ভূতের সর্দি

ভূতের সর্দি

কলমে✍️✍️ অনিমা

হ্যাচো চো কে যেন পাশ থেকে হেঁচে দিল। আমি পড়তে বসে পরিষ্কার শুনতে পেলাম। অনেকদিন ধরে করোনা করোনা – উৎসব উৎসব করে পড়াশোনা  সব নাকি মাথায় উঠেছে। বড়দের বকুনির ঠেলায় সবে বই নিয়ে বসেছি তাতেই এই কান্ড। যাহোক ভুল শুনেছি ,মনের কল্পনা এসব কথা ছেড়ে সামনে রাখা পুস্তকে পুনঃনিরীক্ষণ করতে আরম্ভ করলাম। স্নু উ উ কে যেন একটু নাকটা ঠানল আমি আবারও পরিষ্কার শুনতে পেলাম। একে তো ত্রয়োদশী র  রাত বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, রুমে মোমের আলোয়  কিয়দংশ উদ্ভাসিত তাও আবার আমার ছায়া পড়ে পেছনে কালিমালিপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে । এ অবস্থায় এ ধরনের অনুভূতি সম্পন্ন চিন্তা আসতেই কেমন যেন গা ছমছম করতে লাগল। না না এসব চিন্তা এখন মনে  ঠাঁই দিলে চলবে কেন  নিজেকে চার্জ আপ করে  নিজের কাজে পুন: মনসংযোগ করলাম। মিনিট খানেক পর কে যেন একটু খুক খুক করে কেশে উঠল। এবার আমার হৃৎ কম্পন হল। একবার বললাম কে? কোনো প্রতুত্তর এলনা। ভয়ে বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল।

তবুও আরো একবার কে? কে আছে ওখানে? ধুর ছাই বই নিয়ে উবু হয়ে শুয়ে পড়লাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম কতক্ষণ কারেন্ট চলে গিয়েছে , কখন যে আসবে!মনের অজান্তে বিরক্তি সূচক চুক করে শব্দ করলাম।,উঁ সহজে আঁসবে না আমি এবার শোয়া অবস্থা থেকে ধড়মড় করে উঠে পড়লাম, কে কে?? ততক্ষণে ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। অমনি ঘরের এক অন্ধকার কোনে মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় এক মহিলা কে দেখলাম। এনাকে আমি আগে কখনো দেখিনি তাই হঠাৎ করে অবাকতা নিজের অজান্তেই ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল ,আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না! হেঁ হেঁ আঁ মাকে ‌চিঁনবে কিঁভাবে ? কঁত্ত্ ছোঁটো ছিঁলে তুঁমি

তঁখন তোমাদের বাড়িতে কাজ করতাম তোমার দেখাশোনার ভার আমার ওপর ছিল গো কিন্তু এখন এখন আর কাজ করার প্রয়োজন হয় না তবে এপাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তাই একবার দেখে যাবার বড় ইচ্ছা হল আমার ওও তো ভেতরে চলো মা কে ডাকি না না বাবা থাক আমি এক্ষুনি আসব সেকি কথা এতদূরে এসে মার সাথে দেখা না করেই চলে যাবে? মার সাথে ভাল বনিবনা ছিলনা তাই হয়তো … তারপর থাকবে তো দুটো দিন মাকে ডাকা বাদ দিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম। না না আমি এক্ষুনি আসব। আচ্ছা ঠিক আছে এবার ছেলেবেলার কিছু ঘটনা বল ,শুনি আমি কি করতাম? কি কি দুষ্টুমি করতাম? তুমি যখন হামাগুড়ি দিতে শুরু করলে তখন এমাথা থেকে ওমাথা শুধু চলে যেতে তোমাকে কিছুতেই ধরে রাখা যেতনা হেঁ হেঁ। হা হা শব্দে আমি ও হেসে উঠলাম। আর বলো তোমার বাড়ির সবাই ভালো তো। কি জানি কি জানি আবার কি আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না।

এই তো এখন যাব তাদের দেখতে অনেকদিন পর তাদের দেখব। তুমি ও নন্দিতা পিসির মতো বাড়ি থেকে দূরে কাজ করো? মহিলা টি কোনো মন্তব্য করে না। বাড়িতে যখন নন্দিতা পিসিকে নিয়ে গল্পঃ করা হয়েছিল তখন শুনেছি, পিসির ভিটেবাড়ি রাজশাহীতে । সেখান থেকে কাজের আশায় ও শান্তি তে বসত করবার জন্যে এপাড়ে পারাপার হয়েছে, মাঝে মাঝে আবার সেখানে গিয়ে শরীকদের ও নিজের পরিবার পরিজনদের খোঁজ খবর নিয়ে নেয়।ও বুঝেছি বুঝেছি তোমায় আর বলতে হবে না ।

কি বুঝেছিস তুই মা ঘরে না ঢুকে দরজাটা অল্প খুলে সেখান থেকে মুখ গলিয়ে বলল। কিছু না কার সঙ্গে এত চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথা বলছিস ??এই যা: নামটা তো জিজ্ঞেস করাই হয়নি,, ওই যে আমাকে দেখার ভার ছিল যে মাসিমার ওপর কে? আট বছর আগে আমাদের বাড়িতে কাজ করত ,, মালতীর মা, কি বলছিস!! মালতীর মা তো আট বছর আগে মারা গেছে তার সম্পর্কে তুই কোথায় কার কাছ থেকে শুনেছিস? কি যাতা বলনা তুমি আমারা এতক্ষণ ধরে গল্পঃ করছিলাম.. তাছাড়া ও তুমি যখন জিজ্ঞেস করলে কার সঙ্গে অতক্ষণ কথা বলছিলাম ।একা অন্ধকার ঘরে বসে তোর উচ্চঃস্বরে কথা বলা, হাসা যার জন্য আমার আসা । বিশ্বাস হচ্ছে না তো এসো ঘরে ঢুকে স্বচক্ষে মাসিমা কে দেখে যাও। যেই না মা ঘরে ঢুকতে যাবে দপ করে মোমবাতি টা নিভে একটা হাওয়া আমার রোম ছুঁয়ে যায়। ্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close