ব্যভিচারিণী (পঞ্চম পর্ব)

ব্যভিচারিণী (পঞ্চম পর্ব)

* ব্যভিচারিণী *

(পঞ্চম পর্ব)

S Kundu ‘Inspiration’

রূপার চোখে চোখ রেখে অর্ক পকেট থেকে বের করে একটা সিঁদুরের কৌটা, যেটা গতকাল রাত্রে ও কিনেছিল বাজার থেকে। রূপাকে বোঝার কোনো সুযোগ না দিয়ে মুহুর্তে ঢাকাটা খুলে পুরোটা ঢেলে দিল তার সিঁথীতে। আচমকা এরকম ঘটনায় এতটাই  হকচকিয়ে গেল যে পরবর্তী প্রায় 30 সেকেন্ড রিয়েক্ট করার সমস্ত ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছিল। পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকে অর্কর দিকে। সম্বিৎ ফিরে পেতে দুটি হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠলো রূপা। এদিকে অর্কও কথা বলার সমস্ত ভাষাই হারিয়েছে।
তাও সাহস জুগিয়ে প্রথম কথা শুধু করে “তুমি কি যাবে আমার সাথে?”
কোনও উত্তর না দিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে সে।
আবার একই প্রশ্ন: “তুমি কি যাবে?”
এবার রূপা একটু রাগান্বিত হয়েই উত্তর দিল “আমাকে যেদিন বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে পারবে সেদিন আমি যাব, রাস্তা থেকে আমি যেতে পারব না।”
আর কথা বাড়ায় না অর্ক, হ্যান্ভসেটের বক্স, ডেয়ারী মিল্ক আর কিছু গিফট যেগুলো রূপার জন্য এনেছে সেগুলো তার হাতে দিয়ে বাইকটার ওপর বসে। এদিকে রূপা কিছুটা দিশাহারা হয়ে পরে – এই অবস্থায় সে না পারবে স্কুলে যেতে, আবার বাড়িতে গিয়ে যদি কেউ দেখে নেয় তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
“তোমার রুমালটা আমায় দেবে?”




অর্ক বুঝতে পারে ও রুমালটা মাথায় ঢাকা নিয়ে যাবে, সঙ্গে ছাতাটা কিছুটা সাহায্য করবে। কথা না বাড়িয়ে অর্ক পকেট থেকে রুমালটা বের করে দিল। রূপা সিঁথীর দিকটা ঢাকা নিয়ে পার্স খুলে ছোট্ট আয়নায় দেখে নিল। খুব সতর্কভাবে লক্ষ্য না করলে বোঝা যাবে না। ছাতা খুলে সাইকেলে বসে সোজা বাড়ির দিকে চলে গেল, স্কুলে আর যাওয়া হয়ে উঠলো না। অর্ক ওখানে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে কয়েকটান দিয়েই শেষ করে ফেলল, ট্যেনশান যে ওর হচ্ছিলো না তাও না। রূপার সাইকেলটা অদৃশ্য হতেই সেও বাইকটা নিয়ে সোজা ক্লাবে পৌঁছালো 8:30 নাগাদ। ছোটদের আবৃত্তি, গান এইসব কিছু প্রোগ্রাম চলছিল। দ্বীপের সাথে বাইকটা এক্সচেঞ্জ করে কিছু সব্জী, মাছ এসব নিয়ে বাড়ির দিকে গেল। রাস্তায় এক ম্যেকানিককে বাইকটা সার্ভিসিং করতে দিয়ে বাড়ি ফিরল। বাইকটা রেডি করতে প্রায় ঘন্টাখানেক লাগবে, তাই বাড়িতে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে 10 টার দিকে বের হয় বাড়ি থেকে। এরমধ্যে দ্বীপের একটা কল ও এসেছিল, 10:30 নাগাদ মিট করবে বলেছে। অর্ক ভেবে পাচ্ছিল না যে দ্বীপ ঠিক কি বলতে চাইছে, তবে এটুকু সিওর রূপার ব্যপারেই কিছু বলতে চায়। এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে ম্যেকানিকের দোকানে টাকা মিটিয়ে ক্লাবে পৌঁছায় সে। ওখানে দ্বীপকে সাথে নিয়ে চলে যায় গ্রামের বাইরে একটা নির্জন জায়গায়।
দ্বীপই প্রথম শুরু করে “দেখা হলো তোর প্রণয়ীর সাথে?”
“হ্যাঁ রে, দেখা হল।”
তুই যে বললি কয়েক মাস আগেই পরিচয় হয়েছে মাত্র, তো এই কয়েকদিনেই এতটা সিরিয়াস নিয়ে নিলি। একটু টাইম নিয়ে মেলামেশা করে তো দেখতে পারতিস।”
“আমার তো ঠিকঠাকই লাগছে, তোর কি কোনো ডাউট্ আছে? আর তুইও তো একই কলেজে পড়েছিস, নিশ্চয়ই তুই জেনে থাকবি যে ও কেমন…..”
“হ্যাঁ, আমি রূপা আর পিঙ্কি দুজনকেই ভালভাবে চিনি। ওরা প্রায়ই আসত ইউনিয়ন রুমে। আর আমি গতকালই ব্যপারটা শুনলাম, কাল রাত্রে তোর সাথে দেখা না হলে আজ তোকে কল্ করতাম।”
অর্ক একটু হোপলেশ্ হয়ে পরে, তাহলে কি ও ভূল পথে এগোচ্ছে? আবার অন্যদিকে অনেকটা এগিয়েও গেছে রিলেশানটা নিয়ে। ভেবেছিল, আজ দুপুরে খাবার সময় মা’কে বলবে ব্যপারটা।
নিজকে কোনওমতে সামলে নিল অর্ক।
যদিও সেটা দ্বীপের দৃষ্টি এড়লো না।
“তুই কি জানিস, কলেজে কার সাথে রূপার এফ্যেয়ার্স ছিল?”
“রিলেশান যে একটা ছিল তা শুনেছি, কিন্তু কে সে, সেটা জানার কোনও ইন্ট্যারেস্ট ছিলনা বা নেই।”
“দেখ অর্ক, আমি তোর সিচ্যুয়েশান বুঝতে পারছি, আর তোকে সাপোর্টও করছি। কিন্তু ব্যপারগুলো জেনে এগোনোটা কি ঠিক হবেনা?”
অর্ক ভাবে দ্বীপ তো ঠিকই বলছে। পরে এগুলো জেনে প্রবলেম ক্রিয়েট হওয়ার থেকে এখন জেনে  ডিসিশান নেওয়াটাই ব্যেটার। কিন্তু ও তো এগিয়েও গেছে অনেকখানি।
তাও সাহস জুগিয়ে বলল : “বল, কি বলতে চাস।”
এবার দ্বীপ শুরু থেকে রূপার পুরো কলেজে লাইফের ঘটনাগুলো এক এক করে অর্ককে বলে – যে লাষ্ট যার সাথে রিলেশান ছিল সে কে, তার আগে কার সাথে রিলেশান ছিল সবকিছুই। এমনকি পিঙ্কির বিয়ের দিন সকালেও লাষ্ট জনের সাথে মিট করতে দেখেছে ও।
এর মধ্যে নতুন নাম্বার থেকে কয়েকবার কল্ করেছিল রূপা। প্রথমে রিসিভ না করলেও চতুর্থ কলটা রিসিভ করে অর্ক বলে দেয় যে ও একটু ব্যস্ত আছে, দুপুরে কল্ করবে।
প্রায় দুপুর 12 টায় ওরা ওই জায়গা থেকে উঠলো। আর একটা কথাও না বলে বাইকটা নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরল।

(ক্রমশ……)

প্রিয় পাঠকবর্গ
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

ব্যভিচারিণী (চতুর্থ পর্ব)

 

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 1/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।