* ব্যভিচারিণী * (সপ্তম পর্ব)

* ব্যভিচারিণী * (সপ্তম পর্ব)
Inspiration ‘S. Kundu’

কদিকে যেমন খুব শান্তিপূর্ণ ভাবে কাটছিল, অন্যদিকে অর্থাৎ বাড়িতে কেমন যেন অশান্তির ছায়া অনুভব করছিল অর্ক। রূপা কেমন যেন খিটখিটে হয়ে পড়ছে, আর দিনদিন তার পরিমাণ বাড়তেই থাকে। কারণে অকারণে সে অর্কর সাথে তর্কাতর্কি শুরু করে দেয়। অর্চি আর সংসারের কথা ভেবে অর্ক বেশি কথা বাড়ায় না। সেইবছর পূজার সময় অর্ক ঠিক করে কোথাও ট্যুরে যাবে, হয়তো সংসারের ইঁদুর দৌড়  দৌড়াতে দৌড়াতে রূপা বিরক্ত হয়ে পড়েছে। সেইমতো বসের সাথে ডিস্কাশান করতে ছুটিও মঞ্জুর হয়ে গেল এবং সে ফ্ল্যাইট, হোটেল এবং লোক্যাল সাইট ঘোরার জন্য ক্যাব সবই অনলাইন ব্যুকিং করে। কিন্তু রূপা যেন এতেও খুশী না। কেমন যেন একটা ভাব দেখায়। অর্চি কিন্তু ভীষণ এক্সাইটেড, কারণ এটাই ওর লাইফের প্রথম ট্যুর। স্কুলের সব বন্ধুদের বলেছে যে ওরা ঘুরতে যাবে তাও ফ্ল্যাইটে, কিন্তু কোথায় যাবে সেটা আর মনে রাখতে পারেনি। অর্চির আনন্দ দেখে রূপার ব্যবহারে কিছু মনে করে না অর্ক। ভাবে, ঘুরে আসলে হয়তো এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।

কথামতো 14ই অক্টোবর রওনা দেয় দমদম থেকে দিল্লী, সেখান থেকে ট্রেনে চণ্ডীগড় আর চণ্ডীগড় থেকে ক্যাবে সিমলা পৌঁছায় পরের দিন। ওইদিনটা ওখানে কিছু শপিং করে পরের দিন মানালী। ওখানে কয়েকদিন কাটিয়ে ফেরার পথে কুলু হয়ে সিমলা ফেরে। একটা দিন সিমলায় থেকে পরের দিন ‘হিমালয়ান ক্যুইন’ চড়ে চণ্ডীগড়, দিল্লী হয়ে কলকাতায় ফেরে ওরা।
অর্কর লীভও শেষ, তাই পরদিনই অফিস জয়েন করে। কিন্তু একি…..! রূপার পরিবর্তন তো নেই-ই, বরং যত দিন যায় ও ততোই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফ্ল্যাটে লক্ষীপূজায় অর্কর মা, বাপি আর এক বন্ধু তার ফ্যামিলি নিয়ে আসে। রূপা তাদের সকলের সাথেই মিসবিহেফ্ করে।
এরপর অর্ক 2016 জানুয়ারীতে আরও একটা ট্যুর প্ল্যন করে, তবে খুব বেশি দূরে না – গ্যাংটক, ছাঙ্গুলেক এই আরকি। বাবামন্দির অব্দি যাওয়া গেল না, কারণ, সময়টা ছিল শীতকালে আর ছাঙ্গুলেকে ট্যেম্প্যারেচার ছিল (-) 8 ডিগ্রী। আর হাতে সময়ও ছিল কম। 26শে ফ্ল্যাইট বাগডোগরা থেকে আর 27শে অফিস জয়েন করতে হবে।

ওখান থেকে ফিরে রূপা যেন ভয়ানক ড্যেসপ্যারেড্ হয়ে উঠেছে। অর্কর ষষ্ঠ ইন্দিয়ও যেন খারাপ কিছুর আশঙ্কা করছিল, কিন্তু ও বুঝে উঠতে পারছিলনা যে ঠিক কি হতে চলেছে। রূপাকে সে কোনো সন্দেহের চোখেই দেখছিলনা কারণ, রূপা আর অর্চিকে যতটা সম্ভব সুখে রাখার প্রয়াস ও করেছে, আর তারা রীতিমতো সুখেও আছে। আর একটা গৃহবধূ বা গৃহকর্ত্রীর কাছে এর থেকে বেশি এক্সপেক্টেড কি থাকতে পারে……!!
দিনটা ছিল 20 ফেব্রুয়ারি 2016, শনিবার। পাশের ফ্ল্যাটের মুখোপাধ্যায় দা, উপরের পাল দা আর অর্ক পার্টি করছিল ছাদের ওপর। মুখোপাধ্যায় দা’র ছেলে যেহেতু ক্যালকাটা বয়েজে ক্লাস 2 এর স্টুডেন্ট, আর মৌলালীতে আর একটা ফ্ল্যাটও আছে তাই ওরা পার্ম্যানেন্টলি এখানে থাকেনা। অর্ক একগ্লাস কোল্ডড্রিঙ্ক নিয়েই সাথ দিচ্ছিল ওদের। পার্টি শেষে যে – যার ফ্ল্যাটে চলে গেলে, অর্ক রাত্রের খাবার খেয়ে  ল্যাপটপটা অন করে কিছু পেন্ড্যিং কাজ সারবে বলে। অর্চি ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত্রি তখন প্রায় 12:30, একটা গান শেষ হয়ে অন্য গান শুরুর মধ্যে যে সময়টা থাকে তারই মধ্যে ফিসফাস কিছু কথার আওয়াজ শুনতে পেল অর্ক। স্পেস্ বাটনটা প্রেস্ করে গানটা মিউট করে সে বুঝতে পারে রূপা কারোর সাথে ফোনে কথা বলছে। অর্ক রূপাকে জিঞ্জাসা করতে সে নাকচ করে। অর্কর যেন মনে হলো একটা ছোট কালো ফোন সে কোথাও সরিয়ে ফেলল। অর্ক আর কিছু না বলে রবিবারটা অর্চির সাথেই কাটিয়ে সোমবার সময়মতো অফিস পৌঁছালো।

সারাদিন কেটেছে  কাজের ব্যস্ততায়, তাই এসব চিন্তাভাবনার কোনো অবকাশ ছিল না। কিন্তু ফেরার সময় ক্যাবে উঠে চিন্তা করতে করতে অনেকগুলো ঘটনা ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলো, যেগুলো অর্ক কোনদিনই সন্দেহের চোখে দেখেনি। ঘটনাগুলো একের পর এক সাজানো হলে একটা ক্লাস এইটে পড়া বাচ্ছাও বুঝতে পারবে যে কি হয়েছে আর কি হতে চলেছে। অর্ক এও ভাবে যে, সেদিন রূপাকে ফোনে কথা বলতে শুনেছে এবং তখন রূপার নিজের ফোনটা এজ্ ইট ইজ্ ছিল এবং অর্কর দেওয়া ভোডাফোনের সিমকার্ডটাই লাগানো ছিল। তাহলে ফোনের সাথেই একটা

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।