ব্যভিচারিণী (তৃতীয় পর্ব)

ব্যভিচারিণী (তৃতীয় পর্ব)

* ব্যভিচারিণী * (তৃতীয় পর্ব)
S Kundu ‘Inspiration’

ভাবেই কেটে গেল কয়েকটা দিন। অফিসের কাজেও তেমন কনসেন্ট্রেট করতে পারছে না অর্ক। ওর বস্ শনিবার সন্ধ্যায় কোয়ার্টার এণ্ড পার্টি দিয়েছে। লাস্ট কোয়ার্টারে ওদের ডিপার্টমেন্ট খুব ভালো পারফর্ম করেছে। কিন্তু সেদিকেও উদাসীন অর্ক। এমনিতে ও ড্রিঙ্ক না করলেও খাবার খেতে ভালোবাসে ভীষণ। কিন্তু আজ সেদিকেও তার কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। বস্ কিছু একটা অনুমান করে অর্ককে বলে “চল, বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট টেনে আসি।”
অর্ক: “হ্যাঁ বস্ চলো।”
বাইরে এসে –
বস্: “বলবি কি তোর কি হয়েছে, অফিস রিলেটেড না পার্সোন্যাল কিছু?”
অর্ক: ” না না কৌশিক দা অফিস রিলেটেড কিছু না।”
বস্: “তাহলে কি দেওয়ালে পেছন ঠেকেছে? তা কে শুনি – অফিসের কেউ না বাইরের?”
অর্ক: “অফিসের কেউ না। গ্রমের বাড়ির পাশের গ্রামের একটা মেয়ে।”
খুব শর্টকার্টে ব্যপারটা বসকে বলে অর্ক। বস্ ওকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে অর্কর বয়স এখন অনেক কম, তাই ওর উচিৎ ক্যেরিয়ারের ওপর কনস্যেন্ট্রেট করা। লাইফে ক্যেরিয়ার ঠিক থাকলে এরকম অনেক অপশান আসবে। আর অর্ক সাংসারিক বিষয়ে খুব একটা ম্যাচিওর না, তাই এসব বিষয়ে যতটা কম চিন্তা করে ততই ভালো।




কথাগুলো শুনে অর্কর মনটা একটু হাল্কা হয়। কিন্তু সেটা আর কতক্ষণ – বাড়ি পৌঁছে যা আবার তাই-ই হলো। সেই হাসিমুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠা, সেই আবেগ, সেই ঘুম না আসা। আজ অবশ্য একটু আগেই ঘুমিয়ে পড়লো অর্ক 1 টা নাগাদ।
পরদিনটা রবিবার, তাই একটু লেট করেই উঠবে। সকাল 8 টা নাগাদ মা’র ফোনে ঘুম ভেঙে গেল। আর কি, মা’র সাথে কথা বলে ফ্রেস হয়ে টিভি টা অন করতেই বেল বেজে উঠলো। কাজের মাসি, দরজা খুলে দিয়ে নিউজ চ্যানেল গুলো দেখতে থাকে। 5 মিনিট পরে মাসি চা দিয়ে গেল। অন্যদিন গুলো মাসির সাথে খুব একটা দেখা হয়না। মাসির কাছে মেইন দরজার একটা চাবি দেওয়া আছে, নিজের মতো আসে, আবার কাজ করে চলে যায়।
9 টা বাজতেই ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেল মাসি গরম লুচি, আলুর দম আর একটু সন্দেশ্। সবে শুরু করেছে, অমনি ফোনটা চিৎকার শুরু করে দিল। আরে: পিঙ্কির কল, ওর বিয়ের পর এই প্রথম ফোন। কলটা রিসিভ করে অর্ক। পিঙ্কির বিষয়ে কিছু বার্তালাপের পর পিঙ্কি জানতে চায় ওদের (অর্ক আর রূপা) কেমন চলছে। প্রথমে কিছু না বললেও শেষে বলেই ফেলে অর্ক। পিঙ্কি সব কথা শুনে বলে “ওয়েট কর, আমি ওকে কনফারেন্সে নিচ্ছি।”
কল ক্যানেক্ট হতে-
রূপা: “কেমন আছিস পিঙ্কি, তোদের বিবাহিত জীবন কেমন চলছে?”
পিঙ্কি : “আমাদের ঠিকঠাকই চলছে। অর্ক লাইনে আছে, কথা বল।”
অর্ক: “হ্যালো…. রূপা, কেমন আছ? কি করছ? আমি সেদিন সন্ধ্যায় কল্ করেছিলাম। ফোনটা তোমার ভাইয়ের কাছে ছিল। তাই আর কল্ করিনি।”
রূপা: “সেদিন থেকেই আমার কাছে কোনো ফোন নেই। স্কুলে যাবার সময় বাবা দিয়ে আসে, আর ফেরার সময় ভাই নিয়ে আসে।”
কিছুক্ষণ সকলকেই চুপচাপ। নীরবতা ভাঙলো পিঙ্কিই: “তোরা একটা কাজ করতে পারিস, অর্ক তুই নেক্সট গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিস কবে?”
অর্ক: “নেক্সট মান্থ্, প্রোবাবলি 15ই অগাস্ট।”
পিঙ্কি : “ওকে, তুই একটা হ্যাণ্ডসেট, সিমকার্ড আর চার্জার কোনওভাবে রূপাকে পৌঁছে দিবি। তাহলে তোদের কথা বলতে আর কোনো প্রবলেম হবেনা। আর রূপা ওটাকে খুব সাবধানে রাখবি, যেন বাড়ির কেউ জানতে না পারে।”
রূপা: “15ই অগাস্ট আমাদের স্কুলে কিছু প্রোগ্রাম আছে। তাই সকাল 7টায় শাড়ী পরে আমায় স্কুলে যেতে হবে। তুমি সকাল 6:45 এ রাস্তায় দেখা করে যেও, বাড়ির ব্যপারটা আমি ম্যানেজ করে নেবো।”
অর্ক: ঠিক আছে আমি পৌঁছে যাব, তুমি কিন্তু মিস্ করোনা।”
এবার সবাই সবাইকে গুডবাই উইশ্ করে ফোন রেখে দেয়।

(ক্রমশ….)

প্রিয় পাঠকবর্গ
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

ব্যভিচারিণী (দ্বিতীয় পর্ব)

 

ব্যভিচারিণী (প্রথম পর্ব)

 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।