ব্যভিচারিণী (প্রথম পর্ব)

ব্যভিচারিণী (প্রথম পর্ব)

***ব্যভিচারিণী **(প্রথম পর্ব)*
*S Kundu ‘Inspiration’*

সালটা ছিল 2007, অর্কর বন্ধু পিঙ্কির বিয়ে। পিঙ্কিরা যেহেতু মুসলিম সম্প্রদায় তাই দিনের বেলাতেই সমস্ত কিছু সম্পন্ন হবে। অর্ক ছিল পিঙ্কির স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড, তাই অফিস থেকে দুই দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি এসেছে অর্ক। পিঙ্কির বাড়ি বাইকে মাত্র পনেরো মিনিট। বিয়ের দিন অর্ক যথারীতি 12 টা নাগাদ পৌঁছালো। বিয়ের পর্ব মিটতে বিকেল 4 টা বাজলো। এর মধ্যে অর্ক বাড়ির লোকের হাতে হাত মিলিয়ে কজকর্ম করছিল। সবকিছুর মাঝে বারবার চোখ পরে যাচ্ছিল পিঙ্কির পাশে পাশে থাকা ওরই এক বান্ধবীর ওপর, আর উভয়ের দৃষ্টি বিনিময় হতেই লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিচ্ছিল। অর্ক ভাবছিল এই কি সেই রূপা, পিঙ্কির কলেজের বান্ধবী যার কথা পিঙ্কি অর্ককে অনেকবার বলেছিল। আসলে রূপার এক বয়ফ্রেন্ড ও ছিল কলেজে। ওর সাথে ব্রেকআপ হতে পিঙ্কি চেয়েছিল রূপার সাথে অর্কর পরিচয় করিয়ে দেবে এবং সেকথা রূপার সাথে দুই-একবার আলোচনাও করে। রূপা সরাসরি সায় না দিলেও অমত কিছু ছিলনা। অর্ক কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে বি. কম. (অনার্স) কমপ্লিট করে পার্টটাইম M.B.A. করছে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি থেকে, সাথে একটা মাল্টিন্যাশন্যাল ব্যাঙ্ক এ চাকরিও জয়েন করেছে।
বিয়ের পর্ব মিটতে পিঙ্কি, ওর হাসব্যন্ড আর কয়েকজন বন্ধু মিলে খেতে বসল, সঙ্গে অর্ক আর রূপা। এখানেই পিঙ্কি ওদের পরিচয় করিয়ে দেয়। ব্যাস, আর কি…. এবার শুরু অর্ক অার রূপার কাহানী। এবার অর্ক যেই সকলকে বিদায় জানিয়ে বাইকটা স্ট্রাট করতে যাবে এমন সময় পিঙ্কি বেরিয়ে এসে রিক্যোয়েস্ট করে যেহেতু রূপা অর্কর বাড়ির কাছাকাছি থাকে আর বাসে গেলে অনেক রাত্রি হবে তাই যেন ওকে যেন বাড়িতে ছেড়ে দেয়। অর্ক এমন এক প্রপোজাল পেয়ে তো হকচকিয়েই গিয়েছিল প্রথমে। কয়েক সেকেণ্ড পর ও নিজেকে সামলে বলল “ইট্যস্ ওকে, তুই চাপ নিসনা, আমি বাড়িতে ছেড়ে দিচ্ছি।” পনেরো মিনিটের রাস্তা যেন কয়েকটা মূহুর্তে শেষ হয়ে গেল। অবশেষে বাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়ে আর মোবাইল নাম্বার বিনিময় করে উভয়ই বাড়ির দিকে রওনা দিতে দিতে দুজন বারবার পিছনে দেখতে থাকে। কয়েক মূহুর্তে অর্কর বাইকটা কাঁচা রাস্তার ধূলো উড়িয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।
রাতে শোবার আগে কিছু ম্যাসেজ বিনময় করে অর্ক গোটা দিনের এনজয়মেন্টের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়েছে সেটাও বুঝতে পারল না।

পরের দিন ঘুম ভাঙ্গতেই মনটা কেমন যেন বিষাদে ভরে গেল অর্কর। আজ তো তাকে দুপুরের খাওয়া সেরে রওনা দিতে হবে কলকাতায়। একবার ভাবে একটা টেক্সট্ করে দেবে বস্ কে যে আগামী পরশু জয়েন করবে, তাহলে আজ বিকেলটা রূপার সাথে কাটানো যেতে পারে। পরক্ষনেই ভাবে সে তো দুই দিনের লীভ নিয়েছে অফিসে, তাও আবার বস্ কে কত্তই না কমিটমেন্ট করতে হয়েছে। আর রূপার সাথেও তো এই বিষয়ে কোনো কথাই হয়নি, ও বেরোতে পারবে কিনা সেটাও তো সিওর না।
এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই মার ডাক শোনা গেল “চা দুবার দুবার ঠাণ্ডা হয়ে গেল, আমার অন্য কাজও আছে।”
অগত্যা….! উঠতেই হবে। ফটাফট রূপাকে একটা গুড মর্নিং ম্যসেজ করে উঠে পরে অর্ক। গ্রামের বাড়িতে থাকলে সকালে চা খেয়ে সব্জী আর মাছের বাজার যাওয়াটা পুরানো অভ্যাস অর্কর। বাজারের থলিটা বাইকে লাগিয়ে সোজা কানুদার চায়ের দোকান। চা খেতে খেতেই মোবাইলে ম্যসেজ টিউন বেজে ওঠে, যা ভেবেছিল….. রূপার রিপ্লাই “ভেরী গুড মর্নিং, ট্রেন কখন?”।
অর্ক: “ক্যান আই কল ইউ ওয়ান্স?”
“ওকে, কল মি।”
অর্ক রূপার নাম্বারটা ডায়াল করে।
হ্যালো: রূপা, কি করছিলে?
তেমন কিছু  না। বলো তুমি কি করছ?
এরকম কিছু বার্তালাপ আর কুশল বিনিময়ের পর দুজনেই কল ডিসকানেক্ট করে দেয়।
দুপুরের খাওয়া সেরে 3:30 এর ট্রেনে হাওড়া। ট্রেনের মধ্যে বারবারই রূপার মুখটা ভেসে উঠছিলো। অর্কর চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও আজ তাকে কলকাতা ফিরতে হচ্ছে। অর্ক যখন পাটুলির ফ্ল্যাটে পৌঁছালো তখন সন্ধ্যা প্রায় 6:00 টা।
আজ রান্নার মাসি আসবে না, তাই রাস্তায় চিকেন চাপ্ আর রুমালী রুটি তুলে  নিল অর্ক।
ফিরে চ্যেন্জ করে মা’কে একটা কল্ করে জানিয়ে দেয় অর্ক যে সে পৌঁছে গেছে। রাস্তায় রূপার দুটো ম্যসেজ পেয়েছিল, ইচ্ছকৃত ভাবেই রিপ্লাই করেনি অর্ক। যাতে পৌঁছে কল্ করে একটু কথা বলতে পারে।
সবে মাত্র একটা দিনের পরিচয়, এখন দুজন দুজনের পছন্দ, চাহিদা, এম্বি্সান, ফিউচার প্ল্যানিং এগুলো জানাটা প্রয়োজন। এবং অর্ক আর পিঙ্কির ফ্রেণ্ডসিপটা এতটাই স্ট্রং আর পিঙ্কিই যখন রেকমেন্ড করেছে তখন এই রিলেশানটাকে ম্যাচিওর করাই অর্কর একমাত্র লক্ষ্য। আর যেহেতু ওদের দূরত্ব অনেকটাই, তাই মোবাইল হলো একমাত্র ভরসা।

(ক্রমশ……)

প্রিয় পাঠকবর্গ,
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটি কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 9   Average: 4.4/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।