ব্যবসায়ী

গল্পের নামব্যবসায়ী

লেখক—ভিক্টর ব্যানার্জী

 

এক

 

হুযুগ আগের কথা। আজ যে দেশটিকে আমরা ইথিওপিয়া নামে চিনি তখন নাম ছিল— আবিসিনিয়া। আফ্রিকা মহাদেশের এই দেশটির ইতিহাস আমাদের কাছে প্রায় অজানাই বলা চলে। ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতকে এটি পর্তুগীজদের উপনিবেশ ছিল। তো সেইসময় পর্তুগীজরা এদেশের মানুষজনের প্রতি তেমন অত্যাচারী ছিল না। আসলে পর্তুগীজদের তখন ঢের উপনিবেশ,তাই এই দেশটার প্রতি অত নজরদারি করত না।
তখকার কথা বলি। মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে বানিতি নামে এক বনিক এদেশে বানিজ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয়। বানিতি সুঠাম যুবক,মিশরীয় সমস্ত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে আর পাঁচটা বনিকের মতো তার দিন চলে। তার বয়স বেশী না—এই বছর পঁচিশ ছাব্বিশ হবে। নতুন দেশে বানিতির তেমন কোনো ব্ন্ধু-বান্ধব নেই। শহরের নগরপালকে উপঢৌকন দিয়ে বাজারের প্রান্তে সে ব্যবসার পসরা নিয়ে বসে। বিভিন্নরকম মিশরীয় নক্সার ফুলদানী থেকে শুরু করে ঘর সাজাবার উপকরণ, মেয়েদের প্রসাধন সামগ্রী এসবই বিক্রি করে।

 




 

নগরের অনেক অভিজাত পরিবারের মানুষজন তার থেকে জিনিস কেনে। পর্তুগীজদেরও ভিড় জমে তার দোকানে। প্রতিদিনই সন্ধ্যেবেলা একটি মেয়ে তার দোকানে আসে। মাঝমধ্যে এটা ওটা কেনে, তারপর বেশ কিছুক্ষণ বানিতির সাথে গল্প করে চলে যায়।
এই মেয়েটি জনৈক পুর্তুগীজ সৈন্য সিজারের কন্যা রোজা। অল্পবয়সী রূপসী, কিন্তু বেশ চঞ্চল স্বভাবা। সে কথার ছলে বানিতির দেশের কথা,অভিজ্ঞতার কথা, পরিবার পরিজনের কথা জিজ্ঞাসা করে। বানিতিও হেসে খেলে তার সাথে গল্প করে।

প্রতিদিনই সে রোজার আসার অপেক্ষা করে থাকে। রোজা এলে সে তাকে কিছু না কিছু খাওয়ায়। কখনও আবার রোজার পছন্দের প্রসাধনী এমনিতেই দিয়ে দেয়। দাম নেয় না। হঠাৎ একদিন রোজা তাকে বলে—“ আচ্ছা ব্যবসায়ী, তুমি কখনও কাউকে ভালোবেসেছ?”
সে হেসে উত্তর দেয়—“সেরকম আর হলো কই? আজ এদেশে তো কাল অন্য দেশে। এই তো জীবন।”
তারপর বানিতি একটু মুচকি হেসে ঘুরিয়ে ঠিক এই প্রশ্নটাই করে বসে—“আচ্ছা রোজা তুমি কখনও কাউকে ভালোবাসোনি?”
রোজা ঠিক এই কথাটাই শোনার জন্য যেন এতকাল বসে ছিল। লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলে—“বেসেছি তো,কিন্তু তাকে বলতে পারিনি কখনও।”
সে রোজার কথা শুনে হো হো করে হেসে ফেলে। রোজার মনে একটু রাগ হয়। সে বলে—“ হাসছ কেন? কি এমন বললাম?”
বানিতি হাসি চেপে রেখে বলে—“আসলে ভালোবাসা এক তরফা হয়না কিনা।”
তারপর রোজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে—“রাগ করছ কেন? আমি তো এমনিই মজা করছিলাম।”
সে বুঝতেও পারেনা যে সুন্দরী রোজার স্বপ্নের পুরুষ আর কেউ না সে নিজে!

 

দুই

 

এভাবেই দিন কাটছিল ব্যবসায়ীর। হঠাৎ একটা সময় আবিসিনিয়ায় পর্তুগীজদের অত্যাচার বেড়ে গেল। তারা এদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা প্রত্যেকের সাথে ভীষণ দুর্ব্যবহার করতে লাগল। বাইরে থেকে আসা মানুষগুলোও বাদ পড়ল না। ফলে সকলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রইল। তারপর একদিন পর্তুগীজদের এক গুপ্তচর মিথ্যা অভিযোগে বানিতিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের নতুন সর্দারের কাছে হাজির করল। নতুন সর্দার তাকে বলল—“ তুই আমাদের রক্ষীদের গালাগাল দিয়ছিস শুনলাম।”
সে বলে—“না হুজুর এ অভিযোগ মিথ্যে।”

 




 

সর্দার রেগে গিয়ে বলে—“ফের মিথ্যে কথা। তুই একটা বেয়াদপ। তুই যত আজেবাজে জিনিস লোককে বেচিস। তার ওপর তোর মতলব ভালো না।”
সে মাথা নিচু করে বলে—“ না হুজুর, আমি মিশরের সবচেয়ে দামী জিনিসগুলোই বিক্রি করি। বিশ্বাস না হলে কোন মিশরীয় বনিককে জিজ্ঞাসা করে দেখুন।”
পর্তুগীজ সর্দার বানিতির ওপর আরও রেগে যায়, বলে—“ তুই আমার মুখের ওপর কথা বলিস!”
তারপর সর্দারের নির্দেশে পর্তুগীজ সৈন্যরা তাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে শুধুমাত্র মিশরীয় মূল্যবান পন্যসামগ্রী গুলো আত্মসাৎের উদ্দেশ্যেই তাকে ষড়যন্ত্র করে বন্দী করা হল।

পর্তুগীজ সৈন্যরা তাকে হাত পা বেঁধে টানতে টানতে তিন-চার ক্রোশ দূরে একটা দুর্গের মধ্যে নিয়ে যায়। তারপর হাত পায়ের বাঁধন খুলে নিক্ষেপ করে একটা অন্ধকার চোরাকুঠুরিতে।

বানিতি আপনমনে কেঁদে ফেলে বলে ওঠে—“হে ঈশ্বর, আমি কি পাপ করলাম? কিসের জন্য আমায় এত বড় সাজা পেতে হচ্ছে।”
চোরাকুঠুরির আলোবাতাসহীন আবদ্ধ পরিবেশে পড়ে রইল বানিতি। আর তার দেশে ফেরা হল না।
এদিকে রোজা সবটা জানেনা। সে তার বাবা সিজারকে বলে—“আচ্ছা বাবা, তুমি কি জানো বাজারের সেই সাজের দোকানদারের কি হল? তাকে আর দেখি না যে!”

সিজার প্রথমটায় বুঝতে পারে না যে রোজা কার কথা বলছে। তারপর রোজা এটা সেটা বলে বুঝিয়ে দেয়। পর্তুগীজ সৈন্যরা আবিসিনিয়ার আনাচে কানচে কি হচ্ছে তার সব খবরই রাখত। তবে সিজার কিন্তু পর্তুগীজ সৈন্য হলেও আর পাঁচ জনের মত অত্যাচারী নয়। তাই রোজাও তার বাপের স্বভাব পেয়েছে। সিজার নিজের মেয়ের কাছে কিছু গোপন করে না।

সে বলে,—“সাজের দোকানদার টা কে তো সর্দার বন্দী করে চোরাকুঠুরিতে রেখেছে। আজ প্রায় তিন সপ্তাহ সে বন্দী। আহাঃ রে বেচারির কোনো দোষ নেই। ওর দামী দামী জিনিসগুলোকে হাতিয়ে নেবার জন্যই নতুন সর্দার ওকে মিথ্যে শাস্তি দিল।”
সিজারের কথা শুনে রোজা আকাশ থেকে পড়ল। সে স্বপ্নেও এরকম কিছু কল্পনা করতে পারেনি।একটা বুক ফাটা কান্না তার গলা ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না,পাছে বাবা সন্দেহ করে।

সে জিজ্ঞাসা করে—“আচ্ছা বাবা তাকে কোন কারাগারে রেখেছে?”
সিজার জানায় লোহিত সাগরের তীরে পরিখা ঘেরা কারাগারে বানিতি ব্ন্দী। কারাগারের চারধারে উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাইরে কড়া পাহারাদার। এইসব শুনে রোজা আরও মুষড়ে পড়ে। সে কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করে—“ আচ্ছা বাবা তোমায় কে বলল?”
সিজার বলে—“হেনরী বলেছে।”

 

তিন

 

হেনরী হল সিজারের ঘনিষ্ঠ ব্ন্ধু। সে ওই কারাগারের পাকশালায় কাজ করে। রোজাদের কটেজে প্রায় আসে আড্ডা দেয়,মদ খায়, কত গল্প বলে। বন্দীদের কথা, তাদের অপরাধের কথা। রোজা শুনেছে কত মানুষ বিনা অপরাধে ওখানে বন্দী থাকে। হেনরী রোজাকে তার মেয়ের মত ভালবাসে।
এদিকে রোজার মনের অবস্থা ভালো নেই। এইরকম সময় হঠাৎই একদিন হেনরী এল তাদের কটেজে। তাকে দেখে রোজা ভাবে যে করেই হোক, হেনরীর থেকে বানিতির ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে। ভাবতে ভাবতে তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। হেনরী ঘরের মধ্যে একা বসে সিজারের আসার জন্য অপেক্ষা করছিল। এমন সময় রোজা খাবারের থালা নিয়ে ঘরে ঢোকে। তারপর জোর করে একগাল হেসে তাকে বলে—“তোমাদের কারাগারটা একদিন দেখাও না আঙ্কল। ভীষন দেখার ইচ্ছে।”

 




 

হেনরী হেসে বলে—“কেন রে মা, হঠাৎ কারাগারটা দেখার ইচ্ছে হল কেন?”
রোজা আসল কারণটা চেপে যায়। বলে—“কেন আবার,এমনি। তুমি এত গল্প বল তাই মনে হল গিয়ে দেখে আসি।”তারপর বলে—“বেশ তুমি না নিয়ে গেলে আর কি বলব।”

হেনরী হাসতে হাসতে বলে—“আচ্ছা, তোর বাবার সাথে যাস না হয়।”
সে বিস্ফারিত চোখে বলে,—“বাবাকে বলো না! তা হলে আর আমার যাওয়া হবে না।”
হেনরী বলে—“কেন রে মা?”
রোজা বানিয়ে বানিয়ে বেশ কিছু গালগল্প কথা বলে হেনরীকে বোঝায় যে তার বাবা এতে রাজি হবে না।তাই সে হেনরীকে বলে—“তুমি চুপিচুপি নিয়ে যাবে তো বল?”

রোজাকে হেনরী নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। তাই তার অনুরোধ টা ফেলতে পারে না। রাজী হয়ে যায়। তারপর একবার কি যেন ভেবে বলে—“আচ্ছা সিজার কে কি বলে বেরোবি?”
রোজা বলে—“সে তুমি আমার ওপর ছেড়ে দাও।”
হেনরী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে—“বেশ তাই দিলাম।”
তারপর সিজার এলে তিনজনে খোশমেজাজে গল্প করে। এতক্ষণে রোজার বিষন্নতা কিছুটা কেটেছে। তবুও সে মনে মনে ভাবতে থাকে আদৌ বানিতির সাথে তার দেখা হবে তো?

 

চার

 

আজ একমাস হতে চলল চোরাকুঠুরিতে বন্দী বানিতি। শুধু স্নান খাওয়ার সময়টুকু সে এই কুঠুরি থেকে বেরোতে পারে। প্রহরী তাকে নিয়ে যায় আবার ঠিক সময় মতো চোরাকুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেয়। এখানে তাকে নিয়ে আসার সময় চোখ বেঁধে নিয়ে এসেছিল। তাই কোথায় যে সে বন্দী আছে নিজেও জানে না। একদিন তার চোরাকুঠুরির সামনে সে পায়ের শব্দ পেল। তারপর একটা ছায়ামূর্তি তার কুঠুরির সামনে এসে দাঁড়াল। বানিতি অন্ধকারে কিছুই ঠাহর করতে পারল না। হঠাৎই একটা চেনা মহিলা কন্ঠ তাকে ফিসফিস করে ডেকে বলল—“ ব্যবসায়ী, ও ব্যবসায়ী আমি রোজা, শুনতে পাচ্ছো?”
বানিতি চমকে ওঠে। সে তড়িৎ বেগে ছুটে যায় চোরাকুঠুরির দরজার সামনে।

তারপর অবাক হয়ে বলে—“তুমি এখানে কি করে এলে?”
রোজা ফিসফিস করে বলে—“সে সব পরে বলছি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবে জানলাম তুমি এই কুঠুরিতে আছো।”
সে গরাদের ফাঁক দিয়ে রোজার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে বলে ওঠে—“রোজা এরা আমায় মেরে ফেলবে।”
রোজার ভীষণ কষ্ট হয়। বানিতিকে সে সান্ত্বনা দিয়ে ফিসফিস করে বলে—“ চিন্তা করো না ব্যবসায়ী। আমি যা বলছি কান খুলে শোনো—  একটা উপায়-ই আছে।”
তারপর বলে—“আর কিছুদিন পর তোমার বিচার হবে। তখন আমি যা শিখিয়ে দিচ্ছি তুমি তাই বলবে।”
এরপর বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত চাপাস্বরে দুজনের কথা হয়। কথা শেষে বানিতি কে বিদায় জানিয়ে রোজা চলে যায়।
সে  চলে গেলে বানিতি অন্ধকারে বসে  কথা তার ভাবতে থাকে। তার মনে হয় কত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে রোজা তার মুক্তির জন্য এসেছে। এই অন্ধকারে বসে থাকতে থাকতে তার দেশের কথা মনে পড়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে।আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়ে।

 

পাঁচ

 

এর ঠিক এক-সপ্তাহ পরে বানিতিকে নিয়ে হাজির করা হয় বধ্যভূমিতে। এখানেই পর্তুগীজরা বন্দীদের বিচার করে। যদি দোষী হয় তাহলে শাস্তি আর নির্দোষ হলে মুক্তি। বানিতির হাতদুটো বাঁধা,সে হাঁটু মুড়ে বসে আছে। আর ভাবছে এই বুঝি তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে। আর বোধ হয় তার দেশে ফেরা হবে না।
পর্তুগীজ নগরপাল স্বয়ং উপস্থিত। তাঁর কথাতেই সব কিছু নির্ভর করছে। নতুন সর্দার একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। বানিতির সাথে আরও তিনজন বন্দীকে বধ্যভূমিতে আনা হয়েছে। কেউ চুরির আসামী কেউ বা বানিতির মতো নির্দোষ।
বিচার শুরু হল। এদের বিচারে বন্দীর মুখের স্বীকারোক্তি আর কিছু সাক্ষীর জবানবন্দি তে আসামীর বিচার প্রক্রিয়া চলে। সবার প্রথমেই নতুন সর্দারের চোখ পড়ল বানিতির ওপর।

 




 

সে বানিতিকে লক্ষ্য করে নগরপালকে বলল—“ হুজুর এই ব্যবসায়ী চোরাই জিনিসপত্র বিক্রি করে। এর মতলব ভালো না হুজুর।”
এই বলে সে দু-তিন জন লোককে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করায়। এরা প্রত্যেকেই সর্দারের পেটুয়া লোক ছিল।
বানিতির পক্ষে সাক্ষী দেবার মতো কেউ ছিল না। তাই সে চুপ করে অপেক্ষা করতে থাকে। সর্দারের সাক্ষী রা নগরপালকে বানিতির নামে সর্দারের শেখানো মিথ্যা বুলি আওড়ে যেতে লাগল। সে চুপচাপ সমস্ত কিছু শুনে গেল। তার মুক্তির কোনো আশাই তার মাথায় আসছিল না। একসময় নগরপাল তাকে বলল—“ তোমার কোনো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ কি আছে এ দেশে?”

হঠাৎ ই তার মনে পড়ে গেল চোরাকুঠুরিতে রোজার শেখানো কথাগুলো। সে বলে উঠল—“হুজুর আমি জাতিতে পর্তুগীজ। এ দেশে আমার বাবা থাকেন। বহুকাল আগে তিনি এদেশে এসেছেন।  মায়ের মুখে শুনেছি তিনি নাকি কারাগারের পাকশালার রন্ধনকারী। হুজুর আমি এ দেশে অনেক খুঁজেছি তবু তার দেখা পাইনি!”এই বলে সে রোজার কথামতো অঝোরে কাঁদতে থাকে।
নগরপাল জিজ্ঞাসা করে—“তার নাম কি হে?”
বানিতি কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দেয়—“হেনরী।”

নগরপালের কথামতো দুজন প্রহরী পাকশালা থেকে হেনরীকে ডেকে নিয়ে আসে। হেনরী ছুটে এসে বানিতিকে বুকে জড়িয়ে ধরে। তারপর নিপুণ অভিনেতার মতো অভিনয় করে যায়।
পর্তুগীজরা তাদের স্বজাতিকে কখনোই সাজা দিত না। তাই যেহেতু হেনরী পর্তুগীজ সেহেতু তার পুত্র বানিতিকেও পর্তুগীজ ঠাহরে মুক্তি দিয়ে দেয় নগরপাল।
অদূরেই রোজা অপেক্ষা করছিল তার জন্য। রোজার কাতর অনুরোধে নিঃসন্তান হেনরী এত ঝুঁকি কাঁধে নিয়ে বানিতিকে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ভেবে মনটা আর আনন্দে ভরে উঠে। বানিতি রোজাকে দূর থেকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে যায় তার কাছে। তারপর তার সামনে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে তার পা দুটো জড়িয়ে ধরে। রোজা লজ্জায় লাল হয়ে যায় । সঙ্গে সঙ্গে তাকে দু হাত দিয়ে তুলে ধরে বলে —“তোমার স্থান আমার পায়ে নয় ব্যবসায়ী। আমি যে তোমায় ভালোবাসি।”
বানিতির দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

 

১৭ই চৈত্র ১৪২৬
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ভিক্টর ব্যানার্জী

 




গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total:    Average: /5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।