ব্যভিচারিণী (দ্বিতীয় পর্ব)

ব্যভিচারিণী (দ্বিতীয় পর্ব)

** ব্যভিচারিণী **(দ্বিতীয় পর্ব)
*S Kundu ‘Inspiration’*

 

সেদিন রাত্রি 3 টা অব্দি কথা বলেছিল অর্ক আর রূপা। কথা যেন কোনওমতে শেষ হতে চায় না। অর্ক জানতে পারে রূপা বি.এ. কমপ্লিট করে এখন পাশের  গ্রামে একটা নার্শারী স্কুলে পড়ায় আর বাড়িতেও কিছু জুনিয়র ক্লাশের টিউশান পড়ায়। বাড়িতে বাবা, মা আর দুই ভাই আছে। আর রূপা জানতে পারে অর্কর M.B.A. র ফাইনাল রেজাল্ট আউট হতে মাত্র কয়েকটা দিন বাকি।
সকাল 8:45 এ লাল চোখ নিয়ে অফিসে পৌঁছায় অর্ক। 9:30 তে বস আর সুপার বসের সাথে একটা ফাইল নিয়ে ডিস্কাশন আছে। এরই মধ্যে ওকেও প্রিপেয়ার হয়ে নিতে হবে। সারাদিন কাজের মধ্যেই কেটেছে, মাঝে শুধু কয়েকটা ম্যসেজ বিনিময় হয়েছে রূপার সাথে।
সন্ধ্যায় বস্ ওকে অফিসের পাশাপাশি একটা বার কাম রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় এবং জানতে চায় “কাল রাত্রে তুই কি ড্রিঙ্ক করেছিলি?”
অর্ক: “না-তো। কেন কৌশিক দা, কি হয়েছে?”
বস্: “না তেমন  কিছু না। তবে সকালে তোর চোখ লাল ছিলো। অবশ্য আমি কোন স্মেল পাইনি। কি হয়েছে বলবি একটু?”
অর্ক: (হাসতে হাসতে) সবই বলব, একটু সময় দাও।”

অর্ক ছিল ওই ব্যাংকের টপ পারফর্মার। 24 বছর বয়সে একটা ছেলে ক্যেরিয়ার নিয়ে এত সচেতন, ওকে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। আর অর্কর বস্ জানে যে ও ড্রিঙ্ক করেনা। বরং পার্টি থাকলে এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্ক নিয়ে সাথ দেয় শেষঅব্দি।
একটু ফ্রি হয়ে অর্ক ফোনটা বের করতেই দেখে 36 মিসড কল। কয়েকটা বাড়ির, বাকিগুলোর 90% ই রূপার। রাত্রে বস ওকে তার গাড়িতে পাটুলি বাইপাস এ ড্রপ করে দেয়। 5 মিনিটের হাঁটা অর্কর ফ্ল্যাট। ডিনারও সেরে নিয়েছে, অতএব ফ্রেস হয়ে শুতে যাবার পালা। কাল রাত্রে মাত্র 3 ঘন্টা ঘুমিয়েছে, তাই চোখদুটো বুজে আসছিল। হঠাৎ মোবাইলটা কেঁদে উঠলো। ঘুম ঘুম চোখেই ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে রূপার ফোন …. অন্য কারোর কল হলে সাইলেন্ট করে বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়ত। কলটা রিসিভ করতেই অপর দিক থেকে কান্না জ্বরানো স্বর: “কোথায় ছিলে তুমি, একটিবার ও কি মনে পরেনি যে কেউ এক একটা মূহুর্ত তোমার কলের অপেক্ষায় থাকে। না একটা কল, না একটা ম্যসেজ। কি ভাবো তুমি?” – বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো। অর্ক তাকে থামানোর অনেক প্রচেষ্টা করেও ব্যার্থ হলো। মোটামুটি 40 মিনিট চললো এই সিচুয়েশান। অবশেষে অর্ককে কমিট করতে হলো যে সে পরের মাসে  অর্থ্যাৎ 7ই জুলাই 2007 গ্রামের বাড়ি গিয়ে রূপার সাথে মিট করবে। দিনটা ছিল শনিবার, তাই ওইদিনটা লীভ নিলেই চলবে। মোবাইল এর ঘড়িতে তখন 3:00 টা। উঠতে হবে 6:45 এ, আর রূপারও সেটা ভালোভাবেই জানা। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও রূপাই ফোন রাখতে বলে। এদিকে অর্কর অবস্থা তো জানাই আছে, কোনোওক্রমে জেগেছিল সে।

 




 

দিনটা ছিল 6ই জুলাই। অফিস শেষ করে বিকেল 5:30র ট্রেনে ধরে অর্ক। মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছিল, আগামীকাল বিকেলেই তো দেখা হবে রূপার সাথে। অবশেষে 07-07-07 বিকেল 3 টা নাগাদ রওনা দিল অর্ক। বাইকে 6-7 মিনিটের রাস্তা। যদিও অর্ক এইদিকটায় আসেনি আগে কখনও। আগের বার যখন রূপাকে ড্রপ করতে এসেছিল সেটা ছিল অন্য পথ। আর আসবেই বা কিভাবে, H.S. কমপ্লিট করেই তো সে এডমিশান নেয় কলকাতার এক কলেজে। কিছুটা পিচের রাস্তার পর লাল মাটির রাস্তা ধরে 2-3 মিনিট গেলেই রূপার স্কুল। পাশেই একটা ছোট্ট জলাশয়ের পাশে একটা প্রাচীন বটগাছ। সেখানেই রূপা ওকে আসতে বলেছে।

গাছের নীচে পৌঁছে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। ওই তো রূপাকে দেখা যাচ্ছে, ব্লু লেডিবার্ড সাইকেল চড়ে আসছে। কাছাকাছি আসতে দেখল পরনে সাদার ওপর নীল আর অরেঞ্জ বুটিক করা সালোয়ার। ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক, আর তার মধ্যে থেকে একটা তৃপ্ত হাসি, ঠিক যেমন সিয়াচেনে পোষ্টিংরত আর্মি অফিসার বাড়িতে ফিরলে তাঁর স্ত্রীর অনুভূতি হয়। সাইকেলটা রেখে গাছের নীচে অর্কর পাশে বসে সে।
একথা ওকথা বলতে বলতে মনের সাথেসাথেই শারীরিক দূরত্বও কমতে থাকে দুজনের। আর অপেক্ষা না করে দৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয় ওরা। কতক্ষণ চলেছিল সেটা মাথায় নেই কারোর। সম্বিৎ ফিরল রূপার ভাই অরূপের ডাকে “দিদি এখানে কি করছিস?” আাঁৎকে ওঠে রূপা, আর অর্কও হতভম্ব। অর্ক এতক্ষন ব্যপারটা আন্দাজ করে সাহস জুগিয়ে কথা শুরু করে “ভাই, আমারা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আর এও চাই যে এই রিলেশানটা ম্যাচিওর হোক। অবশ্য তোমারও সহযোগিতা চাই।”

 




 

অরূপ : “আমি তোমার সাথে কোনো কথা বলতে চাইনা। ভবিষ্যতে দিদির সাথে কোনো যোগাযোগ করবে না।” “দিদি বাড়ি চল।”
রূপা কোনও কথা না বলে বাধ্য মেয়ের মতো তার সাইকেলটা নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে। দুচোখের অশ্রুধারা অবাধ গতিতে ঝরতে থাকে। অর্কও কথা না বাড়িয়ে বাইকটা স্ট্র‍্যাট করে বিপরীত দিকে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। কিছুটা এগিয়ে সেও বুঝতে পারে পারে যে তার চোখের জলও আর ধরে রাখা সম্ভব না। বাইকটা থামিয়ে রুমাল বের করে চোখদুটো মুছতে মুছতে একটা সিগারেট জ্বলিয়ে নিজকে সান্ত্বনা দেয় অর্ক: “দুজনেই যদি নিজের জায়গায় অটল থাকে তাহলে তৃতীয় ব্যক্তি কিছুই করতে পারবে না।” আর দেখা কিছুদিন নাই হবে, ফোনে কথা তো বলতে পারবে।
তিন চারটি টানেই সিগারেটটা খতম করে বাইক নিয়ে একটানে কানুদার চায়ের দোকান। ওখানে আড্ডা দিচ্ছল অর্কর গ্রামের কয়েকটি বন্ধু। ওদের সাথে কুশল বিনিময় করে কিছুক্ষণ আড্ডায় যোগদান করে অর্ক।
সন্ধ্যায় রূপার ফোনে একবার ডায়াল করে অর্ক, কোনো এনস্যার নেই। এদিকে রূপাও তো কোনো ম্যসেজ বা কল করেনি। 15 মিনিট পর আবারও একবার ট্রাই করে, কিন্তু হলো বিপরীত। ফোন রিসিভ করে রূপার ভাই: “হ্যালো, কে বলছেন?”
কোনও এনস্যার না দিয়েই ফোন কেটে দেয় অর্ক। তবে কি ফোনটাও নিয়ে নেওয়া হয়েছে?? সেরাত্রে আর ঘুমাতে পারেনা সে। পরদিন যথারীতি বিকেল  3:30 এর ট্রেনে কলকাতা ব্যাক করে অর্ক। নামমাত্র কিছু খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পরে। অনেক চেষ্টা করেও রাত্রি 2:30 অব্দি ঘুম আসেনি। শুধু চোখের  জলে বালিশটা ভিজে যায়। নিজকে সান্ত্বনা দেবার সব প্রচেষ্টাই বৃথা হয়।

(ক্রমশ….)

প্রিয় পাঠকবর্গ….
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

ব্যভিচারিণী (প্রথম পর্ব)

 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 7   Average: 4.9/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।