* ব্যভিচারিণী * (ষষ্ঠ পর্ব)

 ব্যভিচারিণী

S Kundu ‘Inspiration’

(ষষ্ঠ পর্ব)

 

সেদিন দুপুরের খাওয়া সেরে অর্ক কলকাতায় ফিরল সন্ধ্যা নাগাদ। রাত্রে পিঙ্কিকে কল করে এবং রূপার ব্যপারে জানতে চায়। পিঙ্কি বুঝতে পারে যে অর্ক কোনওভাবে সবকিছুই জেনেছে, তাই সে অর্ককে সব ঘটনাই খুলে বলে। রাত্রে রূপার সাথে কথা বলার সময়ও সে একই কথা জানতে চায়। রূপা প্রথমে কিছুটা ইতস্ততঃ করলেও পরে এগুলো স্বীকার করে নেয় এবং এও বলে যে অর্ক ওর জীবনে আসার পর আর কেউ আসেনি তার জীবনে, আর কখনো আসবেও না। অর্ক সেদিনের মতো ফোন রেখে দেয় কোনও রিপ্লাই না দিয়ে।
পরদিন সকালে অর্ক জানিয়ে দেয় “ঠিক আছে, যেহেতু ওগুলো আগের ঘটনা তাই আমি এসব নিয়ে কিছু ভাবছি না।” এবং এও বলে যদি কোনদিন অর্কর সাথে রিলেশানশিপ এ থাকাকালীন তৃতীয় কোন ব্যক্তি রূপার জীবনে আসে, আর সেটার প্রমাণ সে পায় সেই মুহূর্তে অর্ক ওর জীবন থেকে চলে যাবে, এমনকি এটা যদি বিয়ের পরেও হয় অর্ক ডিভোর্স ফাইল করবে। অর্ক রূপাকে এই ভেবেই মেনে নিয়েছিল যে ‘ভূল তো মানুষ মাত্রেরই হয়ে থাকে। আর কলেজ লাইফে এফ্যেয়ার্স অনেকেরই হয়ে থাকে। বয়স বাড়লে এবং সংসারে ইনভল্ভ হয়ে পরলে এসব ঠিক হয়ে যায়।’
রূপা সম্মতি জানায় অর্কর কথায়।

এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটা বছর, ওদের রিলেশানটাও এগিয়ে চলেছে সময়ের সাথে সাথেই। মাঝে অর্ক রূপাকে ওর বাড়িতে এনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে মা আর বাপির সাথে। তারাও কোনো অমত করেননি, কারণ তারা বরাবরই ছেলের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছেন। রূপাও তার বাড়িতে ব্যপারটা জানিয়ছে, ওদিক থেকেও এখন আর কোনো আপত্তি নেই।

2011র মার্চ, অর্ক পুরানো চাকরি ছেড়ে জয়েন করে আরএক বিখ্যাত MNC ব্যাংকে একটু উচ্চতর পজিশানে। দুই বাড়ির চাপাচাপির কারণে ওরা ডিসাইড করে এবছরই বিয়েটা সেরে ফেলবে। অবশেষে 14ই অগাস্ট ওদের বিয়ে হয়। 2012 র 8ই জুন, দিনটা ছিল শুক্রবার। অর্ক উইকেণ্ডে গ্রামের বাড়ি ফিরে শোনে রূপাকে গ্রামের প্রাথমিক চিকিৎসালয়ে এডমিট করা হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। যেহেতু ও রাস্তায় আছে তাই কিছু জানানো হয়নি। রাত্রিটা কোনোমতে কাটিয়ে পরদিন সকালেই রূপাকে এডমিট করানো হয় এক নামকরা নার্সিংহোমে। সেখানে ওইদিন সকালেই রূপা জন্ম দেয় একটা ফুটফুটে পুত্রসন্তান। নভেম্বরে মুখেভাত হয়ে গেলে অর্ক রূপা ও অর্চিকে নিয়ে কলকাতায় চলে আসে। প্রথমে রাজী না থাকলেও মা আর বাপির কথায় রাজী হতে হয় অর্ককে। কারণ অর্কর অফিসে রেশপন্স্যিবিলিটি বেড়েছে, তাই সময়ও একটু বেশি দিতে হয়। সাথে বাইরের খাবার খেয়ে শরীরটাও খারাপ হচ্ছে। আর কিছুদিন পর অর্চিকেও তো একটা ভালো স্কুলে এডমিশান করাতে হবে।

2014 এ আবার একটা প্রমোশান পেতে ঠিক করে ওরা মিডিয়াম সাইজের একটা ফ্ল্যাট কিনবে। যেহেতু  ফ্যামিলি নিয়ে অর্ক নর্থ কলকাতায় থেকেছে আর জায়গাটাও বেশ, তাই কাছাকাছি ওর বাজেট মতো ফ্ল্যাট দেখতে থাকে। পেয়েও যায় একটা, সেকেন্ড ফ্লোরে 750  স্কয়ার ফীট্। যদিও স্ট্যান্ভএলোন বিল্ডিং, তবে পাড়াটা বেশ ভালোই লাগল। এরই মধ্যে অর্চিও দুই বছর কম্লিট করেছে। অবশেষে 2015 এর জানুয়ারীতে অর্করা শিফ্ট করে নিজেদের ফ্ল্যাটে।
সেদিনটা ছিল অর্কর জীবনের সবচেয়ে বড় একটা এচ্যিভম্যেন্ট্। কলকাতায় নিজস্ব একটা  ফ্ল্যাট, অফিসে দু-দুটো প্রমোশান, অর্ক তো খুবই খুশী। সারাটা দিন অফিসের পর যখন বাড়ি ফিরে বেলটা বাজাত, অর্চি দৌড়ে চলে যেত ওর পাপাইকে রিসিভ করতে – কখনও চপ্পল না পায়ে দিয়ে তো কখনও সামনে থাকা একজোড়া বড়ো চপ্পল গলিয়ে। অর্চি এখন  D.P.S. নর্থ ক্যালকাটায় প্রি-নার্সারীর স্টুডেন্ট্। সবমিলিয়ে অর্ক যেন ভেসে চলেছে সুখের সমুদ্রে।
কিন্তু বাদ সাধলো এক ডুবন্ত আইসবার্গ, ঠিক যেমন  একটা গতিমান জাহাজ ভুলবশত আইসবার্গকে আঘাত করে এবং তার ঝলকানিতে জাহাজের স্টারবোর্ডগুলো ভেঙে তছনছ হয় ও জলমগ্ন হয়ে জাহাজডুবি হয়।

(ক্রমশ…..)

প্রিয় পাঠকবর্গ
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

ব্যভিচারিণী (পঞ্চম পর্ব)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।