মেহেন্দী

🍁মেহেন্দী🍁

জ একটা বিশেষ সন্ধ্যা। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসা স্বপ্নটা আজ রূপ পেতে চলেছে। সিঞ্জিনীর  আজ এনগেজমেন্ট রোহিতের সাথে। আজই বিয়ের দিন ফিক্স করা হবে। হায়ার সেকেন্ডারির পর রোহিতকে শর্মা আঙ্কেল বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন পড়াশোনার জন্য। তখন সিঞ্জিনীর ক্লাস নাইন। আজ দশ বছর পর রোহিত দেশে ফিরছে। পড়াশোনা শেষ করে ও ওখানেই চাকরি করছে কিছু বছর । ছোটবেলা থেকেই সিঞ্জিনী বাবা আর শর্মা আঙ্কেল কে বহুবার তার আর রোহিতের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছে। মায়েদেরও এই নিয়ে মাথা ব্যথার শেষ নেই। বিয়ে কিভাবে হবে, তাতে কি কি নিয়ম করা হবে, কে কখন কি পড়বেন এই আলোচনা তিন চার বছর ধরে প্রায়ই হয়। ওনারা যখন রোহিত আর সিঞ্জিনীর বিয়ে নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন তখন তাদের দেখলে মনে হয় পৃথিবীতে এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর নেই, আর এর থেকে বেশি আনন্দের কিছু হতে পারে না। এই কারণেই বোধহয় অবচেতনেই রোহিতের প্রতি ওর ও একটা প্রেম ভাব খুব ছোটবেলা থেকেই তৈরী হয়েছে আর সিঞ্জিনী নিজের অজান্তেই রোহিতকে নিজের জীবন সঙ্গি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। ওর সাইড টেবিলের উপর একটা সুন্দর ফ্রেমে বাধানো রোহিতের একটা ছবিও আছে। চার মাস আগে এই ছবিটা অনিতা আন্টি ওর মা কে দিয়েছিলেন। কয়েক দিন মায়ের ড্রেসিং টেবিলের উপর ছিল তারপর ও সেটাকে এনে নিজের ঘরে ফ্রেমে সাজিয়ে রেখেছে। প্রথম প্রথম ওর লজ্জা করছিল, ভাবছিল হয়তো মা জিজ্ঞেস করবে – মা সিঞ্জিনী রোহিতের ছবিটা এখানে তুই এনেছিস! কিন্তু না প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেছে মা প্রায় রোজ ওর ঘরে আসেন,জিনিসপত্র গুছিয়ে দেন কিন্তু না ছবির বিষয়ে তিনি কিছুই জিজ্ঞেস করেন নি।




বরং এরপমন ভাব করেছেন যেন এটা খুবই স্বাভাবিক। সেই রোহিতের সাথে আজ সিঞ্জিনীর এনগেজমেন্ট। মা নিজে পছন্দ করে রোহিতের জন্য একটা খুব সুন্দর আঙটি কিনেছেন। বাবা আর শর্মা আঙ্কেল তো বহু দিন ধরেই প্ল্যান করে রেখেছিলেন যে ওদের বিয়ের ছোট থেকে ছোট অনুষ্ঠান ও তারা খুব জাঁক জমকের সাথে করবেন। আর হলোও তাই। আজ সকাল থেকেই সিঞ্জিনীদের বাড়িটা আলো আর ফুলে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিউটি পার্লার থেকে এসে সিঞ্জিনীকে মেহেন্দী পড়িয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে গেছে। সিঞ্জিনীর বন্ধুরা তাকে ঘিরে বসে আছে, তাকে দেখতে স্বর্গের পরীর থেকে কোন অংশে কম মনে হচ্ছে না। বাড়ি আত্মীয় স্বজনে ভর্তি। চারদিকে খুশীর জোয়ার, সন্ধ্যার অন্ধকারে যখন সাজানো আলো গুলো জ্বলে উঠল তখন বাড়িটা কে স্বপ্ন রাজ্য মনে হতে লাগছিল। সিঞ্জিনীর মনেও  অদ্ভুত এক আনন্দ মেশানো অল্প অল্প উত্তেজনা অনুভূত হতে থাকল। এর মধ্যেই শোনা গেল শর্মা আঙ্কেলরা চলে এসেছেন, সবাই একে একে নীচে চলে গেল, এখন ঘরে আর কেউ নেই, সিঞ্জিনীর এই পঁচিশ বছরের জীবনের নানা কথা মনে পড়তে লাগল। হঠাৎ মিলি এসে বলল – সিঞ্জিনী চল তোকে নীচে সবাই ডাকছে। সিঞ্জিনী আস্তে আস্তে দোতলা থেকে নেমে আসছে যেন বিজ্ঞাপনে দেখা বিয়ের কোনের মতই লাগছে তাকে। লাল জারদৌসী, পায়ে আলতা, গা ভর্তি গয়না, লজ্জাবনত রাঙা মুখ খানি দেখলেও যেন মনে হবে একেবারে হিন্দু নারী।

সবাই ড্রয়িং রুমে এলেন, সেখানে সোফাসেট চেয়ার আরও নানা ধরনের বসার ব্যবস্থা করা আছে আর ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা সুদৃশ্য কাঠের গোল টেবিলের উপর কুরুশের সুন্দর কাজ করা টেবিল ক্লথের উপর একটা পিতলের ফুলদানিতে লাল, সাদা আর হলুদ গোলাপ সাজানো। সবার উপস্থিতিতেই আঙটি বদল হল। আঙটি বদলের সময়  সিঞ্জিনী লক্ষ্য করল রোহিত তার দিকে একবারও তাকালো না এমনকি তার এটাও মনে হল আংটি পড়াতে বা পড়তে রোহিত যেন একটু ইতস্তত করছে। সিঞ্জিনী ভাবলো হয়তো রোহিত লজ্জা পাচ্ছে, কিন্তু এত বছর বিদেশে থাকা ছেলে এতটা লজ্জা পাওয়ার কি কোন কারণ আছে!! যাইহোক আঙটি বদলের পর সবাই নিজেদের মধ্যে গল্প, খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সিঞ্জিনী সকলের সাথে আনন্দ করার ফাঁকে এক সময় লক্ষ্য করল যে রোহিত এক কোনায় সকলের থেকে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। আস্তে আস্তে রোহিতের কাছে গিয়ে সিঞ্জিনী জিজ্ঞেস করল –
আপনার কি কোন সমস্যা হচ্ছে!
না
হলে বলতে পারেন।
বললাম তো না।
তাহলে এভাবে একা একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন!
এমনি।




দেখুন আপনার যদি কোন সমস্যা থাকে আপনি আমাকে বলুন। আপনার সমস্যাটা কি বিয়ে নিয়ে!
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রোহিত বলল – হ্যাঁ, আসলে তোমার ফ্যামিলি আর আমার ফ্যামিলি অনেক দিনের
বন্ধু, তুমি আর আমি পরস্পরকে চিনি সব ঠিক আছে তা বলে তোমার মত মেয়ের সাথে আমি বিয়ে করতে পারবো না। সিঞ্জিনী মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইল কিছুই বলল না। রোহিত আবার বলল – দেখ বাবা আমাকে আসার আগে কিছুই বলেন নি, এখানে পৌঁছোনোর পর বলছেন তোমার সাথে আমার বিয়ের  কথা তিনি তোমার বাবাকে দিয়ে দিয়েছেন, অথচ তুমি আর আমি একেবারে দুরকম ভাবে মানুষ হয়েছি, আর আমরা নিজেদের ভালো করে চিনিও না, আর তাছাড়া আমি যে ধরণের মেয়ে পছন্দ করি তুমি একদম তেমন নও। সিঞ্জিনী খুব আস্তে মাথা নীচু রেখেই বলল – তেমন মেয়ে মানে কেমন মেয়ে! রোহিত অসহিষ্ণু ভাবে
বলল – তুমি বুঝতে পারছ না, তুমি তো বিদেশে গিয়ে ওদের সাথে কথাও বলতে পারবে না, একটা চাকরি তো দূরের কথা। আর তুমি যেভাবে মেহেন্দী, ফুল, শাড়ি বা গয়না পরে সেজেছো আমার তো মনে হয় ওয়েস্টার্ন স্টাইল তুমি কিছুই জান না। আমার সাথে তোমার কোন ভাবেই ম্যাচ করবে না। সব শুনে সিঞ্জিনী বলল – তাহলে কি হবে!
তুমি যদি বাবাকে বুঝিয়ে বল, তাহলে একটু সুবিধে হয়। সিঞ্জিনী চলে এল। এনগেজমেন্ট পার্টি যেমন চলার তেমনি চলল। এরমধ্যে আবার সকলের অনুরোধে সিঞ্জিনী একটা সুন্দর রোম্যান্টিক গান ও গাইলো বেশ হেসে হেসে দুলে দুলে। এবার কিন্তু রোহিত একটু অবাক হল, সে ভেবেছিল তার কথা শুনে সিঞ্জিনী কেঁদে ভাসাবে, সিন করবে, হাতে পায়ে ধরবে যা সাধারণত এদেশের মেয়েরা করে অথচ সিঞ্জিনী তার কিছুই করল না। রোহিতের আরও আশ্চর্য হওয়ার বাকি ছিল, সে দেখল সিঞ্জিনী অপূর্ব দক্ষতার সাথে সকল অতিথিদের সুন্দর আপ্যায়নের সাথে খাইয়ে বিদায় দিল। এবার ঘর ফাঁকা রোহিত, ওর বাবা-মা, সিঞ্জিনী ওর মা-বাবা। রোহিতের বুক দুরু দুরু করতে লাগল, সিঞ্জিনী বলল – বাবা রোহিতের পক্ষে আমাকে বিয়ে করা সম্ভব হবে না, কিন্তু এ নিয়ে তোমরা কেউ ওকে দোষ দেবে না বা প্রশ্ন করবে না। বলা শেষ হওয়ার পর অদ্ভুত একটা স্তব্ধতা নেমে এল, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সিঞ্জিনীর বলার ধরনে এমন কিছু ছিল যে কেউ একটা শব্দও উচ্চারণ করল না। কিছুক্ষণের নিরবতার পর সিঞ্জিনীর বাবা বললেন আচ্ছা তাহলে এবার ওঠা যাক, সবাই উঠে দাঁড়াতে গিয়ে শর্মা আঙ্কেল বুকে হাত দিয়ে বসে পড়লেন, তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিল এসি ঘরেও, আঙ্কেল হাপাতে লাগলেন, সিঞ্জিনী দোতলায় উঠে যাচ্ছিল মা ডাকলেন সিঞ্জিনী…….।




সিঞ্জিনী ঘুরেই ছুটে এসে রোহিতকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে আঙ্কেলকে ধরে সাবধানে সোফায় বসিয়ে দিল তারপরেই একটা ফোন কল করল। কিছুক্ষণ পরেই একজন ডাক্তার এলেন, মিঃ শর্মাকে ভালো করে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন। সিঞ্জিনী এক মুহুর্ত নষ্ট না করে ডঃ চৌহানের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে আবার ফোন করল। সিঞ্জিনীর বাবা বললেন – থ্যাংক ইউ ডঃ চৌহান, আপনি সিঞ্জিনীর একবার ফোনেই এত রাতে চলে এলেন, আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেব!! ডঃ চৌহান বললেন – এটা কি বলছেন মিঃ বর্মা আপনার মেয়ের সাথে আপনার ফ্যামিলির সাথে  আমার যোগাযোগ কি আজকের বলুন! এই ধরণের কথা হতে হতেই একটি ছেলে একটা প্যাকেট নিয়ে এল। সিঞ্জিনী জিজ্ঞেস করল – কত? ছেলেটি বলল – বাইশ শ, সিঞ্জিনী রোহিতের দিকে তাকিয়ে বলল – ওকে বাইশ শ টাকা দিয়ে দাও, ওষুধের দাম। রোহিত মন্ত্রমুগ্ধের মত ওর কথায় পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে দিল। ছেলেটি চলে গেল। সিঞ্জিনী প্যাকেট খুলে ওষুধ বার করে আঙ্কেলকে খাইয়ে দিল পরপর তিনটে ওষুধ। ডঃ চৌহান বললেন – এবার আমি উঠি মিঃ বর্মা আর কোন ভয় নেই। আমি কাল একবার ওনার বাড়ি গিয়ে ওনাকে দেখে আসবো, তবে সমস্যা কিছু হবে না। সিঞ্জিনী বলল – সাবধানে যাবেন আঙ্কেল। ডঃ চৌহান হেসে হাত নেড়ে বললেন – ডোন্ট ওরি সুইট হার্ট। এতক্ষণ যেন একটা ঝড় বয়ে গেল। এবার রোহিত মোবাইলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক – এ কি রাত দেড়টা বাজে!! মিঃ শর্মা আরও প্রায় আধ ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়ার পর শর্মা পরিবার ওখান থেকে রওনা হল নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

বাড়িতে এসে রোহিত বাবাকে ঘরে পৌছে দিয়ে নিজের ঘরে এল, পোশাক বদলে ফ্রেস হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল, ওর ধারণা ছিল শুল্ক হয়তো ঘুম আসবে কিন্তু এল না। রোহিত ভাবতে লাগল সিঞ্জিনীর কথা, একটা মেয়ে যে অতীব সুন্দরী, দারুণ গানের গলা, বোঝাই যাচ্ছে মোটামুটি শিক্ষিত, ব্যবহার ভাল, স্মার্ট, আর সবচেয়ে বড় হল উপস্থিত বুদ্ধি মানে সবাই যখন চিৎকার চেঁচামেচি করছিল , ও নিজে যখন হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন এই মেয়েটিই সম্পুর্ণ ব্যাপারটা সামলালো অথচ ও যখন সিঞ্জিনীকে নানা ভাবে বোঝাচ্ছিল যে সিঞ্জিনী ওর যোগ্য নয় তখন কিন্তু সিঞ্জিনী একটা উত্তর ও দেয়নি সামান্য প্রতিবাদের চেষ্টাও করে নি। আজকের ঘটনা না ঘটলে সিঞ্জিনী সম্পর্কে রোহিতের ধারণা সম্পূর্ণ অন্যরকম হত।

বাবু ওঠ, ওঠ বাবা, আর কত ঘুমোবি! বাবা তোকে ডাকছে। রোহিত তড়াক করে বিছানায় উঠে বসল, আমতা আমতা করে বলল – মা, বাবা কি কালকের বিষয়ে কিছু বলবে! উত্তর অবশ্য ওর জানাই এবং মা ও তাই বললেন – আমি তো জানি না, দেখ বাবা কি বলে। রোহিত বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল স্নান করে রেডি হয়ে নীচে এসে দেখল বাবা সোফায় বসা।
বাবা!
এসো, তোমার সাথে কথা আছে।
তুমি এখন কেমন আছ বাবা! শরীর কেমন!
মিঃ শর্মা কোন উত্তর দিলেন না। ওনাকে ঘিরে চামরার সোফা ও চেয়ার মিলিয়ে সাত, আটজন লোক নানা রঙের নানা মাপের ফাইল নিয়ে উল্টে পাল্টে অনেক কিছু নিয়ে গম্ভীর মুখে আলোচনা করছে। বাবা খালি বারবার একই কথা বলছে – আমার সলিসিটর না এলে আমি কিছুই বলবো না। ও ঠিক দশটায় আসবে, রোহিত দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকালো, নটা পঞ্চাশ বাজে। সকলের জন্য ব্রেকফাস্ট এল। মিঃ শর্মার জন্য এক গ্লাস ফ্রুট জুস, রোহিতের জন্য দুধ কর্ণফ্লেক্স আর বাকিদের জন্য পরটা তরকারি আর ডিম সেদ্ধ। বাইরে গাড়ির আওয়াজ পাওয়া গেল। কিছুক্ষণ পরেই যাকে দেখে রোহিতের ভিরমি খাওয়ার অবস্থা, তিনি আর কেউ নন ম্যাডাম সিঞ্জিনী বর্মা। একটা স্কাই কালারের ফুলফুল শার্ট, ঢোলা গ্রে প্যান্ট আর তার উপর উকিলের কালো কোট। রোহিতের দিকে তাকিয়ে মিঃ শর্মা সিঞ্জিনীকে দেখিয়ে বললেন – রোহিত ও আমাদের প্রাইভেট সলিসিটর আমাদের ব্যাবসার বিষয়ে ওর কাছ থেকে সব জেনে নিও। আমি এখন অসুস্থ তোমাকেই এই বিশাল ব্যবসা দেখতে হবে।




সিঞ্জিনী, মা ওকে সব বুঝিয়ে দিস। সিঞ্জিনী মাথা নাড়লো এবং রোহিতের পাশে বসে বলল – একদিনে তো বোঝা যাবে না তুমি অফিস জয়েন কর আমি আস্তে আস্তে সব বলে দেব আর এই ফাইলগুলো দেখে রেখো বলেই রোহিতের সামনের টেবিলটার উপর একগুচ্ছ ফাইল রেখে দিল।  মিঃ শর্মা বললেন – সিঞ্জিনী বেটা কাপুড়ীয়াদের সঙ্গে আমাদের কেসটা মিটে যাবে তোতো মা!
যাবেই তো আঙ্কেল, সামনের বুধবার বিয়ারিং আছে মনে হচ্ছে সেদিনই একটা নিস্পত্তি হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না তো, এই ব্যাপারগুলো এবার রোহিতকে বুঝে নিতে দাও। আর এই মেয়েটিকে দেখে রোহিতের মনে হচ্ছে ওর নিজের স্মার্টনেস, বিদেশিপনাকে , শিক্ষাকে এই মেয়েটা ধীরে ধীরে তলানিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। মিটিং শেষ হল সবাই চলে গেলেন প্রায় বারোটা নাগাদ, সিঞ্জিনী গেল রান্না ঘরে যেখানে রোহিতের মা তদারকি করছেন। রোহিত ওর বাবাকে বলল – বাবা আমাদের প্রাইভেট সলিসিটর মিঃ ভাদুড়ী ছিলেন না!!!
হুম ছিলেন, কিন্তু ওনার ওপেন হার্ট সার্জারির পর উনি সিঞ্জিনীকে পাঠিয়েছিলেন। আমি জানতাম না উনিই বললেন – আপনি নিশ্চিত থাকুন মিঃ শর্মা সিঞ্জিনী আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট, ভীষণ শার্প, সেই থেকে সিঞ্জিনীই আছে।

আশ্চর্য যে সিঞ্জিনী নামটাতে, তার শাড়ি পড়ার ধরনে, গয়না পড়ার আধিক্যে, মেহেন্দী পরার আদিখ্যেতায় রোহিতের বিরক্তি বোধ হচ্ছিল আজ সেগুলোই ওর কাছে পরম আকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু আশ্চর্য কেউ ওকে একবারও বিয়ে নিয়ে কিছুই বলছে না, বললে তো অন্তত ও এটা বলতে পারত যে – ঠিক আছে তোমরা জোর করছ বলেই আমি বিয়ে করছি। আমার তেমন কোন ইচ্ছে নেই। রোহিতের এখন সবার উপর, সবকিছুর উপর এমন কি নিজের উপরেও রাগ হচ্ছে। একবার মনে হচ্ছে – আমারই বা এত তাড়াতাড়ি না বলার কি ছিল, আবার মনে হচ্ছে একটা একরত্তি মেয়ে কয়েক ঘন্টায় ওকে no one বানিয়ে দিল!!  আবার কখনও মনে হচ্ছে সব দোষ ওই আলতা আর মেহেন্দীর। কিন্তু মা কে ব্যাপারটা বলবে কি! যে ও সিঞ্জিনীকেই বিয়ে করতে চায়! একটু কি হ্যাংলামো হয়ে যাবে!! যাক, ওর কিছু করার নেই , এসব ভাবতে ভাবতে মায়ের রুমের সামনে এসে ডাকল – মা………………

🍁ন মু🍁

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 2   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।