রিভেঞ্জ

রিভেঞ্জ

রিভেঞ্জ

নেহা কর্মকার

 

নাহ! শেষ পযর্ন্ত আরুশি পারেনি।ওকে শেষমেশ পালিয়ে আস্তে হয়েছিল ওর বিয়ের দিন মন্ডপ থেকে।এছাড়া কোনো উপায় অবশিষ্ট ছিল না।কি করে পারতো নিজের দিদির খুনীকেই বিয়ে করতে!

হ্যাঁ।রেহান সেনগুপ্ত।দুনিয়ার সামনে উনি অনেক বড় বিজনেস ম্যান কিন্তু আরুশির কাছে শুধুমাত্র তার দিদির খুনী।দিদির সবচেয়ে বড়ো অপরাধ ছিল এই লোকটাকে ভালোবাসা।এই লোকটাকে ভরসা করা।এই লোকটার জন্যই একদিন দিদি আরুশিকে পর্যন্ত  ভুল বুঝেছিল।কিন্তু কি পেল?নির্মম মৃত্যু ছাড়া আর কিছু নয়।

বিয়ের দিন পালিয়ে যাওয়ার জন্য আরুশির কপালে জুটেছিল চরিত্রহীনের তকমা।আরুশির বাবা মাকে হতে হয়েছিল চূড়ান্ত অপমান।এমন কি রেহান সেনগুপ্ত তার বাবা মা কে শাসিয়ে গিয়েছিল এই বলে যে যদি সে আরুশি কে না পায় তাহলে কিন্তু তাদের নিংস্ব করে ছাড়বে।রাস্তায় নামতে হবে।

নাহ আরুশি কিছুতেই মানতে পারেনি তার বাবা মা-র অপমান।সে অনেক ভাবে তার বাবা মাকে বোঝাতে চেয়েছিল যে দিদির অ‍্যাকসিডেন্ট হয়নি দিদিকে ইচ্ছেকৃত ভাবে খুন করা হয়েছিল।কিন্তু ওর বাবা মা ওকেই উল্টে ভুল বুঝেছিল।তারা বলেছিল আরুশির জন্যই নাকি ওর দিদিকে মরতে হয়েছে।তাই ওকে এখন রেহান সেনগুপ্তকে বিয়ে করতেই হবে।
যখন শেষ  পর্যন্ত আরুশি কাউকেই সত্যিটা বোঝাতে পারেনি তখন সে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।আর সেইদিন থেকেই আরুশি ওর বাবা মা-র কাছে মরে গেছিল।সব কিছু শেষ হয়ে গেছিল আরুশির।জীবনটা পুরো বদলে গেছিল।

এইসবের শুরু প্রায় ৩ বছর আগে।




আরুশির তখন 1st Year আর আরুশির দিদি শুভশ্রীর 3rd Year।খুব বেশি বড় ছিলো না শুভশ্রী ওর বোনের থেকে।মাত্র ২ বছরের বড়।ওদের দুই বোনের মধ্যে সম্পর্ক কোনো বেস্ট ফ্রেন্ডের থেকে কম ছিলোনা।ওরা দুজন ছিল দুজনের পরিপূরক।

আরুশিকে দেখতে ছিল অসম্ভব সুন্দর।যেমনি টানা টানা চোখ তেমনি মুখের হাসি আর তেমনি ওর শারীরিক গঠন।তেমনি ওর গায়ের রং,পুরো দুধে আলতা।কলেজের অর্ধেক ছেলে ওর জন্য পাগল ছিল।কিন্তু ওইদিকে খুব একটা পাত্তা দিত না আরুশি।আরুশির কলেজে অনেক বন্ধুও হয়েছিল।কিন্তু আরুশির কাছে ওর ফার্স্ট প্রায়োরিটি ছিল ওর দিদি।

আর শুভশ্রীর গায়ের রং ছিল অত্যধিক চাপা।ঠিক কালো বলা চলে না।তবে মুখটা ছিল ভারী মিষ্টি।
শুভশ্রীর খুব একটা বন্ধু ছিল না।২ জন মাত্র ভালো বন্ধু ছিল স্বাতী আর শ্রেয়া।কিন্তু ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল ওর বোনই।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবার পর শুভশ্রী নানান জায়গায় চাকরির চেষ্টা করতে থাকে।আরুশির তখন 2nd Year।বাবা মাও শুভশ্রীর জন্য ভালো পাত্র দেখতে থাকে।কিন্তু যেই আসে সে শুভশ্রীকে একবার দেখেই চলে যায়।তারপরে আর কোনো যোগাযোগ করেনা।প্রত্যেক বারের মতো সম্মন্ধ নিয়ে আসা জেঠু এসে জানায় যে পাত্রপক্ষ বিয়েতে রাজি নয়।তাদের নাকি পাত্রী পছন্দ নয়।এরম করে প্রায় ৭/৮ জন শুভশ্রীকে রিজেক্ট করে।শুভশ্রীর মন ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যেতে থাকে।মুখে কিছু না বললেও আরুশি ওর দিদির মনটা বুঝতে পারতো।রোজ রাতে ওর দিদির ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজ ওর কান এড়াতো না।

এরম করেই চলছিল।শুভশ্রী প্রাইভেট ফার্মে একটা চাকরিও পেয়ে গেছিল।আরুশিরও তখন 3rd Year।
সেদিন ছিল রবিবার।সবাই বাড়িতেই ছিল। হঠাৎ জেঠু একটা সম্মন্ধ নিয়ে এসেছিল।বাবার পুরোনো কোন বন্ধু নাকি তার ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে আরুশির বিয়ে দিতে চায়।এই শুনে দিদি আর একটাও কথা বলেনি।চুপচাপ চলে গেছিল ঘরে। আরুশি সটান না করে দিয়েছিল। আরুশির বাবাও আরুশির পড়াশোনার ক্ষতি করে বিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না।

আরুশি ঘরে এসে দিদিকে দেখেছিল অঝোরে কাঁদতে। ওর কাছে যেতেই শুভশ্রী ওকে এক ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিল।বলেছিল “একদম সহানুভূতি দেখাতে আসবিনা।তোর দয়া আমার চাইনা”।সেইদিন আরুশি এক অদ্ভুত অন্য কোনো অচেনা মানুষকে দেখেছিল যেন ওর দিদির মধ্যে। যে দিদি তার বোন সুন্দরী বলে গর্ববোধ করতো সেই দিদিই নাকি তার বোনের কাছে তার সৌন্দর্য ভিক্ষা করছে?ভয় পেয়ে চলে গেছিল আরুশি ওর দিদির ঘর থেকে।

মা রোজ কথা শোনাতো দিদিকে। মা বলতো নাকি কতো জন্মের পাপ করলে এরম একটা মেয়ে জন্মায়।”দিদির চোখ দিয়ে অঝোরে জল পরতো।বুঝতে পারতাম দিদির খুব কষ্ট হচ্ছে।কিন্তু কিছু বলতে পারতাম না।ইদানিং আমাকে একদম সহ্য করতে পারছিল না দিদি।আমাকে দেখলেই কেমন যেন হিংস্রতার ছাপ ফুটে উঠতো মুখে”।




এইসবের বেশ অনেকদিন পরের এক ঘটনা ।আরুশির ফাইনাল পরীক্ষা এগিয়ে এসেছিল বলে আরুশি বাড়িতে থেকেই পরীক্ষার প্রিপারেশন নিচ্ছিল।রাত ১০ টা বাজতেই মা ডাকলো খেতে আসার জন্য।আরুশি টেবিলে এসে বসার পর দেখলো যে ওর দিদি এখনো আসেনি।আরুশি ওর মাকে খাবার রেডি করতে বলে দিদিকে যায় ডাকতে।গিয়ে দেখে দিদি কার সাথে যেন ফোনে বেশ হেসে হেসে কথা বলছে।আরুশিকে দেখতে পেয়েই শুভশ্রী হঠাৎ যেন অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল। শুভশ্রীকে জিজ্ঞেস করায় দিদি বলেছিল শ্রেয়ার সাথে কথা বলছি। তারপর আরুশিকে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে চলে যাওয়ার জন্য ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেছিল” তুই যা আমি আসছি”।  এরপরে দিদি প্রায় কুড়ি মিনিট পর খেতে এসেছিল। খেতে এসেও শুভশ্রী সমানে ফোন ঘেঁটে যাচ্ছিল।আরুশি বুঝতে পারছিল না,যে দিদি ফোন ছুঁয়ে দেখতো না সে ফোনে এত কার সাথে চ্যাট করছে।

প্রথম প্রথম আরুশি অত গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শুভশ্রীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। শুভশ্রী প্রায়ই অনেক রাত করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিল। এমনকি রবিবার পর্যন্ত ও বাড়িতে থাকত না। এই নিয়ে বাবা মার সাথে দিদির প্রায়শই ঝামেলা লাগতে শুরু করে। এরপরে দিদির সাজ পোশাকেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে। দিদি সালোয়ার কামিজ ছেড়ে দিয়ে এখন মডার্ন সাজ পোশাক করা শুরু করে। আরুশি বুঝতে পারছিল না যার এইরকম জামা কাপড়ে কম্ফোর্টেবল ফিল হতো না সে কিনা আজকাল এরকম ড্রেস আপ করছে? এরপরে আরো অনেক বাজে বাজে ঘটনা ঘটতে থাকে। পাড়ার লোকেরা নানান কথা বলতে থাকে শুভশ্রীকে নিয়ে। এমনকি এও শোনা যায় যে শুভশ্রীর সাথে নাকি কোন এক বড়লোক ছেলের সম্পর্ক হয়েছে। তাকে নাকি মাঝেমধ্যেই রয়‍্যাল হোটেলে একটা ছেলের সাথে ঢুকতে দেখা যায়।  কিন্তু এই সবে আরুশি বিশ্বাস করে না। সে ঠিক করে দিদি এলে সব কথা জানবে দিদির থেকে। কিন্তু সেদিন কেউই ওই ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না।

রাত প্রায় বারোটা। আরুশির বাবা শুভশ্রী আসছে না দেখে বেড়োতে যাবে এমন সময় শুভশ্রী এসে বাড়িতে ঢুকলো। ঢুলু ঢুলু চোখে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিকমতো চোখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারছে না। পা দুটো ক্রমাগতই কেঁপে চলেছে।

”দিদি তুই ড্রিঙ্ক করেছিস? ”
”হ্যাঁ করেছি বেশ করেছি। তোর কি তাতে? ”
আরুশির বাবা হঠাৎ ক্ষিপ্রবেগে শুভশ্রীর কাছে গিয়ে জোরে একটা চড় মারে। শুভশ্রী মাটিতে পড়ে যায়।
”অসভ্য, জানোয়ার মেয়ে। এই দেখার জন্য তোকে এত টাকা দিয়ে পড়াশোনা শিখিয়ে ছিলাম? ”
মা বলল ”বল কোথায় মুখ পুড়িয়ে এসছিস? ”
দিদি বলল ”আমি একজনকে ভালোবাসি আর সে আমায় বিয়ে করবে বলেছে”।
হঠাৎ আরুশি বলে উঠলো”দিদি ও ভালো ছেলে নয়।যদি হতো তাহলে তোর এরম অবস্থা করতো না। তোকে হোটেলেও নিয়ে যেত না ”
এই কথা শুনে শুভশ্রী আরুশির দিকে এক কুটিল হাসি হেসে বলেছিল” তোর হিংসে হচ্ছে নারে? ”
” আমি তোকে হিংসে করব। তুই আমায় এই চিনলি?”
”তোকে আমি ঠিকই চিনেছি বোন। তুই আসলে ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে থাকিস। কিন্তু তুই ভীষণই স্বার্থপর। তুই তোর দিদিকে হিংসে করিস। তুই চাস না তোর দিদির ভালো বিয়ে হোক। আর সেই কারণেই যখন পাত্রপক্ষ আমায় দেখতে আসতো তুই ইচ্ছা করেই আমার সাথে আসছিস যাতে তারা আমাকে পছন্দ না করে তোকে করে আর আমার বিয়েটা ভেঙে যায় ”
”দিদি! তুই এরকম কথা আমায় বলতে পারলি?আমি তোকে হিংসা করি?”
”হ্যাঁ বলতে পারলাম আর শোন রেহান কোনো বাজে ছেলে নয়। ও বিজনেস টাইকুন রেহান সেনগুপ্ত ”
”টাকা থাকলেই কেউ ভালো ছেলে হয় না দিদি ”
”তোর থেকে আমি এখন কোনো জ্ঞান নেব না। আমি জানি তোর ভেতরটা এখন জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে ”
আরুশি আর কিছু বলল না। দিদি বাবা মা কে বলল যে রেহান নাকি খুব শিগগিরই আসবে তোমাদের সাথে বিয়ের কথা বলতে। বলেই শুভশ্রী ওপরে চলে গেল। আরুশী আর ওর বাবা মা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। এ কাকে দেখছে তারা। এ তাদের মেয়ে শুভশ্রী হতেই পারে না।




এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর খানিকটা শুভশ্রীর জোরাজুরিতেই ওর বাবা মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই রেহান সেনগুপ্ত ওদের বাড়িতে আসে। সেই দিন আরুশি বাড়িতেই ছিল পরীক্ষা ছিল না বলে। ওর ইচ্ছা ছিল যতক্ষণ বেহান সেনগুপ্ত এই বাড়িতে থাকবে ততক্ষণ ও নিচে যাবে না। কিন্তু ওর এই পরিকল্পনা সফল হলো না। কিছুক্ষণ পরেই মায়ের ডাকাডাকিতে ওকে নিচে আসতেই হল। তখন শুভশ্রী রেহান কে বাড়ির পিছনে বাগান দেখাতে নিয়ে গেছিল। আরুশি নিচে নেমে ওর খাবার নিয়ে ওপরে উঠতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই রেহান, শুভশ্রী ঘরের ভেতর ঢোকে। আরুশিকে এক ঝলক দেখেই রেহানের যেন মাথাই ঘুরে গেছিল। দিদিকে আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করেছিল এই মেয়েটা কে। শুভশ্রীর বোন জানার পর রেহান এসেছিল ওর সাথে আলাপ করতে নিজের থেকে। কিন্তু আরুশি খুব একটা কথা না বাড়িয়ে ওপরে চলে যায়। আরুশি চলে আসার আগে রেহানের মুখে আর চোখে একটা ভীষণই বাজে চাহনি দেখেছিল। আরুশি এরপরেও দিদিকে অনেক রকম ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু দিদি এতটাই রেহানের প্রেমে ডুবে ছিল যে কিছুতেই কিছু তাকে বোঝানো যাচ্ছিল না।

এর কিছুদিন পরেই শুভশ্রী জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতটা পেল। সেদিন আরুশি পরীক্ষা দিয়ে এসে সবে বিশ্রাম নিচ্ছিল হঠাৎ সে দেখলো ওর দিদি দরজার  সামনে দাঁড়িয়ে আরুশিকে দেখছে। কি ভীষণ রাগ দিদির চোখেমুখে ফুটে উঠতে দেখেছিল সেদিন আরুশী।সে কিছু বলার আগেই শুভশ্রী হঠাৎ উন্মত্তের মত আরুশির দিকে ছুটে এসে ওকে সপাটে একের পর এক পাগলের মত মারতে লাগলো। আরুশির চিৎকার শুনে বাবা মা ওপরে ছুটে আসে। এসে শুভশ্রীর অবস্থা দেখে রীতিমত ভয় পেয়ে যান তারা। কোনমতে শুভশ্রীকে ওর বাবা বুঝিয়ে-সুজিয়ে শান্ত করেন। তারপরে শুভশ্রীর থেকে এরম ব্যবহার করার কারণ জিজ্ঞেস করেন। শুভশ্রী বলে যে রেহান নাকি আরুশিকে বিয়ে করতে চায় ওকে নয়। ওর নাকি আরুশিকে পছন্দ। এই কথা শুনে শুভশ্রী আর নিজেকে সামলে রাখতে পারিনি। ও কিছুতেই আরুশি কে ওর জীবন থেকে রেহানকে কেড়ে নিতে দেবে না তাই ও নাকি আরুশিকে খুন করে দেবে। এই কথা শুনে আরুশির বাবা খুব চিন্তায় পড়েন এবং যত তাড়াতাড়ি পারেন শুভশ্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করতে শুরু করেন।

দেখতে দেখতে দিন চলে যায়। শুভশ্রীর বিয়ের দিনও এগিয়ে আসতে থাকে।কিন্তু বিয়ের আগের দিনই ঘটে যায় সেই চরম দুর্ঘটনা যা আরুশির জীবনকে পুরোপুরিভাবে বদলে দেয়।

বাড়ি জুড়ে আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।কিন্তু সেখানে হঠাৎই শুভশ্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।সবাই যখন এই নিয়ে চিন্তায় দিশেহারা তখন হঠাৎই আরুশির মাথায় স্ট্রাইক করে যায় রেহানের কথা।সঙ্গে সঙ্গে আরুশি শুভশ্রীর ঘরে যায়।ঘরে দিদির ফোন দেখেই রেহান কে ফোন করে।ওপাশ দিয়ে হ্যালো শুনেই আরুশি ফেটে পড়ে ক্ষোভে।
“স্ক্রাউনডেল! আমার দিদি কোথায়?”
“আহা! যেমন তোমায় দেখতে তেমনি তোমার গলা।মাইরি প্রেমে পরে গেছি তোমার”
“শাট আপ! হোয়ের ইস মাই দি?”
“আহা ওতো রাগ করছো কেন?তোমার দিদি আমার কাছেই আছে।তবে একটা কথা বলবো?রাগলে তোমায় হেব্বি মানায় কিন্তু ”
“আমার দিদি ওখানে কি করছে?নিশ্চই আটকে রেখেছো ওকে?খবরদার বলছি আমার দিদির গায়ে যেন একটা আঁচরও না লাগে।নাহলে আমি কিন্তু তোমায় ছাড়ব না”
“আরে আস্তে আস্তে,আমি তোমার দিদিকে কেন আটকে রাখতে যাব?ওতো নিজেই এসছে আমার কাছে”
“মিথ্যে কথা”
“আরে সত্যি সত্যি।তবে তোমার দিদি এখান দিয়ে বেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ আগে।এখনো গিয়ে না পৌঁছালে আমি কি করতে পারি বলো?দেখো কোথাও টপকে ঠপকে গেছে কিনা…..”
আরুশি শুনতে পেল রেহানের গলায় এক শয়তানি হাসি।
আরুশি ভয় পেয়ে গেল।এই শয়তানটা কিছু করে ফেললো না তো দিদির সাথে।ভয়ে আরুশির গলা শুকিয়ে আসে। হঠাৎ নীচ থেকে চিৎকার শুনতে পায় আরুশি।হড়ফড় করে নীচে নেমে আসে সে।এসে যা শুনলো তাতে ওর পায়ের তলা দিয়ে মাটি সরে গেল।দিদির নাকি একটা বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।সবাই তা শুনে ছুটলো হসপিটালে।




নাহ সেদিন দিদিকে বাঁচানো যায়নি।মাথায় গুরুতর চোট পাওয়ায় ব্রেন ডেথ হয়ে স্পটেই মারা গেছিল দিদি।সেদিন ওই ফোনটাতে বেশ কয়েকটা মেসেজ এসেছিল।রেহানের সাথে ওর দিদির কিছু ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি।সঙ্গে নিচে লেখা “বেশি বেগোরবাই করলেই এই ছবি গুলো ফাঁস করে দেব।নিজের দিদির এত বড়ো অপমান সহ্য করতে পারবে তো?”
তীব্র ঘৃণায় ফোনটা ছুঁড়ে ফেলেছিল আরুশি।
বাবা মা কেও কিছু বলতে পারেনি।রাতের পর রাত আরুশি ঘুমাতে পারেনি।যখনই চোখ বন্ধ করতে গেছে তখনই  যেন দিদি এসে বলে গেছে “ছাড়িস না ওকে বোন।ছাড়িস না।রিভেঞ্জ নে।তবেই আমি শান্তি পাব”।
থানায় গেছি,কতোরকম ভাবে চেষ্টা করেছি প্রমাণ করার যে আমার দিদিকে মার্ডার করা হয়েছে কিন্তু কেউ রেহান সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে যেতে রাজি নয়।

বাবা মা-র কাছেও ওই ছবিগুলো আর লোকানো থাকলো না।তাদেরকেও ওই শয়তানটা ছবিগুলো পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছে।থ্রেট দিয়েছে আরুশির সাথে বিয়ে না দিলে নাকি এই ছবিগুলো সব ফাঁস করে দেবে।বাবা মাও নিজের সম্মান বাঁচানোর জন্য রাজি হয়ে যায় এই বিয়েতে।তারা মেনে নিলেও আরুশি পারেনি, কিছুতেই মানেনি ওর দিদির ওপর হওয়া অপরাধ।আইনি পথে যখন হয়নি তখন আরুশি বেঁচে নিয়েছে অন্য পথ।

তাই আজ এসছে ও নিজের দিদির মৃত্যুর রিভেঞ্জ নিতে।আজ আর কিছুতেই রেহানকে ছাড়বে না আরুশি।আজ ও নিজেই এসছে রেহানের ফ্ল্যাটে ছদ্মবেশে।লুকিয়ে লুকিয়ে আজ রেহানের দামী হুইস্কিতে মিশিয়ে দেবে এক তীব্র বিষ।যে বিষের জ্বালায় আজ রেহান জ্বলবে।শেষ হবে দগ্ধে দগ্ধে যেরম ভাবে ওর দিদিকে ও মেরে এসেছে এতদিন।ব্যাস আর কিছক্ষণের অপেক্ষা।

কাজ শেষ করে আরুশি দাঁড়িয়ে আছে রেহানের ফ্ল্যাটের নীচে আড়ালে।ঠিক যা ভেবেছিল আরুশি তাই হলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হুরুস্থুলু পরে গেল।হইহই রইরই পরে গেল।আরুশির মুখে প্রশান্তের হাসি।
আরুশি আস্তে আস্তে বাড়ির পথ ধরলো।অনেকদিন পর ওর মনটা হালকা লাগছে।ও পেরেছে।কানে কানে যেন একটা চেনা স্বর বলে গেল “বোন তুই পেরেছিস।আমি জানতাম তুই পারবি।তুই জিতে গেছিস”।

আরুশি যখন নিজের বাড়ি গিয়ে পৌঁছালো ততক্ষণে টিভিতে টিভিতে ছড়িয়ে গেছে রেহান সেনগুপ্তর মৃত্যুর খবর।দর‍জা খুলতেই আরুশির বাবা দেখলো আরুশি দাঁড়িয়ে,মুখে একটা শান্ত হাসি।তিনি বুঝতে পারলেন তিনি বাবা হয়ে যেটা পারেননি সেটা তার ছোটো মেয়ে করে দেখিয়েছে।আনন্দে দিশেহারা হয়ে তিনি আরুশিকে জড়িয়ে ধরলেন।বললেন “চিন্তা করিস না মা।আমরা এখান দিয়ে অনেক দূরে চলে যাব।আবার নতুন করে শুরু করবো আমাদের জীবন”।বাবাকে জড়িয়ে ধরে তখন আরুশি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।নাহ এই কান্না দুঃখের নয় আনন্দের।
আরুশি যেন দেখতে পেল তার দিদির মুখের প্রশান্ত হাসি,আস্তে আস্তে সে মিলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।
আরুশি শান্তিতে চোখ বুজলো।।

সমাপ্ত****

গল্পটি আপনার কেমন লাগলো রেটিং দিয়ে জানাবেন
[Total: 1   Average: 5/5]
বন্ধুদের সঙ্গে "Share" করুন।
Open chat
1
যোগাযোগ করুন
আপনার গল্পটি প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগ এখনে।