রক

#ভৌতিক_গল্প
#রক
✍#ঝিলিক_মুখার্জী_গোস্বামী

সেই কখন থেকে ক্ষয়িষ্ণু রকটার উপর বসে পা দু’টো দুলিয়ে চলেছি। কতক্ষণ যে এইভাবে একলা বসে আছি। তার ইয়ত্বা নেই। এরকম একলা ভূতের মতো কাঁহাতক বসে থাকা যায়?

চারিদিকে ঘুট্ঘুটে অন্ধকার। কালো রঙের গাঢ়তা মাখা আঁধার চাদরটা সারা পাড়াটাকে গ্রাস না করলেও, রকটাকে যেন গ্রাস করেছে অবিশ্বাস্য রকমের ভাবে। তার উপর আজ আবার ভূত চতুর্দশী। স্বাভাবিক ভাবেই গা একটু ছমছম করছে। যদিও আমি এখন….

একটু দূরে প্রদীপের একটা সরু আলো অল্প ঠিকরে আসছে। দূর থেকেই দেখলাম বাড়ির ব্যালকনি গুলোতে রঙিন আলোর খেলা। মনে মনে মুচকি হাসলাম। গভীর দীর্ঘশ্বাস পড়ল। আমার বাড়িতেও আজ আলোর মেলা বসেছে নিশ্চয়ই। কেন যে ওরা সেদিন…

নাহ্।
এভাবে আর বসে থাকা চলে না। সবে রক ছেড়ে উঠতে যাব…

-“কি রে এত দেরী করলি? কখন থেকে হা পিত্যেশ করে বসে আছি।”

হাঁফাতে-হাঁফাতে রিজু,
-“নে খেয়ে নে।”

থালা থেকে গোবিন্দ ভোগ চাল, সোনা মুগ ডাল; ঘি এর একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে আসতেই হামলে পড়লাম। মুখে একটার পর একটা গ্রাস তুলছি। পরম তৃপ্তিতে চোখটা বুঝছি। রিজু বলে উঠল,

-” কি রকবাজ! রকটা তোর দখলেই রাখলি, কথা মতন!”

খিচুড়ির একটা গ্রাস মুখে নিয়েই বলে উঠলাম, এটা তোর-আমার বন্ধুত্বের সাক্ষী।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, গাছ বোমগুলোতে আগুন দেওয়ার আগে যদি ওরা একটু চেক করে নিত! তাহলে এই রকটাতেও আলো ফুটত আজ।

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 1/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
close