মাতাল চন্ডীর পঁচিশে বৈশাখ

মাতাল চন্ডীর পঁচিশে বৈশাখ

ভিক্টর ব্যানার্জী

 

 

জ ২৫ শে বৈশাখ, কবিগুরুকে আমার শতকোটি প্রণাম জানিয়ে গল্প শুরু করছি—

হঠাৎই এই রবীন্দ্রজয়ন্তী নিয়ে এই সেদিনকার একটা  ঘটনা মনে পড়ে গেল। তখন বেশীরভাগ পাড়ায় রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব হত। যাইহোক,তো আমাদের পাড়াতেও এরকম অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সব বাচ্ছারা কবিতা বলছে, নাচ গান করছে। আমদেরও দেখে আনন্দ হচ্ছে। হঠাৎ করে পাড়ার মাতাল চন্ডী ক্লাবে এসে বলল
—“আমি কবিতা বলবো।”
সেক্রেটারী বলল
—“এই মেরেচে ! মাতাল আবার কি বলবে রে!”
কে শোনে কার কথা ! মাতাল চন্ডী তখন হাল্কা টাল্লি খেতে খেতে স্টেজে উঠে গেছে। একটা সুন্দরী মেয়ে তখন “ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে” গানে নাচছিল।
মাতাল স্টেজে উঠতেই সে ভয়ে নাচ থামিয়ে বাঁদিকের উইংসে ঢুকে গেল। মাতাল ব্যাটা  সঞ্চালক সুশান্তদার থেকে মাইকটা কেড়ে নিয়ে বলল
—“নমস্কার,আমি মাতাল চন্ডী একটা কবিতা বলবো।”
সুশান্তদা আর কি করবে। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। মাতাল শুরুতেই বলল—
“নমস্কার রবিগুরু কবীন্দ্রনাথের ‘সৎপাত্র’।”
এই শুনে সকলে বলল
—“আরে ওই মাতাল স্টেজ থেকে নাম রে পাগলা। ওটা সুকুমার রায়ের লেখা।”
কে কার কথা শোনে। সে বলে চলল—

“শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে,
আমার নাকি বাবার বিয়ে !
গ্যাঁড়ার মাকে পাত্রী পেলে
গ্যাঁড়া ব্যাটা ডেঞ্জার ছেলে
গ্যাঁড়া মা পাত্রী ভালো,
আবার বাবা বহুত কালো
গ্যাঁড়ার মায়ের মুখের গঠন
পুরো পাড়ার টিউকলের মতোন!

—যাঃ ভুলে গেচি।
নমস্কার।”

এই শুনে পাড়ার সকলে হো হো হেসে ফেলল। গ্যাঁড়ার মাও ক্লাবে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিল। মাতাল চন্ডীর কবিতা শুনে তাড়াতাড়ি করে ঘোমটা দিয়ে বাড়ি পালিয়ে গেল।
এদিকে মাতাল চন্ডী মাথা চুলকোতে চুলকোতে স্টেজ থেকে নেমে পড়ল। তারপর কবিতাটা মনে পড়ছে না দেখে অ্যাঁ অ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল। কাঁদা পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু শেষে যেটা করল সেটা মারাত্মক—
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির সামনে শুয়ে পড়ে হাতজোড় করে বলল
—“ও গো ঠাকুর গো, মনে করিয়ে দাও না গো।”
সেকি কান্ড ! পরে একদিন সেক্রেটারীকে জিজ্ঞেস করেছিল,‘কবিতাটা কেমন লেগেছে’। সে বলেছিল,‘‘ওটা কবিতা ছিল, তুই তো সুকুমার রায়, রবীন্দ্রনাথ সকলের গুষ্টি উদ্ধার করে দিয়েছিস রে।”

___

২৫ শে বৈশাখ ১৪২৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©ভিক্টর ব্যানার্জী

গল্পটি আগে প্রকাশ হয়ে গেছে।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।