায় 7 দিন হতে চলল ভারতবর্ষের খুব জনপ্রিয় এবং ট্যালেন্টেড একজন অভিনেতা সুশান্ত সিং- এর মৃত্যু হয়েছে ।ভীষণ মানসিক অবসাদের বসে মাত্র 34 বছর বয়সেই উনি নিজেকে শেষ করে দিলেন। শুনেছি উনি নাকি পড়াশোনাতেও ভীষণ ভালো ছিল ,আর মানুষটিও বেশ ভালো ছিল। ওনার ওই মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে করা সিনেমাটা বহুবার দেখেছি। এমনকি, 16 তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধেয় বসে মোবাইলেতে ওই সিনেমাটাই দেখছিলাম ।সিনেমাটা তখন অর্ধেক দেখেছি, তখন ওই জায়গাটা দেখছিলাম যেখানে একটা হোটেলে ধোনির সাথে সাক্ষীর প্রথম পরিচয় হয় ।কি অদ্ভুত অভিনয় সবার বিশেষ করে সুশান্ত সিং এর অভিনয়। সত্যি বলতে আমিও ওনার ভীষণ বড় ভক্ত ছিলাম আর ওনার মৃত্যু আমাকেও ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল ।যাই হোক সিনেমাটা পুরোটা দেখা হলো না খবর এলো চীনা সেনারা ওই গালওয়ান উপত্যাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা টপকে আমাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে সেখানে অস্থায়ী তাবু তৈরি করছে ।তাদের সেখান থেকে তারা বার জন্য আমরা একদল সেনা গেছিলাম, কিন্তু প্রতারক চীনা সেনারা আমাদের নিরস্ত্র অবস্থায় দেখে কাঁটাওয়ালা লাঠি- পাথর দিয়ে আঘাত শুরু করে ।আমারা ক্ষতবিক্ষত  অবস্থাতেও  ছেড়ে দেই নি ওদের, যোগ্য জবাব দিয়েছে ওদের ।আর ওদেরও অনেক জনকে আমরা মারতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক কতজন কে মারতে পেরেছি সেটা বোঝার আগেই আমরা মারা গেলাম। যে মৃত্যুকে তোমরা শহীদ হওয়া বল।ওই শহীদদের মধ্যে আমিও ছিলাম।ভেবেছিলাম ফিরে আসে পুরো সিনেমাটা দেখা শেষ করব কিন্তু সেটা আর হল না,আমিই শেষ হয়ে গেলাম। আমরা জানি তোমরা গোটা ভারতবাসী আমাদের মানে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভীষণ ভালোবাসো, শ্রদ্ধা করো, আস্থা রাখো আমাদের উপর। কিন্তু আজ আমাদের মৃত্যুরও প্রায় 5 দিন হতে চলল।একটা জিনিস খুব দুঃখ দিল আমাদের, বুঝলাম তোমাদের আমাদের প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা সবটাই ওই ফেসবুকে আমাদের কফিনবন্দি দেহগুলোর ছবিতে দুঃখ প্রকাশ করা, আর কিছু দুঃখভরা কমেন্ট আর চীনের প্রতি কিছুটা ক্ষোভ বা চীনের পণ্য বয়কট করা এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ দেখো সুশান্ত সিং এর মৃত্যুর পর তোলপাড় গোটা দেশ। একটা মানুষের মৃত্যুতে আজ গোটা দেশে এমন উথাল-পাথাল অবস্থা আর আমরা কুড়ি জন মারা গেলাম সেই নিয়ে ভাবার সময়টুকু কারোর নেই। সুশান্ত সিং এর মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক তার তদন্তের জন্য সরকার পুলিশকে ভার দিয়েছে, অথচ আমরা সেনারা প্রায় সময়ই এভাবে আমাদের প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছি সেই নিয়ে সরকারের কোন ভাবনা চিন্তা নেই ।আমরা মরলে আমাদের শুধুই শহীদ আখ্যা দিয়ে আর অল্প কিছু টাকা দিয়েই ক্ষান্ত থাকে সরকার। অথচ নিত্যদিন সুশান্ত সিং কে কিভাবে হেনস্থা করেছে সেই নিয়ে কত কিছু বেরোচ্ছে। তোমরাও তার কত ছবি আঁকছো, তাকে নিয়ে কবিতা-গান লিখছো তার ছবি তোমাদের প্রত্যেকের ফেসবুক প্রোফাইলে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিচ্ছ আরো কত কিছু করছ।কই আমাদের জন্য কে কটা ছবি একেঁছো বা গান লিখেছো!আবার শুনলাম ওই ইনস্টাগ্রাম না কি আছে 1টা, ওখানে নাকি তার প্রোফাইলটাকে মেমোরেবল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আবার এও শুনলাম ওনার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে ওনার দু-একজন ভক্ত নাকি নিজেদের প্রাণ দিয়েছে ,না যুদ্ধে প্রাণ দেয়নি তারা, তারা আত্মহত্যা করেছে। তোমরা সবাই তাকে এতটা ভালোবাসা দেখে একদিকে যেমন ভীষণ ভালো লাগছে, তেমনই অন্যদিকে কিছুটা রাগ-হিংসা-দুঃখও হচ্ছে। কারণ যে মানুষটার অত টাকা, অত দামি-দামি গাড়ি-বাড়ি ,কত ভালোবাসার মানুষ, কত চাওয়া-পাওয়ার মানুষ আছে সে শুধুমাত্র অবসাদের বসে নিজেকে শেষ করে দিল আর তার জন্য তোমরা এতো ভাবছো,এত কষ্ট পাচ্ছ। আর এদিকে আমরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিনের পর দিন ,রাতের পর রাত, দিনরাত এক করে গরম- ঠান্ডা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র দেশকে ভালোবেসে আর তোমাদের সুরক্ষা প্রদান করি আর তোমাদের সুরক্ষায়  নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দি।আর সেই তাদের দাম তোমাদের কাছে এতই কম ।আমাদের মৃত্যুর পর প্রথম দু একদিন একটু প্রচারে এসেও আবারো আমরা মুছে গেলাম। চীনা সেনাদের সাথে সংঘর্ষে আমরা যারা শহীদ হয়েছি তাদের দু-চার জনের নামও তোমরা বলতে পারবে না, অথচ দেখো সুশান্ত সিং এর অভিনীত দশটা ছবির নাম তোমরা বলে দেবে অনায়াসে।এর পরও কেউ আমাদের পরিবারের খোঁজটুকুও নেবে না তাও ভাবি বুঝতে পারছি। না আমরা কোন প্রচারের আলোয় আসতে চাই না বা কারোর সাথে কোনো তুলনায় নিয়ে যেতে চাই নিজেদের।আমরা শুধু চাই দেশবাসীর ভালোবাসা অন্য সবার থেকে অনেকটা বেশি। কিন্তু তোমরা সেটুকু দিলে না, কিভাবে এতটা স্বার্থপর হলে তোমরা? তোমাদের কাছে প্রাণের আগেও কি মনোরঞ্জন? প্রাণ না থাকলে পারতে এই সিনেমা-খেলা এসব দেখে মনোরঞ্জন করতে?তবুও আমরা আমাদের কর্তব্য অবিচল থাকবো, রক্ষা করবো তোমাদের নিজেদের প্রাণ দিয়ে। জানি তাও তোমরা বদলাবে না একটুও।তবু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব তোমরা সবাই ভালো থেকো ,সুখে থেকো খুশি থেকো। যদি সম্ভব হয় আবারও জন্ম নেব এদেশের মাটিতেই,এক দায়িত্ববান সৈনিক হয়ে আবারও রক্ষা করব করবো আমার দেশ মাকে।চলি আমার আমাদের সময় হয়ে গেছে, আবার দেখা হবে যদি ভাগ্যে থাকে।।

ইতি-তোমাদের ভালোবাসার এক সৈনিক

(অঙ্কিত দাস)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 0   Average: 0/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।