* ব্যাভিচারিণী *(অষ্টম পর্ব)

* ব্যাভিচারিণী *(অষ্টম পর্ব)
Inspiration S. Kundu

 

সেদিন, অর্থাৎ 22 শে ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফিরে যথারীতি অর্চির সাথে কিছুটা সময় কাটিয়ে নৈশভোজনের পর রাত্রি 11টা নাগাদ ঘুমাতে গেল। আজ যেন তার কিছুতেই ঘুম আসতে চাইছিল না। রূপার লাইট অফ্ করে শুতে প্রায় 12 টা বাজল। অর্ক চোখ বন্ধ করে থাকলেও ঘুমায়নি আজ। কিছু  একটা চিন্তা করে 12:30 নাগাদ উঠে অন্য রুমটায় গেল। সেখানে আছে একটা ড্রেসিং টেবিল, আলনা, একটা শো-কেস, ঠাকুরের সিংহাসনে কয়েকটি মূর্তি আর এবারের পূজা হওয়া লক্ষীপ্রতিমা। মা বলেছিল পরের বছর পূজার আগে ওটাকে জলে দিয়ে আবার নতুন প্রতিমা নিয়ে আসতে।
অর্ক তন্নতন্ন করে সবকিছুই খুজতে থাকে। পরের দিনের অফিস যাবার কথা তার মাথায় রইল না। এভাবে প্রায় রাত্রি 3টা বেজে গেল, কিন্তু হাল সে ছাড়ল না। আরও আধাঘন্টা পরে, লক্ষীপ্রতিমার নীচে থেকে উদ্ধার হলো একটা সিমকার্ড। বাড়িতে একটা এক্সট্রা হ্যাণ্ডসেট ছিল, সেটাতে সিমটা লাগাতে দেখল ওটা এক্টিভ রয়েছে। এবার IVR ডায়াল করে সেটার নাম্বার এবং লাস্ট্ 7টা কল ডিটেইলস্ও উদ্ধার করতে পারে। মাত্র দুটি নাম্বারেই কল করা হয়েছে।
একি, একটা নাম্বার তো তার পরিচিত মনে হচ্ছে….!

নিজের ফোনে নাম্বারটা ডায়াল করতেই নামটাও ফোনে ভেসে উঠলো। অন্যটা ট্রুকলারে চেক করতে একই নাম পায়। কিছুক্ষণ অর্ক ব্ল্যাঙ্ক দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে থাকে ফোনটাতে, কিছুতেই সে বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলনা। বারবার নিজের মনটাকে প্রশ্ন করতে থাকে, সবকিছু ঠিক দেখছে তো সে? না না এরকম হতে পারেনা, হয়তো কোথাও কিছু গণ্ডগোল হচ্ছে। আবার পরক্ষনেই ঘটনাগুলোর কথা মনে পড়তেই ভাবে কিছু তো একটা গোলমাল রয়েছে, আর  কলগুলোর টাইমিংও এমন ছিল হয় ও অফিস বেরানোর পরে নাহলে ও ঘুমিয়ে গেলে।

কোনমতে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সামলায় অর্ক। ফোন আর এড্যাপ্টারের উদ্দেশ্যে আবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এবার আরও অবাক হবার পালা – পুরানো একটা 1100 হ্যাণ্ডসেট ও তার এড্যাপ্টার, একটা  Unwanted 72 র ইউজড্ লীফ আর একটা টেবিল ক্লক্ এর বিল, যেটা ছিল রূপার নামে এবং ডেট ছিল 19শে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এরকম তো কোনো ক্লক বাড়িতে নেই, আর ওরা সরস্বতী পূজায় গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল, ফিরেছে 18ই ফেব্রুয়ারি। অর্কর আর বুঝতে বাকি রইল না যে ব্যপারটা কি চলছে।

ভোর পাঁচটা নাগাদ রূপাকে ডাকে, যদিও সে জেগেই ছিল এবং অনুমানও করেছে যে কি হতে চলেছে। তাকে এসব জিঞ্জাসা করে কোনো সদুত্তর না মেলায় অনেক করে বোঝাতে থাকে তাকে যে সে যদি সবকিছু স্বীকার করে নিয়ে এগুলো থেকে সরে আসতে চায় তাহলে শুধুমাত্র অর্চির কথা ভেবে ওকে ক্ষমা করবে অর্ক।

কিন্তু না….! কোনওভাবে স্বীকার করা তো পরের ব্যপার, পুরো ব্যপারটাই উড়িয়ে দিচ্ছিল। এবং এটাও বলে যে ঘড়িটাও নাকি ওর না, অন্য কোন স্টুডেন্টের মা কিনতে দিয়েছিল। ঠিক সকাল 7টায় বেরিয়ে অর্ক লোক্যাল থানায় গিয়ে একটা জি.ডি. করে নেয়। তারপর যায় পাপ্পুর বাড়ি, যে ছিল অর্কদের বিল্ডিং প্রমোটারের ব্রাদার-ইন-ল্য্। বয়স 40 ছুঁই ছুঁই, গ্রাজুয়েশান কম্প্লিট করে ভ্যগাবণ্ডের মতো ঘুরত। বোনের অনুরোধে তার হাজব্যণ্ড্ ওকে কয়েকটা প্রজেক্ট দেখাশোনার কাজে রেখেছে, আর কাজের সুবিধার জন্য একটা বাইকও কিনে দিয়েছে। ওর বাড়ীটা অর্কর বাড়ি থেকে মিনিট তিনেকের পথ। ওখানে পৌঁছে ডাকাডাকি করতে পাপ্পুর মা দরজা খোলে।

কাকিমা, পাপ্পু আছে? ওর সাথে একটু দরকার ছিল।
ও তো এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি।
কাকিমা, ব্যপারটা খুবই আর্জেন্ট। এরপর তো আমি অফিস চলে যাব, তাই যদি একটু ডেকে দেন…..
ঠিক আছে তুমি একটু বসো, আমি দেখছি।
মিনিট পাঁচেক পর কাকিমা এসে বলেন যাও, পাপ্পু উঠেছে।
ঘরে গিয়ে একথা ওকথা বলতে বলতেই অর্কর চোখ যেন বনবন্ করে ঘুরতে থাকে, না টেবিলে তো ঘড়িটা নেই। হঠাৎই চোখ পরে যায় একটা ঘড়ির ছবি দেওয়া বক্স উপরের একটা জায়গায় রাখা আছে। পাপ্পুকে কোনও সুযোগ না দিয়ে –
আরে! এটা কি টেবিল ক্লক?

হ্যাঁ। গতকালই এনেছি, এখনো খোলা হয়নি।
ঘড়িটা হাতে নিয়ে খুলতে খুলতে বলে ওঠে: খুব সুন্দর তো এটা। পাপ্পু, আমি কি কিছুক্ষণের জন্য এটা নিয়ে যাব? অর্চি একটা ঘড়ির জন্য বায়না করছিল। ওকে দেখাই, যদি পছন্দ হয় এরকম একটা কিনে দেব। আর বিকেলেই এটা তোমায়  ফিরিয়ে দেব।
এই বলে সে ঘড়িটা হাতে নিয়ে কথা না বাড়িয়ে সোজা বাড়ি ফেরে এবং রূপাকে ক্লক আর বিল দেখিয়ে জানতে চায় সে কেন অর্ককে মিথ্যা বলছিল। কিন্তু এখনো একই সিচ্যুয়েশান, ভুল তো স্বীকার করেই না বরং শুরু করে অর্ককে ব্ল্যাকমেইল করতে। অর্ক কথা না বাড়িয়ে পাশের রুমে গিয়ে ফোন করে খুব ক্লোজড্ এক বন্ধুকে, এবং সবকিছুই বলে। বন্ধুটি শেনার পর অর্ককে সাজেস্ট্ করে যে এইসময় যতটা সম্ভব মাথা ঠান্ডা রাখতে আর পারলে রূপাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে। কিন্তু যখন অর্কর সকল প্রচেষ্টাই বিফলে যায় তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই সে ফোন করে রূপার ভাই অরূপকে।

(ক্রমশ…..)

প্রিয় পাঠকবর্গ
আপনাদের পর্যালোচনা পরবর্তী রচনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত করতে সহায়তা করবে।

(এই রচনার সকল স্থান, কাল ও চরিত্র কাল্পনিক। যদি কোথাও কোনো মিল পাওয়া যায়, সেটিকে কাকতালীয় বলা যেতে পারে।)

 

* ব্যভিচারিণী * (সপ্তম পর্ব)

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close