ব্যভিচারিণী  (চতুর্থ পর্ব)

ব্যভিচারিণী (চতুর্থ পর্ব)

* ব্যভিচারিণী * (চতুর্থ পর্ব)
S Kundu ‘Inspiration’

 

ভাবেই কেটেছে কয়েকটা সপ্তাহ। মধ্যে অর্কর M.B.A. র ফইনাল রেজাল্টও আউট হয়েছে, খুব ভালো না হলেও এক্সপেক্টেড মার্কস পেয়েছে। দিনটা ছিল 12ই অগাস্ট, রবিবার। ব্রেকফাস্ট সেরে  পিঙ্কিকে কল করে অর্ক। কথাবার্তার মধ্যে পিঙ্কি নিজেই বলে “ওয়েট, রূপার একটু খবর নেওয়া যাক।”
কল ক্যানেক্ট হতেই :
রূপা: “পিঙ্কি, কেমন আছিস বল।”
একটু কুশল বিনিময়ের পর অর্কর খবর জানতে চায়। হয়তো ও বুঝেই গিয়েছিল যে অর্কও লাইনে আছে।কারণটা খুবই স্বাভাবিক, দিনটা রবিবার। আর যেহেতু 15ই অগাস্ট মিট করার আছে তাই ক্যনফার্মেশ্যান কল অর্ক একটা করবেই, এবং সেটা ও নিজের নাম্বার থেকে করবে না। তাহলে পিঙ্কিই হলো একমাত্র অবলম্বন।
অর্ক: “হ্যাঁ আমিও লাইনে আছি, কেমন আছ তুমি? সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের বুধবার আমরা মিট করছি।”
রূপা: “এখনো অব্দি তো সব ঠিকই আছে। আর বাড়িতে যে প্রবলেম হয়েছিল সেগুলোও অনেকটা ঠিক হয়েছে। আশাকরি আর কিছুদিন গেলে বাকটাও ঠিক হয়ে যাবে। ”
পিঙ্কি : “অর্ক তুই কি সিমকার্ড নিয়েছিস? তাহলে নাম্বারটা আমায় টেক্সট করে দিস।”
অর্ক: “হ্যাঁ, আমি একটু পরেই তোকে নাম্বারটা সেণ্ড করছি।”
আর বেশি কথা না বাড়িয়ে গুডবাই উইশ করে সকলেই ফোন রেখে দেয়।




14ই অগাস্ট অফিস থেকে একটু আগেই বেরিয়ে পরে অর্ক। যেহেতু আগামীকাল ন্যাশন্যল হলিডে তাই আজ অফিসে সকলকেই কেমন ছন্নছাড়া, বসকে বলতেই পার্মিশান পেয়ে গেছে যে ও আজ একটু আগে বেরিয়ে যাবে। কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটে ফেরীঘাট, লঞ্চে উঠে দেখল 4:30র ট্রেনটা পেয়ে যাবে। ভাবে যাক, পৌঁছে ক্লাবে গিয়ে একটু বোর্ড খেলা যাবে। বাড়ি পৌঁছে একটু হাল্কা টিফিন আর চা খেয়ে বেরিয়ে পরে বাইকটা নিয়ে। কিন্তু এটা কি? বাইকটা একটু প্রবলেম করছে। এত রাতে তো ম্যেকানিকও পাওয়া যাবে না। ক্লাবে পৌঁছে দেখে দ্বীপ ক্লাবের বাইরে বসে সিগারেট টানছে। দ্বীপ হলো ওর ছেলেবেলার বন্ধু। এক বছরের সিনিয়র হলেও ওর সাথে সবকিছুই শেয়ার করতে পারে আর দ্বীপও সবকিছু শেয়ার করে।
দ্বীপ : অর্ক, আজ আর বোর্ডে চান্স পাবিনা। তাই এখানে আয়, একটু বসা যাক।”
যেহেতু আগামীকাল 15ই অগাস্ট আজ ক্লাবে তিলধারনের জায়গাও নেই।
অগত্যা…..! দ্বীপের পাশে বসতে একটা সিগারেট অফার করে অর্ককে। সেটাতে টান দিতে দিতে গল্প শুরু করে ওরা। দ্বীপ একটা BSNL ডিস্ট্রিবিউটর এর আন্ডারে চাকরি করে। যেহেতু পুরো রিটেইল ডিস্ট্রিবিউশান দ্বীপ দেখে কোম্পানি একটা বাইক আর তার সব এক্সপেন্সেশ প্রোভাইড করে। দ্বীপ বিয়েও করেছে  ওদেরই এক ক্লাসমেট সুপর্ণাকে। প্রায়  40 মিনিট ধরে চলে দুজনের কথাবার্তা। অর্ককে বাজারে কিছু কেনাকাটা করতে হবে, তাই ওঠার কথা বলতেই দ্বীপ আসে মেইন টপিকে: “দোস্ত, একটা ব্যপারে তোরসাথে কিছু ডিস্কাশান ছিল।”
অর্ক: “বল না, কি বলতে চাস।”
দ্বীপ : “না, তেমন  কিছু না। তবে নতুন কিছু খবর শুনলাম।”
অর্ক: “বল না কি খবর?”
দ্বীপ: “আমি তো তোর থেকেই শুনতে চাইছি।”
অর্ক: “দেখ, নতুন তেমন কিছু আমার লাইফে ঘটেনি এক্সেপ্ট…….”
দ্বীপ: “ওই এক্সেপ্ট কেসটাই…….”
অর্ক দ্বীপকে পুরো ব্যপরটা বলে এবং এটাও বলে যে আগামীকাল সকালে ওরা মিট করবে, আর ওর বাইকটাও প্রবলেম করছে।
দ্বীপ: “তুই এক কাজ কর, আমার বাইকটা নিয়ে যা। কাল ফিরে এসে তোরটা সার্ভিসিং করিয়ে নিস। আমি তোরটা নিয়ে যাচ্ছি আজ, দুপুরে তোর সাথে বাকি কথা হবে।”




আর দেরী না করে দ্বীপের বাইকটা নিয়ে ওখান থেকে বেড়িয়ে যায়। বাজার থেকে কয়েকটা দরকারি জিনিস কিনে বাড়ি ফেরে। পরদিন অর্থাৎ 15ই অগাস্ট সকাল 6 টার আগেই ঘুম থেকে উঠে যায় সে। স্নান সেরে ফ্রেশ হয়েও নিল।
মা যেন আকাশ থেকে পড়ল “কি রে, আজ এত সকালে স্নান করলি যে ! ঠাণ্ডা লেগে জ্বর আসলে কি হবে, কে দেখবে তোকে ওখানে?”
অর্ক: “মা, আজ ক্লাবে অনেক প্রোগ্রাম, কখন সময় পাব ঠিক নেই তাই-ই।”
মা আর কোনো মন্তব্য না করে চা আনতে চলে গেল। চা খেয়ে অর্ক বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে ওর গন্তব্যের উদ্দ্যেশে। গ্রামের বাইরে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে সিগারেটটা জ্বালালো। কারণ এখন সবে 6:30। ডেস্টিন্যেশানে পৌঁছাতে 5 মিনিটের বেশি লাগবে না। তাই এখানে দাঁড়িয়ে আয়েশ করে সিগারেটটা টেনে নিচ্ছিল। ঠিক 6:40এ বাইক স্ট্রার্ট করে 1 মিনিট আগেই পৌঁছালো, ওই তো রূপার লেডিবার্ড দেখা যায়। প্রত্যেকটি মূহুর্ত অর্ককে এক্সাইটমেন্ট্যের চূড়ায় পৌঁছে দিচ্ছিল। অবশেষে রূপা এসে সাইকেলটা থামাল। লালপাড় সাদা শাড়িতে অপূর্ব দেখাচ্ছে রূপাকে। এমনিতেই অনেকদিন পর দেখা হলো দুজনের। অর্ক যেন হারিয়ে যাচ্ছে রূপার মনমোহিত রূপে, নির্লজ্জভাবে তাকিয়ে আছে ওর মুখটার দিকে।
রূপা: “জানো আমি একটা গভঃ আই টি আই কলেজ চান্স পেয়েছি। ইল্যেক্টিক্যাল এ ডিপ্লোমা করব। ওখানকার হোস্টেলে থাকব, আর উইকেন্ডে বাড়ি আসব। এখন আর কোনো প্রবলেম থাকবে না। তুমি যদি এভ্যেলেব্যল থাকো তো আমারা প্রতি উইকেন্ডে মিট করতে পারবো।”
অর্কর কানে কথাগুলো পৌঁছালেও মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না, কারণ আজ ও প্রিপেয়ার্ড। অর্ক রূপার চোখে চোখ রেখে  নিজের পকেটে হাতটা ধীরে ধীরে  চালান করে দিচ্ছিল…………..

(ক্রমশ…….)

প্রিয় পাঠকবর্গ
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

ব্যভিচারিণী (তৃতীয় পর্ব)




ব্যভিচারিণী (দ্বিতীয় পর্ব)




ব্যভিচারিণী (প্রথম পর্ব)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 5   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।